সুজন সমাবেশ
সুজন-এর কার্যক্রম সম্পর্কিত আলোচনা
সুজন ফোরামে সবাইকে স্বাগতম।
সুশাসন প্রতিষ্ঠা, গণতন্ত্রের সঠিক চর্চা, স্থানীয় সরকারকে শক্তিশালীকরণ এবং সমৃদ্ধ বাংলাদেশের স্বপ্ন নিয়ে সুজন কাজ করে চলেছে নিরন্তর। সুজনের কর্মকান্ডের উপর আলোচনা, সমালোচনায় অংশ নিয়ে আপনি আপনার নাগরিক দায়িত্ব পালন করুন। সুজন জবাবদিহীতায় বিশ্বাস করে। অংশগ্রহণমূলক কর্মকান্ডের মাধ্যমে সুন্দর একটি বাংলাদেশ গড়ে উঠবে এটাই আমাদের প্রত্যাশা।
-
সুশাসন: আজ জাতীয় ঐক্য জরুরি
বদিউল আলম মজুমদার
ক্ষুধা-দারিদ্র্যমুক্ত, বৈষম্যহীন একটি গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ সৃষ্টি করা আমাদের জাতীয় অঙ্গীকার। এ লক্ষ্যেই ১৯৭১ সালে আমাদের বীর মুক্তিযোদ্ধারা জীবনের ঝুঁকি নিয়েছিলেন এবং অনেকে প্রাণও দিয়েছেন। আমাদের সংবিধানেও এ ব্যাপারে সুস্পষ্ট অঙ্গীকার ব্যক্ত করা হয়েছে। সংবিধানের ১১ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী : ‘প্রজাতন্ত্র হইবে একটি গণতন্ত্র, যেখানে মৌলিক মানবাধিকার ও স্বাধীনতার নিশ্চয়তা থাকিবে, মানবসত্তার মর্যাদা ও মূল্যের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ নিশ্চিত হইবে এবং প্রশাসনের সকল পর্যায়ে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের মাধ্যমে জনগণের কার্যকর অংশগ্রহণ নিশ্চিত হইবে।’
প্রশাসনের সব পর্যায়ে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের মাধ্যমে সর্বস্তরে গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা কায়েম তথা পরিপূর্ণ গণতান্ত্রিক উত্তরণের লক্ষ্যে সংবিধানের ৫৯ অনুচ্ছেদে আরও বলা হয়েছে, ‘আইনানুযায়ী নির্বাচিত ব্যক্তিদের সমন্বয়ে গঠিত প্রতিষ্ঠানসমূহের উপর প্রজাতন্ত্রের প্রত্যেক প্রশাসনিক একাংশের স্থানীয় শাসনের ভার প্রদান করা হইবে।’ অর্থাৎ গণতন্ত্রের ভিত গভীরে প্রোথিত করার উদ্দেশ্যে ‘স্থানীয় শাসন’ পরিচালনা করার মতো একটি শক্তিশালী স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা গড়ে তোলাও আমাদের সুস্পষ্ট সাংবিধানিক অঙ্গীকার। আর একটি শক্তিশালী ও কার্যকর স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা সম্পদ, ক্ষমতা ও দায়দায়িত্বের বিকেন্দ্রীকরণের লক্ষ্যে অপরিহার্য এবং বিকেন্দ্রীকরণ না হলে তৃণমূলের জনগোষ্ঠীর জন্য একটি দারিদ্র্যমুক্ত, সমৃদ্ধ ও বৈষম্যহীন ভবিষ্যৎ সৃষ্টি করাও অসম্ভব। উল্লেখ্য, সব বঞ্চনা ও বৈষম্যের অবসান এবং জনগণের জীবনযাত্রার মানের উন্নতি সাধনের অঙ্গীকারও আমাদের সংবিধানে করা হয়েছে (অনুচ্ছেদ ১৫ ও ১৯)। Read the rest of this entry »
-
গণতন্ত্র: রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে পরিবর্তন কোন পথে?
