‘আসন্ন উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের তথ্য প্রকাশ’ শীর্ষক সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত

এবারই সর্বপ্রথম উপজেলা চেয়ারম্যান ও ভাইস চেয়ারম্যান পদপ্রার্থীদের নিজ এবং নির্ভরশীলদের সম্পর্কে সাত ধরনের ব্যক্তিগত ও আর্থিক তথ্য হলফনামা আকারে মনোনয়নপত্রের সাথে দাখিল করা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এছাড়াও প্রার্থী আয়কর দাতা হলে সর্বশেষ দাখিলকৃত আয়কর রিটার্নের কপি, সম্ভাব্য নির্বাচনী ব্যয়ের উৎসসমূহ এবং প্রার্থীর ব্যক্তিগত তথ্যাদি দাখিল করার বাধ্যবাধকতা সৃষ্টি করা হয়েছে। আর প্রার্থীদের দেয়া এ সকল তথ্যের বিশ্লেষণ তুলে ধরার উদ্দেশ্যে গত ১৯ জানুয়ারি, ২০০৯ ঢাকা রিপোটার্স ইউনিটির হল রুমে ‘সুজন-সুশাসনের জন্য নাগরিক’-এর উদ্যোগে ‘আসন্ন উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের তথ্য প্রকাশ’ শীর্ষক এক সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সংবাদ সম্মেলনে অধ্যাপক মোজাফফর আহমদে’র সভাপতিত্বে লিখিত বক্তব্য তুলে ধরেন সুজনে’র সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার।অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, এ.এস. এম. শাহাজাহান ও সৈয়দ আবুল মকসুদ।

স্থানীয় পর্যায়ে উপজেলা নির্বাচন নিয়ে বিশেষ আগ্রহের কথা উল্লেখ করে অধ্যাপক মোজাফ্ফর আহমদ বলেন, আমরা একটি সুষ্ঠু ও সুন্দর নির্বাচন চাই। তিনি বলেন, আমাদের দেশে যদি শক্তিশালী, বিকেন্দ্রীভূত ও স্বশাসিত স্থানীয় সরকার না হয়, তাহলে সুষম উন্নয়নের যে স্বপ্ন আমরা দেখি তার বাস্তবায়নও সম্ভব নয়। তাই আমাদেরকে দেখতে হবে, আমরা কীভাবে একটি উন্নয়ন সহায়ক স্থানীয় সরকার পেতে পারি। এ প্রসঙ্গে তিনি তাদের স্বচ্ছতা, দায়বদ্ধতা ও জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠার ওপরও বিশেষভাবে গুরুত্ব দেয়া উচিত বলেও মন্তব্য করেন।

স্থানীয় সরকারকে সত্যিকারার্থে শক্তিশালী করা হলে আগামী পাঁচ বছরে দেশের চেহারা ইতিবাচকভাবে পাল্টে যাবে উল্লেখ করে ড. বদিউল আলম মজুমদার বলেন, সকল উপজেলার প্রার্থীদের তুলনামূলক চিত্র তৈরি একটি ‘বিরাট কর্মযজ্ঞ’। এ বিরাট কার্য সম্পাদন করার সঙ্গতি ও আর্থিক সামর্থ্য ‘সুজনে’র না থাকায় শুধুমাত্র ৬৪টি জেলার ৬৪টি উপজেলার ১,০৮৩ জন প্রার্থীর প্রদত্ত তথ্য সন্নিবেশিত এবং তুলনামূলক চিত্র তুলে ধরা হলো। তিনি আরো বলেন, এ সকল তথ্য থেকেই ধারণা করা যাবে সারা দেশে কারা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। লিখিত বক্তব্যে তিনি জানান, সকল প্রার্থীদের ক্ষেত্রে ১৬ শতাংশের শিক্ষাগত যোগ্যতা এসএসসি’র নীচে, ৩৫ শতাংশের এসএসসি-এইচএসসি, ৪৮ শতাংশের স্নাতক ও স্নাতোকোত্তর ডিগ্রি রয়েছে। প্রার্থীদের ১১ শতাংশের পেশা কৃষি, ৪৯ শতাংশের ব্যবসা, ১২ শতাংশের আইন ব্যবসা, ১২ শতাংশ গৃহিনী এবং বাকীদের অন্যান্য পেশা। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, পেশার দিক থেকে এবারো ব্যবসায়িদেরই প্রাধান্য লক্ষ্য করা যাচ্ছে। মামলা প্রসঙ্গে তিনি জানান, সকল প্রার্থীদের মধ্যে ২৬ শতাংশের বিরুদ্ধে অতীতে ফৌজদারি মামলা ছিল এবং ১৪ শতাংশের বিরুদ্ধে বর্তমানে মামলা রয়েছে।

উল্লেখ্য যে, ৬৪টি উপজেলার মধ্যে চারটি ছাড়া (চট্টগ্রামের পটিয়া, খুলনার বটিয়াঘাটা, কুষ্টিয়ার খোকসা এবং মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ) বাকি সবগুলোই সদর উপজেলার তথ্য। এই ৬৪টি উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে ৪৪৪ জন, ভাইস চেয়ারম্যান পদে ৩৭২ জন (মাত্র ২ জন নারী) এবং মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে ২৬৭ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এরমধ্যে হবিগঞ্জ সদর উপজেলার চেয়ারম্যান এবং রাজশাহীর পবা উপজেলার ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থী বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন।

এছাড়া সংবাদ সম্মেলন থেকে নির্বাচনী ব্যয় হ্রাস, নাগরিক সমাজ বা নির্বাচন কমিশনের উদ্যোগে প্রার্থী-ভোটার মুখোমুখি অনুষ্ঠান আয়োজন, বিভাজিত সমাজে যারা সংখ্যাগরিষ্ঠ তাদের ক্ষমতায় আসার সুযোগ সৃষ্টি করার প্রতিও বিশেষভাবে নজর দেয়া জরুরি বলে অভিমত ব্যক্ত করা হয়।

মূল প্রবন্ধ ডাউনলোড করুন

Advertisements