<?xml version="1.0" encoding="UTF-8"?>
<rss version="2.0"
	xmlns:content="http://purl.org/rss/1.0/modules/content/"
	xmlns:wfw="http://wellformedweb.org/CommentAPI/"
	xmlns:dc="http://purl.org/dc/elements/1.1/"
	xmlns:atom="http://www.w3.org/2005/Atom"
	xmlns:sy="http://purl.org/rss/1.0/modules/syndication/"
	xmlns:slash="http://purl.org/rss/1.0/modules/slash/"
	xmlns:georss="http://www.georss.org/georss" xmlns:geo="http://www.w3.org/2003/01/geo/wgs84_pos#" xmlns:media="http://search.yahoo.com/mrss/"
	>

<channel>
	<title>সুজন-সুশাসনের জন্য নাগরিক</title>
	<atom:link href="http://shujan.org/feed/" rel="self" type="application/rss+xml" />
	<link>http://shujan.org</link>
	<description>SHUJAN: Citizens for Good Governance</description>
	<lastBuildDate>Sat, 18 May 2013 10:59:08 +0000</lastBuildDate>
	<language>bn</language>
	<sy:updatePeriod>hourly</sy:updatePeriod>
	<sy:updateFrequency>1</sy:updateFrequency>
	<generator>http://wordpress.com/</generator>
<cloud domain='shujan.org' port='80' path='/?rsscloud=notify' registerProcedure='' protocol='http-post' />
<image>
		<url>http://0.gravatar.com/blavatar/ad54e01906b73a93860eddc8390ed2ed?s=96&#038;d=http%3A%2F%2Fs2.wp.com%2Fi%2Fbuttonw-com.png</url>
		<title>সুজন-সুশাসনের জন্য নাগরিক</title>
		<link>http://shujan.org</link>
	</image>
	<atom:link rel="search" type="application/opensearchdescription+xml" href="http://shujan.org/osd.xml" title="সুজন-সুশাসনের জন্য নাগরিক" />
	<atom:link rel='hub' href='http://shujan.org/?pushpress=hub'/>
		<item>
		<title>&#8216;সংলাপ-সমঝোতায় দুটো দলেরই আগ্রহ কম&#8217;</title>
		<link>http://shujan.org/2013/05/18/%e0%a6%b8%e0%a6%82%e0%a6%b2%e0%a6%be%e0%a6%aa-%e0%a6%b8%e0%a6%ae%e0%a6%9d%e0%a7%8b%e0%a6%a4%e0%a6%be%e0%a7%9f-%e0%a6%a6%e0%a7%81%e0%a6%9f%e0%a7%8b-%e0%a6%a6%e0%a6%b2%e0%a7%87%e0%a6%b0%e0%a6%87/</link>
		<comments>http://shujan.org/2013/05/18/%e0%a6%b8%e0%a6%82%e0%a6%b2%e0%a6%be%e0%a6%aa-%e0%a6%b8%e0%a6%ae%e0%a6%9d%e0%a7%8b%e0%a6%a4%e0%a6%be%e0%a7%9f-%e0%a6%a6%e0%a7%81%e0%a6%9f%e0%a7%8b-%e0%a6%a6%e0%a6%b2%e0%a7%87%e0%a6%b0%e0%a6%87/#comments</comments>
		<pubDate>Sat, 18 May 2013 10:56:44 +0000</pubDate>
		<dc:creator>shahalam2013</dc:creator>
				<category><![CDATA[টক-শো]]></category>
		<category><![CDATA[ড. বদিউল আলম মজুমদার]]></category>
		<category><![CDATA[রাজনৈতিক সংলাপ সংক্রান্ত]]></category>

		<guid isPermaLink="false">http://shujan.org/?p=3302</guid>
		<description><![CDATA[নিজস্ব প্রতিবেদক সংলাপ-সমঝোতায় দুটো দলেরই আগ্রহ কম। তারা উভয়ই ক্ষমতা চায়। ক্ষমতায় যাওয়া মানে পাঁচ বছরের জন্য রাজত্ব কায়েম করা। দুর্নীতি-দুর্বৃত্তায়ন যতটুকু করলাম তার জবাবদিহিতার বাইরে থাকা। আর নির্বাচনে হারা মানে মামলা-হামলা। এ অবস্থায় কেউ কাউকে ছাড় দিয়ে নির্বাচনে হারার ঝুঁকি নিতে চাইছে না। গত বৃহস্পতিবার বাংলাভিশনের টকশো &#8216;নিউজ অ্যান্ড ভিউজ&#8217;-এ সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন)-এর [&#8230;]<img alt="" border="0" src="http://stats.wordpress.com/b.gif?host=shujan.org&#038;blog=43711212&#038;post=3302&#038;subd=shujanbd&#038;ref=&#038;feed=1" width="1" height="1" />]]></description>
				<content:encoded><![CDATA[<p><a href="http://www.bd-pratidin.com/index.php?view=details&amp;type=gold&amp;data=Economics&amp;pub_no=1094&amp;cat_id=5&amp;menu_id=5&amp;news_type_id=1&amp;index=7"><img class="alignnone size-medium wp-image-3303" alt="Pratidin Logo" src="http://shujanbd.files.wordpress.com/2013/05/pratidin-logo.gif?w=126&#038;h=53" width="126" height="53" /></a><br />
নিজস্ব প্রতিবেদক</p>
<p style="text-align:center;"><a href="http://shujanbd.files.wordpress.com/2013/05/image_1094_169367.jpg"><img class="size-medium wp-image-3304 aligncenter" alt="image_1094_169367" src="http://shujanbd.files.wordpress.com/2013/05/image_1094_169367.jpg?w=300&#038;h=233" width="300" height="233" /></a></p>
<p>সংলাপ-সমঝোতায় দুটো দলেরই আগ্রহ কম। তারা উভয়ই ক্ষমতা চায়। ক্ষমতায় যাওয়া মানে পাঁচ বছরের জন্য রাজত্ব কায়েম করা। দুর্নীতি-দুর্বৃত্তায়ন যতটুকু করলাম তার জবাবদিহিতার বাইরে থাকা। আর নির্বাচনে হারা মানে মামলা-হামলা। এ অবস্থায় কেউ কাউকে ছাড় দিয়ে নির্বাচনে হারার ঝুঁকি নিতে চাইছে না। গত বৃহস্পতিবার বাংলাভিশনের টকশো &#8216;নিউজ অ্যান্ড ভিউজ&#8217;-এ সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন)-এর সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার এ কথা বলেন। মোস্তফা ফিরোজের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ সেন্টার ফর অ্যাডভান্স স্টাডিজের নির্বাহী পরিচালক ড. এ আতিক রহমান।</p>
<p>ড. মজুমদার বলেন, এখন এক দল কীভাবে অন্য দলকে নিশ্চিহ্ন করবে তা নিয়ে চলছে রাজনীতি। এই ল্যাং মারার, নিশ্চিহ্ন করার রাজনীতি থেকে বের হয়ে জনগণের মন জয় করার রাজনীতিতে যোগ দিলে জনগণও লাভবান হবে, দলের অবস্থানও শক্তিশালী হবে। তিনি বলেন, ক্ষমতাসীন দল মনে করে, দলীয় বা অন্তর্বর্র্তী সরকারের (যেটার প্রধান হবেন বর্তমান প্রধানমন্ত্রী) অধীনে নির্বাচন হলে তারা জিতবে। এ অবস্থা থেকে সরে এলে তাদের ঝুঁকি বেড়ে যাবে। পক্ষান্তরে বিরোধী দল মনে করে নির্বাচনকালীন নির্দলীয় সরকার হলে তারা জিতবেন। এ ব্যাপারে কম্প্রোমাইজ করলে তাদের নির্বাচনে জেতার সম্ভাবনা কমে যাবে। তাই কেউই নির্বাচনে জেতার সম্ভাবনা কমাতে চায় না। এ কারণে তাদের এ অনড় অবস্থান। উভয় দলই মনে করছে, নিজ অবস্থানে অনড় থেকে তারা কাঙ্ক্ষিত গন্তব্যে পৌঁছতে পারবে। তবে নাগরিকদের মধ্যে থেকে বরাবরই একটা দাবি আছে, রাজনীতিতে আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে একটা সমঝোতা হবে। নির্বাচনকালীন কি রকম সরকার হবে সে ব্যাপারে ঐকমত্যে পৌঁছে আগামী নির্বাচনটি নির্ধারিত সময়ে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে হবে।<span id="more-3302"></span></p>
<p>দর্শকের প্রশ্নের জবাবে ড. মজুমদার বলেন, স্বৈরাচার পতন আন্দোলনে রাজনীতিবিদ, নাগরিক সমাজ, সাধারণ মানুষ সবাই একসঙ্গে কাজ করেছেন। সেই নাগরিক সমাজকে ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে। ফায়দাতন্ত্রের কারণে তারাও এখন বিভক্ত। এখন নিরপেক্ষ থাকার কঠোর মূল্য দিতে হয়। অনেক সময় জীবনের ঝুঁকি নিতে হয়। তাই নাগরিক সমাজের পক্ষে বড় ভূমিকা রাখা কঠিন। তিনি বলেন, বর্তমানে রাজনীতি আমাদের জীবনকে নিয়ন্ত্রণ করছে। আমরা নাগরিকরা যদি রাজনীতিকে নিয়ন্ত্রণ করতে না পারি, সাধারণ জনগণ যদি সচেতন না হয়, এ অবস্থা থেকে মুক্তি মিলবে না। বদিউল আলম মজুমদার বলেন, আমরা এক ধরনের প্রহসনের গণতন্ত্রের মধ্যে আছি। সংবিধানে পরিষ্কার লেখা আছে, প্রশাসনের সর্বস্তরে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের শাসন প্রতিষ্ঠিত হবে। কেন্দ্রীয়ভাবে মন্ত্রী-এমপিরা আইন প্রণয়ন করবেন, প্রশাসন চালাবেন আর জেলা-উপজেলা-ইউনিয়ন পর্যায়ে স্থানীয় সরকার শাসন পরিচালনা করবে। আমাদের জেলা পরিষদ নির্বাচন তো হয়ই না। এখন আমাদের গণতন্ত্রের যাত্রা শুরু হয় নির্বাচনের মাধ্যমে। গণতন্ত্র কার্যকর হলো কিনা তা নির্ভর করে দুই নির্বাচনের মধ্যবর্তী পাঁচ বছরে কি ঘটল তার ওপর। মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠিত হলো কিনা, মানুষ অন্যায়ভাবে নির্যাতন-নিপীড়নের শিকার হলো কিনা এসবের মাধ্যমে গণতন্ত্র প্রতিভাত হয়। ঘূর্ণিঝড় মহাসেনের আঘাতে উপকূলীয় এলাকায় মানুষের মৃত্যু ও সম্পদহানির ব্যাপারে তিনি বলেন, দুর্যোগ মোকাবিলায় সবচেয়ে টেকসই পন্থা হচ্ছে উন্নয়ন। অবকাঠামো উন্নয়ন ও তথ্যপ্রযুক্তি বিস্তারের কারণে ২০ বছর আগের চেয়ে এখন মানুষ অনেক কম মারা যায়। কিন্তু জলবায়ু পরিবর্তনে এসব দুর্যোগ সামনে আরও প্রকট হবে। সেভাবে প্রস্তুতি নিতে হবে। এ জন্য স্থানীয় সরকার ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করতে হবে। উপকূলের মানুষগুলো ভোটের দিনে গুরুত্বপূর্ণ। ভোট গেলে গুরুত্বহীন। তাদের প্রতি অগ্রাধিকার দিতে হবে। দুর্যোগ শেল্টারগুলো মানুষের কাছে নিয়ে আসতে হবে। ওইসব এলাকার প্রত্যেকটি বাড়ি সাইক্লোন শেল্টার হিসেবে বানানো দরকার। আমাদের সীমিত সম্পদও আমরা লুটপাট করছি। হলমার্কে হাজার হাজার কোটি টাকা লুটপাট হলে বলা হলো, এই কয়টি টাকা গুরুত্বপূর্ণ নয়। এমন গুরুত্বহীন কিছু টাকা দিলেই উপকূলে দুর্যোগ মোকাবিলায় পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নেওয়া যায়।<br />
সূত্র: বাংলাদেশ প্রতিদিন, ১৮ মে ২০১৩</p>
<br />  <a rel="nofollow" href="http://feeds.wordpress.com/1.0/gocomments/shujanbd.wordpress.com/3302/"><img alt="" border="0" src="http://feeds.wordpress.com/1.0/comments/shujanbd.wordpress.com/3302/" /></a> <img alt="" border="0" src="http://stats.wordpress.com/b.gif?host=shujan.org&#038;blog=43711212&#038;post=3302&#038;subd=shujanbd&#038;ref=&#038;feed=1" width="1" height="1" />]]></content:encoded>
			<wfw:commentRss>http://shujan.org/2013/05/18/%e0%a6%b8%e0%a6%82%e0%a6%b2%e0%a6%be%e0%a6%aa-%e0%a6%b8%e0%a6%ae%e0%a6%9d%e0%a7%8b%e0%a6%a4%e0%a6%be%e0%a7%9f-%e0%a6%a6%e0%a7%81%e0%a6%9f%e0%a7%8b-%e0%a6%a6%e0%a6%b2%e0%a7%87%e0%a6%b0%e0%a6%87/feed/</wfw:commentRss>
		<slash:comments>0</slash:comments>
	
		<media:content url="http://1.gravatar.com/avatar/7b472cdf95aaf6a17e75fa04e34961f9?s=96&#38;d=identicon&#38;r=G" medium="image">
			<media:title type="html">shahalam2013</media:title>
		</media:content>

		<media:content url="http://shujanbd.files.wordpress.com/2013/05/pratidin-logo.gif?w=300" medium="image">
			<media:title type="html">Pratidin Logo</media:title>
		</media:content>

		<media:content url="http://shujanbd.files.wordpress.com/2013/05/image_1094_169367.jpg?w=300" medium="image">
			<media:title type="html">image_1094_169367</media:title>
		</media:content>
	</item>
		<item>
		<title>সংঘাত, না সংলাপ?</title>
		<link>http://shujan.org/2013/05/14/%e0%a6%b8%e0%a6%82%e0%a6%98%e0%a6%be%e0%a6%a4-%e0%a6%a8%e0%a6%be-%e0%a6%b8%e0%a6%82%e0%a6%b2%e0%a6%be%e0%a6%aa/</link>
		<comments>http://shujan.org/2013/05/14/%e0%a6%b8%e0%a6%82%e0%a6%98%e0%a6%be%e0%a6%a4-%e0%a6%a8%e0%a6%be-%e0%a6%b8%e0%a6%82%e0%a6%b2%e0%a6%be%e0%a6%aa/#comments</comments>
		<pubDate>Tue, 14 May 2013 09:48:06 +0000</pubDate>
		<dc:creator>shahalam2013</dc:creator>
				<category><![CDATA[অন্যান্য]]></category>
		<category><![CDATA[ড. বদিউল আলম মজুমদার]]></category>
		<category><![CDATA[আওয়ামীলীগ-বিএনপি রাজনীতি প্রসঙ্গে]]></category>

		<guid isPermaLink="false">http://shujan.org/?p=3279</guid>
		<description><![CDATA[সুবিধাবাদী হালুয়া-রুটির রাজনীতি আমাদের বর্তমান অবস্থার জন্য দায়ী। আমাদের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা অকার্যকর। বহুদলীয় গণতন্ত্র বলতে যা বোঝায়, সেই সংস্কৃতি কি আমাদের দেশের রাজনীতিতে এখনো গড়ে ওঠেনি? আমাদের এই দেশের ভবিষ্যৎ কী হবে? এই দেশ কি উগ্রবাদী রাষ্ট্রে পরিণত হবে? তত্ত্বাবধায়ক বা অন্তর্বর্তীকালীন সরকারপদ্ধতি নিয়ে যে জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে, তা নিরসনের উপায় কী? একটি সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ [&#8230;]<img alt="" border="0" src="http://stats.wordpress.com/b.gif?host=shujan.org&#038;blog=43711212&#038;post=3279&#038;subd=shujanbd&#038;ref=&#038;feed=1" width="1" height="1" />]]></description>
				<content:encoded><![CDATA[<p><a href="http://www.kalerkantho.com/index.php?view=details&amp;archiev=yes&amp;arch_date=14-05-2013&amp;type=gold&amp;data=news&amp;pub_no=1242&amp;cat_id=3&amp;menu_id=77&amp;news_type_id=1&amp;index=3#.UZNPdpEj0f0"><img class="alignnone size-medium wp-image-3280" alt="main-logo.gif" src="http://shujanbd.files.wordpress.com/2013/05/main-logo-gif.jpg?w=122&#038;h=42" width="122" height="42" /></a></p>
<p>সুবিধাবাদী হালুয়া-রুটির রাজনীতি আমাদের বর্তমান অবস্থার জন্য দায়ী। আমাদের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা অকার্যকর। বহুদলীয় গণতন্ত্র বলতে যা বোঝায়, সেই সংস্কৃতি কি আমাদের দেশের রাজনীতিতে এখনো গড়ে ওঠেনি? আমাদের এই দেশের ভবিষ্যৎ কী হবে? এই দেশ কি উগ্রবাদী রাষ্ট্রে পরিণত হবে? তত্ত্বাবধায়ক বা অন্তর্বর্তীকালীন সরকারপদ্ধতি নিয়ে যে জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে, তা নিরসনের উপায় কী? একটি সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ নির্বাচনে সবার অংশগ্রহণ নিশ্চিত কিভাবে সম্ভব? দেশে যে সংঘাতময় পরিস্থিতি চলছে, তারই বা সমাধান কোন পথে? দেশের বিরাজমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে উঠে আসা বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর-প্রত্যুত্তর নিয়ে সবিস্তারে আলোচনা করেছেন সুশাসনের জন্য নাগরিক- সুজন-এর সাধারণ সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার</p>
<p>আমাদের রাজনীতিতে যে মেরুকরণের চেষ্টা হচ্ছে, এই মেরুকরণ আমাদের জন্য ভয়ানক ঝুঁকির সৃষ্টি করছে। এটা আমাদের রাষ্ট্রকে মৌলবাদী রাষ্ট্রে পরিণত করে ফেলতে পারে। সম্প্রতি হেফাজত ইসলামের সহিংসতা, বিএনপি বা ১৮ দলীয় জোটের রাজনৈতিক অবস্থান ও সরকারের ভূমিকা দেখে আমার তো মনে হয়, আমরা একটা অনিশ্চয়তার দিকে যাচ্ছি। আমার মনে হয়, বিএনপির জামায়াতিকরণ হচ্ছে। যখনি বিএনপি কোনো দাবি তোলে কিংবা কোনো রকম প্রতিবাদ করে, তখনি সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয় যে যুদ্ধাপরাধের বিচার ঠেকানোর জন্য করা হচ্ছে এবং জামায়াতের দোসর হিসেবে তাদের চিহ্নিত করা হয়। সরকারের পক্ষ থেকেই বিএনপিকে জামায়াতের কোলে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে, এমনকি আমাদের দুই-একজন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি তো বলেই ফেলেছেন যে খালেদা জিয়া জামায়াতে ইসলামের আমির! একই সঙ্গে বিএনপি নিজেও জামায়াতের সঙ্গে আরো ঘনিষ্ঠ ও একীভূত হয়ে যাচ্ছে এবং তার মূল কারণ হলো বিএনপির যে মূল দাবি তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন, তাদের সেই দাবি আদায়ের জন্য তারা মনে করে জামায়াতের সহযোগিতা দরকার। সরকারের অনড় অবস্থা তাদের এই দিকে ঠেলে দিচ্ছে। আমার মনে হয়, আমাদের রাজনীতিতে একটা মেরুকরণ হচ্ছে। এটা আমাদের রাজনীতির জন্য অশুভ সংকেত প্রদান করে। সম্প্রতি হেফাজতের সমাবেশের দিনে আমাদের ক্ষমতাসীন দলের সাধারণ সম্পাদক বলেছেন, জামায়াত, বিএনপি ও হেফাজত এক ও অভিন্ন। এর মাধ্যমে একটি মেরুকরণের চেষ্টা হচ্ছে বলে মনে হচ্ছে। যে মেরুকরণের পরিণতি ভয়ানক হতে বাধ্য। কারণ হেফাজত-জামায়াত-বিএনপি যদি এক হয়ে যায় এবং তারা যদি উগ্রবাদী রাষ্ট্র কায়েম করতে চায়, তাহলে আওয়ামী লীগ ও তার সহযোগীদের পক্ষে কোনোভাবেই এ দেশকে মৌলবাদ কিংবা জঙ্গিবাদ থেকে উদ্ধার করা সম্ভব নয়। তো আমার মনে হয়, এটা একটা অশুভ চেষ্টা ও অশুভ লক্ষণ। সরকার ও বিরোধী দলের এমন অনাস্থা আমাদের একটা ভয়ানক ভবিষ্যতের দিকে ধাবিত করতে পারে।<span id="more-3279"></span></p>
<p>সরকারের আহ্বানে ১৮ দলীয় জোটের ২ মের ডাকা হরতাল প্রত্যাহার ও প্রধানমন্ত্রীর সংলাপের প্রস্তাবনা রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা নিরসনে যে আশার সঞ্চার ঘটিয়েছিল তা বাস্তবায়নের কিংবা উত্তরণের ব্যাপারে আশাবাদী হওয়াটা বড় দুরূহ। কারণ উভয় জোটেরই, বিশেষত, আওয়ামী লীগ ও বিএনপির অবস্থান অনড়। বাংলাদেশের ক্ষমতার রাজনীতিতে যেকোনো মূল্যে নির্বাচনে জিততেই হবে। কারণ নির্বাচনে জেতা মানে পাঁচ বছরের জন্য অনেক সুযোগ-সুবিধা, অনেক অন্যায় করে পার পাওয়ার সুযোগ, দুর্নীতি-দুর্বৃত্তায়নের সুযোগ ইত্যাদি। বলতে গেলে পাঁচ বছরের রাজত্ব। নির্বাচনে হারলে পাঁচ বছরের নির্যাতন-নিপীড়ন, মামলা-হামলা ইত্যাদি। তাই বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে নির্বাচনে জিততেই হবে- এ রকম একটা মানসিকতা আমাদের রাজনীতিবিদদের মধ্যে সৃষ্টি হয়েছে। সংগত কারণেই বিএনপি মনে করে, কেবল তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা হলেই তারা নির্বাচনে জিতবে। আর যদি তারা তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবি থেকে সরে আসে, তাহলে তারা নির্বাচনে না-ও জিততে পারে বলে তাদের মধ্যে এক ধরনের শঙ্কা বিরাজ করছে। তেমনিভাবে আওয়ামী লীগও মনে করে যে তাদের সরকারের অধীনে নির্বাচন হলে কিংবা তাদের সরকার অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের রূপ নিয়ে নির্বাচন করলে তারা জিতবে। এ অবস্থান থেকে সরে এলে তাদের নির্বাচনে জেতার সম্ভাবনা কম। মূলত এ কারণেই উভয় দল তাদের এই অবস্থান থেকে সরে আসতে চাইছে না। তারা তাদের বর্তমান অবস্থানে অনড়; কারণ তারা নির্বাচনে হারার ঝুঁকি নিতে চায় না। নির্বাচনে পরাজয়ের ঝুঁকি নেওয়া মানেই এর চরম মাশুল দেওয়ার জন্য প্রস্তুত হয়ে যাওয়া। তাই তারা এই অনড় অবস্থানে স্থির এবং বর্তমান প্রেক্ষাপটে তাদের মধ্যে সংলাপের মাধ্যমে সমঝোতা হওয়ার সম্ভাবনাটা অতি ক্ষীণ মনে হয় আমার কাছে।</p>
<p>সুবিধাবাদী ও হালুয়া-রুটির রাজনীতি আমাদের বর্তমান অবস্থার জন্য দায়ী। আমাদের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা অকার্যকর। বহুদলীয় গণতন্ত্র বলতে যা বোঝায়, একাধিক দল অবস্থান করবে এবং দলগুলো পরস্পরের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ দেখিয়ে সহবস্থানে থাকবে, এই সংস্কৃতি আমাদের দেশের রাজনীতিতে এখনো গড়ে ওঠেনি। বহুদলীয় গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা কায়েম এবং উদার গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার মাধ্যমেই এসব সমস্যা থেকে উত্তরণ ও সুখী সমৃদ্ধ বাংলাদেশ সৃষ্টি সম্ভব। আমাদের দেশের ভবিষ্যৎ কী হবে, এ দেশ কি উগ্রবাদী রাষ্ট্রে পরিণত হবে, নাকি আমরা একটা গণতান্ত্রিক রূপ নেব- সেটাই আজকে আমাদের বড় প্রশ্ন। উগ্রবাদ ঠেকানোই আজকে আমাদের বড় চ্যালেঞ্জ বলে আমি মনে করি। কারণ যেভাবে রাজনীতিতে মেরুকরণের চেষ্টা হচ্ছে, সেই মেরুকরণ থেকে আমরা উগ্রবাদকে ঠেকাতেই পারব না। তাই আমি মনে করি, আলাপ-আলোচনা ও সমঝোতার মাধ্যমে আমাদের আগামী নির্বাচনটা হওয়া দরকার। সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনে সবার অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে এবং এই সংলাপের ব্যাপারে আমি মনে করি, শুধু বিএনপি, আওয়ামী লীগের মধ্যে সংলাপ হলে হবে না, অন্য রাজনৈতিক দলগুলোকেও এই সংলাপে যুক্ত করতে হবে। কারণ বিএনপি ও আওয়ামী লীগ প্রমাণ করেছে যে তারা সমস্যা সৃষ্টিই করে আসছে; সমস্যার সমাধান করতে পারছে না। তাই অন্য দলগুলোরও যুক্ত হওয়া দরকার। সংলাপে নাগরিকসমাজ, ব্যবসায়ী, গণমাধ্যম, সুশীলসমাজের সম্পৃক্ত হওয়া দরকার এবং সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় আজকে আমাদের কিছু বিষয়ে ঐকমত্যে পৌঁছতে হবে। একটা হলো, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত করতে হবে এবং দ্বিতীয়টি হলো, নির্বাচন-পরবর্তী কিছু করণীয় নির্ধারণ করতে হবে; যাতে এই অবস্থার পুনরাবৃত্তি না ঘটে, আমাদের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা কার্যকর হয়, বাংলাদেশ থেকে দুর্নীতি নির্মূল হয় এবং আমাদের দলগুলোতে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত হয়। আজকে যদি আমরা ওই ধরনের ঐকমত্যে পৌঁছতে পারি, যেটা আগামী নির্বাচন যাতে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হয় সেটা নিশ্চিত করবে, সবার অংশগ্রহণ নিশ্চিত করবে। একই সঙ্গে যেটা করবে সেটা হলো নির্বাচনপরবর্তী সরকারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ কার্য নির্ধারণ করবে, যেটা পরবর্তী নির্বাচিত সরকার বাস্তবায়ন করবে। তাহলেই আমরা মৌলবাদ ঠেকাতে পারব এবং এখন মৌলবাদ ঠেকানোই আমাদের অগ্রাধিকার হওয়া উচিত। মৌলবাদ ঠেকাতে পারলেই আমরা একটি সুখী সমৃদ্ধিশালী গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থা কায়েম করতে পারব।</p>
<p>হঠাৎ রাজনীতিতে আমরা ধর্মের ব্যবহারের যে উল্লম্ফন দেখতে পাচ্ছি, সেটা নতুন কিছু নয়। ধর্মের ব্যবহার পাকিস্তান আমল থেকেই শুরু হয়েছে। সেটারই ধারাবাহিকতা বাংলাদেশে সৃষ্টি হয়েছে এবং এটা বাংলাদেশে বহুদিন ধরে চলে আসছে। যেমন ১৯৯৩ সালে আমাদের সংসদে আলোচনা হয়েছিল জামায়াতকে নিষিদ্ধ করার এবং সবাই মিলে ঐকমত্যে পৌঁছেছিল। কিন্তু ক্ষমতার রাজনীতিতে টিকে থাকার প্রয়োজনে সেটা আর হয়ে ওঠেনি। যেকোনো মূল্যে ক্ষমতায় যেতেই হবে, দরকার হলে বাঘের পিঠে চড়তে হবে- সেই মানসিকতার কারণেই এই উগ্রবাদী শক্তিকে আমাদের প্রধান দুটি দল পৃষ্ঠপোষকতা দিয়ে আসছে। দুধ-কলা দিয়ে সাপ পুষেছি, এখন সে সাপ ফণা তুলছে এবং সে সাপ এখন কামড় দেওয়ার জন্য উদ্যত হয়েছে। এটা আমাদের অতীতের পাপেরই ফসল।<br />
জাতি হিসেবে আমাদের যতটুকু অগ্রসর হওয়ার কথা, অর্থনৈতিকভাবে আমরা ততটা অগ্রসর হতে পারিনি আমাদের অপরাজনীতি, রাজনীতিতে দেউলিয়াপনা, সুবিধাবাদী ও হালুয়া-রুটির রাজনীতির কারণে। এখন এই ক্ষমতার রাজনীতির ধারা যদি অব্যাহত থাকে তাহলে আমাদের অর্থনীতি পঙ্গু হয়ে পড়বে এবং আমরা দারুণ সংকটের মধ্যে পড়ব। আমাদের বেকার তরুণদের কর্মসস্থান দরকার, আমাদের অর্থনীতি যদি পঙ্গু হয়ে পড়ে তাহলে রাজনৈতিকভাবে আমরা আরো অস্থিতিশীল হয়ে পড়ব। কারণ এই তরুণরাই আমাদের দেশকে অস্থিতিশীল করে তুলবে। কারণ তাদের যদি কোনো অর্থবহ কাজের সঙ্গে জড়িত হওয়ার সুযোগ না থাকে, তাহলে তারা ধ্বংসাত্মক কাজে জড়িত হবে। আমাদের জন্য এটা অবশ্যই একটা অশনি সংকতে। আমাদের জন্য এক অনিশ্চত ভবিষ্যৎ অপেক্ষা করছে, যদি আমাদের রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা অব্যাহত থাকে।</p>
<p>গার্মেন্ট শিল্পে অগ্নিকাণ্ড-ধস, আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির যে অবনতি আমরা লক্ষ করছি, তা আমাদের নষ্ট রাজনীতিরই ফসল। আমাদের দেশে ব্যবসাকে রাজনীতিকীকরণ করা হয়েছে, ব্যবসায়ীরা রাজনীতিবিদ হয়েছেন আর রাজনীতিবিদরা ব্যবসায়ী; যার ফলে দুটোর কোনটিই ভালো চলছে না। এই নষ্ট রাজনীতির কাজ হচ্ছে বিভিন্ন ধরনের ফায়দা দেওয়া। নষ্ট রাজনীতির বাহন হচ্ছে দলতন্ত্র, ফায়দাতন্ত্র। আমাদের দেশে দলবাজি, ফায়দাবাজি, চাঁদাবাজি, দুর্নীতি চারদিকে ব্যাপক ও প্রখর। এসব ক্ষেত্রে তারা অনেকেই অন্যায় করে পার পেয়ে যায় ক্ষমতাসীন দলের দলতন্ত্রের কারণে। দেশ আজ বাজিকর, ফায়দাবাজ, দলবাজ-চাঁদাবাজ ইত্যাদি অশুভ শক্তির হাতে। অর্থাৎ ক্ষমতাসীনদের সঙ্গে যারা জড়িত তারা বিভিন্ন রকম অন্যায় ফায়দা পায় এবং দলবাজির কারণে তারা বিভিন্ন রকম অন্যায় করে পার পেয়ে যায়। এখন আমাদের রাজনীতিতে যদি গুণগত পরিবর্তন না আসে, তাহলে কিন্তু আমরা এ থেকে মুক্তি পাব না। বাজিকর রানার কথা যদি বলতে হয়, তবে বলব, এ রানা কিন্তু একা নয়, সারা দেশে হাজার হাজার রানা রয়েছে, যাদের তাণ্ডব সারা দেশে চলছে। তারা দেশকে অস্থিতিশীল করছে, আমাদের সুশাসনকে পরাহত করছে এবং এগুলো আমাদের সুস্থ গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে বিরাট বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে এবং তাদের কারণে সাধারণ মানুষ প্রতি পদে পদে বঞ্চিত হচ্ছে। এখনই আমাদের নষ্ট রাজনীতি ঠিক না হলে আমরা কিন্তু এসব থেকে মুক্তি পাব না।</p>
<p>অনুলিখন : শাহরিয়ার রহমান সুপ্ত</p>
<p>সূত্র: কালেরকণ্ঠ, ১৪ মে ২০১৩</p>
<br />  <a rel="nofollow" href="http://feeds.wordpress.com/1.0/gocomments/shujanbd.wordpress.com/3279/"><img alt="" border="0" src="http://feeds.wordpress.com/1.0/comments/shujanbd.wordpress.com/3279/" /></a> <img alt="" border="0" src="http://stats.wordpress.com/b.gif?host=shujan.org&#038;blog=43711212&#038;post=3279&#038;subd=shujanbd&#038;ref=&#038;feed=1" width="1" height="1" />]]></content:encoded>
			<wfw:commentRss>http://shujan.org/2013/05/14/%e0%a6%b8%e0%a6%82%e0%a6%98%e0%a6%be%e0%a6%a4-%e0%a6%a8%e0%a6%be-%e0%a6%b8%e0%a6%82%e0%a6%b2%e0%a6%be%e0%a6%aa/feed/</wfw:commentRss>
		<slash:comments>0</slash:comments>
	
