“নবম জাতীয় সংসদের মহিলা আসন ও উপনির্বাচনে প্রার্থীদের তথ্য প্রকাশ” শীর্ষক সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত

গত ১৮ মার্চ রিপোর্টার্স ইউনিটির হল রুমে “নবম জাতীয় সংসদের মহিলা আসন ও উপনির্বাচনে প্রার্থীদের তথ্য প্রকাশ” শীর্ষক এক সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সুজন-সুশাসনের জন্য নাগরিক আয়োজিত এ সংবাদ সম্মেলনে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ‘সুজন’ সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার। বিশিষ্ট কলামিস্ট ও গবেষক জনাব সৈয়দ আবুল মকসুদ-এর সভাপতিত্ব ও সঞ্চালনায় এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন  স্থানীয় সরকার বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক তোফায়েল আহমেদ।

ড. বদিউল আলম মজুমদার সুজনের পক্ষ থেকে ৭টি উপনির্বাচন ও সংরক্ষিত মহিলা আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী প্রার্থীদের তথ্য বিশ্লেষণ করে বলেন, গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (সংশোধিত) আইন, ২০০৯-এর ৯০(১)(বি)(রা) ধারা অনুযায়ী রাজনৈতিক দলের নিবন্ধনের শর্ত হিসাবে দলের তৃণমূলের কমিটিসমূহের সুপারিশের আলোকে দলীয় মনোনয়ন চূড়ান্ত হবার কথা। কিন্তু আমাদের জানা মতে, কোন দলই আইনের এই বিধান মেনে মনোনয়ন চূড়ান্ত করে নি। রাজনৈতিক দলগুলোর পক্ষ থেকে এ ধরনের আচরণ আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার সার্বজনীন আকাক্সক্ষার সাথে কি সঙ্গতিপূর্ণ? তিনি আরো বলেন, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে একজন দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যাক্তিকে মনোনয়ন প্রদান অনেককেই হতাশ করেছে। তিনি বলেন, জাতীয় সংসদের সার্বিক মানোন্নয়ন নারী আসনের মনোনয়নের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিবেচনা হবে বলে অনেকে আশা করেছিলেন। এ বিবেচনা থেকে অনেকে হতাশ হয়েছেন। নারী প্রার্থীদের অনেকেই ব্যবসায়ী এবং আওয়ামী লীগের প্রার্থীদের একটি বিরাট অংশ স্বল্প শিক্ষিত। ড. মজুমদার বলেন, মনোনয়নের ক্ষেত্রে নারী-পুরুষ নির্বিশেষে আমরা ব্যবসায়ীদের বলয় থেকে বেরিয়ে আসতে পারি নি। এমনকি নারী প্রার্থীদের একটি বড় অংশ কোটিপতি, যা আমাদের মহান জাতীয় সংসদকে কোটিপতির ক্লাবে পরিণত করার ব্যাপারে নিঃসন্দেহে অবদান রাখবে। তিনি বলেন, সংরক্ষিত নারী আসনের প্রার্থীদের হলফনামার সাথে আয়কর বিবরণী প্রদানের বাধ্যবাধকতা সৃষ্টি করা হয় নি, তবে নির্বাচন কমিশন ইচ্ছা করলে নারী প্রার্থীদের জন্য আয়কর রিটার্ন প্রদানের বিধান করতে পারতো।

জনাব সৈয়দ আবুল মকসুদ বলেন, প্রার্থীদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই এই তুলনামূলক চিত্র প্রস্তুত করা হয়েছে। জনগণকে সচেতন করার অংশ হিসেবেই আমরা এ কাজটি করেছি। আওয়ামী লীগের একটি বড় অংশ স্বল্প শিক্ষিত উল্লেখ করে তিনি বলেন, এটি দুঃখজনক। এছাড়া মনোনয়নের ক্ষেত্রে পরিবারতন্ত্রের প্রভাবও লক্ষণীয় বলে তিনি জানান। ধীরে ধীরে এ অবস্থা থেকে আমাদের বের হয়ে আসা প্রয়োজন বলে তিনি মত দেন। অধ্যাপক তোফায়েল আহমেদ বলেন, আমাদের দেশে রাষ্ট্রক্ষমতায় যারা যাচ্ছেন তাদের পটভূমি সম্পর্কে জানার সংস্কৃতিটা খুব বেশি শক্তিশালী হয় নি। তিনি বলেন, এটার একাডেমিক ও নাগরিক ইন্টারেস্ট রয়েছে। এটিকে তিনি একটা ইতিবাচক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে চিহ্নিত করে বলেন, এই জাতীয় তথ্য আদান প্রদানের মাধ্যমে আমরা সবাই উপকৃত হতে পারি। এছাড়া সুজনের এ উদ্যোগ জাতীয় ও রাজনৈতিক তথ্যভান্ডারে একটি বিরাট অবদান হিসেবে যুক্ত হচ্ছে বলে তিনি জানান। তিনি বলেন, ৪৫ জন এমপি সারা দেশ থেকে আসার কথা কিন্তু আসলেই কি তারা সারা দেশ থেকে এসেছেন? না-কি তাদের বৈধ করা হয়েছে অন্য জায়গার নাম দিয়ে এই জিনিসটি পর্যালোচনা করে দেখা প্রয়োজন। এদেশে দ্বিকক্ষ বিশিষ্ট আইন সভার প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরে তিনি আরো বলেন, বর্তমান সংসদের সুযোগ রয়েছে এ প্রস্তাবটি বিবেচনা করার, তিনি বলেন, তাহলে আইনসভার গুণগত মানে উন্নয়ন ঘটবে।

উল্লেখ্য যে, সম্মেলনে ৭টি উপনির্বাচন ও সংরক্ষিত মহিলা আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী প্রার্থীদের তুলনামূলক চিত্র সাংবাদিকদের মাঝে বিতরণ করা হয়। এছাড়া সুজনের পক্ষ থেকে নির্বাচনী এলাকাসমূহে প্রার্থীদের তুলনামূলক চিত্র ‘প্রার্থী-ভোটার মুখোমুখি’ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে বিতরণ করার উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে বলেও সম্মেলনে জানানো হয়।

মূর প্রবন্ধ ডাউনেলোড করুন

Advertisements