<?xml version="1.0" encoding="UTF-8"?>
<rss version="2.0"
	xmlns:content="http://purl.org/rss/1.0/modules/content/"
	xmlns:wfw="http://wellformedweb.org/CommentAPI/"
	xmlns:dc="http://purl.org/dc/elements/1.1/"
	xmlns:atom="http://www.w3.org/2005/Atom"
	xmlns:sy="http://purl.org/rss/1.0/modules/syndication/"
	xmlns:slash="http://purl.org/rss/1.0/modules/slash/"
	>

<channel>
	<title>সুজন সমাবেশ</title>
	<atom:link href="http://shujan.org/forum/?feed=rss2" rel="self" type="application/rss+xml" />
	<link>http://shujan.org/forum</link>
	<description>সুজন-এর কার্যক্রম সম্পর্কিত আলোচনা</description>
	<lastBuildDate>Tue, 15 May 2012 04:21:36 +0000</lastBuildDate>
	<language>en</language>
	<sy:updatePeriod>hourly</sy:updatePeriod>
	<sy:updateFrequency>1</sy:updateFrequency>
	<generator>http://wordpress.org/?v=3.3.1</generator>
		<item>
		<title>দুর্নীতি তদন্তে স্বচ্ছতা চাই</title>
		<link>http://shujan.org/forum/?p=2918</link>
		<comments>http://shujan.org/forum/?p=2918#comments</comments>
		<pubDate>Mon, 14 May 2012 04:18:12 +0000</pubDate>
		<dc:creator>সবুজ</dc:creator>
				<category><![CDATA[ড. বদিউল আলম মজুমদার]]></category>
		<category><![CDATA[লেখালেখি]]></category>
		<category><![CDATA[দুর্নীতি ও দুর্নীতি দমন কমিশন সংক্রান্ত]]></category>

		<guid isPermaLink="false">http://shujan.org/forum/?p=2918</guid>
		<description><![CDATA[বদিউল আলম মজুমদার দুর্নীতির অভিযোগে রেলমন্ত্রী হিসেবে সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত পদত্যাগ করেছেন এবং তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় এবং অন্যান্য প্রতিষ্ঠান কর্তৃক তদন্ত হচ্ছে বলে আমরা শুনেছি এবং এসব তদন্ত সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হবে বলে আমরা আশা করি, যদিও সে ব্যাপারে অনেক নাগরিকেরই সন্দেহ রয়েছে। তবে তিনি এখন দফতরবিহীন মন্ত্রী। যেহেতু সাংবিধানিকভাবে মন্ত্রিসভা সংসদের কাছে দায়বদ্ধ, তাই বর্তমান [...]]]></description>
			<content:encoded><![CDATA[<p><a href="http://www.samakal.com.bd/details.php?news=20&amp;action=main&amp;menu_type=&amp;option=single&amp;news_id=259087&amp;pub_no=1052&amp;type="><img alt="" class="alignleft size-full wp-image-2895" src="http://shujan.org/forum/wp-content/uploads/main_logo.jpg" style="width: 120px; height: 40px;" title="main_logo" /></a></p>
<p>বদিউল আলম মজুমদার</p>
<p>	দুর্নীতির অভিযোগে রেলমন্ত্রী হিসেবে সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত পদত্যাগ করেছেন এবং তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় এবং অন্যান্য প্রতিষ্ঠান কর্তৃক তদন্ত হচ্ছে বলে আমরা শুনেছি এবং এসব তদন্ত সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হবে বলে আমরা আশা করি, যদিও সে ব্যাপারে অনেক নাগরিকেরই সন্দেহ রয়েছে। তবে তিনি এখন দফতরবিহীন মন্ত্রী। যেহেতু সাংবিধানিকভাবে মন্ত্রিসভা সংসদের কাছে দায়বদ্ধ, তাই বর্তমান পদে তার জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার জন্য সংবিধানের ৫৫ অনুচ্ছেদের অধীনে সংসদের পক্ষ থেকে তার বিরুদ্ধে তদন্ত হওয়া উচিত বলে আমরা মনে করি।</p>
<p>	প্রবীণ আইনজীবী ব্যারিস্টার রফিক-উল হকের মতে, সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের অর্থ কেলেঙ্কারির বিষয় ধামাচাপা দিতে বিএনপি নেতা ইলিয়াস আলী নিখোঁজের ইস্যুটি সৃষ্টি করা হয়েছে। শুধু ব্যারিস্টার হকই নন, বাংলাদেশের অনেক নাগরিকও তা বিশ্বাস করেন। উদাহরণস্বরূপ, গত ২৩ এপ্রিল ২০১২ তারিখের প্রথম আলোর অনলাইন জরিপে অংশগ্রহণকারী ১১ হাজার ২৮৪ জন উত্তরদাতার মধ্যে ৮০ শতাংশই ব্যারিস্টার হকের মতামতের প্রতি সমর্থন প্রদান করেন। একই ইস্যুতে যুগান্তরের একই দিনের অনলাইন জরিপে ৭৪ শতাংশ উত্তরদাতা একই মতামত ব্যক্ত করেন। </p>
<p>	আমরা জানি না, ইলিয়াস আলী নিখোঁজের পেছনে সরকারের কোনো হাত রয়েছে কি-না এবং সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার জন্য সরকার তা করেছে কি-না। যদিও তা ভাবতেই কষ্ট হয়, তবে সংবাদপত্রের অনলাইন জরিপের ফলাফল থেকে মনে হয়, যেন দেশের অধিকাংশ সচেতন নাগরিকের কাছে সরকারের বিরুদ্ধে এ অভিযোগটি গ্রহণযোগ্যতা পেয়েছে। কারণ সত্য হোক, মিথ্যা হোক; তারা বিশ্বাস করে ফেলছে যে, জনগণের দৃষ্টি অন্যদিকে ফেরানোর লক্ষ্যেই সরকার তা করেছে। কিন্তু সুরঞ্জিতের বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার কোনোরূপ সুযোগ নেই। বিশেষ করে যদি একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের নাগরিক বলে আমরা আমাদের দাবি অব্যাহত রাখতে চাই।<span id="more-2918"></span> </p>
<p>	গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থার মূলকথা হলো জবাবদিহিতা_ রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা ভোগকারীদের জবাবদিহিতা। যে সরকার ব্যবস্থায় পদ্ধতিগত দায়বদ্ধতার কোনো বিধান থাকে না, তা রাজতন্ত্র বা সামন্ততন্ত্র হতে পারে; তা কোনোভাবেই গণতন্ত্র নয়। আর দায়বদ্ধতার বিধান থাকলেই হবে না, গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার কার্যকারিতার জন্য তার চর্চাও থাকতে হবে। তাই গণতন্ত্রের খাতিরে সুরঞ্জিত সেনগুপ্তকে দায়বদ্ধ করা আমাদের জন্য আজ জরুরি।<!--more--></p>
<p>	সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত আমাদের রেলমন্ত্রী ছিলেন। তার এপিএস এবং রেলের পূর্বাঞ্চলের জেনারেল ম্যানেজারের যোগসাজশে তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। তিনি &#39;সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের খাতিরে&#39; পদত্যাগ করেছেন। কিন্তু মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তাকে দফতরবিহীন মন্ত্রী করেছেন, যার সাংবিধানিক বৈধতা নিয়ে যদিও গুরুতর প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।</p>
<p>	সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত বর্তমানে রেলমন্ত্রী নন, কিন্তু এখনও মন্ত্রী। আমাদের সংবিধানের ৫৫ (৩) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, &#39;মন্ত্রিসভা যৌথভাবে সংসদের নিকট দায়ী থাকিবেন।&#39; অর্থাৎ সুরঞ্জিত বাবু মন্ত্রিপরিষদের অন্যান্য সদস্যের সঙ্গে সংসদের নিকট দায়বদ্ধ। প্রশ্ন হলো :সংসদ কি তাকে দায়বদ্ধতার কাঠগড়ায় দাঁড় করাবে? যদি তা না করে, সংসদ কি তার দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করছে বলে দাবি করা যাবে? আর সংসদীয় পদ্ধতিতে সংসদ তার দায়িত্ব পালন না করলে বা অকার্যকর হলে, গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাও অকার্যকর হতে বাধ্য। <br />
	প্রসঙ্গত, মন্ত্রিসভার অন্যান্য সদস্য কি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেছেন যে, তাদের একজন সহকর্মী দুর্নীতির অভিযোগে পদত্যাগ করেও মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন? এসব অতি সম্মানিত ব্যক্তি কি একেবারেই নৈতিকতা-বিবর্জিত হয়ে পড়েছেন? </p>
<p>	মন্ত্রিসভার সদস্য ছাড়াও সুরঞ্জিত বাবুর আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ সত্তা রয়েছে। তিনি একজন মাননীয় সংসদ সদস্য। সংসদ সদস্য হিসেবেও আমাদের সংসদীয় ব্যবস্থায় তার জন্য একটি দায়বদ্ধতার কাঠামো বিরাজমান। আমাদের সংবিধানের ৭৮ অনুচ্ছেদে নিজের &#39;কার্যপ্রণালী নিয়ন্ত্রণ, কার্যপরিচালনা ও শৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্ব&#39; সংসদের ওপর ন্যস্ত এবং সংসদে প্রদত্ত বক্তব্য সম্পর্কে সংসদ সদস্যগণকে দায়মুক্তি প্রদান করা হয়েছে। এসব নিরঙ্কুশ অধিকার ও ক্ষমতা প্রয়োগের লক্ষ্যে সংবিধানেই সংসদীয় &#39;বিশেষ-অধিকার কমিটি&#39; গঠনের বাধ্যবাধকতা সৃষ্টি করা হয়েছে (অনুচ্ছেদ ৭৬)। আর সংসদ যাতে নিজ কার্যপ্রণালি নিয়ন্ত্রণ ও শৃঙ্খলা নিশ্চিত করতে পারে, তার জন্য আমাদের সংসদ একটি &#39;জাতীয় সংসদ কার্যপ্রণালী-বিধি&#39; প্রণয়ন করেছে। </p>
<p>	বলাবাহুল্য, সংসদীয় বিশেষ অধিকার সংসদ সদস্যদের সুযোগ-সুবিধা সম্পর্কিত নয়। এগুলো সংসদ সদস্যরা যেন স্বাধীন ও নির্ভয়ে তাদের দায়িত্ব পালন করতে পারেন সে লক্ষ্যে সাধারণ নাগরিকদের প্রদত্ত অধিকারের থেকে অতিরিক্ত অধিকার। এসব অধিকারের কতগুলো ব্যক্তি সংসদ সদস্যের জন্য প্রযোজ্য, আবার কতগুলো পুরো সংসদের জন্য প্রাসঙ্গিক। ব্যক্তি সদস্যের বেলায় প্রযোজ্য অধিকারগুলো হলো : ক. বাকস্বাধীনতা; খ. দেওয়ানি মামলায় গ্রেফতার থেকে অব্যাহতি; গ. জুরি হিসেবে দায়িত্ব পালন থেকে অব্যাহতি; ঘ. সাক্ষী হিসেবে উপস্থিত হওয়া থেকে অব্যাহতি ইত্যাদি। এগুলো মূলত দায়মুক্তি সম্পর্কিত অধিকার, যা ব্যক্তি সংসদ সদস্যকে স্বাধীনভাবে কাজ করতে সহায়তা করে। বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের কার্যপ্রণালি-বিধির ১৭২-১৭৬ ধারায় এসব বিষয় সম্পর্কিত বিধান রয়েছে।</p>
<p>	পুরো সংসদের ক্ষেত্রে অধিকার ও ক্ষমতাগুলো হলো : ক. শৃঙ্খলা নিশ্চিত করার অধিকার। কোনো ব্যক্তিকে বিশেষ অধিকার ক্ষুণ্ন করার বা সংসদ অবমাননার জন্য শাস্তি প্রদান এ অধিকারের অন্তর্ভুক্ত। সংসদের এ ধরনের অধিকারকে শাস্তিমূলক ক্ষমতা বলা হয়; খ. সংসদের অভ্যন্তরীণ বিষয়ের ব্যবস্থাপনা ও কার্যপদ্ধতি নিয়ন্ত্রণ সম্পর্কিত ক্ষমতা; গ. সংসদ সদস্যদের উপস্থিতি ও সংসদের কার্যকারিতা নিশ্চিত করার ক্ষমতা; ঘ. তদন্ত করার, সাক্ষী এবং রেকর্ডপত্র তলব করার ক্ষমতা। আমাদের জাতীয় সংসদের কার্যপ্রণালি-বিধির ২০১-২০৩ ধারায় এ সম্পর্কিত বিধান রয়েছে; ঙ. সাক্ষীদের শপথ প্রদানের ক্ষমতা। আমাদের কার্যপ্রণালি-বিধির ২০৪-২০৫ ধারা এ বিষয়ে প্রাসঙ্গিক; চ. অন্যথায় মানহানিকর বিষয় প্রকাশ করার ক্ষমতা। </p>
<p>	সংসদের অধিকার ক্ষুণ্ন বা সংসদ অবমাননা হয় দু&#39;ভাবে। কোনো সাধারণ নাগরিক সংসদের তলবে সাড়া না দিলে বা কোনো দলিল-দস্তাবেজ দাখিল না করলে সংসদের প্রতি অমর্যাদা প্রদর্শন করা হয়, যা সংসদ অবমাননার শামিল। অনেকেরই স্মরণ আছে যে, ২০০৯ সালে বর্তমান সংসদের &#39;সরকারি প্রতিষ্ঠান&#39; সম্পর্কিত কমিটি তৎকালীন দুদক চেয়ারম্যান জেনারেল (অব.) হাসান মশহুদ চৌধূরীকে তলব করেছিল, যদিও সে তলব হালে পানি পায়নি। কারণ দুদক হলো সে কমিটির এখতিয়ারবহির্ভূত একটি প্রতিষ্ঠান।</p>
<p>	সংসদ সদস্যদের নিজেদের অপকর্মের কারণেও সংসদ অবমাননা হয়। এসব সম্মানিত ব্যক্তির অসদাচারণ, সন্ত্রাস ও দুর্নীতিমূলক কার্যক্রম জনগণের দৃষ্টিতে সংসদকে হেয় প্রতিপন্ন করে। যার ফলে সংসদকে অবমাননা করা হয়। প্রসঙ্গত, অনেক পাঠকেরই মনে থাকার কথা যে, নবম সংসদের প্রথম অধিবেশনে মাননীয় সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট ফজলে রাবি্ব মিয়ার নেতৃত্বে সাবেক স্পিকার ব্যারিস্টার জমিরউদ্দিন সরকার ও সাবেক চিফ হুইপ প্রয়াত খোন্দকার দেলোয়ার হোসেনের বিরুদ্ধে আনীত দুর্নীতির অভিযোগ তদন্তে একটি বিশেষ সংসদীয় কমিটি গঠন করা হয়। কমিটি তাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির প্রমাণ পায় এবং সংসদ অবমাননার দায়ে ব্যারিস্টার জমিরউদ্দিন সরকারকে_ খোন্দকার দেলোয়ার হোসেন বতর্মান সংসদের সদস্য ছিলেন না_ সংসদ থেকে বহিষ্কারের প্রস্তাবও সংসদে উত্থাপন করা হয়। দুর্ভাগ্যবশত, সংসদ তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিয়ে বিষয়টি দুদকে প্রেরণের সিদ্ধান্ত নেয়, তিন বছর পরও যার কোনো সুরাহা হয়নি। </p>
<p>	ব্যারিস্টার জমিরউদ্দিন সরকারের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ না করার পেছনে মূলত দুটি অজুহাত দেখানো হয়েছিল। প্রথমত, সংসদ ও সংসদ সদস্যদের বিশেষ অধিকার সম্পর্কে আমাদের কোনো আইন নেই। দ্বিতীয়ত, সংসদ থেকে বহিষ্কারের কোনো নজির আমাদের দেশে নেই।</p>
<p>	সংসদ ও সংসদ সদস্যদের বিশেষ অধিকার সম্পর্কে আমাদের কোনো আইন নেই_ এ দাবি আংশিক সত্য। আমাদের সংবিধানের ৭৮ অনুচ্ছেদে বিশেষ অধিকার ও দায়মুক্তি সম্পর্কে একটি আইন প্রণয়ন করার কথা বলা আছে, যে আইন সঙ্গত কারণেই সংসদ সদস্যদের নিজেদের স্বার্থেই স্বাধীনতার ৪১ বছর পরও প্রণয়ন করা হয়নি। তবে কার্যপ্রণালি-বিধিও সংসদ অনুমোদিত একটি আইন, যেখানে বিশেষ অধিকার সম্পর্কিত বিধান রয়েছে, যা ব্যারিস্টার জমিরউদ্দিন সরকারের ক্ষেত্রে প্রয়োগ করা যেত। <br />
	এ ছাড়া গণতান্ত্রিক রীতিনীতি অনুযায়ী, সুনির্দিষ্ট কোনো আইন না থাকলেও সংসদ তার নিজ কার্যপরিধি নিয়ন্ত্রণ এবং শৃঙ্খলা নিশ্চিত করার অধিকার রাখে, যে অধিকার সব দেশেই রুটিনভাবে ব্যবহার করা হয়। বস্তুত এটি সংসদের &#39;ইনহারেন্ট&#39; বা অন্তর্নিহিত ক্ষমতা। উপরন্তু আমাদের সংবিধানে আরও বিধান রয়েছে, যেখানে আইন প্রণয়নের কথা বলা আছে। যেমন, ১১৮ অনুচ্ছেদে নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ _ যে বিষয়ে অদ্যাবধি কোনো আইন প্রণয়ন করা হয়নি। যদিও তা নিয়মিতভাবে প্রয়োগ করা হচ্ছে। <br />
	প্রসঙ্গত, প্রতিবেশী ভারতেও বিশেষ অধিকার সম্পর্কিত কোনো আইন নেই, কিন্তু অপকর্মের জন্য এ পর্যন্ত সেখানকার বহু লোকসভা ও রাজ্যসভার সদস্যকে বহিষ্কার করা হয়েছে। যেমন, ২০০৫ সালে ভারতে ১১ জন সদস্যকে একসঙ্গে বহিষ্কার করা হয়। ব্রিটিশ পার্লামেন্টেও অতীতে এ ক্ষমতা বহুবার ব্যবহার করা হয়েছে। </p>
<p>	আর কোটারি স্বার্থে নিজেদের সহকর্মীদের শাস্তি দেওয়া হয় না বলেই এমন নজির আমাদের দেশে এখনও সৃষ্টি হয়নি। এ ছাড়াও নজিরের কারণে নয়, প্রয়োজনের তাগিদেই শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। অতীতে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি বলেই আমাদের অনেক সংসদ সদস্য বর্তমানে অনেক অপকর্মের সঙ্গে জড়িত, যা আমাদের সংসদকে একটি অকার্যকর প্রতিষ্ঠানে পরিণত করতে সহায়তা করছে।</p>
<p>	পরিশেষে, যদি সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের বিরুদ্ধে আনীত দুর্নীতির অভিযোগটি ধামাচাপা দেওয়ার জন্য ইলিয়াস আলী নিখোঁজের ন্যক্কারজনক ঘটনাটি সরকার ঘটিয়েও থাকে, তবুও সুরঞ্জিতের বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার কোনো অবকাশ নেই। বিশেষ করে যদি গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা এবং তা আমাদের দেশে কার্যকর করার প্রতি আমরা অঙ্গীকারবদ্ধ হয়ে থাকি। দুর্নীতির অভিযোগে রেলমন্ত্রী হিসেবে সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত পদত্যাগ করেছেন এবং তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় এবং অন্যান্য প্রতিষ্ঠান কর্তৃক তদন্ত হচ্ছে বলে আমরা শুনেছি এবং এসব তদন্ত সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হবে বলে আমরা আশা করি, যদিও সে ব্যাপারে অনেক নাগরিকেরই সন্দেহ রয়েছে। তবে তিনি এখন দফতরবিহীন মন্ত্রী। যেহেতু সাংবিধানিকভাবে মন্ত্রিসভা সংসদের কাছে দায়বদ্ধ, তাই বর্তমান পদে তার জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার জন্য সংবিধানের ৫৫ অনুচ্ছেদের অধীনে সংসদের পক্ষ থেকে তার বিরুদ্ধে তদন্ত হওয়া উচিত বলে আমরা মনে করি। উপরন্তু দুর্নীতিমূলক কার্যক্রমের মাধ্যমে সংসদ অবমাননার অভিযোগে সংসদ সদস্য হিসেবে তার বিরুদ্ধে সংসদীয় বিশেষ অধিকার কমিটিরও তদন্ত শুরু করা জরুরি। বস্তুত সুরঞ্জিত সেনগুপ্তকে দায়বদ্ধ করার মাধ্যমেই আমাদের সংসদীয় পদ্ধতির কার্যকারিতা প্রদর্শিত হতে পারে।</p>
<p>	ড. বদিউল আলম মজুমদার :সম্পাদক সুজন-সুশাসনের জন্য নাগরিক </p>
<p>সূত্র: সমকাল, ১৪ মে ২০১২</p>
]]></content:encoded>
			<wfw:commentRss>http://shujan.org/forum/?feed=rss2&#038;p=2918</wfw:commentRss>
		<slash:comments>0</slash:comments>
		</item>
		<item>
		<title>নির্বাচন কমিশনের জন্য অগ্নিপরীক্ষা</title>
		<link>http://shujan.org/forum/?p=2916</link>
		<comments>http://shujan.org/forum/?p=2916#comments</comments>
		<pubDate>Thu, 10 May 2012 04:28:12 +0000</pubDate>
		<dc:creator>সবুজ</dc:creator>
				<category><![CDATA[ড. বদিউল আলম মজুমদার]]></category>
		<category><![CDATA[লেখালেখি]]></category>
		<category><![CDATA[নির্বাচন সংক্রান্ত]]></category>

		<guid isPermaLink="false">http://shujan.org/forum/?p=2916</guid>
		<description><![CDATA[বদিউল আলম মজুমদার &#124; তারিখ: ১০-০৫-২০১২ সম্প্রতি প্রথম আলোতে (২৫ এপ্রিল ২০১২) প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন অনুযায়ী জানা যায়, আমাদের একজন মাননীয় সাংসদ এনামুল হক সরকারের সঙ্গে ব্যবসায়িক সম্পর্কে লিপ্ত রয়েছেন, যার ফলে তিনি সাংসদ হওয়ার এবং সংসদ সদস্য পদে থাকার যোগ্যতা হারিয়েছেন। দুদক তদন্ত করে এ ব্যাপারে নিশ্চিত হয়েছে এবং তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য [...]]]></description>
			<content:encoded><![CDATA[<p><a href="http://www.prothom-alo.com/detail/date/2012-05-10/news/256430"><img alt="" class="alignleft size-full wp-image-2908" src="http://shujan.org/forum/wp-content/uploads/prothom-alo-logo3.jpg" style="width: 132px; height: 44px;" title="prothom-alo-logo" /></a></p>