		<media:content url="http://1.gravatar.com/avatar/7b472cdf95aaf6a17e75fa04e34961f9?s=96&#38;d=identicon&#38;r=G" medium="image">
			<media:title type="html">shahalam2013</media:title>
		</media:content>

		<media:content url="http://shujanbd.files.wordpress.com/2013/05/main-logo-gif.jpg?w=300" medium="image">
			<media:title type="html">main-logo.gif</media:title>
		</media:content>
	</item>
		<item>
		<title>বাংলাদেশের ভাবমূর্তি ও রাজনীতি</title>
		<link>http://shujan.org/2013/05/13/%e0%a6%ac%e0%a6%be%e0%a6%82%e0%a6%b2%e0%a6%be%e0%a6%a6%e0%a7%87%e0%a6%b6%e0%a7%87%e0%a6%b0-%e0%a6%ad%e0%a6%be%e0%a6%ac%e0%a6%ae%e0%a7%82%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%a4%e0%a6%bf-%e0%a6%93-%e0%a6%b0/</link>
		<comments>http://shujan.org/2013/05/13/%e0%a6%ac%e0%a6%be%e0%a6%82%e0%a6%b2%e0%a6%be%e0%a6%a6%e0%a7%87%e0%a6%b6%e0%a7%87%e0%a6%b0-%e0%a6%ad%e0%a6%be%e0%a6%ac%e0%a6%ae%e0%a7%82%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%a4%e0%a6%bf-%e0%a6%93-%e0%a6%b0/#comments</comments>
		<pubDate>Mon, 13 May 2013 10:14:47 +0000</pubDate>
		<dc:creator>shahalam2013</dc:creator>
				<category><![CDATA[ড. বদিউল আলম মজুমদার]]></category>
		<category><![CDATA[লেখালেখি]]></category>
		<category><![CDATA[রাজনৈতিক প্রসঙ্গ]]></category>

		<guid isPermaLink="false">http://shujan.org/?p=3286</guid>
		<description><![CDATA[বদিউল আলম মজুমদার &#124; তারিখ: ১৩-০৫-২০১৩ সাভারে রানা প্লাজা ট্র্যাজেডি যখন ঘটে, আমি তখন মঙ্গোলিয়ার রাজধানী উলানবাটোরে। সেখানে ১৫০ দেশের সমন্বয়ে গঠিত ‘কমিউনিটি অব ডেমোক্রেসি’ আয়োজিত সপ্তম মিনিস্টারিয়াল কনফারেন্সে আমি অংশ নিচ্ছিলাম। কনফারেন্সে সারা পৃথিবী থেকে কয়েক শ ব্যক্তি অংশ নেন, যার মধ্যে ছিলেন শান্তিতে নোবেল বিজয়ী অং সান সু চি ও তাওয়াক্কল কারমান এবং [&#8230;]<img alt="" border="0" src="http://stats.wordpress.com/b.gif?host=shujan.org&#038;blog=43711212&#038;post=3286&#038;subd=shujanbd&#038;ref=&#038;feed=1" width="1" height="1" />]]></description>
				<content:encoded><![CDATA[<p><a href="http://www.prothom-alo.com/detail/date/2013-05-13/news/351795"><img class="alignnone size-medium wp-image-3287" alt="prothom-alo-logo_v4" src="http://shujanbd.files.wordpress.com/2013/05/prothom-alo-logo_v4.jpg?w=124&#038;h=61" width="124" height="61" /></a></p>
<p>বদিউল আলম মজুমদার | তারিখ: ১৩-০৫-২০১৩</p>
<p>সাভারে রানা প্লাজা ট্র্যাজেডি যখন ঘটে, আমি তখন মঙ্গোলিয়ার রাজধানী উলানবাটোরে। সেখানে ১৫০ দেশের সমন্বয়ে গঠিত ‘কমিউনিটি অব ডেমোক্রেসি’ আয়োজিত সপ্তম মিনিস্টারিয়াল কনফারেন্সে আমি অংশ নিচ্ছিলাম। কনফারেন্সে সারা পৃথিবী থেকে কয়েক শ ব্যক্তি অংশ নেন, যার মধ্যে ছিলেন শান্তিতে নোবেল বিজয়ী অং সান সু চি ও তাওয়াক্কল কারমান এবং একাধিক দেশের প্রেসিডেন্ট, ভাইস প্রেসিডেন্ট, প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রিপরিষদের সদস্য, জাতিসংঘের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও রাষ্ট্রদূত। এ ছাড়া এতে অংশ নেন পার্লামেন্টারিয়ান, সিভিল সোসাইটি, ব্যবসায়ী, নারী ও তরুণদের প্রতিনিধিরা।</p>
<p>বাংলাদেশ থেকে আমিই একমাত্র এই অনুষ্ঠানে অংশ নিয়েছিলাম, যদিও চীনে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত এতে আমাদের সরকারের প্রতিনিধিত্ব করেন। রানা প্লাজা ট্র্যাজেডির ব্যাপকতা সম্পর্কে জানাজানি হতে থাকলে কনফারেন্সে অংশগ্রহণকারী ব্যক্তিদের অনেকেই আমাকে সমবেদনা জানাতে এগিয়ে আসেন। অনেকেই বলেন, হোটেল রুমে থেকে সিএনএন ও বিবিসি চ্যানেলে দুর্ঘটনার উদ্ধার কার্যক্রম দেখে তাঁরা চরমভাবে ব্যথিত। সমবেদনা জ্ঞাপনকারী ব্যক্তিদের প্রায় সবাই বাংলাদেশের তৈরি পোশাকের ভোক্তা এবং যে অমানবিক পরিবেশে এগুলো তৈরি হয় জেনে তাঁরা মর্মাহত। একজন তো হতাশার সুরে বলেই ফেললেন, তাঁর গায়ের জামাটি যে মেয়েগুলো বানিয়েছে, তারাও হয়তো মৃত বা নিখোঁজ! কয়েকজন আমার কাছে জানতে চান দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ এবং এ ধরনের বিপর্যয় রোধে সরকারের ভূমিকা সম্পর্কে। তাঁরা প্রশ্ন তোলেন: কেন সরকার উদ্ধারকাজে ব্রিটিশ সহায়তা নিল না? দায়ী ব্যক্তিরা কি চিহ্নিত হবেন? শাস্তি পাবেন? মৃত ব্যক্তিদের পরিবার-পরিজন ও আহত ব্যক্তিদের দায়ভার কে নেবে? ইত্যাদি।</p>
<p>সম্মেলনে একজন আমেরিকানের সঙ্গে আমার কথা হয়, যিনি বাংলাদেশের তৈরি পোশাকশিল্পের সমস্যা সম্পর্কে আমাদের অনেকের চেয়ে অনেক বেশি খোঁজখবর রাখেন, তিনি আমাকে বলেন, গত নভেম্বরের তাজরীন ফ্যাশনসের অগ্নিকাণ্ডের পর তৈরি পোশাক কারখানাগুলোতে এ পর্যন্ত ছোট-বড় ৪৭টি অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে, যাতে বেশ কয়েকজন হতাহতও হয়েছে। পোশাকশিল্পে দুর্ঘটনাজনিত হতাহতের মূল কারণ অধিকাংশ ক্ষেত্রে তালা দেওয়া কলাপসিবল গেট এবং হুড়োহুড়িতে শ্রমিকদের পায়ের তলায় পিষ্ট হওয়া। তাঁর আফসোস, বাংলাদেশের প্রায় পাঁচ হাজার তৈরি পোশাকশিল্পে ৪৫ লাখ শ্রমিক কাজ করলেও, যা মঙ্গোলিয়ার মোট জনসংখ্যার দেড় গুণ, সরকার শ্রমিকদের নিরাপত্তা এবং ন্যূনতম সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করতে অনাগ্রহী। বরং কোনো দুর্ঘটনা ঘটলেই দেশি-বিদেশি চক্রান্তের অভিযোগ তোলা হয়। তাজরীন অগ্নিকাণ্ডের সময় অনেকে চক্রান্তের অভিযোগ তুলেছিলেন। তবে তিনি সন্তোষ প্রকাশ করেন, এবার কেউ বিদেশি ষড়যন্ত্রের ধুয়া তোলেনি।<span id="more-3286"></span></p>
<p>তিনি অভিযোগ করেন, বাংলাদেশ সরকার অর্থ ব্যয় করে শিল্প পুলিশ নিয়োগ দিয়েছে শ্রমিকদের পেটানোর জন্য। কিন্তু সারা দেশের শিল্পকারখানাগুলো নজরদারির জন্য মাত্র যে ১৫০টি ইন্সপেক্টরের পদ রয়েছে, তার প্রায় অর্ধেকই শূন্য। এ ব্যাপারে সরকার অর্থ ব্যয় করছে না। তাঁর কাছে অবিশ্বাস্য যে ১০০ কোটি ডলার ব্যয় করে বাংলাদেশ অস্ত্র কিনতে পারে, কিন্তু দুর্যোগকালীন উদ্ধারকাজে ব্যবহারের জন্য অধ্যাপক জামিলুর রেজা চৌধুরী প্রস্তাবিত ২৫০ কোটি টাকা ব্যয়ে প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি কেনার টাকা সরকারের নেই! তাঁর আরও অভিযোগ, স্বার্থসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা তৈরি পোশাকশিল্পে শ্রমিক ইউনিয়ন গড়ে তুলতে দিচ্ছেন না এবং এ প্রচেষ্টায় রত শ্রমিকনেতা আমিনুল ইসলামের হত্যাকারীদের খুঁজে বের করে শাস্তি দেওয়া হচ্ছে না, যদিও সরকার জানে কারা খুনি।</p>
<p>ভদ্রলোকের দাবি, বাংলাদেশের তৈরি পোশাকের আমেরিকান ভোক্তারা শ্রমিকদের বারবার প্রাণহানিতে দারুণভাবে ক্ষুব্ধ। কিন্তু ক্রেতা কোম্পানিগুলো এর দায় এড়িয়ে যাচ্ছে। কোম্পানিগুলোর বক্তব্য, তাঁরা কারখানাগুলোর মালিক নন এবং বাংলাদেশি মালিকদের ওপর কারখানার পরিবেশ উন্নয়নের জন্য চাপ দিলেও মালিকেরা কিছু না করলে এবং সরকার এ ব্যাপারে উদাসীনতা প্রদর্শন করলে তাঁদের তেমন কিছু করার থাকে না। আর কোম্পানিগুলো তৈরি পোশাকের জন্য বেশি দাম দিতে চাইলেও তাতে শ্রমিকেরা লাভবান হবে বলে তাঁরা আশাবাদী নন। কারণ, মালিকদের স্বার্থপরতা এবং শ্রমিকদের বঞ্চনার কথা তাঁদের জানা। মালিকেরা শুধু পণ্য বিক্রি করে লাভবান হচ্ছেন তা-ই নয়, তাঁরা বিভিন্নভাবে আন্ডার ও ওভার ইনভয়েসিং করেও ঐশ্বর্যশালী হচ্ছেন, কিন্তু শ্রমিকেরা বঞ্চিতই থেকে যাচ্ছেন। মালিকেরা একটার পর একটা কারখানা গড়ে তুলছেন এবং সম্পদের অশ্লীল প্রদর্শনী দেখাচ্ছেন, কিন্তু যাদের রক্তের বিনিময়ে তাঁরা তা করছেন, সেই শ্রমিকেরা খেতে পায় না।</p>
<p>ভদ্রলোক বাংলাদেশের তৈরি পোশাকশিল্পের ভবিষ্যৎ সম্পর্কে তাঁর চরম শঙ্কার কথা আমাকে জানান। বিদেশি ক্রেতাদের বাংলাদেশি কারখানায় কোনো মালিকানা নেই বলে তাঁরা যেকোনো সময় পণ্য কেনার জন্য অন্য দেশে পাড়ি জমাতে পারেন, যার উদ্যোগ ইতিমধ্যে অনেকেই নিচ্ছেন। ক্রমাগত রাজনৈতিক হানাহানি ও সহিংসতা তা আরও ত্বরান্বিত করবে। এ ছাড়া শ্রমিকদের যে অবিশ্বাস্য পরিমাণের কম মজুরি দেওয়া হয়, তাতে তাদের জীবন নির্বাহ হয় না, ফলে পুরো শিল্পে এক ভয়াবহ ধরনের অসন্তোষ ও অস্থিরতা বিরাজ করছে। বস্তুত, তাঁর মতে, বাংলাদেশের পোশাকশিল্প অনেকটা বারুদের স্তূপের ওপরে দাঁড়িয়ে, যেকোনো সময় এর বিস্ফোরণ ঘটতে বাধ্য।</p>
<p>কনফারেন্সে অংশহণকারীদের প্রশ্নবাণের যখন মুখোমুখি হই এবং আমেরিকান ভদ্রলোকের সঙ্গে কথা বলি, তখন বিজিএমইএর সভাপতির সাম্প্রতিক বক্তব্য আমার সামনে ভেসে ওঠে। দেশের ভাবমূর্তি রক্ষার খাতিরে তিনি রানা প্লাজা ট্র্যাজেডির প্রচারণা বন্ধের আহ্বান জানান। উলানবাটোরে একদল বিদেশি ‘অপিনিয়নমেকারের’ সঙ্গে আলাপের অভিজ্ঞতা থেকে আমার কাছে এটি সুস্পষ্ট, বিজিএমইএর সভাপতি চাইলেও এবং আমাদের সরকার তার সর্বশক্তি নিয়োগ করলেও এ ধরনের ঘটনা ধামাচাপা দেওয়া যাবে না। আন্তর্জাতিক মিডিয়া এগুলো প্রচার করবেই। তৈরি পোশাকের ভোক্তারা এবং ক্রেতারা এ নিয়ে প্রশ্ন তুলবেনই। মানুষ হিসেবে ভোক্তারা এ ব্যাপারে একধরনের ব্যক্তিগত দায়দায়িত্ব অনুভব করেন। সভাপতি ও সরকারের এ ক্ষেত্রে করণীয় হলো, এ ধরনের ঘটনা যাতে না ঘটে তা নিশ্চিত করা। ভবিষ্যতে এ ধরনের মানবসৃষ্ট ট্র্যাজেডির পুনরাবৃত্তি না ঘটলেই বাংলাদেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল হবে, যা হওয়াও অত্যন্ত জরুরি।</p>
<p>ইতিহাস থেকে দেখা যায়, অনেক দেশেই প্রথমদিকে শিল্পকারখানা গড়ে উঠেছে শ্রমিকদের ত্যাগের বিনিময়ে। কিন্তু একপর্যায়ে এসে উৎপাদকেরা নিজেদের স্বার্থেই শ্রমিকদের স্বার্থের প্রতি মনোযোগী হয়েছেন। ব্যবসার স্বার্থেই তাঁরা কিছু নিয়মকানুন গড়ে তুলেছেন এবং মেনেছেন। সরকারও তাদের করণীয় করেছে। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত বাংলাদেশে সে লক্ষণ এখনো দেখা যায় না, কারণ আমাদের দেশে ব্যবসায়ের ‘রাজনীতিকীকরণ’ হয়েছে—আমাদের ব্যবসায়ীরা রাজনীতিতে যোগ দিয়েছেন, রাজনীতিবিদেরা হয়ে পড়েছেন ব্যবসায়ী, ফলে রাজনীতি আজ লাভজনক ‘ব্যবসায়ে’ পরিণত হয়েছে। আমাদের সংসদের অন্তত দুই-তৃতীয়াংশ সদস্য ব্যবসায়ী, তাই রাজনীতি এখন পরিচালিত হয় বহুলাংশে ব্যবসায়ীদের স্বার্থে। এসব কারণে স্বল্প কিছু ব্যতিক্রম ছাড়া বাংলাদেশের অধিকাংশ ব্যবসা ভালো চলছে না, রাজনীতিও হয়ে পড়েছে রাজনীতিবিদ-ব্যবসায়ী-আমলাদের যোগসাজশে নষ্ট ও দুর্বৃত্তায়িত।</p>
<p>আমাদের নষ্ট রাজনীতির মূলে রয়েছে ক্ষমতাধরদের ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে দুর্নীতিতে যুক্ত হওয়া এবং এর আশ্রয়-প্রশ্রয় দেওয়া। বস্তুত, বাংলাদেশের দুর্নীতির একটি অন্যতম বাহন হলো ফায়দাবাজি ও দলবাজি। সোহেল রানার কথাই ধরা যাক। মিডিয়ার প্রতিবেদন অনুযায়ী, জনৈক রবীন্দ্র সাহার জমি ও খাল দখল করে রানা প্লাজা গড়ে তোলা হয়। রবীন্দ্র সাহা মামলা করেও গত সরকারের আমলে প্রতিকার পাননি, কারণ রানার পরিবার বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিল। ছাত্রলীগ ও যুবলীগের নেতা হিসেবে বর্তমান সরকারের ফায়দা পেয়ে রানা অন্যায়ভাবে সম্পদের পাহাড় গড়ে তুলেছেন এবং এমপি ও প্রশাসনের সহায়তায় তা রক্ষা করেছেন। অর্থাৎ গত এবং বর্তমান সরকারের নগ্ন ফায়দা ও দলতন্ত্রচর্চার কারণে রানা অন্যায় সুযোগ-সুবিধা পেয়েছেন এবং আইন ও নিয়মনীতি অমান্য এবং অপরাধ করে পার পেয়ে গেছেন। বলাবাহুল্য, আমাদের নষ্ট রাজনীতির দুষ্ট ছোবলের ফলে গত দুই দশকে এ ধরনের অসংখ্য রানা আমাদের দেশে সৃষ্টি হয়েছেন, যাঁরা এবং যাঁদের ক্ষমতাধর গডফাদাররা সারা দেশে আজ একধরনের অরাজক পরিস্থিতি গড়ে তুলছেন। প্রসঙ্গত, গত সরকারের দুঃশাসনে অতিষ্ঠ হয়ে জনগণ দুর্নীতি পরিহার এবং সুশাসন প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকারের ভিত্তিতে বর্তমান মহাজোট সরকারকে গত নির্বাচনে মহাবিজয় উপহার দিয়েছিল, কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত অরাজক অবস্থার ইতিবাচক পরিবর্তন তো ঘটেনিই, বরং অনেক ক্ষেত্রে অবনতি ঘটেছে।</p>
<p>পরিশেষে, মানব উন্নয়নের সূচকে বাংলাদেশের সফলতা অনেককে তাক লাগিয়েছে। পোশাকশিল্পে আমাদের সমৃদ্ধি ও বিস্তৃতি অনেকের ঈর্ষার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। অনেকে এখন মনে করেন যে অর্থনৈতিক দিক থেকে বাংলাদেশের সামনে একটি অভাবনীয় উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ অপেক্ষা করছে। কিন্তু আমাদের আশঙ্কা, দ্রুত ফায়দাতন্ত্র-দলতন্ত্র তথা দুর্নীতির অবসান ঘটাতে এবং ন্যায়পরায়ণতা ও আইনের শাসন তথা সুশাসন কায়েম করতে না পারলে, মানব উন্নয়নে আমাদের সফলতা অব্যাহত থাকবে না। আমরা তৈরি পোশাকশিল্পকে বাঁচাতে পারব না এবং অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে আমাদের জন্য অপেক্ষমাণ উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ বাস্তবে রূপায়িতও হবে না। এসব অনাকাঙ্ক্ষিত অঘটন এড়াতে হলে জরুরি ভিত্তিতে আজ প্রয়োজন আমাদের বিরাজমান অপরাজনীতির অবসান এবং এর গুণগত মানে ব্যাপক পরিবর্তন।<br />
বদিউল আলম মজুমদার: সম্পাদক, সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন)।</p>
<p>সূত্র: প্রথম আলো, ১৩ মে ২০১৩</p>
<br />  <a rel="nofollow" href="http://feeds.wordpress.com/1.0/gocomments/shujanbd.wordpress.com/3286/"><img alt="" border="0" src="http://feeds.wordpress.com/1.0/comments/shujanbd.wordpress.com/3286/" /></a> <img alt="" border="0" src="http://stats.wordpress.com/b.gif?host=shujan.org&#038;blog=43711212&#038;post=3286&#038;subd=shujanbd&#038;ref=&#038;feed=1" width="1" height="1" />]]></content:encoded>
			<wfw:commentRss>http://shujan.org/2013/05/13/%e0%a6%ac%e0%a6%be%e0%a6%82%e0%a6%b2%e0%a6%be%e0%a6%a6%e0%a7%87%e0%a6%b6%e0%a7%87%e0%a6%b0-%e0%a6%ad%e0%a6%be%e0%a6%ac%e0%a6%ae%e0%a7%82%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%a4%e0%a6%bf-%e0%a6%93-%e0%a6%b0/feed/</wfw:commentRss>
		<slash:comments>0</slash:comments>
	
