সুজন সমাবেশ
সুজন-এর কার্যক্রম সম্পর্কিত আলোচনা
সুজন ফোরামে সবাইকে স্বাগতম।
সুশাসন প্রতিষ্ঠা, গণতন্ত্রের সঠিক চর্চা, স্থানীয় সরকারকে শক্তিশালীকরণ এবং সমৃদ্ধ বাংলাদেশের স্বপ্ন নিয়ে সুজন কাজ করে চলেছে নিরন্তর। সুজনের কর্মকান্ডের উপর আলোচনা, সমালোচনায় অংশ নিয়ে আপনি আপনার নাগরিক দায়িত্ব পালন করুন। সুজন জবাবদিহীতায় বিশ্বাস করে। অংশগ্রহণমূলক কর্মকান্ডের মাধ্যমে সুন্দর একটি বাংলাদেশ গড়ে উঠবে এটাই আমাদের প্রত্যাশা।
-
সুশাসন: মানবাধিকার কমিশন গঠন, পুনর্গঠন
বদিউল আলম মজুমদার
গত ২২ জুন ‘জাতীয় মানবাধিকার কমিশন আইন, ২০০৯’-এর ৬(১) ধারার বিধানানুযায়ী, রাষ্ট্রপতির নির্দেশে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগ মানবাধিকার কমিশন পুনর্গঠন সম্পর্কিত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করে। প্রজ্ঞাপনটির মাধ্যমে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক ড. মিজানুর রহমানকে প্রধান করে কমিশনের সাত সদস্যের নাম ঘোষণা করা হয়। কমিশনের অন্য সদস্যরা হলেন_ বর্তমান লিগ্যাল এডুকেশন অ্যান্ড ট্রেনিং ইনস্টিটিউটের নির্বাহী পরিচালক কাজী রিয়াজুল হক, সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের আইনজীবী ফৌজিয়া করিম ফিরোজ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক গিয়াসউদ্দিন মোল্লা, প্রিপ ট্রাস্টের নির্বাহী পরিচালক আরোমা দত্ত, বাংলা একাডেমীর পরিচালক এবং ফারিয়া লারা ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক ও কথাসাহিত্যিক সেলিনা হোসেন এবং জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের সাবেক সদস্য ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক নিরু কুমার চাকমা। তাদের মধ্যে কাজী রিয়াজুল হক হবেন কমিশনের সার্বক্ষণিক সদস্য।
গত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে ২৩ ডিসেম্বর ২০০৭ তারিখে মানবাধিকার সংরক্ষণের উদ্দেশ্যে বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো ‘জাতীয় মানবাধিকার কমিশন অধ্যাদেশ, ২০০৭’ জারি করা হয়। এরপর ২০০৮ সালের ১ ডিসেম্বর বিচারপতি আমিরুল কবীর চৌধুরীকে চেয়ারম্যান এবং ফেমার সাবেক সভাপতি মুনিরা খান ও অধ্যাপক নীরু কুমার চাকমাকে সদস্য হিসেবে নিয়োগ দিয়ে বাংলাদেশে প্রথম মানবাধিকার কমিশন গঠন করা হয়। Read the rest of this entry »
-
সিসিসি নির্বাচন: সরকারের জন্য একটি সতর্কবার্তা
বদিউল আলম মজুমদার | তারিখ: ১৩-০৭-২০১০
চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনে বিএনপি-সমর্থিত মেয়র পদপ্রার্থী মন্জুর আলম আওয়ামী লীগের প্রার্থী এ বি এম মহিউদ্দিন চৌধুরীকে বিপুল ভোটে পরাজিত করেছেন। গত নির্বাচনের আগের নির্বাচনে বিএনপি যখন নির্বাচনে অংশ নিয়েছিল তখন মহিউদ্দিন চৌধুরী বিএনপি-সমর্থিত প্রার্থী মীর নাছিরকে প্রায় ৯৫ হাজার ভোটে পরাজিত করেছিলেন। এবার তিনি প্রায় একই পরিমাণের ভোটের ব্যবধানে পরাজিত হয়েছেন। অর্থাৎ সেই নির্বাচনের পর চট্টগ্রামের প্রায় দুই লাখ ভোটার মহিউদ্দিন চৌধুরীর প্রতি সমর্থন প্রত্যাহার করেছেন, যা অত্যন্ত প্রণিধানযোগ্য। আরও প্রণিধানযোগ্য, সরাসরি আসনের কাউন্সিলর প্রার্থীদের মধ্যে আওয়ামী লীগ-সমর্থিত বিজয়ীরা সংখ্যালঘিষ্ঠ (দৈনিক সমকাল, ১৯ জুন, ২০১০)। অর্থাৎ নির্বাচনে শুধু মহিউদ্দিন চৌধুরীরই ভরাডুবি হয়নি, আওয়ামী লীগ-সমর্থিত কাউন্সিলর প্রার্থীরাও ভালো করতে পারেনি।
নির্বাচনের এ ফলাফল ছিল অনেকের কাছেই অপ্রত্যাশিত। এর তাৎপর্য নিয়ে ইতিমধ্যে বিতর্কও শুরু হয়েছে। বিরোধী দলের পক্ষ থেকে দাবি করা হচ্ছে, এ পরাজয়ের মাধ্যমে সরকারের দুঃশাসন ও ব্যর্থতারই দাঁতভাঙা জবাব জনগণ দিয়েছে—এটি সরকারের প্রতি অনাস্থাস্বরূপ। অন্যদিকে সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, এটি একটি স্থানীয় নির্বাচন এবং স্থানীয় ইস্যুর ভিত্তিতেই নির্বাচনে জয়-পরাজয় নির্ধারিত হয়েছে এবং এর সঙ্গে সরকারের জনপ্রিয়তার বিষয়টি কোনোভাবেই জড়িত নয়। চট্টগ্রামের ভোটাররা মূলত মহিউদ্দিন চৌধুরীকে প্রত্যাখ্যান করেছেন এবং নির্বাচনে তিনিই পরাজিত হয়েছেন, দল নয়। উল্লেখ্য, ২০০৫ সালের নির্বাচনের পর তৎকালীন ক্ষমতাসীন আর বিরোধী দল প্রায় একই বক্তব্য দিয়েছিল। Read the rest of this entry »
-
রাজনীতির গুণগত পরিবর্তন আজ জরুরি
ড. ব দি উ ল আ ল ম ম জু ম দা র
কয়েক সপ্তাহ আগে গত আওয়ামী লীগ সরকারের একজন সাবেক মন্ত্রী ও বর্তমান সংসদ সদস্য আইলাদুর্গত এলাকার ওপর এক আলোচনা সভায় একটি গল্প বলেছিলেন। পৌরাণিক কাহিনী অবলম্বনে তৈরি এ গল্পটির সারকথা হল : অবতার রাম একবার শিকার থেকে ফিরে এসে তার ধনুকটি মাটিতে পুঁতে রাখেন। কিছুক্ষণ পর তিনি লক্ষ্য করেন, একটি ব্যাঙ ধনুকবিদ্ধ হয়ে কাতরাচ্ছে। রাম তাড়াতাড়ি ব্যাঙটিকে মুক্ত করে জিজ্ঞেস করেন, তীর বিদ্ধ হওয়ার সময় কেন সে চিৎকার করে ওঠেনি? উত্তরে ব্যাঙটি বলে, আগে তো বিপদে পড়লে রাম রাম ডাকতাম, কিন্তু স্বয়ং রামই যখন বিপদের কারণ হয়ে দাঁড়ায়, তখন আর কাকে ডাকি?নিঃসন্দেহে এটি একটি বানানো গল্প এবং এর সঙ্গে অবতার রামের কোন সম্পর্ক নেই। তবে গল্পটি একটি গূঢ় মর্মার্থ বহন করে। এর প্রতীকী অর্থ হল, অতীতে চারদলীয় জোট সরকারের বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ শোনা যাচ্ছিল, এখনও প্রায়ই একই অভিযোগ শোনা যাচ্ছে। অর্থাৎ বর্তমান মহাজোট সরকার ক্ষমতায় আসার পরও আমাদের রাজনীতিতে তেমন কোন গুণগত পরিবর্তন লক্ষ্য করা যায় না। লক্ষ্য করা যায় না গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন শাসন ব্যবস্থায়। বস্তুত অনেকে বর্তমান অবস্থাকে ফুটন্ত কড়াই থেকে জ্বলন্ত উনুনে ঝাঁপ দেয়ার সঙ্গে তুলনা করেন। তাই যদিও অতীতে চারদলীয় জোটের বিরুদ্ধে অভিযোগ ও মহাজোট সম্পর্কে আশাবাদ ব্যক্ত করা যেত, এখন জনগণ কোথায় যাবে? Read the rest of this entry »
