Grassroots Chapters

village 840x

SHUJAN organizes chapters of distinguished, non-partisan individuals at the Union, Upazila and District levels all across Bangladesh who work together to increase transparency, integrity and effectiveness of local government. Chapters help organize “Face to Face” meetings with local candidates, open budget meetings and ward shava.

‘সংলাপ-সমঝোতায় দুটো দলেরই আগ্রহ কম’

Pratidin Logo
নিজস্ব প্রতিবেদক

image_1094_169367

সংলাপ-সমঝোতায় দুটো দলেরই আগ্রহ কম। তারা উভয়ই ক্ষমতা চায়। ক্ষমতায় যাওয়া মানে পাঁচ বছরের জন্য রাজত্ব কায়েম করা। দুর্নীতি-দুর্বৃত্তায়ন যতটুকু করলাম তার জবাবদিহিতার বাইরে থাকা। আর নির্বাচনে হারা মানে মামলা-হামলা। এ অবস্থায় কেউ কাউকে ছাড় দিয়ে নির্বাচনে হারার ঝুঁকি নিতে চাইছে না। গত বৃহস্পতিবার বাংলাভিশনের টকশো ‘নিউজ অ্যান্ড ভিউজ’-এ সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন)-এর সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার এ কথা বলেন। মোস্তফা ফিরোজের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ সেন্টার ফর অ্যাডভান্স স্টাডিজের নির্বাহী পরিচালক ড. এ আতিক রহমান।

ড. মজুমদার বলেন, এখন এক দল কীভাবে অন্য দলকে নিশ্চিহ্ন করবে তা নিয়ে চলছে রাজনীতি। এই ল্যাং মারার, নিশ্চিহ্ন করার রাজনীতি থেকে বের হয়ে জনগণের মন জয় করার রাজনীতিতে যোগ দিলে জনগণও লাভবান হবে, দলের অবস্থানও শক্তিশালী হবে। তিনি বলেন, ক্ষমতাসীন দল মনে করে, দলীয় বা অন্তর্বর্র্তী সরকারের (যেটার প্রধান হবেন বর্তমান প্রধানমন্ত্রী) অধীনে নির্বাচন হলে তারা জিতবে। এ অবস্থা থেকে সরে এলে তাদের ঝুঁকি বেড়ে যাবে। পক্ষান্তরে বিরোধী দল মনে করে নির্বাচনকালীন নির্দলীয় সরকার হলে তারা জিতবেন। এ ব্যাপারে কম্প্রোমাইজ করলে তাদের নির্বাচনে জেতার সম্ভাবনা কমে যাবে। তাই কেউই নির্বাচনে জেতার সম্ভাবনা কমাতে চায় না। এ কারণে তাদের এ অনড় অবস্থান। উভয় দলই মনে করছে, নিজ অবস্থানে অনড় থেকে তারা কাঙ্ক্ষিত গন্তব্যে পৌঁছতে পারবে। তবে নাগরিকদের মধ্যে থেকে বরাবরই একটা দাবি আছে, রাজনীতিতে আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে একটা সমঝোতা হবে। নির্বাচনকালীন কি রকম সরকার হবে সে ব্যাপারে ঐকমত্যে পৌঁছে আগামী নির্বাচনটি নির্ধারিত সময়ে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে হবে। Continue reading

সংঘাত, না সংলাপ?

main-logo.gif

সুবিধাবাদী হালুয়া-রুটির রাজনীতি আমাদের বর্তমান অবস্থার জন্য দায়ী। আমাদের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা অকার্যকর। বহুদলীয় গণতন্ত্র বলতে যা বোঝায়, সেই সংস্কৃতি কি আমাদের দেশের রাজনীতিতে এখনো গড়ে ওঠেনি? আমাদের এই দেশের ভবিষ্যৎ কী হবে? এই দেশ কি উগ্রবাদী রাষ্ট্রে পরিণত হবে? তত্ত্বাবধায়ক বা অন্তর্বর্তীকালীন সরকারপদ্ধতি নিয়ে যে জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে, তা নিরসনের উপায় কী? একটি সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ নির্বাচনে সবার অংশগ্রহণ নিশ্চিত কিভাবে সম্ভব? দেশে যে সংঘাতময় পরিস্থিতি চলছে, তারই বা সমাধান কোন পথে? দেশের বিরাজমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে উঠে আসা বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর-প্রত্যুত্তর নিয়ে সবিস্তারে আলোচনা করেছেন সুশাসনের জন্য নাগরিক- সুজন-এর সাধারণ সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার

