সুশাসন প্রতিষ্ঠা, গণতন্ত্রের সঠিক চর্চা, স্থানীয় সরকারকে শক্তিশালীকরণ এবং সমৃদ্ধ বাংলাদেশের স্বপ্ন নিয়ে সুজন কাজ করে চলেছে নিরন্তর। সুজনের কর্মকান্ডের উপর আলোচনা, সমালোচনায় অংশ নিয়ে আপনি আপনার নাগরিক দায়িত্ব পালন করুন। সুজন জবাবদিহীতায় বিশ্বাস করে। অংশগ্রহণমূলক কর্মকান্ডের মাধ্যমে সুন্দর একটি বাংলাদেশ গড়ে উঠবে এটাই আমাদের প্রত্যাশা।
বদিউল আলম মজুমদার | তারিখ: ২০-০৩-২০১১
প্রায় দীর্ঘ তিন বছর প্রতীক্ষার পর মেয়াদোত্তীর্ণ ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। প্রথম দফায় ২৯ মার্চ থেকে ৩ এপ্রিল উপকূলীয় এলাকার ৫৯৬টি ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন হবে। ইতিমধ্যে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া এবং এগুলোর বাছাইও শেষ হয়েছে। পরবর্তী সময়ে মে-জুন মাসে বাকি ইউনিয়নে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। আসন্ন নির্বাচন নিয়ে আমাদের মনে অনেক আশাবাদ সৃষ্টি হয়েছে, একই সঙ্গে সৃষ্টি হয়েছে অনেক আশঙ্কা।
অনেক গড়িমসির পর নির্বাচন যে হচ্ছে, তা-ই আমাদের আশাবাদী করে তুলছে। কারণ নির্বাচনের মাধ্যমে অনেক নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হবে। মানুষ যেখানে, সমস্যাও সেখানে এবং সেগুলোর সমাধানও হওয়া আবশ্যক মানুষের দোরগোড়ার প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে। দেশের অধিকাংশ মানুষ গ্রামে বাস করে, তাই গ্রামীণ স্থানীয় সরকারব্যবস্থার সর্বনিম্ন স্তর হিসেবে ইউনিয়ন পরিষদের গুরুত্ব অপরিসীম। কারণ, ইউনিয়ন পরিষদের নবনির্বাচিত প্রতিনিধিদের নেতৃত্বেই জনগণের অধিকাংশ সমস্যা সমাধানের পথ সুগম হতে পারে। Read the rest of this entry »

Badiul Alam Majumdar
For a long time, Citizens for Good Governance (Shujan) has advocated for neutral search committees to make appointments to constitutional and statutory bodies. We believe that only through such a process can honest, courageous and competent persons be appointed. However, the search committee recently formed by the government to appoint the chief and other election commissioners has already created serious controversies. Such controversies will only make the committee's task more challenging.
On January 12, the president, after holding dialogues with 23 political parties, proposed a law for appointing the CEC and other election commissioners. The proposal also included the formation of a five-member search committee, comprised of two justices — one from the Appellate Division and the other from the High Court Division — to be recommended by the chief justice, the chairman of the PSC, the auditor and accountant general and the chairman of the ACC. The president's proposal also called for inclusion of other "competent" persons to the committee.
