বিশেষ অধিকার ও গণতান্ত্রিক দায়বদ্ধতা

সংসদ

samakal_logo

বদিউল আলম মজুমদার

কয়েক সপ্তাহ আগে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি দু’জন বিচারকের বাধ্যতামূলক অবসর গ্রহণ এবং পরে তা প্রত্যাহারের বিষয়ে তদন্ত করার লক্ষ্যে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর একজন উপদেষ্টাকে সাক্ষী হিসেবে ডাকার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। পরে পুরো বিষয়টির জন্য আইন সচিবের দায়িত্ব গ্রহণ এবং ক্ষমা প্রার্থনার পরিপ্রেক্ষিতে কমিটি অবশ্য মাননীয় উপদেষ্টাকে ডাকার সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসে। তবুও কমিটির মূল সিদ্ধান্ত অনেকগুলো গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুর অবতারণা করেছে, গণতান্ত্রিক দায়বদ্ধতার পদ্ধতিকে কার্যকর করতে হলে যা সম্পর্কে আমাদের ধারণা সুস্পষ্ট হওয়া দরকার।সংসদীয় কমিটির পক্ষ থেকে নির্বাহী বিভাগের জবাবদিহিতা দাবি এবং রেকর্ডপত্র তলব করা তাদের সাংবিধানিক অধিকারের অন্তর্ভুক্ত। এটি তাদের সংসদীয় বিশেষ অধিকারের (Parliamentary privilege) অংশ। তবে উপদেষ্টাকে ডাকার কমিটির প্রাথমিক সিদ্ধান্তের সঙ্গে সরকারের প্রধান নির্বাহীর বিশেষ অধিকারের (Executive privilege) বিষয়টিও জড়িত। প্রধান নির্বাহীর বিশেষ অধিকার হলো প্রধানমন্ত্রীর তার উপদেষ্টাদের কাছ থেকে সংসদের নিরক্ষণের (Scrutiny) এখতিয়ারের বাইরে দ্বিধাহীন উপদেশ গ্রহণ করার অধিকার।

আমাদের সংবিধানের ৭৬ অনুচ্ছেদ জাতীয় সংসদকে সংসদীয় স্থায়ী কমিটি গঠনের ক্ষমতা দিয়েছে। অনুচ্ছেদ ৭৬(৩) অনুযায়ী, ‘সংসদ আইনের দ্বারা এই অনুচ্ছেদের অধীন নিযুক্ত কমিটিসমূহকে (ক) সাক্ষীদের হাজিরা বলবৎ করিবার এবং শপথ, ঘোষণা বা অন্য কোন উপায়ের অধীন করিয়া তাঁহাদের সাক্ষ্য গ্রহণের; (খ) দলিলপত্র দাখিল করিতে বাধ্য করিবার ক্ষমতা প্রদান করিতে পারিবেন।’

সংবিধানের ৭৮ অনুচ্ছেদ সংসদ ও সংসদ সদস্যদের বিশেষ অধিকার ও দায়মুক্তি সম্পর্কিত। বিশেষ অধিকার ও দায়মুক্তি, সংবিধানের ৭৮(৫) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, আইনের দ্বারা নির্ধারিত হওয়ার কথা। কিন্তু সংবিধানের এই অনুচ্ছেদকে কার্যকারিতা প্রদানের লক্ষ্যে আমাদের জাতীয় সংসদ অদ্যাবধি কোনো আইন প্রণয়ন করেনি। অনুচ্ছেদ ৭৬-এর অধীনে গঠিত সংসদীয় কমিটিগুলোর কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণের জন্যও এ পর্যন্ত কোনো আইন প্রণীত হয়নি। তবে কার্যপ্রণালি বিধি, যা সংসদ কর্তৃক অনুমোদিত, কমিটিগুলোকে সাক্ষ্য-প্রমাণ গ্রহণের এবং কোনো ব্যক্তি, দলিল ও কাগজপত্র তলব করার ক্ষমতা দিয়েছে।

উদাহরণস্বরূপ, কার্যপ্রণালি বিধির ২০২(১) ধারা অনুযায়ী, ‘সচিব কর্তৃক স্বাক্ষরিত নির্দেশ অনুযায়ী কোন সাক্ষীকে ডাকা যাইবে এবং তিনি কমিটিতে প্রয়োজনীয় সকল দলিল দাখিল করিবেন।’ ধারা ২০৩ অনুযায়ী, ‘রেকর্ড, কাগজপত্র এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে ডাকিয়া পাঠাইবার ক্ষমতা কমিটির থাকিবে। তবে শর্ত থাকে যে, কোন ব্যক্তি কর্তৃক প্রদত্ত সাক্ষ্য অথবা প্রদত্ত কোন দলিল কমিটির কাজে প্রয়োজনীয় কি-না অনুরূপ প্রশ্ন উত্থাপিত হইলে বিষয়টি স্পিকারের নিকট প্রেরণ করিতে হইবে এবং তাঁহার সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত বিবেচিত হইবে।’ তাই এটা সুস্পষ্ট যে, কার্যপ্রণালি বিধি অনুযায়ী সংসদীয় বিশেষ অধিকারের আওতায় আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর একজন উপদেষ্টাকে ডাকার এখতিয়ার রয়েছে।