-
সুশাসন: মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ
বদিউল আলম মজুমদার
গত ১৭ জুন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়ে গেল। সব পর্যবেক্ষকের মতে নির্বাচনটি সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণভাবে অনুষ্ঠিত হয়েছে, যদিও মাঝরাতে ভোট গণনা নিয়ে কিছু অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেছে, যা নির্বাচন কমিশন তদন্ত করবে বলে আমরা শুনেছি। একটি সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানে সরকারের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা প্রদানের জন্য আমরা প্রধানমন্ত্রী এবং সরকারকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করছি। একইসঙ্গে প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করছি বিজয়ী মেয়রকে, আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থীর পরাজয় সত্ত্বেও, অভিনন্দন জানানোর জন্য। আমরা বিশ্বাস করি, প্রধানমন্ত্রীর এ ধরনের পদক্ষেপ বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে সহনশীলতা ও উদারতা প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
প্রধানমন্ত্রীকে আরও ধন্যবাদ ঢাকা মহানগরের জন্য ‘ডিটেইল্ড এরিয়া পল্গ্যান’ বা (ড্যাপ) মন্ত্রিসভায় অনুমোদনের এবং দ্রুততার সঙ্গে তা গেজেট আকারে প্রকাশের জন্য। ভূমিদস্যু এবং স্বার্থান্বেষীদের মারমুখো অবস্থান সত্ত্বেও, এ ব্যাপারে উদ্যোগী ভূমিকা নেওয়া, বিষয়টির প্রতি তার নিজের ও সরকারের আন্তরিকতারই প্রতিফলন। আমরা বিশ্বাস করি, ড্যাপের যথাযথ বাস্তবায়নের মাধ্যমে ঢাকা মহানগরকে ইট-কংক্রিটের জঙ্গলে পরিণত হওয়া থেকে বিরত রাখা যাবে এবং আমাদের ভবিষ্যৎ বংশধরদের জন্য বাসযোগ্য করা সম্ভব হবে। Read the rest of this entry »
-
সুশাসন: বাজেট কি দিনবদলের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ
বদিউল আলম মজুমদার
অর্থমন্ত্রী জাতীয় সংসদে ২০১০-১১ অর্থবছরের বাজেট পেশ করেছেন। প্রাক্কলিত বাজেটের পরিমাণ ১ লাখ ৩২ হাজার ১৭০ কোটি টাকা। উন্নয়ন বাজেট ৩৮ হাজার ৫০০ কোটি টাকা। কিন্তু বাজেটটি কি আওয়ামী লীগের ‘দিনবদলের সনদ’-এর অঙ্গীকারগুলোর সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ? এ বিশাল আকারের বাজেট বাস্তবায়ন কি সম্ভব?