বদিউল আলম মজুমদার | তারিখ: ০১-০৩-২০১০
বহু দিন থেকেই আমাদের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে পরিবর্তনের কথা অনেকে বলে আসছেন। রাজনীতিবিদ থেকে শুরু করে সমাজসচেতন সব নাগরিক, এমনকি সাধারণ জনগণকেও আমাদের বিরাজমান অসহিষ্ণু, দ্বন্দ্বাত্মক ও কলহপ্রবণ রাজনৈতিক সংস্কৃতি সম্পর্কে অসন্তোষ প্রকাশ করতে দেখা যায়। এক-এগারোর প্রেক্ষাপট এবং পরবর্তী দুই বছরের দুঃখজনক ঘটনাবলীর কারণে এ অসন্তোষ ব্যাপক আকার ধারণ করেছে এবং এই সংস্কৃতি পরিবর্তনের দাবি আরও জোরদার হয়েছে। জনমতের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ তাদের ‘দিনবদলের সনদ’ শীর্ষক নির্বাচনী ইশতেহারেও ‘রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে শিষ্টাচার ও সহিষ্ণুতা গড়ে তোলা’র অঙ্গীকার ব্যক্ত করে। প্রধান বিরোধী দল বিএনপিও তাদের নির্বাচনী ইশতেহারে ‘একটি কার্যকর সংসদ, দায়িত্বশীল রাজনৈতিক পরিবেশ, রাষ্ট্র ও সামাজিক সব শক্তির মধ্যে কার্যকর সমঝোতা’ প্রতিষ্ঠার কথা সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছে।
নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচন-পরবর্তী এক জনাকীর্ণ সংবাদ সম্মেলনে পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শেখ হাসিনাও এ ব্যাপারে জাতিকে আশ্বস্ত করেন। তিনি সুস্পষ্টভাবে বলেন, ‘আমাদের সরকার হবে সকলের … বিরোধী দলকে আমরা সংখ্যা দিয়ে বিচার করব না … আমরা প্রতিহিংসা ও প্রতিশোধের রাজনীতিতে বিশ্বাস করি না। হানাহানির রাজনীতি পরিহার করতে চাই। দেশে নতুন রাজনৈতিক সংস্কৃতি উপহার দিতে চাই।’ (প্রথম আলো, ১ জানুয়ারি, ২০০৯)। তিনি প্রতিশোধের পরিবর্তে সবকিছু ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখার, সরকারে গিয়ে ক্ষমতার অপব্যবহার না করার, এমনকি বেগম খালেদা জিয়ার অভিজ্ঞতাসমৃদ্ধ সহযোগিতা নেওয়ার, বিরোধী দলকে ডিপুটি স্পিকারের পদ দেওয়ার এবং রাজি হলে বিরোধী দলকে মন্ত্রিত্ব দেওয়ার কথাও সংবাদ সম্মেলনে বলেন। উল্লেখ্য, পরবর্তী প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে এমন আহ্বানের কথা শুনে নাগরিক হিসেবে সেদিন আমরা বড় গর্ব বোধ করেছিলাম এবং বাংলাদেশের ভবিষ্যত্ রাজনীতি সম্পর্কে দারুণ আশাবাদী হয়েছিলাম। Read the rest of this entry »
-
গণতন্ত্র, নিয়মতান্ত্রিকতা ও দায়বদ্ধতা
ড. ব দি উ ল আ ল ম ম জু ম দা র
গণতন্ত্র হল জনগণের সম্মতির শাসন, আর এটি একটি নিয়মভিত্তিক ব্যবস্থা। সত্যিকারের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় শাসনকার্য পরিচালনার কতগুলো নিয়ম বা পদ্ধতি থাকে। একইসঙ্গে পদ্ধতি থাকে শাসকদের দায়বদ্ধ করার। বস্তুত গণতন্ত্রকে কার্যকর করতে হলে নিয়মতান্ত্রিকতা অপরিহার্য।গণতান্ত্রিক শাসনে সুস্পষ্ট ‘রুলস অব এনগেজমেন্ট’ বা সম্পৃক্ততার সুনির্দিষ্ট পদ্ধতি রয়েছে। আর এ সম্পৃক্ততা সৃষ্টি হয় নির্বাচনের মাধ্যমে। তাই নির্বাচন হল গণতন্ত্রের প্রথম নিয়ম বা ধাপ। বস্তুত নির্বাচনের মাধ্যমেই গণতান্ত্রিক যাত্রাপথের সূচনা হয়।