কিন্তু পার্লামেন্টারি প্রিভিলেজ বা সংসদীয় বিশেষ অধিকার বলতে আমরা কী বুঝি? এ সম্পর্কিত প্রায় সর্বজন স্বীকৃত বিশেষজ্ঞ এরেসকাইন মে’র ‘Treatise on the Law, Privileges, Proceedings and Usage of Parliament`. 23rd edition অনুযায়ী : ‘সংসদের বিশেষ অধিকার হলো কতকগুলো স্বতন্ত্র অধিকারের সমষ্টি, যা প্রত্যেক সংসদ সদস্য ব্যক্তিগতভাবে এবং সংসদের উভয় কক্ষই উপভোগ করে। এগুলো অন্যান্য ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ভোগ করা অধিকারের চেয়ে অতিরিক্ত অধিকার; এবং এগুলো ছাড়া সংসদ ও সংসদ সদস্যগণ তাদের দায়িত্ব পালন করতে অক্ষম। তাই যদিও বিশেষ অধিকার রাষ্ট্রীয় আইনের অংশ, তবু এগুলোর মাধ্যমে অনেকটা সাধারণ আইনের আওতা থেকে তাদেরকে রেহাই প্রদান করা হয়।’ সংসদীয় বিশেষ অধিকার অনুযায়ী, সংসদ তার নিজস্ব কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ করতে পারে, যার মধ্যে সাক্ষীদের ডাকা ও দলিলপত্রাদি তলব করার ক্ষমতা অন্তর্ভুক্ত।

তবে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী কি তার উপদেষ্টাকে কমিটির সামনে সাক্ষ্য প্রদান করতে দিতে বাধ্য? না, তিনি বাধ্য নন। প্রধানমন্ত্রী ‘এক্সিকিউটিভ প্রিভিলেজ’ বা প্রধান নির্বাহীর বিশেষ অধিকার প্রয়োগ করে তার উপদেষ্টাকে কমিটির সামনে হাজির হওয়া থেকে বিরত রাখতে পারেন। জর্জ ওয়াশিংটন থেকে শুরু করে বহু আমেরিকান প্রেসিডেন্ট এই বিশেষ অধিকার প্রয়োগ করে আসছেন।

কংগ্রেসনাল গ্লসারি অনুযায়ী, ‘Executive privilege refers to the assertion made by the President or other executive branch officials when they refuse to give Congress, the Courts, or other private parties information or records which have been requested or subpoenaed or when they order government witnesses not to testify before Congress.’ (‘নির্বাহীর বিশেষ ক্ষমতা বলতে প্রেসিডেন্ট বা নির্বাহী বিভাগের অন্যান্য কর্মকর্তার কংগ্রেস, আদালত কিংবা অন্যান্য বেসরকারি ব্যক্তি/সংস্থার অনুরোধ বা তলব অনুযায়ী তথ্য বা দলিলপত্রাদি প্রদানে অসম্মতিকে বোঝায়। সরকারি সাক্ষীদের কংগ্রেসের সামনে সাক্ষ্য প্রদানে বিরত রাখাও এই অধিকারের অন্তর্ভুক্ত।’)

মার্কিন সংবিধানে ‘এক্সিকিউটিভ প্রিভিলেজ’ বা প্রধান নির্বাহীর বিশেষ ক্ষমতা সম্পর্কে কিছু বলা নেই। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, আমেরিকান সংবিধানের ক্ষমতা বিভাজন তত্ত্বের (Principles of separation of powers) মধ্যে এ ধারণা অন্তর্নিহিত রয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্টরা বারবার যুক্তি প্রদর্শন করেছেন যে, তাদের দায়িত্ব যথাযথভাবে পালনের জন্য তাদের নিজ সহকারী ও উপদেষ্টাদের কাছ থেকে দ্বিধাহীন পরামর্শ প্রাপ্তি অপরিহার্য। তবে এমন পরামর্শ পাওয়া দুরূহ হবে, যদি পরামর্শদাতাদের কংগ্রেসনাল কমিটির সামনে শপথ গ্রহণপূর্বক জবানবন্দি দিতে হয়।

