উপজেলা নির্বাচনে সুজন কর্তৃক গৃহীত কার্যক্রম

উপজেলা নির্বাচনকে সামনে রেখে সুজন-সুশাসনের জন্য নাগরিক বিভিন্ন মুখী কার্যক্রম পরিচালনা করে। এগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো: প্রার্থীদের তথ্য সংগ্রহ এবং তথ্যের ভিত্তিতে তুলনামূলক চিত্র তৈরী করে তা ভোটারদের মাঝে সরবরাহ,
সৎ ও যোগ্য প্রার্থী নির্বাচনে পোস্টারিং-লিফলেটিংসহ বিভিন্নমূখী প্রচারণা ও যে যে পৌরসভায় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে সেগুলোতে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদেরকে এক মঞ্চে এনে জনগণের মুখোমুখির আয়োজন।

প্রার্থীদের তথ্য সংগ্রহ এবং তথ্যের ভিত্তিতে তুলনামূলক চিত্র তৈরী করে তা ভোটারদের মাঝে সরবরাহ
নির্বাচন কমিশন থেকে মনোনয়ন পত্রের সঙ্গে আয়কর বিবরণীসহ প্রার্থীর নাম ও ঠিকানা, শিক্ষাগত যোগ্যতা, পেশা/জীবিকা, বর্তমান ও অতীতের ফৌজদারী মামলার বিবরণ ও ফলাফল, আয়ের উৎস ও পরিমান, প্রার্থী ও প্রার্থীর উপর নির্ভরশীলদের সম্পদের বিবরণ, প্রার্থীর দায়দেনার বিবরণ এবং ঋণ সংক্রান্ত তথ্য প্রদানের বাধ্যবাধকতা সৃষ্টি করে আইন প্রণয়ন করায় প্রার্থীগণকে মনোনয়ন পত্রের সঙ্গে তা জমা দিতে হয়েছে। ‘সুজন’ এর সংশ্লিষ্ট এলাকার কমিটিসমূহের উদ্যোগে রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয় থেকে তথ্যসমূহ সরবরাহ করা হয় এবং সকল প্রার্থীর তথ্য একটি পাতায় সাজিয়ে একটি তুলনামূলক চিত্র তৈরী করা হয়। তুলনামূলক চিত্রের অপর পৃষ্ঠায় ‘সৎ, যোগ্য ও জনকল্যাণে নিবেদিত ব্যক্তিকে নির্বাচিত করুন’ শিরোনামে একটি আহ্বান পত্র ও পোস্টারের রেপ্লিকা ছাপিয়ে তা সংশ্লিষ্ট এলাকার ভোটারদের মধ্যে বিতরণ করা হয়। এই উদ্যোগ ভোটারদেরকে, প্রার্থীদের সম্পর্কে জেনে, শুনে ও বুঝে ভোটাধিকার প্রয়োগের একটি সুযোগ সৃষ্টি করেছিল। সুজন আর্থিক সীমাবদ্দতার কারণে সকল উপজেলায় এ কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারে নি। মোট ৬৭টি উপজেলার প্রার্থী প্রদত্ত তথ্র একত্রীকরণ ও তুলনামূলক চিত্র তৈরী করে ভোটারদের মাঝে বিতরণ করে।

সৎ ও যোগ্য প্রার্থী নির্বাচনে পোস্টারিং-লিফলেটিংসহ বিভিন্নমূখী প্রচারণা:
জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ন্যায় উপজেলা নির্বাচনেও যাতে সৎ, যোগ্য, আদর্শবান ও জনকল্যাণে নিবেদিত প্রার্থীরা নির্বাচিত হতে পারে, সে লক্ষ্যকে সামনে রেখে ‘সুজন’ বিভিন্ন ধরনের কার্যক্রম পরিচালনা করে। কার্যক্রমসমূহ ছিলÑপোস্টারিং, লিফলেটিং, ভোটারদের সচেতন করার জন্য উঠান বৈঠক, মতবিনিময় সভা, র‌্যালি, পথসভা, ভাম্যমান সাংস্কৃতিক দলের উদ্যোগে রাস্তায় রাস্তায় ঘুরে জাগরণমূলক সঙ্গীত পরিবেশন ইত্যাদি। উপজেলা নির্বাচনে সৎ ও যোগ্য প্রার্থী নির্বাচনের আহ্বান সম্বলিত পোস্টার ও লিফলেট প্রকাশ করে ৬৭টি উপজেলায় বিতরণ করা হয়।

