সুশাসন: জনগণের ক্ষমতায়ন হলেই রাষ্ট্র শক্তিশালী হবে

palo_logo

বদিউল আলম মজুমদার
আফ্রিকা, এশিয়া ও লাতিন আমেরিকার অনেক রাষ্ট্রই দীর্ঘদিনের ঔপনিবেশিক শাসনের পর স্বাধীনতা অর্জন করেছে। বাংলাদেশ ও এর পূর্বসূরি পাকিস্তানের বেলায়ও ব্যতিক্রম নয়। একটি ফরমানের মাধ্যমে ভারত-পাকিস্তান নামক দুটি রাষ্ট্র সৃষ্টি করে ব্রিটিশরা উপমহাদেশ ত্যাগ করে। বাংলাদেশও পরবর্তী সময়ে একটি ঘোষণার ভিত্তিতে রক্তক্ষয়ী সংগ্রামের মধ্য দিয়ে স্বাধীনতা অর্জন করে। ফরমান বা ঘোষণার মাধ্যমে আইনি ভিত্তি প্রতিষ্ঠিত হলেও এগুলো রাষ্ট্র হিসেবে শুরুতেই পূর্ণতা লাভ করেনি। বাংলাদেশের ক্ষেত্রেও তা সত্য। জন্নলগ্নে অনেক আশা-প্রত্যাশার দোলাচলে সব রাষ্ট্রই অনেকটা ফাঁপা ‘খোলস’ মাত্র।

রাষ্ট্র হিসেবে একটি ভূখণ্ডের পূর্ণতা লাভ করার জন্য অনেকগুলো জরুরি পদক্ষেপ আবশ্যক। এসব পদক্ষেপের মধ্যে সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ জনগণের ক্ষমতায়ন। একই সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ কতগুলো প্রয়োজনীয় প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা। এ দুটি মৌলিক পদক্ষেপের ফলে রাষ্ট্র শক্ত ভিতের ওপর দাঁড়ায়, পূর্ণতা লাভ করে এবং শক্তিশালী হয়। দুর্ভাগ্যবশত, স্বাধীনতার পর ৩৮ বছরেও এ দুটি মৌলিক পদক্ষেপ আমাদের দেশে বহুলাংশে উপেক্ষিত রয়ে গিয়েছে। বরং অনেক ক্ষেত্রে আমরা উল্টোদিকে হেঁটেছি, ফলে আমরা একটি শক্তিশালী রাষ্ট্রে আজও পরিণত হতে পারিনি।

ঔপনিবেশিক আমলে জনগণের অবস্থান প্রজার−পাকিস্তান আমলে আমাদের অবস্থাও ছিল অনেকটা একই ধরনের। প্রজার কোনো অধিকার থাকে না। থাকে না কোনো দায়দায়িত্ব। রাষ্ট্রে তাদের মালিকানা থাকে না। তারা বহুলাংশে দাসতুল্য ও আজ্ঞাবহ।

অন্যদিকে স্বাধীন সার্বভৌম দেশের জনগণ নাগরিক হিসেবে আখ্যায়িত হয়। নাগরিকেরা রাষ্ট্রের মালিক হিসেবে স্বীকৃতি পায় এবং মালিকের কতগুলো গুরুত্বপূর্ণ অধিকার থাকে। আমাদের সংবিধানের ৭ অনুচ্ছেদেও জনগণকে সব ক্ষমতার মালিক বলে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। কিনতু শুধু কাগুজে স্বীকৃতিই প্রজাকে মালিকে পরিণত করতে পারে না, কারণ প্রজার মানসিকতা আর নাগরিকের দৃষ্টিভঙ্গি সম্পূর্ণ ভিন্ন। মালিক হিসেবে রাষ্ট্রকে এগিয়ে নেওয়ার দায়দায়িত্ব নাগরিকের ওপর বর্তায়, তাদেরই রাষ্ট্র গড়ার কারিগরে পরিণত হতে হয়। এমনকি অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি অর্জনের ক্ষেত্রেও তাদের ভূমিকাই মুখ্য, কারণ মানুষের সৃজনশীলতা ও কর্মোদ্যমই সম্পদ সৃষ্টির অন্যতম প্রধান উৎস। কিনতু প্রজারা ‘স্টেকহোল্ডার’ নয়, তাই সমাজকে এগিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে তাদের কোনো করণীয় থাকে না। বরং ঔপনিবেশিক শক্তিকে বিরোধিতার লক্ষ্যে নেতিবাচক কর্মকাণ্ডে লিপ্ত হওয়াই তাদের পক্ষে স্বাভাবিক।

