"সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে সজ্জনের শাসন প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে নাগরিক সমাজের করণীয়" শীর্ষক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত

আজ (১৫ এপ্রিল, ২০০৬) সকাল ৯.৩০টায় ‘সুজন-সুশাসনের জন্য নাগরিক’-এর উদ্যোগে ঢাকার সিরডাপ মিলনায়তনে একটি মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয় । সুজনের সভাপতি বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক মোজাফ্ফর আহমদ এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত “সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে সজ্জনের শাসন প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে নাগরিক সমাজের করণীয়” শীর্ষক এই মতবিনিময় সভায় আরো উপস্থিত ছিলেন, সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা এম হাফিজ উদ্দিন খান ও এএসএম শাহজাহান, অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি কাজী এবাদুল হক, আওয়ামী লীগ প্রেসিডিয়াম সদস্য আব্দুর রাজ্জাক এম.পি, বিএনপি নেতা মুশফিকুর রহমান এম.পি, রাজনীতিবিদ আসম আব্দুর রব, সাবেক রাষ্ট্রদূত আবুল আহসান, বিশিষ্ট সাংবাদিক আতাউস সামাদ, মেজর জেনারেল (অব:) সৈয়দ এম ইব্রাহীম বীর প্রতীক, পুলিশের সাবেক আইজি নূরুল হুদা, ব্রিগেডিয়ার (অব:) সাখাওয়াত হোসেন, অধ্যাপক সৈয়দ আনোয়ার হোসেন, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. তোফায়েল আহমেদ, সিপিডি’র প্রধান নির্বাহী পরিচালক দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য, মিডিয়া ব্যক্তিত্ব মুহম্মদ জাহাঙ্গীর, সুজন-এর সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার প্রমুখ ।

মতবিনিময় সভার শুরুতেই চাঁপাইনবাবগঞ্জের কানসাটে পুলিশ ও সরকার সমর্থকদের নির্বিচার আক্রমণে ২০ জনের নিহত হওয়া এবং অসংখ্য মানুষকে আহত করা, ঘরবাড়ি, বাজার লুটপাটসহ ব্যাপক দমন-পীড়নের ঘটনার নিন্দা ও প্রতিবাদ জানানো হয় এবং পুলিশের হামলায় নিহতদের উদ্দেশ্যে এক মিনিট দাঁড়িয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয় ।

অধ্যাপক মোজাফ্ফর আহমদ তাঁর স্বাগত বক্তব্যে দেশের সর্বস্তরে সুশাসন প্রতিষ্ঠার আকাঙ্ক্ষায় গড়ে ওঠা সুজন-এর কার্যক্রম সম্পর্কে বলেন, সুজন কোন এনজিও বা দাতা সংস্থার অর্থে পরিচালিত সংগঠন নয় । দেশের নাগরিকদের ভূমিকা রাখার একটি নির্দলীয় প্লাটফর্ম হিসেবে সুজন সারা দেশে কাজ করছে ৷ মোট ৬১টি জেলায় হাজার হাজার মানুষ নাগরিক দায়িত্ববোধ থেকে এ কাজের সাথে যুক্ত ।

অধ্যাপক মোজাফ্ফর আহমদ ঘোষণা করেন যে, আগামী ২২ এপ্রিল দেশের প্রতিটি ইউনিয়ন, উপজেলা, জেলা ও ঢাকার মানিক মিয়া এভিনিউতে কেন্দ্রীয়ভাবে এক মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হবে । তিনি দেশের সচেতন নাগরিকদেরকে এ কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে দেশে সজ্জনের শাসন প্রতিষ্ঠার আন্দোলনকে বেগবান করার আহ্বান জানান । রাজনৈতিক দলের সংস্কার, নির্বাচনে সত্‍ ও যোগ্য প্রার্থী মনোনয়ন দেবার জন্য রাজনৈতিক দলসমূহের কাছে দাবি, ভোটার লিস্টে নাম অন্তভুর্ক্তকরণের জন্য সবার প্রতি আহ্বান, রাজনৈতিক দলের বাধ্যতামূলক নিবন্ধনের দাবি ইত্যাদি এই মানববন্ধনের মূল বিষয় ।