Subsequently, the Cabinet Division announced, via a circular, the formation of a four-member Search Committee, which included Justice Syed Mahmud Hossain, Justice Md. Nuruzzaman, PSC Chairman A.T. Ahmedul Huq Chowdhury and the Comptroller and Accountant General Ahmed Ataul Hakeem. The Committee was given 10-working days to submit its recommendations and the authority to formulate its own modus operandi Read the rest of this entry »
বদিউল আলম মজুমদার | তারিখ: ৩০-০১-২০১২
বহুদিন ধরে সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) পক্ষ থেকে আমরা নির্বাচন কমিশনসহ সব সাংবিধানিক ও অন্যান্য সংবিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠানে নিয়োগ প্রদানের লক্ষ্যে নিরপেক্ষ অনুসন্ধান কমিটি গঠনের প্রস্তাব করে আসছি। কারণ, এর মাধ্যমে অপেক্ষাকৃত সৎ, সাহসী ও যোগ্য ব্যক্তিদের এসব প্রতিষ্ঠানে নিয়োগ পাওয়ার পথ সুগম হবে। কিন্তু সম্প্রতি যেভাবে এবং যাঁদের নিয়ে প্রধান ও অন্যান্য নির্বাচন কমিশনার নিয়োগের জন্য অনুসন্ধান কমিটি গঠিত হয়েছে, তা নিয়ে আমাদের মনে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। একই সঙ্গে কমিটির কার্যপদ্ধতি সম্পর্কেও আমাদের কিছু প্রস্তাব রয়েছে, যা এর সুপারিশের গ্রহণযোগ্যতা বৃদ্ধি করবে বলে আমাদের বিশ্বাস।
আমরা শুনেছি যে ২৩টি দলের সঙ্গে সংলাপের ভিত্তিতে ১২ জানুয়ারি রাষ্ট্রপতি কমিশনে নিয়োগ প্রদানের ক্ষেত্রে অস্পষ্টতা দূরীকরণের লক্ষ্যে একটি প্রজ্ঞাপন জারির সুপারিশ করেন। সম্ভাব্য প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও অন্যান্য নির্বাচন কমিশনারদের নাম বাছাইয়ের লক্ষ্যে পাঁচ সদস্যের একটি সার্চ বা অনুসন্ধান কমিটি গঠনের প্রস্তাব রাষ্ট্রপতির সুপারিশে অন্তর্ভুক্ত। রাষ্ট্রপতি কমিটিতে প্রধান বিচারপতি মনোনীত আপিল ও হাইকোর্ট বিভাগের একজন করে বিচারপতি, সরকারি কর্ম কমিশনের চেয়ারম্যান, মহাহিসাবনিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক এবং দুর্নীতি দমন কমিশনের চেয়ারম্যানকে অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাব করেন।
এরই ধারাবাহিকতায় ২১ জানুয়ারি মন্ত্রিপরিষদ একটি প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে চার সদস্যবিশিষ্ট একটি অনুসন্ধান কমিটি গঠনের ঘোষণা দেয়। পরবর্তী সময়ে ২৪ জানুয়ারি ২০১২ তারিখে জারি করা আরেকটি প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে কমিটির সদস্যদের নাম প্রকাশ করা হয়, যাঁরা হলেন: আপিল বিভাগের বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন, হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি মো. নূরুজ্জামান, মহাহিসাবনিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক আহমেদ আতাউল হাকিম এবং সরকারি কর্ম কমিশনের চেয়ারম্যান এ টি আহমেদুল হক চৌধুরী। কমিটিকে তাদের সুপারিশ পেশ করার জন্য ১০ কার্যদিবস সময় দেওয়া হয়। একই সঙ্গে কমিটিকে তার কার্যপদ্ধতি নির্ধারণেরও ক্ষমতা দেওয়া হয়। Read the rest of this entry »
