সুজন- সুশাসনের জন্য নাগরিক সংবাদ সম্মেলন ‘চার সিটি করপোরেশন নির্বাচনে কারা নির্বাচিত হলেন এবং গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে কারা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন’ শীর্ষক সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত

‘চার সিটি করপোরেশন নির্বাচনে কারা নির্বাচিত হলেন এবং গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে কারা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন’ শীর্ষক সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত

সিটি করপোরেশনসহ অন্যান্য স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলো ক্রমশ ব্যবসায়ীদের করায়ত্ত হচ্ছে, যা গণতন্ত্রের জন্য ইতিবাচক নয়। কারণ নির্বাচনে শুধু ব্যবসায়ীদের প্রতিনিধিত্ব থাকলে অন্যান্য যোগ্য প্রার্থীদের সুযোগ থাকে না বলে মন-ব্য করেছেন সুজন নেতৃবৃন্দ। আজ সকাল ১১টায়, জাতীয় প্রেসক্লাবের ভিআইপি লাউঞ্জে সুশাসনের জন্য নাগরিক- সুজন আয়োজিত ‘চার সিটি করপোরেশন নির্বাচনে কারা নির্বাচিত হলেন এবং গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে কারা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন’ শীর্ষক এক সংবাদ সম্মেলনের সুজন নেতৃবৃন্দ এ মন-ব্য করেন। সংবাদ সম্মেলনে মূল বক্তব্য উপস’াপন করেন সুজন সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজমুদার। এছাড়াও অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন সুজন সহ-সম্পাদক জাকির হোসেন, সুজন নির্বাহী সদস্য সৈয়দ আবুল মকসুদ, সুজন নির্বাহী সদস্য জনাব ডাঃ জাফরুল্লাহ চৌধুরী ও সুজন জাতীয় কমিটির সদস্য সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান প্রমুখ।

ড. বদিউল আলম মজুমদার তাঁর বক্তব্যে বলেন, ‘চারটি সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচিত মেয়রদের মাত্র একজন উচ্চশিক্ষিত। দুইজন এইচএসসি পাশ এবং একজন নিজেকে স্বশিক্ষিত বলে উল্লেখ করেছেন। ১১৬ জন ওয়ার্ড কাউন্সিলরের মধ্যে ৫৯ জনের শিক্ষাগত যোগ্যতা এসএসসি বা তার নীচে। ২৯ জনের শিক্ষাগত যোগ্যতা স্নাতক বা স্নাতকোত্তর। ৩৯ জন সংরক্ষিত আসনের কাউন্সিলরদের মধ্যে ২৫ জনের শিক্ষাগত যোগ্যতা এসএসসি বা তার চেয়ে কম। ৭ জনের শিক্ষাগত যোগ্যতা স্নাতক বা স্নাতকোত্তর।’

সুজন সম্পাদক বলেন, ‘নির্বাচিত ৪ জন মেয়রের সকলের পেশাই ব্যবসা। ওয়ার্ড কাউন্সিলরদের মধ্যে ব্যবসায়ীর হার প্রায় ৮৪ শতাংশ। নির্বাচিত ১৫৯ জন জনপ্রতিনিধির মধ্যে ১০৩ জনই (৬৪.৭৭%) ব্যবসায়ী।’

তিনি বলেন, ‘খুলনা সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচিত মেয়র মোঃ মনিরুজ্জামানের বিরুদ্ধে অতীতে মামলা থাকলেও বর্তমানে কোন মামলা নেই। নির্বাচিত অন্যান্য সিটি মেয়রদের বিরুদ্ধে অতীতেও মামলা ছিল এবং বর্তমানেও রয়েছে। ১১৬ জন ওয়ার্ড কাউন্সিলরের  মধ্যে বর্তমানে ৩৪ জনের বিরুদ্ধে মামলা রয়েছে। অতীতে ছিল ৪৯ জনের বিরুদ্ধে। সংরক্ষিত ৩৯ জন নারী কাউন্সিলরের মধ্যে মাত্র ৪ জনের বিরুদ্ধে বর্তমানে মামলা রয়েছে।