আপিল বিভাগের সাৰেক বিচারপতি কাজী এবাদুল হক বলেন, হাইকোর্টের যে কোন রায়ই নির্বাচন কমিশনের জন্য বাধ্যতামূলক ৷ তিনি আরো বলেন যে, সরকারের সাথে লেন-দেনের সম্পর্ক আছে এমন ব্যক্তিদেরকে নির্বাচনে অযোগ্য ঘোষণা করতে হবে ।

আব্দুর রাজ্জাক এমপি সুজন-এর সংস্কার প্রস্তাবের সাথে একাত্মতা প্রকাশ করে বলেন, বর্তমানের রাজনীতি কালোটাকার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে, যা রাজনীতিতে সত্‍, যোগ্য লোকের অংশগ্রহণকে প্রায় অসম্ভব করে তুলেছে । তিনি সুজন-এর সংস্কার আন্দোলন রাজনীতিতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে আশা প্রকাশ করেন ।

মুশফিকুর রহমান এমপি বলেন, রাজনৈতিক দলের নিবন্ধন বাধ্যতামূলক করা হলে সুস্থ রাজনীতি প্রতিষ্ঠিত হবে ।

আসম আব্দুর রব সাধারণ জনগণের রাজনৈতিক চর্চায় অংশগ্রহণের গুরুত্ব উল্লেখ করে বলেন, রাজনীতিতে সুজনের, সুশীল সমাজ ও সাধারণ নাগরিকদের ভূমিকা গণতন্ত্র ও সুশাসন প্রতিষ্ঠার জন্য অপরিহার্য।
আতাউস সামাদ বলেন, এ সকল সংস্কার এখনই করা না হলে তত্ত্বাবধায়ক সরকার সুষ্ঠু নির্বাচনের স্বার্থে ঐ সকল সংস্কারের উদ্যোগ গ্রহণ করতে পারে ।

ড. বদিউল আলম মজুমদার সুজন-এর সংস্কার প্রস্তাব বিষয়ক প্রবন্ধ উপস্থাপন করে বলেন, দেশ পরিচালনার দায়িত্ব রাজনীতিবিদদের ৷ গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার জন্য রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে গণতন্ত্র ও দায়বদ্ধতা প্রতিষ্ঠা জরুরি । কিন্তু আমাদের দেশে রাজনৈতিক দলগুলো মূলত ক্ষমতায় যাওয়ার এবং ফায়দা দেওয়া-নেওয়ার সিণ্ডিকেটে পরিণত হয়েছে ৷ তিনি সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে সজ্জনের শাসন প্রতিষ্ঠার গুরুত্বও তুলে ধরেন ।

ড. তোফায়েল আহমেদ রাজনৈতিক দলের নিবন্ধন, আভ্যন্তরীণ গণতন্ত্র চর্চা, স্বচ্ছতা-জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠার গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, রাজনীতি সমাজের প্রতিফলন । তাই সমাজের ভেতর থেকে পরিবর্তনের সূচনা করতে হবে ।

এছাড়া বিভিন্ন পর্বে রাজনৈতিক সংস্কার বিষয়ে মতামত প্রদান করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক শওকত আরা হোসেন, শহীদুল ইসলাম শামীম, মুক্তিযোদ্ধা ইশতিয়াক আজিজ উলফাত, রফিকুল ইসলাম সরকার প্রমুখ ।

এ মতবিনিময় সভায় উত্থাপিত সুজনের প্রস্তাবসমূহের প্রতি উপস্থিত সকলেই ঐকমত্য পোষণ করেন ।

মূল প্রবন্ধ ডাউনলোড করুন

Advertisements