		<media:content url="http://1.gravatar.com/avatar/7b472cdf95aaf6a17e75fa04e34961f9?s=96&#38;d=identicon&#38;r=G" medium="image">
			<media:title type="html">shahalam2013</media:title>
		</media:content>

		<media:content url="http://shujanbd.files.wordpress.com/2013/05/prothom-alo-logo_v4.jpg?w=300" medium="image">
			<media:title type="html">prothom-alo-logo_v4</media:title>
		</media:content>
	</item>
		<item>
		<title>নির্বাচন সামনে রেখে জাতীয় ঐকমত্যের রূপরেখা চাই</title>
		<link>http://shujan.org/2013/05/13/%e0%a6%a8%e0%a6%bf%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%ac%e0%a6%be%e0%a6%9a%e0%a6%a8-%e0%a6%b8%e0%a6%be%e0%a6%ae%e0%a6%a8%e0%a7%87-%e0%a6%b0%e0%a7%87%e0%a6%96%e0%a7%87-%e0%a6%9c%e0%a6%be%e0%a6%a4%e0%a7%80/</link>
		<comments>http://shujan.org/2013/05/13/%e0%a6%a8%e0%a6%bf%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%ac%e0%a6%be%e0%a6%9a%e0%a6%a8-%e0%a6%b8%e0%a6%be%e0%a6%ae%e0%a6%a8%e0%a7%87-%e0%a6%b0%e0%a7%87%e0%a6%96%e0%a7%87-%e0%a6%9c%e0%a6%be%e0%a6%a4%e0%a7%80/#comments</comments>
		<pubDate>Mon, 13 May 2013 10:06:12 +0000</pubDate>
		<dc:creator>shahalam2013</dc:creator>
				<category><![CDATA[ড. বদিউল আলম মজুমদার]]></category>
		<category><![CDATA[লেখালেখি]]></category>
		<category><![CDATA[রাজনৈতিক প্রসঙ্গ]]></category>

		<guid isPermaLink="false">http://shujan.org/?p=3282</guid>
		<description><![CDATA[বদিউল আলম মজুমদার কারও জ্বর হলে প্রাথমিকভাবে পার‌্যাসিটামল দেওয়া হয়। কখনও চিকিৎসক এ বিধান দেন, আবার রোগী নিজেও এ জাতীয় ওষুধ খেয়ে নেন। কিন্তু জ্বর যদি কয়েক দিন ধরে চলে তাহলে নানা ধরনের পরীক্ষা করে এর কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হতে হয়। এভাবে জানা যায় যে, রোগীর ভেতরে টাইফয়েড কিংবা ম্যালেরিয়ার জীবাণু রয়েছে কিনা। কিংবা শরীরের [&#8230;]<img alt="" border="0" src="http://stats.wordpress.com/b.gif?host=shujan.org&#038;blog=43711212&#038;post=3282&#038;subd=shujanbd&#038;ref=&#038;feed=1" width="1" height="1" />]]></description>
				<content:encoded><![CDATA[<p><a href="http://www.samakal.net/print_edition/details.php?news=20&amp;action=main&amp;menu_type=&amp;option=single&amp;news_id=344716&amp;pub_no=1406&amp;type="><img class="alignnone size-full wp-image-3284" alt="Samakal_logo" src="http://shujanbd.files.wordpress.com/2013/05/samakal_logo.jpg?w=714"   /></a></p>
<p>বদিউল আলম মজুমদার</p>
<p>কারও জ্বর হলে প্রাথমিকভাবে পার‌্যাসিটামল দেওয়া হয়। কখনও চিকিৎসক এ বিধান দেন, আবার রোগী নিজেও এ জাতীয় ওষুধ খেয়ে নেন। কিন্তু জ্বর যদি কয়েক দিন ধরে চলে তাহলে নানা ধরনের পরীক্ষা করে এর কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হতে হয়। এভাবে জানা যায় যে, রোগীর ভেতরে টাইফয়েড কিংবা ম্যালেরিয়ার জীবাণু রয়েছে কিনা। কিংবা শরীরের উষ্ণতা অন্য কোনো রোগের প্রকাশও ঘটাতে পারে।</p>
<p>বাংলাদেশে এখন আমরা অনেক উপসর্গ দেখি। এখন আর টোটকা দাওয়াই দিয়ে কাজ হবে না। সমস্যাগুলোর মধ্যে দুটি প্রধান। এক. একাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধে যুক্তদের বিচারকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট নানা ধরনের কর্মকাণ্ড। পক্ষে ও বিপক্ষে মিছিল-সমাবেশ, হরতাল, ভাংচুর_ সবই রয়েছে। দুই. পরবর্তী সাধারণ নির্বাচন কীভাবে অনুষ্ঠিত হবে। এখন যা কিছু আমরা ঘটতে দেখছি, তার বেশিরভাগ এ দুটি ইস্যুর সঙ্গে কোনো না কোনোভাবে সম্পৃক্ত।</p>
<p>প্রথমটি অর্থাৎ একাত্তরে হত্যা-ধর্ষণ-লুটপাটের অভিযোগে বিচারের জন্য বর্তমান মহাজোট সরকার উদ্যোগী হয়েছে। এ জন্য গণরায়ও তাদের রয়েছে। ৫ ফেব্রুয়ারি একটি ট্রাইব্যুনালে মানবতাবিরোধী অপরাধের দ্বিতীয় রায় প্রদান করা হয়। এতে আবদুল কাদের মোল্লার যাবজ্জীবন কারাদণ্ড প্রদান করা হলে তরুণ সমাজের একটি অংশ (তাদের কেউ কেউ ব্লগার হিসেবে পরিচিত) মনে করে যে, সরকারের সঙ্গে জামায়াতে ইসলামীর হয়তো আঁতাত হয়েছে। যে কারণে সর্বোচ্চ সাজার পরিবর্তে অপেক্ষাকৃত লঘুদণ্ড অর্থাৎ যাবজ্জীবন কারাদণ্ড প্রদান করা হয়েছে। এভাবেই শাহবাগে গণজাগরণ মঞ্চের সৃষ্টি।<span id="more-3282"></span></p>
<p>আবার এই গণজাগরণ মঞ্চের প্রতিক্রিয়াতেই আমরা দেখি হেফাজতে ইসলাম নামে একটি জোটের উত্থান। তারা এক সময়ে ১৩ দফা দাবি তুলে ধরে এবং আমাদের রাষ্ট্র ও সমাজকে প্রচণ্ড ধাক্কা দিতে সক্ষম হয়।</p>
<p>এখন কেউ কেউ বলছেন, মহাজোট সরকার যদি সংবিধান সংশোধন করে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল না করত, তাহলে যুদ্ধাপরাধের বিচার নিয়ে একটি মহল এভাবে অস্থিরতা সৃষ্টি করতে পারত না। বিএনপির মতো একটি বড় দলের &#8216;জামায়াতিকরণও&#8217; হতো না। নির্বাচনী সমীকরণ বিবেচনায় রেখে তারা একাত্তরের ভূমিকার কারণে বিভিন্ন মহলে সমালোচিত দলটির সঙ্গে হয়তো নামকা ওয়াস্তে সম্পর্ক রাখত, কিন্তু রাজপথের জন্য এভাবে নির্ভরশীলতা তৈরি হতো না।</p>
<p>তবে অস্থির পরিস্থিতির কারণে মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার কাজ যেন কোনোভাবেই বিঘি্নত না হয়, সে বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে। আর যত দ্রুত এ কাজ শেষ হয়, ততই মঙ্গল। এ বিচার অনুষ্ঠান দেশবাসীর দীর্ঘ চার দশকের প্রত্যাশার যৌক্তিক পরিণতি।<br />
একই সঙ্গে মনে রাখতে হবে যে, বর্তমানে অস্থিরতার প্রধান ইস্যু কিন্তু পরবর্তী জাতীয় সংসদ নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে অনুষ্ঠান। এ নির্বাচন হতে হবে যথাসময়ে এবং সব দলের অংশগ্রহণের ভিত্তিতে। এমন কোনো নির্বাচন হলে চলবে না, যা দেশ-বিদেশে গ্রহণযোগ্য হবে না। আমাদের দুর্ভাগ্য যে, নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতার পালাবদলের ব্যবস্থা এ দেশে দুই যুগ ধরে চালু থাকলেও পাঁচ বছর পরপরই আমাদের এক ধরনের অস্থির সময় অতিক্রম করতে হয়। তবে এর শুরুটা হয় নির্বাচনের মাধ্যমে নতুন সরকার গঠনের পরপরই। পরাজিত পক্ষ নতুন সরকারকে কেবল অসহযোগিতা করেই ক্ষান্ত থাকে না, অস্থির পরিস্থিতিরও চেষ্টা চালায় বলে ক্ষমতাসীনরা অভিযোগ করে। নির্বাচন যত এগিয়ে আসে, ততই রাজনৈতিক অঙ্গন উত্তপ্ত হতে তাকে। আগামীতেও যে এ অবস্থা হবে না_ সে নিশ্চয়তা নেই। বরং কেউ কেউ পরবর্তী সরকারের জন্য দেশ পরিচালনা আরও কঠিন হবে বলে ধারণা করছেন।</p>
<p>এ অবস্থায় করণীয়গুলো চিহ্নিত জরুরি, যাতে দেশে স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠিত হয় এবং আর্থ-সামাজিক ইস্যুগুলো মোকাবেলায় সরকার মনোযাগী হতে পারে। এজন্য জরুরি হচ্ছে আলোচনা এবং তাতে অবশ্যই প্রধান দুটি দলকে থাকতে হবে। বৃহত্তর পরিসরেও আলোচনা হতে হবে। আমি এ ক্ষেত্রে ১৯৯০ সালে &#8216;তিন জোটের রূপরেখা&#8217;র মতো একটি সমঝোতা গড়ে তোলার ওপর জোর দিতে চাই। এ উদ্যোগে জামায়াতে ইসলামী বাদে প্রধান ও অপ্রধান সব দল এবং ব্যবসায়ী ও নাগরিক সমাজকে যুক্ত করতে হবে।</p>
<p>তিন জোটের রূপরেখার মতো একটি যুক্ত ঘোষণায় যেসব বিষয় থাকবে, সেগুলো হচ্ছে_ ক. নির্বাচনকালীন সরকার ব্যবস্থা ও নির্বাচন কমিশনের ক্ষমতা ও কর্মকাণ্ড; খ. নির্বাচনী আইনের সংস্কার এবং গ. নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী দল ও প্রার্থীদের যেসব বিষয়ে তথ্য প্রদান করতে হবে তার বিস্তারিত বিবরণ।</p>
<p>পরবর্তী প্রসঙ্গ হচ্ছে নির্বাচনের সময় করণীয়। এতে যেসব বিষয় থাকবে :ক. প্রার্থী ও দলের আচরণবিধি। ১৯৯১ সালের নির্বাচনের সময় এ ধরনের আচরণবিধি তৈরি হয়েছিল। তবে সর্বক্ষেত্রে তা যথাযথ অনুসরণ করা হয় না বলে অভিযোগ রয়েছে; খ. টাকার খেলা ও সন্ত্রাস বন্ধ করা; গ. প্রশাসনকে প্রভাবিত না করা কিংবা প্রশাসনের তরফেও কোনো দল বা প্রার্থীর প্রতি পক্ষপাত না করা; ঘ. দুর্নীতিবাজ, কালো টাকার মালিক এবং সন্ত্রাসীদের কোনো দল প্রার্থী করবে না_ এ ধরনের অঙ্গীকার প্রদান।</p>
<p>রূপরেখায় তৃতীয় যে বিষয় থাকতে হবে_ নতুন সরকারের করণীয়। এর মধ্যে অপরিহার্য বিষয় হবে জাতীয় সংসদকে কার্যকর করার জন্য পদক্ষেপ গ্রহণ। বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিত করায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপের বিষয়েও সব দলকে অঙ্গীকার করতে হবে। রাজনৈতিক দলগুলোর অভ্যন্তরে সংস্কারও জরুরি হয়ে পড়েছে। আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে, স্থানীয় সরকারকে শক্তিশালী করা। নির্বাচিত এসব প্রতিষ্ঠানকে অবশ্যই স্থানীয় এমপির প্রভাব থেকে মুক্ত করতে হবে। রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতার ভাগাভাগির বিষয়টিও আলোচনার দাবি রাখে। রাষ্ট্রপতি নির্বাচন পদ্ধতিও বিবেচনা করার সময় হয়েছে। এজন্য সংবিধান সংশোধন করতে হবে। আর সেটা হতে হবে জাতীয় ঐকমত্যের ভিত্তিতে। প্রধানমন্ত্রী কত মেয়াদ পর্যন্ত দায়িত্বে থাকবেন, সে বিষয়েও প্রস্তাব সামনে আসছে এবং সেটা নিয়েও আলোচনা দরকার। দুর্নীতি দমন কমিশন এবং বিভিন্ন সাংবিধানিক কমিশন যাতে কার্যকর প্রতিষ্ঠান হিসেবে কাজ করতে পারে, সে জন্যও নির্বাচনের আগেই ঐকমত্য হওয়া দরকার। দুর্নীতি দমন কমিশনকে কার্যকর করার বিকল্প নেই। এ প্রতিষ্ঠানকে অবশ্যই সরকারের প্রভাবমুক্ত করতে হবে।</p>
<p>আশা করব যে, আমাদের রাজনৈতিক নেতৃত্ব প্রজ্ঞা ও বিচক্ষণতার পরিচয় দেবেন এবং অশেষ সম্ভানার দেশ হিসেবে বিশ্বসমাজের কাছে চিহ্নিত দেশটিতে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করার জন্য সাধ্যমতো সবকিছু করবেন।</p>
<p>ড. বদিউল আলম মজুমদার :সম্পাদক সুশাসনের জন্য নাগরিক-সুজন</p>
<p>সূত্র: সমকাল, ১৩ মে ২০১৩</p>
<br />  <a rel="nofollow" href="http://feeds.wordpress.com/1.0/gocomments/shujanbd.wordpress.com/3282/"><img alt="" border="0" src="http://feeds.wordpress.com/1.0/comments/shujanbd.wordpress.com/3282/" /></a> <img alt="" border="0" src="http://stats.wordpress.com/b.gif?host=shujan.org&#038;blog=43711212&#038;post=3282&#038;subd=shujanbd&#038;ref=&#038;feed=1" width="1" height="1" />]]></content:encoded>
			<wfw:commentRss>http://shujan.org/2013/05/13/%e0%a6%a8%e0%a6%bf%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%ac%e0%a6%be%e0%a6%9a%e0%a6%a8-%e0%a6%b8%e0%a6%be%e0%a6%ae%e0%a6%a8%e0%a7%87-%e0%a6%b0%e0%a7%87%e0%a6%96%e0%a7%87-%e0%a6%9c%e0%a6%be%e0%a6%a4%e0%a7%80/feed/</wfw:commentRss>
		<slash:comments>0</slash:comments>
	
		<media:content url="http://1.gravatar.com/avatar/7b472cdf95aaf6a17e75fa04e34961f9?s=96&#38;d=identicon&#38;r=G" medium="image">
			<media:title type="html">shahalam2013</media:title>
		</media:content>

		<media:content url="http://shujanbd.files.wordpress.com/2013/05/samakal_logo.jpg" medium="image">
			<media:title type="html">Samakal_logo</media:title>
		</media:content>
	</item>
		<item>
		<title>বিশেষ সাক্ষাৎকার : বদিউল আলম মজুমদার</title>
		<link>http://shujan.org/2013/05/12/%e0%a6%ac%e0%a6%bf%e0%a6%b6%e0%a7%87%e0%a6%b7-%e0%a6%b8%e0%a6%be%e0%a6%95%e0%a7%8d%e0%a6%b7%e0%a6%be%e0%a7%8e%e0%a6%95%e0%a6%be%e0%a6%b0-%e0%a6%ac%e0%a6%a6%e0%a6%bf%e0%a6%89%e0%a6%b2-%e0%a6%86/</link>
		<comments>http://shujan.org/2013/05/12/%e0%a6%ac%e0%a6%bf%e0%a6%b6%e0%a7%87%e0%a6%b7-%e0%a6%b8%e0%a6%be%e0%a6%95%e0%a7%8d%e0%a6%b7%e0%a6%be%e0%a7%8e%e0%a6%95%e0%a6%be%e0%a6%b0-%e0%a6%ac%e0%a6%a6%e0%a6%bf%e0%a6%89%e0%a6%b2-%e0%a6%86/#comments</comments>
		<pubDate>Sun, 12 May 2013 11:03:40 +0000</pubDate>
		<dc:creator>shahalam2013</dc:creator>
				<category><![CDATA[জাতীয় সংসদ নির্বাচন]]></category>
		<category><![CDATA[ড. বদিউল আলম মজুমদার]]></category>
		<category><![CDATA[রাজনৈতিক সংলাপ সংক্রান্ত]]></category>