বদিউল আলম মজুমদার | তারিখ: ২৪-০১-২০১২
নির্বাচন কমিশনে নিয়োগ নিয়ে বিতর্ক এড়াতে মহামান্য রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমান সমপ্রতি ২৩টি রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সংলাপের আয়োজন করেছেন। গণমাধ্যমের রিপোর্ট থেকে জানা যায়, সংলাপে অংশগ্রহণকারী কিছু দল বর্তমান প্রধান নির্বাচন কমিশনার শামসুল হুদাকে পুনর্নিয়োগ প্রদানের সুপারিশ করেছে। আবার কিছু দল পুরো কমিশনকেই রাখার পক্ষে মত দিয়েছে।
অনেক প্রতিকূলতা সত্ত্বেও গত পাঁচ বছরে বর্তমান কমিশন অত্যন্ত প্রশংসনীয়ভাবে তাদের দায়িত্ব পালন করেছে। কিছু ভুলভ্রান্তি সত্ত্বেও কমিশন সফলতা ও নিরপেক্ষতার একটি উঁচু মানদণ্ড স্থাপন এবং দেশের বিরাট জনগোষ্ঠীর সমর্থন অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে বলে আমার বিশ্বাস। বস্তুত, আমি মনে করি যে বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে বর্তমান কমিশন থেকে অধিক করিৎকর্মা ও নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশন পাওয়া হবে প্রায় অসম্ভব। তবে প্রস্তাব দুটি কিছু গুরুতর সাংবিধানিক প্রশ্নের জন্ম দেয়।
সংলাপে প্রদত্ত পুনর্নিয়োগের প্রস্তাবের পর এ বিষয়ে ব্যাপক গুজব শুরু হয়েছে। গুজবের সঙ্গে সঙ্গে শুরু হয়েছে নতুন বিতর্ক। একদল বিশেষজ্ঞ দাবি করছেন যে প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও অন্য দুজন নির্বাচন কমিশনার ছহুল হোসাইন ও ব্রিগেডিয়ার (অব.) শাখাওয়াত হোসেনকে পুনর্নিয়োগ প্রদানের ক্ষেত্রে কোনো সাংবিধানিক বাধা নেই। পক্ষান্তরে অন্য একদল বিশেষজ্ঞ মনে করেন যে এমন সিদ্ধান্ত হবে অর্বাচীন ও সংবিধানের লঙ্ঘন।
আমাদের সংবিধানের ১১৮(৩) অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে: ‘এই সংবিধানের বিধানাবলি-সাপেক্ষে কোনো নির্বাচন কমিশনারের পদের মেয়াদ তাঁহার কার্যভার গ্রহণের তারিখ হইতে পাঁচ বৎসরকাল হইবে এবং (ক) প্রধান নির্বাচন কমিশনার পদে অধিষ্ঠিত ছিলেন, এমন কোনো ব্যক্তি প্রজাতন্ত্রের কর্মে নিয়োগলাভের যোগ্য হইবেন না; (খ) অন্য কোনো নির্বাচন কমিশনার অনুরূপ পদে কর্মাবসানের পর প্রধান নির্বাচন কমিশনাররূপে নিয়োগলাভের যোগ্য হইবেন, তবে অন্য কোনোভাবে প্রজাতন্ত্রের কর্মে নিয়োগলাভের যোগ্য হইবেন না।’ Read the rest of this entry »
বদিউল আলম মজুমদার | তারিখ: ১৬-০১-২০১২
দিনবদলের অঙ্গীকারের ভিত্তিতে ক্ষমতায় আসা মহাজোট সরকার তার মেয়াদের তিন বছর শেষ করেছে। এ উপলক্ষে সরকারের পক্ষ থেকে বিভিন্ন ক্ষেত্রে অভূতপূর্ব সাফল্যের দাবি করা হচ্ছে। পক্ষান্তরে বিরোধী দলের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে যে সরকার সম্পূর্ণ ব্যর্থ। কার দাবি সত্য? সরকারের সফলতা-ব্যর্থতা কি সাধারণ মানুষের জীবনে খুব একটা প্রভাব ফেলেছে?