এটি সুস্পষ্ট যে, ফরমান, ঘোষণা ও সংগ্রামের মাধ্যমে একটি সার্বভৌম রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত হলেও প্রজারা আপনা থেকেই নাগরিক ও মালিকে পরিণত হয় না। নাগরিকে পরিণত হওয়ার জন্য তাদের চেতনার ভিন্ন স্তরে পৌঁছতে হয়। আর এ জন্য প্রয়োজন হয় তাদের চেতনার উন্নেষ ঘটানোর জন্য বিশেষ কর্মসূচির। শিক্ষা যার মধ্যে সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ।স্বাধীনতা অর্জনের ৩৮ বছর পরও দুর্ভাগ্যবশত আমরা শিক্ষাকে এখনো সর্বজনীন করতে পারিনি। আরও দুর্ভাগ্যজনক যে বাংলাদেশের প্রায় অর্ধেক জনগোষ্ঠী এখনো আমাদের মাতৃভাষা লিখতে ও পড়তে পারে না। এ বিষয়টি বিশেষভাবে যাতনাদায়ক, কারণ পৃথিবীর ইতিহাসে একমাত্র আমরা বাঙালিরাই মাতৃভাষার জন্য জীবন উৎসর্গ করেছি। বস্তুত জাতি হিসেবে এটি চরম লজ্জার বিষয় যে আমাদের জনসংখ্যার প্রায় অর্ধেক আজও নিরক্ষর। তাই স্বাভাবিকভাবেই এদের চেতনার বিকাশের সুযোগ ঘটেনি এবং তারা রাষ্ট্রের সত্যিকারের নাগরিক তথা মালিকে পরিণত হতে পারেনি। এর ফলে রাষ্ট্র থেকে ন্যায্য প্রাপ্য তারা সহজে কিংবা স্বাভাবিকভাবে পায় না−এর জন্য অনেক ক্ষেত্রেই তাদের মাধ্যম বা তৃতীয় পক্ষের আশ্রয় নিতে হয়। এভাবে এক ধরনের সামন্তবাদী ‘ডোনার-ক্লায়েন্ট’ বা প্রভু-প্রজার সম্পর্ক আমাদের সমাজে আজও বিরাজ করছে।

ঔপনিবেশিক শক্তির বিদায়ের পরও জমিদারেরা প্রভুত্বের আসনে অধিষ্ঠিত ছিলেন। তবে জমিদারি প্রথা বিলোপের পর আমাদের দেশে এক নব্য সামন্তবাদের উদ্ভব ঘটেছে। আমাদের রাজনীতিবিদেরা, সমাজের পাওয়ার ব্রোকার হিসেবে, এখন অনেকাংশে সামন্তবাদী প্রভুদের ভূমিকা পালন করছেন। আমাদের সাধারণ জনগণ, বিশেষত দরিদ্র জনগণ আজ বহুলাংশে তাঁদের করুণার পাত্র ও আজ্ঞাবহ। কারণ দরিদ্র জনগণ যেসব সুযোগ-সুবিধা, বিশেষত সরকারি সুযোগ-সুবিধা পায়, তা অধিকাংশ ক্ষেত্রে রাজনীতিবিদদের পক্ষ থেকে ‘পেট্রোনেজ’ বা ফায়দা হিসেবেই আসে, নাগরিকের ন্যায্য অধিকার হিসেবে নয়। তাঁদের কাছ থেকে দরিদ্ররা আরও পায় ভিক্ষা-অনুদান। এমনকি নিপীড়নমূলক রাষ্ট্রযন্ত্রের হয়রানির হাত থেকে পরিত্রাণ পেতে হলেও দরিদ্রদের আশ্রয় নিতে হয় তাদের রাজনৈতিক প্রভুদের। এ ধরনের প্রভু-প্রজার সম্পর্ক এবং সাধারণ জনগণের অজ্ঞতা ও ক্ষমতাহীনতার পরিণতি মঙ্গলকর হয় না।