		<guid isPermaLink="false">http://shujan.org/?p=3277</guid>
		<description><![CDATA[বিশেষ সাক্ষাৎকার : বদিউল আলম মজুমদার অনিশ্চয়তা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি দিন দিনই অস্থির হচ্ছে। অনিশ্চিত অবস্থার দিকে যাচ্ছে দেশ। বিএনপির দুদিনের হরতাল শেষে আজ আবার হরতাল দিয়েছে জামায়াতে ইসলামী। সংলাপের কথা উচ্চারিত হচ্ছে, কিন্তু সমঝোতার কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। এই অস্থির ও অনিশ্চিত সময় থেকে উত্তরণ বিষয়ে কালের কণ্ঠের মুখোমুখি [&#8230;]<img alt="" border="0" src="http://stats.wordpress.com/b.gif?host=shujan.org&#038;blog=43711212&#038;post=3277&#038;subd=shujanbd&#038;ref=&#038;feed=1" width="1" height="1" />]]></description>
				<content:encoded><![CDATA[<p><a href="http://www.kalerkantho.com/index.php?view=details&amp;type=gold&amp;data=news&amp;pub_no=1240&amp;cat_id=2&amp;menu_id=23&amp;news_type_id=1&amp;index=0#.UY9WYZHivIU"><img alt="main-logo.gif" src="http://shahalamblog.files.wordpress.com/2013/05/main-logo-gif.jpg?w=120&#038;h=36" width="120" height="36" /></a></p>
<div>
<div>
<div>বিশেষ সাক্ষাৎকার : বদিউল আলম মজুমদার</p>
<p>অনিশ্চয়তা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে</p>
<p>দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি দিন দিনই অস্থির হচ্ছে। অনিশ্চিত অবস্থার দিকে যাচ্ছে দেশ। বিএনপির দুদিনের হরতাল শেষে আজ আবার হরতাল দিয়েছে জামায়াতে ইসলামী। সংলাপের কথা উচ্চারিত হচ্ছে, কিন্তু সমঝোতার কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। এই অস্থির ও অনিশ্চিত সময় থেকে উত্তরণ বিষয়ে কালের কণ্ঠের মুখোমুখি হয়েছিলেন সুশাসনের জন্য নাগরিক-সুজনের সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন আলী হাবিব</p>
<p>কালের কণ্ঠ : হেফাজতের সাম্প্রতিক অবরোধ ও সমাবেশ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে রাজধানীতে যে তাণ্ডব হয়েছে, এই পরিস্থিতিকে কিভাবে ব্যাখ্যা করবেন?<br />
বদিউল আলম মজুমদার : এটি নিঃসন্দেহে একটি দুঃখজনক ঘটনা। তারা যা করেছে, তা নিন্দনীয়। তারা যে তাণ্ডব চালিয়েছে, সহিংসতা ঘটিয়েছে, এটা অগ্রহণযোগ্য। হ্যাঁ, অবরোধ-সমাবেশ করার অধিকার তাদের আছে। তবে এই অধিকার ততক্ষণই আছে, যতক্ষণ না তারা অন্যের অধিকার হরণ করছে। অন্যের নাগরিক অধিকার, চলাফেরার অধিকার, নিরাপত্তা ব্যাহত না করে সমাবেশ-অবরোধ করার অধিকার তাদের আছে। কিন্তু ৫ মে সমাবেশ করার নামে তারা যা করেছে, তাতে অন্যের নাগরিক অধিকার ব্যাহত করা হয়েছে। শুধু তাই নয়, তারা অনেক দোকান পুড়িয়ে দিয়েছে, ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়েছে। অনেক দরিদ্র মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সর্বস্বান্ত হয়ে গেছে। এটা অবশ্যই নিন্দনীয়। এর দায় তারা এড়াতে পারে না। একই সঙ্গে প্রশ্ন উঠতে পারে, ৫ মের ঘটনাবলির জন্য সরকারের দায় কতটুকু? সরকার কি দায় এড়াতে পারে? আমার তো মনে হয়, সরকারও এর দায় এড়াতে পারে না। সরকারের গোয়েন্দা সংস্থার জানা উচিত ছিল, তারা কী করতে পারে। কী ধরনের সহিংসতা তারা চালাতে পারে, কী রকম বিশৃঙ্খলা তারা সৃষ্টি করতে পারে। সেটা সরকার যদি না জানে, সরকারের গোয়েন্দা সংস্থা যদি না জানে, তাহলে ধরে নিতে হবে, গোয়েন্দা সংস্থা কাজ করছে না। আর এমন সহিংসতার ঘটনা ঘটবে, এটা জেনেশুনে যদি সরকার তা করে থাকে অর্থাৎ সমাবেশের অনুমতি দিয়ে থাকে, তাহলে সেটা হবে সরকারের দায়িত্বহীনতার পরিচয়। আর যদি না জানে, তাহলে সেটা সরকারের ব্যর্থতা। হেফাজতের কর্মসূচি ছিল অবরোধের। কেন তাদের শহরের বাণিজ্যিক কেন্দ্রে সমাবেশ করার অনুমতি দেওয়া হলো- এ প্রশ্নের উত্তর সরকারকে দিতে হবে।<img title="More..." alt="" src="https://shahalamblog.wordpress.com/wp-includes/js/tinymce/plugins/wordpress/img/trans.gif" /><span id="more-3277"></span></p>
<p>কালের কণ্ঠ : হেফাজতের এই কর্মকাণ্ডের নেপথ্যে কোনো রাজনৈতিক শক্তি কাজ করেছে বলে অনেকের ধারণা। আপনি কী মনে করছেন?<br />
বদিউল আলম মজুমদার : এ বিষয়ে আমার কাছে নিশ্চিত কোনো তথ্য নেই। আমি আমার ব্যক্তিগত মতামত দিতে পারি। আমার পর্যবেক্ষণের ভিত্তিতে আমি বলতে পারি। আমার মনে হয়, হেফাজতকে নিয়ে খেলা করা হয়েছে। আমাদের দেশের দুই প্রধান দলই বোধ হয় হেফাজতকে নিয়ে খেলা করেছে। উভয় দলই চেয়েছে, হেফাজতকে তাদের পক্ষে আনতে। এটা হতে পারে, বিরোধী দল সফল হয়েছে, সরকারি দল সফল হয়নি। আগেরবার যেমন সরকারি দল সফল হয়েছিল, বিরোধী দল ব্যর্থ হয়েছিল। এটা শোনা যায়, আমি নিশ্চিত নই, বিরোধী দল চেয়েছিল, হেফাজত থেকে যাক। অবস্থান করুক। কিন্তু সরকারি দল চেয়েছিল, হেফাজত সমাবেশ করে চলে যাক। এবার উল্টোটি ঘটেছে। এবারের ঘটনাটি নিয়ে নানা ধরনের গুজব আছে। সরকারি দলের অনেকে নাকি দফায় দফায় বৈঠক করেছেন। আমি জানি না। কিন্তু মাওলানা শফী সমাবেশে না এসে মাঝপথ থেকে নাকি ফিরে গেছেন। কেন ফিরে গেলেন? তাঁকে কি আসতে দেওয়া হলো না, নাকি অন্য কোনো কারণ- সেটা জানা যায় না। বিভিন্ন ধরনের ধারণা আছে। আমরা আসলে এই বিষয়টিকে নিয়ে একটা শূন্যতার মধ্যে আছি। বলা যেতে পারে, তথ্য শূন্যতা। এ নিয়ে সরকারের পক্ষ থেকে কিছু বলা হয়নি। ওই দিন তাঁর কাছ থেকেও কিছু জানা যায়নি। ৫ মে রাতে কী ঘটল, তা নিয়েও নানা গুজব আছে। সরকারের পক্ষ থেকে কোনো কিছু বলা হয়নি। গুজব তো তখনই ছড়ায়, যখন কোনো তথ্য থাকে না। সংশ্লিষ্টরা, বিশেষ করে সরকারের পক্ষ থেকে কোনো তথ্য দেওয়া না হলে গুজব ছড়ায় বেশি। সরকার তো একটা প্রেসনোট দেবে, জানাবে। এটা সরকারের দায়িত্বের মধ্যে পড়ে। সরকার যখন এ দায়িত্বটা পালন করে না, তখন বিভিন্ন রকমের গুজব ছড়ায়, যাকে বলে ওয়াইল্ড রিউমার। এখন নানা রকমের ওয়াইল্ড রিউমার আছে। কোনটা যে সত্য, তা আমরা নিশ্চিত নই। আপনার প্রশ্নের সরাসরি উত্তর হতে পারে, দুই দলই খেলা করার চেষ্টা করেছে। দুই দলই হেফাজতকে পক্ষে নেওয়ার চেষ্টা করেছে। ব্যবহার করতে চেষ্টা করেছে। এক দল সফল হয়েছে, অন্য দল ব্যর্থ হয়েছে। তবে সরকার তাদের সরিয়ে দিতে সফল হয়েছে।</p>
<p>কালের কণ্ঠ : হেফাজতের সাম্প্রতিক অবরোধ ও সমাবেশ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে যে সহিংস ঘটনা ঘটে গেল, জ্বালাও-পোড়াও হলো, আর্থিক প্রতিষ্ঠান আক্রান্ত হলো- এটা কিন্তু একটা নতুন মাত্রা। এটাকে কিভাবে ব্যাখ্যা করবেন?<br />
বদিউল আলম মজুমদার : এসব ঘটনা যখনই ঘটে, তখন সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়, বিরোধী দল করছে বা করেছে। বিরোধী দলের পক্ষ থেকে দোষ চাপানো হয় সরকারের ওপর। এবারও যেমন সরকার বলছে, হেফাজত-জামায়াত-বিএনপি এসব কাজ করেছে। অন্যদিকে হেফাজত বলছে, সরকারি দলের লোকজন করেছে। কারা করেছে, সেটা নিশ্চিত হওয়ার জন্য একটা নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া দরকার বলে আমি মনে করি। অতীতে আরো অনেক ঘটনা ঘটেছে। বোমা হামলা, গ্রেনেড হামলা হয়েছে। তদন্ত করে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। নানা নাটক সাজানো হয়েছে। একটা নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া খুব জরুরি। কারা দোষী, সেটা খুঁজে বের করা দরকার। যারা এর জন্য দায়ী, তাদের খুঁজে বের করে যদি শাস্তি দেওয়া না হয়, তাহলে এ রকম চলতেই থাকবে। আমি মনে করি, একটি তদন্ত হওয়া দরকার। একজন অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতির নেতৃত্বে দলনিরপেক্ষ একটি তদন্ত হতে পারে, যাতে সত্যিকারের তথ্যগুলো বেরিয়ে আসে; ঘটনার নেপথ্যের শক্তিকে চিহ্নিত করা যায়।</p>
<p>কালের কণ্ঠ : হেফাজতের সাম্প্রতিক অবরোধ ও সমাবেশ কর্মসূচিকে সরকার বা সরকারের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী যেভাবে মোকাবিলা করেছে, সেটাকে আপনি কিভাবে দেখছেন?<br />
বদিউল আলম মজুমদার : শর্তসাপেক্ষে সমাবেশ করার অনুমতি হেফাজতের ছিল। তাদের দেওয়া সময়সীমা যখন পার হয়ে গেল, সেটা বেআইনি। তখন সরকারের দায়িত্ব আছে। সরকারকে তখন ভূমিকা নিতেই হবে। সরকারের ব্যবস্থা নেওয়ার যৌক্তিকতা আছে, কিন্তু সরকার ব্যবস্থা কিভাবে নিয়েছে, সেটা যৌক্তিক কি না, তা ভেবে দেখতে হবে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অনেক সফল শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তা বলেন, ধৈর্যই হচ্ছে বীরত্ব। আমাদের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী প্রশিক্ষিত। কাজেই তাদের কাছ থেকে আমরা শৃঙ্খলা ও মানবাধিকারের প্রতি শ্রদ্ধা আশা করি। দেশের মানুষের জানমালের প্রতি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দায়িত্বশীলতা আশা করা বা দাবি করাটা অযৌক্তিক নয়। সেদিন কী ঘটেছিল, তা আমরা জানি না, কারণ সরকারের পক্ষ থেকে কিছু বলা হয়নি। ওখানে জড়িত ছিলেন, এমন দায়িত্বশীল অনেকেই বলেছেন, সেদিন ওখানে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। এ জন্যই তদন্ত হওয়াটা দরকার বলে মনে করি। তদন্ত হলে বিষয়টির সুরাহা হবে। কী ঘটেছিল সেটা জানা যাবে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অংশ হিসেবে কেউ যদি ক্ষমতার অপব্যবহার করে থাকে, তদন্তে সেটাও বেরিয়ে যাবে।</p>
<p>কালের কণ্ঠ : সম্প্রতি আবার হেফাজতের কর্মসূচিতে নিহতের সংখ্যা নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়েছে। আপনি কি কোনো মন্তব্য করতে চান?<br />
বদিউল আলম মজুমদার : হ্যাঁ, নানা গুজব তো আছে। হাজার হাজার লোক নিহত হয়েছে, এমন কথা বলা হয়েছে। তদন্ত হলে সব বেরিয়ে যাবে। তবে এ বিতর্কের অবসান হওয়া দরকার।<br />
কালের কণ্ঠ : হেফাজতের এই কর্মসূচির আগে বিএনপির হরতাল হয়ে গেল। আজ জামায়াতের হরতাল। এ অবস্থায় দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে আপনার মূল্যায়ন কী? কোন দিকে যাচ্ছে দেশ?<br />
বদিউল আলম মজুমদার : খুব একটা ভালো দিকে যাচ্ছি বলে আমার তো মনে হয় না। এই যে অস্থিরতা, অনিশ্চয়তা- এ সবকিছুর পেছনে একটি মূল কারণ রয়েছে। সেই কারণটা কী, তা আমাদের জানতে হবে। আমার তো মনে হয় এর পেছনে দুটো উপসর্গ আছে। একটা হচ্ছে যুদ্ধাপরাধের বিচার, অন্যটা আগামী নির্বাচন। এখন যে রাজনৈতিক অস্থিরতা, আমার তো মনে হয়, এর পেছনে রয়েছে ভোটের রাজনীতি ও নির্বাচন। ঘটনার পেছনের ঘটনা হচ্ছে নির্বাচন। আগামী নির্বাচন কিভাবে হবে, কী ধরনের সরকার থাকবে আগামী নির্বাচনের সময়, এটাই হচ্ছে বিবেচ্য বিষয়। এ বিষয়ে, অর্থাৎ আগামী নির্বাচনকালীন সরকারের ব্যাপারে যদি একটি ঐকমত্য না হয়, নির্বাচনকালীন সরকারব্যবস্থা নিয়ে যদি কোনো সমঝোতা কিংবা সমাধান না হয়, তাহলে এ সমস্যার সমাধান হবে বলে আমার মনে হয় না। আসল রোগ হচ্ছে নির্বাচন। হেফাজত তো উপসর্গ। সরকারি ও বিরোধী দল যদি মূল রোগ সারানোর উদ্যোগ নেয়, তাহলেই সমাধান হবে। অন্যথায় হবে না।</p>
<p>কালের কণ্ঠ : নির্বাচনকালীন সরকার পদ্ধতি নিয়েই মূলত রাজনৈতিক মেরুকরণ। তত্ত্বাবধায়ক না অন্তর্বর্তীকালীন- সমাধান কোন পথে?<br />
বদিউল আলম মজুমদার : সমাধান একটাই। একটি সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ, সবার কাছে গ্রহণযোগ্য নির্বাচন। সেই নির্বাচন হতে হবে সবার অংশগ্রহণে। যে নির্বাচনটা হবে, সেই নির্বাচনে সবার অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে। সেই নির্বাচন সবার কাছে গ্রহণযোগ্য হবে- এটাও নিশ্চিত করতে হবে। সবার অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে পারলে তা সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য হবে। এটাই হবে আমাদের মানদণ্ড। এখন যে অনড় অবস্থা, যা অচলাবস্থার সৃষ্টি করছে- এর সংগত কারণ আছে। আওয়ামী লীগ মনে করে, পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে যেটা তারা সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত করেছে- দলীয় সরকারের অধীনে বা বর্তমান সরকারের অধীনে নির্বাচন হবে- এখানে তারা একটি ছাড় দিতে রাজি আছে বলে মনে হয়। তারা বোধ হয় এমনটি চাইছে যে বর্তমান প্রধানমন্ত্রীকে প্রধান করে একটি অন্তর্বর্তীকালীন সরকার হতে পারে, যেখানে বিরোধী দলের প্রতিনিধিত্ব থাকতে পারে। তারা এতটুকু ছাড় দিতে রাজি আছে, এই ভেবে যে তা যদি হয়, তাহলে তাদের নির্বাচনে জেতার সম্ভাবনা থাকে। বিরোধী দল মনে করে, এ রকম হলে তারা নির্বাচনে জিতবে না। তারা মনে করে, যদি নির্দলীয় সরকার নির্বাচনের সময় থাকে, তাহলে তারা ভোটে জিতবে। তারাও এখানে ছাড় দিতে চায় না, কারণ ছাড় দেওয়া মানেই ঝুঁকি নেওয়া। পরাজয়ের ঝুঁকি। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে নির্বাচনে পরাজয়ের ঝুঁকি নেওয়ার কোনো অবকাশ নেই। এটাই হচ্ছে ক্ষমতার রাজনীতি। সবাই নিজের ক্ষমতা নিশ্চিত করতে চায়, কারণ এর প্রণোদনা আছে। আমার ব্যক্তিগত ধারণা, তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল না করলে আজকের এই অচলাবস্থার সৃষ্টি হতো না, এমনকি যুদ্ধাপরাধীদের বিচার নিয়ে আজ যে বিতর্ক হচ্ছে, এটাও হতো না। আর একটা আশঙ্কা আমার আছে। বিএনপি এখন চরম চাপের মুখে। সরকারও চাপের মুখে। আগামী নির্বাচনে যদি বিএনপি না জিততে পারে, তাদের অস্তিত্বের সংকট দেখা দিতে পারে। সরকারি দল বা জোটও যদি ভোটে জিততে না পারে, তারাও ঝুঁকির মুখে পড়ে যাবে। এই ভোটের রাজনীতির সমীকরণেই বিএনপির জামায়াতীকরণ হচ্ছে।</p>
<p>কালের কণ্ঠ : দেশের রাজনৈতিক অস্থিরতা দূর করতে সংলাপের বিকল্প নেই- এমন কথা বলছেন অনেকেই। এই যে সংলাপের কথা বলা হচ্ছে, সেই সংলাপ কেমন করে হতে পারে? সংলাপের ক্ষেত্র কি প্রস্তুত?<br />
বদিউল আলম মজুমদার : এখন জরুরি ভিত্তিতে দেশের স্বার্থে, জনগণের স্বার্থে আলাপ-আলোচনা হওয়া দরকার। শুধু আওয়ামী লীগ ও বিএনপির মধ্যে নয়, সব রাজনৈতিক দলের মধ্যেই আলাপ-আলোচনা হতে হবে। বাংলাদেশ যে একটি ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্র, সেটা নিশ্চিত করার স্বার্থে এই আলাপ-আলোচনা হওয়া দরকার। হ্যাঁ, সংলাপের কথা মুখে অনেক বলা হচ্ছে। কিন্তু ভোটে জেতার যে রাজনীতি, সেখানে জয় নিশ্চিত না করে সংলাপে কেউ কি বসতে রাজি হবে? &#8216;তালগাছটা আমার&#8217;- এই যদি মনোভাব থাকে, তাহলে তো সংলাপের ক্ষেত্র প্রস্তুত হয়েছে বলা যাবে না।</p>
<p>কালের কণ্ঠ : সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য আমাদের নির্বাচন কমিশনকে কি যথেষ্ট শক্তিশালী ও স্বাধীন মনে করছেন আপনি?<br />
বদিউল আলম মজুমদার : ভালো প্রশ্ন। আমাদের নির্বাচন কমিশন শুরুতে বলেছিল, তারা শক্তিশালী। এখন বলে, যথেষ্ট শক্তিশালী নয়। বলা হচ্ছে, নির্বাচন কমিশনের আরো ক্ষমতায়ন প্রয়োজন। নির্বাচনে সরকারের প্রভাব থেকে নির্বাচন কমিশন মুক্ত থাকতে পারবে- এটা অনেকে মনে করেন না।</p>
<p>কালের কণ্ঠ : সুশাসনের জন্য কাজ করছেন আপনারা। সুশাসন থেকে বাংলাদেশ কত দূরে?<br />
বদিউল আলম মজুমদার : অনেক দূরে। সুশাসন কায়েম করার দায়িত্ব তাদের, যারা ক্ষমতাসীন। আমরা তো কেবল প্রেসার গ্রুপ হিসেবে কাজ করতে পারি। চাপ সৃষ্টি করতে পারি। প্রতিবাদ করতে পারি। সোচ্চার হতে পারি, কিন্তু ক্ষমতায় যারা যায়, তারা যদি গণতান্ত্রিক আচরণ না করে, স্বচ্ছতা-জবাবদিহিতার চর্চা না করে, আইনের শাসন কায়েম না করে, মানবাধিকার নিশ্চিত না করে, জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত না করে- তাহলে আমরা জোর করে কিছু করতে পারব না। গত ২০ বছরে আমাদের একটি বড় ক্ষতি হয়ে গেছে। আমাদের নাগরিকসমাজকে ভেঙে দেওয়া হয়েছে।</p>
<p>কালের কণ্ঠ : একটি জাতীয় সরকার কি সমস্যার সমাধান হতে পারে?<br />
বদিউল আলম মজুমদার : সে সিদ্ধান্তটিও রাজনৈতিক দলগুলোকে নিতে হবে। তবে আমি মনে করি, আমাদের একটি নির্বাচিত সরকার চাই। এর বিকল্প নেই। ওটাই আমাদের সমাধান। তবে পারস্পরিক আলাপ-আলোচনার ভিত্তিতে যদি সমঝোতার ভেতর দিয়ে একটা জাতীয় সরকার হয়, সেটা হতে পারে। কিন্তু নির্বাচন হতে হবে। নির্বাচিত সরকারের বিকল্প নেই।</p>
<p>কালের কণ্ঠ : রাষ্ট্রপতি নির্বাচন হয়ে গেছে। এ ক্ষেত্রে রাষ্ট্রপতি কি কোনো উদ্যোগ নিতে পারেন?<br />
বদিউল আলম মজুমদার : রাষ্ট্রপতি রাষ্ট্রের এক নম্বর মানুষ। রাষ্ট্র পরিচালিত হয় রাষ্ট্রপতির নামে। তিনি তো যেকোনো উদ্যোগই নিতে পারেন। তাঁর যেকোনো উদ্যোগ বা ভূমিকা যৌক্তিক হবে। আমি মনে করি, বিষয়টি তিনি ভেবে দেখতে পারেন। মানতে হবে, আমরা একটা অনিশ্চিত ভবিষ্যতের দিকে যাচ্ছি। এই অনিশ্চয়তা দূর করতে হবে। আমাদের রাজনীতিবিদদেরও আজ প্রজ্ঞার পরিচয় দেওয়ার সময় এসেছে। জাতীয় স্বার্থে রাজনীতিবিদরা সেই প্রজ্ঞার পরিচয় দেবেন বলে আমি মনে করি।</p>
<p>কালের কণ্ঠ : সময় দেওয়ার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ।<br />
বদিউল আলম মজুমদার : আপনাকেও ধন্যবাদ।<br />
সূত্র: কালেরকণ্ঠ, ১২ মে ২০১৩</p></div>
</div>
</div>
<br />  <a rel="nofollow" href="http://feeds.wordpress.com/1.0/gocomments/shujanbd.wordpress.com/3277/"><img alt="" border="0" src="http://feeds.wordpress.com/1.0/comments/shujanbd.wordpress.com/3277/" /></a> <img alt="" border="0" src="http://stats.wordpress.com/b.gif?host=shujan.org&#038;blog=43711212&#038;post=3277&#038;subd=shujanbd&#038;ref=&#038;feed=1" width="1" height="1" />]]></content:encoded>
			<wfw:commentRss>http://shujan.org/2013/05/12/%e0%a6%ac%e0%a6%bf%e0%a6%b6%e0%a7%87%e0%a6%b7-%e0%a6%b8%e0%a6%be%e0%a6%95%e0%a7%8d%e0%a6%b7%e0%a6%be%e0%a7%8e%e0%a6%95%e0%a6%be%e0%a6%b0-%e0%a6%ac%e0%a6%a6%e0%a6%bf%e0%a6%89%e0%a6%b2-%e0%a6%86/feed/</wfw:commentRss>
		<slash:comments>0</slash:comments>
	
		<media:content url="http://1.gravatar.com/avatar/7b472cdf95aaf6a17e75fa04e34961f9?s=96&#38;d=identicon&#38;r=G" medium="image">
			<media:title type="html">shahalam2013</media:title>
		</media:content>

		<media:content url="http://shahalamblog.files.wordpress.com/2013/05/main-logo-gif.jpg?w=300" medium="image">
			<media:title type="html">main-logo.gif</media:title>
		</media:content>

		<media:content url="https://shahalamblog.wordpress.com/wp-includes/js/tinymce/plugins/wordpress/img/trans.gif" medium="image">
			<media:title type="html">More...</media:title>
		</media:content>
	</item>
		<item>
		<title>নির্বাচনী এলাকার সীমানা পুনঃনির্ধারণ নিয়ে সুজনের পক্ষ থেকে কিছু প্রশ্ন</title>
		<link>http://shujan.org/2013/05/09/%e0%a6%a8%e0%a6%bf%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%ac%e0%a6%be%e0%a6%9a%e0%a6%a8%e0%a7%80-%e0%a6%8f%e0%a6%b2%e0%a6%be%e0%a6%95%e0%a6%be%e0%a6%b0-%e0%a6%b8%e0%a7%80%e0%a6%ae%e0%a6%be%e0%a6%a8%e0%a6%be/</link>
		<comments>http://shujan.org/2013/05/09/%e0%a6%a8%e0%a6%bf%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%ac%e0%a6%be%e0%a6%9a%e0%a6%a8%e0%a7%80-%e0%a6%8f%e0%a6%b2%e0%a6%be%e0%a6%95%e0%a6%be%e0%a6%b0-%e0%a6%b8%e0%a7%80%e0%a6%ae%e0%a6%be%e0%a6%a8%e0%a6%be/#comments</comments>
		<pubDate>Thu, 09 May 2013 09:09:00 +0000</pubDate>
		<dc:creator>sanjidahaque</dc:creator>
				<category><![CDATA[সংবাদ সম্মেলন]]></category>