গত ৭ জানুয়ারি ময়মনসিংহ জেলার সদর উপজেলার চর নিলক্ষ্মীয়া ইউনিয়নের চর পুলিয়ামারী গ্রামের তিনজন নারীর সঙ্গে এ ব্যাপারে আমি আলাপ করি। জানতে চাই, গত তিন বছরে তাঁদের জীবনে কী কী গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন ঘটেছে। আর সেসব পরিবর্তনের ক্ষেত্রে সরকারের কোনো ভূমিকা ছিল কি না।
প্রথমে কথা হয় সেলিনা নামের একজন নারীর সঙ্গে, যাঁর বয়স আনুমানিক ৩২-৩৩ বছর। তাঁর তিন মেয়ে—রেহানা (১১), সাহানা (৬) ও জুমা (১)। সাহানা প্রথম শ্রেণীতে পড়ে, কিন্তু প্রতিবন্ধিতার কারণে রেহানা স্কুলে যায় না বলে মা দাবি করেন। সেলিনার মাও তার সঙ্গে থাকেন। সেলিনার স্বামী, ফয়জুল হক, দেড় বছর আগে হঠাৎ করে ঘুমের মধ্যে মারা যান, সম্ভবত হূদরোগে। সেলিনার ভাষ্যমতে, টেম্পোচালক ফয়জুল হক একজন স্থূলকায় ও অনেকটা অলস প্রকৃতির মানুষ ছিলেন। তিনি ছিলেন ভূমিহীন এবং স্ত্রী-সন্তানদের নিয়ে শ্বশুরবাড়িতে অন্য একজনের দেওয়া জায়গায় ঘর করে থাকতেন। সেলিনা বর্তমানে আত্মীয়স্বজন ও প্রতিবেশীদের থেকে অর্ডার নিয়ে বিভিন্ন ধরনের খাদ্যদ্রব্য আট কিলোমিটার দূরে অবস্থিত ময়মনসিংহ থেকে এনে কোনোভাবে জীবননির্বাহ করেন। তাঁর কোনো পুঁজি নেই—অর্ডার দাতাদের থেকে অগ্রিম টাকা নিয়েই তিনি মালামাল সরবরাহ করেন। সেলিনা গত ঈদের আগে প্রথমবারের মতো সরকারি সহযোগিতা হিসেবে আট কেজি চাল পান। Read the rest of this entry »
বদিউল আলম মজুমদার | তারিখ: ১১-০১-২০১২
আমাদের মাননীয় সিইসি ও অন্য দুই কমিশনারের মেয়াদ আগামী মাসের প্রথমার্ধেই শেষ হবে। মহামান্য রাষ্ট্রপতি সবার মতামতের ভিত্তিতে যাতে পরবর্তী সিইসি এবং অন্যান্য কমিশনার নিয়োগ দেওয়া যায়, সে লক্ষ্যে রাজনৈতিক দলগুলোকে সংলাপে ডেকেছেন। এই প্রথমবারের মত এধরণের উদ্যোগ নেওয়া হলো। আমরা আনন্দিত যে প্রধান বিরোধী দল বিএনপি রাষ্ট্রপতির আহ্বানে সাড়া দিয়ে সংলাপে অংশ নিতে রাজি হয়েছে। এ উদ্যোগের জন্য রাষ্ট্রপতিকে ধন্যবাদ জানাই।
নিঃসন্দেহে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের জন্য একটি স্বাধীন ও শক্তিশালী নির্বাচন কমিশন অপরিহার্য। স্বাধীন নির্বাচন কমিশন প্রতিষ্ঠার জন্য অবশ্যই প্রয়োজন এর আর্থিক স্বাধীনতা ও স্বাধীন সচিবালয়। ইতিমধ্যে কমিশনের স্বাধীন সচিবালয় বহুলাংশে প্রতিষ্ঠিত হলেও এর আর্থিক স্বাধীনতা এখনো পুরোপুরি নিশ্চিত হয়নি। কমিশনের সব ব্যয় এখনো সংযুক্ত তহবিলের দায়যুক্ত ব্যয়ে পরিণত হয়নি। এ ছাড়া যেকোনো প্রতিষ্ঠান স্বাধীনভাবে কাজ করবে কি না, তা অনেকাংশেই নির্ভর করে যোগ্য ও স্বাধীনচেতা ব্যক্তিরা ওই প্রতিষ্ঠানে নিয়োগপ্রাপ্ত কি না। উপরন্তু কমিশনকে শক্তিশালী করার জন্যও প্রয়োজন সৎ, দক্ষ ও সাহসী ব্যক্তিদের এখানে নিয়োগ প্রদান।
রাজনৈতিক দল ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিদের সঙ্গে সংলাপকালে সৎ, যোগ্য ও নিরপেক্ষ ব্যক্তিদের নিয়োগ প্রদানের লক্ষ্যে কমিশন গত বছর একটি অনুসন্ধান কমিটি গঠনের প্রস্তাব করে। বিএনপি সেই সংলাপে অংশগ্রহণ করেনি। ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ অংশ নিলেও প্রস্তাবটির প্রতি ভ্রুক্ষেপ করেনি। রাষ্ট্রপতির সঙ্গে বর্তমান সংলাপে অংশগ্রহণকারী কিছু দল একই প্রস্তাব উত্থাপন করেছে। Read the rest of this entry »
Badiul Alam Majumdar
The president has initiated a dialogue with political parties to ensure that the appointments of the next batch of election commissioners are acceptable to all concerned. We are pleased that the opposition BNP has decided to join the dialogue. We thank the president for the initiative.
