আজ ২৪ জানুয়ারি ২০১৩, সকাল ১০ টায়, জাতীয় প্রেস ক্লাবের ভিআইপি লাউঞ্জে, সুজনে’র উদ্যোগে ‘দিনবদলের সনদের চার বছর’ শীর্ষক একটি গোলটেবিল বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সভাপতি জনাব এম হাফিজ উদ্দিন খানের সঞ্চালনায় বৈঠকে মূল প্রবন্ধ উপস’াপন করেন সুজন সম্পাদক ড. বদিউল আলম মুজমদার। বৈঠকে উপসি’ত ছিলেন জনাব সাবেক মন্ত্রী পরিষদ সচিব ও সুজন নির্বাহী সদস্য আলী ইমাম মজুমদার, রাজনীতিবিদ জনাব সরদার আমজাদ হোসেন ও জনাব হুমায়ূন কবির হিরু, জনাব নুরুল কাদির, সুজন সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার, পরিবেশ আন্দোলনের সাথে সম্পৃক্ত জনাব নাজিমউদ্দিন, সাংবাদিক মুনির হায়দার, আবুল হাসনাত, রাজনীতিবিদ মানবেন্দ্র দেব, সেন্ট জোসেফ স্কুলের শিক্ষক জনাব দীপক সরকার, জনাব বাহরাইন সুলতান বাহার, জনাব শামীম আরা নীপা প্রমূখ। Continue reading
সুজনের দশম বর্ষপূর্তি ও জাতীয় সম্মেলনে বিচারপতি মুহাম্মদ হাবিবুর রহমানের বক্তব্য
সুজনের দশম বর্ষপূর্তি ও জাতীয় সম্মেলন উপলক্ষে বিচারপতি মুহাম্মদ হাবিবুর রহমানের বক্তব্য
(০৫ জানুয়ারি, ২০১৩)
একটি রাষ্ট্রের কিছু সার্বভৗম অধিকার আছে। ঐতিহ্যগতভাবে সেই অধিকারকে তিনভাগে ভাগ করা হয় – নির্বাহী ক্ষমতা, আইন প্রণয়ন ক্ষমতা ও বিচারিক ক্ষমতা। এই তিন ক্ষমতার মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করার জন্য পৃথকীকরণের কথা বলা হয়েছে। যেন কোনো একটি বিভাগ অতিরিক্ত ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে ক্ষমতার অপব্যবহার করে দেশের নাগরিকদের জীবন বিপন্ন করে তুলতে না পারে। রাষ্ট্র ক্ষমতার এই হরাইজন্টাল বা সমান-রাল পৃথকীকরণের পাশাপাশি ভার্টিকাল বা উলম্ব পৃথকীকরণের কথা আলোচিত হচ্ছে। যেটি হচ্ছে, রাষ্ট্রের শীর্ষ বিন্দু থেকে সর্বনিম পর্যায়ে রাষ্ট্র ক্ষমতার এমন বিন্যাস করতে হবে যেখানে স্বায়ত্বশাসন ও বিকেন্দ্রীকরণের মাধ্যমে সাধারণ নাগরিক কেন্দ্রীয় ও স’ানীয়, উভয় সরকারের সুপরিচালনায় সমৃদ্ধ হতে পারে। Continue reading
‘সুজনে’র চতুর্থ জাতীয় সম্মেলন ও দশম বর্ষপূর্তি সফলভাবে সম্পন্ন
নির্বাচন কমিশনের প্রস্তাব নিয়ে সংশয়
বদিউল আলম মজুমদার | তারিখ: ২৩-১১-২০১২
১১ নভেম্বর ২০১২ তারিখের প্রথম আলোয় প্রকাশিত দুটি সংবাদের শিরোনাম আমাদের মনে দারুণ সংশয়ের সৃষ্টি করেছে। শিরোনাম দুটি হলো: ‘সব মন্ত্রণালয়ের কর্তৃত্ব চাওয়া হবে: ইসি এখন নিজেকে যথেষ্ট ক্ষমতাধর মনে করছে না’, এবং ‘সংসদ নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন: তিন বছর সদস্য থাকার বিধান বাতিলের চেষ্টা’। এসব সম্ভাব্য সিদ্ধান্ত বর্তমান নির্বাচন কমিশনের অতীত অবস্থানের সঙ্গে শুধু অসংগতিপূর্ণই নয়, এগুলো কিছু গুরুতর আশঙ্কারও উদ্রেক করে।
প্রতিবেদক তাঁর প্রতিবেদনেই উল্লেখ করেছেন, গত জুন মাসে মাননীয় প্রধান নির্বাচন কমিশনার দাবি করেছিলেন যে কমিশন সাংবিধানিকভাবে যথেষ্ট শক্তিশালী এবং নির্বাচন পরিচালনার জন্য আর ক্ষমতা বাড়ানোর প্রয়োজন নেই। গত নির্বাচন কমিশন যে চারটি মন্ত্রণালয়ের ওপর নির্বাচনকালে কমিশনের কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব করেছিল, তিনি তারও বিরোধিতা করেছিলেন। তিনি দাবি করেছিলেন যে ওই সব মন্ত্রণালয়ের ওপর কর্তৃত্ব বাড়াতে গেলে সাংবিধানিকভাবে অর্পিত দায়িত্ব কমিশনের পক্ষে পালন করা সম্ভব হবে না। কিন্তু কোনো এক অজানা কারণে অতীতের অবস্থান থেকে সরে এসে কমিশন এখন সব মন্ত্রণালয়ের ওপর তাদের কর্তৃত্ব দাবি করার কথা ভাবছে।