এ প্রসঙ্গে পাকিস্তানের উদাহরণ টানা যেতে পারে। বেশ কয়েক বছর আগে বিখ্যাত অর্থনীতিবিদ প্রয়াত মাহবুব উল হকের সঙ্গে করাচিতে আমাদের কয়েকজনের একটি বৈঠকে একত্র হওয়ার সুযোগ হয়। বৈঠকে তিনি পাকিস্তানের অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী হিসেবে তাঁর একটি অভিজ্ঞতার কথা আমাদের বলেন। অর্থমন্ত্রী হিসেবে তিনি একবার প্রত্যেক সংসদ সদস্যকে নিরক্ষরতা দূরীকরণের লক্ষ্যে ব্যয়ের জন্য পাঁচ লাখ রুপি অনুদান দেন। তিনি দুঃখ করে বলেন, একমাত্র একজন সাংসদই এই অর্থ ব্যয় করেন, বাকিরা তা ফেরত দেন। এর কারণ হলো যে পাকিস্তানের সামন্তবাদী প্রভুরা, যাঁরা সাংসদও, শিক্ষার মাধ্যমে জনগণের চোখ-কান খুলতে অনাগ্রহী ছিলেন। দুর্ভাগ্যবশত অশিক্ষা, কুশিক্ষা ও পঙ্কিলতার অন্ধকারে নিমজ্জিত এ সাধারণ জনগোষ্ঠীই আজ মধ্যযুগীয় ধর্মীয় উগ্রবাদের ধারক-বাহকে পরিণত হয়েছে। পাকিস্তান নামক রাষ্ট্রটি আজ তাই ক্রমাগতভাবে ধর্মান্ধ তালেবানদের কাছে আত্মসমর্পণ করছে।

সৌভাগ্যবশত, পাকিস্তানি সামন্তবাদী ভূস্বামী প্রভুদের শোষণের জাঁতাকলে নিষ্পেষিত মানুষের মতো বাংলাদেশি সাধারণ জনগণের অবস্থা সম্ভবত অত খারাপ নয়। তবু বাংলাদেশের সাধারণ মানুষও ব্যাপকভাবে দারিদ্র্য-বৈষম্যের শিকার। গণতন্ত্রের নামে তাদের ভোটের অধিকার প্রতিষ্ঠিত হলেও অন্যান্য ন্যায্য প্রাপ্য থেকে তারা বহুলাংশে বঞ্চিত। এ ছাড়া নির্বাচনের পর তাদের নির্বাচিত প্রতিনিধিরা অনেক ক্ষেত্রেই পরিণত হন প্রভুতে, আর জনগণ হয়ে পড়ে অনেকাংশেই ক্ষমতাহীন ‘ভেড়ার পালে’। ফলে প্রভুদের অনুগ্রহ ও করুণাভিক্ষার বাইরে রাষ্ট্রকে গড়ে তোলার ব্যাপারে তাদের কোনো কর্তব্যবোধ গড়ে ওঠে না। এটি একটি অতি অনাকাঙ্ক্ষিত অবস্থা এবং এর থেকে উত্তরণ না ঘটলে রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশ তো শক্তিশালী হবেই না, বরং ভবিষ্যতে আমরা বড় ঝুঁকির মুখোমুখি হতে পারি, উগ্রবাদের লাগামহীন বিস্তার হতে পারে যার অন্যতম।

গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থায় জনগণকে ক্ষমতায়িত করার অন্যতম মাধ্যম হলো একটি শক্তিশালী স্থানীয় সরকারব্যবস্থা। স্থানীয় সরকারের উদ্দেশ্য হলো স্থানীয় নির্বাচিত প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে গঠিত প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে স্থানীয় সমস্যার সমাধান। অধিকাংশ সমস্যাই স্থানীয় এবং এগুলোর সমাধানও স্থানীয়। তাই একটি কার্যকর স্থানীয় সরকারব্যবস্থার মাধ্যমেই যেসব সিদ্ধান্ত সাধারণ জনগণের জীবনকে প্রভাবিত করে, সেগুলো গ্রহণের ক্ষেত্রে তারা ভূমিকা রাখতে পারে। এভাবেই, একটি শক্তিশালী স্থানীয় সরকারব্যবস্থার মাধ্যমে জনগণকে সত্যিকারভাবে ক্ষমতায়িত এবং একটি অংশগ্রহণমূলক গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা গড়ে তোলা সম্ভব। এ উদ্দেশ্য সামনে রেখেই প্রাজ্ঞ সংবিধানপ্রণেতারা আমাদের সংবিধানে ৯, ১১, ৫৯ ও ৬০ অনুচ্ছেদ সংযুক্ত করেছেন, যদিও এগুলোর যথাযথ বাস্তবায়ন আজও হয়নি।

পক্ষান্তরে প্রতিবেশী ভারত একটি শক্তিশালী স্থানীয় সরকারব্যবস্থার মাধ্যমে গণতন্ত্রকে একটি শক্ত ভিতের ওপর দাঁড় করিয়েছে। পঞ্চায়েত পর্যায়ে, যা আমাদের ইউনিয়নের সমতুল্য, সব প্রাপ্তবয়স্ককে নিয়ে গঠিত ‘গ্রামসভা’র মাধ্যমে সরকার পরিচালনায় অন্তত সীমিত পরিসরে হলেও জনগণের কার্যকর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করছে। প্রসঙ্গত, আমাদের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী, তাঁর দারিদ্র্য দূরীকরণ: কিছু চিন্তাভাবনা গ্রন্থে ১৯৯৫ সালে এমনই একটি শক্তিশালী স্থানীয় সরকারব্যবস্থা গড়ে তোলার−যা ‘হবে স্থানীয় পর্যায়ে সকল উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের চালিকাশক্তি’−প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন। এ লক্ষ্যে তিনি ‘স্থানীয় সরকারকাঠামোর প্রতিনিধিত্বশীলতা ও জনগণের সঙ্গে সম্পৃক্তি, কেন্দ্রীয় সরকার ও আমলাতন্ত্রের প্রভাব-বলয়ের বাইরে এর স্ব-অধিকার প্রয়োগের ক্ষমতা এবং স্থানীয় পর্যায়ে অভ্যন্তরীণ সম্পদ সংগ্রহের’ ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন। আরও গুরুত্ব আরোপ করেন, ‘উন্নুক্ত গ্রামসভা’র মাধ্যমে ‘দরিদ্রদের কার্যকর অংশগ্রহণের মাত্রা বৃদ্ধি’র ওপর। দুর্ভাগ্যবশত এসব বলিষ্ঠ ভাবনা বাস্তবায়িত হওয়ার কোনো লক্ষণই আমরা দেখছি না।

বরং বর্তমান সরকার স্থানীয় সরকারব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার নামে জনগণের পরিবর্তে রাজনৈতিক পাওয়ার ব্রোকারদের আরও ক্ষমতায়িত করার উদ্যোগই নিয়েছে। প্রসঙ্গত, ভাবতেও অবাক লাগে যে সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা সত্ত্বেও জেলা পরিষদ প্রতিষ্ঠান না করে, উপজেলা পরিষদকে শৃঙ্খলিত করে এবং ইউনিয়ন পরিষদ অকার্যকর করে, মাত্র ৩০০ জন এমপির মাধ্যমে বর্তমান ক্ষমতাসীন সরকার দিনবদলের স্বপ্ন দেখছে!