Some political parties recommended the formation of a search committee to identify eligible persons for appointment to the EC. A few months ago the EC also made a similar proposal, to which the ruling Awami League paid no heed. Our experience shows that partisan individuals often get appointed to constitutional and statutory bodies despite the use of search committees.
Past experiences also show that search committees sometimes recommend undesirable persons for appointment. For example, the search committee for filling the vacancies in the Human Rights Commission recommended the appointment of a university professor accused of sexual harassment of students — a story which was well-known because of published newspaper stories about the accusation. To the embarrassment of all concerned, the person, after appointment, had to be removed in a hurry following a public outcry. Thus, forming a search committee is not sufficient for appointment of right persons to the right positions, although it is necessary.
The search committee for picking election commissioners, we recommend, should also have representation from citizen groups. For, there are accusations of partisan leaning against many present heads of constitutional and statutory bodies. Read the rest of this entry »
বদিউল আলম মজুমদার | তারিখ: ২৫-১২-২০১১
২০১২ সালের ৫ জানুয়ারি নবগঠিত কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের প্রথম নির্বাচন। এই নির্বাচনে মেয়র পদে নয়জন, সাধারণ আসন থেকে কাউন্সিলর পদে ২১৭ জন এবং সংরক্ষিত আসনে কাউন্সিলর পদে ৬৯ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। আইনগতভাবে সব প্রার্থীকেই তাঁদের মনোনয়নপত্রের সঙ্গে হলফনামার মাধ্যমে সাত ধরনের তথ্য—তাঁদের শিক্ষাগত যোগ্যতা, পেশা, আয়ের উৎস, মামলার বিবরণী, নিজের এবং নির্ভরশীলদের সম্পদের বিবরণী ও দায়দেনার তথ্য ইত্যাদি—মনোনয়নপত্রের সঙ্গে জমা দিতে হয়েছে। একই সঙ্গে জমা দিতে হয়েছে আয়করদাতা হলে আয়করের বিবরণী। এসব তথ্য বিশ্লেষণ করলে জানা যায়, আসন্ন কুমিল্লা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে কারা প্রার্থী হলেন এবং কী তাঁদের ব্যাকগ্রাউন্ড। উল্লেখ্য, ‘সুজন-সুশাসনের জন্য নাগরিক’ এবং কতিপয় নাগরিকের উদ্যোগে বহু লড়াই-সংগ্রাম ও উচ্চ আদালতে আবু সাফা গংদের জালিয়াতি প্রতিহতের পর প্রার্থীদের এসব তথ্য প্রদানের আইনগত বাধ্যবাধকতা সৃষ্টি হয়েছে।
