'সংঘাত নয়, অর্থবহ সংলাপ ও সার্বিক সংস্কারে'র দাবিতে দেশব্যাপী 'সুজনে'র মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত

human_chain‘সংঘাত নয়, অর্থবহ সংলাপ ও সার্বিক সংস্কারে’র দাবিতে আজ (০৭ অক্টোবর, ২০০৬) সকাল ১০.৩০টায় ‘সুজন-সুশাসনের জন্য নাগরিক’-এর উদ্যোগে দেশের ৫৮টি জেলা সদরে, ১১১টি উপজেলা এবং অনেকগুলো ইউনিয়নসহ উল্লেখযোগ্য সংখ্যক স্থানে মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হয়েছে। চলমান সংলাপ যাতে অর্থবহ হয়, সংলাপের মধ্য দিয়ে যেন জনগণের আকাঙ্ক্ষা অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট সকল ক্ষেত্রে মৌলিক সংস্কার হয়, সেই দাবিতে সোচ্চার হওয়ার জন্যই স্বেচ্ছাব্রতী সংগঠন ‘সুজন’-এর নেতৃত্বে দীর্ঘদিন ধরেই সারা দেশে বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। তারই ধারাবাহিকতায় ব্যাপক স্বতঃস্ফূর্ততার মধ্য দিয়ে আজ এই মানবন্ধন কর্মসূচি পালিত হল।

আলাপ-আলোচনার ভিত্তিতে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধানকে নিয়ে অচলাবস্থার অবসান, নির্বাচন কমিশনের স্বাধীন সচিবালয় প্রতিষ্ঠা, এর স্বাধীনতা নিশ্চিতকরণ এবং নিরপেক্ষ ও স্বাধীনচেতা ব্যক্তিদেরকে কমিশনে নিয়োগ প্রদান, রাজনৈতিক দলসমূহের অভ্যন্তরে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা, এগুলোর আর্থিক স্বচ্ছতা ও মনোনয়ন প্রক্রিয়ায় দলের প্রাথমিক সদস্যদের পদ্ধতিগত ভূমিকা প্রদানের লক্ষ্যে রাজনৈতিক দলের বাধ্যতামূলক নিবন্ধনের বিধান, ভোটারদেরকে নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী প্রার্থীদের সম্পর্কে বিস্তারিত ও সঠিক তথ্য প্রদান এবং ‘না-ভোট’ ও নির্বাচিত প্রতিনিধিদের ‘রিকল’ ব্যবস্থার প্রবর্তন করা এবং সুজন প্রস্তাবিত অন্যান্য পদ্ধতিগত সংস্কার প্রস্তাব বাস্তবায়নসহ অন্যান্য দাবিতে সুজন এই মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করে। সারা দেশে মানববন্ধন কর্মসূচিতে সুজন কমিটির সদস্যরা ছাড়াও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, রাজনীতিবিদ, অর্থনীতিবিদ, শিক্ষক, অভিভাবক, বিভিন্ন পেশাজীবী, ছাত্র-ছাত্রীসহ সর্বস্তরের জনগণ স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করেন।

ঢাকার মানিক মিয়া এভিনিউ’তে কেন্দ্রীয়ভাবে আয়োজিত মানববন্ধন কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন, সুজনের সভাপতি বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক মোজাফ্ফর আহমদ, সাবেক প্রধান নির্বাচন কমিশনার বিচারপতি মোঃ আব্দুর রউফ, সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা এএসএম শাহজাহান, নারী নেত্রী ড. হামিদা হোসেন, সুজনের সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার, গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের পরিচালক ডাঃ জাফরুল্লাহ চৌধুরী, বিশিষ্ট কলামিস্ট ও গবেষক সৈয়দ আবুল মকসুদ, নিজেরা করির নির্বাহী পরিচালক খুশী কবির, ফেমা’র প্রেসিডেন্ট মুনিরা খান, ব্রতী’র নির্বাহী প্রধান শারমিন মুরশিদ, অধ্যাপক তোফায়েল আহমেদ, ডর্প এর নির্বাহী পরিচালক এ এইচ এম নোমান, বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের সাধারণ সম্পাদক মুহিদুল হক খান, সোয়ান গ্রুপ-এর পরিচালক খবির উদ্দীন, কবি হায়াৎ মামুদ প্রমুখ। এছাড়া রাজনীতিবিদ রুহিন হোসেন প্রিন্স এ মানববন্ধনের সাথে একাত্মতা প্রকাশ করেন।