বাংলাদেশ সংবিধানের ১১৯ অনুচ্ছেদ নির্বাচন কমিশনের ওপর চারটি সুনির্দিষ্ট দায়িত্ব অর্পণ করেছে: (১) রাষ্ট্রপতি পদে নির্বাচন অনুষ্ঠান; (২) সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠান; (৩) সংসদীয় আসনের সীমানা পুনর্নির্ধারণ; এবং (৪) রাষ্ট্রপতি ও সংসদ নির্বাচনের ভোটার তালিকা প্রস্তুতকরণ। সংবিধানের অন্য কোনো অনুচ্ছেদ বা আইনের দ্বারা অর্পিত দায়িত্ব পালন করতেও কমিশন অবশ্য বাধ্য।
পক্ষান্তরে, আমাদের সংবিধানের ১২৬ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, নির্বাচন কমিশনকে দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে সহায়তা করা সব নির্বাহী কর্তৃপক্ষের জন্য অবশ্যকরণীয়। অর্থাৎ সংবিধান নির্বাচন কমিশন ও নির্বাচনকালীন সরকারের দায়িত্ব সুস্পষ্ট করে দিয়েছে: কমিশনের দায়িত্ব নির্বাচন পরিচালনা এবং নির্বাচনসংক্রান্ত আনুষঙ্গিক দায়িত্ব পালন করা; আর সরকারের দায়িত্ব সে কাজে কমিশনকে সহায়তা করা। সরকার পরিচালনা কিংবা কোনো মন্ত্রণালয়ের ওপর কর্তৃত্ব করা কমিশনের কাজ নয়। তাই মন্ত্রণালয়ের ওপর কমিশনের এ ধরনের কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব হবে আমাদের সংবিধানিক স্কিমের সঙ্গে অসংগতিপূর্ণ। এ কারণে আমরা বর্তমান প্রধান নির্বাচন কমিশনারের গত জুন মাসের বক্তব্যের সঙ্গে একমত যে মন্ত্রণালয় পরিচালনার দায়িত্ব পালন করতে গেলে সংবিধান নির্দেশিত নির্বাচনসংক্রান্ত মূল দায়িত্ব পালনই কমিশনের পক্ষে অসম্ভব হয়ে পড়বে। Continue reading
হলমার্ক জালিয়াতি রাজনৈতিক দুবৃর্ত্তায়নেরই প্রতিফলন – গোলটেবিল বৈঠকে বক্তাগণ
হলমার্ক জালিয়াতি রাজনৈতিক দুবৃর্ত্তায়নেরই প্রতিফলন সুজনের গোলটেবিল বৈঠকে বক্তারা এই অভিমত ব্যক্ত করেন। গত ৭ অক্টোবর ২০১২, সকাল ১০ টায়,জাতীয় প্রেস ক্লাবের ভিআইপি লাউঞ্জে, হলমার্ক জালিয়াতি,রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক এবং ব্যাংকিং খাতের ভবিষ্যতশীর্ষকগোলটেবিল বৈঠকটি বিচারপতি কাজী এবাদুল হকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হয়। সুজন সম্পাদক ড. বদিউল আলম মুজমদারের সঞ্চালনায় বৈঠকে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ব্র্যাক বিজনেস স্কুলের ডিরেক্টর এবং অর্থনৈতিক বিশ্লেষক জনাব মামুন রশীদ।
উপনির্বাচন থেকে জাতীয় নির্বাচনের শিক্ষা
বদিউল আলম মজুমদার | তারিখ: ২৬-১০-২০১২
গত ৩০ সেপ্টেম্বর গাজীপুর-৪ আসনের উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়ে গেল। এটি সরকারের মেয়াদের শেষ সময়ের নির্বাচন। তাই অনেকের মতে, এটি ছিল কম গুরুত্বপূর্ণ। এ ছাড়া এতে প্রধান বিরোধী দল অংশ নেয়নি, তাই এর মাধ্যমে সরকারের জনপ্রিয়তা যাচাই করারও সুযোগ ছিল না। উপরন্তু, নির্বাচনে দুই মূল প্রতিদ্বন্দ্বী শুধু নিকটাত্মীয়ই নন, তাঁরা উভয়েই ক্ষমতাসীন দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত। এসব কারণে নির্বাচনটি উত্তাপহীন হলেও এটি সম্পর্কে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষক ও গণমাধ্যমের আগ্রহ ছিল প্রবল। এই আগ্রহের মূল উৎস ছিল, নির্বাচন কমিশন এটি পরিচালনার ক্ষেত্রে কেমন কার্যকারিতা প্রদর্শন করে, তা দেখা। কারণ পুনর্গঠিত কমিশনের