‘রাজনৈতিক সংকট থেকে উত্তরণের লক্ষ্যে সংলাপ, সমঝোতা, সমাধান জরুরি’ – গোলটেবিল বৈঠকে বক্তাগণ

গত ২৮ মে ২০১২, সকাল ১০ টায়, জাতীয় প্রেস ক্লাবের ভিআইপি লাউঞ্জে, সুজনে’র উদ্যোগে ‘চলমান রাজনৈতিক সংকটের উত্তরণ কোন পথে’ শীর্ষক একটি গোলটেবিল বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানের শুরুতেই সদ্য প্রয়াত অধ্যাপক মোজাফ্‌ফর আহমদের পরলোকগত আত্মার শান্তি কামনা করে দাড়িয়ে এক মিনিট নিরবদা পালন করা হয়। সহ-সভাপতি জনাব এম হাফিজ উদ্দিন খানের সঞ্চালনায় বৈঠকে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সুজন সম্পাদক ড. বদিউল আলম মুজমদার। Continue reading

Professor Muzaffer Ahmad: In Memoriam

Munir Quddus

Professor Ahmad will be remembered as a fearless activist-scholar who was never afraid of speaking the truth. In his long and distinguished career, he served the nation as a public servant, an educator, a civil society leader and a human rights organiser. In all his wide-ranging activities he studiously tried to be above partisan politics, concerning himself solely with the welfare of the ordinary man and the society. As the condolence messages from across the political spectrum demonstrate, he was successful in staying above narrow political interests that has been the bane of the nation in recent days. In this and many other ways, he was a role model for many.

Some of us have known him as a teacher, mentor and even as a senior colleague in our student days and professional lives. As an educator, he taught business ethics and related disciplines and was a beloved teacher to a generation of students. The list of his students is long and distinguished, including Professor Muhammad Yunus, the 2006 Nobel Prize winner for peace. His students remember him as a brilliant lecturer who would always make time for them and would graciously write letters of recommendations for them as they sought career opportunities at home or abroad. As an academic administrator, for a number of years, he led the Institute of Business Administration (IBA) in Dhaka University with great distinction, building it into one of the finest centres of higher education instrumental in producing future business leaders for the country.

Although a graduate of the economics department at the University of Chicago, widely considered as the bastion of free-market economics, Professor Ahmad was well aware of the limitations of markets and those of capitalism. As an economist he worked in the area of industrial economics (including readymade garment export industry), as well as topics in political economy. Among his many rich and varied publications, by his own admission, he was most proud of his 1980 book on state enterprises co-authored with Professor Rehman Sobhan, Public Enterprise in an Intermediate Regime: A Study in the Political Economy of Bangladesh.

Over the last two decades, his untiring efforts in building a strong homegrown environment movement have been a great success. As the President of Bangladesh Paribesh Andolon (Bapa), he led a number of successful initiatives that firmly established the pro-environment movement in Bangladesh. His other prominent role in civil society was as the founding member and chairman of the board of Transparency International Bangladesh (TIB) and SUJAN, to oversee the objectives of good governance and combat the scourge of corruption in Bangladesh.

Professor Ahmad was a noted public speaker and above all a distinguished public intellectual. He was a scholar who did not confine his considerable intellect to academe, but had the courage to step into the real world to improve the lives of all Bangladeshis, especially the poor and oppressed. He will be remembered as a role model of all that is good in Bangladesh.

From: The Daily Star 28th May 2012

শোকবার্তা

বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ও সুজন সভাপতি অধ্যাপক মোজাফ্‌ফর আহমদ গত ২২ মে ২০১২ তারিখ রাতে ল্যাব এইড হাসপাতালে নেয়ার পথে মৃত্যুবরণ করেন (ইন্না লিল্লাহি….. রাজিউন।) আমরা তাঁর মৃত্যুতে গভীরভাবে শোকাহত। Continue reading

অধ্যাপক মোজাফ্ফরকে যেমন দেখেছি


বদিউল আলম মজুমদার

অধ্যাপক মোজাফ্ফর আহমদকে ষাটের দশকের মাঝামাঝি থেকে চিনি। তখন তিনি অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষক। আমি এ খ্যাতিমান প্রতিষ্ঠানে ছাত্র। সে সময়ে পাকিস্তানের স্বৈরশাসক আইয়ুব-মোনায়েমের তাঁবেদাররা অর্থনীতি বিভাগের জনপ্রিয় শিক্ষক আবু মোহামদের ওপর হামলা চালালে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া হয় এবং সবাই ধিক্কার জানাতে থাকেন। শাসকদের পৃষ্ঠপোষকতায় একজন সম্মানিত শিক্ষকের ওপর সন্ত্রাসী হামলার প্রতিবাদে অধ্যাপক মোজাফ্ফর আহমদ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকের পদ ছেড়ে দেন। অন্যায়ের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে গিয়ে তিনি জীবন-জীবিকার উৎস বিসর্জন দিতে দ্বিধা করেননি। যৌবনে তার এই যে প্রতিবাদী রূপ সেটা আমৃত্যু বজায় ছিল।