রাষ্ট্রকে গড়ে তোলার তথা শক্তিশালী করার জন্য যে প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো গড়ে ওঠানো দরকার ছিল, তাও আমরা করতে ব্যর্থ হয়েছি। একটি দক্ষ, নিরপেক্ষ ও স্বাধীন দেশের উপযোগী জনপ্রশাসনিক কাঠামো আমরা গড়ে তুলতে পারিনি, বরং আমরা এটিকে বহুলাংশে পক্ষপাতদুষ্ট করে ফেলেছি। দলীয়করণ আর দুর্নীতির কারণে আমাদের ন্যায়বিচারের বাণী আজও নীরবে নিভৃতে কাঁদে। আমাদের সংসদীয় ব্যবস্থা একটি অকার্যকর আনুষ্ঠানিকতায় পরিণত হয়েছে এবং এটি অনেক ক্ষেত্রে পরিচালিত হয় জনকল্যাণের পরিবর্তে গোষ্ঠীস্বার্থে। সরকারি কর্মকমিশনকে আমরা দলবাজির আখড়ায় পরিণত করেছি, যা থেকে উত্তরণের সাম্প্রতিক চেষ্টা বর্তমানে ভেস্তে যাওয়ার পথে। তত্ত্বাবধায়ক সরকার নামের একটি উদ্ভট ব্যবস্থার আমরা সৃষ্টি করেছি এবং একেও আমরা ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিয়েছি।

আমাদের রাজনৈতিক দলগুলোও জনকল্যাণমুখী গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে ওঠেনি, বরং এগুলো অনেকটা সিন্ডিকেটের মতোই আচরণ করে এবং দুর্নীতির ‘রাজনৈতিকীকরণে’ সহায়তার হাত বাড়িয়ে দেয়। স্বাধীন দুর্নীতি দমন কমিশনকে এটি পোষা প্রতিষ্ঠানে পরিণত করতে আমরা ইতিমধ্যে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিয়েছি। স্থানীয় সরকারের কফিনে আমরা শেষ পেরেক ঠোকার প্রচেষ্টায় এখন লিপ্ত, যা আমাদের জন্য একটি ‘খুঁটিহীন’ গণতন্ত্রের খোলস তৈরি করবে। প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে একমাত্র নির্বাচন কমিশনই ব্যতিক্রম−প্রায় ধ্বংসের মুখ থেকে এটি উঠে এসেছে এবং গত দুই বছরে এতে নতুন প্রাণশক্তির সঞ্চার ঘটেছে।

উপরিউক্ত আলোচনা থেকে এটি সুস্পষ্ট যে, একটি ঘোষণা ও রক্তক্ষয়ী সংগ্রামের মাধ্যমে বাংলাদেশের সৃষ্টি হলেও গত ৩৮ বছরে এটিকে আমরা একটি শক্তিশালী রাষ্ট্রে পরিণত করতে পারিনি। আমরা দেশের সাধারণ জনগণকে প্রজা থেকে নাগরিক তথা মালিকের আসনে অধিষ্ঠিত করতে পারিনি। তাদের চেতনার উন্নেষ ঘটিয়ে রাষ্ট্র গড়ার কারিগরে পরিণত করতে পারিনি। একই সঙ্গে গত ৩৮ বছরে প্রয়োজনীয় প্রতিষ্ঠান সৃষ্টি ও শক্তিশালী করার পরিবর্তে বিদ্যমান প্রতিষ্ঠানগুলোকে অকার্যকর, এমনকি ধ্বংস করার মহোৎসবে আমরা লিপ্ত হয়েছি। একমাত্র নির্বাচন কমিশনই গত দুই বছরে কিছুটা শক্তি ও গতিশীলতা অর্জন করেছে, কিনতু পরিপূরক ও সহায়ক প্রতিষ্ঠানের অভাবে এটির ভবিষ্যৎও ঝুঁকিপূর্ণ হতে বাধ্য। তাই রাষ্ট্র হিসেবে আমাদের প্রিয় মাতৃভূমি বাংলাদেশকে শক্তিশালী করতে হলে জনগণকে ক্ষমতায়িত করার এবং প্রয়োজনীয় প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার দিকে আজ জরুরি ভিত্তিতে নজর দিতে হবে। কারণ রাষ্ট্রের শক্তির মূল উৎস এর জনগণ ও প্রতিষ্ঠান।
ড. বদিউল আলম মজুমদার: সম্পাদক, সুজন−সুশাসনের জন্য নাগরিক।
তথ্য সূত্র: প্রথম আলো, ৩ মে ২০০৯

Advertisements

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s