		<guid isPermaLink="false">http://shujan.org/?p=3259</guid>
		<description><![CDATA[ সম জনসংখ্যার ভিত্তিতে সংসদীয় নির্বাচনী এলাকার সীমানা নির্ধারণের ওপর গুরুত্বারোপ করে যথাযথভাবে সীমানা পুনঃনির্ধারণের দাবী জানিয়েছে নাগরিক সংগঠন সুজন-সুশাসনের জন্য নাগরিক। এর অন্যথা হলে অর্থাৎ ভোটার সংখ্যার দিক থেকে বড় আসনগুলোর জনগণ বঞ্চিত হবে এবং সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন বাধাগ্রস্থ হবে। আজ সকাল ১১টায়, ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি মিলনায়তনে সুজন আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে অংশগ্রহণকারী সুজন [&#8230;]<img alt="" border="0" src="http://stats.wordpress.com/b.gif?host=shujan.org&#038;blog=43711212&#038;post=3259&#038;subd=shujanbd&#038;ref=&#038;feed=1" width="1" height="1" />]]></description>
				<content:encoded><![CDATA[<p style="text-align:justify;"> <a href="http://shujanbd.files.wordpress.com/2013/05/press-conference-4-5-13.jpg"><img class="size-medium wp-image-3260 alignleft" style="margin:5px;" alt="Press Conference 4.5.13" src="http://shujanbd.files.wordpress.com/2013/05/press-conference-4-5-13.jpg?w=146&#038;h=138" width="146" height="138" /></a>সম জনসংখ্যার ভিত্তিতে সংসদীয় নির্বাচনী এলাকার সীমানা নির্ধারণের ওপর গুরুত্বারোপ করে যথাযথভাবে সীমানা পুনঃনির্ধারণের দাবী জানিয়েছে নাগরিক সংগঠন সুজন-সুশাসনের জন্য নাগরিক। এর অন্যথা হলে অর্থাৎ ভোটার সংখ্যার দিক থেকে বড় আসনগুলোর জনগণ বঞ্চিত হবে এবং সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন বাধাগ্রস্থ হবে। আজ সকাল ১১টায়, ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি মিলনায়তনে সুজন আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে অংশগ্রহণকারী সুজন নেতৃবৃন্দ এসব কথা বলেন। সুজন সভাপতি জনাব এম হাফিজউদ্দিন খানের সভাপতিতেত্বে ‘নির্বাচনী এলাকার সীমানা পুনঃনির্ধারণ নিয়ে কিছু প্রশ্ন’ শীর্ষক এই সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য উপস্থাপন করেন সুজন সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজমুদার। এছাড়াও সংবাদ সম্মেলনে উপসি&#8217;ত ছিলেন সুজন নির্বাহী সদস্য ও সাবেক মন্ত্রিপরিষদ সচিব আলী ইমাম মজুমদার এবং  সুজন এর কোষাধ্যক্ষ জনাব আব্দুল হক প্রমুখ।<span id="more-3259"></span></p>
<p>সংবাদ সম্মেলনের শুরুতে সাভারে ভবন ধ্বসে নিহতদের স্মরণে এক মিনিট নিরবতা পালন করা হয়। এরপর লিখিত বক্তব্য উপস&#8217;াপন করতে গিয়ে ড. বদিউল আলম মজুমদার বলেন- ‘নির্বাচন কমিশন গত ৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৩ একটি বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে নির্বাচনী এলাকার সীমানা পুনঃনির্ধারণের খসড়া তালিকা প্রকাশ করেছে। এ তালিকার ব্যাপারে আপত্তিগুলোর শুনানি শুরু হয়েছে ২৩ এপ্রিল এবং শুনানি শেষ হবে ১২ মে।’ এ সময় তিনি খসড়া তালিকা নিয়ে কয়েকটি প্রশ্ন উত্থাপন করেন। তিনি বলেন, ‘খসড়া তালিকাটি কি বিদ্যমান আইন অনুসরণ করে তৈরি করা হয়েছে? এটি কি আন-র্জাতিক মানদণ্ডের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ? এক্ষেত্রে কমিশন পক্ষপাতদুষ্ট আচরণ করেছে কিনা?’ তিনি বলেন, ‘এসব প্রশ্নের সনে-াষজনক উত্তরের ওপর নির্ভর করবে পুনঃনির্ধারিত সীমানার গ্রহণযোগ্যতা এবং কমিশনের নিজের বিশ্বাসযোগ্যতা।’</p>
<p>সুজন সম্পাদক বলেন ‘খসড়া তালিকা অনুযায়ী, কমিশন ৮৮টি আসনের সীমানা পুনঃনির্ধারণ করেছে। তালিকাটি প্রকাশের পর ৮১৩টি আপত্তি নির্বাচন কমিশনে জমা পড়েছে। শুধু ঢাকার বিভিন্ন আসন সম্পর্কে কমিশনে আপত্তি এসেছে ১৮৯টি। আপত্তি উত্থাপনকারীদের পক্ষ থেকে সর্বমোট ৮৮টি পরিবর্তিত সংসদীয় আসনের ৫৫টির বিদ্যমান সীমানা বহাল রাখার দাবি এসেছে। বাকি ৩৩টি আসনের ৩১টির বিভিন্ন এলাকা সংযোজন ও বিয়োজনের প্রস-াব করা হয়েছে। অন্য দুটিতে ২০০১ সালে অনুষ্ঠিত নির্বাচনী সীমানায় ফিরে যাবার দাবি এসেছে।’</p>
<p>বক্তব্যে বলা হয়, ‘কমিশন কর্তৃক জারি করা বিজ্ঞপ্তিতে বর্ণিত পদ্ধতি আইনে নির্ধারিত মানদণ্ডের সঙ্গে পুরোপুরিভাবে সঙ্গতিপূর্ণ নয়। বস&#8217;ত, বর্তমান কমিশনের সামপ্রতিক পদক্ষেপ আইনের উদ্দেশ্যের সঙ্গেই সাংঘর্ষিক। কারণ সীমানা পুনঃনির্ধারণের পর আসনগুলোর মধ্যে ভোটার সংখ্যার পার্থক্য হ্রাস পাওয়ার পরিবর্তে আরও বেড়েছে। নির্বাচন কমিশনের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে যে, ‘নির্বাচনী এলাকাসমূহের পূর্বে নির্ধারিত সীমানা যতদূর সম্ভব বহাল রাখা’ হয়েছে। কিন&#8217; সীমানা পুনঃনির্ধারণের উদ্দেশ্যই হল জনসংখ্যার তথ্য বিবেচনায় নেওয়া, যাতে করে জনসংখ্যার দিক থেকে নির্বাচনী এলাকাসমূহে যতদূর সম্ভব সমতা সৃষ্টি হয়। এ কারণেই প্রতিটি আদমশুমারীর পর নির্বাচনী এলাকার সীমানা পুনঃনির্ধারণ করা আইনগতভাবে বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। তাই কমিশনের পূর্বে নির্ধারিত সীমানা যতদূর সম্ভব বহাল রাখার নীতিগত সিদ্ধান- কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। বস&#8217;ত, এই নীতি অনুসরণের ফলে কমিশনের নির্বাচনী এলাকার সীমানা পুনঃনির্ধারণ সংক্রান- সামপ্রতিক পদক্ষেপ, কিছু ব্যতিক্রম ছাড়া, লোক দেখানো উদ্যোগ বলেই মনে হতে পারে।<br />
সুজন সম্পাদক বলেন, বর্তমান কমিশনের পক্ষ থেকে যথাযথভাবে সীমানা পুনঃনির্ধারণ না করার  কারণে অতীতের ন্যায় নির্বাচনী এলাকাসমূহের মধ্যে ভোটার সংখ্যার বিরাট পার্থক্য দেখা দিয়েছে। যেমন, গত নির্বাচন কমিশনের অধীনে অনুষ্ঠিত ২০০৮ সালের সীমানা পুনঃনির্ধারণের পর সবচেয়ে বড় নির্বাচনী এলাকার (ঢাকা-১৯) ভোটার সংখ্যা ছিল ছয় লাখ ২ হাজার ৩৮৬ জন; একই সময়ে সব চেয়ে ছোট নির্বাচনী এলাকার (ঝালকাঠি-১ আসনে) ভোটার সংখ্যা ছিল এক লাখ ৩৭ হাজার ৯১ জন। অর্থাৎ এই দুই নির্বাচনী এলাকার ভোটার সংখ্যার পার্থক্য ছিল সাড়ে চার লাখের বেশি।’ এই অসমতা কোনোভাবেই কাম্য হতে পারে না বলে উল্লেখ করেন তিনি।</p>
<p>তিনি বলেন, আসন্ন নির্বাচনে ১০৬টি আসনের ভোটার সংখ্যা হবে আসন প্রতি গড় ভোটার সংখ্যার +-১০ শতাংশের মধ্যে, ৯২টি (৪১+৫১) আসনের +-২০ শতাংশের মধ্যে এবং বাকি ১০২টি (১৬+২৬+৩১+২৯) আসনের +-২১ শতাংশের বেশি। তাই দেখা যাচ্ছে যে, যেখানে ২০০৮ সালে আসন প্রতি গড় ভোটার সংখ্যা থেকে +- ২১ শতাংশের বেশি ভোটার সম্বলিত আসন সংখ্যা ছিল ৮৩, সেখানে ২০১৩ সালের ভোটার তালিকা অনুযায়ী তা এসে দাঁড়িয়েছে ১০২-এ। অর্থাৎ ২০১৩ সালের সীমানা পুঃনির্ধারণের ফলে সংসদীয় আসনগুলোর মধ্যে ভোটার সংখ্যার দিক থেকে ২০০৮ সালের তূলনায় আরও অসমতা বেড়েছে।<br />
তিনি আরও বলেন, ‘এটি সুষ্পষ্ট যে, নির্বাচন কমিশন কর্তৃক জারি করা বিজ্ঞপ্তি থেকে দেখা যায় যে, ২০০৮ সালের নির্ধারিত সীমানার যে ৮৮টিতে পরিবর্তন এনেছে, তা নিঃসন্দেহে বিভিন্ন নির্বাচনী এলাকার ভোটার সংখ্যায় সমতা আনার জন্য করা হয়নি। তবে কি শুধুমাত্র প্রশাসনিক সুবিধা এবং আঞ্চলিক অখণ্ডতা বজায় রাখার জন্য তা করা হয়েছে? না কি এর পেছনে অন্য কোনো উদ্দেশ্য কাজ করেছে? সরকারি দলের একাধিক সংসদ সদস্যই নির্বাচনের কমিশনের বিরুদ্ধে পক্ষপাতদুষ্ট আচরণের অভিযোগ তুলেছেন।’<br />
ড. বদিউল আলম মজুমদার বলেন, এটি সুসপষ্ট যে, বর্তমান নির্বাচন কমিশন যেন বিতর্ক এড়াতে পারছে না। বিতর্ক রয়েছে কমিশনের সদস্যগণের নিয়োগ এবং তাঁদের ব্যাকগ্রাউণ্ড নিয়ে। তাঁদের কিছু বক্তব্য ও আচরণ নিয়েও প্রশ্ন ওঠেছে। এখন প্রশ্ন দেখা দিচ্ছে কমিশনের নির্বাচনী এলাকার সীমানা পুনঃনির্ধারণের যথার্থতা ও নিরপেক্ষতা নিয়ে। আমরা জানি না এ বিতর্কের শেষ কোথায়!’ বিষয়টি গণমাধ্যমে প্রচার ও আলোচনা হওয়া দরকার এবং নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে ব্যাখ্যা ও উদ্যোগ নেয়ার দরকার বলে মনে করেন তিনি।</p>
<p>সংবাদ সম্মেলনে জনাব এম হাফিজউদ্দিন খান কমিশনের কাজে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার জন্য স্বাধীন সীমানা নির্ধারণ কমিশন গঠনের দাবি জানান। তিনি বলেন, ‘সীমানা নির্ধারণ আইনের ৭ ধারা অনুযায়ী, কমিশনের সীমানা নির্ধারণ সংক্রান- কার্যক্রম ও সিদ্ধান- আদালতে চ্যালেঞ্জ করা যাবে না। এছাড়াও কমিশনের সিদ্ধান- চ্যালেঞ্জ করার জন্য অন্য কোনো আপিল অথরিটিও নেই। তাই কোনোরূপ স্বেচ্ছাচারিতা কিংবা পক্ষপাতদুষ্ট কাজ করলে কমিশনের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার কোনো পদ্ধতি নেই। কোনো বিধান নেই কমিশনের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার।’ তাই প্রয়োজনে সংবিধান সংশোধন করে সীমানা নির্ধারণের জন্য একটি স্বাধীন সীমানা নির্ধারণ কমিশন গঠনের বিষয়টি আজ গভীরভাবে বিবেচনা করা আবশ্যক বলে মনে করেন তিনি।</p>
<p><a href="http://shujanbd.files.wordpress.com/2013/05/questions-about-constituency-delimitations-9-may.pdf" target="_blank">মূল প্রবন্ধ </a> ও <a href="http://shujanbd.files.wordpress.com/2013/05/voter_information.pdf" target="_blank">আসনভিত্তিক ভোটার সংখ্যার তুলনামূলক বিশ্লেষণ ২০০৮ ও ২০১৩</a></p>
<br />  <a rel="nofollow" href="http://feeds.wordpress.com/1.0/gocomments/shujanbd.wordpress.com/3259/"><img alt="" border="0" src="http://feeds.wordpress.com/1.0/comments/shujanbd.wordpress.com/3259/" /></a> <img alt="" border="0" src="http://stats.wordpress.com/b.gif?host=shujan.org&#038;blog=43711212&#038;post=3259&#038;subd=shujanbd&#038;ref=&#038;feed=1" width="1" height="1" />]]></content:encoded>
			<wfw:commentRss>http://shujan.org/2013/05/09/%e0%a6%a8%e0%a6%bf%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%ac%e0%a6%be%e0%a6%9a%e0%a6%a8%e0%a7%80-%e0%a6%8f%e0%a6%b2%e0%a6%be%e0%a6%95%e0%a6%be%e0%a6%b0-%e0%a6%b8%e0%a7%80%e0%a6%ae%e0%a6%be%e0%a6%a8%e0%a6%be/feed/</wfw:commentRss>
		<slash:comments>0</slash:comments>
	
		<media:content url="http://0.gravatar.com/avatar/ca0d618bb12b1797a6e6e2e732641011?s=96&#38;d=identicon&#38;r=G" medium="image">
			<media:title type="html">sanjidahaque</media:title>
		</media:content>

		<media:content url="http://shujanbd.files.wordpress.com/2013/05/press-conference-4-5-13.jpg?w=300" medium="image">
			<media:title type="html">Press Conference 4.5.13</media:title>
		</media:content>
	</item>
		<item>
		<title>সংকট উত্তরণে প্রয়োজন নাগরিক ঐক্য</title>
		<link>http://shujan.org/2013/04/22/%e0%a6%b8%e0%a6%82%e0%a6%95%e0%a6%9f-%e0%a6%89%e0%a6%a4%e0%a7%8d%e0%a6%a4%e0%a6%b0%e0%a6%a3%e0%a7%87-%e0%a6%aa%e0%a7%8d%e0%a6%b0%e0%a6%af%e0%a6%bc%e0%a7%8b%e0%a6%9c%e0%a6%a8-%e0%a6%a8%e0%a6%be/</link>
		<comments>http://shujan.org/2013/04/22/%e0%a6%b8%e0%a6%82%e0%a6%95%e0%a6%9f-%e0%a6%89%e0%a6%a4%e0%a7%8d%e0%a6%a4%e0%a6%b0%e0%a6%a3%e0%a7%87-%e0%a6%aa%e0%a7%8d%e0%a6%b0%e0%a6%af%e0%a6%bc%e0%a7%8b%e0%a6%9c%e0%a6%a8-%e0%a6%a8%e0%a6%be/#comments</comments>
		<pubDate>Mon, 22 Apr 2013 01:18:33 +0000</pubDate>
		<dc:creator>shahalam2013</dc:creator>
				<category><![CDATA[জাতীয় সংসদ নির্বাচন]]></category>
		<category><![CDATA[ড. বদিউল আলম মজুমদার]]></category>
		<category><![CDATA[লেখালেখি]]></category>
		<category><![CDATA[সুজন ফোরাম]]></category>