তবে নির্বাচন হলেই গণতান্ত্রিক যাত্রাপথের সূচনা হয় না। নির্বাচন হতে হয় সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ। নির্বাচন সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ হলে সব যোগ্য ভোটার সব ধরনের ভয়-ভীতির ঊধের্ব উঠে বিনা দ্বিধায় ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারে। নির্বাচন আরও হতে হয় নিরপেক্ষ, যাতে দলমত নির্বিশেষে সব প্রার্থীর নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ থাকে এবং নির্বাচনে কর্তর্ৃপক্ষের কারও প্রতি পক্ষপাতিত্ব না থাকে। এছাড়াও নির্বাচন হতে হয় অর্থবহ। অর্থবহ নির্বাচনের মাধ্যমেই সৎ, যোগ্য ও জনকল্যাণে নিবেদিত প্রার্থীদের পক্ষে নির্বাচিত হয়ে আসার সুযোগ সৃষ্টি হয়। নির্বাচন সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ ও নিরপেক্ষ হলেও গণতান্ত্রিক শাসন প্রতিষ্ঠার পথ সুগম হয় না, যদি নির্বাচনের মাধ্যমে সন্ত্রাসী, দুর্নীতিবাজ, স্বার্থান্বেষী ও অযোগ্য ব্যক্তিরা নির্বাচিত হয়ে আসে। অর্থাৎ নির্বাচিত প্রতিনিধিদের গুণগত মানের ওপর গণতান্ত্রিক শাসন বহুলাংশে নির্ভরশীল। Read the rest of this entry »
-
স্থানীয় উন্নয়ন: কেন এই অর্বাচীন সিদ্ধান্ত?
বদিউল আলম মজুমদার | তারিখ: ১৩-০২-২০১০
শোনা যায়, সরকার সংসদ সদস্যদের প্রত্যেককে তাঁদের মেয়াদকালের জন্য স্থানীয় উন্নয়নের লক্ষ্যে ১৫ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সংসদ সদস্যরা এ টাকার পরিমাণ প্রকল্প সুপারিশ করবেন, যা স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলো বা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের মাধ্যমে ব্যয় করা হবে। এ সিদ্ধান্তের লক্ষ্য হলো, নির্বাচনের আগে সংসদ সদস্যদের প্রদত্ত প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে সহায়তা প্রদান করা।
আমাদের আশঙ্কা, এটি একটি অতি অর্বাচীন সিদ্ধান্ত—এটি গ্রহণের ক্ষেত্রে দেশি-বিদেশি অভিজ্ঞতা সম্পূর্ণভাবে উপেক্ষা করা হয়েছে। উপেক্ষা করা হয়েছে ইতিহাসের শিক্ষাকেও। এ ছাড়াও এর মাধ্যমে সংবিধান পদদলিত হবে এবং আদালতের রায়কেও উপেক্ষা করা হবে। এর পরিণতিও অশুভ হতে বাধ্য। Read the rest of this entry »
-
মৌলিক অধিকার নিয়ে মৌলিক সমস্যা
সুশাসন
বদিউল আলম মজুমদার