প্রার্থীদের হলফনামায় প্রদত্ত তথ্যের বিশ্লেষণ থেকে দেখা যায় যে মেয়র পদে চূড়ান্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী নয়জন প্রার্থীর পাঁচজনই (৫৫ শতাংশ) স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রির অধিকারী। বাকি চারজন এইচএসসি ও তার নিচে। মূল প্রার্থীদের মধ্যে আফজল খান বিএ, এলএলবি; মনিরুল ইসলাম এসএসসি; এয়ার আহমেদ সেলিম অষ্টম শ্রেণী পাস; নূর-উর রহমান মাহমুদ তানিম বিএসএস; এবং আনিসুর রহমান মিঠু বিএ, এলএলবি।
সাধারণ আসনের কাউন্সিলর পদে ২১৭ জন প্রতিদ্বন্দ্বীর মধ্যে এসএসসির নিচে ৯৯ জন (৪৫.৬২ শতাংশ), স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রিধারী ৫০ জন (২৩.০৪ শতাংশ)। বাকিদের মধ্যে এসএসসি ২৮ জন (১২.৯০ শতাংশ), এইচএসসি ৩৯ জন (১৭.৯৭ শতাংশ) এবং একজনের শিক্ষাগত যোগ্যতা উল্লেখ নেই। সংরক্ষিত নারী আসনের কাউন্সিলর প্রার্থী ৬৯ জনের মধ্যে ২৪ জনের (৩৪.৭৮ শতাংশ) শিক্ষাগত যোগ্যতা এসএসসির নিচে, এসএসসি নয়জন (১৩.০৪ শতাংশ), এইচএসসি ১৬ জন (২৩.১৮ শতাংশ), স্নাতক ১৫ জন (২১.৭৩ শতাংশ) এবং পাঁচজন (৭.২৪ শতাংশ) স্নাতকোত্তর। অর্থাৎ সাধারণ ও সংরক্ষিত কাউন্সিলর প্রার্থীদের বড় অংশেরই শিক্ষাগত যোগ্যতা এসএসসি বা তার নিচে এবং তাঁদের অধিকাংশই অষ্টম-নবম শ্রেণী পাস। Read the rest of this entry »
বদিউল আলম মজুমদার | তারিখ: ১৯-১২-২০১১
গত ১৫ ডিসেম্বর রাতে, বিজয় দিবসের প্রাক্কালে, স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় একটি প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে ৬১টি জেলায় দলীয় ব্যক্তিদের নিয়ে জেলা প্রশাসক নিয়োগ প্রদান করেছে। নিয়োগপ্রাপ্তদের প্রত্যেকেই ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ বা সহযোগী সংগঠনের নেতা। কেউ কেউ এই নিয়োগকে বিজয় দিবসের উপহার বলে আখ্যায়িত করেছেন। নিঃসন্দেহে নিয়োগপ্রাপ্তদের জন্য এটি একটি উপহার, কিন্তু আমাদের আশঙ্কা যে জাতির জন্য এটি একটি দুঃসংবাদ।
জেলা পরিষদ আইন ২০০০-এর ৮২(১) ধারার অধীনে জেলা পরিষদে প্রশাসক নিয়োগ প্রদান করা হয়েছে। আইনের এই বিধানকে অত্যন্ত ‘গর্হিত’ বলে আখ্যায়িত করে আমাদের বর্তমান মাননীয় অর্থমন্ত্রী তাঁর ২০০২ সালের জেলায় জেলায় সরকার গ্রন্থে লেখেন: ‘সরকার নির্বাচন অনুষ্ঠান না করেই নিজেদের মনোনীত ব্যক্তিকে দিয়ে জেলা সরকার গঠন করতে পারে। এ ধরনের স্বেচ্ছাচারিতা বা (সম্ভবত দলীয় প্রীতি) কোনো সুযোগ একটি গণতান্ত্রিক প্রতিনিধিত্বশীল প্রতিষ্ঠানে থাকা নিতান্তই লজ্জা ও ক্ষোভের বিষয়।’
দুর্ভাগ্যবশত প্রশাসক নিয়োগের এই সিদ্ধান্ত শুধু গর্হিত ও স্বেচ্ছাচারিতামূলকই নয়, এটি আমাদের সংবিধানের নগ্ন লঙ্ঘনও। একই সঙ্গে এটি আমাদের উচ্চ আদালতের সিদ্ধান্তেরও পরিপন্থী। এ ছাড়া এর মাধ্যমে জেলা পর্যায়ে একটি চরম দ্বন্দ্বাত্মক পরিস্থিতির সৃষ্টি করবে বলে আমাদের আশঙ্কা। আর যেখানে দ্বন্দ্ব ও হানাহানি, সেখানে ইতিবাচক ও গঠনমূলক কিছু হয় না।