		<guid isPermaLink="false">http://shujan.org/?p=3098</guid>
		<description><![CDATA[ড. ব দি উ ল আ ল ম ম জু ম দা র আগামী আট-নয় মাসের মধ্যে জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার প্রথম আবশ্যকীয় পদক্ষেপ অবাধ, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন। তবে শুধু নির্বাচিত সরকারই গণতান্ত্রিক শাসন প্রতিষ্ঠার জন্য যথেষ্ট নয়। কার্যকর গণতন্ত্রের জন্য প্রয়োজন নির্বাচিত প্রতিনিধিদের ব্যক্তি ও কোটারি স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে [&#8230;]<img alt="" border="0" src="http://stats.wordpress.com/b.gif?host=shujan.org&#038;blog=43711212&#038;post=3098&#038;subd=shujanbd&#038;ref=&#038;feed=1" width="1" height="1" />]]></description>
				<content:encoded><![CDATA[<div>
<div>
<div><a href="http://www.jugantor.biz/2013/04/22/news0910.htm"><img class="alignnone size-medium wp-image-3102" alt="logo" src="http://shujanbd.files.wordpress.com/2013/04/logo.jpg?w=118&#038;h=43" width="118" height="43" /></a><br />
ড. ব দি উ ল আ ল ম ম জু ম দা র<br />
আগামী আট-নয় মাসের মধ্যে জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার প্রথম আবশ্যকীয় পদক্ষেপ অবাধ, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন। তবে শুধু নির্বাচিত সরকারই গণতান্ত্রিক শাসন প্রতিষ্ঠার জন্য যথেষ্ট নয়। কার্যকর গণতন্ত্রের জন্য প্রয়োজন নির্বাচিত প্রতিনিধিদের ব্যক্তি ও কোটারি স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে জনস্বার্থে রাষ্ট্র পরিচালনা করা। বহুদলীয় গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের চর্চা এবং রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের সঙ্গে আলাপ-আলোচনার ভিত্তিতে সব সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও বাস্তবায়নের একটি রাজনৈতিক সংস্কৃতি গড়ে তোলা। ক্ষমতা কেন্দ্রীভূত না করা, ব্যক্তিতন্ত্র, পরিবারতন্ত্র, দলতন্ত্র ও ফায়দাতন্ত্র পরিহার করা। পরিচ্ছন্ন ও জনমুখী শাসন কাঠামো গড়ে তোলা। বাক-স্বাধীনতাসহ নাগরিকদের সব অধিকার সমুন্নত রাখা। সব রাষ্ট্রীয় কার্যক্রমে স্বচ্ছতা-জবাবদিহিতার চর্চা করা, যথাযথ আইনি কাঠামো প্রণয়ন ও তা পরিপূর্ণভাবে প্রয়োগের মাধ্যমে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করা। সব কাজে সবার অন্তর্ভুক্তিকরণ, সমতা ও ন্যায়পরায়ণতা নিশ্চিত করা। সর্বোপরি সুশাসন প্রতিষ্ঠা করা।আর এ ধরনের একটি সত্যিকারের গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র কায়েমের জন্য প্রয়োজন কতগুলো শক্তিশালী, কার্যকর সাংবিধানিক ও বিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠান এবং নাগরিক সংগঠন। যেমন- জাতীয় সংসদ, আদালত, স্বায়ত্তশাসিত স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান, নির্বাচন কমিশন, সরকারি কর্মকমিশন, দুর্নীতি দমন কমিশন, তথ্য কমিশন, মানবাধিকার কমিশন, রাজনৈতিক দল, সংঘবদ্ধ নাগরিক সমাজ ইত্যাদি। এসব প্রতিষ্ঠান গণতন্ত্রের পিলার বা খুঁটিস্বরূপ।</p>
<p>এসব প্রতিষ্ঠানের স্বাধীন, নিরপেক্ষ ও বলিষ্ঠ ভূমিকার ওপরই মূলত নির্ভর করে সুশাসন প্রতিষ্ঠা এবং গণতন্ত্রের কার্যকারিতা। উদাহরণস্বরূপ, সংসদের কার্যকারিতার মাধ্যমে সরকারের স্বচ্ছতা-জবাবদিহিতা এবং রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় ও সব দলের অংশগ্রহণের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত গ্রহণের পথ সুগম হয়। স্বাধীন, নিরপেক্ষ ও কার্যকর বিচারব্যবস্থার মাধ্যমে সরকারের ক্ষমতার অপপ্রয়োগ রোধ এবং জনগণের অধিকার সুরক্ষিত হয়। নির্বাচিত ও শক্তিশালী স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠিত হলে ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ, সর্বস্তরে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের শাসন, সিদ্ধান্ত গ্রহণে জনগণের কার্যকর অংশগ্রহণ এবং সর্বোপরি গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার গভীরতা অর্জনের পথ প্রশস্ত হয়। স্বাধীন নির্বাচন কমিশন প্রতিষ্ঠা এবং নির্ভীক ও নিরপেক্ষ ব্যক্তিদের নিয়ে কমিশন গঠিত হলে গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠান সম্ভবপর হয়।<span id="more-3098"></span></p>
<p>সরকারি কর্মকমিশনের মাধ্যমে প্রজাতন্ত্রের কর্মচারীদের যোগ্যতা, দক্ষতা ও নিরপেক্ষতা নিশ্চিত হয়। স্বাধীন ও কার্যকর দুর্নীতি দমন কমিশন থাকলে ক্ষমতার অপব্যবহার করে ক্ষমতাধরদের ব্যক্তিগতভাবে এবং তাদের কোটারিদের লাভবান হওয়ার পথ রুদ্ধ হয়। তথ্য কমিশনের মাধ্যমে নাগরিক তথা রাষ্ট্রের মালিকদের সত্য জানার অধিকার প্রতিষ্ঠিত হয়। মানবাধিকার কমিশনের মাধ্যমেও নাগরিকদের অধিকার সমুন্নত থাকে। গণতান্ত্রিক, স্বচ্ছ ও দায়বদ্ধ রাজনৈতিক দলের মাধ্যমে রাষ্ট্রে গণতান্ত্রিক শাসন প্রতিষ্ঠার পথ সুগম হয়। সংগঠিত নাগরিক সমাজ সরকার ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের ওপর চাপ সৃষ্টি করে নাগরিকদের প্রাপ্য সেবা নিশ্চিতকরণসহ তাদের জনস্বার্থপরিপন্থী কার্যক্রম থেকে বিরত রাখে। এক কথায় বলতে গেলে, সাংবিধানিক, বিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠান এবং নাগরিক সংগঠনগুলোর তৎপরতার ওপরই মূলত গণতন্ত্রের কার্যকারিতা নির্ভর করে।</p>
<p>একটি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে ১৯৯১ সালে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠার পর আশা করা হয়েছিল, পরবর্তী নির্বাচিত সরকারগুলো সব গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানকে কার্যকর করবে এবং সত্যিকারের বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেবে। তিন জোটের রূপরেখার মাধ্যমে প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর পক্ষ থেকে এ ব্যাপারে লিখিত অঙ্গীকারও করা হয়েছিল। বিশেষভাবে অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠান এবং জাতীয় সংসদকে কার্যকর করার সুস্পষ্ট ঘোষণা দেয়া হয়েছিল। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত নব্বই-পরবর্তী নির্বাচিত সরকারগুলো সংসদীয় পদ্ধতি প্রতিষ্ঠা করলেও সংসদকে কার্যকর করেনি এবং শাসন কাঠামোতেও তেমন কোন গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনেনি। বরং তাদের চরম যথেচ্ছাচার ও অর্বাচীনতার কারণে গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলো ক্রমাগতভাবে দুর্বল ও অকার্যকর হয়ে পড়ে। এছাড়াও রাজপথের আন্দোলনের মাধ্যমে রাজনৈতিক দলগুলো একের পর এক নির্বাচিত সরকারকে উৎখাতের চেষ্টায় লিপ্ত হয়, যা আমাদের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে প্রাতিষ্ঠানিকীকরণে বিরাট প্রতিবন্ধকতা হয়ে দাঁড়ায়।</p>
<p>তবে জনগণ অনেকটা আশান্বিত হয়েছিল যখন চারদলীয় জোট সরকারের বিভিন্ন কারসাজির মাধ্যমে পাতানো নির্বাচন অনুষ্ঠানের পাঁয়তারার মুখে ২০০৫-০৬ সালে ১১-দল ও পরবর্তী সময়ে মহাজোটের পক্ষ থেকে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে কতগুলো সংস্কার প্রস্তাব উত্থাপন করা হয়। তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেত্রী শেখ হাসিনা প্রস্তাবগুলো জাতীয় সংসদেও উত্থাপন করেন। এর আগ থেকেই অবশ্য &#8216;সুশাসনের জন্য নাগরিক&#8217; (সুজন)-এর পক্ষ থেকে একটি সার্বিক সংস্কার কর্মসূচির রূপরেখা প্রণয়ন করে সে কর্মসূচি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে জনমত সৃষ্টির উদ্যোগ নেয়া হয় এবং গণমাধ্যম এ কাজে সর্বাত্মক সমর্থন জোগায়।</p>
<p>জনমতের চাপে ২০০৭-০৮ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উদ্যোগে কিছু নির্বাচনী সংস্কার, উচ্চ আদালতে নিয়োগ, স্থানীয় সরকারব্যবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন ও রাজনৈতিক দলগুলোর বাধ্যতামূলক নিবন্ধনের বিধান আইনে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচন পরবর্তীকালে- বর্তমান মহাজোট সরকারের গত চার বছরের মেয়াদকালে- পদ্ধতি ও প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার প্রক্রিয়া সম্পূর্ণরূপে থেমে যায়। আওয়ামী লীগের নির্বাচনী ইশতেহার &#8216;দিন বদলের সনদে&#8217; সংস্কার প্রক্রিয়া অব্যাহত রাখার সুস্পষ্ট অঙ্গীকার থাকা সত্ত্বেও স্থানীয় সরকার ও উচ্চ আদালতে নিয়োগসংক্রান্ত সংস্কারগুলো নবম জাতীয় সংসদ অনুমোদন করেনি। কিছু নির্বাচনী সংস্কারও বাতিল করা হয়। বস্তুত, নবনির্বাচিত সরকার সংস্কার উদ্যোগের বিরুদ্ধে জোরালো অবস্থান নেয়। ফলে &#8216;সংস্কার&#8217; কথাটি বর্তমানে একটি অবাঞ্ছিত শব্দে এবং &#8216;সংস্কারবাদী&#8217; একটি গালিতে পরিণত হয়েছে। একই সঙ্গে বর্তমান সরকারের আমলে গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোর ধ্বংসযজ্ঞও অব্যাহত রয়েছে।</p>
<p>এছাড়াও অব্যাহত রয়েছে রাজনীতিতে পারস্পরিক অসহিষ্ণুতা ও হানাহানি, রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে দমনপীড়ন, শিক্ষাঙ্গনে সন্ত্রাস, সর্বক্ষেত্রে দলীয়করণ ও ফায়দা প্রদানের অপসংস্কৃতি। প্রতিহিংসাপরায়ণতার রাজনীতির অংশ হিসেবে গত চারদলীয় জোট সরকারের আমলে তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেত্রী শেখ হাসিনার জীবনের ওপর হামলা হয় এবং একাধিক বিরোধীদলীয় নেতার প্রাণহানি ঘটে। তবে বিরোধী দলের দমনপীড়নের ক্ষেত্রে নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে বর্তমান সরকারের আমলে, যদিও রাজনীতিতে নতুন সংস্কৃতি গড়ার অঙ্গীকার নিয়ে বর্তমান সরকার ক্ষমতায় এসেছে। গত কয়েক মাসে বিএনপির প্রায় সব শীর্ষ নেতার বিরুদ্ধে একের পর এক হাস্যকর অভিযোগে মামলা দায়ের, তাদের গ্রেফতার, জামিন না দেয়া, রিমান্ডে নেয়া, কাউকে কাউকে ডাণ্ডাবেড়ি পরানো, দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবকে গত কয়েক মাসে তিনবার জেলে প্রেরণ করা হয়। এ কথা বলার অপেক্ষা রাখে না যে, আইন-আদালতকে ব্যবহার, বস্তুত অপব্যবহার করে এ ধরনের দমনপীড়ন গণতান্ত্রিক নয়, বরং স্বৈরতান্ত্রিক মানসিকতারই বহিঃপ্রকাশ, যা ভবিষ্যতে অকল্যাণই ডেকে আনবে।</p>
</div>
<div>ক্ষমতাধরদের অপরাধ করে পার পেয়ে যাওয়ার অতীতের অপসংস্কৃতি আমাদের সমাজে এখনও অব্যাহত রয়েছে। প্রশাসন, আইন-শৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং অনেক ক্ষেত্রে বিচারালয়ের পক্ষপাতিত্বের এবং রাজনৈতিক বিবেচনায় হাজার হাজার মামলা প্রত্যাহারের কারণে আইনের শাসন হয়ে পড়েছে সুদূরপরাহত। উপরন্তু দুর্নীতি-দুর্বৃত্তায়ন, নিয়োগ-বাণিজ্য, দখলদারিত্ব ইত্যাদি চারদিকে আজ ব্যাপকভাবে বিস্তার লাভ করেছে। শেয়ারবাজারে লুটপাট এবং ডেসটিনি, হলমার্ক ও পদ্মা সেতু ইত্যাদি কেলেংকারি যার নগ্নতম প্রতিফলন। রাজনীতি আর দুর্নীতি আজ বহুলাংশে সমার্থক হয়ে গেছে। অর্থাৎ নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতায় গিয়ে পাঁচ বছরের জন্য লুটপাটের রাজত্ব প্রতিষ্ঠার অতীতের সংস্কৃতি এখনও অব্যাহত রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে আমাদের প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে ছলে-বলে-কলে-কৌশলে ক্ষমতায় যাওয়ার ও ক্ষমতা আঁকড়ে ধরে থাকার অশুভ প্রতিযোগিতা আরও তীব্র হয়েছে। বস্তুত, ক্ষমতায় গেলে লুটপাটের রাজত্ব প্রতিষ্ঠার সুযোগ এবং ক্ষমতা হারালে নির্যাতন-নিপীড়ন ও মামলা-হামলার শিকার হওয়ার কারণে বাংলাদেশে এখন কোন রাজনৈতিক দলের পক্ষে নির্বাচনে পরাজিত হওয়ার ঝুঁকি নেয়ারই অবকাশ নেই।ক্ষমতার রাজনীতির এ অশুভ প্রতিযোগিতার ফলে রাজনীতি এখন বহুলাংশে রাজনীতিকদের হাতছাড়া হয়ে পড়েছে। দুর্নীতির &#8216;রাজনীতিকীকরণে&#8217;র ফলে রাজনৈতিক দলগুলো হয়ে পড়েছে অনেকাংশে অবাঞ্ছিত ব্যক্তিদের অভয়ারণ্য। নির্বাচন পরিণত হয়েছে টাকার খেলায় এবং আমরা কায়েম করে ফেলছি &#8216;বেস্ট ডেমোক্র্যাসি মানি ক্যান বাই&#8217; বা টাকা দিয়ে কেনা যায়- এ ধরনের উৎকৃষ্ট গণতন্ত্র। ফলে জাতীয় সংসদ হয়ে পড়েছে ব্যবসায়ীদের আখড়া। এ অবস্থায় সংসদ নির্বাচনে জনগণের ভোটাধিকার থাকলেও সংসদে সাধারণ মানুষের জনপ্রতিনিধি হিসেবে বসার কোন সুযোগ নেই। তাই রাষ্ট্রীয় নীতি নির্ধারিত হয় জনস্বার্থের পরিবর্তে মূলত ব্যক্তি, দল ও কোটারি স্বার্থে। আর এ প্রক্রিয়ায় সাধারণ মানুষ ক্রমাগতভাবে বঞ্চিত হচ্ছে এবং ধনী-দরিদ্রের বৈষম্য দিন দিন আকাশচুম্বী হয়ে পড়ছে।</p>
<p>বস্তুত, সাধারণ মানুষের বঞ্চনা আজ সীমাহীন পর্যায়ে পৌঁছেছে। তারা প্রতিনিয়ত &#8216;ভিকটিম&#8217; হচ্ছেন। থানা, অন্যান্য সরকারি অফিস, এমনকি নিম্ন আদালতে গেলে তাদের কাজ হয় না কিংবা তারা প্রয়োজনীয় প্রতিকার পান না, কারণ তাদের উৎকোচ দেয়ার টাকা নেই, নেই কেউ তদবির করার। এমনকি ভিজিডি-ভিজিএফ কার্ড দলীয় নেতা-কর্মীদের &#8216;পোষার&#8217; কাজে ব্যবহূত হওয়ায় এগুলো থেকেও অনেক গরিব মানুষ এখন বঞ্চিত। গ্রামীণ শিক্ষার মানে ধস নামার ফলে তাদের সন্তান এখন পিয়ন-চাপরাশি ছাড়া অন্য চাকরি পাওয়ার যোগ্যতা অর্জন করে না। নিয়োগ-বাণিজ্যে ও তদবিরতন্ত্রের দৌরাত্ম্যে সে চাকরিও তাদের সন্তানের জন্য আজ অনেকটা সোনার হরিণ। সাধারণ মানুষের এ ধরনের বঞ্চনা আমাদের দেশে উগ্রবাদের জন্য এক উর্বর ক্ষেত্র প্রস্তুত করে ফেলেছে। কারণ বঞ্চিত মানুষই সাধারণত সৃষ্টিকর্তার কাছে ফরিয়াদ করে।</p>
<p>প্রসঙ্গত, আমাদের প্রধান দুটি রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগ ও বিএনপি গত বিশ বছরের নির্বাচিত সরকারের আমলে ভোটের রাজনীতিতে ধর্মকে নানাভাবে ব্যবহার এবং উগ্রবাদী শক্তিকে বিভিন্নভাবে পৃষ্ঠপোষকতা করে এসেছে। উদাহরণস্বরূপ, যদিও ১৯৭১ সালে জামায়াতে ইসলামী প্রায় নিশ্চিহ্ন হয়ে গিয়েছিল, ক্ষমতার রাজনীতির বিবেচনায় আওয়ামী লীগ ও বিএনপির দ্বারা পুনর্বাসিত হয়ে তারা এখন সারাদেশে ব্যাপক তাণ্ডব সৃষ্টির সক্ষমতা অর্জন করেছে। সাধারণ মানুষের ধর্মানুভূতিকে পুঁজি করে সম্প্রতি বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে আবির্ভাব ঘটেছে হেফাজতে ইসলাম নামের আরেকটি বড় মৌলবাদী শক্তির, যদিও সংগঠনের নেতারা এটিকে অরাজনৈতিক বলে দাবি করছেন।</p>
<p>দুর্ভাগ্যবশত, বর্তমানে আমাদের দুটি প্রধান দল ক্রমবর্ধমান উগ্রবাদী শক্তির সঙ্গে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে আঁতাত করার প্রতিযোগিতায় লিপ্ত হয়েছে। বলা বাহুল্য, আমাদের রাজনীতিতে সীমাহীন দুর্নীতি, দুর্বৃত্তায়ন, বিশৃংখলা এবং সাধারণ মানুষের ক্রমবর্ধমান বঞ্চনা এ দুটি ধর্মভিত্তিক শক্তির উত্থানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। কারণ সাধারণ মানুষ শান্তি চায়, মুক্তি চায়, চায় সব অন্যায়ের অবসান।</p>
<p>গত দুই দশকের নির্বাচিত সরকারগুলোর অপরাজনীতি, হঠকারিতা, অদূরদর্শিতা, স্বার্থপরতা, অগণতান্ত্রিক আচরণ এবং গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যত ধ্বংসাবস্থা আমাদের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে বহুলাংশে অকার্যকর করে ফেলেছে। বস্তুত, সুশাসনবিবর্জিত ও নির্বাচনসর্বস্ব বিরাজমান এ ব্যবস্থা বর্তমানে &#8216;একদিনের গণতন্ত্রে&#8217;র রূপ নিয়েছে। এ ধরনের &#8216;মিনিমালিস্ট&#8217; বা ন্যূনতম গণতন্ত্রও আজ চরম হুমকির মুখে। কারণ সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের বিধান বিলুপ্তির ফলে আগামী নির্বাচন ও শান্তিপূর্ণভাবে ক্ষমতা হস্তান্তরই অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। বিরোধী দল বিএনপি ও তার মিত্ররা ইতিমধ্যেই দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন বর্জনের হুমকি দিয়েছে এবং এ নিয়ে রাজপথে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে, যা অনেক ক্ষেত্রে সহিংস রূপ নিচ্ছে।</p>
<p>যুদ্ধাপরাধের বিচার বন্ধের দাবিতেও গত কয়েক মাসে জামায়াত-শিবির সারাদেশে ব্যাপক সহিংসতা সৃষ্টি করেছে। আইন ও সালিশ কেন্দ্রের রিপোর্ট অনুযায়ী, গত তিন মাসে ১৭১ জন খুন হয়েছেন। এ সময়ে ২৩০টি সহিংস ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও ৬ হাজার ৪৯ জন। মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর রায়ের পর সহিংসতায় নিহত হয়েছেন ১৩৭ জন। নিহতদের মধ্যে জামায়াত-শিবিরের ৪৪ জন, পুলিশ ৯ জন, গ্রামপুলিশ ১ জন, ৩ জন নারী, আওয়ামী লীগ ও বিএনপির কর্মী ও সমর্থক ১০ জন এবং সাধারণ মানুষ ৭০ জন। এছাড়া দেশের ১০০টি উপজেলায় ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের ওপর হামলা হয়েছে। ওই সব হামলায় ৪২০টি মন্দির, বাড়িঘর ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে। উপরন্তু মার্চ মাসেই বিএনপি-জামায়াতের ডাকে দেশের বিভিন্ন স্থানে হরতাল হয়েছে ২৯টি (যুগান্তর, ২ এপ্রিল ২০১৩)।</p>
<p>এ ধরনের অব্যাহত সহিংসতা এবং বিরাজমান ভঙ্গুর ও অকার্যকর গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা বর্তমানে সারাদেশে এক চরম অস্থিতিশীল পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছে। অস্থিতিশীলতা অনিশ্চিয়তার সৃষ্টি করে। আর অনিশ্চিত পরিস্থিতিতে জনগণ তাদের জানমালের নিরাপত্তা নিয়ে আতংকগ্রস্ত হয়। ব্যাহত হয় অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড। এ অবস্থা অব্যাহত থাকলে আমাদের ভঙ্গুর গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা পুরোপুরিই ভেঙে পড়তে পারে, যা অগণতান্ত্রিক শক্তির ভবিষ্যৎ ক্ষমতা দখলের পথ প্রশস্ত করবে। এ অবস্থায় বাংলাদেশে এমনকি জঙ্গিরাষ্ট্র কায়েমের আশংকাও উড়িয়ে দেয়া যায় না। তাই বর্তমান অবস্থা থেকে উত্তরণ আজ অতি জরুরি।</p>
<p>বর্তমান অবস্থা থেকে উত্তরণের জন্য প্রয়োজন হবে আমাদের রাজনীতি, অর্থনীতি ও শাসন প্রক্রিয়ার কতগুলো সুদূরপ্রসারী সংস্কার এবং এগুলো বাস্তবায়নের লক্ষ্যে রাজনীতিকদের ঐকমত্য ও সদিচ্ছা। কিন্তু ক্ষমতায় যাওয়ার বা ক্ষমতা আঁকড়ে ধরে থাকার তথা ক্ষমতার রাজনীতিতে বিভোর রাজনীতিকরা এসব সংস্কারে আগ্রহী নন। সুতরাং সমাজের অন্যান্য স্বার্থসংশ্লিষ্টদের আজ সংস্কারের ক্ষেত্রগুলো সম্পর্কে ঐকমত্যে পৌঁছতে এবং এগুলো সম্পর্কে জনমত সৃষ্টি করতে হবে, যাতে রাজনীতিকরা এগুলো মানতে বাধ্য হন।</p>
<p>সম্ভাব্য পদ্ধতিগত ও প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার উদ্যোগের মাধ্যমে আজ নিশ্চিত করতে হবে যাতে- দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন অবাধ, নিরপেক্ষ ও অর্থবহ এবং শান্তিপূর্ণভাবে ক্ষমতা হস্তান্তর হয়; সংসদ কার্যকর এবং এর স্বাধীন সত্তা প্রতিষ্ঠিত হয়; স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক ও বিকেন্দ্রীভূত, নিরপেক্ষ ও গণমুখী শাসন কায়েম হয়; গণতান্ত্রিক, স্বচ্ছ ও দায়বদ্ধ রাজনৈতিক দল সৃষ্টি হয়; দলীয় প্রভাবমুক্ত বিচারালয় প্রতিষ্ঠিত ও আইনের শাসন কায়েম হয়; দুর্নীতি-দুর্বৃত্তায়ন ইত্যাদির মূলোৎপাটন হয়; সব সাংবিধানিক ও বিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠান শক্তিশালী ও কার্যকর হয়; মানবাধিকার নিশ্চিত হয়; ধর্মীয় স্বাধীনতা ও ধর্মনিরপেক্ষতা প্রতিষ্ঠিত হয়; সমাজের সব স্তরে সমতা, ন্যায়পরায়ণতা ও অর্থনৈতিক সুশাসন কায়েম হয়; যুদ্ধাপরাধের বিচার দ্রুত সম্পন্ন হয়; গণমাধ্যমের স্বাধীনতা অক্ষুণ্ন থাকে এবং একটি দলনিরপেক্ষ শক্তিশালী সিভিল সোসাইটি গড়ে ওঠে।</p>
<p>জরুরি ভিত্তিতে এ মুহূর্তে প্রয়োজনীয় সংস্কার পদক্ষেপ না নেয়া হলে আমরা একটি অকার্যকর রাষ্ট্রে পরিণত হতে পারি, যা বাংলাদেশে একটি উগ্রবাদী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পথ প্রশস্ত করতে পারে। এমন আশংকাকে ব্যর্থ করতে হলে নাগরিকদেরই আজ সক্রিয় ও সোচ্চার হতে হবে। এর জন্য প্রয়োজন হবে নাগরিকের অতন্দ্র প্রহরীর ভূমিকা।<br />
ড. বদিউল আলম মজুমদার : সম্পাদক, সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন)</p>
</div>
<div>সূত্র: যুগান্তর, ২২ এপ্রিল ২০১৩</div>
</div>
</div>
<br />  <a rel="nofollow" href="http://feeds.wordpress.com/1.0/gocomments/shujanbd.wordpress.com/3098/"><img alt="" border="0" src="http://feeds.wordpress.com/1.0/comments/shujanbd.wordpress.com/3098/" /></a> <img alt="" border="0" src="http://stats.wordpress.com/b.gif?host=shujan.org&#038;blog=43711212&#038;post=3098&#038;subd=shujanbd&#038;ref=&#038;feed=1" width="1" height="1" />]]></content:encoded>
			<wfw:commentRss>http://shujan.org/2013/04/22/%e0%a6%b8%e0%a6%82%e0%a6%95%e0%a6%9f-%e0%a6%89%e0%a6%a4%e0%a7%8d%e0%a6%a4%e0%a6%b0%e0%a6%a3%e0%a7%87-%e0%a6%aa%e0%a7%8d%e0%a6%b0%e0%a6%af%e0%a6%bc%e0%a7%8b%e0%a6%9c%e0%a6%a8-%e0%a6%a8%e0%a6%be/feed/</wfw:commentRss>
		<slash:comments>0</slash:comments>
	
		<media:content url="http://1.gravatar.com/avatar/7b472cdf95aaf6a17e75fa04e34961f9?s=96&#38;d=identicon&#38;r=G" medium="image">
			<media:title type="html">shahalam2013</media:title>
		</media:content>

		<media:content url="http://shujanbd.files.wordpress.com/2013/04/logo.jpg?w=300" medium="image">
			<media:title type="html">logo</media:title>
		</media:content>
	</item>
		<item>
		<title>‌‌নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সরকারের দাবি জানালেন’ &#8211; গোলটেবিল বৈঠকে বক্তারা</title>
		<link>http://shujan.org/2013/04/21/%e2%80%8c%e2%80%8c%e0%a6%a8%e0%a6%bf%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%ac%e0%a6%be%e0%a6%9a%e0%a6%a8%e0%a6%95%e0%a6%be%e0%a6%b2%e0%a7%80%e0%a6%a8-%e0%a6%a8%e0%a6%bf%e0%a6%b0%e0%a6%aa%e0%a7%87%e0%a6%95%e0%a7%8d/</link>
		<comments>http://shujan.org/2013/04/21/%e2%80%8c%e2%80%8c%e0%a6%a8%e0%a6%bf%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%ac%e0%a6%be%e0%a6%9a%e0%a6%a8%e0%a6%95%e0%a6%be%e0%a6%b2%e0%a7%80%e0%a6%a8-%e0%a6%a8%e0%a6%bf%e0%a6%b0%e0%a6%aa%e0%a7%87%e0%a6%95%e0%a7%8d/#comments</comments>
		<pubDate>Sun, 21 Apr 2013 04:47:27 +0000</pubDate>
		<dc:creator>sanjidahaque</dc:creator>
				<category><![CDATA[গোলটেবিল বৈঠক]]></category>

		<guid isPermaLink="false">http://shujan.org/?p=3057</guid>
		<description><![CDATA[গত ২০ এপ্রিল ২০১৩, সকাল ১০ টায়, জাতীয় প্রেস ক্লাবের ভিআইপি লাউঞ্জে, সুজন-এর উদ্যোগে ‘বিরাজমান রাজনৈতিক বাস্তবতা ও নাগরিক ভাবনা’ শীর্ষক একটি গোলটেবিল বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সুজন সভাপতি এম হাফিজউদ্দিন খানের সভাপতিত্বে বৈঠকটি সঞ্চালনা করেন সহ-সভাপতি জনাব এ এস এম শাহজাহান। বৈঠকে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সুজন সম্পাদক ড. বদিউল আলম মুজমদার। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন, [&#8230;]<img alt="" border="0" src="http://stats.wordpress.com/b.gif?host=shujan.org&#038;blog=43711212&#038;post=3057&#038;subd=shujanbd&#038;ref=&#038;feed=1" width="1" height="1" />]]></description>
				<content:encoded><![CDATA[<p><a href="http://shujanbd.files.wordpress.com/2013/04/picture_roundtable.jpg"><img class="size-medium wp-image-3059 alignleft" style="margin:5px;" alt="Picture_Roundtable" src="http://shujanbd.files.wordpress.com/2013/04/picture_roundtable.jpg?w=300&#038;h=200" width="300" height="200" /></a></p>
<p style="text-align:justify;">গত ২০ এপ্রিল ২০১৩, সকাল ১০ টায়,<b> </b>জাতীয় প্রেস ক্লাবের ভিআইপি লাউঞ্জে, <b>সুজন-</b>এর<b> </b>উদ্যোগে<b> </b><b>‘</b><b>বিরাজমান</b><b> </b><b>রাজনৈতিক</b><b> </b><b>বাস্তবতা</b><b> </b><b>ও</b><b> </b><b>নাগরিক</b><b> </b><b>ভাবনা</b><b>’</b><b> </b>শীর্ষক<b> </b>একটি গোলটেবিল বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সুজন সভাপতি <b>এম</b><b> </b><b>হাফিজউদ্দিন</b><b> </b><b>খানের</b> সভাপতিত্বে বৈঠকটি সঞ্চালনা করেন সহ-সভাপতি জনাব <b>এ</b><b> </b><b>এস</b><b> </b><b>এম</b><b> </b><b>শাহজাহান।</b> বৈঠকে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সুজন সম্পাদক <b>ড</b><b>.</b><b> </b><b>বদিউল</b><b> </b><b>আলম</b><b> </b><b>মুজমদার।</b> বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন, ব্যরিস্টার <b>রফিক</b><b>-</b><b>উল</b><b>-</b><b>হক</b><b>,</b> ড. <b>রওনক</b><b> </b><b>জাহান</b><b>,</b> জনাব <b>আলী</b><b> </b><b>ইমাম</b><b> </b><b>মজুমদার</b><b>,</b> <b>সৈয়দ</b><b> </b><b>আবুল</b><b> </b><b>মকসুদ</b><b>,</b> অধ্যাপক <b>মনিরুজ্জামান</b><b> </b><b>মিঞা</b><b>,</b> রাজনীতিবিদ জনাব <b>সরদার</b><b> </b><b>আমজাদ</b><b> </b><b>হোসেন</b><b>,</b> অধ্যাপক <b>আবু</b><b> </b><b>সায়ীদ</b><b>,</b> জনাব <b>ইনাম</b><b> </b><b>আহমেদ</b><b> </b><b>চৌধুরী</b><b>,</b> অধ্যাপক <b>আব্দুল</b><b> </b><b>মান্নান</b><b>,</b> লেঃ জেঃ (অবঃ) <b>মাহবুবুর</b><b> </b><b>রহমান</b><b> </b>ও জনাব <b>রুহিন</b><b> </b><b>হোসেন</b><b> </b><b>প্রিন্স</b><b>,</b> ডা. <b>জাফরুল্লাহ</b><b> </b><b>চৌধুরী</b><b>,</b> অধ্যাপক <b>হামিদা</b><b> </b><b>বানু</b><b>,</b> অধ্যাপক <b>আসিফ</b><b> </b><b>নজরুল</b><b>,</b> জনাব <b>নুরুল</b><b> </b><b>কাদির</b><b>,</b> সুজন সম্পাদক <b>ড</b><b>.</b><b> </b><b>বদিউল</b><b> </b><b>আলম</b><b> </b><b>মজুমদার</b><b>,</b><b> </b>সাংবাদিক<b> </b><b>গোলাম</b><b> </b><b>মর্তোজা</b><b> </b><b>ও</b><b> </b><b>মুনির</b><b> </b><b>হায়দার</b><b>,</b><b> </b>এডভোকেট<b> </b><b>আহসানুল</b><b> </b><b>করিম</b><b> </b><b>চৌধুরী</b><b> </b><b>বাবুল</b><b> </b>ও<b> </b><b>আবুল</b><b> </b><b>হাসনাত</b><b> </b>প্রমূখ।<span id="more-3057"></span></p>
<p style="text-align:justify;">মূল প্রবন্ধে অধ্যাপক <b>ড</b><b>.</b><b> </b><b>বদিউল</b><b> </b><b>আলম</b><b> </b><b>মজুমদার</b> বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে মোটাদাগে, যুদ্বাপরাধীদের বিচার ঠেকাতে জামায়াত-শিবিরের ব্যাপক তাণ্ডব, গণজাগরণ মঞ্চের উত্থান, নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সরকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলন, হরতাল ও তার ক্ষয়ক্ষতি, বিরোধী দলের ওপর দমন পীড়ন, চলমান অপশাসন, হেফাজতে ইসলামের উত্থান ইত্যাদি বিষয়গুলো চিহ্নিত করেন। এ সকল বিরাজমান অবস্থা আমাদের জন্য এক অসহনীয় ও অস্থিতিশীল পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছে এবং জাতিকে এক অনিশ্চিত ভবিষ্যতের দিকে ঠেলে দিচ্ছে বলে মন্তব্য করেন তিনি। তিনি বলেন, এ থেকে পরিত্রাণের জন্য আজ প্রয়োজন ১৯৯১ সালের নির্বাচনের পূর্বে যেমন <b>‘</b><b>তিনজোটের</b><b> </b><b>রূপরেখা</b><b>’</b> প্রণীত হয়েছিলো তেমন একটি রূপরেখা। এ রূপরেখার যৌথ রূপকার হতে পারে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন মহাজোট, বিএনপির নেতৃত্বাধীন ১৮ দলীয় জোট এবং ড. কামাল হোসেন-ড. বি চৌধুরী-বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি-এলডিপি, বাসদ, জাসদসহ অন্যান্য উল্লেখযোগ্য দলের সমন্বয়ে গঠিত অন্য আরেকটি জোট। এ উদ্যোগের সঙ্গে অবশ্য যুক্ত হতে পারেন নাগরিক সমাজ ও গণমাধ্যমের প্রতিনিধিরা। বর্তমান সংকট থেকে উত্তরণের লক্ষ্যে আমাদের করণীয়গুলোকেও, তিনজোটের রূপরেখার অনুসরণে, তিন ভাগে ভাগ করা যায়: (১) নির্বাচন-পূর্ববর্তী করণীয়, (২) নির্বাচনকালীন সময়ে করণীয়, এবং (৩) নতুন সরকারের করণীয়। প্রথম দুটি হবে আশু করণীয় এবং শেষটি হবে দীর্ঘমেয়াদী করণীয়। নির্বাচন-পূর্ববর্তী করণীয়ের মধ্যে ক) নির্বাচনকালীন একটি নিরপেক্ষ সরকার প্রতিষ্ঠা, (খ) নির্বাচন কমিশনকে শক্তিশালীকরণ (গ) নির্বাচনী আইনের সংস্কার ও এর যথার্থ প্রয়োগ (ঘ) হলফনামার মাধ্যমে তথ্য প্রদানে কড়াকড়ি। প্রবন্ধে আরো বলা হয়, আমাদের প্রধান দুটি রাজনৈতিক দলের ক্ষমতার রাজনীতির কাছে পুরো জাতি আজ জিম্মি। তাই জাতির এ যুগসন্ধিক্ষণে নাগরিকদেরকেই এমন একটি রূপরেখা প্রণয়নের উদ্যোগ নিতে হবে। রূপরেখাটি সমপর্কে জনমত তৈরি করে তা প্রয়োগে রাজনীতিবিদদের বাধ্য করতে হবে। তা না হলে জাতি হিসেবে আমরা এক চরম সংকটের দিকে ধাবিত হতে পারি।</p>
<p style="text-align:justify;"><b>এম</b><b> </b><b>হাফিজউদ্দিন</b><b> </b><b>খান</b><b> </b>বলেন, আমরা দেশে সুশাসন চাই, সুশাসন প্রতিষ্ঠা করতে হলে গণতন্ত্র থাকতে হবে। আমাদের গণতন্ত্র আজ একদিনের গণতন্ত্রে পরিণত হয়েছে। বিরাজমান সংকটের মূল কারণ আমাদের রাজনৈতিক দলগুলোর ক্ষমতায় যাওয়া ও থাকার চেষ্টা। তিনি এ সংকট থেকে পরিত্রাণের কোন ইঙ্গিত দেখতে পাচ্ছেন না বলেও মন্তব্য করেন তিনি। <b>এ</b><b> </b><b>এস</b><b> </b><b>এম</b><b> </b><b>শাহজাহান</b> বলেন, আমরা সৎ, নির্ভীক ও যোগ্য লোকেরা সরকার পরিচালনা থেকে দূরে সরে রয়েছি। আমরা জানি যে, বর্তমান সংসদ আজ ব্যবসায়ীদের দখলে। আমাদের attitude, behavior and culture এ এই তিনটি জিনিষ বদলাতে হবে। করণীয়র চেয়ে বর্জনের তালিকা বড় করতে হবে, কেননা যেটি morally wrong তা politically right হতে পারে না। ব্যরিস্টার <b>রফিক</b><b>-</b><b>উল</b><b>-</b><b>হক</b> বলেন, বেশিরভাগ মানুষ তত্ত্বাবধায়ক সরকার চায়। আমাদের বিরোধী দলীয় নেত্রী বলেন নি, তত্ত্ববধায়ক সরকার কি রকম হবে আবার আমাদের প্রধানমন্ত্রীও বলেন নি, অর্ন্তবর্তীকালীন সরকার কিরকম হবে। তিনি দুই নেত্রীকে উদ্দেশ্য করে বলেন, আপনারা দুজনে একত্রে বসে ঠিক করুন তত্ত্ববধায়ক সরকার বা অন্তবর্তীকালীন সরকার কিভাবে গঠন করা হবে। <b>ড</b><b>.</b><b> </b><b>রওনক</b><b> </b><b>জাহান</b> বলেন, আমাদের নির্বাচনটা কিভাবে হবে? সবাই মনে করছে সমঝোতা করে নির্বাচন করলেই আমরা পার পেয়ে যাবো। এভাবে নির্বাচন করে সবাই যদি আগের মত স্বরূপে আর্বিভূত হয় তাহলে তো সমস্যার সমাধান হবে না। <b>সৈয়দ</b><b> </b><b>আবুল</b><b> </b><b>মকসুদ</b> বলেন, একটি দেশ যখন চেতনাগতভাবে ভাগ হয়ে যায় তা অত্যন্ত শঙ্কার বিষয়। দেশে যখন দলীয় নেতা থাকে কিন্তু জাতীয় নেতা থাকে না তখন এভাবে দেশ চেতনাগতভাবে ভাগ হয়ে যায়। <b>ডা</b><b> </b><b>জাফরুল্লাহ</b><b> </b><b>চৌধুরী</b> বিরাজমান সংকট থেকে উত্তরণের জন্য সকল দলের অংশগ্রহণে নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন অনুষ্ঠানের কথা বলেন।</p>
<p style="text-align:justify;">জনাব <b>সরদার</b><b> </b><b>আমজাদ</b><b> </b><b>হোসেন</b> গণতন্ত্র নিয়ে খেলা বন্ধ করতে হবে উল্লেখ করে বলেন, আমরা দুর্নীতিমুক্ত গণতান্ত্রিক সরকারের স্বপ্ন দেখছি যা বর্তমানে অনুপস্থিত। অধ্যাপক<b> </b><b>মনিরুজ্জামান</b><b> </b><b>মিঞা</b> বলেন, বর্তমান সরকার ভোট চুরি করার জন্য তত্ত্বাবধায়ক সরকার মেনে নিতে চাচ্ছে না। কেননা প্রশাসনের সর্বস্তরে সকলেই দলীয় লোক। জনাব <b>ইনাম</b><b> </b><b>আহমেদ</b><b> </b><b>চৌধুরী</b> বলেন, আমি উদ্বিগ্ন যে, সারাদেশে সাম্প্রদায়িক সহিংসতা হচ্ছে। এতে আমাদের দীর্ঘ দিনের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট হচ্ছে। আমাদের ভেবে দেখা প্রয়োজন কেন এরকম দুর্ঘটনা ঘটছে। তত্ত্বাবধায়ক সরকার ইস্যুর সমাধান হলেও জামায়াত ইস্যুর সমাধান হবে না বলে মন্তব্য করেন অধ্যাপক <b>আবু</b><b> </b><b>সায়ীদ।</b><b> </b>তিনি বলেন, আমাদের মূল বিষয় হলো, ক্ষমতায় আরোহন। আপনারা সবাই সংলাপের কথা বলছেন, কিন্তু বাস্তবতার সাথে সংলাপের কোন মিল নাই। অধ্যাপক <b>আব্দুল</b><b> </b><b>মান্নান</b> বলেন, আমরা সবাই সংলাপের কথা বলছি, নানাভাবে বলছি। কিন্তু কি বিষয়ে সংলাপ হবে তা নির্ধারণ করা প্রয়োজন। লেঃ জেঃ (অবঃ) <b>মাহবুবুর</b><b> </b><b>রহমান</b><b> </b>বলেন, উদ্ভট এক উটের পীঠে চলেছে স্বদেশ| দেশের বিরাজমান অবস্থার জন্য তিনি গণতন্ত্রের শূন্যতাকে দায়ী করেন। গণতন্ত্রের পূবশর্ত নির্বাচন। আর এ নির্বাচন একটি নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে হতে হবে। আমরা অন্ধকারের পথে হাঁটছি উল্লেখ করে জনাব <b>রুহিন</b><b> </b><b>হোসেন</b><b> </b><b>প্রিন্স</b> বলেন, ৭১’র মূল চেতনাকে কেউ যদি মুছে ফেলতে চায় তা আমরা মেনে নেবো না। ৭১’র পরাজিত শক্তি সরকার ও বিরোধী দলের আশ্রয়ে এমন শিকড় গড়ে তুলেছে যা জাতির জন্য ভয়াবহ।</p>
<p style="text-align:justify;">অধ্যাপক <b>হামিদা</b><b> </b><b>বানু</b> বলেন, নাগরিক হিসেবে আমি উদ্বিগ্ন। সম্প্রতি সারাদেশে জামায়াত-শিবির যে তান্ডব চালিয়েছে তা বর্তমান সরকারের ব্যর্থতাই প্রমাণ করে। সকল দলের অংশগ্রহণে যদি নির্বাচন না হয় তা জাতির জন্য হুমকিস্বরুপ বলে তিনি মন্তব্য করেন। অধ্যাপক <b>আসিফ</b><b> </b><b>নজরুল</b> বলেন, বিএনপি ও আওয়ামী লীগ যদি সমঝোতায় পৌঁছাতে পারে তাহলে বাংলাদেশের সকল অপশক্তিকে রোধ করা সম্ভব। <b>গোলাম</b><b> </b><b>মর্তুজা</b> বলেন, বর্তমান সরকার যুদ্ধাপরাধের বিচার করছে। এটি তাদের একটি এজেন্ডা। তাদের আরো অন্য অঙ্গীকার ছিলো। দুঃখের বিষয় তারা এগুলো ভুলে গেছে। একটি সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজনে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের বিকল্প নেই বলেও মন্তব্য করেন তিনি।</p>
<p style="text-align:justify;"><b> </b></p>
<p style="text-align:justify;"><b> </b></p>
<br />  <a rel="nofollow" href="http://feeds.wordpress.com/1.0/gocomments/shujanbd.wordpress.com/3057/"><img alt="" border="0" src="http://feeds.wordpress.com/1.0/comments/shujanbd.wordpress.com/3057/" /></a> <img alt="" border="0" src="http://stats.wordpress.com/b.gif?host=shujan.org&#038;blog=43711212&#038;post=3057&#038;subd=shujanbd&#038;ref=&#038;feed=1" width="1" height="1" />]]></content:encoded>
			<wfw:commentRss>http://shujan.org/2013/04/21/%e2%80%8c%e2%80%8c%e0%a6%a8%e0%a6%bf%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%ac%e0%a6%be%e0%a6%9a%e0%a6%a8%e0%a6%95%e0%a6%be%e0%a6%b2%e0%a7%80%e0%a6%a8-%e0%a6%a8%e0%a6%bf%e0%a6%b0%e0%a6%aa%e0%a7%87%e0%a6%95%e0%a7%8d/feed/</wfw:commentRss>
		<slash:comments>0</slash:comments>
	