১৭৯২ সালে প্রেসিডেন্ট জর্জ ওয়াশিংটন ওয়াহো নদীর অববাহিকায় আমেরিকান ইন্ডিয়ানদের বিরুদ্ধে এক ব্যর্থ অভিযান সম্পর্কে কংগ্রেসকে তথ্য প্রদানে প্রথম অসম্মতি জ্ঞাপন করেন। তবে তিনি কংগ্রেসের সঙ্গে এই দ্বন্দ্বে পরাজিত হন এবং পরবর্তীকালে সব তথ্য হস্তান্তর করতে বাধ্য হন। প্রেসিডেন্ট আইজেনহাওয়ার প্রধান নির্বাহীর বিশেষ অধিকার ব্যবহার করে প্রতিরক্ষা বাহিনীর সিনেটর জোসেফ ম্যাকার্থি সম্পর্কিত তদন্তে তার সহকারীকে সাক্ষ্য প্রদান থেকে বিরত রাখতে প্রথমবারের মতো সফল হন।

ওয়াটারগেট তদন্তে, যা ছিল একটি ফৌজদারি বিষয়, প্রেসিডেন্ট নিক্সন হোয়াইট হাউসে প্রেসিডেন্ট এবং তার পরামর্শকদের আলাপ-আলোচনার ধারণকৃত টেপ বিশেষ প্রসিকিউটর লিওন জওরসাকিকে দিতে অস্বীকৃতি জ্ঞাপন করেন। প্রেসিডেন্ট নিক্সন অবশ্য পরবর্তীকালে আদালত কর্তৃক নির্দেশিত হয়ে এই টেপ হস্তান্তর করতে বাধ্য হন এবং এর ৪ দিন পর পদত্যাগ করেন। প্রেসিডেন্ট ক্লিনটনও মনিকা লিওনস্কি কেলেঙ্কারি বিষয়ে আদালতের আদেশে তার সহকারীকে সাক্ষী প্রদান করতে দিতে বাধ্য হন।

যদিও প্রধান নির্বাহীর বিশেষ অধিকার আমেরিকান সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত নয়, তবু একের পর এক মার্কিন প্রেসিডেন্ট এই ক্ষমতা প্রয়োগের চেষ্টা করেছেন; এবং মার্কিন আদালতও এর স্বীকৃতি দিয়েছে। ‘মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বনাম নিক্সন’ মামলায় ১৯৭৪ সালে মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট তার রায়ে দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মকর্তা এবং তাদেরকে যারা পরামর্শ দেন ও সহায়তা করেন, তাদের মধ্যকার আলাপ-আলোচনার গোপনীয়তার যৌক্তিকতার স্বীকৃতি দেন। আদালত বলেন, ‘অভিজ্ঞতায় বলে যে, যদি প্রকাশিত হওয়ার ভয় থাকে, তাহলে পরামর্শ প্রদানের ক্ষেত্রে ব্যক্তিরা নিজ স্বার্থে বিনা দ্বিধায় পরামর্শ প্রদান করেন না, যা সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়ার জন্য ক্ষতিকর।’

যদিও প্রেসিডেন্ট এবং তার উপদেষ্টাদের মধ্যে আলাপ-আলোচনার গোপনীয়তা রক্ষার গুরুত্বকে আদালত স্বীকৃতি দিয়েছে, তবুও এই অধিকার সীমাহীন (Absolute) নয়; এবং আদালত এই অধিকার খর্ব করতে পারে। সংখ্যাগরিষ্ঠের পক্ষে প্রদত্ত রায়ে মার্কিন সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি ওয়ারেন বার্গার লিখেন, ‘ক্ষমতা বিভাজনের তত্ত্ব কিংবা উচ্চ পর্যায়ের আলোচনার গোপনীয়তা রক্ষার প্রয়োজনীয়তার কারণে তথ্য প্রদানে অসম্মতির প্রেসিডেন্টের বিশেষ অধিকার সীমাহীন ও সর্বক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়। তা আদালতের পর্যালোচনার এখতিয়ার বহির্ভূতও নয়।’