আমাদের সংবিধানের ৫৯(১) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, ‘আইনানুযায়ী নির্বাচিত ব্যক্তিদের সমন্বয়ে গঠিত প্রতিষ্ঠানের উপর প্রজাতন্ত্রের প্রত্যেক প্রশাসনিক একাংশের স্থানীয় শাসনের ভার প্রদান করা হইবে।’ অর্থাৎ সাংবিধানিক নির্দেশনা অনুসারে নির্বাচিত জেলা পরিষদ জেলায়, নির্বাচিত উপজেলা পরিষদ উপজেলায়, নির্বাচিত ইউনিয়ন পরিষদ ইউনিয়নে, নির্বাচিত সিটি করপোরেশন সিটিতে এবং নির্বাচিত পৌর পরিষদ পৌরসভায় শাসনকার্য পরিচালনা করবে। অনির্বাচিত ব্যক্তি বা প্রশাসকের কোনোরূপ ভূমিকা পালনের সুযোগ সংবিধানে রাখা হয়নি। তাই জেলা পরিষদ বা অন্য কোনো স্থানীয় সরকার আইনে অনির্বাচিত প্রশাসক নিয়োগ করার বিধান সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। আর এই অসাংবিধানিক বিধানের অধীনে প্রশাসক নিয়োগ প্রদানও অসাংবিধানিক হতে বাধ্য। Read the rest of this entry »
বদিউল আলম মজুমদার
শুধু প্রগতিশীল চিন্তা লালনকারীই নয়, মঞ্জু ছিলেন অত্যন্ত নম্র, ভদ্র ও বিনয়ী। একজন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ রাজনীতিবিদের সন্তান হওয়া সত্ত্বেও মঞ্জুকে আমি কোনোদিন ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ করতে দেখিনি। বস্তুত তিনি যে বিখ্যাত আজিজ মিঞার ছেলে অতি ঘনিষ্ঠরা ছাড়া কেউ তা জানতও না। এক কথায়, মঞ্জু একজন অতি সহজ-সরল ও নিরীহ প্রকৃতির মানুষ ছিলেন।
গত ২৫ অক্টোবর আমার বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের অতি ঘনিষ্ঠ নূরুদ্দিন জাহিদ মঞ্জু পরলোকগমন করেন। দীর্ঘদিন রোগভোগের পর তিনি আমাদের ছেড়ে চলে গেছেন। আমি তখন দেশের বাইরে এবং সেখান থেকেই আমি তার অকালমৃত্যুর কথা সংবাদপত্রে পড়ে অত্যন্ত দুঃখভারাক্রান্ত হয়েছি। মৃত্যুকালে মঞ্জুর বয়স হয়েছিল প্রায় ৬৪ বছর। তবুও আমি তার মৃত্যুকে অকালমৃত্যু বলছি। কারণ চিকিৎসা বিজ্ঞানের উৎকর্ষের ফলে ৬০-৬৫ বছর বয়স্ক ব্যক্তিকে এখন আর বৃদ্ধ বলে মনে করা হয় না। মানুষের গড় আয়ু এখন অনেক বেড়েছে, এমনকি বাংলাদেশেও। যেমন, গত তিন দশকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ৯০ বা তার বেশি বয়সের জনসংখ্যা বেড়েছে প্রায় তিনগুণ।
এ ছাড়াও ৫০-৬০ বছর বয়সেই মানুষের গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখার শ্রেষ্ঠ সময়। লেখাপড়া শেখা, জীবন-জীবিকার সন্ধান এবং পারিবারিক দায়দায়িত্ব পালনের পর ষাটের দিকেই মানুষের সত্যিকারের নতুন জীবন শুরু হয়। সঞ্চিত অভিজ্ঞতা ও প্রজ্ঞা কাজে লাগিয়ে তখনই সমাজের জন্য মানুষের অবদান রাখার সর্বশ্রেষ্ঠ সময়। আমাদের দুর্ভাগ্য যে, দীর্ঘদিন অসুস্থ থাকার পর জীবনের এমন গুরুত্বপূর্ণ সময়ে মঞ্জু আমাদের থেকে চিরবিদায় নেন।