আমাদের রাজনীতিতে যে মেরুকরণের চেষ্টা হচ্ছে, এই মেরুকরণ আমাদের জন্য ভয়ানক ঝুঁকির সৃষ্টি করছে। এটা আমাদের রাষ্ট্রকে মৌলবাদী রাষ্ট্রে পরিণত করে ফেলতে পারে। সম্প্রতি হেফাজত ইসলামের সহিংসতা, বিএনপি বা ১৮ দলীয় জোটের রাজনৈতিক অবস্থান ও সরকারের ভূমিকা দেখে আমার তো মনে হয়, আমরা একটা অনিশ্চয়তার দিকে যাচ্ছি। আমার মনে হয়, বিএনপির জামায়াতিকরণ হচ্ছে। যখনি বিএনপি কোনো দাবি তোলে কিংবা কোনো রকম প্রতিবাদ করে, তখনি সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয় যে যুদ্ধাপরাধের বিচার ঠেকানোর জন্য করা হচ্ছে এবং জামায়াতের দোসর হিসেবে তাদের চিহ্নিত করা হয়। সরকারের পক্ষ থেকেই বিএনপিকে জামায়াতের কোলে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে, এমনকি আমাদের দুই-একজন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি তো বলেই ফেলেছেন যে খালেদা জিয়া জামায়াতে ইসলামের আমির! একই সঙ্গে বিএনপি নিজেও জামায়াতের সঙ্গে আরো ঘনিষ্ঠ ও একীভূত হয়ে যাচ্ছে এবং তার মূল কারণ হলো বিএনপির যে মূল দাবি তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন, তাদের সেই দাবি আদায়ের জন্য তারা মনে করে জামায়াতের সহযোগিতা দরকার। সরকারের অনড় অবস্থা তাদের এই দিকে ঠেলে দিচ্ছে। আমার মনে হয়, আমাদের রাজনীতিতে একটা মেরুকরণ হচ্ছে। এটা আমাদের রাজনীতির জন্য অশুভ সংকেত প্রদান করে। সম্প্রতি হেফাজতের সমাবেশের দিনে আমাদের ক্ষমতাসীন দলের সাধারণ সম্পাদক বলেছেন, জামায়াত, বিএনপি ও হেফাজত এক ও অভিন্ন। এর মাধ্যমে একটি মেরুকরণের চেষ্টা হচ্ছে বলে মনে হচ্ছে। যে মেরুকরণের পরিণতি ভয়ানক হতে বাধ্য। কারণ হেফাজত-জামায়াত-বিএনপি যদি এক হয়ে যায় এবং তারা যদি উগ্রবাদী রাষ্ট্র কায়েম করতে চায়, তাহলে আওয়ামী লীগ ও তার সহযোগীদের পক্ষে কোনোভাবেই এ দেশকে মৌলবাদ কিংবা জঙ্গিবাদ থেকে উদ্ধার করা সম্ভব নয়। তো আমার মনে হয়, এটা একটা অশুভ চেষ্টা ও অশুভ লক্ষণ। সরকার ও বিরোধী দলের এমন অনাস্থা আমাদের একটা ভয়ানক ভবিষ্যতের দিকে ধাবিত করতে পারে। Continue reading