অধ্যাপক মোজাফ্ফর আহমদের সঙ্গে আরও ঘনিষ্ঠ হওয়ার সুযোগ পাই ১৯৯১ সালে দীর্ঘ প্রবাস জীবন ত্যাগ করে বাংলাদেশে ফিরে আসার পর। হাঙ্গার প্রজেক্টের সহকর্মী মুক্তা, মনোয়ার, মানিক, মডি প্রমুখের প্রচেষ্টায় এ সুযোগ সৃষ্টি হয়। ক্ষুধা-দারিদ্র্যমুক্ত বাংলাদেশ গঠনের প্রচেষ্টায় তিনি অর্থনীতিবিদ হিসেবে মূল্যবান পরামর্শ প্রদান করেন। বস্তুতই তিনি ছিলেন বড়মাপের একজন অর্থনীতিবিদ। বিশ্বখ্যাত শিকাগো বিশ্ববিদ্যালয়ে তিনি অর্থনীতি বিষয়ে পিএইচডি করেছেন। এ প্রতিষ্ঠানকে বলা হয় নোবেল লরিয়েট তৈরির কারখানা। সেখানে তিনি মিল্টন ফ্রিডম্যান, বাকার, জনসন প্রমুখ খ্যাতিমান পণ্ডিতের সংস্পর্শে আসেন। অর্থনীতি চর্চার পাশাপাশি তিনি শিক্ষার প্রসার ও মান বাড়ানো এবং সামাজিক কর্মকাণ্ডেও নিজেকে যুক্ত রাখেন।

তার সঙ্গে আরও ঘনিষ্ঠ হওয়ার সুযোগ ঘটে যখন আমরা অনেকেই এ উপলব্ধিতে আসি যে যদি রাজনীতি কলুষমুক্ত এবং সরকারি নীতি-কাঠামো দরিদ্রবান্ধব না হয় তাহলে এ দেশের অমিত সম্ভাবনা বাস্তবায়িত হবে না। এ পরিবর্তন সাধনে সৎ, যোগ্য, জনকল্যাণে নিবেদিত ব্যক্তিদের নির্বাচনে অংশগ্রহণ ও জয়ী হওয়ার সুযোগ সৃষ্টি করতে হবে। এ লক্ষ্যে ২০০২ সালে সিটিজেনস ফর ইলেকশন নামের নাগরিক সংগঠন গড়ে ওঠে। এ সংগঠন ২০০৩ সালে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের সময় ৫৫টি ইউনিয়নে প্রতিদ্বন্দ্বী চেয়্যারম্যান প্রার্থীদের যাবতীয় তথ্য সংগ্রহ করে তা ভোটারদের মধ্যে বিতরণ করা হয়। একই সঙ্গে প্রার্থীরা মুখোমুখি হন ভোটারদের। এ অভিজ্ঞতা ছিল ইতিবাচক। পরে জরিপে দেখা গেছে, এ ধরনের উদ্যোগের কারণে অনেক ভোটার তাদের সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করেছেন এবং অপেক্ষাকৃত যোগ্যরা নির্বাচিত হয়ে আসেন। এ উদ্যোগের কারণে নির্বাচনী সহিংসতাও প্রায় ঘটেনি। এর ধারাবাহিকতায় জাতীয় সংসদসহ সব ধরনের নির্বাচনে প্রার্থীদের শিক্ষা, পেশা, অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের খতিয়ান, আয়-ব্যয় ইত্যাদি সর্বসমক্ষে প্রচারের দাবি তুলি এবং তার পক্ষে জনমত সৃষ্টি করা হতে থাকে। একই সঙ্গে উচ্চ আদালত থেকেও এর সপক্ষে মেলে ঐতিহাসিক রায়। এসব কাজের ফলে ভোটারদের কাছে প্রার্থীদের যাবতীয় তথ্য তুলে ধরা সহজ হয়। Continue reading

সংঘাতময় রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে উদ্বিগ্ন দেশবাসী