প্রায় ৩৮ বছর আগে ১৯৭১ সালে বাংলাদেশ স্বাধীনতা অর্জন করেছে। এর এক বছর পর ১৯৭২ সালে স্বাধীন বাংলাদেশের জন্য একটি সংবিধান রচিত হয়। সংবিধানে অনেক মৌলিক অধিকার অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত অধিকাংশ নাগরিকের এমনকি অনেক শিক্ষিত নাগরিকেরও এসব অধিকার সম্পর্কে সুস্পষ্ট ধারণা নেই। অনেক ক্ষেত্রেই তারা মৌলিক অধিকার ও মৌলিক চাহিদার মধ্যে তালগোল পাকিয়ে ফেলেন।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের ‘তৃতীয় ভাগ’ মৌলিক অধিকারের সম্পর্কিত এবং এতে ২৬ থেকে ৪৭ অনুচ্ছেদ অন্তর্ভুক্ত, যদিও সব অনুচ্ছেদ এক্ষেত্রে প্রাসঙ্গিক নয়। কতগুলো ‘স্বাধীনতা’ ও কতগুলো ‘অধিকার’ মৌলিক অধিকারের অন্তর্ভুক্ত। স্বাধীনতাগুলো হলো : (১) চলাফেরার স্বাধীনতা (অনুচ্ছেদ ৩৬); (২) সমাবেশের স্বাধীনতা (অনুচ্ছেদ ৩৭); (৩) সংগঠনের স্বাধীনতা (অনুচ্ছেদ ৩৮); (৪) চিন্তা ও বিবেকের স্বাধীনতা এবং বাকস্বাধীনতা (অনুচ্ছেদ ৩৯); (৫) পেশা ও বৃত্তির স্বাধীনতা (অনুচ্ছেদ ৪০); এবং (৬) ধর্মীয় স্বাধীনতা (অনুচ্ছেদ ৪১)। Read the rest of this entry »
-
সরকারের বর্ষপূর্তি
সুশাসন
বদিউল আলম মজুমদার
সরকারের বর্ষপূর্তিতে প্রধানমন্ত্রী ও তার সহকর্মীদের আন্তরিক অভিনন্দন। একইসঙ্গে সরকারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সবার জন্য রইল ভবিষ্যতের শুভ কামনা। বিগত বছরে যতটুকু সফলতা অর্জিত হয়েছে, জাতির স্বার্থে আশা করি আগামী বছর সরকার আরও বড় সফলতা অর্জন করতে সক্ষম হবে এবং সত্যিকারের দিনবদল ঘটাবে।
বর্ষপূর্তি উপলক্ষে জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে প্রধানমন্ত্রী সরকারের এক বছরের সফলতার লম্বা ফিরিস্তি তুলে ধরেছেন। নিঃসন্দেহে সরকারের অনেকগুলো সফলতা রয়েছে। উল্লেখযোগ্য সফলতার মধ্যে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে শিক্ষা বছরের শুরুতেই বিনামূল্যে ১৯ কোটি বই বিতরণ ও শিক্ষানীতি প্রণয়ন অন্তর্ভুক্ত। আরেকটি বড় সফলতা হলো কৃষিতে, বিশেষত সারে ভর্তুকি ও অন্যান্য উপকরণ বিতরণের ক্ষেত্রে। এজন্য শিক্ষা ও কৃষিমন্ত্রীকে অভিনন্দন। শত বাধা-বিপত্তি সত্ত্বেও সততা এবং আন্তরিকতার কারণে যে সফলতা অর্জন করা যায়, তা তারা আবারও প্রমাণ করলেন। তবে দুর্ভাগ্যবশত শিক্ষাঙ্গনে নির্বাচনী ওয়াদামতো দলীয়করণ এখনও বন্ধ হয়নি এবং শান্তি ফিরে আসেনি।
বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার বিচার সম্পন্ন_ যার মাধ্যমে জাতির জীবনে একটি গভীর ক্ষত দূরীভূত হলো। বিদ্যুৎ খাতে কিছু উৎপাদন ক্ষমতা বৃদ্ধি, সংসদের প্রথম অধিবেশনেই ৪৮টি সংসদীয় কমিটি ও স্থায়ী কমিটি গঠন এবং কমিটিগুলোর অনেক বেশি সক্রিয়তাও সরকারের গুরুত্বপূর্ণ সাফল্যে অন্তর্ভুক্ত। তবে বিদ্যুৎ খাতের উৎপাদন ক্ষমতা বৃদ্ধি হয়েছে অত্যন্ত চড়া মূল্যে। Read the rest of this entry »
-
দুর্নীতি দমন: কথায় নয়, কাজে বড় হতে হবে
বদিউল আলম মজুমদার | তারিখ: ১৬-০১-২০১০
বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ তার ‘দিনবদলের সনদ’ শীর্ষক নির্বাচনী ইশতেহারে ‘দুর্নীতির বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা’ গ্রহণকে ‘অগ্রাধিকারের পাঁচটি বিষয়’-এর মধ্যে দ্বিতীয়—দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি প্রতিরোধের পরই গুরুত্বপূর্ণ অগ্রাধিকার হিসেবে চিহ্নিত করেছে। নির্বাচনী ইশতেহারে অত্যন্ত সুস্পষ্টভাবে অঙ্গীকার করা হয়েছে: ‘দুর্নীতি দমন কমিশনের স্বাধীনতা নিশ্চিত করে শক্তিশালী করা হবে। দুর্নীতির বিরুদ্ধে যুদ্ধে বহুমুখী কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হবে। ক্ষমতাধরদের বার্ষিক সম্পদের বিবরণ দিতে হবে। দুর্নীতি উচ্ছেদ, অনোপার্জিত আয়, ঋণখেলাপি, চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি, কালো টাকা ও পেশিশক্তি প্রতিরোধ ও নির্মূলে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’ এ ছাড়া ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকেই প্রধানমন্ত্রী এসব বিষয়ে, বিশেষত দুর্নীতি, চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি ও পেশিশক্তি নির্মূলে তাঁর দৃঢ়প্রত্যয়ের কথা বারবার ব্যক্ত করে আসছেন। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত গত এক বছরে বহু হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করা ছাড়া এসব ক্ষেত্রে তেমন কোনো উল্লেখ ও বিশ্বাসযোগ্য উদ্যোগ পরিলক্ষিত হচ্ছে না। উল্লেখ্য, ২০০১ সালে ক্ষমতা গ্রহণের পর ১০০ দিনের কর্মসূচি ঘোষণাকালে আমাদের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াও দুর্নীতি ও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে ‘যুদ্ধ’ ঘোষণা করেছিলেন।
দিনবদলের সনদে দুর্নীতি দমন কমিশনকে শক্তিশালী করার প্রত্যয় ব্যক্ত করা হলেও সরকার ক্ষমতা গ্রহণের কয়েক মাস পরই কমিশনের সাবেক চেয়ারম্যান হাসান মশহুদ চৌধূরীকে পদত্যাগ করতে হয়। এ ছাড়া সরকারি প্রতিষ্ঠান-সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটি যখন দুদক কমিশনারদের কমিটির সামনে তলব করার মাধ্যমে হয়রানি করছিল এবং তাঁদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করাসহ বিভিন্ন হুমকি দিচ্ছিল, তখন সরকারের পক্ষ থেকে কিছুই বলা হয়নি। মাননীয় স্পিকারও এ ব্যাপারে সম্পূর্ণ নীরবতা পালন করেন। এ ধরনের নীরবতা ছিল সম্পূর্ণ দুর্ভাগ্যজনক। Read the rest of this entry »
-
রাজনীতি: আ.লীগ-বিএনপি দ্বন্দ্বের অবসান জরুরি
বদিউল আলম মজুমদার | তারিখ: ০৭-০১-২০১০
গত ৫ ডিসেম্বর ২০০৯ প্রথম আলোতে প্রকাশিত নিবন্ধে অধ্যাপক এম এম আকাশ আওয়ামী লীগ ও বিএনপির দ্বন্দ্বের স্বরূপ তুলে ধরেছেন এবং এর সম্ভাব্য পরিণতির ওপর আলোকপাত করেছেন। তিনি বলেছেন, আমাদের দুটি প্রধান রাজনৈতিক দলের মধ্যে ‘ক্ষমতার প্রশ্ন ছাড়া মৌলিক কোনো দ্বন্দ্ব নেই’। উপরিকাঠামোর কিছু ইস্যুতে যেটুকু পার্থক্য আছে, যেকোনো মূল্যে ক্ষমতায় যাওয়ার চরম প্রতিযোগিতার কারণে তাও ধীরে ধীরে দূরীভূত হয়ে যাচ্ছে। অধ্যাপক আকাশের এ বক্তব্যের সঙ্গে আমার কোনো দ্বিমত নেই। কারণ বৃক্ষের পরিচয় ফলে—দুটি দলের কার্যক্রমের দিকে তাকালেই বোঝা যায় যে তাদের মধ্যে তেমন মৌলিক কোনো তফাত নেই।