বাংলাদেশের ভাবমূর্তি ও রাজনীতি

prothom-alo-logo_v4

বদিউল আলম মজুমদার | তারিখ: ১৩-০৫-২০১৩

সাভারে রানা প্লাজা ট্র্যাজেডি যখন ঘটে, আমি তখন মঙ্গোলিয়ার রাজধানী উলানবাটোরে। সেখানে ১৫০ দেশের সমন্বয়ে গঠিত ‘কমিউনিটি অব ডেমোক্রেসি’ আয়োজিত সপ্তম মিনিস্টারিয়াল কনফারেন্সে আমি অংশ নিচ্ছিলাম। কনফারেন্সে সারা পৃথিবী থেকে কয়েক শ ব্যক্তি অংশ নেন, যার মধ্যে ছিলেন শান্তিতে নোবেল বিজয়ী অং সান সু চি ও তাওয়াক্কল কারমান এবং একাধিক দেশের প্রেসিডেন্ট, ভাইস প্রেসিডেন্ট, প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রিপরিষদের সদস্য, জাতিসংঘের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও রাষ্ট্রদূত। এ ছাড়া এতে অংশ নেন পার্লামেন্টারিয়ান, সিভিল সোসাইটি, ব্যবসায়ী, নারী ও তরুণদের প্রতিনিধিরা।

বাংলাদেশ থেকে আমিই একমাত্র এই অনুষ্ঠানে অংশ নিয়েছিলাম, যদিও চীনে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত এতে আমাদের সরকারের প্রতিনিধিত্ব করেন। রানা প্লাজা ট্র্যাজেডির ব্যাপকতা সম্পর্কে জানাজানি হতে থাকলে কনফারেন্সে অংশগ্রহণকারী ব্যক্তিদের অনেকেই আমাকে সমবেদনা জানাতে এগিয়ে আসেন। অনেকেই বলেন, হোটেল রুমে থেকে সিএনএন ও বিবিসি চ্যানেলে দুর্ঘটনার উদ্ধার কার্যক্রম দেখে তাঁরা চরমভাবে ব্যথিত। সমবেদনা জ্ঞাপনকারী ব্যক্তিদের প্রায় সবাই বাংলাদেশের তৈরি পোশাকের ভোক্তা এবং যে অমানবিক পরিবেশে এগুলো তৈরি হয় জেনে তাঁরা মর্মাহত। একজন তো হতাশার সুরে বলেই ফেললেন, তাঁর গায়ের জামাটি যে মেয়েগুলো বানিয়েছে, তারাও হয়তো মৃত বা নিখোঁজ! কয়েকজন আমার কাছে জানতে চান দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ এবং এ ধরনের বিপর্যয় রোধে সরকারের ভূমিকা সম্পর্কে। তাঁরা প্রশ্ন তোলেন: কেন সরকার উদ্ধারকাজে ব্রিটিশ সহায়তা নিল না? দায়ী ব্যক্তিরা কি চিহ্নিত হবেন? শাস্তি পাবেন? মৃত ব্যক্তিদের পরিবার-পরিজন ও আহত ব্যক্তিদের দায়ভার কে নেবে? ইত্যাদি।

সম্মেলনে একজন আমেরিকানের সঙ্গে আমার কথা হয়, যিনি বাংলাদেশের তৈরি পোশাকশিল্পের সমস্যা সম্পর্কে আমাদের অনেকের চেয়ে অনেক বেশি খোঁজখবর রাখেন, তিনি আমাকে বলেন, গত নভেম্বরের তাজরীন ফ্যাশনসের অগ্নিকাণ্ডের পর তৈরি পোশাক কারখানাগুলোতে এ পর্যন্ত ছোট-বড় ৪৭টি অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে, যাতে বেশ কয়েকজন হতাহতও হয়েছে। পোশাকশিল্পে দুর্ঘটনাজনিত হতাহতের মূল কারণ অধিকাংশ ক্ষেত্রে তালা দেওয়া কলাপসিবল গেট এবং হুড়োহুড়িতে শ্রমিকদের পায়ের তলায় পিষ্ট হওয়া। তাঁর আফসোস, বাংলাদেশের প্রায় পাঁচ হাজার তৈরি পোশাকশিল্পে ৪৫ লাখ শ্রমিক কাজ করলেও, যা মঙ্গোলিয়ার মোট জনসংখ্যার দেড় গুণ, সরকার শ্রমিকদের নিরাপত্তা এবং ন্যূনতম সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করতে অনাগ্রহী। বরং কোনো দুর্ঘটনা ঘটলেই দেশি-বিদেশি চক্রান্তের অভিযোগ তোলা হয়। তাজরীন অগ্নিকাণ্ডের সময় অনেকে চক্রান্তের অভিযোগ তুলেছিলেন। তবে তিনি সন্তোষ প্রকাশ করেন, এবার কেউ বিদেশি ষড়যন্ত্রের ধুয়া তোলেনি। Continue reading