<p>বদিউল আলম মজুমদার | তারিখ: ১০-০৫-২০১২</p>
<p>	সম্প্রতি প্রথম আলোতে (২৫ এপ্রিল ২০১২) প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন অনুযায়ী জানা যায়, আমাদের একজন মাননীয় সাংসদ এনামুল হক সরকারের সঙ্গে ব্যবসায়িক সম্পর্কে লিপ্ত রয়েছেন, যার ফলে তিনি সাংসদ হওয়ার এবং সংসদ সদস্য পদে থাকার যোগ্যতা হারিয়েছেন। দুদক তদন্ত করে এ ব্যাপারে নিশ্চিত হয়েছে এবং তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য নির্বাচন কমিশন ও জাতীয় সংসদের স্পিকারের কাছে বিষয়টি পাঠিয়েছে।</p>
<p>	এনামুল হকের বিরুদ্ধে সুস্পষ্ট অভিযোগ হলো, রাজশাহীর কাটাখালীতে ভাড়াভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের জন্য তাঁর ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান নর্দান পাওয়ার সলিউশন লিমিটেড বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হয়েছে (প্রথম আলো, ১৩ আগস্ট ২০১১)। এর আগে তাঁর মালিকানাধীন এনা প্রপার্টিজ লিমিটেড ও রাজশাহী সিটি করপোরেশনের মধ্যে রাজশাহীতে বহুতল সিটি সেন্টার নির্মাণের চুক্তি হয়েছে। কিন্তু কোনো ব্যক্তি সরকার বা সরকারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে এ ধরনের ব্যবসায়িক সম্পর্কে লিপ্ত হলে আইনত তিনি সাংসদ হওয়ার এবং সে পদে থাকার যোগ্য হবেন না।</p>
<p>	সংশোধিত গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২-এর ১২(ট) ধারা অনুযায়ী, &lsquo;কোন ব্যক্তি (সংসদ) সদস্য হবার এবং সদস্য থাকবার যোগ্য হবেন না, যদি&#8230; তিনি কোন সমবায় সমিতি এবং সরকারের সঙ্গে চুক্তি ব্যতীত, সরকারকে পণ্য সরবরাহ করিবার জন্য বা সরকার কর্তৃক গৃহীত কোন চুক্তির বাস্তবায়ন বা সেবা কার্যক্রম সম্পাদনের জন্য, তিনি তার নিজ নামে বা ট্রাস্টি হিসেবে কোন ব্যক্তি বা ব্যক্তিবর্গের নামে বা তার সুবিধার্থে বা তার উপলক্ষে বা কোন যৌথ হিন্দু পরিবারের সদস্য হিসেবে তার কোন অংশ বা স্বার্থ আছে এরূপ চুক্তিতে আবদ্ধ হয়ে থাকেন।&rsquo;</p>
<p>	আইনের এ সুস্পস্ট বিধান সম্পর্কে যোগাযোগ করলে প্রথম আলোর প্রতিবেদককে এনামুল হক বলেন, &lsquo;আমি ব্যবসায়ী। সে জন্য আমি যেকোনো ক্ষেত্রে ব্যবসা করতে পারি। তাতে আইনগত কোনো সমস্যা আছে বলে আমি মনে করি না।&rsquo; অর্থাৎ, সরকারের সঙ্গে ব্যবসা করায় তিনি দোষের কিছু দেখেন না, যা সঠিক নয়।<span id="more-2916"></span> </p>
<p>	সরকারের সঙ্গে ব্যবসায়িক সম্পর্ক থাকা দোষের কিছু নয় বলে যখন এনামুল হক দাবি করেন, তখন তিনি ভুলে যান যে তিনি আমাদের জাতীয় সংসদের&mdash;যাকে ইংরেজিতে &lsquo;হাউস অব দ্য পিপল&rsquo; বলা হয়&mdash;একজন সম্মানিত সদস্য। সারা বাংলাদেশে তাঁর মতো এমন বিরল মর্যাদার অধিকারী মাত্র ৩৫০ জন ব্যক্তি আছেন, যদিও সংরক্ষিত আসনের ৫০ জন পরোক্ষভাবে নির্বাচিত।</p>
<p>	জাতীয় সংসদের সদস্য হওয়ার জন্য অনেকগুলো যোগ্যতা থাকতে হয়। বাংলাদেশ সংবিধানের ৬৫ অনুচ্ছেদে এসব যোগ্যতার কথা বলা আছে। যেমন, কোনো ব্যক্তি অপ্রকৃতিস্থ, দেউলিয়া, বিদেশি রাষ্ট্রের নাগরিক বা প্রজাতন্ত্রের কর্মে নিযুক্ত হলে, তিনি সাংসদ হওয়ার বা এ পদে থাকার যোগ্য হবেন না। একই অযোগ্যতা প্রযোজ্য হয়, যদি তিনি নৈতিক স্খলনজনিত কোনো ফৌজদারি অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হয়ে অন্যূন দুই বছরের কারাদণ্ডে দণ্ডিত হন এবং তাঁর মুক্তিলাভের পর পাঁচ বছর অতিবাহিত না হয়ে থাকে।<br />
	সংশোধিত গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২-এ, যা জাতীয় সংসদে পাস করা একটি আইন, সাংসদ হওয়ার ও থাকার যোগ্যতা-অযোগ্যতার বিষয়টি আরও কঠোর করা হয়েছে। আইনটির ১২ ধারায় অতিরিক্ত ১৫টি যোগ্যতা-অযোগ্যতার বিধান রয়েছে, যার একটি সরকারের সঙ্গে ব্যবসা-সম্পর্কিত। এ ছাড়া আইনে ঋণ ও বিলখেলাপি ব্যক্তিকে অযোগ্য ঘোষণা করা হয়েছে।</p>
<p>	এনামুল হকের এ বিষয়টি জানার কথা। কারণ, আইনটি গত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে অধ্যাদেশ আকারে জারি করা হয়েছিল এবং তিনি এ অধ্যাদেশের অধীনে নির্বাচন করে সাংসদ হয়েছেন। শুধু তা-ই নয়, অধ্যাদেশটিকে আইনে পরিণত করার জন্য এনামুল হককে নবম জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে এটির পক্ষে ভোট দিতে হয়েছে। প্রসঙ্গত, সরকারের সঙ্গে ব্যবসায়িক সম্পর্কের কারণে অযোগ্যতার বিধানটি নতুন নয়, এটি মূল আইনে অন্তর্ভুক্ত ছিল।<br />
	এ ছাড়া এনামুল হকের সংসদ সদস্য পদে থাকার অযোগ্যতা সম্পর্কে প্রথম আলোয় অন্তত দুটি প্রতিবেদন ছাপা হয়েছে। যেমন, ২০১১ সালের ১৩ আগস্ট প্রকাশিত প্রতিবেদনটির শিরোনাম ছিল, &lsquo;আইন ভেঙে সরকারের সঙ্গে বাণিজ্য&rsquo;। এ ছাড়া আইন সম্পর্কে অজ্ঞতা আইন অমান্য করার যুক্তি হতে পারে না, বিশেষত সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি যখন একজন আইনপ্রণেতা।</p>
<p>	আইনের এ বিধানের যৌক্তিকতা হলো, স্বার্থের দ্বন্দ্ব নিরসন করা। একজন সাংসদকে অনেক জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সংসদে আলোচনা করতে, সিদ্ধান্ত নিতে এবং ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে হয়। এ দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে যাতে ব্যক্তিস্বার্থ প্রাধান্য পাওয়ার আশঙ্কা সৃষ্টি না হয়, সে লক্ষ্যেই এমন আইনি বিধান। তিনি যাতে পক্ষপাতদুষ্ট না হন এবং সংসদ সদস্য পদ ও এর ক্ষমতা কাজে লাগিয়ে ব্যক্তিগতভাবে লাভবান না হন। অর্থাৎ, আগারটা যিনি খান, গোড়ারটাও যাতে তাঁর খাওয়ার সুযোগ সৃষ্টি না হয়, সে জন্যই এ ব্যবস্থা।<br />
	আইনপ্রণেতাদের পক্ষ থেকে ব্যক্তিস্বার্থদুষ্ট আচরণ একটি গুরুতর অপরাধ এবং অনেক দেশেই এ অপরাধের জন্য কঠোর শাস্তি দেওয়া হয়। উদাহরণস্বরূপ, ভারতীয় লোকসভা থেকে যে ব্যক্তিটিকে প্রথম &lsquo;এক্সপেল&rsquo; বা বহিষ্কার করা হয়, তাঁর অপরাধ ছিল তিনি স্বার্থসংশ্লিষ্ট হয়ে পক্ষপাতদুষ্ট আচরণ করেছিলেন। এইচ জি মুডগাল নামের এই ব্যক্তি অর্থের বিনিময়ে লোকসভায় প্রশ্ন উত্থাপন করেছিলেন। এ অপরাধে পণ্ডিত জওহরলাল নেহরুর উত্থাপিত প্রস্তাবে তাঁকে ১৯৫১ সালে লোকসভা থেকে বহিষ্কার করা হয়। প্রসঙ্গত, বিতর্কিত ও দুর্নীতিমূলক আচরণের মাধ্যমে জনসম্মুখে সংসদের মর্যাদাহানি বা সংসদের অধিকার ক্ষুণ্ন করার অপরাধে&mdash;যাকে সংসদ অবমাননা বলে আখ্যায়িত করা হয়&mdash;ভারতীয় লোকসভা ও রাজ্যসভা থেকে এ পর্যন্ত বহু সদস্যকে বহিষ্কার করা হয়, আমাদের বেলায় যার কোনো দৃষ্টান্ত নেই। যেমন, ২০০৫ সালে ১১ জন ভারতীয় সাংসদকে একযোগে বহিষ্কার করা হয়।</p>
<p>	জনাব এনামুল হকের স্বার্থের দ্বন্দ্ব কীভাবে সাংসদদের প্রভাবিত, এমনকি অন্ধ করে ফেলতে পারে তা তাঁর জানার কথা। সম্প্রতি অনুষ্ঠিত সংসদের দ্বাদশ অধিবেশনের আগ পর্যন্তও তিনি গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির সদস্য ছিলেন। ওই কমিটির সদস্য হিসেবে গৃহায়ণ খাত এবং রাজউক সম্পর্কিত অনেক সিদ্ধান্তকেই তাঁর প্রভাবান্বিত করার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছিল। অনেকেরই স্মরণ আছে, গত বছরের সেই সভার কথা, যেখানে আবাসন ব্যবসায়ের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিরা গৃহায়ণ ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রীকে নাজেহাল করার চেষ্টা করেছিলেন। সাংসদ ও সংশ্লিষ্ট সংসদীয় কমিটির সদস্য হয়েও জনাব এনামুল হক সেই সভায় উপস্থিত ছিলেন নিজের ব্যবসায়িক স্বার্থে। এটিই স্বার্থের দ্বন্দ্বের দুষ্ট প্রভাব।<br />
	জনাব এনামুল হকের স্বার্থের দ্বন্দ্বের বিষয়ে আরেকটি দৃষ্টান্ত দেওয়া যেতে পারে। প্রায় দুই বছর আগে সংবাদপত্রে হেডলাইন হয়েছিল: &lsquo;রাজউক চেয়ারম্যানের কাছে ব্যাখ্যা চাইবে সংসদীয় কমিটি&rsquo; (আমাদের সময়, ৬ জুলাই ২০১০)। কমিটির মতে, সাংসদদের সম্পর্কে ধৃষ্টতামূলক বক্তব্য প্রদান ছিল রাজউক চেয়ারম্যানের &lsquo;অপরাধ&rsquo;।</p>
<p>	সংবাদপত্রের রিপোর্ট অনুযায়ী, ৩০ জুন ২০১০ তারিখে ব্লাস্ট আয়োজিত এক সভায় রাজউকের চেয়ারম্যান বলেন, পরিকল্পিত পরিবেশ ও বাসোপযোগী ঢাকা চাইলে ড্যাপ বাস্তবায়নের বিকল্প নেই। কিন্তু একটি স্বার্থান্বেষী মহল ব্যক্তিগত স্বার্থে এর বিরোধিতা করছে। তারা ড্যাপ চায় না; রাজউককেও তারা তুলে দিতে চাইছে। তাদের ইচ্ছা বাস্তবায়িত হলে কয়েক বছরের মধ্যে ঢাকাকে পরিত্যক্ত ঘোষণা করতে হবে। এই শহর কংক্রিটের স্তূপে পরিণত হবে। যেসব সাংসদ আবাসন ব্যবসার সঙ্গে জড়িত, তাঁরা সংসদে ড্যাপের বিরোধিতা করে বক্তব্য দিয়েছেন। এ অবস্থায় &lsquo;এ দেশে কে কী করবে? একজন সাংসদ গুলশান এলাকায় ছয়তলা ভবনের অনুমোদন নিয়ে ১৬ তলা করেছেন&rsquo; (প্রথম আলো, ১ জুলাই ২০১০)। নিঃসন্দেহে এগুলো ছিল ঢাকাবাসীর মনের কথা। প্রসঙ্গত, জনাব হুদার বিরুদ্ধে অভিযোগ করা গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটিতে জনাব এনামুল হকসহ একাধিক আবাসন ব্যবসায়ী সদস্য ছিলেন।</p>
<p>	উল্লেখ্য, গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটিতে আবাসন ব্যবসায়ীদের সদস্য হওয়া ছিল সংসদ কর্তৃক অনুমোদিত &lsquo;জাতীয় সংসদ কার্যপ্রণালী বিধি&rsquo;র সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। কার্যপ্রণালী বিধির ১৮৮(২) অনুযায়ী, &lsquo;এমন কোন সদস্য (সংসদীয়) কমিটিতে নিযুক্ত হইবেন না, যাহার ব্যক্তিগত, আর্থিক ও পরোক্ষ স্বার্থ কমিটিতে বিবেচিত হইতে পারে এমন বিষয়ের সহিত সংশ্লিষ্ট আছে।&rsquo;</p>
<p>	এটি সুস্পষ্ট, জনাব এনামুল হক আইনানুগভাবে সাংসদ হওয়ার এবং থাকার অযোগ্য। আমাদের সংবিধানের ৬৫(৪) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেওয়ার দায়িত্ব কমিশনের এবং অনুরূপ ক্ষেত্রে কমিশনের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত। আশা করি, কমিশন দ্রুত তাঁর সংসদ সদস্য পদ খারিজ করার উদ্যোগ নেবে। প্রসঙ্গত, জনাব হক ছাড়া আরও কিছু সদস্য আছেন, যাঁরা নামে-বেনামে সরকারের সঙ্গে ব্যবসায়ে লিপ্ত আছেন কিংবা সরকার বা সরকারি প্রতিষ্ঠানকে ফির বিনিময়ে প্রতিনিধিত্ব করছেন অথবা অন্যভাবে সাংসদ হিসেবে থাকার যোগ্যতা হারিয়েছেন। তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া কমিশনের জন্য এখন অগ্নিপরীক্ষার সমতুল্য। তবে আইনপ্রণেতাদের মধ্যে যাঁরা আইনভঙ্গকারী হয়েছেন, তাঁদের এ বেআইনি কাজ থেকে বিরত রাখার নৈতিক দায়িত্ব মাননীয় সংসদ নেতা ও মাননীয় স্পিকারও এড়াতে পারেন না।<br />
	ড. বদিউল আলম মজুমদার, সম্পাদক, সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন)।</p>
<p>সূত্র: প্রথম আলো, ১০ মে ২০১২</p>
]]></content:encoded>
			<wfw:commentRss>http://shujan.org/forum/?feed=rss2&#038;p=2916</wfw:commentRss>
		<slash:comments>0</slash:comments>
		</item>
		<item>
		<title>কলুষিত রাজনৈতিক সংস্কৃতি থেকে উত্তরণের উপায়</title>
		<link>http://shujan.org/forum/?p=2912</link>
		<comments>http://shujan.org/forum/?p=2912#comments</comments>
		<pubDate>Sat, 05 May 2012 04:54:33 +0000</pubDate>
		<dc:creator>সবুজ</dc:creator>
				<category><![CDATA[ড. বদিউল আলম মজুমদার]]></category>
		<category><![CDATA[লেখালেখি]]></category>
		<category><![CDATA[আওয়ামীলীগ-বিএনপি রাজনীতি প্রসঙ্গে]]></category>

		<guid isPermaLink="false">http://shujan.org/forum/?p=2912</guid>
		<description><![CDATA[কলুষিত রাজনৈতিক সংস্কৃতি থেকে উত্তরণের উপায় বদিউল আলম মজুমদার &#124; তারিখ: ০৫-০৫-২০১২ ব্বইয়ের গণ-আন্দোলনের সময় অনেকের মনে স্বপ্ন তৈরি হয়েছিল যে স্বৈরাচারী এরশাদের পতন জাতির জন্য একটি টার্নিং পয়েন্ট সৃষ্টি করবে। ফলে সর্বজনীন ভোটাধিকারের ভিত্তিতে একটি উদার গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা দেশে কায়েম হবে। রাজনীতি হয়ে উঠবে জনকল্যাণের অন্যতম বাহন। সমাজে ন্যায়বিচার ও সবার জন্য সমসুযোগ সৃষ্টি [...]]]></description>
			<content:encoded><![CDATA[<p><a href="http://www.prothom-alo.com/detail/date/2012-05-05/news/255108"><img alt="" class="alignleft size-full wp-image-2908" src="http://shujan.org/forum/wp-content/uploads/prothom-alo-logo3.jpg" style="width: 133px; height: 44px;" title="prothom-alo-logo" /></a></p>
<p>কলুষিত রাজনৈতিক সংস্কৃতি থেকে উত্তরণের উপায়</p>
<p>	বদিউল আলম মজুমদার | তারিখ: ০৫-০৫-২০১২</p>
<p>	ব্বইয়ের গণ-আন্দোলনের সময় অনেকের মনে স্বপ্ন তৈরি হয়েছিল যে স্বৈরাচারী এরশাদের পতন জাতির জন্য একটি টার্নিং পয়েন্ট সৃষ্টি করবে। ফলে সর্বজনীন ভোটাধিকারের ভিত্তিতে একটি উদার গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা দেশে কায়েম হবে। রাজনীতি হয়ে উঠবে জনকল্যাণের অন্যতম বাহন। সমাজে ন্যায়বিচার ও সবার জন্য সমসুযোগ সৃষ্টি হবে। দেশে সুশাসন কায়েম হবে। </p>
<p>কিন্তু অতীতের দিকে ফিরে তাকালে আজ মনে হয় যেন গত ২২ বছর জাতির জন্য ছিল দুঃস্বপ্ন। এ সময়ে গণতন্ত্রের নামে দেশে একধরনের নির্বাচিত স্বৈরতন্ত্র কায়েম হয়ে গিয়েছে। পরিবারতন্ত্র আমাদের ওপর জেঁকে বসেছে। রাজনীতি হয়ে পড়েছে কলুষিত এবং ব্যক্তি ও কোটারি স্বার্থসিদ্ধির শ্রেষ্ঠ মাধ্যম। প্রাতিষ্ঠানিক রূপ নিয়েছে দুর্নীতি-দুর্বৃত্তায়ন। সুশাসন হয়ে পড়েছে সুদূরপরাহত। বস্তুত, জনগণ আজ বিরাজমান অপরাজনীতির কাছে বহুলাংশে জিম্মি। নিঃসন্দেহে এ অবস্থা জাতির জন্য সৃষ্টি করেছে এক অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ। </p>
<p>&lsquo;রাজনীতি&rsquo; সম্পর্কে ভ্রান্ত দৃষ্টিভঙ্গিই আমাদের বিরাজমান নষ্ট রাজনীতির অন্যতম কারণ বলে আমরা মনে করি। রাজনীতি ও শঠতা যেন আমাদের দেশে আজ সমার্থক হয়ে পড়েছে। জনগণের চোখে ধুলা দেওয়া ও প্রতারণাই রাজনীতির অন্যতম উদ্দেশ্যে পরিণত হয়েছে। লক্ষণীয় যে বিএনপির নেতা ইলিয়াস আলী নিখোঁজের ব্যাপারে বক্তব্য দিতে গিয়ে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম সম্প্রতি বলেছেন, &lsquo;আমরা অনেক বিষয়ে রাজনীতি করি, কিন্তু এ ব্যাপারে তা করার কোনো সুযোগ নেই।&rsquo; (সমকাল, ২৭ এপ্রিল ২০১২)।</p>
<p>	তবে বাস্তবে ইলিয়াস আলীর রহস্যজনক নিখোঁজ হওয়ার বিষয়টি নিয়ে জনগণকে বিভ্রান্ত করার কাজটিই চলছে লাগামহীনভাবে। বিষয়টি সম্পর্কে মন্তব্য করতে গিয়ে আমাদের প্রধানমন্ত্রী দাবি করেছেন, ইলিয়াস আলীকে বিরোধী দলের নেত্রীই লুকিয়ে রেখেছেন। অপরদিকে বিরোধী দলের নেত্রী এ জন্য সরকারকেই দায়ী করেছেন। একজন প্রতিমন্ত্রী এক ধাপ এগিয়ে গিয়ে বলেছেন, ইলিয়াস আলীর স্ত্রী জানেন, কে তাঁর স্বামীকে &lsquo;খুন&rsquo; করেছে&mdash;তিনিই প্রথম গুমের পরিবর্তে ইলিয়াস আলীর খুনের কথা বলেছেন। এ ধরনের দায়িত্বহীনতার কারণেই বহুলাংশে আমাদের রাজনীতি আজ কলুষিত হয়ে পড়েছে এবং দেশে রাজনীতির নামে অপরাজনীতির সংস্কৃতি গড়ে উঠেছে।<span id="more-2912"></span> </p>
<p>সত্যিকারার্থে রাজনীতি হলো নীতি-কাঠামো প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের পদ্ধতি, যা সরকার পরিচালনার জন্য অপরিহার্য। রাজনীতির সঙ্গে ক্ষমতা ও সামাজিক সম্পর্ক অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত। রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের সঙ্গে সুসম্পর্ক স্থাপনের মাধ্যমেই সর্বোৎকৃষ্ট নীতি-কাঠামো প্রণয়ন করা যায় এবং তা বাস্তবায়ন করা সহজ হয়। তাই রাজনীতিকে অনেক সময় &lsquo;আর্ট অব কম্প্রোমাইজ&rsquo; বা সমঝোতা সৃষ্টির কৌশল বলে আখ্যায়িত করা হয়। এ কারণে রাজনীতিকে &lsquo;আর্ট অব পসিবিলিটিজ&rsquo; বা সম্ভাবনা সৃষ্টির কৌশলও বলা হয়।</p>
<p>গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায়ই সিদ্ধান্ত গৃহীত ও রাষ্ট্র পরিচালিত হয়। আর রাজনৈতিক প্রক্রিয়ার ভিত্তিই হলো পারস্পরিক আলাপ-আলোচনা, মতবিনিময় ও সমঝোতা; জেদাজেদি কিংবা সংঘাত নয়। আর এ জন্যই জাতীয় সংসদ, যেখানে নীতি-নির্ধারণী বিষয়ে বিতর্ক ও সিদ্ধান্ত গৃহীত হতে পারে&mdash;রাজপথে যা সম্ভব নয়। তাই গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে কার্যকর করতে হলে সংসদকেন্দ্রিক নিয়মতান্ত্রিক ও দায়িত্বশীল রাজনীতির কোনো বিকল্প নেই। <br />
	অন্যভাবে বলতে গেলে, যেখানে সিদ্ধান্ত গ্রহণে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের কোনো ভূমিকা থাকে না, সে সিদ্ধান্ত রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় গৃহীত হয় না। এ ধরনের চর্চা অপরাজনীতিরই সমতুল্য। এটিকে &lsquo;বিরাজনৈতিকীকরণ&rsquo; প্রক্রিয়াও বলা যায়। </p>
<p>দুর্ভাগ্যবশত, আমাদের দেশে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের সঙ্গে বৈরিতা ও হানাহানির অপরাজনীতিই নিয়মতান্ত্রিক রাজনীতির স্থান দখল করে নিয়েছে। এ কারণেই আমাদের রাজনৈতিক দলগুলো হরতালের মতো ধ্বংসাত্মক কর্মসূচির বাইরে আসতে পারে না। কারণ, নিয়মতান্ত্রিক প্রতিবাদের প্রতি ক্ষমতাসীনেরা কর্ণপাতই করেন না। </p>