তবে অধ্যাপক আকাশ এ দ্বন্দ্বের একটি ‘পপুলিস্ট’ বা লোকরঞ্জনকারী ব্যাখ্যা দিয়েছেন, যা অসম্পূর্ণ বলে আমার ধারণা। তিনি বলেছেন, মৌলবাদী জঙ্গিগোষ্ঠী ও সামরিক বাহিনীর মধ্যকার উচ্চাভিলাষী জেনারেলরাই তথাকথিত বুর্জোয়া গণতন্ত্রের প্রধান শত্রু। এটি আংশিক সত্য। আমি মনে করি, এ দুটোর সঙ্গে গণতন্ত্রের আরও ভয়াবহ শত্রু হলো ‘নির্বাচনসর্বস্ব’ গণতন্ত্র নিজেই; এবং আমাদের দুটি প্রধান রাজনৈতিক দল নিজেরা, তাদের মধ্যকার ক্রমবর্ধমান বিরোধ ও গোত্রতন্ত্রের চর্চা। Read the rest of this entry »
-
জনমনে সরকার ও বিরোধী দল: এক বছরের মূল্যায়ন
মোজাফ্ফর আহমদ | তারিখ: ০৬-০১-২০১০
বিভিন্ন দেশের জনমত সমীক্ষা নানা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে করা হয়ে থাকে। বাংলাদেশে এটি একটি সাম্প্রতিক উদ্যোগ। সম্প্রতি একটি প্রতিষ্ঠান গত এক বছর ধরে সরকার ও বিরোধী দলের মূল্যায়ন সূচক জনমত সমীক্ষা করেছে। সমীক্ষায় দেড় হাজার উত্তরদাতার মতামত গ্রহণ করা হয়েছে এবং উত্তরদাতাদের সংখ্যাবিন্যাস আমাদের জনমিতির প্রতিফলন ঘটিয়েছে। যেমন, পুরুষ-মহিলার অনুপাত প্রায় সমান সমান, অন্যদিকে শহর ও গ্রামাঞ্চলের অনুপাত হলো ১:৩। মতামত গ্রহণে চারটি পুরোনো বিভাগের বিভাজন করা হয়েছে। এসব দিক থেকে সাধারণভাবে পরিসংখ্যানে যে দৈবচয়ন নীতিমালা অনুসরণ করা হয়, তার যথার্থ প্রতিফলন ঘটেছে। কিন্তু যখন রাজনীতির সংশ্লেষ থাকে, তখন উত্তরদাতাদের রাজনৈতিক মতাদর্শিক অবস্থানটিও জানা প্রয়োজন হয়।
আমরা জানি, আমাদের দেশে বিভিন্ন অঞ্চলে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের অবস্থান ভিন্নতর থাকে। দৈবচয়নের সময় যদি প্রাথমিক স্যাম্পলিং ইউনিট এই প্রবণতাকে গুরুত্ব না দেয়, তাহলে মতামতের যে চিত্র উঠে আসে, সেটাতে পক্ষপাতদুষ্টতা থেকে যেতে পারে। সুতরাং এই সীমাবদ্ধতাটুকু মেনে নিয়েও জাতীয়ভাবে দৈবচয়নভিত্তিক এই সমীক্ষার জনমতের একটি প্রতিফলন ঘটিয়েছে বলে ধারণা করা যেতে পারে। অন্য আরেকটি বিষয়ে যেটি লক্ষ করা যায় সেটি হলো, বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তরে নারী-পুরুষের মতামতের এবং শহর-গ্রামাঞ্চলের মানুষের মতামতে পরিসংখ্যানগত পার্থক্য তেমন দেখা যায় না। এখানে মতামতে এমন সুষম সমতা কিছু প্রশ্নের অবতারণা করে। সেটাও মনে রাখা দরকার। এই প্রারম্ভিক বিবেচনাটুকু মনে রেখে এই সমীক্ষার ফলাফল নিয়ে আমরা আলোচনা করতে পারি। Read the rest of this entry »
-
ভিত সুদৃঢ় করা আজ অতি জরুরি
গণতন্ত্র
বদিউল আলম মজুমদার
