“সুষ্ঠু ও অর্থবহ নির্বাচনের লক্ষ্যে করণীয়” শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠক অনুষ্ঠিত

roundtable-18-febগত ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০০৭, সকাল ১০.০০টায় ‘সুজন-সুশাসনের জন্য নাগরিক’-এর আয়োজনে জাতীয় প্রেস ক্লাব অডিটোরিয়াম এ “সুষ্ঠু ও অর্থবহ নির্বাচনের লক্ষ্যে করণীয়” শীর্ষক একটি গোলটেবিল বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সুজনের নির্বাহী সদস্য ও সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা জনাব এম হাফিজউদ্দিন খান-এর সঞ্চলনায় গোলটেবিল বৈঠকে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সুজনের সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার। এছাড়াও গোলটেবিল বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন – তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা জনাব এএসএম শাহজাহান, বিশিষ্ট সাংবাদিক ও কলামিস্ট এ বি এম মূসা ও সৈয়দ আবুল মকসুদ, মেজর জেনারেল (অব:) মঈন চৌধুরী, অধ্যাপক সৈয়দ আনোয়ার হোসেন, ড. আসিফ নজরুল, দৈনিক দেশবাংলার সম্পাদক ফেরদৌস আহমেদ কোরেশী, সাবেক সচিব শাহ আব্দুল হান্নান, সাবেক মন্ত্রী জনাব শেখ শহিদুল ইসলাম, এলডিপি নেতা ফিরোজ এম হাসান, সাবেক অতিরিক্ত সচিব বদরে আলম খান, এ জি মাহমুদ, হামিদুল হোসেন তারেক বীর বিক্রম, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী জনাব মঈনুদ্দিন মোনেম প্রমূখ।

ড. বদিউল আলম মজুমদার মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করতে গিয়ে বলেন, সংবিধান অনুযায়ী দেশের সকল ক্ষমতার মালিক জনগণ। আসন্ন নির্বাচন সুষ্ঠু, অর্থবহ না হলে জনগণের মালিকানা খর্ব হবে। নির্বাচনকে সুষ্ঠু, অবাধ ও অর্থবহ করার লক্ষ্যে মূল প্রবন্ধে তত্ত্বাবাবধায়ক সরকার, নির্বাচন কমিশন ও রাজনৈতিক দলের ভূমিকা কি হওয়া প্রয়োজন এ বিষয়ে আলোকপাত করা হয়। এক্ষেত্রে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের গুরুত্বপূর্ণ করণীয় হলো- নির্বাচন কমিশনকে পুণর্গঠনের মাধ্যমে একে স্বাধীন, শক্তিশালী ও কার্যকর করা এবং নির্বাচনের যথাযথ পরিবেশ সৃষ্টি করা। এছাড়াও নির্বাচন কমিশনকে যথাসম্ভব দ্রুত ও সুষ্ঠু নির্বাচনের স্বার্থে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। যারমধ্যে নির্ভুল ভোটার তালিকা প্রণয়ন ও নির্বাচনী এলাকার সীমা নির্ধারণ অন্যতম। তিনি আরো বলেন, নির্বাচন কমিশনকে নির্বাচনী ব্যয় হ্রাস ও নির্বাচনী বিরোধ দ্রুত নিষপত্তির ওপর জোর দিতে হবে। রাজনৈতিক দলসমূহের বাধ্যতামূলক নিবন্ধনের ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, দলের অভ্যন্-রে গণতন্ত্রের চর্চা, আর্থিক লেনদেনে স্বচ্ছতা, দলের অঙ্গ সংগঠনের বিলুপ্তি, মনোনয়ন প্রদানের ক্ষেত্রে তিন বছরের সক্রিয় সদস্য হওয়ার বাধ্যবাধকতা ও দলের প্রাথমিক সদস্যদের পদ্ধতিগতভাবে মতামত গ্রহণের বিধান ইত্যাদি হবে নিবন্ধনের শর্ত।

নির্বাচন কমিশন ও তত্ত্বাবধায়ক সরকার উভয়কেই সময়পোযোগী কর্মপরিকল্পনা নির্ধারণের ওপর গুরুত্ব প্রদানের কথা উল্লেখ করে জনাব এ এস এম শাহজাহান বলেন, নির্বাচন কমশিনের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা আজ জরুরী এবং বিভিন্ন ক্ষেত্রে আইনী সংস্কার প্রয়োজন। এ বি এম মূসা বলেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দায়িত্ব হলো সুষ্ঠু ও অর্থবহ নির্বাচনের জন্য নির্বাচন কমিশনকে সার্বিক সহযোগিতা করা। এ লক্ষ্যে বর্তমান সরকারকে প্রশাসনিক সংস্কারসহ দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করার মধ্য দিয়ে নির্বাচনের জন্য অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি করতে হবে। স্বল্প সময়ে যেন একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় এ প্রস্-াবনা তুলে ধরে সৈয়দ আবুল মকসুদ বলেন, কেবল স্বচ্ছ ব্যালট বাক্সই নয় রাষ্ট্র যন্ত্রের সকল ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা প্রয়োজন। তিনি আরো বলেন, ভোটার তালিকা প্রনয়ণের কাজে স্থানীয় সরকার বিশেষ করে ইউনিয়ন পরিষদকে যুক্ত করতে হবে। সৈয়দ আনোয়ার হোসেন বলেন, এ সরকারকে স্বল্প সময়ের মধ্যে নির্বাচনী পরিবেশ ও প্রশাসনকে নির্দলীয়করণ করতে হবে। জনাব আসিফ নজরুল অর্থবহ নির্বাচনের স্বার্থে, রাজনৈতিক দলের নিবন্ধন, বার্ষিক আয়-ব্যয়ের হিসাব প্রদান এবং নির্বাচন কমিশনকে প্রার্থীতা বাতিলের ক্ষমতা প্রদানের জন্য আইনী সংস্কার জরুরি বলে উল্লেখ করেন। জনাব এ জি মাহমুদ বলেন, দেশে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় নির্বাচন হলেও রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে গণতান্ত্রিক চর্চা নেই। জনাব শেখ শহিদুল ইসলাম বলেন, সংসদ সদস্যদের সংবিধান বর্হিভূত হস্-ক্ষেপ বিশেষ করে উন্নয়নমূলক কার্যক্রমে অংশগ্রহণ বন্ধ করা না হলে দুর্নীতি রোধ সম্ভব নয়। তিনি আরো বলেন, প্রত্যেক রাজনৈতিক দলকে তাদের গঠনতন্ত্র যথাযথভাবে অনুসরণ করা উচিৎ।

আলোচনা শেষে জনাব এম হাফিজ উদ্দিন খান বলেন, নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠনের কাজ শুরু হয়েছে। এখন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো ভোটার তালিকা তৈরীর কাজ শুরু করা এবং একাজে ইউনিয়ন পরিষদকে যুক্ত করা যেতে পারে। তিনি রাজনৈতিক দলের বাধ্যতামূলক নিবন্ধন, নির্বাচন কমিশনের প্রার্থীতা বাতিলের ক্ষমতা, সংসদ সদস্যদের উন্নয়নমূলক কর্মকান্ড থেকে দূরে রাখা এবং স্থানীয় সরকারকে শক্তিশালীকরণ, জাতীয় নির্বাচন ও উপজেলা নির্বচন একইসাথে অনুষ্ঠান, ভোটারদের তথ্যভিত্তিক ক্ষমতায়ন, প্রশাসন ও কর্মকমিশনকে দলীয় প্রভাবমুক্তকরণ ইত্যাদি কাজ তত্ত্বাবধায়ক সরকারকে করতে হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

Advertisements