<p>যদিও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার জন্য রাজনৈতিক দল অপরিহার্য, কিন্তু আমাদের দেশে যথাযথ রাজনৈতিক দল নেই বললেই চলে। আমাদের প্রধান রাজনৈতিক দলগুলো ব্যক্তি ও পারিবারিক সদস্যদের নিয়ন্ত্রণে মূলত ব্যবসায়িক &lsquo;সিন্ডিকেটের&rsquo; মতোই কাজ করে। এসব প্রতিষ্ঠান নির্বাচনের জন্য বিনিয়োগে আগ্রহী ব্যবসায়ী এবং পরিবার ও পরিবারের বাইরের ঘনিষ্ঠজনদের একত্র করে এবং নির্বাচনে জিতে ক্ষমতায় গিয়ে লুটপাটতন্ত্র প্রতিষ্ঠার সুযোগ করে দেয়। এভাবে মূল রাজনৈতিক দলগুলো রাজনীতিকে অপরাধী কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত করে ফেলেছে। </p>
<p>	এ ছাড়া আমাদের রাজনৈতিক দলগুলো জাতিকে বিভক্ত করে ফেলেছে, যদিও রাজনৈতিক দলগুলোর তাদের নীতি-আদর্শ ও কর্মসূচির মাধ্যমে সাধারণত জনগণকে ঐক্যবদ্ধ করার কথা। কিন্তু আমাদের দলগুলো &lsquo;পার্সোনালিটি কাল্ট&rsquo; তৈরি করে বিভিন্ন স্লোগান ও &lsquo;সিম্বলিজম&rsquo; বা প্রতীকের মাধ্যমে দেশে এক ভয়াবহ সংঘাতময় পরিস্থিতির উদ্ভব ঘটিয়েছে। রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে শত্রুতে পরিণত করে ফেলেছে। প্রসঙ্গত, স্বাধীনতা অর্জনকালে আমরা ছিলাম একটি একতাবদ্ধ জাতি, স্বার্থসংশ্লিষ্ট অপরাজনীতির কারণে যা আজ চরমভাবে বিভক্ত, যদিও আমাদের মধ্যে গুরুতর জাতিগত পার্থক্য ও বিভেদ নেই। বলা বাহুল্য, বিভক্ত জাতি বেশি দূর এগোতে পারে না এবং আমরাও ১৯৭১ সালে আমাদের মতো অবস্থানে থাকা দেশগুলোর (যেমন&mdash;দক্ষিণ কোরিয়া) মতো সামনে এগোতে পারিনি। </p>
<p>রাজনীতি সম্পর্কে এমন ভ্রান্ত দৃষ্টিভঙ্গির অন্যতম কারণ হলো রাজনীতিতে মেধাশূন্যতা। আর গত কয়েক দশকের তথাকথিত ছাত্ররাজনীতির নামে রাজনৈতিক দলের পক্ষ থেকে ছাত্র-ছাত্রীদের &lsquo;ব্যবহার করার&rsquo; অপসংস্কৃতির কারণেই বহুলাংশে রাজনীতিতে আজ মেধার বড় আকাল পড়েছে। অভিজ্ঞতা থেকেও তরুণ রাজনীতিবিদেরা সত্যিকারের রাজনীতি শিখতে পারেননি। কারণ, স্বাধীনতার অব্যবহিত পর থেকেই আমাদের দেশে রাজনীতি বিকৃত রূপ নিয়েছে। তাই আলাপ-আলোচনা ও সমঝোতার ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত গ্রহণের উদাহরণ আমাদের দেশে খুব কমই সৃষ্টি হয়েছে। এ ছাড়া আমাদের রাজনীতিতে &lsquo;গ্রেসামস ল&rsquo; কাজ করছে&mdash;দুর্বৃত্ত, দুর্নীতিবাজ ও কালোটাকার মালিকেরা সৎ ও সত্যিকারের রাজনীতিবিদদের মাঠছাড়া করছে। সংসদ সদস্য হিসেবে সোহেল তাজের সাম্প্রতিক পদত্যাগ যার এক উৎকৃষ্ট দৃষ্টান্ত। এ ছাড়া অবাঞ্ছিতরা মেধাবীদের রাজনীতিতে প্রবেশে একধরনের &lsquo;এন্ট্রি ব্যারিয়ার&rsquo; বা প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে।</p>
<p>রাজনীতির এমন বেহাল অবস্থার কারণে আমাদের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাও বিকৃত রূপ ধারণ করেছে। আমরা এখন নির্বাচনসর্বস্ব একধরনের &lsquo;এক দিনের গণতন্ত্র&rsquo; চর্চা করছি, যেখানে আইনের শাসন, স্বচ্ছতা-জবাবদিহি তথা সুশাসন বহুলাংশে অনপুস্থিত। ফলে আমাদের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা আজ &lsquo;ইজারাতন্ত্রে&rsquo; রূপ নিয়েছে। আর পাঁচ বছর পর পর ইজারা লাভের আশায়ই ছলে-বলে-কলে-কৌশলে নির্বাচনে জেতার জন্য রাজনৈতিক দলের আপ্রাণ চেষ্টা। এ চেষ্টার পরিণতিই নির্বাচনে টাকার খেলা ও রাজনীতিকে ব্যবসায়ে পরিণত করা, যা সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের পথে তৈরি করেছে পর্বতপ্রমাণ বাধা। </p>
<p>যদিও গণতন্ত্রের জন্য সর্বস্তরে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের শাসন প্রতিষ্ঠা করা আবশ্যক, আমাদের দেশে তা করা হয় না। সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা উপেক্ষা করে আমাদের রাজনীতিবিদেরা এমপি-মন্ত্রী হওয়ার তথা সংসদ নির্বাচনকেই প্রাধান্য দেন এবং স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে এড়িয়ে যান। এমন ব্যবস্থা শূন্যে ঝুলন্ত ফানুসতুল্য একধরনের ব্যবস্থা সৃষ্টি করে। এ ধরনের &lsquo;খুঁটিহীন&rsquo; গণতন্ত্র প্রাতিষ্ঠানিক রূপও লাভ করে না। </p>
<p>	রাজনীতিতে মেধাশূন্যতার কারণে গণতন্ত্র যে একটি &lsquo;রুল বেইজড সিস্টেম&rsquo; বা নিয়মভিত্তিক পদ্ধতি, তা আমাদের রাজনীতিবিদদের অনেকের ধারণার মধ্যেই নেই। নিয়ম ছাড়া যেমন ফুটবল-ক্রিকেট খেলা হয় না, নিয়ম-নীতি ও বিধিবিধান ছাড়া গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাও কার্যকর হয় না। সংবিধান, আইন, আদালতের নির্দেশ ইত্যাদি গণতন্ত্রকে কার্যকর করার জন্য অপরিহার্য বিধিবিধান। এ ছাড়া গণতান্ত্রিক রীতিনীতির চর্চাও কার্যকর গণতন্ত্রের জন্য অতি প্রয়োজনীয়। আর গণতান্ত্রিক রীতিনীতির চর্চা হলে দলতন্ত্র ও ফায়দাতন্ত্রেরও কোনো অবকাশ নেই। </p>
<p>এটি সুস্পষ্ট যে বিরাজমান রুগ্ণ রাজনীতির কারণে আমাদের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা আজ বহুলাংশে অকার্যকর হয়ে পড়েছে। তবু হাল ছাড়লে চলবে না। রাজনীতিকে কলুষমুক্ত এবং রাজনৈতিক দলকে স্বচ্ছ, দায়বদ্ধ ও জনকল্যাণমুখী করার প্রচেষ্টায় আমাদের সর্বশক্তি নিয়োগ করতে হবে। তাই হা-হুতাশের পরিবর্তে কলুষিত রাজনৈতিক সংস্কৃতি পরিবর্তনে নাগরিকের সক্রিয়তাই আজ জরুরি।<br />
	 বদিউল আলম মজুমদার: সম্পাদক, সুজন&mdash;সুশাসনের জন্য নাগরিক।</p>
<p>সূত্র: প্রথম আলো, ৫ মে ২০১২</p>
<p>	&nbsp;</p>
]]></content:encoded>
			<wfw:commentRss>http://shujan.org/forum/?feed=rss2&#038;p=2912</wfw:commentRss>
		<slash:comments>0</slash:comments>
		</item>
		<item>
		<title>তারুণ্যের ভবিষ্যৎ বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ</title>
		<link>http://shujan.org/forum/?p=2902</link>
		<comments>http://shujan.org/forum/?p=2902#comments</comments>
		<pubDate>Tue, 03 Apr 2012 06:57:21 +0000</pubDate>
		<dc:creator>সবুজ</dc:creator>
				<category><![CDATA[ড. বদিউল আলম মজুমদার]]></category>
		<category><![CDATA[লেখালেখি]]></category>
		<category><![CDATA[তারুণ্যের শক্তি সম্পর্কিত]]></category>

		<guid isPermaLink="false">http://shujan.org/forum/?p=2902</guid>
		<description><![CDATA[বদিউল আলম মজুমদার &#124; তারিখ: ০৩-০৪-২০১২ সম্প্রতি ঢাকার ব্রিটিশ কাউন্সিল মিলনায়তনে দুই দিনব্যাপী &#8216;অ্যাকটিভ সিটিজেন এচিভার্স সামিট&#8217; বা সফল সক্রিয় নাগরিকদের মিলনমেলা অনুষ্ঠিত হয়ে গেল। সারা দেশ থেকে প্রায় দেড় শ তরুণ, যারা বিভিন্ন ধরনের সমাজ উন্নয়নমূলক কাজের সঙ্গে জড়িত ও সফল, তারাই এ মিলনমেলায় অংশ নেয়। প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা গওহর রিজভী, ব্রিটিশ কাউন্সিলের পরিচালক রোজমেরি [...]]]></description>
			<content:encoded><![CDATA[<p><a href="http://বদিউল আলম মজুমদার | তারিখ: ০৩-০৪-২০১২  সম্প্রতি ঢাকার ব্রিটিশ কাউন্সিল মিলনায়তনে দুই দিনব্যাপী ‘অ্যাকটিভ সিটিজেন এচিভার্স সামিট’ বা সফল সক্রিয় নাগরিকদের মিলনমেলা অনুষ্ঠিত হয়ে গেল। সারা দেশ থেকে প্রায় দেড় শ তরুণ, যারা বিভিন্ন ধরনের সমাজ উন্নয়নমূলক কাজের সঙ্গে জড়িত ও সফল, তারাই এ মিলনমেলায় অংশ নেয়। প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা গওহর রিজভী, ব্রিটিশ কাউন্সিলের পরিচালক রোজমেরি আরনল্ডসহ দেশ-বিদেশের বেশ কয়েকজন বরেণ্য ব্যক্তি এতে অংশ নেন। মুহাম্মদ জাহাঙ্গীর, জেসমিন দানিশসহ আমার নিজেরও একটি অধিবেশনে তাঁদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে আলাপ-আলোচনা করার সুযোগ হয়।   আমি আলোচনা শুরু করি একটি প্রশ্নের মাধ্যমে: তরুণেরা নিজেদের গুরুত্বপূর্ণ মনে করে কি না? অনেকক্ষণ ধরে আলোচনার পর তারা এই সিদ্ধান্তে উপনীত হয় যে, তারা অতি গুরুত্বপূর্ণ। আর এ গুরুত্বের মূলত দুটি কারণ—একটি হলো তাদের সংখ্যা এবং অপরটি তাদের সমাজ উন্নয়নমূলক কার্যক্রমে সম্পৃক্ততা।  সংখ্যার দিক থেকে আসলেই বাংলাদেশে কিশোর-তরুণেরা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ২০০১ সালে বাংলাদেশের জনসংখ্যা ছিল প্রায় ১৩ কোটি ৮৭ লাখ, যা ২০১১ সালে ১৫ কোটি ৬১ লাখে এসে দাঁড়িয়েছে। বাংলাদেশের সুবর্ণজয়ন্তীতে, অর্থাৎ ২০২১ সালে এ সংখ্যা দাঁড়াবে প্রায় ১৮ কোটি ৬১ লাখ, ২০৩০ সালে ২১ কোটি ১৩ লাখ এবং ২০৫০ সালে ২৫ কোটি দুই লাখ।  ইউএস সেন্সাস ইন্টারন্যাশনালের প্রজেকশন অনুযায়ী, ২০১১ সালে বাংলাদেশে কিশোর-যুবদের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে প্রায় সাত কোটি ২২ লাখ, ২০২১ সালে আট কোটি ১৫ লাখ, ২০৩০ সালে আট কোটি ৫১ লাখ এবং ২০৫০ সালে আট কোটি ৩১ লাখ। অর্থাৎ আগামী ৪০ বছরে বাংলাদেশের জনসংখ্যায় কিশোর-যুবদের সংখ্যা ক্রমাগতভাবে বাড়তেই থাকবে, যদিও ২০৫০ সালে এ সংখ্যা কিছুটা কমবে।  তবে সংখ্যার দিক থেকে বাংলাদেশের মোট জনসংখ্যায় কিশোর-যুবদের সংখ্যা আগামী ৪০ বছরে বাড়লেও আনুপাতিক হারে তা কমবে। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ২০০১ সালে আমাদের মোট জনসংখ্যায় কিশোর-যুবদের অনুপাত ছিল প্রায় ৪৭ শতাংশ। এ অনুপাত ২০১১ সালে প্রায় ৪৫ শতাংশ, ২০২১ সালে ৪৪ শতাংশ, ২০৩০ সালে ৪০ শতাংশ ও ২০৫০ সালে ৩৪ শতাংশে এসে দাঁড়াবে। অর্থাৎ জনসংখ্যায় কিশোর-যুবদের অনুপাত কমলেও তা এক-তৃতীয়াংশের নিচে নামবে না। অন্যভাবে বলতে গেলে, আগামী কয়েক দশকে কিশোর-যুবরা আমাদের জনসংখ্যার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়েই থাকবে।  নিজেদের গুরুত্বপূর্ণ ভাবার অন্যতম কারণ হলো তাদের সমাজ উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড। সমবেত কিশোর-যুবরা মনে করে, তারা অনেক গুরুত্বপূর্ণ কাজের সঙ্গে জড়িত। বস্তুতই তারা অনেক কিছু করছে। কিশোর-যুবদের কাছে আমার আরেকটি প্রশ্ন ছিল: কী ধরনের বাংলাদেশ চায় তারা? তাদের উত্তর ছিল সুস্পষ্ট—তারা একটি ক্ষুধা-দারিদ্র্যমুক্ত, আত্মনির্ভরশীল ও আত্মমর্যাদাপূর্ণ বাংলাদেশ গড়তে চায়। আর এ লক্ষ্যে তারা ‘লোকালি এনগেজড অ্যান্ড গ্লোবালি কানেক্টেড’ হতে চায়। তারা বাংলাদেশের নাগরিক হওয়ার পাশাপাশি বিশ্ব নাগরিক হতেও অতি আগ্রহী। জাতীয়তাবাদের সংকীর্ণ স্লোগানে তারা বিশ্বাসী নয়। তারা মনে করে, যে বাংলাদেশের স্বপ্ন তারা এবং তাদের পূর্বসূরিরা বুকে লালন করে, বিশ্ব নাগরিকতার দৃষ্টিভঙ্গি তাদের সে স্বপ্নপূরণে সহায়ক হবে।  সমবেত কিশোর-যুবদের সঙ্গে আলোচনা থেকে আরেকটি অতি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় তাদের উপলব্ধিতে আসে। তা হলো, বাংলাদেশের ভবিষ্যতের সঙ্গে কিশোর-যুবরা অঙ্গাঙ্গীভাবে জড়িত। তাদের কাছে সুস্পষ্ট হয় যে ভবিষ্যতে কী ধরনের বাংলাদেশ আমরা পাব, তা তাদের দ্বারা নির্ধারিত হতে পারে কিংবা ভবিষ্যতের বাংলাদেশ দ্বারা তারা প্রভাবিত হতে পারে। অর্থাৎ তাদের সামনে আজ একটি গুরুত্বপূর্ণ চয়েস বা প্রশ্ন: তারা প্রভাব ফেলতে চায়, না প্রভাবিত হতে চায়? বস্তুত, এ প্রশ্নের উত্তরের ওপরই নির্ভর করবে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ কেমন হবে।  আজকের কিশোর-যুবদের মেধা-সৃজনশীলতার যদি পরিপূর্ণ বিকাশ না ঘটে, যদি তারা নিষ্ক্রিয় থাকে, যদি তারা জাতি গঠনে ইতিবাচক ভূমিকা না রাখে, তাহলে যে সম্ভাবনা নিয়ে বাংলাদেশের সৃষ্টি হয়েছে এবং ভবিষ্যৎ বাংলাদেশের যে স্বপ্ন তারা লালন করে, তা বাস্তবে রূপায়িত হবে না। অর্থাৎ তাদের বিরাট সংখ্যা যদি জনশক্তিতে পরিণত না হয়, তারা যদি বিপথগামী হয় এবং বিশৃঙ্খল আচরণ করে, তাহলে ভবিষ্যতের বাংলাদেশ বসবাসের অযোগ্য হয়ে পড়বে এবং জাতি হিসেবে আমরা নরকে পরিণত হব। এ অবস্থা কোনোভাবেই কাম্য নয়।  পারস্পরিক মতবিনিময় থেকে কিশোর-যুবাদের কাছে আরও সুস্পষ্ট হয় যে, তারা যদি তাদের কাঙ্ক্ষিত বাংলাদেশের নির্মাতা না হয় এবং এ কাজে নেতৃত্ব প্রদর্শন না করে, তাহলে তারা অনাকাঙ্ক্ষিত বাংলাদেশের ‘ভিকটিম’ বা শিকারে পরিণত হবে। অর্থাৎ তারা যদি নির্লিপ্ত থেকে জাতি গঠনের ক্ষেত্রে নিতান্তই নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করে, তাহলে তাদের স্বপ্নের বাংলাদেশ গড়ে উঠবে না। আর এর মাশুল তাদের নিজেদেরই গুনতে হবে।  কিশোর-তরুণদের মেধা-সৃজনশীলতার পরিপূর্ণ বিকাশের সুযোগ এবং তাদের ইতিবাচক কাজে জড়িত হওয়ার জন্য অবশ্য একটি সহায়ক পরিবেশ সৃষ্টি করে দিতে হবে। আর এর জন্য প্রয়োজন হবে নীতিনির্ধারকদের যথাযথ পদক্ষেপ। অর্থাৎ কিশোর-যুবাদের সাফল্য নিশ্চিত করার জন্য বড়দেরও রয়েছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা।  কিশোর-তরুণদের কাছে আমার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন ছিল: তারা একটি উন্নত ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ বিনির্মাণ করতে চায়, কিন্তু কী ধরনের বাংলাদেশে এখন তারা বসবাস করছে? ইউনিসেফ থেকে প্রাপ্ত অনেক তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণের পর তারা এ সিদ্ধান্তে উপনীত হয় যে, অর্থনৈতিক দিক থেকে বাংলাদেশ এখনো অনুন্নত। যেখানে ২০১০ সালে সারা বিশ্বের মাথাপিছু বার্ষিক গড় জাতীয় আয় ছিল আট হাজার ৭৯৬ মার্কিন ডলার, উন্নয়নশীল দেশগুলোর তিন হাজার ৩০৪ মার্কিন ডলার, সেখানে বাংলাদেশের মাত্র ৬৮০ ডলার। ১ দশমিক ২৫ মার্কিন ডলারের নিচে আয় করে এমন ব্যক্তির সংখ্যা ২০১০ সালে যেখানে সারা বিশ্বে ছিল ২৫ শতাংশ, উন্নয়নশীল দেশে ২৬, বাংলাদেশে তা ছিল ৫০ শতাংশ। গত ৪০ বছরে অর্থনৈতিক দিক থেকে বাংলাদেশ অনেক দূর এগোলেও বিশ্বের অন্যান্য দেশের, এমনকি উন্নয়নশীল দেশগুলোর পর্যায়ে পৌঁছাতে আমাদের আরও অনেক দূর যেতে হবে।  কিশোর-তরুণদের কাছে আরও সুস্পষ্ট হয় যে শুধু অর্থনৈতিক দিক থেকেই নয়, আরও অনেক দিক থেকেও বাংলাদেশ অনেক পেছনে পড়ে আছে। যেমন, ২০০৫-১০ সালে সারা বিশ্বে এবং উন্নয়নশীল দেশগুলোয় বয়স্ক শিক্ষার হার ছিল যেখানে যথাক্রমে ৮৪ ও ৮০ শতাংশ, সেখানে বাংলাদেশে সেই হার ছিল ৫৬ শতাংশ, অথচ আমাদের পূর্বসূরিরাই মাতৃভাষার জন্য প্রাণ দিয়েছিলেন। আর ২০০০-১০ সালে বাল্যবিবাহের হার যেখানে সারা বিশ্বে এবং উন্নয়নশীল দেশে ৩৫ শতাংশ, সেখানে বাংলাদেশে তা ছিল ৬৬ শতাংশ। ২০১০ সালে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা প্রতি ১০০ জনে সারা বিশ্বে ৭৮ ও উন্নয়নশীল দেশগুলোয় ৭০ জন হলেও বাংলাদেশে সেই সংখ্যা ছিল মাত্র চারজন। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বাংলাদেশের ভয়াবহ ঝুঁকির কথা তো কিশোর-তরুণদের জানাই।  আমাদের আলোচনা থেকে যে বিষয়টি কিশোর-তরুণদের সবচেয়ে বেশি আলোড়িত করেছে তা হলো, ক্রমাগতভাবে আমরা একটি অসম সমাজে পরিণত হয়েছি। ২০০৫ সালে জাতীয় পর্যায়ে পরিবারভিত্তিক আয় বণ্টনের হার সমাজের সর্বনিম্ন পাঁচ শতাংশের যেখানে ছিল শূন্য দশমিক ৭৭ শতাংশ, সেখানে সর্বোচ্চ ৫ শতাংশের ছিল ২৬ দশমিক ৯৩ শতাংশ। তথ্য-উপাত্ত থেকে তাদের কাছে এটি সুস্পষ্ট হয় যে এ অসমতা আমাদের ভবিষ্যৎ সামাজিক সম্প্রীতির জন্য এক বিরাট হুমকি।   ব্যাপক অংশগ্রহণমূলক আলাপ-আলোচনা শেষে সমবেত কিশোর-তরুণদের মধ্যে এই তাগিদ সৃষ্টি হয় যে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ মূলত তাদের হাতের মুঠোর মধ্যে। আগামী দিনের বাংলাদেশ কেমন হবে, তা বহুলাংশে নির্ভর করবে তাদের বর্তমান সক্রিয়তা ও নিষ্ক্রিয়তার ওপর। বস্তুত, তারুণ্যের ভবিষ্যৎই বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ। এই উপলব্ধি থেকে তারা তাদের শুরু করা গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলো বেগবান ও বিস্তৃত করার এবং অন্য কিশোর-তরুণদেরও তাদের কাফেলায় শামিল করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করে। কিশোর-তরুণদের সক্রিয় ও সোচ্চার থাকার এবং অন্যদের সম্পৃক্ত করার এ প্রত্যয় আমাকেও দারুণভাবে উদ্দীপ্ত করে। ড. বদিউল আলম মজুমদার: সম্পাদক, সুজন—সুশাসনের জন্য নাগরিক।"><img alt="" class="alignleft size-full wp-image-2908" src="http://shujan.org/forum/wp-content/uploads/prothom-alo-logo3.jpg" style="width: 132px; height: 43px;" title="prothom-alo-logo" /></a></p>
<p>বদিউল আলম মজুমদার | তারিখ: ০৩-০৪-২০১২</p>
<p>	সম্প্রতি ঢাকার ব্রিটিশ কাউন্সিল মিলনায়তনে দুই দিনব্যাপী &lsquo;অ্যাকটিভ সিটিজেন এচিভার্স সামিট&rsquo; বা সফল সক্রিয় নাগরিকদের মিলনমেলা অনুষ্ঠিত হয়ে গেল। সারা দেশ থেকে প্রায় দেড় শ তরুণ, যারা বিভিন্ন ধরনের সমাজ উন্নয়নমূলক কাজের সঙ্গে জড়িত ও সফল, তারাই এ মিলনমেলায় অংশ নেয়। প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা গওহর রিজভী, ব্রিটিশ কাউন্সিলের পরিচালক রোজমেরি আরনল্ডসহ দেশ-বিদেশের বেশ কয়েকজন বরেণ্য ব্যক্তি এতে অংশ নেন। মুহাম্মদ জাহাঙ্গীর, জেসমিন দানিশসহ আমার নিজেরও একটি অধিবেশনে তাঁদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে আলাপ-আলোচনা করার সুযোগ হয়। </p>
<p>	আমি আলোচনা শুরু করি একটি প্রশ্নের মাধ্যমে: তরুণেরা নিজেদের গুরুত্বপূর্ণ মনে করে কি না? অনেকক্ষণ ধরে আলোচনার পর তারা এই সিদ্ধান্তে উপনীত হয় যে, তারা অতি গুরুত্বপূর্ণ। আর এ গুরুত্বের মূলত দুটি কারণ&mdash;একটি হলো তাদের সংখ্যা এবং অপরটি তাদের সমাজ উন্নয়নমূলক কার্যক্রমে সম্পৃক্ততা।</p>
<p>	সংখ্যার দিক থেকে আসলেই বাংলাদেশে কিশোর-তরুণেরা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ২০০১ সালে বাংলাদেশের জনসংখ্যা ছিল প্রায় ১৩ কোটি ৮৭ লাখ, যা ২০১১ সালে ১৫ কোটি ৬১ লাখে এসে দাঁড়িয়েছে। বাংলাদেশের সুবর্ণজয়ন্তীতে, অর্থাৎ ২০২১ সালে এ সংখ্যা দাঁড়াবে প্রায় ১৮ কোটি ৬১ লাখ, ২০৩০ সালে ২১ কোটি ১৩ লাখ এবং ২০৫০ সালে ২৫ কোটি দুই লাখ।</p>