ড. বদিউল আলম মজুমদার আরও বলেন, ‘নবনির্বাচিত ৪ জনের মধ্যে সিলেট সিটির মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী ও নির্ভরশীলদের বার্ষিক আয় প্রায় ১২ লাখ টাকা, বরিশালের সিটি মেয়র মোঃ আহসান হাবিব কামাল ও নির্ভরশীলদের আয় ৯ লক্ষ ৩০ হাজার টাকা, খুলনার সিটি মেয়র মোঃ মনিরুজ্জামান ও নির্ভরশীলদের আয় ২ লক্ষ টাকা এবং রাজশাহীর সিটি মেয়র মোহাম্মদ মোসাদ্দেক হোসেনের ও নির্ভরশীলদের আয় ১ লক্ষ ৯২ হাজার টাকা। ১১৬ ওয়ার্ড কাউন্সিলরের মধ্যে ৭৮জনের আয় বছরে ৫ লক্ষ টাকার কম।’ তিনি বলেন, নবনির্বাচিত ৪ জন মেয়রের মধ্যে ৩ জনেরই দায়-দেনা রয়েছে। আর ১১৬ ওয়ার্ড কাউন্সিলরের মধ্যে ৩৫ জনের দায়-দেনা রয়েছে। নারী কাউন্সিলরের মধ্যে মাত্র ৪ জনের দায়-দেনা রয়েছে।’ নবনির্বাচিত ৪ মেয়রের মধ্যে গত অর্থবছরে দু’জন মেয়র আয়কর দিয়েছেন বলে উল্লেখ করেন তিনি।
এ সময় ড. বদিউল আলম মজুমদার আসন্ন গাজীপুর সিটি নির্বাচনে অংশ নেয়া প্রার্থীদের নির্বাচন কমিশনে দেওয়া হলফনামা বিশ্লেষণ করে পাওয়া তথ্য-উপাত্তও তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ‘মেয়র প্রার্থীদের ৪ জন উচ্চ শিক্ষিত। সাধারণ ওয়ার্ডের কাউন্সিলর পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী ৪৪৯ জন প্রার্থীর মধ্যে ২০৬ জনের শিক্ষাগত যোগ্যতা এসএসসি’র নীচে। স্নাতক বা স্নাতকোত্তর ডিগ্রীধারী প্রার্থীর সংখ্যা মোট ৯০ জন। সংরক্ষিত নারী আসনের কাউন্সিলর প্রার্থীদের ৯০ জনের শিক্ষাগত যোগ্যতা এসএসসি’র নীচে। মাত্র ১৪ জন স্নাতক বা স্নাতকোত্তর ডিগ্রীর অধিকারী। নির্বাচনে অংশ নেয়া ৭ মেয়র প্রার্থীদের মধ্যে ৫ জনই ব্যবসায়ী। ওয়ার্ড কাউন্সিলর প্রার্থীদের ৩১৬ জনই ব্যবসায়ী। সংরক্ষিত আসনের ৮০ জন গৃহিণী।
তিনি বলেন, ৭ মেয়র প্রার্থীর মধ্যে ১ জনের বর্তমানে ও অতীতে মামলা ছিল। একজনের অতীতে মামলা ছিল। অন্য ৫ জন প্রার্থীর বিরুদ্ধে কোন মামলা নেই। ওয়ার্ড কাউন্সিলর প্রার্থীদের ৪৪৯ জন প্রার্থীর মধ্যে বর্তমানে ১০২ জনের বিরুদ্ধে মামলা আছে এবং অতীতে ছিল ৭২ জনের বিরুদ্ধে।
সুজন সম্পাদক বলেন, ৭ জন মেয়র প্রার্থীর মধ্যে ৩ জন প্রার্থী এবং নির্ভরশীলদের বার্ষিক আয় ৫ লক্ষ টাকার নীচে। ডাঃ নাজিম উদ্দিন আহমেদ বছরে ৬ লক্ষ ৩ হাজার ৭ শত ৫০ টাকা, এডভোকেট আজমত উল্লা খান ৯ লক্ষ টাকা এবং অধ্যাপক এম এ মান্নান ২০ লক্ষ ৫৪ হাজার টাকা আয় করেন। আর মোঃ জাহাঙ্গীর আলমের বার্ষিক আয় প্রায় ১ কোটি ১৯ লক্ষ টাকা। ৪৪৯ জন ওয়ার্ড কাউন্সিলর প্রার্থীর মধ্যে ২৬১ জনের বার্ষিক আয় বছরে ২ লক্ষ টাকার কম এবং ১২৮ জন সংরক্ষিত ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রার্থীর মধ্যে ৬৮ জনের বার্ষিক আয় বছরে ২ লক্ষ টাকার কম।