নির্বাচন সামনে রেখে জাতীয় ঐকমত্যের রূপরেখা চাই

Samakal_logo

বদিউল আলম মজুমদার

কারও জ্বর হলে প্রাথমিকভাবে পার‌্যাসিটামল দেওয়া হয়। কখনও চিকিৎসক এ বিধান দেন, আবার রোগী নিজেও এ জাতীয় ওষুধ খেয়ে নেন। কিন্তু জ্বর যদি কয়েক দিন ধরে চলে তাহলে নানা ধরনের পরীক্ষা করে এর কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হতে হয়। এভাবে জানা যায় যে, রোগীর ভেতরে টাইফয়েড কিংবা ম্যালেরিয়ার জীবাণু রয়েছে কিনা। কিংবা শরীরের উষ্ণতা অন্য কোনো রোগের প্রকাশও ঘটাতে পারে।

বাংলাদেশে এখন আমরা অনেক উপসর্গ দেখি। এখন আর টোটকা দাওয়াই দিয়ে কাজ হবে না। সমস্যাগুলোর মধ্যে দুটি প্রধান। এক. একাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধে যুক্তদের বিচারকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট নানা ধরনের কর্মকাণ্ড। পক্ষে ও বিপক্ষে মিছিল-সমাবেশ, হরতাল, ভাংচুর_ সবই রয়েছে। দুই. পরবর্তী সাধারণ নির্বাচন কীভাবে অনুষ্ঠিত হবে। এখন যা কিছু আমরা ঘটতে দেখছি, তার বেশিরভাগ এ দুটি ইস্যুর সঙ্গে কোনো না কোনোভাবে সম্পৃক্ত।

প্রথমটি অর্থাৎ একাত্তরে হত্যা-ধর্ষণ-লুটপাটের অভিযোগে বিচারের জন্য বর্তমান মহাজোট সরকার উদ্যোগী হয়েছে। এ জন্য গণরায়ও তাদের রয়েছে। ৫ ফেব্রুয়ারি একটি ট্রাইব্যুনালে মানবতাবিরোধী অপরাধের দ্বিতীয় রায় প্রদান করা হয়। এতে আবদুল কাদের মোল্লার যাবজ্জীবন কারাদণ্ড প্রদান করা হলে তরুণ সমাজের একটি অংশ (তাদের কেউ কেউ ব্লগার হিসেবে পরিচিত) মনে করে যে, সরকারের সঙ্গে জামায়াতে ইসলামীর হয়তো আঁতাত হয়েছে। যে কারণে সর্বোচ্চ সাজার পরিবর্তে অপেক্ষাকৃত লঘুদণ্ড অর্থাৎ যাবজ্জীবন কারাদণ্ড প্রদান করা হয়েছে। এভাবেই শাহবাগে গণজাগরণ মঞ্চের সৃষ্টি। Continue reading

বিশেষ সাক্ষাৎকার : বদিউল আলম মজুমদার

main-logo.gif

বিশেষ সাক্ষাৎকার : বদিউল আলম মজুমদার

অনিশ্চয়তা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে

দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি দিন দিনই অস্থির হচ্ছে। অনিশ্চিত অবস্থার দিকে যাচ্ছে দেশ। বিএনপির দুদিনের হরতাল শেষে আজ আবার হরতাল দিয়েছে জামায়াতে ইসলামী। সংলাপের কথা উচ্চারিত হচ্ছে, কিন্তু সমঝোতার কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। এই অস্থির ও অনিশ্চিত সময় থেকে উত্তরণ বিষয়ে কালের কণ্ঠের মুখোমুখি হয়েছিলেন সুশাসনের জন্য নাগরিক-সুজনের সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন আলী হাবিব