<p>	ইউএস সেন্সাস ইন্টারন্যাশনালের প্রজেকশন অনুযায়ী, ২০১১ সালে বাংলাদেশে কিশোর-যুবদের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে প্রায় সাত কোটি ২২ লাখ, ২০২১ সালে আট কোটি ১৫ লাখ, ২০৩০ সালে আট কোটি ৫১ লাখ এবং ২০৫০ সালে আট কোটি ৩১ লাখ। অর্থাৎ আগামী ৪০ বছরে বাংলাদেশের জনসংখ্যায় কিশোর-যুবদের সংখ্যা ক্রমাগতভাবে বাড়তেই থাকবে, যদিও ২০৫০ সালে এ সংখ্যা কিছুটা কমবে।<span id="more-2902"></span></p>
<p>	তবে সংখ্যার দিক থেকে বাংলাদেশের মোট জনসংখ্যায় কিশোর-যুবদের সংখ্যা আগামী ৪০ বছরে বাড়লেও আনুপাতিক হারে তা কমবে। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ২০০১ সালে আমাদের মোট জনসংখ্যায় কিশোর-যুবদের অনুপাত ছিল প্রায় ৪৭ শতাংশ। এ অনুপাত ২০১১ সালে প্রায় ৪৫ শতাংশ, ২০২১ সালে ৪৪ শতাংশ, ২০৩০ সালে ৪০ শতাংশ ও ২০৫০ সালে ৩৪ শতাংশে এসে দাঁড়াবে। অর্থাৎ জনসংখ্যায় কিশোর-যুবদের অনুপাত কমলেও তা এক-তৃতীয়াংশের নিচে নামবে না। অন্যভাবে বলতে গেলে, আগামী কয়েক দশকে কিশোর-যুবরা আমাদের জনসংখ্যার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়েই থাকবে।</p>
<p>	নিজেদের গুরুত্বপূর্ণ ভাবার অন্যতম কারণ হলো তাদের সমাজ উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড। সমবেত কিশোর-যুবরা মনে করে, তারা অনেক গুরুত্বপূর্ণ কাজের সঙ্গে জড়িত। বস্তুতই তারা অনেক কিছু করছে। কিশোর-যুবদের কাছে আমার আরেকটি প্রশ্ন ছিল: কী ধরনের বাংলাদেশ চায় তারা? তাদের উত্তর ছিল সুস্পষ্ট&mdash;তারা একটি ক্ষুধা-দারিদ্র্যমুক্ত, আত্মনির্ভরশীল ও আত্মমর্যাদাপূর্ণ বাংলাদেশ গড়তে চায়। আর এ লক্ষ্যে তারা &lsquo;লোকালি এনগেজড অ্যান্ড গ্লোবালি কানেক্টেড&rsquo; হতে চায়। তারা বাংলাদেশের নাগরিক হওয়ার পাশাপাশি বিশ্ব নাগরিক হতেও অতি আগ্রহী। জাতীয়তাবাদের সংকীর্ণ স্লোগানে তারা বিশ্বাসী নয়। তারা মনে করে, যে বাংলাদেশের স্বপ্ন তারা এবং তাদের পূর্বসূরিরা বুকে লালন করে, বিশ্ব নাগরিকতার দৃষ্টিভঙ্গি তাদের সে স্বপ্নপূরণে সহায়ক হবে।</p>
<p>	সমবেত কিশোর-যুবদের সঙ্গে আলোচনা থেকে আরেকটি অতি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় তাদের উপলব্ধিতে আসে। তা হলো, বাংলাদেশের ভবিষ্যতের সঙ্গে কিশোর-যুবরা অঙ্গাঙ্গীভাবে জড়িত। তাদের কাছে সুস্পষ্ট হয় যে ভবিষ্যতে কী ধরনের বাংলাদেশ আমরা পাব, তা তাদের দ্বারা নির্ধারিত হতে পারে কিংবা ভবিষ্যতের বাংলাদেশ দ্বারা তারা প্রভাবিত হতে পারে। অর্থাৎ তাদের সামনে আজ একটি গুরুত্বপূর্ণ চয়েস বা প্রশ্ন: তারা প্রভাব ফেলতে চায়, না প্রভাবিত হতে চায়? বস্তুত, এ প্রশ্নের উত্তরের ওপরই নির্ভর করবে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ কেমন হবে।</p>
<p>	আজকের কিশোর-যুবদের মেধা-সৃজনশীলতার যদি পরিপূর্ণ বিকাশ না ঘটে, যদি তারা নিষ্ক্রিয় থাকে, যদি তারা জাতি গঠনে ইতিবাচক ভূমিকা না রাখে, তাহলে যে সম্ভাবনা নিয়ে বাংলাদেশের সৃষ্টি হয়েছে এবং ভবিষ্যৎ বাংলাদেশের যে স্বপ্ন তারা লালন করে, তা বাস্তবে রূপায়িত হবে না। অর্থাৎ তাদের বিরাট সংখ্যা যদি জনশক্তিতে পরিণত না হয়, তারা যদি বিপথগামী হয় এবং বিশৃঙ্খল আচরণ করে, তাহলে ভবিষ্যতের বাংলাদেশ বসবাসের অযোগ্য হয়ে পড়বে এবং জাতি হিসেবে আমরা নরকে পরিণত হব। এ অবস্থা কোনোভাবেই কাম্য নয়।</p>
<p>	পারস্পরিক মতবিনিময় থেকে কিশোর-যুবাদের কাছে আরও সুস্পষ্ট হয় যে, তারা যদি তাদের কাঙ্ক্ষিত বাংলাদেশের নির্মাতা না হয় এবং এ কাজে নেতৃত্ব প্রদর্শন না করে, তাহলে তারা অনাকাঙ্ক্ষিত বাংলাদেশের &lsquo;ভিকটিম&rsquo; বা শিকারে পরিণত হবে। অর্থাৎ তারা যদি নির্লিপ্ত থেকে জাতি গঠনের ক্ষেত্রে নিতান্তই নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করে, তাহলে তাদের স্বপ্নের বাংলাদেশ গড়ে উঠবে না। আর এর মাশুল তাদের নিজেদেরই গুনতে হবে।</p>
<p>	কিশোর-তরুণদের মেধা-সৃজনশীলতার পরিপূর্ণ বিকাশের সুযোগ এবং তাদের ইতিবাচক কাজে জড়িত হওয়ার জন্য অবশ্য একটি সহায়ক পরিবেশ সৃষ্টি করে দিতে হবে। আর এর জন্য প্রয়োজন হবে নীতিনির্ধারকদের যথাযথ পদক্ষেপ। অর্থাৎ কিশোর-যুবাদের সাফল্য নিশ্চিত করার জন্য বড়দেরও রয়েছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা।</p>
<p>	কিশোর-তরুণদের কাছে আমার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন ছিল: তারা একটি উন্নত ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ বিনির্মাণ করতে চায়, কিন্তু কী ধরনের বাংলাদেশে এখন তারা বসবাস করছে? ইউনিসেফ থেকে প্রাপ্ত অনেক তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণের পর তারা এ সিদ্ধান্তে উপনীত হয় যে, অর্থনৈতিক দিক থেকে বাংলাদেশ এখনো অনুন্নত। যেখানে ২০১০ সালে সারা বিশ্বের মাথাপিছু বার্ষিক গড় জাতীয় আয় ছিল আট হাজার ৭৯৬ মার্কিন ডলার, উন্নয়নশীল দেশগুলোর তিন হাজার ৩০৪ মার্কিন ডলার, সেখানে বাংলাদেশের মাত্র ৬৮০ ডলার। ১ দশমিক ২৫ মার্কিন ডলারের নিচে আয় করে এমন ব্যক্তির সংখ্যা ২০১০ সালে যেখানে সারা বিশ্বে ছিল ২৫ শতাংশ, উন্নয়নশীল দেশে ২৬, বাংলাদেশে তা ছিল ৫০ শতাংশ। গত ৪০ বছরে অর্থনৈতিক দিক থেকে বাংলাদেশ অনেক দূর এগোলেও বিশ্বের অন্যান্য দেশের, এমনকি উন্নয়নশীল দেশগুলোর পর্যায়ে পৌঁছাতে আমাদের আরও অনেক দূর যেতে হবে।</p>
<p>	কিশোর-তরুণদের কাছে আরও সুস্পষ্ট হয় যে শুধু অর্থনৈতিক দিক থেকেই নয়, আরও অনেক দিক থেকেও বাংলাদেশ অনেক পেছনে পড়ে আছে। যেমন, ২০০৫-১০ সালে সারা বিশ্বে এবং উন্নয়নশীল দেশগুলোয় বয়স্ক শিক্ষার হার ছিল যেখানে যথাক্রমে ৮৪ ও ৮০ শতাংশ, সেখানে বাংলাদেশে সেই হার ছিল ৫৬ শতাংশ, অথচ আমাদের পূর্বসূরিরাই মাতৃভাষার জন্য প্রাণ দিয়েছিলেন। আর ২০০০-১০ সালে বাল্যবিবাহের হার যেখানে সারা বিশ্বে এবং উন্নয়নশীল দেশে ৩৫ শতাংশ, সেখানে বাংলাদেশে তা ছিল ৬৬ শতাংশ। ২০১০ সালে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা প্রতি ১০০ জনে সারা বিশ্বে ৭৮ ও উন্নয়নশীল দেশগুলোয় ৭০ জন হলেও বাংলাদেশে সেই সংখ্যা ছিল মাত্র চারজন। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বাংলাদেশের ভয়াবহ ঝুঁকির কথা তো কিশোর-তরুণদের জানাই।</p>
<p>	আমাদের আলোচনা থেকে যে বিষয়টি কিশোর-তরুণদের সবচেয়ে বেশি আলোড়িত করেছে তা হলো, ক্রমাগতভাবে আমরা একটি অসম সমাজে পরিণত হয়েছি। ২০০৫ সালে জাতীয় পর্যায়ে পরিবারভিত্তিক আয় বণ্টনের হার সমাজের সর্বনিম্ন পাঁচ শতাংশের যেখানে ছিল শূন্য দশমিক ৭৭ শতাংশ, সেখানে সর্বোচ্চ ৫ শতাংশের ছিল ২৬ দশমিক ৯৩ শতাংশ। তথ্য-উপাত্ত থেকে তাদের কাছে এটি সুস্পষ্ট হয় যে এ অসমতা আমাদের ভবিষ্যৎ সামাজিক সম্প্রীতির জন্য এক বিরাট হুমকি। </p>
<p>	ব্যাপক অংশগ্রহণমূলক আলাপ-আলোচনা শেষে সমবেত কিশোর-তরুণদের মধ্যে এই তাগিদ সৃষ্টি হয় যে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ মূলত তাদের হাতের মুঠোর মধ্যে। আগামী দিনের বাংলাদেশ কেমন হবে, তা বহুলাংশে নির্ভর করবে তাদের বর্তমান সক্রিয়তা ও নিষ্ক্রিয়তার ওপর। বস্তুত, তারুণ্যের ভবিষ্যৎই বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ। এই উপলব্ধি থেকে তারা তাদের শুরু করা গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলো বেগবান ও বিস্তৃত করার এবং অন্য কিশোর-তরুণদেরও তাদের কাফেলায় শামিল করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করে। কিশোর-তরুণদের সক্রিয় ও সোচ্চার থাকার এবং অন্যদের সম্পৃক্ত করার এ প্রত্যয় আমাকেও দারুণভাবে উদ্দীপ্ত করে।<br />
	ড. বদিউল আলম মজুমদার: সম্পাদক, সুজন&mdash;সুশাসনের জন্য নাগরিক।</p>
<p>সূত্র: প্রথম আলো, ৩ এপ্রিল ২০১২<br />
	&nbsp;</p>
]]></content:encoded>
			<wfw:commentRss>http://shujan.org/forum/?feed=rss2&#038;p=2902</wfw:commentRss>
		<slash:comments>0</slash:comments>
		</item>
		<item>
		<title>সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য সংস্কার</title>
		<link>http://shujan.org/forum/?p=2894</link>
		<comments>http://shujan.org/forum/?p=2894#comments</comments>
		<pubDate>Sun, 18 Mar 2012 06:11:34 +0000</pubDate>
		<dc:creator>সবুজ</dc:creator>
				<category><![CDATA[ড. বদিউল আলম মজুমদার]]></category>
		<category><![CDATA[লেখালেখি]]></category>
		<category><![CDATA[নির্বাচন সংক্রান্ত]]></category>

		<guid isPermaLink="false">http://shujan.org/forum/?p=2894</guid>
		<description><![CDATA[বদিউল আলম মজুমদার নির্বাচনী অপরাধের প্রায় সবগুলোরই উৎস রাজনৈতিক দল, তাদের মনোনীত প্রার্থী ও দলের নেতাকর্মীরা। দল ও দলের সঙ্গে সংশ্লিষ্টরাই মনোনয়ন বাণিজ্যে লিপ্ত হয়, টাকা দিয়ে ভোট কেনে, পেশিশক্তি ব্যবহার করে এবং আরও অনেক ধরনের অসদাচরণে লিপ্ত হয়। তাই সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের স্বার্থে রাজনৈতিক দলের ব্যাপক সংস্কার করা আবশ্যক, যা আইনে অন্তর্ভুক্ত করতে [...]]]></description>
			<content:encoded><![CDATA[<p><a href="http://www.samakal.com.bd/details.php?news=20&amp;view=archiev&amp;y=2012&amp;m=03&amp;d=18&amp;action=main&amp;menu_type=&amp;option=single&amp;news_id=244965&amp;pub_no=995&amp;type="><img alt="" class="alignleft size-full wp-image-2895" src="http://shujan.org/forum/wp-content/uploads/main_logo.jpg" style="width: 116px; height: 39px;" title="main_logo" /></a></p>
<p>বদিউল আলম মজুমদার</p>
<p>	<a href="http://shujan.org/forum/?attachment_id=2898" rel="attachment wp-att-2898"><img align="left" alt="" class="alignleft size-full wp-image-2898" height="239" hspace="5" src="http://shujan.org/forum/wp-content/uploads/image_995_244965.gif2.jpg" title="image_995_244965.gif" width="250" /></a>নির্বাচনী অপরাধের প্রায় সবগুলোরই উৎস রাজনৈতিক দল, তাদের মনোনীত প্রার্থী ও দলের নেতাকর্মীরা। দল ও দলের সঙ্গে সংশ্লিষ্টরাই মনোনয়ন বাণিজ্যে লিপ্ত হয়, টাকা দিয়ে ভোট কেনে, পেশিশক্তি ব্যবহার করে এবং আরও অনেক ধরনের অসদাচরণে লিপ্ত হয়। তাই সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের স্বার্থে রাজনৈতিক দলের ব্যাপক সংস্কার করা আবশ্যক, যা আইনে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত বিষয়টি আলোচনার মধ্যেই নেই|</p>
<p>	গণতন্ত্র আমাদের সাংবিধানিক অঙ্গীকার। বস্তুত এটি আমাদের সংবিধানের মৌলিক কাঠামোর অংশ, যার ফলে এটি সংবিধান থেকে বাদ দেওয়া সম্ভবপর নয়। আর গণতান্ত্রিক যাত্রাপথের সূচনা হয় নির্বাচনের মাধ্যমে। তবে নির্বাচন হলেই হবে না, এটি হতে হবে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ। কারণ বিতর্কিত নির্বাচন গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার জন্য চরম হুমকির সৃষ্টি করে।</p>
<p>	সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের স্বার্থে গত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে বেশ কিছু সুদূরপ্রসারী সংস্কার আইনে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। নির্বাচনী প্রক্রিয়ার সংস্কার, রাজনৈতিক দলের বাধ্যতামূলক নিবন্ধন ও সংস্কার, নির্বাচন কমিশনের স্বাধীন সচিবালয় প্রতিষ্ঠা, প্রার্থীদের সম্পর্কে ভোটারদের তথ্যপ্রাপ্তির অধিকার নিশ্চিত করা ইত্যাদি এসব সংস্কারের অংশ। এছাড়াও ছবিযুক্ত ভোটার তালিকা তৈরি এবং নির্বাচনী এলাকার সীমানা পুনর্নির্ধারণ ছিল ওই সময়কার বড় অর্জন। এসব পরিবর্তনের ফলে নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচন সুষ্ঠু ও সফল হয়েছে বলে অনেকের ধারণা। প্রসঙ্গত, &#39;সুজন-সুশাসনের জন্য নাগরিক&#39; সংস্কার ধারণাগুলো আইনের খসড়া হিসেবে নির্বাচন কমিশনকে প্রদানের পাশাপাশি এগুলো সম্পর্কে জনমত সৃষ্টি করেছে।</p>
<p>	তবে গত কয়েক বছরের অর্জনকে &#39;কনসলিডেট&#39; বা সুসংহত করতে হলে সংস্কার প্রক্রিয়া অব্যাহত রাখতে হবে। আরও অনেক সংস্কার আইনি কাঠামোর অন্তর্ভুক্ত করতে হবে এবং একইসঙ্গে এগুলো চর্চায় আনতে হবে। এ লক্ষ্যে বিদায়ী নির্বাচন কমিশন কতগুলো নতুন প্রস্তাব রেখে গেছে :<span id="more-2894"></span><br />
	১. গত জাতীয় নির্বাচনে &#39;না ভোটে&#39;র বিধান কার্যকর থাকলেও, নবম জাতীয় সংসদ আরপিও থেকে এটি বাদ দেওয়া হয়। আমরা না ভোটের বিধান আরপিওতে পুনঃসংযোজনের প্রস্তাব করছি। <br />
	২. গত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে সংশোধিত আরপিওতে নিবন্ধিত দলের তৃণমূলের কমিটিগুলোর সুপারিশের ভিত্তিতে তৈরি প্যানেল থেকে দল কর্তৃক মনোনয়নের বিধান ছিল। কিন্তু নবম সংসদ এটি রহিত করে প্যানেলটি শুধু বিবেচনায় নেওয়ার বিধান আরপিওতে অন্তর্ভুক্ত করে। এর মাধ্যমে দলের তৃণমূলের নেতাকর্মীদের সংসদ নির্বাচনে মনোনয়ন প্রভাবিত করার ক্ষমতা কেড়ে নেওয়া হয়, যদিও এ ব্যাপারে তাদের পক্ষ থেকে কোনোরূপ উচ্চবাচ্য নেই। এছাড়াও এর মাধ্যমে মনোনয়ন বাণিজ্যের সুযোগ সৃষ্টি হবে। তাই আমরা আরপিওর ৯০বি(১)(বি)(রা)-এর সংশোধন করে এ ক্ষমতা দলের সদস্যদের ফিরিয়ে দেওয়ার এবং তাদের প্রতি দলের দায়বদ্ধতা প্রতিষ্ঠার সুপারিশ করছি। আরেকটি বিকল্প প্রস্তাব_ তৃণমূলের নেতাকর্মীরাই দলের মনোনয়ন চূড়ান্ত করবে।<br />
	৩. আদালতের নির্দেশে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী প্রার্থীদের হলফনামার মাধ্যমে তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। কিন্তু প্রদত্ত তথ্য সঠিক ও বিভ্রান্তিমুক্ত হতে হবে। তাই নির্বাচন কমিশনের চুলচেরাভাবে তথ্যের সঠিকতা যাচাইয়ের লক্ষ্যে আমরা আরপিও সংশোধনের প্রস্তাব করছি।<br />
	৪. সংসদ নির্বাচনে প্রার্থীদের তথ্য প্রদানের উদ্দেশ্য হলো এগুলো ভোটারদের কাছে সময়মতো পৌঁছে দেওয়া, যাতে তারা জেনে-শুনে-বুঝে সৎ ও যোগ্য ব্যক্তিদের পক্ষে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারে। কিন্তু প্রার্থিতা প্রত্যাহারের পর চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশের দিন থেকে নির্বাচনের দিনের সময়ের ব্যবধান সর্বোচ্চ সপ্তাহ দুই। এ সীমিত সময়ের মধ্যে কয়েক হাজার প্রার্থীর তথ্য সংকলিত করে ভোটারদের কাছে যথাসময়ে পৌঁছে দেওয়া অত্যন্ত দুরূহ কাজ। তাই আমরা প্রস্তাব করছি যে, নির্বাচনী তফসিল ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে সম্ভাব্য প্রার্থীরা হলফনামা ও আয়কর রিটার্নসহ কমিশনে তাদের নির্বাচনে অংশগ্রহণের অভিপ্রায় লিখিতভাবে (ইনটেন্ড টু রান) দাখিল করবেন, যা কমিশন প্রকাশ করবে। অথবা রাজনৈতিক দলও যাদের মনোনয়নের জন্য বিবেচনা করছে, তাদের তথ্য দল প্রকাশ করতে পারে। স্বতন্ত্র প্রার্থীরা নিজেরা তা করতে পারেন। এর ফলে তথ্য যাচাই-বাছাই করার পর্যাপ্ত সময় পাওয়া যাবে। <br />
	৫. আমরা মনোনয়নপত্র, হলফনামা, নির্বাচনের সম্ভাব্য ব্যয়ের হিসাবসহ সংশ্লিষ্ট ডকুমেন্টগুলো ইলেকট্রনিক্যালি (অন-লাইনে) জমা দেওয়ার বিধান আইনে অন্তর্ভুক্ত করার সুপারিশ করছি। সুপারিশ করছি &#39;কাউন্টার অ্যাফিডেভিট&#39; বা বিরুদ্ধ হলফনামা প্রদানের বিধানটি আইনে অন্তর্ভুক্ত করার। প্রসঙ্গত, বিরুদ্ধ হলফনামা প্রদানের বিধানটি নির্বাচন কমিশনের ১৭/১১/০৮ তারিখে জারি করা পরিপত্র-৮ দ্বারা গত সংসদ নির্বাচনে কার্যকর করা হয়। এ ব্যাপারে এখন জনসচেতনতা সৃষ্টি প্রয়োজন।<br />
	৬. &#39;জাতীয় সংসদ (সংরক্ষিত মহিলা আসন) নির্বাচন আইন, ২০০৪&#39; সংশোধন করে মনোনয়নপত্রের সঙ্গে আরপিওর ১২ ধারার অন্তর্ভুক্ত অনুরূপ হলফনামা ও আয়কর রিটার্নের কপি জমা দেওয়ার বাধ্যবাধকতা সৃষ্টি করা আবশ্যক। হলফনামার ছকটিও নতুন করে তৈরির প্রয়োজনীয়তা রয়েছে বলে আমরা মনে করি।<br />
	৭. আরপিওর ১২ ধারা অনুযায়ী, ইস্তফাদানকারী বা অবসরপ্রাপ্ত সরকারি ও বেসরকারি কর্মকর্তাদের নির্বাচনে অংশগ্রহণের জন্য ইস্তফাদানের বা অবসরের পর তিন বছর অপেক্ষা, মনোনয়ন লাভের জন্য দলে যোগদানের পর তিন বছর অপেক্ষার বিধান রয়েছে। তিন বছর অপেক্ষা করার এ বিধানকে কার্যকর করতে হলে দলের পক্ষ থেকে তাদের সদস্যের তালিকা ওয়েবসাইটে প্রকাশ ও নিয়মিত আপডেট করতে হবে।<br />
	৮. বর্তমানে রাষ্ট্রপতি ও সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠান নির্বাচন কমিশনের সাংবিধানিক দায়িত্ব। আমরা স্থানীয় সরকার নির্বাচনের দায়িত্বও কমিশনের ওপর অর্পণ করার সুপারিশ করছি। <br />
	৯. রাষ্ট্রপতি ও জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং ভোটার তালিকা প্রণয়ন ও সংসদীয় এলাকার সীমানা নির্ধারণ নির্বাচন কমিশনের সাংবিধানিক দায়িত্ব (অনুচ্ছেদ-১১৯)। এর জন্য কমিশনকে স্বাধীনতা দিতে হবে, বিশেষত আর্থিক স্বাধীনতা, যাতে প্রতিষ্ঠানটিকে সরকারের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়তে না হয়। এ জন্য কমিশনের ব্যয়কে &#39;সংযুক্ত তহবিলের ওপর দায়যুক্ত ব্যয়&#39; হিসেবে গণ্য করা আবশ্যক।<br />
	১০. নির্বাচনী অপরাধের প্রায় সবগুলোরই উৎস রাজনৈতিক দল, তাদের মনোনীত প্রার্থী ও দলের নেতাকর্মীরা। দল ও দলের সঙ্গে সংশ্লিষ্টরাই মনোনয়ন বাণিজ্যে লিপ্ত হয়, টাকা দিয়ে ভোট কেনে, পেশিশক্তি ব্যবহার করে এবং আরও অনেক ধরনের অসদাচরণে লিপ্ত হয়। তাই সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের স্বার্থে রাজনৈতিক দলের ব্যাপক সংস্কার করা আবশ্যক, যা আইনে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত বিষয়টি আলোচনার মধ্যেই নেই।<br />