তিনি বলেন, সর্বমোট ৫৮৪ জন প্রার্থীর মধ্যে তিন চতুর্থাংশেরই সম্পদ ৪৪১ জনের সম্পদ ৫ লক্ষ টাকার নীচে। প্রার্থীদের মধ্যে ৮ জন কোটিপতি। এর মধ্যে ২ জন মেয়র ও ছয়জন কাউন্সিলর প্রার্থী। বিশ্লেষণে দেখা যায় ৩ জন মেয়র প্রার্থীর সম্পদ কোটি টাকার উপরে।  প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের মধ্যে ১৪৪ জন ঋণ গ্রহীতা । ৫৪০ জনেরই কোন ঋণ নেই।  মেয়র প্রার্থীদের মধ্যে ৪ জন ঋণ গ্রহীতা। সকল প্রার্থীর মধ্যে মাত্র ৩৯ জন আয়কর দেন এবং ৫৪৫ জন কর প্রদান করেন না বা করের আওতাভূক্ত নন।’

সৈয়দ আবুল মকসুদ বলেন, রাজনীতিকে দুর্নীতি মুক্ত করে তোলার একটা উপায় হলো তথ্য উপস’াপন। এ তথ্য কারও বিরুদ্ধে নয়। যোগ্য লোক যাতে নির্বাচিত হতে পারে এবং গণতন্ত্রকে সুসংহত করে তোলাই এর উদ্দেশ্য।

জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, নির্বাচনে শুধুমাত্র ব্যবসায়ীরা নির্বাচিত হলে অনেক যোগ্য লোক  নির্বাচিত হওয়ার সুযোগ পায় না। নির্বাচিতদের  তথ্য উপস’াপন করা নির্বাচন কমিশনের কাজ বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

গাজীপুর সিটি করপোরেশনের প্রার্থীদের  বিশ্লেষণ দেখতে এখানে ক্লিক করুন
চার সিটি করপোরেশন নির্বাচনে কারা নির্বাচিত হলেন দেখতে এখানে ক্লিক করুন

Related Post

সিটি করপোরেশন নির্বাচন: ২০০৮ ও ২০১৩ প্রার্থীদের তথ্যের তূলনামূলক বিশ্লেষণসিটি করপোরেশন নির্বাচন: ২০০৮ ও ২০১৩ প্রার্থীদের তথ্যের তূলনামূলক বিশ্লেষণ

আগামী ১৫ জুন ২০১৩ তারিখে বরিশাল, খুলনা, সিলেট ও রাজশাহী সিটি করপোরেশন নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। চারটি সিটি কর্পোরেশনে সর্বমোট ১২ জন মেয়র প্রার্থী, ১১৮ টি সাধারণ ওয়ার্ডে ৫৪৮ জন

ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি নির্বাচন ২০২০ পরবর্তী মূল্যায়ন ও বিজয়ীদের তথ্য বিশ্লেষণঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি নির্বাচন ২০২০ পরবর্তী মূল্যায়ন ও বিজয়ীদের তথ্য বিশ্লেষণ

২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২০ তারিখ সকাল ১১.০০টায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাগর-রুনি মিলনায়তনে সুজন-সুশাসনের জন্য নাগরিক- এর উদ্যোগে ‘ঢাকা উত্তর ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে বিজয়ীদের তথ্য উপস্থাপন ও নির্বাচন মূল্যায়ন’

‘উপজেলা নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী (তৃতীয় পর্যায়) চেয়ারম্যান প্রার্থীগণের তথ্য প্রকাশ’ শীর্ষক সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত‘উপজেলা নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী (তৃতীয় পর্যায়) চেয়ারম্যান প্রার্থীগণের তথ্য প্রকাশ’ শীর্ষক সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত

দুই পর্বের নির্বাচনেই উল্লেখযোগ্য পরিমাণে অনিয়ম ও কারচুপিও হলেও দ্বিতীয় দফার নির্বাচনে সংষর্ষ, মৃত্যু, কেন্দ্র দখল ও ব্যালট পেপার ছিনতাইসহ বিভিন্ন অনিয়মের ঘটনা বেশি ঘটেছে এবং নির্বাচন কমিশন এ ব্যাপারে