অনেক বিদেশিই আমাদের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার ভবিষ্যৎ সম্পর্কে আশঙ্কা প্রকাশ করছেন। এদের মধ্যে বিশেষজ্ঞ যেমন আছেন, তেমনি আছেন বাংলাদেশ সম্পর্কে দীর্ঘমেয়াদি সতর্ক পর্যবেক্ষক। যেমন, আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন বিশেষজ্ঞ ল্যারি ডায়মন্ড তার ‘দি স্পিরিট অব ডেমোক্রেসি’ নামক গ্রন্থে বাংলাদেশের গণতন্ত্রের ভবিষ্যৎ সম্পর্কে দারুণ হতাশা ব্যক্ত করেছেন। তেমনিভাবে উইলিয়াম মাইলাম, যিনি একসময় বাংলাদেশে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত ছিলেন এবং বাংলাদেশ সম্পর্কে যার মন্তব্য প্রায়ই শোনা যায়, তার ২০০৯ সালে প্রকাশিত ‘বাংলাদেশ অ্যান্ড পাকিস্তান : ফ্ল্যারটিং উইথ ফেইলিউর ইন সাউথ এশিয়া’ (বাংলাদেশ ও পাকিস্তান : দক্ষিণ এশিয়ায় ব্যর্থতার মুখোমুখি) শিরোনামের গ্রন্থে একই ধরনের মতামত প্রকাশ করেছেন। ‘ফরেন পলিসি’ ম্যাগাজিনের জুলাই-আগস্ট ২০০৯ সংখ্যায় বাংলাদেশকে তাদের ‘ফেইল্ড স্টেট ইনডেক্সে’ বা অকার্যকর রাষ্ট্রের তালিকায় ১৮তম স্থানে অন্তর্ভুক্ত করেছে। এমন আরও অনেকে আছেন যারা বাংলাদেশের গণতন্ত্রের ভবিষ্যৎ নিয়ে আশাবাদী নন।
শুধু বিদেশিরাই নন, বাংলাদেশের নাগরিকরা যারা দেশের ভবিষ্যৎ নিয়ে একটু-আধটু ভাবনা-চিন্তা করেন, তারাও আমাদের গণতন্ত্রের স্থিতিশীলতা নিয়ে অত্যন্ত চিন্তিত। দলবাজি, দলীয়করণ, ফায়দাবাজি, টেন্ডারবাজি, লুটপাটতন্ত্র, দখলদারিত্ব, কেন্দ্রীকরণ, এমপিতন্ত্র, পরিবারতন্ত্র, পক্ষপাতিত্ব, সন্ত্রাস, দুর্নীতি, শিষ্টের দমন দুষ্টের পালন, সংবিধান লঙ্ঘন, মানবাধিকার লঙ্ঘন, ক্ষমার রাজনীতি, রাজনৈতিক অসহিষুষ্ণতা ও দ্বন্দ্ব ইত্যাদির যে পাগলা ঘোড়ায় আমরা চড়েছি, কেউই নিশ্চিত নয় তা আমাদের কোন গন্তব্যে নিয়ে গিয়ে ঠেকাবে। অতীতে এগুলো আমাদের জন্য সংকটের সৃষ্টি করেছে, আমাদের গৃহযুদ্ধের দিকে ধাবিত করেছে এবং আমাদের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে খাদে ফেলে দিয়েছে। ভবিষ্যতেও এমন কিংবা তার চেয়ে ভয়াবহ পরিণতির আশঙ্কা কোনোভাবেই উড়িয়ে দেওয়া যায় না। Read the rest of this entry »
বিভাগসমূহ
- Uncategorized (30)
- জাতীয় সংসদ নির্বাচন-২০০৮ বিষয়ক পত্রিকা নিউজ (619)
- মূল প্রবন্ধ (Keynote papers) (5)
- লেখালেখি (117)
- অধ্যাপক মোজাফ্ফর আহমদ (5)
- ড. বদিউল আলম মজুমদার (108)
- সংবাদপত্রে সুজন (16)
আর্কাইভ
রাজনৈতিক দূর্বৃত্তায়ন
- ফেনীতে ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের সংঘর্ষে এসআইসহ আহত ২
- মৌলভীবাজার আ?লীগে পাল্টাপাল্টি ৪ মামলা
- বাবর প্রধান আসামি
- ফেনীতে ছাত্রলীগের দু’গ্রুপের সংঘর্ষে পুলিশসহ আহত ১০
- পটুয়াখালী পরশুরাম নলছিটি ভোলায় টেন্ডারে বাধা : কাজ ভাগাভাগি
- ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের সংঘর্ষে চুয়েট বন্ধ
- ছাত্রলীগের দুই পক্ষে সংঘর্ষ
- ছাত্রলীগের দু’গ্রুপের সংঘর্ষে চুয়েট অনির্দিষ্টকাল বন
- রংপুর মেডিক্যাল কলেজে ছাত্রলীগের দুই গ্রুপে সংঘর্ষ
- জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগের দুই পক্ষে সংঘর্ষ, আহত ৩০