	১১. নির্বাচনে টাকার খেলা আমাদের রাজনীতিকে আজ লাভজনক ব্যবসায়ে পরিণত করেছে এবং আমাদের গণতন্ত্র হয়ে গেছে &#39;বেস্ট ডেমোক্র্যাসি মানি ক্যান বাই&#39;। আর আমাদের জাতীয় সংসদ পরিণত হয়েছে ব্যবসায়ীদের আখড়ায়। এ অবস্থা থেকে উত্তরণের লক্ষ্যে আইনের সংশোধনের জন্যও নির্বাচন কমিশনের উদ্যোগ জরুরি।<br />
	১২. রাজনৈতিক দলের প্রদত্ত হিসাব নির্বাচন কমিশনের পক্ষে যাচাই-বাছাই করার বিধান আরপিওতে অন্তর্ভুক্ত করার আমরা প্রস্তাব করছি। <br />
	আশা করি নির্বাচন কমিশন এসব প্রস্তাব সনি্নবেশিত করে রাজনৈতিক দল, নাগরিক সমাজ ও গণমাধ্যমের সঙ্গে যথাশীঘ্র সংলাপ শুরু করবে এবং একটি ঐকমত্যে পেঁৗছবে। আর এ ধরনের ঐকমত্যই ভবিষ্যতে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের পথ প্রশস্ত করবে বলে আমাদের বিশ্বাস।</p>
<p>	ড. বদিউল আলম মজুমদার : সম্পাদক সুজন-সুশাসনের জন্য নাগরিক </p>
<p>সূত্র: সমকাল, ১৮ মার্চ, ২০১২</p>
]]></content:encoded>
			<wfw:commentRss>http://shujan.org/forum/?feed=rss2&#038;p=2894</wfw:commentRss>
		<slash:comments>0</slash:comments>
		</item>
		<item>
		<title>নতুন নির্বাচন কমিশনের সামনে চ্যালেঞ্জ</title>
		<link>http://shujan.org/forum/?p=2891</link>
		<comments>http://shujan.org/forum/?p=2891#comments</comments>
		<pubDate>Sat, 03 Mar 2012 21:20:22 +0000</pubDate>
		<dc:creator>সবুজ</dc:creator>
				<category><![CDATA[ড. বদিউল আলম মজুমদার]]></category>
		<category><![CDATA[লেখালেখি]]></category>
		<category><![CDATA[নির্বাচন কমিশন গঠন]]></category>

		<guid isPermaLink="false">http://shujan.org/forum/?p=2891</guid>
		<description><![CDATA[বদিউল আলম মজুমদার &#124; তারিখ: ০৪-০৩-২০১২ বহু জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে গত ৮ ফেব্রুয়ারি মহামান্য রাষ্ট্রপতি কর্তৃক সাবেক সচিব কাজী রকিবউদ্দিন আহমদকে প্রধান নির্বাচন কমিশনার এবং সাবেক অতিরিক্ত সচিব মোহাম্মদ আবু হাফিজ, সাবেক যুগ্ম সচিব মোহাম্মদ আবদুল মোবারক, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) জাবেদ আলী ও সাবেক দায়রা জজ মোহাম্মদ শাহনেওয়াজকে নিয়োগ প্রদানের মাধ্যমে নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠিত হয়েছে। [...]]]></description>
			<content:encoded><![CDATA[<p>বদিউল আলম মজুমদার | তারিখ: ০৪-০৩-২০১২</p>
<p>	বহু জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে গত ৮ ফেব্রুয়ারি মহামান্য রাষ্ট্রপতি কর্তৃক সাবেক সচিব কাজী রকিবউদ্দিন আহমদকে প্রধান নির্বাচন কমিশনার এবং সাবেক অতিরিক্ত সচিব মোহাম্মদ আবু হাফিজ, সাবেক যুগ্ম সচিব মোহাম্মদ আবদুল মোবারক, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) জাবেদ আলী ও সাবেক দায়রা জজ মোহাম্মদ শাহনেওয়াজকে নিয়োগ প্রদানের মাধ্যমে নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠিত হয়েছে। বাংলাদেশের ইতিহাসে এই প্রথমবারের মতো অনুসন্ধান কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে এই নিয়োগ দেওয়া হয়, যদিও কমিটি গঠনের প্রক্রিয়া সম্পর্কে বেশ বিতর্ক রয়েছে। প্রশ্ন রয়েছে নিয়োগের স্বচ্ছতা নিয়ে। </p>
<p>	নবগঠিত কমিশন দুই ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি: প্রাতিষ্ঠান সম্পর্কিত চ্যালেঞ্জ ও কার্যক্রম সম্পর্কিত চ্যালেঞ্জ। কমিশনের সামনে সবচেয়ে বড় প্রাতিষ্ঠানিক চ্যালেঞ্জ হলো এর সংখ্যা। অতীতে কোনো কমিশনেই তিনজনের বেশি সদস্য ছিলেন না এবং এই তিনজনও অনেক সময় একত্রে কাজ করতে পারেননি। নবনিযুক্ত কমিশনারদের সবাই অভিজ্ঞ এবং তাঁদের প্রত্যেকেরই অনেক বিষয়ে সুস্পষ্ট মতামত থাকা স্বাভাবিক। দুই-তিনজনের মতামতের মধ্যে সমন্বয় করা যত সহজ, পাঁচজনের ক্ষেত্রে তা অনেক বেশি দুরূহ। তাই পাঁচ সদস্যবিশিষ্ট বর্তমান কমিশনের ক্ষেত্রে একটি বড় ঝুঁকি হলো তাঁদের মধ্যে সম্ভাব্য মতানৈক্য। তবে যেহেতু কমিশনকে বিরোধী দলের চাপের মুখে কাজ করতে এবং কাজের মাধ্যমে বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর আস্থা অর্জন করতে হবে, ফলে এ সমস্যা তেমন প্রকট হবে না বলেই আমাদের বিশ্বাস। </p>
<p>	নবনিযুক্ত কমিশনারদের জন্য আরেকটি চ্যালেঞ্জ হলো তাঁদের পটভূমি। প্রধান নির্বাচন কমিশনার সচিব এবং অন্য একজন অতিরিক্ত সচিব হিসেবে অবসর গ্রহণ করলেও, কমিশনের অন্য সদস্যরা কর্মজীবনে সর্বোচ্চ যুগ্ম সচিব পদমর্যাদায় ছিলেন। অর্থাৎ পাঁচজনের মধ্যে তিনজনই সর্বোচ্চ যুগ্ম সচিব পদমর্যাদাসম্পন্ন হওয়ার কারণে সরকার কমিশনের &lsquo;গুরুত্ব&rsquo; খর্ব করেছে বলে অনেকের ধারণা। প্রসংগত, পুনর্গঠিত কমিশনে একজনও নারী এবং সমাজের অন্য ক্ষেত্রের প্রতিনিধিত্ব না থাকার কারণেও অনেকে অসন্তুষ্ট।<span id="more-2891"></span> </p>
<p>নির্বাচন কমিশনের জন্য অন্য একটি চ্যালেঞ্জ হলো তাঁদের অপরিচিতি। প্রধান নির্বাচন কমিশনার ছাড়া অন্য চারজন কমিশনার সম্পর্কে বলতে গেলে দেশের অধিকাংশ মানুষ তেমন কিছুই জানে না। সৎ ও যোগ্য সচিব হিসেবে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের সুনাম রয়েছে। অন্য দুজন সাবেক সরকারি কর্মকর্তা সম্পর্কে শোনা যায় যে কর্মজীবনে তাঁরা সততার পরিচয় দিয়েছেন। তবে তাঁরা চাকরিজীবনে বঞ্চিত ছিলেন বলে কিছু কানাঘুষা রয়েছে এবং আশা করি, এ বঞ্চনার অভিজ্ঞতা তাঁদের সিদ্ধান্ত গ্রহণে প্রভাব ফেলবে না। অতীতের মতো নির্বাচন কমিশনার হিসেবেও তাঁরা সততা এবং নিরপেক্ষতা প্রদর্শন করতে সক্ষম হবেন। </p>
<p>	পুনর্গঠিত নির্বাচন কমিশনের সামনে আরও একটি বড় চ্যালেঞ্জ হলো কমিশনের স্বাধীনতা অক্ষুণ্ন রাখা। অনেকেরই স্মরণ আছে যে অতীতে কমিশনের সচিবালয় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অন্তর্ভুক্ত ছিল, যা গত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে বিচ্ছিন্ন করা হয়। তবে আইন করে স্বাধীনতা দেওয়া যায়, কিন্তু সে স্বাধীনতা প্রয়োগ করতে হয়। বিগত কমিশন বহু প্রতিকূলতার মুখেও স্বাধীনভাবে দায়িত্ব পালনে সক্ষম হয়েছে। আশা করি, নতুন কমিশন সেই ঐতিহ্য অক্ষুণ্ন রাখতে পারবে। </p>
<p>	অনেকেরই স্মরণ আছে, চারদলীয় জোট সরকারের আমলে নির্বাচন কমিশন একটি চরম বিতর্কিত প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছিল। অনেকের মতে, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের পথে কমিশনই সবচেয়ে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছিল। বিগত কমিশন তাদের অনমনীয়তা, নিরপেক্ষতা ও সফলতার মাধ্যমে জনগণের ব্যাপক আস্থা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে। কমিশনকে একটি মর্যাদার আসনে অধিষ্ঠিত করতে পেরেছে। এই অবস্থান ধরে রাখাও নতুন কমিশনের সামনে একটি বড় চ্যালেঞ্জ। <br />
	ব্যক্তিগতভাবে নিরপেক্ষতা ও দৃঢ়তা প্রদর্শন এবং প্রাতিষ্ঠানিক দুর্বলতা দূর করলেই হবে না, পুনর্গঠিত নির্বাচন কমিশনকে সফল হতে হলে, তাদের দায়িত্ব পালনেও সাফল্য দেখাতে হবে। আর এ জন্য প্রয়োজন হবে যথাযথ পদ্ধতি। নির্বাচন কমিশনের দায়িত্ব সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠান, যার জন্য একটি যুগোপযোগী সিস্টেম বা আইনি কাঠামো এবং আইনের প্রতি সংশ্লিষ্ট সবার শ্রদ্ধাশীলতা আবশ্যক। </p>
<p>	জাতীয় নির্বাচনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ আইনগুলো হলো গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২ (আরপিও); ভোটার তালিকা আইন, ২০১০; নির্বাচনী এলাকা সীমানা নির্ধারণ আইন, ২০১০; রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আইন, ১৯৯১; জাতীয় সংসদ (সংরক্ষিত মহিলা আসন) নির্বাচন আইন, ২০০৪; নির্বাচন কর্মকর্তা (বিশেষ বিধান) আইন, ১৯৯১ ইত্যাদি। এ ছাড়া রয়েছে আচরণবিধিসহ আরও অনেক বিধিমালা। উপরস্তু, স্থানীয় সরকারের সব আইনেই নির্বাচনী বিধান রয়েছে। গত নির্বাচন কমিশন এসব আইনের নির্বাচনসংক্রান্ত বিধিবিধানের অনেক সংস্কার করেছে। তাদের নেতৃত্বে ব্যাপক পরিবর্তন আনা হয়েছে আরপিও এবং ভোটার তালিকা আইনে। সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের স্বার্থে সংস্কার কার্যক্রম অব্যাহত রাখার লক্ষ্যে তারা বিদ্যমান আইনে আরও কতগুলো সংশোধনীর প্রস্তাব করেছে। নাগরিক সমাজের পক্ষ থেকে এ ব্যাপারে আমাদেরও কিছু সুপারিশ রয়েছে।</p>
<p>	আরপিও সংশোধনের লক্ষ্যে বিগত নির্বাচন কমিশনের গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাবগুলো হলো: (১) কোনো আদালত ও ট্রাইব্যুনাল কর্তৃক পলাতক ঘোষিত এবং মনোনয়নপত্র বা হলফনামায় সজ্ঞানে মিথ্যা তথ্য প্রদান বা তথ্য গোপনকারীদের সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণের অযোগ্য ঘোষণা; (২) বিদ্যমান পদ্ধতির পাশাপাশি (সম্ভব হলে) ইভিএম পদ্ধতির ব্যবহার; (৩) নির্বাচনী ব্যয়সীমা ১৫ লাখের পরিবর্তে ২৫ লাখ টাকা বৃদ্ধি; (৪) হলফনামায় মিথ্যা তথ্য প্রদানের দায়ে নির্বাচন-পরবর্তীকালে সংসদ সদস্যপদ বাতিল; (৫) নির্বাচনকালে সরকারের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় ও স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে পূর্বালোচনা ব্যতীত নির্বাচনসংক্রান্ত কোনো সিদ্ধান্ত না নেওয়ার বাধ্যবাধকতা সৃষ্টি ইত্যাদি। </p>
<p>	নাগরিক সমাজের পক্ষ থেকে আমাদের সুপারিশগুলো হলো: (১) &lsquo;না-ভোটের&rsquo; পুনঃপ্রবর্তন; (২) সংসদ নির্বাচনে মনোনয়ন রাজনৈতিক দলের তৃণমূলের নেতা-কর্মীদের দ্বারা নির্ধারণ বা অন্তত তাদের তৈরি প্যানেলের ভিত্তিতে চূড়ান্তকরণের বাধ্যবাধকতার পুনঃপ্রবর্তন; (৩) নির্বাচন কমিশন কর্তৃক প্রার্থীদের হলফনামায় প্রদত্ত তথ্য এবং নির্বাচনী ব্যয়ের হিসাব যাচাই-বাছাই করার বাধ্যবাধকতা সৃষ্টি; (৪) রাজনৈতিক দল প্রদত্ত নির্বাচনী ব্যয়ের হিসাব কমিশন কর্তৃক যাচাই-বাছাইপূর্বক মিথ্যা তথ্য প্রদানকারী দলের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ; (৫) নির্বাচনী তফসিল ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে সংসদ নির্বাচনে সম্ভাব্য প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারীদের হলফনামাসহ একটি আবেদন দাখিল ও কমিশন কর্তৃক প্রকাশ; (৬) মনোনয়নপত্র অনলাইনে দাখিল; (৭) বিরুদ্ধ হলফনামা দাখিল; (৮) সংরক্ষিত মহিলা আসনের ক্ষেত্রে মনোনয়নপত্রের সঙ্গে হলফনামা ও আয়কর বিবরণী দাখিল; (৯) সকল স্থানীয় সরকার নির্বাচন অনুষ্ঠানের দায়িত্ব নির্বাচন কমিশনকে প্রদান; (১০) দলের প্রাথমিক সদস্যদের নাম ওয়েবসাইটে প্রকাশ ও নিয়মিত আপডেট করার বাধ্যবাধকতা সৃষ্টি; (১১) নির্বাচন কমিশনের আর্থিক স্বাধীনতা নিশ্চিতকরণ ইত্যাদি সম্পর্কিত বিধান সংশ্লিষ্ট আইনে অন্তর্ভুক্তিকরণ। এ ছাড়া সদাচরণ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে রাজনৈতিক দলের সংস্কার, নির্বাচনে টাকার খেলা বন্ধ এবং রাজনীতিতে ব্যবসায়ীদের অনুপ্রবেশ রোধের লক্ষ্যেও আইনের সংস্কার আবশ্যক। </p>
<p>	সংস্কার ধারণাগুলো একত্রিত এবং চূড়ান্ত করে এগুলো নিয়ে রাজনৈতিক দল, গণমাধ্যম ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিদের সঙ্গে সংলাপে বসা নির্বাচন কমিশনের জন্য অদূরভবিষ্যতে একটি বড় চ্যালেঞ্জ। তবে তত্ত্বাবধায়ক বা অন্তর্বর্তীকালীন সরকারব্যবস্থা নিয়ে একটি রাজনৈতিক সমঝোতা না হলে বিরোধী দল কমিশনের আহ্বানে সাড়া দেবে বলে মনে হয় না। তাই কমিশন আমাদের বিরাজমান অসহযোগিতা ও কলহপ্রবণ রাজনীতির কাছে অনেকটা জিম্মি হয়ে পড়েছে। </p>
<p>	নির্বাচন কমিশনের সামনে আরেকটি বড় চ্যালেঞ্জের উৎস হলো নির্বাচনী আইন মানার ক্ষেত্রে রাজনৈতিক দলের বিরাজমান অনীহা। যেমন, নিবন্ধিত দলের অঙ্গ/সহযোগী সংগঠন এবং বিদেশি শাখা থাকা আইনের লঙ্ঘন। রাজনৈতিক দলের, বিশেষত ক্ষমতাসীনদের অঙ্গ/সহযোগী সংগঠনের তাণ্ডবে আমাদের শিক্ষাঙ্গনে আজ চরম অরাজকতা বিরাজ করলেও এবং প্রধান দুটি দলের বৈদেশিক শাখার বিশৃঙ্খল আচরণের কারণে বহির্বিশ্বে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি চরমভাবে ক্ষুণ্ন হলেও, দলগুলো আইনের বিধান উপেক্ষা করেই চলছে। তাই সফল হতে হলে কমিশনকে কঠোর এবং দলগুলোকে আইন মানতে বাধ্য করতে হবে। </p>
<p>	আমাদের সংবিধানের ১১৮ অনুচ্ছেদে নির্বাচন কমিশনে নিয়োগ প্রদানের বিধিবিধান সুনির্দিষ্ট করার লক্ষ্যে একটি আইন করার নির্দেশনা রয়েছে, গত ৪০ বছরেও যা বাস্তবায়িত হয়নি। বিগত নির্বাচন কমিশন এ লক্ষ্যে একটি আইনের খসড়া তৈরি করে রেখে গিয়েছে। নতুন কমিশনের সামনে আরেকটি বড় চ্যালেঞ্জ হলো আইনটি পাস করার ব্যাপারে সরকারকে রাজি করানো, যার ফলে ভবিষ্যতে কমিশনে নিয়োগের ক্ষেত্রে অনেক বিতর্ক এড়ানো যাবে।</p>
<p>	কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচন আমাদের সামনে, বিভক্ত ঢাকা সিটি করপোরেশনের দুটি নির্বাচন যার অন্যতম। জেলা পরিষদের নির্বাচন সম্পন্ন করাও জরুরি। যথাসময়ে এসব নির্বাচন নিরপেক্ষতা, দক্ষতা ও সফলতার সঙ্গে সম্পন্ন করাও কমিশনের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ। <br />
	প্রসঙ্গত, আমাদের বেশ কয়েকটি নির্বাচনী আইন ইংরেজিতে। বিশেষত মূল নির্বাচনী আইন আরপিও ইংরেজি ভাষায় রচিত। এগুলোর বাংলা করা জরুরি। </p>
<p>	পরিশেষে, বিগত নির্বাচন কমিশন অনেকগুলো গুরুত্বপূর্ণ ও দুরূহ কাজ করে গিয়েছে, যার অন্যতম হলো ছবিযুক্ত ভোটার তালিকা প্রণয়ন। রাজনৈতিক দলের বাধ্যতামূলক নিবন্ধন, নির্বাচনী প্রক্রিয়ার সংস্কার, প্রার্থীদের তথ্য প্রদানের বাধ্যবাধকতা সৃষ্টি, নির্বাচনী এলাকার সীমানা পুনর্নির্ধারণ, কমিশনের স্বাধীন সচিবালয় প্রতিষ্ঠা ইত্যাদিও&mdash;যা একটি মোটামুটি গ্রহণযোগ্য আইনি কাঠামো সৃষ্টি করেছে&mdash;কমিশনের গুরুত্বপূর্ণ অবদান। এ ছাড়া বিগত কমিশন একটি দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত পরিকল্পনা প্রণয়ন করেছে এবং এটি বাস্তবায়নের জন্য অর্থের সংস্থানও করে গিয়েছে। উপরন্তু নির্বাচনী আইনের অধিকতর সংস্কারের লক্ষ্যে তারা &lsquo;হোম ওয়ার্ক&rsquo; করে কিছু নতুন সংস্কার প্রস্তাবও রেখে গিয়েছে। নাগরিক সমাজের পক্ষ থেকেও আমাদের কিছু প্রস্তাব রয়েছে। এসব প্রস্তুতি নতুন সুযোগের সৃষ্টি করেছে এবং পুনর্গঠিত কমিশনের কাজকে সহজ করে দিয়েছে বলে আমাদের বিশ্বাস। এসব অগ্রগতির ওপর দাঁড়িয়ে নতুন কমিশনকে এখন সততা, নিষ্ঠা ও সাহসিকতার সঙ্গে সামনের দিকে এগোতে হবে। <br />
	ড. বদিউল আলম মজুমদার: সম্পাদক, সুজন&mdash;সুশাসনের জন্য নাগরিক।</p>
<p>সূত্র: প্রথম আলো, ৪ মার্চ ২০১২</p>
]]></content:encoded>
			<wfw:commentRss>http://shujan.org/forum/?feed=rss2&#038;p=2891</wfw:commentRss>
		<slash:comments>0</slash:comments>
		</item>
		<item>
		<title>দলীয় সরকারের অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব?</title>
		<link>http://shujan.org/forum/?p=1843</link>
		<comments>http://shujan.org/forum/?p=1843#comments</comments>
		<pubDate>Tue, 14 Feb 2012 17:30:56 +0000</pubDate>
		<dc:creator>সবুজ</dc:creator>
				<category><![CDATA[ড. বদিউল আলম মজুমদার]]></category>
		<category><![CDATA[লেখালেখি]]></category>
		<category><![CDATA[নির্বাচন সংক্রান্ত]]></category>

		<guid isPermaLink="false">http://shujan.org/forum/?p=1843</guid>
		<description><![CDATA[বদিউল আলম মজুমদার &#124; তারিখ: ১৪-০২-২০১২ তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা ছাড়া সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন সম্ভব কি না—এ বিতর্ক আবার নতুন করে মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে। আমাদের বিদায়ী প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ টি এম শামসুল হুদার সাম্প্রতিক বক্তব্য এ বিতর্কের মূল কারণ। ৪ ফেব্রুয়ারি কমিশনের বিদায় উপলক্ষে আয়োজিত সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, বর্তমান ব্যবস্থায় দলীয় সরকারের অধীনে সুষ্ঠু [...]]]></description>
			<content:encoded><![CDATA[<p><a href="http://www.prothom-alo.com/detail/date/2012-02-14/news/224470"><img class="alignleft size-full wp-image-1506" title="Prothom Alo _ Most popular bangla daily newspaper - Home" src="http://shujan.org/forum/wp-content/uploads/Prothom-Alo-_-Most-popular-bangla-daily-newspaper-Home.png" alt="" width="306" height="75" /></a></p>
<p>বদিউল আলম মজুমদার | তারিখ: ১৪-০২-২০১২</p>
<p>তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা ছাড়া সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন সম্ভব কি না—এ বিতর্ক আবার নতুন করে মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে। আমাদের বিদায়ী প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ টি এম শামসুল হুদার সাম্প্রতিক বক্তব্য এ বিতর্কের মূল কারণ। ৪ ফেব্রুয়ারি কমিশনের বিদায় উপলক্ষে আয়োজিত সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, বর্তমান ব্যবস্থায় দলীয় সরকারের অধীনে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন সম্ভব নয়। তবে কিছু শর্ত মানলে তা সম্ভব হতে পারে (প্রথম আলো, ৫ ফেব্রুয়ারি ২০১২)।</p>