কালের কণ্ঠ : হেফাজতের সাম্প্রতিক অবরোধ ও সমাবেশ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে রাজধানীতে যে তাণ্ডব হয়েছে, এই পরিস্থিতিকে কিভাবে ব্যাখ্যা করবেন?
বদিউল আলম মজুমদার : এটি নিঃসন্দেহে একটি দুঃখজনক ঘটনা। তারা যা করেছে, তা নিন্দনীয়। তারা যে তাণ্ডব চালিয়েছে, সহিংসতা ঘটিয়েছে, এটা অগ্রহণযোগ্য। হ্যাঁ, অবরোধ-সমাবেশ করার অধিকার তাদের আছে। তবে এই অধিকার ততক্ষণই আছে, যতক্ষণ না তারা অন্যের অধিকার হরণ করছে। অন্যের নাগরিক অধিকার, চলাফেরার অধিকার, নিরাপত্তা ব্যাহত না করে সমাবেশ-অবরোধ করার অধিকার তাদের আছে। কিন্তু ৫ মে সমাবেশ করার নামে তারা যা করেছে, তাতে অন্যের নাগরিক অধিকার ব্যাহত করা হয়েছে। শুধু তাই নয়, তারা অনেক দোকান পুড়িয়ে দিয়েছে, ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়েছে। অনেক দরিদ্র মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সর্বস্বান্ত হয়ে গেছে। এটা অবশ্যই নিন্দনীয়। এর দায় তারা এড়াতে পারে না। একই সঙ্গে প্রশ্ন উঠতে পারে, ৫ মের ঘটনাবলির জন্য সরকারের দায় কতটুকু? সরকার কি দায় এড়াতে পারে? আমার তো মনে হয়, সরকারও এর দায় এড়াতে পারে না। সরকারের গোয়েন্দা সংস্থার জানা উচিত ছিল, তারা কী করতে পারে। কী ধরনের সহিংসতা তারা চালাতে পারে, কী রকম বিশৃঙ্খলা তারা সৃষ্টি করতে পারে। সেটা সরকার যদি না জানে, সরকারের গোয়েন্দা সংস্থা যদি না জানে, তাহলে ধরে নিতে হবে, গোয়েন্দা সংস্থা কাজ করছে না। আর এমন সহিংসতার ঘটনা ঘটবে, এটা জেনেশুনে যদি সরকার তা করে থাকে অর্থাৎ সমাবেশের অনুমতি দিয়ে থাকে, তাহলে সেটা হবে সরকারের দায়িত্বহীনতার পরিচয়। আর যদি না জানে, তাহলে সেটা সরকারের ব্যর্থতা। হেফাজতের কর্মসূচি ছিল অবরোধের। কেন তাদের শহরের বাণিজ্যিক কেন্দ্রে সমাবেশ করার অনুমতি দেওয়া হলো- এ প্রশ্নের উত্তর সরকারকে দিতে হবে। Continue reading

নির্বাচনী এলাকার সীমানা পুনঃনির্ধারণ নিয়ে সুজনের পক্ষ থেকে কিছু প্রশ্ন

 Press Conference 4.5.13সম জনসংখ্যার ভিত্তিতে সংসদীয় নির্বাচনী এলাকার সীমানা নির্ধারণের ওপর গুরুত্বারোপ করে যথাযথভাবে সীমানা পুনঃনির্ধারণের দাবী জানিয়েছে নাগরিক সংগঠন সুজন-সুশাসনের জন্য নাগরিক। এর অন্যথা হলে অর্থাৎ ভোটার সংখ্যার দিক থেকে বড় আসনগুলোর জনগণ বঞ্চিত হবে এবং সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন বাধাগ্রস্থ হবে। আজ সকাল ১১টায়, ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি মিলনায়তনে সুজন আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে অংশগ্রহণকারী সুজন নেতৃবৃন্দ এসব কথা বলেন। সুজন সভাপতি জনাব এম হাফিজউদ্দিন খানের সভাপতিতেত্বে ‘নির্বাচনী এলাকার সীমানা পুনঃনির্ধারণ নিয়ে কিছু প্রশ্ন’ শীর্ষক এই সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য উপস্থাপন করেন সুজন সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজমুদার। এছাড়াও সংবাদ সম্মেলনে উপসি’ত ছিলেন সুজন নির্বাহী সদস্য ও সাবেক মন্ত্রিপরিষদ সচিব আলী ইমাম মজুমদার এবং  সুজন এর কোষাধ্যক্ষ জনাব আব্দুল হক প্রমুখ। Continue reading