ড. ব দি উ ল আ ল ম ম জু ম দা র
আমাদের রাজনৈতিক পরিস্থিতি ক্রমেই জটিল ও বিস্ফোরণোন্মুখ হয়ে উঠছে। বহুদিন থেকেই আমাদের রাজনৈতিক অঙ্গনে অসহিষ্ণুতা ও সংঘাত চলে আসছে। আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও বিরোধী দলের নেত্রী পরস্পরের ছায়া পর্যন্ত মাড়ান না। বস্তুত, বর্তমানে তারা আর রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ নন, তারা যেন এখন পরস্পরের 'শত্রুতে' পরিণত হয়েছেন, একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে যা হওয়ার কোন অবকাশ নেই। কারণ গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায়, বিশেষত সংসদীয় গণতন্ত্রে বিরোধী দলও সরকারের অংশ। আর রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা, মতবিনিময় ও সমঝোতার ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত গ্রহণই রাজনীতির মূল কথা এবং গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় সিদ্ধান্ত গ্রহণের কোন বিকল্প নেই। উপরন্তু শুধু দলের সঙ্গে দলেরই নয়, দলের এবং দলের অঙ্গ/সহযোগী সংগঠনের অভ্যন্তরেও, বিশেষত ফায়দাতন্ত্রের কারণে বিশৃংখলা ও সহিংসতা বর্তমানে চরম আকার ধারণ করেছে।

সংঘাতের রাজনীতির পরিণতি হিসেবে অতীতে কিছু রাজনৈতিক হত্যা সংঘটিত হলেও গত চারদলীয় জোট সরকারের আমলে আহসান উল্লাহ মাস্টার, শাহ এএমএস কিবরিয়া প্রমুখের হত্যার মাধ্যমে এ গর্হিত কর্মে যেন নতুন মাত্রা যুক্ত হয়। তবে সহিংসতা ও তা ধামাচাপা দেয়ার নগ্নতম রূপ প্রতিভাত হয় ২০০৪ সালে তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেতা শেখ হাসিনার ওপর গ্রেনেড হামলা এবং 'জজ মিয়া নাটক' মঞ্চস্থ করার মাধ্যমে। বিএনপি নেতা জামালউদ্দিনের নিখোঁজ হওয়া এবং আইনশৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনী তাকে জীবিত উদ্ধার করতে না পারা ছিল জোট সরকারের আমলের সহিংস রাজনীতির আরেকটি ন্যক্কারজনক ঘটনা।

গত ২৫ জুন ঢাকা সিটি কর্পোরেশনের কমিশনার ও বিএনপি নেতা চৌধুরী আলমের গুম ও তাকে আজ পর্যন্ত খুঁজে না পাওয়া অতীতের সহিংস রাজনীতির পুনরাবৃত্তিই ঘটিয়েছে। 'অধিকারে'র হিসাব মতে, শুধু গত এপ্রিল মাসেই রাজনৈতিক সহিংসতায় সারাদেশে ২৪ জন নিহত ও দুই হাজার ৫২৮ জন আহত হয়েছেন (www.odikhar.org) গত ১৭ এপ্রিল ইলিয়াস আলী ও তার ড্রাইভারের রহস্যজনক নিখোঁজের ঘটনাটি দেশব্যাপী আলোচনা-সমালোচনার ঝড় তুলেছে। এমনকি অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল এবং হিউম্যান রাইটস ওয়াচের মতো আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনও নিরপেক্ষ কমিশন গঠনের মাধ্যমে বিষয়টি তদন্ত করার জন্য সরকারের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছে। Continue reading

দুর্নীতি তদন্তে স্বচ্ছতা চাই

বদিউল আলম মজুমদার

দুর্নীতির অভিযোগে রেলমন্ত্রী হিসেবে সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত পদত্যাগ করেছেন এবং তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় এবং অন্যান্য প্রতিষ্ঠান কর্তৃক তদন্ত হচ্ছে বলে আমরা শুনেছি এবং এসব তদন্ত সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হবে বলে আমরা আশা করি, যদিও সে ব্যাপারে অনেক নাগরিকেরই সন্দেহ রয়েছে। তবে তিনি এখন দফতরবিহীন মন্ত্রী। যেহেতু সাংবিধানিকভাবে মন্ত্রিসভা সংসদের কাছে দায়বদ্ধ, তাই বর্তমান পদে তার জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার জন্য সংবিধানের ৫৫ অনুচ্ছেদের অধীনে সংসদের পক্ষ থেকে তার বিরুদ্ধে তদন্ত হওয়া উচিত বলে আমরা মনে করি।

প্রবীণ আইনজীবী ব্যারিস্টার রফিক-উল হকের মতে, সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের অর্থ কেলেঙ্কারির বিষয় ধামাচাপা দিতে বিএনপি নেতা ইলিয়াস আলী নিখোঁজের ইস্যুটি সৃষ্টি করা হয়েছে। শুধু ব্যারিস্টার হকই নন, বাংলাদেশের অনেক নাগরিকও তা বিশ্বাস করেন। উদাহরণস্বরূপ, গত ২৩ এপ্রিল ২০১২ তারিখের প্রথম আলোর অনলাইন জরিপে অংশগ্রহণকারী ১১ হাজার ২৮৪ জন উত্তরদাতার মধ্যে ৮০ শতাংশই ব্যারিস্টার হকের মতামতের প্রতি সমর্থন প্রদান করেন। একই ইস্যুতে যুগান্তরের একই দিনের অনলাইন জরিপে ৭৪ শতাংশ উত্তরদাতা একই মতামত ব্যক্ত করেন।