জনগণের মুখোমুখি
উপজেলা নির্বাচনকে সামনে রেখে গত ১০ জানুয়ারি ২০০৯ থেকে ১৯ জানুয়ারি ২০০৯ পর্যন্ত যে ৫৭ টি উপজেলায় ‘জনগণের মুখোমুখি’ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। ‘সুজন’ কেন্দ্রীয় কমিটির সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার, কেন্দ্রীয় সমন্বয়কারী দিলীপ কুমার সরকার, সহযোগী সমন্বয়কারী মাহবুব আক্তার, কেন্দ্রীূয় সচিবালয়ের প্রতিনিধি মনজুরুল হকসহ অনুষ্ঠানসমূহে সংশ্লিষ্ট জেলা ও উপজেলার নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
১০ জানুয়ারি ২০০৯: রংপুর সদর ও পিরোজপুর সদর, ১২ জানুয়ারি ২০০৯: দুপচাঁচিয়া (বগুড়া) ও বিশ্বনাথ (সিলেট), ১৩ জানুয়ারি ২০০৯: কাহারোল (দিনাজপুর), ১৪ জানুয়ারি ২০০৯: বিয়ানীবাজার (সিলেট), চাটমোহর (পাবনা), তাড়াইল (কিশোরগঞ্জ) এবং বীরগঞ্জ, বিরল ও ঘোড়াঘাট (দিনাজপুর) ১৫ জানুয়ারি ২০০৯: গোপালপুর (টাংগাইল), বোঁচাগঞ্জ (দিনাজপুর),  দেলদুয়ার (টাংগাইল), গুরুদাসপুর (নাটোর), মহাদেবপুর (নওগাঁ), রামু (কক্সবাজার), চারঘাট (রাজশাহী), কিশোরগঞ্জ সদর এবং বাঞ্ছারামপুর ও নবীনগর (ব্রাহ্মণবাড়িয়া), ১৬ জানুয়ারি ২০০৯: বিরামপুর (দিনাজপুর), মহেশখালী (কক্সবাজার) এবং সদর ও আখাউড়া  (ব্রাহ্মণবাড়িয়া), ১৭ জানুয়ারি ২০০৯: কমলগঞ্জ (মৌলভীবাজার), টাংগাইল সদর, জামালপুর সদর, কুড়িগ্রাম সদর, ঝিনাইদহ সদর, গফরগাঁও (ময়মনসিংহ), নাছিরনগর ও আশুগঞ্জ (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) এবং সদর ও হাকিমপুর (দিনাজপুর), ১৮ জানুয়ারি ২০০৯: টেকনাফ (কক্সবাজার), মাদারীপুর সদর, চৌদ্দগ্রাম (কুমিল্লা), শ্রীমঙ্গল (মৌলভীবাজার), কোটচাঁদপুর (ঝিনাইদহ), মধুপুর (টাঙ্গাইল), পতœীতলা (নওগাঁ), লোহাগড়া (নড়াইল), বাগেরহাট সদর, রাঙ্গুনীয়া (চট্টগ্রাম), বরিশাল সদর, মেহেরপুর সদর, চুয়াডাঙ্গা সদর, মাদারগঞ্জ (জামালপুর), সরাইল ও কসবা (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) এবং পার্বতীপুর, নবাবগঞ্জ, ফুলবাড়ী ও চিরিরবন্দর (দিনাজপুর), ১৯ জানুয়ারি ২০০৯: শেরপুর সদর ও খানসামা ( দিনাজপুর)। ‘সুজন’ কেন্দ্রীয় কমিটির সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার, কেন্দ্রীয় সমন্বয়কারী দিলীপ কুমার সরকার, সহযোগী সমন্বয়কারী মাহবুব আক্তার, কেন্দ্রীূয় সচিবালয়ের প্রতিনিধি মনজুরুল হকসহ অনুষ্ঠানসমূহে সংশ্লিষ্ট জেলা ও উপজেলার নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

Advertisements