		<media:thumbnail url="http://shujanbd.files.wordpress.com/2013/04/picture_roundtable.jpg?w=150" />
		<media:content url="http://shujanbd.files.wordpress.com/2013/04/picture_roundtable.jpg?w=150" medium="image">
			<media:title type="html">Picture_Roundtable</media:title>
		</media:content>

		<media:content url="http://0.gravatar.com/avatar/ca0d618bb12b1797a6e6e2e732641011?s=96&#38;d=identicon&#38;r=G" medium="image">
			<media:title type="html">sanjidahaque</media:title>
		</media:content>

		<media:content url="http://shujanbd.files.wordpress.com/2013/04/picture_roundtable.jpg?w=300" medium="image">
			<media:title type="html">Picture_Roundtable</media:title>
		</media:content>
	</item>
		<item>
		<title>হঠকারিতা ও অপরিণামদর্শিতার পরিণতিই অস্থিতিশীলতা</title>
		<link>http://shujan.org/2013/04/07/%e0%a6%b9%e0%a6%a0%e0%a6%95%e0%a6%be%e0%a6%b0%e0%a6%bf%e0%a6%a4%e0%a6%be-%e0%a6%93-%e0%a6%85%e0%a6%aa%e0%a6%b0%e0%a6%bf%e0%a6%a3%e0%a6%be%e0%a6%ae%e0%a6%a6%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%b6%e0%a6%bf%e0%a6%a4/</link>
		<comments>http://shujan.org/2013/04/07/%e0%a6%b9%e0%a6%a0%e0%a6%95%e0%a6%be%e0%a6%b0%e0%a6%bf%e0%a6%a4%e0%a6%be-%e0%a6%93-%e0%a6%85%e0%a6%aa%e0%a6%b0%e0%a6%bf%e0%a6%a3%e0%a6%be%e0%a6%ae%e0%a6%a6%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%b6%e0%a6%bf%e0%a6%a4/#comments</comments>
		<pubDate>Sun, 07 Apr 2013 10:41:55 +0000</pubDate>
		<dc:creator>shahalam2013</dc:creator>
				<category><![CDATA[ড. বদিউল আলম মজুমদার]]></category>
		<category><![CDATA[লেখালেখি]]></category>
		<category><![CDATA[ধর্মভিক্তিক রাজনীতি]]></category>

		<guid isPermaLink="false">http://shujan.org/?p=3293</guid>
		<description><![CDATA[বদিউল আলম মজুমদার ৬ এপ্রিলকে কেন্দ্র করে সারাদেশে এক চরম উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠাময় পরিস্থিতি বিরাজ করছিল। হেফাজতে ইসলামের ঘোষিত ঢাকা অভিমুখে লংমার্চ এবং তা প্রতিহত করার লক্ষ্যে ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি, সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট, সেক্টর কমান্ডারস ফোরামসহ ২৭টি সংগঠনের ডাকা হরতাল এক ভয়াবহ দ্বন্দ্বাত্মক পরিস্থিতির জন্ম দিয়েছিল। এ পরিস্থিতিতে জনগণ তাদের জানমালের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কিত [&#8230;]<img alt="" border="0" src="http://stats.wordpress.com/b.gif?host=shujan.org&#038;blog=43711212&#038;post=3293&#038;subd=shujanbd&#038;ref=&#038;feed=1" width="1" height="1" />]]></description>
				<content:encoded><![CDATA[<p><a href="http://www.samakal.net/print_edition/details.php?news=20&amp;view=archiev&amp;y=2013&amp;m=04&amp;d=07&amp;action=main&amp;menu_type=&amp;option=single&amp;news_id=338373&amp;pub_no=1371&amp;type="><img class="alignnone size-full wp-image-3284" alt="Samakal_logo" src="http://shujanbd.files.wordpress.com/2013/05/samakal_logo.jpg?w=714"   /></a></p>
<p>বদিউল আলম মজুমদার</p>
<p>৬ এপ্রিলকে কেন্দ্র করে সারাদেশে এক চরম উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠাময় পরিস্থিতি বিরাজ করছিল। হেফাজতে ইসলামের ঘোষিত ঢাকা অভিমুখে লংমার্চ এবং তা প্রতিহত করার লক্ষ্যে ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি, সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট, সেক্টর কমান্ডারস ফোরামসহ ২৭টি সংগঠনের ডাকা হরতাল এক ভয়াবহ দ্বন্দ্বাত্মক পরিস্থিতির জন্ম দিয়েছিল। এ পরিস্থিতিতে জনগণ তাদের জানমালের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কিত ছিল, কারণ তারা সরকারের ওপর ভরসা করতে পারছিল না।</p>
<p>তবে আমরা আশ্বস্ত হয়েছি দেখে যে, কিছু বিচ্ছিন্ন-বিক্ষিপ্ত ঘটনা ব্যতীত কোনো বড় ধরনের সহিংসতা ছাড়াই লংমার্চ ও হরতাল শেষ হয়েছে, যদিও দুই ব্যক্তি এতে প্রাণ হারিয়েছেন। সব মৃত্যুই বেদনাদায়ক এবং আমরা মনে করি যে, এ ধরনের অহেতুক মৃত্যু এড়ানো যেত।</p>
<p>লংমার্চ ও হরতালকে ঘিরে গত কয়েক দিন থেকে চারদিকে টান টান উত্তেজনা এবং কী হতে যাচ্ছে তা নিয়ে নানা জল্পপ্পনা-কলপ্পনা চলছিল। দ্বন্দ্বাত্মক পরিস্থিতি সহিংসতায় রূপ নেবে কি-না এবং সরকার তা নিয়ন্ত্রণ করতে পারবে কি-না তা নিয়ে অনেকেই চিন্তিত ছিল। আবার অনেকে চিন্তিত ছিল ঢাকায় আসতে বাধাগ্রস্ত হয়ে হেফাজতের সমর্থকরা যদি অবস্থান ধর্মঘট করে বা লাগাতার হরতাল ডেকে সারাদেশকে দীর্ঘমেয়াদিভাবে অচল করে দেয়, তাহলে তার পরিণতি কী হবে! সরকার কীভাবে তা সামাল দেবে? আদৌ সামাল দিতে পারবে কি-না! মোট কথা, জনমনে নানা প্রশ্নম্ন দেখা দিয়েছিল এবং সব প্রশ্নম্ন একটি অস্থিতিশীল পরিস্থিতিরই প্রতিফলন।</p>
<p>আপাতদৃষ্টিতে লংমার্চ সমর্থক ও হরতাল সমর্থকদের পাল্টাপাল্টি কর্মসূচির ফলেই বর্তমান অস্থিতিশীল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। কিন্তু আমাদের আশঙ্কা, এ অস্থিতিশীলতার উৎস আরও গভীরে প্রোথিত। বহুদিন থেকে একের পর এক সরকারের হঠকারিতা ও অদূরদর্শিতাই বিরাজমান অস্থিতিশীল পরিস্থিতির মূল কারণ।</p>
<p>গত কিছুদিন থেকে আমরা তিনটি গুরুতর সমস্যার মুখোমুখি হয়েছি : যুদ্ধাপরাধের বিচার, এ বিচারকে কেন্দ্র করে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির ব্যাপক অবনতি এবং নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে শান্তিপূর্ণভাবে ক্ষমতা হস্তান্তর নিয়ে জনমনে আশঙ্কা। এসব সমস্যার কারণে গত কয়েক মাসে সারাদেশে ব্যাপক বিশৃঙ্খলা ও সহিংসতা সৃষ্টি হয়েছে। গণমাধ্যমের রিপোর্ট অনুযায়ী, গত তিন মাসে ১৭১ জন খুন হয়েছেন। এ সময়ে ২৩০টি সহিংস ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও ৬ হাজার ৪৯ জন। দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর রায়ের পর সহিংসতায় নিহত হয়েছেন ১৩৭ জন। নিহতদের মধ্যে জামায়াত শিবিরের ৪৪ জন, পুলিশ ৯ জন, গ্রামপুলিশ ১ জন, ৩ জন নারী, আওয়ামী লীগ ও বিএনপির কর্মী ও সমর্থক ১০ জন এবং সাধারণ মানুষ ৭০ জন। এ ছাড়া দেশের অনেক জেলায় ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের ওপর হামলা হয়েছে। ওইসব হামলায় ৪২০টি মন্দির, বাড়িঘর ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ভাংচুর ও অগি্নসংযোগ করা হয়েছে। উপরন্তু মার্চ মাসেই বিএনপি-জামায়াতের ডাকে দেশের বিভিন্ন স্থানে হরতাল হয়েছে ২৯টি। (যুগান্তর, ২ এপ্রিল ২০১৩)।<span id="more-3293"></span></p>
<p>জামায়াত-শিবির বোধগম্য কারণেই যুদ্ধাপরাধের বিচারের বিপক্ষে এবং তারা এ বিচার বন্ধ করার জন্য মরিয়া। কিন্তু সারাদেশে বিচার অব্যাহত রাখার ব্যাপারে ব্যাপক জনমত বিরাজ করছে। তাই এ বিচার চালিয়ে যাওয়া আবশ্যক এবং এটি দ্রুততম সময়ে শেষ করা জরুরি। এটি আদালতের বিষয় এবং বিষয়টি আদালতের ওপর ছেড়ে দেওয়াই যুক্তিযুক্ত।</p>
<p>কিন্তু এ বিচার চালাতে গিয়ে সরকার অপরিণামদর্শিতা, এমনকি হঠকারিতার আশ্রয় নিয়েছে বলে অনেকের অভিযোগ। অপরিণামদর্শিতা এই অর্থে যে, সরকার সম্ভবত ধারণাই করতে পারেনি, যুদ্ধাপরাধের বিচার ভণ্ডুল করতে জামায়াত-শিবির সারাদেশে এমন ব্যাপক তাণ্ডব চালাতে পারবে এবং এ বিচার নিয়ে বিদেশে এত বিরূপ প্রচার হবে। ফলে সরকার প্রয়োজনীয় সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থ হয়েছে। জামায়াত-শিবিরকে অবমূল্যায়ন করেছে বলেই বিচারিক প্রক্রিয়ায়, যেমন_ আইনজীবী নিয়োগ, তদন্ত ইত্যাদিতে সরকার যথাযথভাবে মনোযোগী হয়নি।</p>
<p>অনেকের অবশ্য ধারণা, যুদ্ধাপরাধের বিচার নিয়ে সরকার এক ধরনের &#8216;রাজনীতি&#8217; করার চেষ্টা করেছে। তারা পরবর্তী নির্বাচনের কথা মনে রেখে বিচারকে দীর্ঘায়িত করার চেষ্টা করেছে। এমনকি সেক্টর কমান্ডারস ফোরামও এ ব্যাপারে প্রতিবাদ করেছে। এ ছাড়া সরকার তাদের দলের যুদ্ধাপরাধীদের বিচারিক প্রক্রিয়ার অধীনে আনতে অনাগ্রহ দেখিয়েছে। সরকারের বিরুদ্ধে সবচেয়ে ভয়ানক অভিযোগ, কাদের মোল্লার রায়কে সামনে রেখে তারা জামায়াতের সঙ্গে এক ধরনের আঁতাত করেছে। কাদের মোল্লার যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং আদালতে তার &#8216;ভি&#8217; চিহ্ন প্রদর্শন তার ইঙ্গিত বহন করে। সরকার সত্যিকার অর্থেই যদি জামায়াত-শিবিরের সঙ্গে আঁতাত করে থাকে, তাহলে তা হবে মুক্তিযোদ্ধাদের রক্তের সঙ্গে সবচেয়ে বড় বিশ্বাসঘাতকতা। এসব সন্দেহের কারণে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার সম্পর্কে সরকারের আন্তরিকতা নিয়ে অনেকের মনে প্রশ্নম্ন উঠেছে এবং সরকার অনেকের কাছে বিশ্বাসযোগ্যতা হারিয়েছে।</p>
<p>দ্বিতীয় সমস্যাটি হলো, যুদ্ধাপরাধের বিচারকে কেন্দ্র করে জামায়াত-শিবির সারাদেশে যে তাণ্ডব চালিয়েছে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তা সামাল দিতে পারেনি। এর পেছনেও রয়েছে সরকারের হঠকারিতা। প্রশাসন ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীতে ব্যাপক দলীয়করণ, দলীয় ভিত্তিতে এবং অর্থের বিনিময়ে নিয়োগের কারণে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীতে অযোগ্যতা ও মেধাশূন্যতা, পুলিশকে সরকারের পেটোয়া বাহিনী হিসেবে ব্যবহার, দুর্নীতির কারণে দুর্বল মনোবল, দুর্বল প্রশিক্ষণ ইত্যাদি_ যা বহুদিন থেকেই চলে আসছে। বর্তমান সরকারের আমলে তা ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। প্রসঙ্গত, আওয়ামী লীগের নির্বাচনী ইশতেহার দিনবদলের সনদে প্রশাসন ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দলীয়করণের বিরুদ্ধে এবং মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে নিয়োগ ও পদোন্নম্নতি দেওয়ার অঙ্গীকার সুষ্ঠুভাবে ব্যক্ত করা হয়েছে।</p>
<p>এ ছাড়া আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি ঘটাতে হলে প্রয়োজন সরকার ও বিরোধী দলের মধ্যে কতগুলো মৌলিক বিষয়ে রাজনৈতিক সমঝোতা। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত অতীতের মতো বর্তমান সরকারও বিরোধী দলকে আস্থায় না নিয়ে তাদের সঙ্গে &#8216;শত্রু&#8217;র মতো আচরণ করেছে, যদিও দিনবদলের সনদের আরেকটি অঙ্গীকার ছিল নতুন রাজনৈতিক সংস্কৃতি গড়ে তোলা। এই শত্রুতা বর্তমান সরকারের আমলে মাত্রা ছাড়িয়ে গিয়েছে। বিরোধী দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবসহ অন্য নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে একের পর এক মামলা দায়ের, তাদের জামিন না দেওয়া, অনেকের পায়ে ডাণ্ডাবেড়ি লাগানো ইত্যাদি যার প্রকৃষ্ট প্রমাণ। এক দল দিয়ে গণতন্ত্র হয় না। বিরোধী দলের সঙ্গে আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে &#8216;রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায়&#8217; সিদ্ধান্ত না নিলে নির্বাচিত স্বৈ্বরতন্ত্রই প্রতিষ্ঠিত হয়। বস্তুত, নানা হঠকারিতামূলক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে আমাদের দেশে আমরা নির্বাচিত স্বৈ্বরতন্ত্রই কায়েম করে ফেলেছি।</p>
<p>আমাদের আরেকটি গুরুতর সমস্যা হলো, নির্বাচন সংক্রান্ত এবং তা সম্পূর্ণ রাজনৈতিক। আগামী নির্বাচনকালীন সময়ে কী ধরনের সরকার থাকবে তা নিয়ে সরকার ও বিরোধী দল বর্তমানে চরম অনড় অবস্থানে। নির্বাচনকালীন নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের বিষয়টি ছিল একটি নিষ্পন্নম্ন ইস্যু। সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের খাতিরে এর পক্ষে ব্যাপক জনমতও বিরাজ করছিল। তা সত্ত্বেও আদালতের রায়ের দোহাই দিয়ে সম্পূর্ণ হঠকারিতামূলকভাবে বর্তমান সরকার তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থাটি বাতিল করে, যদিও আদালত আরও দুই টার্মের জন্য পদ্ধতিটি অব্যাহত রাখার পক্ষে পর্যবেক্ষণ দিয়েছিলেন। বিরোধী দল এবং যে কোনো নাগরিক এর বিরুদ্ধে বড় ধরনের প্রতিবাদ করলেই তাদের বিরুদ্ধে সরকারি দলের পক্ষ থেকে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার বানচালের অভিযোগ তোলা হয়। নির্বাচন-সংক্রান্ত এ রাজনৈতিক ইস্যুটি আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে সমাধান না করে সরকারের পক্ষ থেকে বিএনপির &#8216;জামায়াতিকরণের&#8217; এ প্রচেষ্টা বিএনপিকে জামায়াতের আরও কাছাকাছি নিয়ে যায়, যার সম্ভাব্য পরিণতি অত্যন্ত ভয়াবহ। আমাদের ধারণা, সম্পূর্ণ অর্বাচীনভাবে তত্ত্বাবধায়ক সরকার বাতিল না করলে এবং বিএনপির বিরুদ্ধে সরকারের পক্ষ থেকে দমন-পীড়নের আশ্রয় না নিলে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার নিয়ে এত জটিলতা হয়তো সৃষ্টি হতো না।</p>
<p>শুধু তত্ত্বাবধায়ক সরকার ইস্যুতে নয়, আরও অনেকগুলো বিষয়েও বর্তমান সরকার চরম হঠকারিতামূলক সিদ্ধান্ত নিয়েছে। যেমন : পদ্মা সেতু, হলমার্ক, শেয়ারবাজার, ডেসটিনি ইত্যাদি নিয়ে যে গুরুতর দুর্নীতি ও লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে সে সম্পর্কে সরকার কঠোর ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থ হয়েছে। দলীয়করণের মাধ্যমে উচ্চ আদালতকে চরমভাবে কলুষিত করেছে। অন্যান্য সাংবিধানিক ও বিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠানগুলোকে ক্রমাগতভাবে দুর্বল করেছে। সংবিধান ও উচ্চ আদালতের নির্দেশ অমান্য করে সংসদ সদস্যদের স্থানীয় উন্নম্নয়ন কাজে যুক্ত করে তাদের অনেককে &#8216;নব্য জমিদারে&#8217; পরিণত করেছে। সরকারের অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনগুলোকে চাঁদাবাজি, দখলদারিত্ব, টেন্ডারবাজি, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড পরিচালনার লাইসেন্স দিয়ে দিয়েছে। সর্বোপরি, পুরো বাংলাদেশ যেন আজ দুর্নীতি, দুর্বৃত্তায়ন, নিয়োগ বাণিজ্য, ফায়দাতন্ত্র, পরিবারতন্ত্র ইত্যাদির স্বর্গরাজ্যে পরিণত হয়েছে। বর্তমান এবং অতীতের সরকারগুলোর এসব গর্হিত কর্মকাণ্ডের ফলে আমাদের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা বর্তমানে অকার্যকর হয়ে পড়েছে এবং আমরা বাংলাদেশে এক অসম সমাজব্যবস্থা গড়ে তুলেছি। আর এ অবস্থাই বর্তমান অস্থিতিশীল পরিস্থিতির মূল কারণ, যা উগ্রবাদী শক্তির মাথাচাড়া দিয়ে ওঠার জন্য উর্বর ক্ষেত্র প্রস্তুত করে দিয়েছে।</p>
<p>উগ্রবাদী শক্তি, যারা এ দেশে জঙ্গি রাষ্ট্র কায়েম করতে চায়, মোকাবেলা করাই ভবিষ্যতে আমাদের বড় চ্যালেঞ্জ বলে আমরা মনে করি। এ জন্য জরুরি ভিত্তিতে আওয়ামী লীগ, বিএনপি এবং অন্যান্য দল ও নাগরিক সমাজের মধ্যে সংলাপের মাধ্যমে কতগুলো বিষয়ে ঐকমত্যে পেঁৗছা আবশ্যক। কারণ উগ্রবাদী প্রতিপক্ষকে মোকাবেলার জন্য প্রয়োজন হবে বহুদলীয় গণতন্ত্র, বাকস্বাধীনতা, মানবাধিকার, ধর্মনিরপেক্ষতা ও প্রগতিশীলতায় যারা বিশ্বাস করে তাদের সম্মিলিত প্রচেষ্টা।</p>
<p>ড. বদিউল আলম মজুমদার : সম্পাদক সুজন-সুশাসনের জন্য নাগরিক</p>
<p>সূত্র: সমকাল, ৭ এপ্রিল ২০১৩</p>
<br />  <a rel="nofollow" href="http://feeds.wordpress.com/1.0/gocomments/shujanbd.wordpress.com/3293/"><img alt="" border="0" src="http://feeds.wordpress.com/1.0/comments/shujanbd.wordpress.com/3293/" /></a> <img alt="" border="0" src="http://stats.wordpress.com/b.gif?host=shujan.org&#038;blog=43711212&#038;post=3293&#038;subd=shujanbd&#038;ref=&#038;feed=1" width="1" height="1" />]]></content:encoded>
			<wfw:commentRss>http://shujan.org/2013/04/07/%e0%a6%b9%e0%a6%a0%e0%a6%95%e0%a6%be%e0%a6%b0%e0%a6%bf%e0%a6%a4%e0%a6%be-%e0%a6%93-%e0%a6%85%e0%a6%aa%e0%a6%b0%e0%a6%bf%e0%a6%a3%e0%a6%be%e0%a6%ae%e0%a6%a6%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%b6%e0%a6%bf%e0%a6%a4/feed/</wfw:commentRss>
		<slash:comments>0</slash:comments>
	