আমরা জানি না, ইলিয়াস আলী নিখোঁজের পেছনে সরকারের কোনো হাত রয়েছে কি-না এবং সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার জন্য সরকার তা করেছে কি-না। যদিও তা ভাবতেই কষ্ট হয়, তবে সংবাদপত্রের অনলাইন জরিপের ফলাফল থেকে মনে হয়, যেন দেশের অধিকাংশ সচেতন নাগরিকের কাছে সরকারের বিরুদ্ধে এ অভিযোগটি গ্রহণযোগ্যতা পেয়েছে। কারণ সত্য হোক, মিথ্যা হোক; তারা বিশ্বাস করে ফেলছে যে, জনগণের দৃষ্টি অন্যদিকে ফেরানোর লক্ষ্যেই সরকার তা করেছে। কিন্তু সুরঞ্জিতের বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার কোনোরূপ সুযোগ নেই। বিশেষ করে যদি একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের নাগরিক বলে আমরা আমাদের দাবি অব্যাহত রাখতে চাই। Continue reading

নির্বাচন কমিশনের জন্য অগ্নিপরীক্ষা

বদিউল আলম মজুমদার | তারিখ: ১০-০৫-২০১২

সম্প্রতি প্রথম আলোতে (২৫ এপ্রিল ২০১২) প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন অনুযায়ী জানা যায়, আমাদের একজন মাননীয় সাংসদ এনামুল হক সরকারের সঙ্গে ব্যবসায়িক সম্পর্কে লিপ্ত রয়েছেন, যার ফলে তিনি সাংসদ হওয়ার এবং সংসদ সদস্য পদে থাকার যোগ্যতা হারিয়েছেন। দুদক তদন্ত করে এ ব্যাপারে নিশ্চিত হয়েছে এবং তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য নির্বাচন কমিশন ও জাতীয় সংসদের স্পিকারের কাছে বিষয়টি পাঠিয়েছে।

এনামুল হকের বিরুদ্ধে সুস্পষ্ট অভিযোগ হলো, রাজশাহীর কাটাখালীতে ভাড়াভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের জন্য তাঁর ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান নর্দান পাওয়ার সলিউশন লিমিটেড বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হয়েছে (প্রথম আলো, ১৩ আগস্ট ২০১১)। এর আগে তাঁর মালিকানাধীন এনা প্রপার্টিজ লিমিটেড ও রাজশাহী সিটি করপোরেশনের মধ্যে রাজশাহীতে বহুতল সিটি সেন্টার নির্মাণের চুক্তি হয়েছে। কিন্তু কোনো ব্যক্তি সরকার বা সরকারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে এ ধরনের ব্যবসায়িক সম্পর্কে লিপ্ত হলে আইনত তিনি সাংসদ হওয়ার এবং সে পদে থাকার যোগ্য হবেন না।

সংশোধিত গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২-এর ১২(ট) ধারা অনুযায়ী, ‘কোন ব্যক্তি (সংসদ) সদস্য হবার এবং সদস্য থাকবার যোগ্য হবেন না, যদি… তিনি কোন সমবায় সমিতি এবং সরকারের সঙ্গে চুক্তি ব্যতীত, সরকারকে পণ্য সরবরাহ করিবার জন্য বা সরকার কর্তৃক গৃহীত কোন চুক্তির বাস্তবায়ন বা সেবা কার্যক্রম সম্পাদনের জন্য, তিনি তার নিজ নামে বা ট্রাস্টি হিসেবে কোন ব্যক্তি বা ব্যক্তিবর্গের নামে বা তার সুবিধার্থে বা তার উপলক্ষে বা কোন যৌথ হিন্দু পরিবারের সদস্য হিসেবে তার কোন অংশ বা স্বার্থ আছে এরূপ চুক্তিতে আবদ্ধ হয়ে থাকেন।’

আইনের এ সুস্পস্ট বিধান সম্পর্কে যোগাযোগ করলে প্রথম আলোর প্রতিবেদককে এনামুল হক বলেন, ‘আমি ব্যবসায়ী। সে জন্য আমি যেকোনো ক্ষেত্রে ব্যবসা করতে পারি। তাতে আইনগত কোনো সমস্যা আছে বলে আমি মনে করি না।’ অর্থাৎ, সরকারের সঙ্গে ব্যবসা করায় তিনি দোষের কিছু দেখেন না, যা সঠিক নয়। Continue reading