<p>গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, দলীয় সরকারের অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য এ টি এম শামসুল হুদার রয়েছে তিনটি শর্ত: (১) জাতীয় সংসদ নির্বাচনকালে চারটি মন্ত্রণালয় কমিশনের সঙ্গে পূর্বালোচনা ব্যতীত কোনো সিদ্ধান্ত নিতে না পারা; (২) এক মাস সময়ের মধ্যে সাত বিভাগে সংসদ নির্বাচন সম্পন্ন করা; এবং (৩) সংসদ নির্বাচনে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) পদ্ধতি ব্যবহার করা। শর্তগুলো বিশ্লেষণ করা যাক।</p>
<p>প্রসঙ্গত, চারটি মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত শামসুল হুদার বক্তব্য বিদায়ী নির্বাচন কমিশন কর্তৃক সরকারের কাছে প্রেরিত সংস্কার প্রস্তাবেও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। কমিশন বিদ্যমান গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২-এর ৪৪ই ধারা সংশোধনের লক্ষ্যে প্রস্তাব করে: ৪৪ই(৫) ‘সংসদ ভেঙ্গে যাওয়ার পর থেকে এবং নতুন সংসদ গঠিত না হওয়া পর্যন্ত কমিশনের সঙ্গে পূর্বালোচনা ব্যতীত সরকার কোনো সিদ্ধান্ত নেবে না, বিশেষত নিম্নলিখিত মন্ত্রণালয়সমূহ সম্পর্কিত বিষয়ে: (ক) মন্ত্রীপরিষদ বিভাগ, (খ) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, (গ) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়, (ঘ) স্থানীয় সরকার ও পল্লী উন্নয়ন মন্ত্রণালয়।’</p>
<p>মনে রাখা প্রয়োজন, বিদ্যমান গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২-এর ৪৪ই ধারার (১) থেকে (৪) উপধারা অনুযায়ী, নির্বাচনী তফসিল ঘোষণার পর এবং নির্বাচনী ফলাফল ঘোষণার ১৫ দিন অতিবাহিত না হওয়া পর্যন্ত সময়ের মধ্যে কোনো মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার, ডেপুটি কমিশনার, সুপারিনটেনডেন্ট অব পুলিশ বা সংশ্লিষ্ট জেলায় বা মেট্রোপলিটন এলাকায় কর্মরত তাঁদের অধস্তন কর্মকর্তাকে কমিশনের সঙ্গে পূর্বালোচনা ব্যতীত বদলি করা যাবে না। (কমিশনের সংস্কার প্রস্তাবে ১৫ দিনের সময়সীমাকে ৩০ দিনে উন্নীত করার সুপারিশ করা হয়েছে।) একই সঙ্গে কমিশন লিখিতভাবে অনুরোধ করলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ উপরিউক্ত কর্মকর্তাদের বদলি করবে। এ ছাড়া রিটার্নিং অফিসার কর্তৃক তৈরি করা প্রিসাইডিং অফিসার, সহকারী প্রিসাইডিং অফিসার ও পোলিং অফিসারের প্যানেলে অন্তর্ভুক্ত কোনো ব্যক্তিকে ভোট গ্রহণ সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত তাঁর পূর্বানুমোদন ব্যতীত জেলার বাইরে বদলি করা যাবে না। উপরন্তু রিটার্নিং অফিসারের অনুরোধ মোতাবেক সংশ্লিষ্ট জেলায় বা মেট্রোপলিটন এলাকায় কর্মরত মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার, ডেপুটি কমিশনার, সুপারিনটেনডেন্ট অব পুলিশ বা তাঁদের অধস্তন কর্মকর্তাদের তাঁকে সহায়তা করতে হবে।<span id="more-1843"></span></p>
<p>উপরিউক্ত বিধান অনুযায়ী নির্বাচনের সময়ে সারা দেশের মাঠ পর্যায়ের প্রায় সব সরকারি-বেসরকারি প্রশাসনিক ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তা কমিশনের কর্তৃত্বাধীন থাকে। বিদায়ী কমিশন এর বাইরে চারটি মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে কমিশনের সঙ্গে পূর্বালোচনার বাধ্যবাধকতা সৃষ্টির দাবি করেছে। কিন্তু আমরা এ দাবির যৌক্তিকতা খুঁজে পাই না। কারণ, পূর্বালোচনার বাধ্যবাধকতা সৃষ্টি করা হলেও, মন্ত্রণালয়ের ওপর কমিশনের কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা হবে না—বস্তুত পূর্বালোচনা অনেকটা পরামর্শ গ্রহণের পর্যায়ে পড়ে। আর কেউ পরামর্শ দিলে তা গ্রহণ করা না-করা নির্ভর করে মূলত পরামর্শগ্রহীতার ইচ্ছার ওপর। অর্থাৎ পরামর্শ গ্রহণের বিষয়টি ঐচ্ছিক (directory), বাধ্যতামূলক (mandatory) নয়।</p>
<p>তবে নির্বাচন কমিশন চারটি মন্ত্রণালয়ের ওপর কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করতে চাইলে সাংবিধানিক জটিলতাও সৃষ্টি হবে। আমাদের সংবিধানের ১১৯ অনুচ্ছেদ নির্বাচন কমিশনকে চারটি সুস্পষ্ট দায়িত্ব দিয়েছে: কমিশন ‘(ক) রাষ্ট্রপতি পদের নির্বাচন অনুষ্ঠান করিবেন; (খ) সংসদ সদস্যদের নির্বাচন অনুষ্ঠান করিবেন; (গ) সংসদ নির্বাচনের জন্য নির্বাচনী এলাকার সীমানা নির্ধারণ করিবেন; এবং (ঘ) রাষ্ট্রপতি পদের এবং সংসদ নির্বাচনের জন্য ভোটার তালিকা প্রস্তুত করিবেন।’ আর সংবিধানের ৭(২) বলা হয়েছে যে সংবিধানের অধীনে ও কর্তৃত্বে যে ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে যে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, সে ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান সে দায়িত্বই পালন করবে।</p>
<p>এ ছাড়া মন্ত্রণালয়গুলো নির্বাহী বিভাগের অন্তর্ভুক্ত। কিন্তু নির্বাচন কমিশন নির্বাচনসংক্রান্ত কার্যক্রম পরিচালনার লক্ষ্যে গঠিত বিশেষায়িত (specialised) প্রতিষ্ঠান, নির্বাহী বিভাগের দায়িত্ব পালন করা এর দায়িত্ব নয়। উপরন্তু ক্ষমতা পৃথক্করণের নীতি (principles of separation of powers), যা বহু ব্যক্তির বহু শতাব্দীর অভিজ্ঞতা ও প্রজ্ঞার প্রতিফলন, আধুনিক রাষ্ট্রের খুঁটি সমতুল্য। আর এ নীতির ফলে, নির্বাহী বিভাগের কার্যক্রম এ বিভাগের বাইরের প্রতিষ্ঠানের পক্ষে পরিচালনা করা সঠিক নয়। তাই কমিশনের পক্ষে মন্ত্রণালয়ের কর্তৃত্ব গ্রহণ হবে সংবিধানের পরিপন্থী।</p>
<p>নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে মন্ত্রণালয় পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণের সঙ্গে একটি বাস্তব সমস্যাও জড়িত। একটি জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ১০ লক্ষাধিক ব্যক্তি জড়িত থাকেন এবং নির্বাচন কমিশনকে এঁদের কার্যক্রম তদারকি করতে হয়। এ বিরাট কর্মযজ্ঞ পরিচালনার জন্য কমিশনের সর্বশক্তি নিয়োগের প্রয়োজন পড়ে। ফলে নির্বাচন পরিচালনার পাশাপাশি কমিশনের পক্ষে চারটি মন্ত্রণালয়ের কর্তৃত্ব গ্রহণ করা সম্ভব নয় বলেই অনেক পর্যবেক্ষকের ধারণা।</p>
<p>একাধিক দিনে নির্বাচন অনুষ্ঠানের ব্যবস্থাকে ‘স্টেগার্ড’ পদ্ধতি বলা হয়। প্রধান নির্বাচন কমিশনারের সুপারিশ, এক মাসের মধ্যে সারা দেশে ৩০০টি আসনে নির্বাচন সম্পন্ন করা। এটি একটি ভালো সুপারিশ এবং আমরা এর পক্ষে। পৃথিবীর অনেক দেশেই এ পদ্ধতি বিরাজমান। যেমন, আমাদের প্রতিবেশী রাষ্ট্র ভারতেও এটি চালু রয়েছে। কিন্তু আমাদের দেশে বর্তমানে তা করা সম্ভব কি না, সে ব্যাপারে অনেকেরই সন্দেহ রয়েছে।</p>
<p>আমাদের রাজনীতিতে একটি ভয়াবহ অবিশ্বাসের সংস্কৃতি বিরাজমান। যদিও সংসদীয় পদ্ধতিতে বিরোধী দলও সরকারের অংশ, তবু আমাদের প্রধান দুটি দল একে অপরকে বিশ্বাস করে না। কোটারি স্বার্থসংশ্লিষ্ট রয়েছে এমন বিষয় ছাড়া আমাদের বড় দলের রাজনীতিবিদেরা কোনো বিষয়েই একমত হতে পারেন না। দেশের নাগরিকদের একটি বিরাট অংশও কোনো দল, এমনটি সরকারকে বিশ্বাস করে না। একাধিক দিনে নির্বাচন সম্পন্ন করতে হলে সরকারের ওপর মানুষের বিশ্বাস থাকা অপরিহার্য।</p>
<p>একাধিক দিনে সংসদ নির্বাচন সফলভাবে করতে হলে নির্বাচনের দিনে প্রতিটি নির্বাচনী এলাকার ফলাফল ঘোষণা থেকে বিরত থাকতে হবে, যা করা না হলে প্রথম ধাপে অনুষ্ঠিত নির্বাচনী ফলাফল নির্বাচনের সার্বিক ফলাফলকে প্রভাবিত করবে। এ পদ্ধতিতে তাই সব এলাকার ব্যালট বা ইভিএম এক জায়গায় এনে তা নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তা বা প্রশাসনের হেফাজতে রাখতে হবে। উদাহরণস্বরূপ, ভারতে ইভিএম জেলা সদরে এনে তা জেলা প্রশাসকের স্ট্রংরুমে রাখা হয়। পরে সারা দেশে একই দিনে সব নির্বাচনী এলাকার ফলাফল গণনা এবং ঘোষণা করা হয়। পরাজিত দল বা জোটের নির্বাচনী ফলাফল প্রত্যাখ্যানের আমাদের দেশে বিরাজমান অপসংস্কৃতির কারণে এ ব্যবস্থা পরাজিতদের হাতে নির্বাচনী ফলাফল প্রত্যাখ্যানের জন্য আরেকটি নতুন অস্ত্র তুলে দেবে। এর ফলে আমাদের পুরো নির্বাচন পদ্ধতিই বিশ্বাসযোগ্যতা হারিয়ে ফেলতে পারে।</p>
<p>ইভিএম পদ্ধতি ব্যবহারের বিষয়ে আসা যাক। পশ্চিমা দুনিয়ার সঙ্গে আমাদের বিরাজমান ‘ডিজিটাল ডিভাইড’ বা প্রযুক্তিগত ব্যবধান দূরীভূত করতে হলে সর্বক্ষেত্রে আমাদের আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করতে হবে। আর ‘ইনফরমেশন হাইওয়ে’ বা তথ্যপ্রযুক্তির মহাসড়কে প্রবেশ করতে হলেও আমাদের উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহারের কোনো বিকল্প নেই। তাই ভবিষ্যতে সব নির্বাচনেই আমাদের ইভিএম বা অন্য কোনো আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করতে হবে।</p>
<p>এরই মধ্যে আমরা ইভিএম ব্যবহারের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অভিজ্ঞতাও অর্জন করেছি। পরপর তিনটি সিটি করপোরেশন নির্বাচনে এটি ব্যবহূত হয়েছে। চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনে একটি, নারায়ণগঞ্জ নির্বাচনে নয়টি ওয়ার্ডে এটি ব্যবহূত হলেও, কুমিল্লায় সবগুলো ওয়ার্ডেই এটি ব্যবহূত হয়েছে।</p>
<p>এ তিনটি স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহারে আমাদের অভিজ্ঞতা ইতিবাচক। একটি ক্ষেত্রে কয়েক মিনিটের জন্য যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা গেলেও, সে ত্রুটি অতি সহজেই সারানো গেছে এবং এতে ভোট গ্রহণে তেমন প্রভাব পড়েনি। এ ছাড়া যন্ত্রটি ব্যবহার করা অত্যন্ত সহজ, তাই স্বল্পশিক্ষিত, এমনকি নিরক্ষর ভোটারদেরও এটি ব্যবহারে তেমন অসুবিধা হয়নি। ফলে নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহারের পক্ষে একটি জনমত সৃষ্টি হয়েছে। তবু আমরা মনে করি, জাতীয় নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহারের আগে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে এ ব্যাপারে একটি মতৈক্য সৃষ্টি হওয়া আবশ্যক। তা না হলে নির্বাচনী ফলাফল নিয়ে একটি অহেতুক বিতর্ক সৃষ্টির সুযোগ হবে, যা এড়ানো বিশেষভাবে কাম্য।</p>
<p>উপরিউক্ত আলোচনা থেকে এটি সুস্পষ্ট যে আমাদের বিরাজমান অবিশ্বাসের সংস্কৃতির কারণে মাসব্যাপী বা একাধিক দিনে একটি জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠান সম্ভবপর নয়। ফলে এক দিনেই সারা দেশের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে হবে, যা একটি বিরাট কর্মযজ্ঞ। এ কর্মযজ্ঞ পরিচালনার পাশাপাশি নির্বাচন কমিশনের পক্ষে সরকার পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণ, অন্তত কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের কর্তৃত্ব গ্রহণ সম্ভব হবে বলে আমাদের মনে হয় না। এ ছাড়া নির্বাচন-সম্পর্কিত কার্যক্রম পরিচালনার লক্ষ্যে সৃষ্ট একটি বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠান হিসেবে কমিশনের পক্ষে নির্বাহী বিভাগের কাজে জড়িত হলে তা হবে সংবিধানের পরিপন্থী। এ ছাড়া স্থানীয় সরকার নির্বাচনে ব্যবহারের মাধ্যমে ইভিএম পদ্ধতির পক্ষে একটি জনমত সৃষ্টি হলেও, রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে একটি মতৈক্য গড়ে না উঠলে অহেতুক বিতর্ক এড়াতে এটি জাতীয় নির্বাচনে ব্যবহার করা সঠিক হবে না। তাই আগামী সংসদ নির্বাচনকে সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য করতে হলে দলীয় সরকারের অধীনে তা অনুষ্ঠান না করাই যুক্তিযুক্ত হবে বলে আমরা মনে করি।<br />
ড. বদিউল আলম মজুমদার: সম্পাদক, সুজন—সুশাসনের জন্য নাগরিক।</p>
<p>সূত্র: প্রথম আলো, ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০১২</p>
]]></content:encoded>
			<wfw:commentRss>http://shujan.org/forum/?feed=rss2&#038;p=1843</wfw:commentRss>
		<slash:comments>0</slash:comments>
		</item>
		<item>
		<title>Challenges for Search Committee</title>
		<link>http://shujan.org/forum/?p=1841</link>
		<comments>http://shujan.org/forum/?p=1841#comments</comments>
		<pubDate>Tue, 31 Jan 2012 18:00:18 +0000</pubDate>
		<dc:creator>সবুজ</dc:creator>
				<category><![CDATA[ড. বদিউল আলম মজুমদার]]></category>
		<category><![CDATA[লেখালেখি]]></category>
		<category><![CDATA[নির্বাচন কমিশন গঠন]]></category>

		<guid isPermaLink="false">http://shujan.org/forum/?p=1841</guid>
		<description><![CDATA[&#160; Badiul Alam Majumdar &#160;For a long time, Citizens for Good Governance (Shujan) has advocated for neutral search committees to make appointments to constitutional and statutory bodies. We believe that only through such a process can honest, courageous and competent persons be appointed. However, the search committee recently formed by the government to appoint the [...]]]></description>
			<content:encoded><![CDATA[<p><!--[if gte mso 9]><xml><br />
 <w:WordDocument><br />
  <w:View>Normal</w:View><br />
  <w:Zoom>0</w:Zoom><br />
  <w:PunctuationKerning/><br />
  <w:ValidateAgainstSchemas/><br />
  <w:SaveIfXMLInvalid>false</w:SaveIfXMLInvalid><br />
  <w:IgnoreMixedContent>false</w:IgnoreMixedContent><br />
  <w:AlwaysShowPlaceholderText>false</w:AlwaysShowPlaceholderText><br />
  <w:Compatibility><br />
   <w:BreakWrappedTables/><br />
   <w:SnapToGridInCell/><br />
   <w:WrapTextWithPunct/><br />
   <w:UseAsianBreakRules/><br />
   <w:DontGrowAutofit/><br />
  </w:Compatibility><br />
  <w:BrowserLevel>MicrosoftInternetExplorer4</w:BrowserLevel><br />
 </w:WordDocument><br />
</xml><![endif]--><!--[if gte mso 9]><xml><br />
 <w:LatentStyles DefLockedState="false" LatentStyleCount="156"><br />
 </w:LatentStyles><br />
</xml><![endif]--><!--[if gte mso 10]></p>
<style>
 /* Style Definitions */
 table.MsoNormalTable
	{mso-style-name:"Table Normal";
	mso-tstyle-rowband-size:0;
	mso-tstyle-colband-size:0;
	mso-style-noshow:yes;
	mso-style-parent:"";
	mso-padding-alt:0in 5.4pt 0in 5.4pt;
	mso-para-margin:0in;
	mso-para-margin-bottom:.0001pt;
	mso-pagination:widow-orphan;
	font-size:10.0pt;
	font-family:"Times New Roman";
	mso-ansi-language:#0400;
	mso-fareast-language:#0400;
	mso-bidi-language:#0400;}
</style>
<p><![endif]--></p>
<h1><a href="http://www.thedailystar.net/newDesign/news-details.php?nid=220490">&nbsp;<img alt="" class="alignleft size-full wp-image-1511" height="65" src="http://shujan.org/forum/wp-content/uploads/The-Daily-Star-Todays-Paper.png" title="The Daily Star" width="310" /></a></h1>
<p><!--[if gte mso 9]><xml><br />
 <w:WordDocument><br />
  <w:View>Normal</w:View><br />
  <w:Zoom>0</w:Zoom><br />
  <w:PunctuationKerning/><br />
  <w:ValidateAgainstSchemas/><br />
  <w:SaveIfXMLInvalid>false</w:SaveIfXMLInvalid><br />
  <w:IgnoreMixedContent>false</w:IgnoreMixedContent><br />
  <w:AlwaysShowPlaceholderText>false</w:AlwaysShowPlaceholderText><br />
  <w:Compatibility><br />
   <w:BreakWrappedTables/><br />
   <w:SnapToGridInCell/><br />
   <w:WrapTextWithPunct/><br />
   <w:UseAsianBreakRules/><br />
   <w:DontGrowAutofit/><br />
  </w:Compatibility><br />
  <w:BrowserLevel>MicrosoftInternetExplorer4</w:BrowserLevel><br />
 </w:WordDocument><br />
</xml><![endif]--><!--[if gte mso 9]><xml><br />
 <w:LatentStyles DefLockedState="false" LatentStyleCount="156"><br />
 </w:LatentStyles><br />
</xml><![endif]--><!--[if gte mso 10]></p>
<style>
 /* Style Definitions */
 table.MsoNormalTable
	{mso-style-name:"Table Normal";
	mso-tstyle-rowband-size:0;
	mso-tstyle-colband-size:0;
	mso-style-noshow:yes;
	mso-style-parent:"";
	mso-padding-alt:0in 5.4pt 0in 5.4pt;
	mso-para-margin:0in;
	mso-para-margin-bottom:.0001pt;
	mso-pagination:widow-orphan;
	font-size:10.0pt;
	font-family:"Times New Roman";
	mso-ansi-language:#0400;
	mso-fareast-language:#0400;
	mso-bidi-language:#0400;}
</style>
<p><![endif]--></p>
<p class="MsoNormal"><span class="byline">Badiul Alam Majumdar</span></p>
<p>&nbsp;For a long time, Citizens for Good Governance (Shujan) has advocated for neutral search committees to make appointments to constitutional and statutory bodies. We believe that only through such a process can honest, courageous and competent persons be appointed. However, the search committee recently formed by the government to appoint the chief and other election commissioners has already created serious controversies. Such controversies will only make the committee&#39;s task more challenging.</p>