জন্য এটি ছিল প্রথম নির্বাচন। গণমাধ্যমের রিপোর্ট অনুযায়ী, নির্বাচনটি ছিল সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ এবং এতে কোনো ধরনের সহিংস ঘটনা ঘটেনি। এতে সরকারি দলের প্রার্থী সিমিন হোসেন রিমি তাঁরই চাচা স্বতন্ত্র প্রার্থী আফসারউদ্দীন আহমদকে ৩৭ হাজার ৫২ ভোটের ব্যবধানে পরাজিত করেছেন। রিমি পেয়েছেন ৬৩ হাজার ৪০১ ভোট, আফসারউদ্দীন ২৬ হাজার ৩৪৯ ভোট এবং বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির প্রার্থী আসাদুল্লাহ বাদল এক হাজার ৪২৮ ভোট। আমরা নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যকে অভিনন্দন জানাই।
সরকারি দলের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে যে কমিশন নিরপেক্ষতা প্রদর্শন করেছে এবং জনগণের আস্থা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে। পক্ষান্তরে বিরোধী দলের পক্ষ থেকে ঢালাওভাবে কমিশনকে ব্যর্থ বলে দাবি করা হয়েছে। পরাজিত প্রার্থীরাও লিখিতভাবে অনেক অভিযোগ উত্থাপন করে নির্বাচনী ফলাফল প্রত্যাখ্যান করেছেন। Continue reading
সুপ্রিম কোর্টের রায়: সংঘাত কি এড়ানো যাবে?
বদিউল আলম মজুমদার | তারিখ: ২৬-০৯-২০১২
১৬ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ কর্তৃক সংবিধানের ত্রয়োদশ সংশোধনী বাতিল করে দেওয়া বিভক্ত রায়টি বিতর্কিত। আমাদের আশঙ্কা যে এটি আমাদের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে ধ্বংসের দিকে নিয়ে যেতে পারে। এমনকি জাতিকে চরম বিপর্যয়ের দিকে ঠেলে দিতে পারে। এ প্রসঙ্গে একটি ঐতিহাসিক উদাহরণ টানা যেতে পারে।
আমেরিকার গৃহযুদ্ধের প্রাক্কালে ‘ড্রেড স্কট বনাম স্যানডফোর্ড’ মামলায় ১৮৫৭ সালে মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট রায় দেন যে আফ্রিকান-আমেরিকানরা (যাদের তখন নিগ্রো বলে আখ্যায়িত করা হতো) যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক নয়। তাদের আইনের আশ্রয় নেওয়ার অধিকার নেই, এমনকি মার্কিন কংগ্রেসের ক্রীতদাস প্রথা বাতিল করারও এখতিয়ার নেই। তৎকালীন প্রধান বিচারপতি রজার ব্রুক টেনির নেতৃত্বে সাত-দুই সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে প্রদত্ত রায়কে ‘ড্রেড স্কট ডিসিশন’ বলে বহুল পরিচিত এবং মার্কিন সুপ্রিম কোর্টের ইতিহাসে সর্বাধিক ধিক্কৃত সিদ্ধান্ত বলে ব্যাপকভাবে স্বীকৃত। মার্কিন প্রেসিডেন্ট আব্রাহাম লিঙ্কন এটিকে ‘এরোনিয়াস’ বা ভুল রায় বলে আখ্যায়িত করেছেন। বস্তুত, জাতির বিবেককে আঘাত হানা এ রায় দানের সময়কালকে যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্টের ইতিহাসে একটি অতি কলঙ্কজনক অধ্যায় বলে মনে করা হয়। প্রসঙ্গত, বিচারপতি খায়রুল হকের রায়েই ড্রেড স্কট বনাম স্যানডফোর্ড মামলার রায়সহ আরও অনেক ধিক্কৃত বিচারিক সিদ্ধান্তের কথা উল্লেখ আছে।
ইতিহাসবিদদের মতে, মার্কিন উচ্চ আদালতের সংখ্যাগরিষ্ঠ বিচারকেরা মনে করেছিলেন যে এ রায়ের মাধ্যমে তাঁরা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে বিরাজমান বর্ণবাদের সমস্যার সমাধান করেছেন। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত রায়ের ফল হয়েছে উল্টো। অনেক পর্যবেক্ষকের মতে, এ রায়ের কারণে সারা দেশে যে ক্ষোভ-বিক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে, তারই অবশ্যম্ভাবী পরিণতি ছিল মার্কিন গৃহযুদ্ধ। Continue reading