		<media:content url="http://1.gravatar.com/avatar/7b472cdf95aaf6a17e75fa04e34961f9?s=96&#38;d=identicon&#38;r=G" medium="image">
			<media:title type="html">shahalam2013</media:title>
		</media:content>

		<media:content url="http://shujanbd.files.wordpress.com/2013/05/samakal_logo.jpg" medium="image">
			<media:title type="html">Samakal_logo</media:title>
		</media:content>
	</item>
		<item>
		<title>নিরবচ্ছিন্ন গণতন্ত্রের জন্যই দরকার শক্তিশালী স্থানীয় সরকার</title>
		<link>http://shujan.org/2013/04/03/%e0%a6%a8%e0%a6%bf%e0%a6%b0%e0%a6%ac%e0%a6%9a%e0%a7%8d%e0%a6%9b%e0%a6%bf%e0%a6%a8%e0%a7%8d%e0%a6%a8-%e0%a6%97%e0%a6%a3%e0%a6%a4%e0%a6%a8%e0%a7%8d%e0%a6%a4%e0%a7%8d%e0%a6%b0%e0%a7%87%e0%a6%b0-%e0%a6%9c/</link>
		<comments>http://shujan.org/2013/04/03/%e0%a6%a8%e0%a6%bf%e0%a6%b0%e0%a6%ac%e0%a6%9a%e0%a7%8d%e0%a6%9b%e0%a6%bf%e0%a6%a8%e0%a7%8d%e0%a6%a8-%e0%a6%97%e0%a6%a3%e0%a6%a4%e0%a6%a8%e0%a7%8d%e0%a6%a4%e0%a7%8d%e0%a6%b0%e0%a7%87%e0%a6%b0-%e0%a6%9c/#comments</comments>
		<pubDate>Wed, 03 Apr 2013 10:53:19 +0000</pubDate>
		<dc:creator>shahalam2013</dc:creator>
				<category><![CDATA[ড. বদিউল আলম মজুমদার]]></category>
		<category><![CDATA[লেখালেখি]]></category>
		<category><![CDATA[স্থানীয় সরকার ও উন্নয়ন]]></category>

		<guid isPermaLink="false">http://shujan.org/?p=3299</guid>
		<description><![CDATA[বদিউল আলম মজুমদার &#124; তারিখ: ০৩-০৪-২০১৩ সম্প্রতি একটি স্থানীয় সরকারবিষয়ক সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, শক্তিশালী স্থানীয় সরকারের জন্য গণতন্ত্র অপরিহার্য (প্রথম আলো, ২১ মার্চ ২০১৩)। প্রধানমন্ত্রীর প্রতি যথাযথ শ্রদ্ধা রেখেই বলতে হয়, বিষয়টি আসলে সম্পূর্ণ উল্টো, নিরবচ্ছিন্ন গণতন্ত্রের জন্যই শক্তিশালী স্থানীয় সরকার অপরিহার্য। বস্তুত বর্তমান নির্বাচনসর্বস্ব, ভঙ্গুর, অস্থিতিশীল ও অকার্যকর গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার জন্য আমাদের ক্রমাগত দুর্বল [&#8230;]<img alt="" border="0" src="http://stats.wordpress.com/b.gif?host=shujan.org&#038;blog=43711212&#038;post=3299&#038;subd=shujanbd&#038;ref=&#038;feed=1" width="1" height="1" />]]></description>
				<content:encoded><![CDATA[<p><a href="http://www.prothom-alo.com/detail/date/2013-04-03/news/341740"><img class="alignnone size-medium wp-image-3287" alt="prothom-alo-logo_v4" src="http://shujanbd.files.wordpress.com/2013/05/prothom-alo-logo_v4.jpg?w=123&#038;h=51" width="123" height="51" /></a></p>
<p>বদিউল আলম মজুমদার | তারিখ: ০৩-০৪-২০১৩</p>
<p>সম্প্রতি একটি স্থানীয় সরকারবিষয়ক সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, শক্তিশালী স্থানীয় সরকারের জন্য গণতন্ত্র অপরিহার্য (প্রথম আলো, ২১ মার্চ ২০১৩)। প্রধানমন্ত্রীর প্রতি যথাযথ শ্রদ্ধা রেখেই বলতে হয়, বিষয়টি আসলে সম্পূর্ণ উল্টো, নিরবচ্ছিন্ন গণতন্ত্রের জন্যই শক্তিশালী স্থানীয় সরকার অপরিহার্য। বস্তুত বর্তমান নির্বাচনসর্বস্ব, ভঙ্গুর, অস্থিতিশীল ও অকার্যকর গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার জন্য আমাদের ক্রমাগত দুর্বল ও নামসর্বস্ব স্থানীয় সরকারব্যবস্থা বহুলাংশে দায়ী। আর স্থানীয় সরকারের বর্তমান দুরবস্থার জন্য মূলত দায়ী আমাদের দুই প্রধান দলের নেতা-নেত্রীদের প্রজ্ঞাহীনতা, স্বার্থপরতা ও আইন-আদালতের প্রতি অশ্রদ্ধা।</p>
<p>আমাদের সংবিধানের ১১ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, ‘প্রজাতন্ত্র হইবে একটি গণতন্ত্র’। আর গণতন্ত্রকে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে সংবিধানের ৫৯ অনুচ্ছেদে: ‘আইনানুযায়ী নির্বাচিত প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে গঠিত প্রতিষ্ঠানের উপর প্রজাতন্ত্রের প্রত্যেক প্রশাসনিক একাংশের স্থানীয় শাসনের ভার প্রদান করা হইবে।’ অর্থাত্ ইউনিয়নে নির্বাচিত ইউনিয়ন পরিষদ, উপজেলায় নির্বাচিত উপজেলা পরিষদ এবং জেলায় নির্বাচিত জেলা পরিষদ শাসনকার্য পরিচালনা করবে। বস্তুত, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের মতে, স্থানীয় সরকারের উদ্দেশ্যই হলো স্থানীয় নির্বাচিত প্রতিনিধিদের মাধ্যমে স্থানীয় বিষয়াদির ব্যবস্থাপনা [কুদরত-ই-ইলাহী পনির বনাম বাংলাদেশ, ৪৪ডিএলআর(এসি)(১৯৯২)]। একইভাবে জাতীয় পর্যায়ে নির্বাচিত সংসদ এবং সংসদে প্রতিনিধিত্বকারী সংখ্যাগরিষ্ঠ দল রাষ্ট্র পরিচালনার লক্ষ্যে নির্বাহী দায়িত্ব পালন করবে। তাই সত্যিকারের গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হওয়ার জন্য শুধু মন্ত্রী-সাংসদদের নির্বাচনই যথেষ্ট নয়; এর জন্য আরও প্রয়োজন সব স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের নির্বাচন অনুষ্ঠানের মাধ্যমে সর্বস্তরে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের শাসন প্রতিষ্ঠা।<br />
প্রসঙ্গত, সংবিধানের ১৫২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, ‘“প্রশাসনিক একাংশ” অর্থ জেলা কিংবা এই সংবিধানের ৫৯ অনুচ্ছেদের উদ্দেশ্য-সাধনকল্পে আইনের দ্বারা অভিহিত অন্য কোন এলাকা।’ আর প্রত্যেক প্রশাসনিক একাংশে নির্বাচিত স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান থাকা সাংবিধানিকভাবে বাধ্যতামূলক হলেও সংবিধান প্রণয়নের ৪০ বছরের মধ্যে একবারও জেলা পরিষদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়নি। বরং ২০১১ সালের ১৫ ডিসেম্বর, বিজয় দিবসের প্রাক্কালে, জেলা পরিষদে অনির্বাচিত দলীয় ব্যক্তিদের নিয়োগ দানের মাধ্যমে বর্তমান সরকার আমাদের গণতন্ত্রের কফিনে একটি বড় পেরেক ঠুকে দিয়েছে। প্রসঙ্গত, এই নিয়োগ দানের সময় অঙ্গীকার করা হয়েছিল যে কয়েক মাসের মধ্যে নির্বাচন দিয়ে জেলা পরিষদ গঠন করা হবে। কারণ, নির্বাচন না হলে পরিষদ গঠিত হয় না। সে অঙ্গীকার আজও রক্ষা করা হয়নি।<span id="more-3299"></span></p>
<p>দীর্ঘ ১৮ বছর পর সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অনমনীয়তার কারণে ২০০৯ সালের প্রথম দিকে উপজেলা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। আর সেই বহু প্রতীক্ষিত উপজেলা পরিষদকেও কোটারি স্বার্থে সম্পূর্ণরূপে অকার্যকর করে রাখা হয়েছে। ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন দীর্ঘ প্রায় আট বছর পর ২০১১ সালে অনুষ্ঠিত হয়। মেয়াদোত্তীর্ণ নির্বাচিত প্রতিনিধিদের বাদ দেওয়ার জন্য ঢাকা সিটি করপোরেশনকে দুই ভাগে ভাগ করা হলেও প্রায় ১১ বছর পরও এগুলোতে নির্বাচন দেওয়া হয়নি। স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোর নির্বাচন নিয়ে এ ধরনের টালবাহানা দেশে পরিপূর্ণ গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা কায়েমের ব্যাপারে আমাদের রাজনীতিবিদদের অনীহা ও দায়িত্বহীনতারই শুধু প্রতিফলন নয়, এর মাধ্যমে তাঁরা আমাদের সর্বোচ্চ আদালতের নির্দেশনাও অমান্য করে আসছেন। অনেকেরই মনে থাকার কথা যে উপজেলা পরিষদ বাতিলের মামলার রায়ে সুদূর ১৯৯২ সালে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ ছয় মাসের মধ্যেই সব স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের নির্বাচন অনুষ্ঠানের নির্দেশনা দেন (কুদরত-ই-ইলাহী পনির বনাম বাংলাদেশ), যা আজও অনেকাংশে অপূর্ণ রয়ে গেছে।</p>
<p>সর্বস্তরে নির্বাচিত স্থানীয় সরকারের অনুপস্থিতি আমাদের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে অস্থিতিশীল করেছে। কারণ, স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানসমূহ জাতীয় গণতান্ত্রিক পদ্ধতির খুঁটিস্বরূপ আর খুঁটিহীন গণতন্ত্র শূন্যে ঝুলন্ত, ফানুসতুল্য এক ব্যবস্থায় পরিণত হয়, যা অস্থিতিশীল ও অকার্যকর হতে বাধ্য। বস্তুত দেশে এখন একধরনের আংশিক, অবিন্যস্ত ও ভারসাম্যহীন ‘ধোঁকাবাজির’ গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হয়ে গেছে।</p>
<p>একটি ধোঁকাবাজি হলো সর্বস্তরে জনপ্রতিনিধিদের শাসন কায়েম না করেও শুধু জাতীয় সংসদ নির্বাচন করেই গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার দাবি করা। আর সবচেয়ে বড় ধোঁকাবাজি হলো যেগুলোতে নির্বাচন হয়েছে, সেসব নির্বাচিত স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানকেও ক্ষমতাহীন ঠুঁটো জগন্নাথ করে রাখা। পাকিস্তানের কেন্দ্রীভূত শাসনব্যবস্থায় আমাদের চরমভাবে বঞ্চিত হওয়ার প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ সৃষ্টি এবং শক্তিশালী স্থানীয় সরকার গঠনের লক্ষ্যে আমাদের সংবিধানে বলিষ্ঠ বিধান অন্তর্ভুক্ত করা সত্ত্বেও গত ৪২ বছরে আমাদের দেশে ক্ষমতা দিন দিন কেন্দ্রীভূত হয়ে গেছে। ফলে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলো প্রয়োজনীয় ক্ষমতা ও সম্পদ থেকে ক্রমাগত বঞ্চিত হয়েছে। আর এই কেন্দ্রীভূত শাসনব্যবস্থায় গরিব মানুষ চরমভাবে বঞ্চিত ও শহর-গ্রামে ব্যাপক বৈষম্য তৈরি হয়েছে; বস্তুত বাংলাদেশে আজ এক অসম সমাজ প্রতিষ্ঠিত হয়ে গেছে।</p>
<p>কেন্দ্রীভূত শাসনের অংশ হিসেবেই আমলাতন্ত্রের নিয়ন্ত্রণ আমাদের স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানসমূহের ওপর জেঁকে বসেছে এবং এগুলো মূলত কেন্দ্রীয় সরকারের বর্ধিত হস্ত হিসেবে কাজ করে আসছে। এই নিয়ন্ত্রণের অংশ হিসেবেই, উদাহরণস্বরূপ, প্রধান নির্বাহী হিসেবে নির্বাচিত উপজেলা চেয়ারম্যান থাকতে গত বছর, আইন সংশোধনের মাধ্যমে, উপজেলা নির্বাহী অফিসারদের উপজেলা পরিষদের ‘সচিব’ থেকে ‘মুখ্য নির্বাহী’ করা হয়েছে। এ ছাড়া ‘সার্কুলারতন্ত্র’ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে অন্যান্য স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের ওপরও আমলাদের খবরদারি অব্যাহত রাখা হয়েছে। প্রসঙ্গত, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের মতে, ‘যদি সরকারি কর্মকর্তা বা তাদের তল্পিবহদের স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান পরিচালনার জন্য নিযুক্ত করা হয়’, তথা সত্যিকারের স্বায়ত্তশাসিত স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠিত না হয়, ‘তাহলে এগুলোকে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান হিসেবে রাখা যুক্তিযুক্ত হবে না’ (কুদরত-ই-ইলাহী পনির বনাম বাংলাদেশ)।</p>
<p>একের পর এক সরকার স্থানীয় সরকারের ওপর কর্মকর্তাদের কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করেই শুধু ক্ষান্ত হয়নি, বিএনপি সরকার ১৯৯১ সালে উপজেলাব্যবস্থাই বাতিল করে দেয়। বর্তমান সরকার ক্ষমতায় এসে মড়ার উপর খাঁড়ার ঘায়ের মতো আইনের মাধ্যমে সাংসদদের উপজেলা পরিষদের উপদেষ্টা করে উপদেষ্টার পরামর্শ মানা বাধ্যতামূলক করে। এর ফলে শুধু সাংসদদেরই নয়, এসব প্রতিষ্ঠানের ওপর ক্ষমতাসীন দলেরও অবাঞ্ছিত আধিপত্য প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। আইনের এ বিধান আমাদের সংবিধানের ওপর এক নগ্ন হামলা। কারণ, আইন পরিষদের সদস্য হয়ে সাংসদেরা স্থানীয় সরকার তথা নির্বাহী বিভাগের কাজে জড়িত হতে পারেন না। এর মাধ্যমে ক্ষমতার বিভাজননীতি (Principles of separation of powers), যা আমাদের সংবিধানের মৌলিক কাঠামোর (Basic structure) অংশ, চরমভাবে লঙ্ঘন করা হয়েছে।</p>
<p>শুধু তা-ই নয়, উপজেলা পরিষদের ওপর সাংসদদের কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা তথা স্থানীয় উন্নয়নে তাঁদের জড়িত করার মাধ্যমে উচ্চ আদালতের নির্দেশও নগ্নভাবে অমান্য করা হয়েছে। অনেকেরই জানা আছে, গত চারদলীয় জোট সরকারের আমলে একটি প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে ‘জেলা মন্ত্রী’ পদ সৃষ্টির প্রেক্ষাপটে তত্কালীন সাংসদ আনোয়ার হোসেন মঞ্জু আদালতের শরণাপন্ন হন। তিনি আরজি করেন যে জেলা মন্ত্রী পদ সৃষ্টির কারণে তিনি সাংসদ হিসেবে তাঁর নির্বাচনী এলাকার উন্নয়নে ভূমিকা রাখতে পারছেন না। বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হক ও বিচারপতি এ টি এম ফজলে কবিরের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের একটি বেঞ্চ ২০০৬ সালে সুস্পষ্টভাবে রায় দেন যে সাংসদদের স্থানীয় উন্নয়নে জড়িত হওয়া সম্পূর্ণভাবে সংবিধানের পরিপন্থী [আনোয়ার হোসেন মঞ্জু বনাম বাংলাদেশ, ১৬ বিএলটি (এইচসিডি)(২০০৮)]। তা সত্ত্বেও বর্তমান সরকার আইন করে ২০০৯ সালে সাংসদের কর্তৃত্ব উপজেলা পরিষদের ওপর আরোপ করে। আর স্থানীয় উন্নয়নে জড়িত হওয়ার মাধ্যমে আমাদের সাংসদদের অনেকেই এখন ‘নব্য জমিদারে’ পরিণত হয়েছেন এবং হেন অপকর্ম নেই, যাতে তাঁরা জড়িত হয়ে পড়েননি, যার মাশুল আগামী নির্বাচনে ক্ষমতাসীন দলকে গুনতে হবে বলে আমাদের আশঙ্কা।</p>
<p>প্রসঙ্গত, বর্তমান সরকার ‘দিনবদলের’ অঙ্গীকার নিয়ে ক্ষমতায় এসেছে। ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের নির্বাচনী ইশতেহারের ২৩টি অগ্রাধিকারের মধ্যে স্থানীয় সরকারব্যবস্থাকে শক্তিশালী ও কার্যকর করা হলো ষষ্ঠ অগ্রাধিকার। আর দারিদ্র্য ঘোচানো ও বৈষম্য রোখা এবং কৃষি ও পল্লিজীবনে গতিশীলতা অর্জন পাঁচটি সর্বোচ্চ অগ্রাধিকারের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত। শেষোক্ত অগ্রাধিকারদ্বয় অর্জনের জন্য প্রয়োজন ছিল বিকেন্দ্রীকরণ এবং স্থানীয় সরকারব্যবস্থাকে কার্যকরকরণ।<br />
প্রধানমন্ত্রীর নিজের ভাষায় বলতে গেলে: ‘দারিদ্র্য দূরীকরণের জন্য যে ধরনের উন্নয়ন-চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করা দরকার, তার সামর্থ্য বা সদিচ্ছা কোনটাই &#8230; আমলাতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থার নেই, একমাত্র বিকেন্দ্রীভূত রাষ্ট্রব্যবস্থাই দারিদ্র্য দূরীকরণের কর্মসূচি দক্ষতার সঙ্গে বাস্তবায়ন ও তাতে জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে পারে এবং এটা করার জন্য দক্ষ প্রতিনিধিত্বশীল একটি স্থানীয় সরকার কাঠামো গড়ে তুলতে হবে।’ গড়ে তুলতে হবে ‘স্থানীয় পর্যায়ে স্বশাসিত সরকার’ [শেখ হাসিনা, দারিদ্র্য দূরীকরণ: কিছু চিন্তা-ভাবনা, ১৯৯৫।]</p>
<p>পরিশেষে, এটি সুস্পষ্ট যে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানসমূহকে শক্তিশালী করার পক্ষে সাংবিধানিক অঙ্গীকার, নির্বাচনী ওয়াদা ও অভিজ্ঞতালব্ধ উপলব্ধি থাকা সত্ত্বেও, বর্তমান সরকারের আমলে অতীতের মতো এগুলোকে অকার্যকর করেই রাখা হয়েছে। এর ফলে তৃণমূলের জনগণকে সেবা প্রদান, দারিদ্র্য দূরীকরণ ও সুশাসন প্রতিষ্ঠার ব্যাপারে কাঙ্ক্ষিত সাফল্য অর্জিত হয়নি। আর প্রধানমন্ত্রী এ জন্য নিরবচ্ছিন্ন গণতন্ত্রের অভাবকেই দুষে ‘উদোর পিণ্ডি বুধোর ঘাড়ে’ চাপানোর চেষ্টা করছেন। বস্তুত সর্বস্তরে নির্বাচিত ও কার্যকর স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়নি বলে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাও নিরবচ্ছিন্নতা অর্জন করেনি এবং ফলপ্রসূও হয়নি। কাঙ্ক্ষিত উন্নয়নও অর্জিত হয়নি। আর এ জন্য দায়ী কোটারি স্বার্থ ও আমাদের নেতা-নেত্রীদের দূরদর্শিতার অভাব।<br />
 ড. বদিউল আলম মজুমদার: সম্পাদক, সুজন—সুশাসনের জন্য নাগরিক।</p>
<p>সূত্র: প্রথম আলো, ৩ এপ্রিল ২০১৩</p>
<br />  <a rel="nofollow" href="http://feeds.wordpress.com/1.0/gocomments/shujanbd.wordpress.com/3299/"><img alt="" border="0" src="http://feeds.wordpress.com/1.0/comments/shujanbd.wordpress.com/3299/" /></a> <img alt="" border="0" src="http://stats.wordpress.com/b.gif?host=shujan.org&#038;blog=43711212&#038;post=3299&#038;subd=shujanbd&#038;ref=&#038;feed=1" width="1" height="1" />]]></content:encoded>
			<wfw:commentRss>http://shujan.org/2013/04/03/%e0%a6%a8%e0%a6%bf%e0%a6%b0%e0%a6%ac%e0%a6%9a%e0%a7%8d%e0%a6%9b%e0%a6%bf%e0%a6%a8%e0%a7%8d%e0%a6%a8-%e0%a6%97%e0%a6%a3%e0%a6%a4%e0%a6%a8%e0%a7%8d%e0%a6%a4%e0%a7%8d%e0%a6%b0%e0%a7%87%e0%a6%b0-%e0%a6%9c/feed/</wfw:commentRss>
		<slash:comments>0</slash:comments>
	
		<media:content url="http://1.gravatar.com/avatar/7b472cdf95aaf6a17e75fa04e34961f9?s=96&#38;d=identicon&#38;r=G" medium="image">
			<media:title type="html">shahalam2013</media:title>
		</media:content>

		<media:content url="http://shujanbd.files.wordpress.com/2013/05/prothom-alo-logo_v4.jpg?w=300" medium="image">
			<media:title type="html">prothom-alo-logo_v4</media:title>
		</media:content>
	</item>
	</channel>
</rss>