<p>On January 12, the president, after holding dialogues with 23 political parties, proposed a law for appointing the CEC and other election commissioners. The proposal also included the formation of a five-member search committee, comprised of two justices &#8212; one from the Appellate Division and the other from the High Court Division &#8212; to be recommended by the chief justice, the chairman of the PSC, the auditor and accountant general and the chairman of the ACC. The president&#39;s proposal also called for inclusion of other &quot;competent&quot; persons to the committee.</p>
<p>Subsequently, the Cabinet Division announced, via a circular, the formation of a four-member Search Committee, which included Justice Syed Mahmud Hossain, Justice Md. Nuruzzaman, PSC Chairman A.T. Ahmedul Huq Chowdhury and the Comptroller and Accountant General Ahmed Ataul Hakeem. The Committee was given 10-working days to submit its recommendations and the authority to formulate its own <i>modus operandi<span id="more-1841"></span>.</i></p>
<p>The formation of the Committee has raised serious questions: Firstly, why was the Committee formed by a circular rather than by framing a law? A law specifying qualifications/disqualifications of the election commissioners is important to identify appropriate persons for the positions, and might also be used by political parties and others to propose names to the Committee. Incidentally, Article 118(1) of our Constitution mandates enacting of such a law.</p>
<p>Our experiences with search committees are quite disappointing as they failed to prevent the appointment of partisan persons to important public positions in the past. For example, during the last government, an individual who sought parliamentary nomination on the BNP ticket was made election commissioner. And, under the present government, there are allegations of partisan affiliation against some of the appointees to the Information Commission, Human Rights Commission (HRC) and ACC. More seriously, a professor was appointed to the HRC, despite well-publicised accusations of sexual harassment by a student. (He was quickly sacked, also without due process.)</p>
<p>Framing a law to govern the appointment to the EC would not be a difficult task. Last year, the EC circulated a two-page draft of the law, which the government ignored. Reportedly, the president also sent a draft law to the government with his recommendations. The law could also specify the rules of operation of the Committee. Since the Parliament was not in session, an ordinance could be promulgated.</p>
<p>A second question: Why were elected representatives not included in the Search Committee? It is hard to believe that the present government, which has abolished the unelected Caretaker Government (CTG), has failed to involve elected representatives in the search process for EC members. Even the EC draft law provided for the involvement of the Business Advisory Committee of the Parliament in this process. The government could at least include two MPs to represent the prime minister and leader of the opposition in the Search Committee. Also, since the Search Committee was constituted with unelected persons, the inclusion of representatives of the civil society or the media would have enhanced its acceptability.</p>
<p>A third question: Why have justices been included in the Search Committee? In a case involving the Thirteenth Amendment, the Appellate Division had previously asked that the justices be kept out of the future CTG in order to avoid further damage to the judiciary. We are thus surprised that the chief justice did not oppose the inclusion of the justices in the Committee. We also question why these particular justices were chosen. With utmost reluctance, we point out that one of the two justices included in the Search Committee was elected as the general secretary and president of the Dhaka Bar from the Awami League panel. Under the present government, he became a deputy attorney general in January 2009 and then justice of the High Court in June 2009 (<i>New Age</i>, January 28). Additionally, there are allegations of preference for the ruling party on the part of another member of the Committee.</p>
<p>A fourth question: Why did the government show disrespect to the president by refusing to include the chairman of ACC in the Committee? Is it because of his vocal opposition to the government&#39;s efforts to make the ACC a &quot;toothless tiger?&quot; Such a decision signals that the government did not want to take the &quot;risk&quot; of including an independent minded person in the Committee. Thus, the controversy compounds.</p>
<p>The government may claim that it wanted to constitute the Search Committee solely with representatives of the constitutional bodies. Unfortunately, however, our experiences show that holding constitutional positions does not guarantee a person&#39;s honesty and effectiveness. But, if appointments to the Search Committee must be made from representatives of the constitutional bodies, a sensible option would have been to induct the departing CEC. Over the last five years, the CEC and other two commissioners invested their time, energy and talent to raise the EC to a position of respect and acceptability; thus, they could be counted on to resist the appointment of any disreputed persons to the EC who might tarnish its image. Incidentally, was the Cabinet Division, rather than the EC, selected to give secretarial service to the Committee because it is subject to the government&#39;s control?</p>
<p>The controversy that already surrounds the formation of the Search Committee will only make its task of appointing an acceptable Election Commission more challenging. We believe that transparency and accountability in its functioning are necessary to help the Committee successfully meet this challenge. One suggestion is for the Search Committee to make its meetings open so that representatives of political parties, the media and the civil society might attend. This would constitute an application of &quot;sunshine law&quot; which, in many countries, requires decisions of government agencies (with some exceptions) to be made openly in public meetings.</p>
<p>Another way to ensure transparency: the Committee could publicly announce the names of the persons under consideration, the names of those to be finally recommended to the president for appointment, and the reasons for these recommendations. This would help weed out persons of questionable backgrounds. Additionally, the Committee could hold public hearings. Since the Committee has been given the authority to determine its own rules of operation, it has the power to build transparency into its own functioning.</p>
<p>To conclude, we hope that the Committee will realise the seriousness of the responsibility given to it and the consequences of not discharging it with honesty and neutrality. Given our political culture, we know that whatever names the Committee proposes will be instantly and without hesitation rejected by the opposition. However, if the new Election Commission, appointed through the recommendations of the Search Committee, fails to win the confidence of the civil society and the media, the nation will head toward a serious crisis with possibly ominous consequences.</p>
<h5>The writer is Secretary, Citizens for Good Governance.</h5>
<p>Reference by: The Daily Star, 31st January 2012</p>
]]></content:encoded>
			<wfw:commentRss>http://shujan.org/forum/?feed=rss2&#038;p=1841</wfw:commentRss>
		<slash:comments>0</slash:comments>
		</item>
		<item>
		<title>অনুসন্ধান কমিটির সামনে চ্যালেঞ্জ</title>
		<link>http://shujan.org/forum/?p=1835</link>
		<comments>http://shujan.org/forum/?p=1835#comments</comments>
		<pubDate>Mon, 30 Jan 2012 09:48:12 +0000</pubDate>
		<dc:creator>সবুজ</dc:creator>
				<category><![CDATA[ড. বদিউল আলম মজুমদার]]></category>
		<category><![CDATA[লেখালেখি]]></category>
		<category><![CDATA[নির্বাচন সংক্রান্ত]]></category>

		<guid isPermaLink="false">http://shujan.org/forum/?p=1835</guid>
		<description><![CDATA[বদিউল আলম মজুমদার &#124; তারিখ: ৩০-০১-২০১২ বহুদিন ধরে সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) পক্ষ থেকে আমরা নির্বাচন কমিশনসহ সব সাংবিধানিক ও অন্যান্য সংবিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠানে নিয়োগ প্রদানের লক্ষ্যে নিরপেক্ষ অনুসন্ধান কমিটি গঠনের প্রস্তাব করে আসছি। কারণ, এর মাধ্যমে অপেক্ষাকৃত সৎ, সাহসী ও যোগ্য ব্যক্তিদের এসব প্রতিষ্ঠানে নিয়োগ পাওয়ার পথ সুগম হবে। কিন্তু সম্প্রতি যেভাবে এবং যাঁদের নিয়ে [...]]]></description>
			<content:encoded><![CDATA[<p><a href="http://www.prothom-alo.com/detail/date/2012-01-30/news/220490"><img alt="" class="alignleft size-full wp-image-1506" height="75" src="http://shujan.org/forum/wp-content/uploads/Prothom-Alo-_-Most-popular-bangla-daily-newspaper-Home.png" title="Prothom Alo _ Most popular bangla daily newspaper - Home" width="306" /></a></p>
<p>বদিউল আলম মজুমদার | তারিখ: ৩০-০১-২০১২</p>
<p><a href="http://shujan.org/forum/?attachment_id=1838" rel="attachment wp-att-1838"><img align="left" alt="" class="alignleft size-full wp-image-1838" height="233" hspace="5" src="http://shujan.org/forum/wp-content/uploads/2012-01-29.jpg" title="2012-01-29" width="340" /></a>বহুদিন ধরে সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) পক্ষ থেকে আমরা নির্বাচন কমিশনসহ সব সাংবিধানিক ও অন্যান্য সংবিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠানে নিয়োগ প্রদানের লক্ষ্যে নিরপেক্ষ অনুসন্ধান কমিটি গঠনের প্রস্তাব করে আসছি। কারণ, এর মাধ্যমে অপেক্ষাকৃত সৎ, সাহসী ও যোগ্য ব্যক্তিদের এসব প্রতিষ্ঠানে নিয়োগ পাওয়ার পথ সুগম হবে। কিন্তু সম্প্রতি যেভাবে এবং যাঁদের নিয়ে প্রধান ও অন্যান্য নির্বাচন কমিশনার নিয়োগের জন্য অনুসন্ধান কমিটি গঠিত হয়েছে, তা নিয়ে আমাদের মনে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। একই সঙ্গে কমিটির কার্যপদ্ধতি সম্পর্কেও আমাদের কিছু প্রস্তাব রয়েছে, যা এর সুপারিশের গ্রহণযোগ্যতা বৃদ্ধি করবে বলে আমাদের বিশ্বাস।</p>
<p>আমরা শুনেছি যে ২৩টি দলের সঙ্গে সংলাপের ভিত্তিতে ১২ জানুয়ারি রাষ্ট্রপতি কমিশনে নিয়োগ প্রদানের ক্ষেত্রে অস্পষ্টতা দূরীকরণের লক্ষ্যে একটি প্রজ্ঞাপন জারির সুপারিশ করেন। সম্ভাব্য প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও অন্যান্য নির্বাচন কমিশনারদের নাম বাছাইয়ের লক্ষ্যে পাঁচ সদস্যের একটি সার্চ বা অনুসন্ধান কমিটি গঠনের প্রস্তাব রাষ্ট্রপতির সুপারিশে অন্তর্ভুক্ত। রাষ্ট্রপতি কমিটিতে প্রধান বিচারপতি মনোনীত আপিল ও হাইকোর্ট বিভাগের একজন করে বিচারপতি, সরকারি কর্ম কমিশনের চেয়ারম্যান, মহাহিসাবনিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক এবং দুর্নীতি দমন কমিশনের চেয়ারম্যানকে অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাব করেন।</p>
<p>এরই ধারাবাহিকতায় ২১ জানুয়ারি মন্ত্রিপরিষদ একটি প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে চার সদস্যবিশিষ্ট একটি অনুসন্ধান কমিটি গঠনের ঘোষণা দেয়। পরবর্তী সময়ে ২৪ জানুয়ারি ২০১২ তারিখে জারি করা আরেকটি প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে কমিটির সদস্যদের নাম প্রকাশ করা হয়, যাঁরা হলেন: আপিল বিভাগের বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন, হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি মো. নূরুজ্জামান, মহাহিসাবনিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক আহমেদ আতাউল হাকিম এবং সরকারি কর্ম কমিশনের চেয়ারম্যান এ টি আহমেদুল হক চৌধুরী। কমিটিকে তাদের সুপারিশ পেশ করার জন্য ১০ কার্যদিবস সময় দেওয়া হয়। একই সঙ্গে কমিটিকে তার কার্যপদ্ধতি নির্ধারণেরও ক্ষমতা দেওয়া হয়।<span id="more-1835"></span></p>
<p>আমাদের প্রথম প্রশ্ন, কেন আইনের পরিবর্তে প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে অনুসন্ধান কমিটি গঠন করা হলো? আইনের মাধ্যমে কমিটি করা হলে এতে প্রধান ও অন্যান্য নির্বাচন কমিশনারদের যোগ্যতা-অযোগ্যতার মানদণ্ড নির্ধারিত করে দেওয়া যেত। ফলে কমিটি তাদের বাছাইপ্রক্রিয়ায় এসব মানদণ্ড ব্যবহার করে যথাযথ ব্যক্তিদের নাম সুপারিশ করতে পারত। প্রশ্ন, কমিটি কী মানদণ্ডের ভিত্তিতে, কাদের নাম সুপারিশ করবে? আইনের মাধ্যমে নির্ধারিত করে দিলে রাজনৈতিক দল এবং অন্য নাগরিকেরাও এসব ক্রাইটেরিয়ার ভিত্তিতে কমিশনে নিয়োগের জন্য নাম প্রস্তাব করতে পারত। প্রসঙ্গত, সংবিধানের ১১৮(১) অনুচ্ছেদে নির্বাচন কমিশনে নিয়োগ প্রদানের লক্ষ্যে একটি আইনপ্রণয়নের বাধ্যবাধকতা সৃষ্টি করা হয়েছে, যা গত ৪০ বছরেও কোনো সরকার বাস্তবায়ন করেনি।</p>
<p>রাষ্ট্রের সব গুরুত্বপূর্ণ পদে অধিষ্ঠিত ব্যক্তিদের যোগ্যতা-অযোগ্যতার মাপকাঠি থাকা উচিত। তা না থাকলেই বিতর্কিত ব্যক্তিরা গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগ পাওয়ার সুযোগ পান। যেমন&mdash;গত চারদলীয় জোট সরকারের আমলে সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার জন্য বিএনপির মনোনয়ন চাওয়া এক ব্যক্তিকেও নির্বাচন কমিশনার হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। তাই কমিশনে নিয়োগ প্রদানের জন্য আইনপ্রণয়নের কোনো বিকল্প নেই।</p>
<p>এ ধরনের আইনপ্রণয়ন খুব কঠিন কাজ নয়। বর্তমান নির্বাচন কমিশন গত বছর দুই পৃষ্ঠার এমন একটি আইনের খসড়া প্রকাশও করেছিল। শোনা যায়, সরকারের কাছে প্রেরিত রাষ্ট্রপতির প্রস্তাবেও একটি আইনের খসড়া অন্তর্ভুক্ত ছিল। সংসদ অধেবেশন ছিল না বলে, অধ্যাদেশ আকারে এটি জারি করা যেত। কিন্তু কেন সরকার তা করতে রাজি হলো না, তা আমাদের বোধগম্য নয়।</p>
<p>এ ছাড়া আইনের মাধ্যমে কমিটি কী অনুসন্ধান করবে তা নির্ধারিত থাকলে অতীতের ভুলত্রুটি ও বিতর্ক এড়ানো যেত। যেমন&mdash;বর্তমান সরকারের আমলে অনুসন্ধান কমিটির মাধ্যমে তথ্য কমিশন, দুর্নীতি দমন কমিশন ও মানবাধিকার কমিশনে যেসব নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, তাঁদের অনেকের বিরুদ্ধেই দলপ্রীতির অভিযোগ রয়েছে।</p>
<p>আইনের মাধ্যমে অনুসন্ধান কমিটির কার্যপদ্ধতিও নির্ধারিত করা যেত। আইনে স্বচ্ছ পদ্ধতিতে কমিশনের কার্যক্রম পরিচালনা করার নির্দেশনা থাকলেও অনেক বিতর্ক এড়ানো যেত। দ্বিতীয় প্রশ্ন, নির্বাচিত প্রতিনিধিদের কেন নির্বাচন কমিশনে নিয়োগের সিদ্ধান্তের সঙ্গে সম্পৃক্ত করা হলো না? নির্বাচন কমিশনের প্রস্তাবে পাঁচ সদস্যবিশিষ্ট অনুসন্ধান কমিটির সুপারিশ সংসদের কার্য উপদেষ্টা কমিটির কাছে এবং কার্য উপদেষ্টা কমিটি নিয়োগের জন্য চূড়ান্ত নামের তালিকা রাষ্ট্রপতির কাছে প্রেরণের কথা। যে সরকার নির্বাচিত প্রতিনিধিদের ওপর আস্থা স্থাপনের লক্ষ্যে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বাতিল করল, সে সরকার কোন যুক্তিতে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের এ কাজে সম্পৃক্ত করা থেকে বিরত থাকল? কার্য উপদেষ্টা কমিটিকে যুক্ত না করা হলেও কেন প্রধানমন্ত্রী ও বিরোধীদলীয় নেত্রীর অন্তত একজন করে প্রতিনিধিকে অনুসন্ধান কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত করা হলো না? উপযুক্ত ব্যক্তিদের কমিটিতে রাখার সুপারিশ যেহেতু রাষ্ট্রপতির প্রস্তাবে ছিল, তাই এটি সহজেই করা যেত।</p>