দুর্ভাগ্যবশত আওয়ামী লীগের দিনবদলের সনদের আলোকে প্রস্তাবিত বাজেটটি বিশ্লেষণ করা দুরূহ। কারণ আমাদের জানামতে দিনবদলের সনদ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে কোনো ‘ওয়ার্ক প্ল্যান’ বা সুস্পষ্ট কর্মপরিকল্পনা তৈরি করা হয়নি। যদিও ক্ষমতা গ্রহণের পরপরই এ বিষয়ের প্রতি আমরা সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছিলাম। দিনবদলের সনদে শুধু কিছু কিছু ক্ষেত্রেই সুস্পষ্ট টার্গেট বা সংখ্যানুপাতিক লক্ষ্যমাত্রা নির্দিষ্ট করা আছে। এছাড়াও সংখ্যানুপাতিক লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের জন্যও একটি বিস্তারিত পরিকল্পনা দরকার। আমাদের আশঙ্কা, কর্মপরিকল্পনার অভাব দিনবদলের সনদ বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে একটি বড় প্রতিবন্ধকতা হয়ে দাঁড়াবে। Read the rest of this entry »
-
সিসিসি নির্বাচন: প্রার্থীরা নিজেদের সম্পর্কে যে তথ্য দিয়েছেন
বদিউল আলম মজুমদার | তারিখ: ১৬-০৬-২০১০
আগামীকাল ১৭ জুন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচন। সাংবিধানিক নির্দেশনা (অনুচ্ছেদ ৫৯) অনুযায়ী, রাষ্ট্রের সকল পর্যায়ে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের তথা গণতান্ত্রিক শাসন সুপ্রতিষ্ঠিত করতে হলে এই নির্বাচন সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণ হতে হবে। একইসঙ্গে এটি হতে হবে অর্থবহ। সৎ, যোগ্য ও জনকল্যাণে নিবেদিত ব্যক্তিদের নির্বাচিত হওয়ার মাধ্যমেই নির্বাচন হবে অর্থবহ। আর তা হলেই চট্টগ্রাম মহানগরে স্বচ্ছতা-জবাবদিহিতা ও জন-অংশগ্রহণমূলক শাসনব্যবস্থা কায়েম এবং সুশাসন প্রতিষ্ঠার পথ সুগম হবে।
বহু দিন থেকেই ‘সুজন—সুশাসনের জন্য নাগরিক’ অর্থবহ নির্বাচন নিশ্চিত করার লক্ষে প্রার্থীদের সম্পর্কে ভোটারদের তথ্য দিয়ে ক্ষমতায়িত করার কাজ করে আসছে, যাতে তারা জেনে-শুনে-বুঝে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারে। বহু লড়াই-সংগ্রাম এবং উচ্চ আদালতে আবু সাফা গংদের জালিয়াতি প্রতিহতের পর নাগরিকদের তথ্য প্রাপ্তির এ অধিকার এখন আইনগতভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। আদালত ভোটারদের এ অধিকারকে বাক্স্বাধীনতা তথা তাদের মৌলিক অধিকার বলে স্বীকৃতি দিয়েছেন। কারণ ভোটাররা তাদের বাক্স্বাধীনতা প্রয়োগ করে ভোট প্রদানের মাধ্যমে। Read the rest of this entry »
-
সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে প্রাসঙ্গিক আইন
ড. ব দি উ ল আ ল ম ম জু ম দা র
গণতান্ত্রিক শাসন কায়েমের জন্য রাষ্ট্রের সব স্তরে নির্বাচন অপরিহার্য। তবে নির্বাচন হতে হবে সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ, নিরপেক্ষ ও অর্থবহ। আর এর জন্য প্রয়োজন একটি যথার্থ আইনি কাঠামো ও কতগুলো কার্যকর প্রতিষ্ঠান। নির্বাচন কমিশন এমন একটি প্রতিষ্ঠান, যার কার্যকারিতা এবং একই সঙ্গে আদালতসহ অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের সহযোগিতার ওপর সুষ্ঠু নির্বাচন বহুলাংশে নির্ভরশীল। বিশেষত সৎ, যোগ্য ও জনকল্যাণে নিবেদিত প্রার্থীদের নির্বাচিত হওয়ার লক্ষ্যে একটি অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টির ক্ষেত্রে সচেতন নাগরিক সমাজের ভূমিকাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন আসন্ন। সংসদ প্রণীত আইন এবং নির্বাচন কমিশন কর্তৃক তৈরি নির্বাচনী বিধিমালা ও আচরণবিধি এ নির্বাচনের জন্য প্রাসঙ্গিক আইনি কাঠামোর অংশ। আমাদের জাতীয় সংসদ ১৫ অক্টোবর, ২০০৯ তারিখে ‘স্থানীয় সরকার (সিটি কর্পোরেশন) আইন, ২০০৯’ পাস করে। কমিশন ৬ এপ্রিল, ২০১০ তারিখে ‘স্থানীয় সরকার (সিটি কর্পোরেশন) নির্বাচন বিধিমালা, ২০১০’ এবং একই তারিখে ‘সিটি কর্পোরেশন (নির্বাচন আচরণ) বিধিমালা, ২০১০’ প্রকাশ করে। এসব আইন ও বিধিতে অনেক বিধান রয়েছে, যা সম্পর্কে আসন্ন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন এবং নির্বাচনের অব্যবহিত পরে নির্বাচিতদের সম্যক ধারণা থাকা প্রয়োজন। এ সম্পর্কে ভোটারদের সচেতনতাও অর্থবহ নির্বাচনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। Read the rest of this entry »
-
সুশাসন: সম্পদের হিসাব ও একটি সুপারিশ
বদিউল আলম মজুমদার
সম্পদের হিসাব প্রকাশ করলেই হবে না, সত্যিকারের স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক সরকার প্রতিষ্ঠা করতে হলে জনপ্রতিনিধি ও মন্ত্রিপরিষদের সদস্যদের জন্য যথাযথ আচরণবিধি প্রণয়ন এবং
তা মানা বাধ্যতামূলক করতে হবে।গণমাধ্যমের রিপোর্ট অনুযায়ী, সল্ফপ্রতি অর্থ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি জনপ্রতিনিধিদের আয়ের বিবরণী প্রদান ও আয়কর রিটার্ন জমাদান বাধ্যতামূলক করার সুপারিশ করেছে (দৈনিক প্রথম আলো, ২৪ মে ২০১০)। কমিটির সুপারিশে সংসদ সদস্য, উপজেলা চেয়ারম্যান ও ভাইস চেয়ারম্যান, সিটি করপোরেশনের মেয়র ও কাউন্সিলররা অন্তর্ভুক্ত। বিবরণীতে কেউ সম্পদের হিসাব গোপন করলে সে সম্পদ বাজেয়াপ্ত করারও সুপারিশ করেছে কমিটি।
আমরা কমিটিকে ধন্যবাদ জানাই। সুপারিশটি বাস্তবায়িত হলে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের স্বচ্ছতা-জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আমরা বিশ্বাস করি। তবে এর জন্য প্রয়োজন হবে এসব তথ্য হলফনামার মাধ্যমে প্রদানের ও প্রকাশের বিধান। আরও প্রয়োজন হবে দুদকের মতো কোনো স্বাধীন কর্তৃপক্ষের ওপর দাখিল করা বিবরণীগুলো যাচাই-বাছাই করার দায়িত্ব প্রদান। বিবরণীতে ভুল ও বিভ্রান্তিমূলক তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে সম্পদ বাজেয়াপ্ত করার সঙ্গে সঙ্গে জনপ্রতিনিধিদের তাদের নির্বাচিত পদ থেকে অপসারণ এবং মিথ্যা হলফনামা প্রদানের জন্য দণ্ডবিধি ও অন্যান্য প্রচলিত আইনে শাস্তি প্রদানেরও ব্যবস্থা করতে হবে। Read the rest of this entry »
-
গণতন্ত্র: শিক্ষা না নিলে ইতিহাসেরই পুনরাবৃত্তি ঘটতে পারে
বদিউল আলম মজুমদার | তারিখ: ৩১-০৫-২০১০
ইতিহাস থেকে শিক্ষা না নিলে ইতিহাসেরই পুনরাবৃত্তি ঘটে, অনেক সময় আরও ভয়াবহ আকারে—এটিই অনেক ক্ষেত্রে ইতিহাসের শিক্ষা। তবে হেগেলের মতে, ইতিহাসের শিক্ষা হলো, ইতিহাস থেকে আসলে কেউ শিক্ষা গ্রহণ করে না। আমাদের ক্ষেত্রে এটি সম্ভবত আরও প্রকটভাবে সত্য। এর মাশুল জাতি হিসেবে আজ আমরা দিচ্ছি এবং ভবিষ্যতে হয়তো আরও নগ্নভাবে আমাদের তা দিতে হবে।