ষাটের দশকের মাঝামাঝি সময়ে মঞ্জুর সঙ্গে আমার প্রথম পরিচয়। আমি তখন বাণিজ্য বিভাগে অনার্সের ছাত্র। তখনও বাণিজ্য অনুষদ সৃষ্টি হয়নি। মঞ্জু আমার এক বছরের জুনিয়র ছিলেন, তবুও আমাদের মধ্যে সখ্য গড়ে ওঠে। কিন্তু পাস করার পর লেকচারার হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগদানের কারণে আমি তার শিক্ষক হয়ে যাই। বিশ্ববিদ্যালয়ে এমন ঘটনা সচরাচরই ঘটে। আমার মনে আছে, মঞ্জুসহ একদল ছাত্রকে, বাণিজ্য বিভাগে তখন ছাত্রী ছিল না, আমি শিক্ষা সফরে খুলনা নিয়ে গিয়েছিলাম। সে সময়ও শিক্ষক-ছাত্রের সঙ্গত দূরত্ব রেখেই আমাদের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক অব্যাহত থাকে। Read the rest of this entry »
ঢাকাকে ভাগ করবেন না
বদিউল আলম মজুমদার | তারিখ: ২৮-১১-২০১১
গত ২৩ নভেম্বর সরকার স্থানীয় সরকার (সিটি করপোরেশন) আইন, ২০০৯-এর সংশোধনকল্পে জাতীয় সংসদে বিল উত্থাপন করেছে। বিলটির উদ্দেশ্য মূলত ঢাকা মহানগরকে ঢাকা উত্তর ও ঢাকা দক্ষিণে বিভক্ত করে দুজন উপযুক্ত ব্যক্তি বা সরকারি কর্মকর্তাকে প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ প্রদান করা। প্রধান বিরোধী দল সরকারের এ সিদ্ধান্তের বিরোধী। ঢাকা সিটি করপোরেশনের মেয়র, কাউন্সিলর এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এর বিরোধিতা করছেন। এমনকি নাগরিক সমাজও এর বিরুদ্ধে সোচ্চার। সংবাদপত্রের অনলাইন জরিপ ও নাগরিকদের সঙ্গে আমাদের ব্যক্তিগত আলাপ-আলোচনা থেকে মনে হয়, যেন তারা কেউ এই উদ্যোগকে সমর্থন করছে না। তবু ঢাকা মহানগরকে বিভক্ত করতে সরকার যেন বদ্ধপরিকর।
ঢাকা মহানগরকে বিভক্ত করার সিদ্ধান্তের সমর্থনে সরকারের পক্ষ থেকে বিচ্ছিন্ন-বিক্ষিপ্তভাবে কয়েকটি যুক্তি দেওয়া হচ্ছে। বলা হচ্ছে, জনসংখ্যার চাপ ও দুর্নীতির কারণে এ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে। এর মাধ্যমে করপোরেশনের সেবার পরিমাণ ও মান বৃদ্ধি পাবে। এ যুক্তিগুলো একটু গভীরভাবে খতিয়ে দেখা দরকার।
জনসংখ্যার চাপের বিষয়ে আসা যাক। ঢাকা শহরের ওপর জনসংখ্যার চাপ বাড়ছে। আর এর ফলেই ঢাকা শহর মহানগরে পরিণত হয়েছে। জনগণের ঢাকামুখী হওয়ার দুটি কারণ। প্রথমত, আমাদের কেন্দ্রীভূত শাসনব্যবস্থা। কেন্দ্র তথা ঢাকা থেকেই সবকিছু পরিচালিত ও নিয়ন্ত্রিত হয়। কেন্দ্রীয় সরকারের প্রায় সব অফিস-আদালতই ঢাকায় অবস্থিত। তাই সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরাট অংশকেই ঢাকায় বসবাস করতে হয়। এ ছাড়া মানসম্মত শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ইত্যাদির পর্যাপ্ত সুযোগ না থাকায় যেসব কর্মকর্তা ঢাকার বাইরে কর্মরত, তাঁদের পরিবার পরিজনও ঢাকায় বসবাস করে। দ্বিতীয়ত, পল্লি অঞ্চলে কর্মসংস্থানের সুযোগ সীমিত, তাই জীবন-জীবিকার সন্ধানেও মানুষকে ঢাকামুখী হতে হয়। Read the rest of this entry »
| S | S | M | T | W | T | F |
|---|---|---|---|---|---|---|
| « Jan | ||||||
| 1 | 2 | 3 | ||||
| 4 | 5 | 6 | 7 | 8 | 9 | 10 |
| 11 | 12 | 13 | 14 | 15 | 16 | 17 |
| 18 | 19 | 20 | 21 | 22 | 23 | 24 |
| 25 | 26 | 27 | 28 | 29 | ||