সংকট উত্তরণে প্রয়োজন নাগরিক ঐক্য

logo
ড. ব দি উ ল আ ল ম ম জু ম দা র
আগামী আট-নয় মাসের মধ্যে জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার প্রথম আবশ্যকীয় পদক্ষেপ অবাধ, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন। তবে শুধু নির্বাচিত সরকারই গণতান্ত্রিক শাসন প্রতিষ্ঠার জন্য যথেষ্ট নয়। কার্যকর গণতন্ত্রের জন্য প্রয়োজন নির্বাচিত প্রতিনিধিদের ব্যক্তি ও কোটারি স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে জনস্বার্থে রাষ্ট্র পরিচালনা করা। বহুদলীয় গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের চর্চা এবং রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের সঙ্গে আলাপ-আলোচনার ভিত্তিতে সব সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও বাস্তবায়নের একটি রাজনৈতিক সংস্কৃতি গড়ে তোলা। ক্ষমতা কেন্দ্রীভূত না করা, ব্যক্তিতন্ত্র, পরিবারতন্ত্র, দলতন্ত্র ও ফায়দাতন্ত্র পরিহার করা। পরিচ্ছন্ন ও জনমুখী শাসন কাঠামো গড়ে তোলা। বাক-স্বাধীনতাসহ নাগরিকদের সব অধিকার সমুন্নত রাখা। সব রাষ্ট্রীয় কার্যক্রমে স্বচ্ছতা-জবাবদিহিতার চর্চা করা, যথাযথ আইনি কাঠামো প্রণয়ন ও তা পরিপূর্ণভাবে প্রয়োগের মাধ্যমে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করা। সব কাজে সবার অন্তর্ভুক্তিকরণ, সমতা ও ন্যায়পরায়ণতা নিশ্চিত করা। সর্বোপরি সুশাসন প্রতিষ্ঠা করা।আর এ ধরনের একটি সত্যিকারের গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র কায়েমের জন্য প্রয়োজন কতগুলো শক্তিশালী, কার্যকর সাংবিধানিক ও বিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠান এবং নাগরিক সংগঠন। যেমন- জাতীয় সংসদ, আদালত, স্বায়ত্তশাসিত স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান, নির্বাচন কমিশন, সরকারি কর্মকমিশন, দুর্নীতি দমন কমিশন, তথ্য কমিশন, মানবাধিকার কমিশন, রাজনৈতিক দল, সংঘবদ্ধ নাগরিক সমাজ ইত্যাদি। এসব প্রতিষ্ঠান গণতন্ত্রের পিলার বা খুঁটিস্বরূপ।

এসব প্রতিষ্ঠানের স্বাধীন, নিরপেক্ষ ও বলিষ্ঠ ভূমিকার ওপরই মূলত নির্ভর করে সুশাসন প্রতিষ্ঠা এবং গণতন্ত্রের কার্যকারিতা। উদাহরণস্বরূপ, সংসদের কার্যকারিতার মাধ্যমে সরকারের স্বচ্ছতা-জবাবদিহিতা এবং রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় ও সব দলের অংশগ্রহণের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত গ্রহণের পথ সুগম হয়। স্বাধীন, নিরপেক্ষ ও কার্যকর বিচারব্যবস্থার মাধ্যমে সরকারের ক্ষমতার অপপ্রয়োগ রোধ এবং জনগণের অধিকার সুরক্ষিত হয়। নির্বাচিত ও শক্তিশালী স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠিত হলে ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ, সর্বস্তরে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের শাসন, সিদ্ধান্ত গ্রহণে জনগণের কার্যকর অংশগ্রহণ এবং সর্বোপরি গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার গভীরতা অর্জনের পথ প্রশস্ত হয়। স্বাধীন নির্বাচন কমিশন প্রতিষ্ঠা এবং নির্ভীক ও নিরপেক্ষ ব্যক্তিদের নিয়ে কমিশন গঠিত হলে গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠান সম্ভবপর হয়। Continue reading