স্মরণ আছে ১৯৭০-৭১ সালের কথা? ১৯৭০ সালের ডিসেম্বরে অনুষ্ঠিত পাকিস্তান জাতীয় পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছিল। জাতীয় সংসদের ৩১৩টি আসনের মধ্যে আওয়ামী লীগ ১৬৭টি আসনে বিজয়ী হয়েছিল। ছয় দফার ভিত্তিতে পূর্ব পাকিস্তানের ১৬৯টি আসনের মধ্যে দলটি দুটি বাদে সবগুলো আসন লাভ করেছিল। বলা বাহুল্য, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বেই এ অর্জন সম্ভব হয়েছিল। পক্ষান্তরে জুলফিকার আলী ভুট্টোর পিপল্স পার্টি ৮৬টি আসন নিয়ে পশ্চিম পাকিস্তানে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে। Read the rest of this entry »
-
সুশাসন: যুক্তরাজ্যের নির্বাচন থেকে শিক্ষণীয়
বদিউল আলম মজুমদার
কয়েক সপ্তাহ আগে যুক্তরাজ্যে সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়ে গেল। এ নির্বাচনের মাধ্যমে ‘হাউস অব কমন্স’ বা কমন্স সভার ৬৫০ জন সদস্যের মধ্যে ৬৪৯ জন নির্বাচিত হয়েছেন_ একজন প্রার্থীর মৃত্যুর কারণে একটি আসনে নির্বাচন হয়নি। কমন্স সভাকে বলা হয় ‘মাদার অব অল পার্লামেন্টস’ বা সব আইনসভার মাতৃতুল্য। আর যুক্তরাজ্যের আইনসভার এ নির্বাচন থেকে আমাদের অনেক কিছু শিক্ষণীয় রয়েছে।
যুক্তরাজ্যে সাল্ফপ্রতিক নির্বাচনে লক্ষণীয় বিষয়গুলো ছিল_ নির্বাচন সম্পূর্ণ সুষ্ঠুভাবে ও নিরপেক্ষতার সঙ্গে সম্পন্ন হয়েছে, এতে কোনো কারচুপির অভিযোগ ওঠেনি। অভিযোগ ওঠেনি কোনো ভোট জালিয়াতির। জোর করে ব্যালটে সিল মারার ঘটনাও ঘটেনি। নির্বাচনে ব্যালট বাক্স ছিনতাই হয়নি। কারও নির্বাচনী এজেন্টকে কেউ ভোটকেন্দ্র থেকে বের করে দেয়নি। ভোট গণনায় কোনো অনিয়ম হয়নি। কেউ নির্বাচনী ফল প্রত্যাখ্যানও করেনি।
নির্বাচনের আগে কিংবা নির্বাচনের দিনে সামরিক বাহিনী মোতায়েন করা হয়নি। এমনকি নির্বাচন কেন্দ্রের নিরাপত্তার জন্য বিশেষ আয়োজনেরও প্রয়োজন পড়েনি। তা সত্ত্বেও নির্বাচনে কোনো ধরনের সহিংস ঘটনা ঘটেনি। এমনকি প্রতিপক্ষের কেউ কাউকে গালি দিয়েছে বলেও শোনা যায়নি। রাজপথে কোনো মিছিল হয়নি। মাইক বাজিয়ে নাগরিকের শান্তি বিঘি্নত করা হয়নি। পোস্টার-লিফলেটের ছড়াছড়ি ছিল না নির্বাচনে। কোনো দেয়ালে কেউ চিকাও মারেনি। Read the rest of this entry »
বিভাগসমূহ
- Uncategorized (30)
- জাতীয় সংসদ নির্বাচন-২০০৮ বিষয়ক পত্রিকা নিউজ (619)
- মূল প্রবন্ধ (Keynote papers) (5)
- লেখালেখি (135)
- অধ্যাপক মোজাফ্ফর আহমদ (5)
- ড. বদিউল আলম মজুমদার (126)
- সংবাদপত্রে সুজন (16)
আর্কাইভ
রাজনৈতিক দূর্বৃত্তায়ন
- জবি ও চট্টগ্রাম কমার্স কলেজে ছাত্রলীগের দু’গ্রুপে সংঘর্ষ
- দুর্নীতির মামলায় শেখ হেলাল ও তাঁর স্ত্রী কারাগারে
- দুর্নীতি মামলায় সস্ত্রীক কারাগারে শেখ হেলাল : হাসপাতালে স্থানান্তর
- দুর্নীতির মামলায় শেখ হেলাল সস্ত্রীক কারাগারে
- Sentenced in Absentia
- শেখ হেলাল দম্পতি কারাগারে
- দলীয় লোক কাজ না পাওয়ায় দরপত্র বাতিল
- টেন্ডারবাজিঃ নাজিরপুর স্টাইল
- বরিশালে ছাত্রলীগ এখন নিজেরাই নিজেদের শত্রু
- ঢাবিতে ছাত্রলীগের দু?গ্রুপে সংঘর্ষ : আহত ১৫