মানববন্ধন শেষে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে অধ্যাপক মোজাফ্ফর আহমদ গণতন্ত্রকে রক্ষা, সুসংহত ও চলমান রাখার জন্য এই মানবন্ধনের মাধ্যমে নেতৃবৃন্দের প্রতি আহ্বান রেখে বলেন, গণতন্ত্রের জন্য এই শান্তিপ্রিয় সংলাপের মহান উদ্যোগ নিঃসন্দেহে প্রশংসার দাবিদার। কিন্তু মৌলিক বিষয়ে সংস্কার প্রয়োজন বলে তিনি উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, গণতন্ত্রের ভিতকে শক্তিশালী এবং সৎ ও জনকল্যাণে নিবেদিত ব্যক্তিদের নির্বাচিত করতে হবে। দেশব্যাপী মানববন্ধনের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করে তিনি বলেন, সংস্কারের দাবি একটি গণদাবি। এছাড়া তিনি অর্থবহ সংস্কারের মাধ্যমে যথাসময়ে নির্বাচন অনুষ্ঠানের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। প্রাণ দেওয়ার রাজনীতি আমরা চাই না উল্লেখ করে তিনি সুজন প্রস্তাবিত বিভিন্ন সংস্কারের গুরুত্ব তুলে ধরে আরো বলেন, এ সকল সংস্কার তৃণমূল পর্যায় থেকে সর্বত্র চাই।

এ এসএম শাহজাহান বলেন, সুজন কারো প্রতিপক্ষ নয়, সুজন যদি কারো প্রতিপক্ষ হয় তবে তা হলো অন্যায়ের প্রতিপক্ষ। সুজন সবসময় ন্যায়ের পক্ষে কাজ করে। তিনি সুজন প্রস্তাবিত বিভিন্ন সংস্কার প্রস্তাব তুলে ধরে বলেন, সংলাপকে অর্থবহ করে তুলতে হলে এ সকল প্রস্তাবনাকে বিবেচনায় নিয়ে আসতে হবে।

জনাব খুশী কবির সুজনের মানববন্ধনের কথা উল্লেখ করে বলেন, এইরূপ উদ্যোগের মাধ্যমে দাবিগুলো পূরণ সম্ভব হতে পারে। তিনি সুজনের দাবিসমূহের সাথে একমত পোষণ করে বলেন, সার্বিক সংস্কারের জন্য চাই সফল সংলাপ।

ড. বদিউল আলম মজুমদার বলেন, দুই নেতার হাসিমুখ দেখে আমরা খুশী, তবে অর্থবহ সংলাপ ও সার্বিক সংস্কার প্রয়োজন, মাত্র কয়েকজন ব্যক্তির পরিবর্তন নয়। তিনি বলেন, আমরা আনন্দিত যে, সংলাপ শুরু হয়েছে। এ সংলাপের মধ্য দিয়ে আমাদের নেতৃবৃন্দ সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের জন্য অপরিহার্য সংস্কারগুলো সম্পর্কে ঐক্যমতে পৌঁছবেন জাতি এটাই প্রত্যাশা করে। তিনি বলেন, নির্বাচন হতে হবে অর্থবহ, যার মাধ্যমে সৎ, যোগ্য ও জনকল্যাণে নিবেদিত ব্যক্তিদের রাষ্ট্রক্ষমতায় যাওয়ার সুযোগ সৃষ্টি এবং সুশাসন প্রতিষ্ঠার পথ উন্মোচিত হবে।

উপরিউক্ত মানববন্ধন কর্মসূচিতে বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ অংশগ্রহণ করে এ আন্দোলনের সাথে একাত্মতা প্রকাশ করেন।

সহস্রাধিক নাগরিকের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত এ মানববন্ধন কর্মসূচি থেকে সমপ্রতি শুরু হওয়া সংলাপকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ক্ষুদ্র স্বার্থের উধের্্ব উঠে বিবদমান বিষয়গুলো সম্পর্কে সমঝোতায় পৌঁছবেন এবং যথাসময়ে একটি সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠানের পথ সুগম করার দাবি জানানো হয়।

Advertisements