<p>আর অনির্বাচিত ব্যক্তিদের নিয়েই যদি অনুসন্ধান কমিটি হবে, তাহলে এতে গণমাধ্যম ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিদের অন্তর্ভুক্ত করা হলো না কেন? তা করা হলে কমিটি আরও গ্রহণযোগ্যতা পেত। তৃতীয় প্রশ্ন, কেন বিচারপতিদের অনুসন্ধান কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত করা হলো? অনেকেরই স্মরণ আছে যে তত্ত্বাবধায়ক সরকার বিষয়ে মামলার সংক্ষিপ্ত আদেশে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ বিচার বিভাগকে তত্ত্বাবধায়ক সরকার থেকে দূরে রাখার আকুতি জানিয়েছিলেন। বিচার বিভাগের ওপর বিরূপ প্রভাবের করণেই তা করা হয়েছিল। তাই বর্তমান কমিটিতে দুজন বিচারপতিকে অন্তর্ভুক্ত করার কোনো যুক্তি খুঁজে পাই না।</p>
<p>এ ছাড়া উচ্চ আদালতে অনেক বিচারক থাকতে কেন প্রধান বিচারপতি এই দুজন বিচারপতির নাম অনুসন্ধান কমিটিতে অন্তর্ভুক্তির প্রস্তাব করলেন? অত্যন্ত সংকোচের সঙ্গেই বলছি, এই দুজন বিচারপতির একজন বর্তমান ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের প্যানেলে ঢাকা বারের সাধারণ সম্পাদক ও সভাপতি নির্বাচিত হয়েছিলেন। ২০০৯ সালের জানুয়ারি মাসে তিনি ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এবং জুন মাসে হাইকোর্টের বিচারক হিসেবে নিয়োগ পান (নিউ এজ, ২৮ জানুয়ারি ২০১২)। এ ছাড়া কমিটির আরেকজন সদস্যের বিরুদ্ধেও দলপ্রীতির অভিযোগ রয়েছে।</p>
<p>আমাদের অন্য আরেকটি প্রশ্ন, কেন সরকার রাষ্ট্রপতির প্রস্তাব উপেক্ষা করে তাঁর প্রতি অমর্যাদা প্রদর্শন করল? কেন দুর্নীতি দমন কমিশনের চেয়ারম্যানকে অনুসন্ধান কমিটি থেকে বাদ দেওয়া হলো? সরকার অবশ্য বলতে পারে যে অনুসন্ধান কমিটিতে শুধু সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদেরই অন্তর্ভুক্ত করেছে। তা-ই যদি হয়, তাহলে প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে যুক্ত করা হলো না কেন? আমাদের প্রধান ও অন্যান্য নির্বাচন কমিশনার তো বহু সময়, শ্রম ও মেধা ব্যয় করে কমিশনকে একটা মর্যাদার আসনে প্রতিষ্ঠিত করেছেন এবং প্রতিষ্ঠানটির ওপর তাঁদের এক ধরনের &lsquo;মালিকানাবোধ&rsquo; সৃষ্টি হয়েছে। ফলে তাঁরা সাধারণত চাইবেন না বিতর্কিত ব্যক্তিরা নিয়োগ পেয়ে এর সুনাম নষ্ট করে&mdash;এতে তাঁদের &lsquo;লিগেসি&rsquo; বা যোগ্য উত্তরাধিকারের প্রশ্ন জড়িত। এ ছাড়া সরকারের নিয়ন্ত্রণাধীন বলেই কি কমিশনের সচিবালয়ের পরিবর্তে মন্ত্রিপরিষদের ওপর কমিটিকে সাচিবিক সহায়তা প্রদানের দায়িত্ব প্রদান করা হয়েছে?</p>
<p>সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত হলেই কোনো ব্যক্তি সৎ ও সাধু হয়ে যান না। আমাদের সংবিধানিক প্রতিষ্ঠানে নিয়োগপ্রাপ্ত অনেক ব্যক্তির বিরুদ্ধেই দলপ্রীতির অভিযোগ রয়েছে। এসব ব্যক্তি সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের ঢালের আড়ালে থেকে দলপ্রীতির চর্চা করেন, যার দীর্ঘমেয়াদি পরিণতি অত্যন্ত ভয়াবহ। কারণ এর মাধ্যমে এসব প্রতিষ্ঠানের ওপর নাগরিকদের আস্থাহীনতা সৃষ্টি হয়।</p>
<p>এটি সুস্পষ্ট যে একটি অনাকাঙ্ক্ষিত বিতর্কের মধ্য দিয়ে অনুসন্ধান কমিটি গঠিত এবং এর যাত্রা শুরু হয়েছে। তদুপরি অতীতের অনুসন্ধান কমিটিগুলোর পক্ষপাতদুষ্ট আচরণ নবগঠিত কমিটির সামনে একটি বড় চ্যালেঞ্জের সৃষ্টি করেছে। চ্যালেঞ্জটি হলো&mdash;একটি নিরপেক্ষ ও শক্তিশালী নির্বাচন কমিশন গঠন করা। স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতার ভিত্তিতে দায়িত্ব পালনের মাধ্যমেই কমিটি এ চ্যালেঞ্জে উত্তীর্ণ হতে পারবে।</p>
<p>পশ্চিমের অনেক দেশেই &lsquo;সানশাইন ল&rsquo; রয়েছে। এমন আইনের ফলে সীমিত কিছু বিষয় ছাড়া সরকারি প্রতিষ্ঠানের সব সিদ্ধান্তই প্রকাশ্য সভায় গ্রহণ করতে হয়। এর মূল উদ্দেশ্য হলো সিদ্ধান্ত গ্রহণে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা। তাই আমরা প্রস্তাব করছি অনুসন্ধান কমিটির সভাগুলো উন্মুক্ত করার জন্য, যাতে রাজনৈতিক দল, গণমাধ্যম ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা এগুলোতে উপস্থিত থাকতে পারেন।</p>
<p>স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার আরেকটি পন্থা হতে পারে&mdash;অনুসন্ধান কমিটির বিবেচনাধীন ও রাষ্ট্রপতির কাছে সুপারিশ করা নামগুলো এবং সুপারিশের পেছনে যুক্তিসহ প্রকাশ করা। তা করা হলে বিবেচনাধীন ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে যদি কারও কোনো গুরুতর অভিযোগ থাকে, তা প্রকাশ পাবে এবং যোগ্য ব্যক্তিদের কমিশনে নিয়োগের পথ সুগম হবে। এ লক্ষ্যে কমিটি গণশুনানিরও ব্যবস্থা করতে পারে। কমিটির যেহেতু নিজ কার্যপদ্ধতি নির্ধারণের এখতিয়ার রয়েছে, তাই কমিটি চাইলেই এর কার্যক্রমে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে পারবে।</p>
<p>আমরা আশা করি যে অনুসন্ধান কমিটি তার ওপর অর্পিত গুরুদায়িত্বের কথা এবং দায়িত্বটি সম্পূর্ণ নিরপেক্ষতার সঙ্গে পালন না করার পরিণতি সম্পর্কে সজাগ থাকবে। আমরা জানি, আমাদের বিদ্যমান রাজনৈতিক অপসংস্কৃতির কারণে কমিটি যাঁদের নামই প্রস্তাব করুক না কেন, বিরোধী দল বিনা দ্বিধায় তাঁদেরকে প্রত্যাখ্যান করবে। তবে দলনিরপেক্ষ নাগরিক সমাজ ও গণমাধ্যমের কাছে যদি অনুসন্ধান কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে কমিশনে নিয়োগপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা বিতর্কিত বলে প্রতীয়মান হন, তাহলে আমরা আরও গভীর সংকটের দিকে ধাবিত হব, যা জাতির জন্য কোনোভাবেই মঙ্গল বয়ে আনবে না। <br />
	ড. বদিউল আলম মজুমদার: সম্পাদক, সুজন&mdash;সুশাসনের জন্য নাগরিক।</p>
<p>সূত্র: প্রথম আলো, ৩০ জানুয়ারি ২০১২</p>
]]></content:encoded>
			<wfw:commentRss>http://shujan.org/forum/?feed=rss2&#038;p=1835</wfw:commentRss>
		<slash:comments>0</slash:comments>
		</item>
		<item>
		<title>বর্তমান সদস্যদের পুনর্নিয়োগের বৈধতা</title>
		<link>http://shujan.org/forum/?p=1833</link>
		<comments>http://shujan.org/forum/?p=1833#comments</comments>
		<pubDate>Tue, 24 Jan 2012 11:20:16 +0000</pubDate>
		<dc:creator>সবুজ</dc:creator>
				<category><![CDATA[ড. বদিউল আলম মজুমদার]]></category>
		<category><![CDATA[লেখালেখি]]></category>
		<category><![CDATA[নির্বাচন সংক্রান্ত]]></category>

		<guid isPermaLink="false">http://shujan.org/forum/?p=1833</guid>
		<description><![CDATA[বদিউল আলম মজুমদার &#124; তারিখ: ২৪-০১-২০১২ নির্বাচন কমিশনে নিয়োগ নিয়ে বিতর্ক এড়াতে মহামান্য রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমান সমপ্রতি ২৩টি রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সংলাপের আয়োজন করেছেন। গণমাধ্যমের রিপোর্ট থেকে জানা যায়, সংলাপে অংশগ্রহণকারী কিছু দল বর্তমান প্রধান নির্বাচন কমিশনার শামসুল হুদাকে পুনর্নিয়োগ প্রদানের সুপারিশ করেছে। আবার কিছু দল পুরো কমিশনকেই রাখার পক্ষে মত দিয়েছে। অনেক প্রতিকূলতা সত্ত্বেও [...]]]></description>
			<content:encoded><![CDATA[<p><a href="http://www.prothom-alo.com/detail/date/2012-01-24/news/218912"><img alt="" class="alignleft size-full wp-image-1506" height="75" src="http://shujan.org/forum/wp-content/uploads/Prothom-Alo-_-Most-popular-bangla-daily-newspaper-Home.png" title="Prothom Alo _ Most popular bangla daily newspaper - Home" width="306" /></a></p>
<p>বদিউল আলম মজুমদার | তারিখ: ২৪-০১-২০১২</p>
<p>	নির্বাচন কমিশনে নিয়োগ নিয়ে বিতর্ক এড়াতে মহামান্য রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমান সমপ্রতি ২৩টি রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সংলাপের আয়োজন করেছেন। গণমাধ্যমের রিপোর্ট থেকে জানা যায়, সংলাপে অংশগ্রহণকারী কিছু দল বর্তমান প্রধান নির্বাচন কমিশনার শামসুল হুদাকে পুনর্নিয়োগ প্রদানের সুপারিশ করেছে। আবার কিছু দল পুরো কমিশনকেই রাখার পক্ষে মত দিয়েছে।</p>
<p>	অনেক প্রতিকূলতা সত্ত্বেও গত পাঁচ বছরে বর্তমান কমিশন অত্যন্ত প্রশংসনীয়ভাবে তাদের দায়িত্ব পালন করেছে। কিছু ভুলভ্রান্তি সত্ত্বেও কমিশন সফলতা ও নিরপেক্ষতার একটি উঁচু মানদণ্ড স্থাপন এবং দেশের বিরাট জনগোষ্ঠীর সমর্থন অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে বলে আমার বিশ্বাস। বস্তুত, আমি মনে করি যে বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে বর্তমান কমিশন থেকে অধিক করিৎকর্মা ও নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশন পাওয়া হবে প্রায় অসম্ভব। তবে প্রস্তাব দুটি কিছু গুরুতর সাংবিধানিক প্রশ্নের জন্ম দেয়।<br />
	সংলাপে প্রদত্ত পুনর্নিয়োগের প্রস্তাবের পর এ বিষয়ে ব্যাপক গুজব শুরু হয়েছে। গুজবের সঙ্গে সঙ্গে শুরু হয়েছে নতুন বিতর্ক। একদল বিশেষজ্ঞ দাবি করছেন যে প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও অন্য দুজন নির্বাচন কমিশনার ছহুল হোসাইন ও ব্রিগেডিয়ার (অব.) শাখাওয়াত হোসেনকে পুনর্নিয়োগ প্রদানের ক্ষেত্রে কোনো সাংবিধানিক বাধা নেই। পক্ষান্তরে অন্য একদল বিশেষজ্ঞ মনে করেন যে এমন সিদ্ধান্ত হবে অর্বাচীন ও সংবিধানের লঙ্ঘন।</p>
<p>	আমাদের সংবিধানের ১১৮(৩) অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে: &lsquo;এই সংবিধানের বিধানাবলি-সাপেক্ষে কোনো নির্বাচন কমিশনারের পদের মেয়াদ তাঁহার কার্যভার গ্রহণের তারিখ হইতে পাঁচ বৎসরকাল হইবে এবং (ক) প্রধান নির্বাচন কমিশনার পদে অধিষ্ঠিত ছিলেন, এমন কোনো ব্যক্তি প্রজাতন্ত্রের কর্মে নিয়োগলাভের যোগ্য হইবেন না; (খ) অন্য কোনো নির্বাচন কমিশনার অনুরূপ পদে কর্মাবসানের পর প্রধান নির্বাচন কমিশনাররূপে নিয়োগলাভের যোগ্য হইবেন, তবে অন্য কোনোভাবে প্রজাতন্ত্রের কর্মে নিয়োগলাভের যোগ্য হইবেন না।&rsquo;<span id="more-1833"></span> </p>
<p>	আপাতত দৃষ্টিতে মনে হয় যে একজন নির্বাচন কমিশনারকে প্রধান নির্বাচন কমিশনার হিসেবে নিয়োগ প্রদান ব্যতীত কমিশনের অন্য সদস্যদের পুনর্নিয়োগ হবে অসাংবিধানিক। কারণ, প্রধান নির্বাচন কমিশনার হিসেবে যিনি একবার নিয়োগপ্রাপ্ত ছিলেন, তিনি দ্বিতীয়বারের জন্য প্রজাতন্ত্রের কর্মে নিয়োগ লাভের অযোগ্য। তেমনিভাবে নির্বাচন কমিশনারদের মধ্যে যিনি/যাঁরা প্রধান নির্বাচন কমিশনার হিসেবে নিয়োগপ্রাপ্ত নন, তিনি/তাঁরাও প্রজাতন্ত্রের কর্মে নিয়োগ লাভের অযোগ্য।</p>
<p>	কিন্তু প্রজাতন্ত্রের কর্মের সংজ্ঞা কী? সংবিধানের ১৫২ অনুযায়ী, &lsquo;প্রজাতন্ত্রের কর্ম&rsquo; অর্থ &lsquo;অসামরিক বা সামরিক ক্ষমতায় বাংলাদেশ সরকার-সংক্রান্ত যেকোনো কর্ম, চাকরি বা পদ এবং আইনের দ্বারা প্রজাতন্ত্রের কর্ম বলিয়া ঘোষিত হইতে পারে, এই রূপ অন্য কোনো কর্ম।&rsquo; তবে সংবিধানের ১৪৭(৩)(৪) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, স্পিকার, ডেপুটি স্পিকার, মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, উপমন্ত্রী, সুপ্রিম কোর্টের বিচারক, মহাহিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক, নির্বাচন কমিশনার ও সরকারি কর্মকমিশনের সদস্যরা লাভজনক পদ বা মর্যাদায় অধিষ্ঠিত ব্যক্তি বা সরকারি কর্মচারী বলে গণ্য হবেন না। অর্থাৎ রাষ্ট্রের সংযুক্ত তহবিল থেকে বেতন-ভাতা পাওয়া সত্ত্বেও, সংবিধান অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, স্পিকার, ডেপুটি স্পিকার, মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, উপ-মন্ত্রী, সুপ্রিম কোর্টের বিচারক, মহাহিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক, নির্বাচন কমিশনার ও সরকারি কর্মকমিশনের সদস্যরা প্রজাতন্ত্রের কর্মে নিয়োজিত নন। ফলে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পুনর্নিয়োগের ব্যাপারে সাংবিধানিক কোনো বাধা নেই বলেই মনে হয়, যদিও সংবিধানের ১১৮(৩) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী কমিশনারদের মধ্যে যিনি/যাঁরা প্রধান নির্বাচন কমিশনার হিসেবে নিয়োগপ্রাপ্ত নন, তাঁর/তাঁদের পুনর্নিয়োগের ব্যাপারে প্রতিবন্ধকতা বিদ্যমান। তবে এটিই শেষ কথা নয়।</p>
<p>	বিচারপতি এম এ আজিজের প্রধান নির্বাচন কমিশনার হিসেবে নিয়োগ-সংক্রান্ত মামলায় [অ্যাডভোকেট রুহুল কুদ্দুস ও অন্যান্য বনাম বিচারপতি এম এ আজিজ ও অন্যান্য, ৬০ ডিএলআর (২০০৮)] বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হক ও বিচারপতি এস এম জিয়াউল করিম সমন্বয়ে গঠিত ডিভিশন বেঞ্চ সংবিধানের ১৪৭(৩)(৪) অনুচ্ছেদের ভিন্ন ব্যাখ্যা দিয়েছেন। তাঁদের মতে, যাঁরা রাষ্ট্রের সংযুক্ত তহবিল থেকে পারিশ্রমিক পান, তাঁরা অবশ্যই প্রজাতন্ত্রের কর্মে নিয়োজিত।</p>
<p>	রায়ে সুস্পষ্টভাবে বলা হয়েছে: &lsquo;প্রজাতন্ত্রের কর্ম&mdash;পারিশ্রমিক&mdash;সংবিধানের ১৪৭ অনুচ্ছেদের ৪ উপ-অনুচ্ছেদে বর্ণিত পদ অধিকারী ব্যক্তিরা নির্বাহী সরকারের অন্তর্গত নহেন। তবে প্রজাতন্ত্রের কর্মে নিয়োজিত এবং তাঁহারা ওই রূপ কর্মে নিয়োজিত রহিয়াছেন বিধায় রাষ্ট্রের সংযুক্ত তহবিল (Consolidated Fund) হইতে তাঁহাদের কর্মের বিনিময়ে পারিশ্রমিক (emoluments) পাইয়া থাকেন। যেহেতু প্রজাতন্ত্রের জন্য তাঁহারা নিজ নিজ অবস্থান হইতে কর্ম সমপাদন করেন, সেহেতু তাঁহারা সংযুক্ত তহবিল হইতে আইন দ্বারা নির্দিষ্ট হারে পারিশ্রমিক পাইয়া থাকেন। তাঁহারা প্রজাতন্ত্রের জন্য কর্ম সমপাদন না করিলে সংযুক্ত তহবিল হইতে কোনো পারিশ্রমিক পাইবার অধিকারী হইতেন না।&rsquo;</p>
<p>	অর্থাৎ সংবিধানের ১৪৭(৩)(৪) অনুচ্ছেদের ব্যতিক্রমী বিধান সত্ত্বেও আদালতের মতে, প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও অন্যান্য নির্বাচন কমিশনার প্রজাতন্ত্রের কর্মে নিয়োজিত। প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও নির্বাচন কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালনই তাঁদের জন্য প্রজাতন্ত্রের কর্ম। তাই একবার প্রধান নির্বাচন কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালনের পর তিনি প্রধান নির্বাচন কমিশনারসহ প্রজাতন্ত্রের সকল পদে নিয়োগের অযোগ্য হবেন। তেমনিভাবে নির্বাচন কমিশনার হিসেবে একবার দায়িত্ব পালনের পর কোনো ব্যক্তি প্রধান নির্বাচন কমিশনার ছাড়া নির্বাচন কমিশনারসহ প্রজাতন্ত্রের অন্য সকল পদে নিয়োগের অযোগ্য হবেন।</p>
<p>	সংবিধানের মর্মার্থ বা মূলবাণী হলো যে নির্বাচন কমিশন স্বাধীন ও নিরপেক্ষভাবে কাজ করবে। সংবিধান বিশেষজ্ঞ মাহমুদুল ইসলামের ভাষায়, প্রধান নির্বাচন কমিশনার ছিলেন এমন ব্যক্তি পুনরায় প্রজাতন্ত্রের কর্মে নিয়োগ লাভের অযোগ্য হবেন এবং নির্বাচন কমিশনার ছিলেন এমন ব্যক্তি প্রধান নির্বাচন কমিশনার ছাড়া অন্য কোনোভাবে প্রজাতন্ত্রের নিয়োগে অযোগ্য হবেন [মাহমুদুল ইসলাম, কনস্টিটিউশনাল ল অব বাংলাদেশ, দ্বিতীয় সংস্করণ, (মল্লিক ব্রাদার্স, ২০০৮), পৃ. ৬৮৮]। অর্থাৎ আমাদের সংবিধান প্রণেতারা একজন নির্বাচন কমিশনার ছাড়া&mdash;যাঁকে প্রধান নির্বাচন কমিশনার হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হবে&mdash;প্রধান নির্বাচন কমিশনারসহ অন্য কমিশনারদের মেয়াদ এক টার্মের জন্য নির্ধারিত করে দিয়েছেন। এর কারণ হলো, কমিশনের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে ভবিষ্যতে পুনর্নিয়োগের আশায় যেন তাঁরা প্রলুব্ধ না হয়ে স্বাধীন ও নির্মোহভাবে কাজ করতে সক্ষম হন।</p>
<p>	প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও অন্য দুই কমিশনারকে পুনর্নিয়োগ প্রদানের লক্ষ্যে অবশ্য সংবিধান সংশোধন করা যেতে পারে। অতীতের অনেকগুলো সংবিধান সংশোধনই রাষ্ট্রের পরিবর্তে ব্যক্তির স্বার্থে করা হয়েছে, যার পরিণতি অনেক ক্ষেত্রে সুখকর ছিল না। আমরা আবারও কি সেই পথে হাঁটব? তিনজন ব্যক্তির জন্য কি সংবিধান সংশোধন করব? শুভবুদ্ধিসম্পন্ন নাগরিকদের অনেকেই এমন প্রচেষ্টার সঙ্গে একমত হবেন না। এ ছাড়া সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমে পুনর্নিয়োগপ্রাপ্ত কমিশনের সদস্যরাও নতুন বিতর্কের মুখোমুখি হবেন, যা তাঁদের দায়িত্ব পালনে অহেতুক প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করবে বলে আমার বিশ্বাস।</p>
<p>	পরিশেষে, উপরিউক্ত বিশ্লেষণ থেকে এটি সুস্পষ্ট যে বর্তমান প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও অন্য একজন নির্বাচন কমিশনারকে কমিশনে পুনর্নিয়োগ প্রদান হবে সংবিধানের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন, যদিও একজন নির্বাচন কমিশনারকে প্রধান নির্বাচন কমিশনার হিসেবে নিয়োগ দেওয়া যাবে। অতীতের বলিষ্ঠ ও নিরপেক্ষ ভূমিকার কারণে তাঁদের পুনর্নিয়োগ দেওয়া গেলে আমি নিজেও খুশি হতাম, কিন্তু বৃহত্তর স্বার্থে আমাদের সংবিধান মেনে চলতে এবং দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় নিবেদিত হতে হবে। তাই তাঁদের পুনর্নিয়োগের উদ্যোগ থেকে সরকারের বিরত থাকাই হবে বাঞ্ছনীয়। আর আমি যতটুকু জানি, কমিশনের বর্তমান সদস্যরাও তাঁদের পুনর্নিয়োগের ব্যাপারে আগ্রহী নন।<br />
	ড. বদিউল আলম মজুমদার: সম্পাদক, সুজন&mdash;সুশাসনের জন্য নাগরিক।</p>
<p>সূত্র: প্রথম আলো, ২৪ জানুয়ারি ২০১২</p>
]]></content:encoded>
			<wfw:commentRss>http://shujan.org/forum/?feed=rss2&#038;p=1833</wfw:commentRss>
		<slash:comments>0</slash:comments>
		</item>
	</channel>
</rss>