ক্ষমতা বিভাজনের নীতি বাংলাদেশ সংবিধানেরও একটি মৌলিক বৈশিষ্ট্য। তাই প্রধান নির্বাহীর বিশেষ অধিকার আমাদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হওয়া উচিত। এছাড়া কার্যপ্রণালি বিধির ২০৩ ধারা অনুযায়ী : ‘সংসদীয় কমিটিগুলো রেকর্ড, কাগজপত্র এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে ডাকিয়া পাঠাইবার ক্ষমতা কমিটির থাকিবে। তবে শর্ত থাকে যে, … রাষ্ট্রের নিরাপত্তা বা স্বার্থ বিঘ্নিত হইতে পারে এই কারণে সরকার কোন দলিল পেশ করিতে অনিচ্ছা প্রকাশ করিতে পারিবেন।’ তাই এটা ধারণা করা অযৌক্তিক নয় যে, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টাদের সংসদীয় কমিটির সামনে তলব করার ক্ষেত্রেও এমন অনিচ্ছা প্রকাশের অধিকার প্রযোজ্য।

এ প্রসঙ্গে মনে রাখা প্রয়োজন, ক্ষমতার বিভাজন তত্ত্ব সরকারের বিভিন্ন বিভাগের_নির্বাহী বিভাগ, আইনসভা ও বিচার বিভাগের_মধ্যে ‘চেকস অ্যান্ড ব্যালান্স’-এর সম্পর্ক সৃষ্টি করে। এর ফলে কোনো ধরনের বাড়াবাড়ি যেন না হয়, তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে এক বিভাগের ওপর অপর বিভাগের ‘চেক্স’ বা নজরদারিত্ব করার সুযোগ থাকে। একই সঙ্গে কোনো বিভাগই অন্য বিভাগের চেয়ে শ্রেষ্ঠ নয়, সে ধরনের একটি ‘ব্যালান্স’ বা ভারসাম্যও তৈরি করে। প্রধান নির্বাহীর বিশেষ অধিকার এমনি ধরনের ভারসাম্যই সৃষ্টি করে। তাই গণতান্ত্রিক দায়বদ্ধতা কার্যকর করার লক্ষ্যে এ ধরনের ক্ষমতা অপরিহার্য। তবে মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট সুস্পষ্টভাবেই বলেছে, এ ক্ষমতা ‘এব্সলিউট’ বা সীমাহীন নয়।

আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির দুই বিচারককে বাধ্যতামূলক অবসর প্রদান এবং তা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত সম্পর্কিত তদন্ত আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুরও অবতারণা করে। মন্ত্রণালয়ের প্রধান নির্বাহী হিসেবে মন্ত্রীরা দায়িত্বপ্রাপ্ত। কিন্তু কমিটির পক্ষ থেকে মন্ত্রী মহোদয়দেরকে না ডেকে তাদের অধস্তন সচিবকে কেন ডাকা হলো? এ সিদ্ধান্ত গ্রহণে অবশ্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী এবং প্রতিমন্ত্রীও অংশ নিয়েছিলেন। তাই এক্ষেত্রে ‘কনফ্লিক্ট অব ইন্টারেস্ট’ বা স্বার্থের দ্বন্দ্বের বিষয়টিও সামনে এসে যায়। এমতাবস্থায় আজ সময় এসেছে মন্ত্রীদেরকে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের স্থায়ী কমিটির সদস্য রাখার যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তোলার।

উপরিউক্ত বিশ্লেষণ থেকে এটা সুস্পষ্ট যে, আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রীর একজন উপদেষ্টাকে কমিটির সামনে ডাকার ফলে গণতান্ত্রিক দায়বদ্ধতার বিপরীতে পরামর্শের গোপনীয়তার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। এ তদন্ত থেকে আরও সামনে এসেছে মন্ত্রীদের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সদস্য হওয়ার যৌক্তিকতার বিষয়টি। ‘ওভারসাইট’ বা নজরদারিত্বের ভূমিকা যথাযথভাবে পালনের স্বার্থে সংসদীয় কমিটিগুলোর সাক্ষী ও দলিলপত্র তলব করার ক্ষমতা থাকা আবশ্যক, যা তাদের বিশেষ অধিকারের অন্তর্ভুক্ত। কিন্তু এই অধিকার সীমাহীন হওয়ার কোনো অবকাশ নেই; এবং এই অধিকার যেন প্রধান নির্বাহীর তার উপদেষ্টাদের কাছ থেকে দ্বিধাহীন পরামর্শ পাওয়ার অধিকারকে খর্ব না করে।

সরকারের দুটি গুরুত্বপূর্ণ বিভাগের কার্যক্রম যাতে ভবিষ্যতে বাধাগ্রস্ত না হয়, সেই লক্ষ্যে দুটি অধিকারের_সংসদীয় বিশেষ অধিকার ও প্রধান নির্বাহীর বিশেষ অধিকার_মধ্যে একটা ভারসাম্য সৃষ্টি করা আজ অতি জরুরি। সংবিধানের ৭৬ ও ৭৮ অনুচ্ছেদে নির্দেশিত একটি যথোপযুক্ত আইনই এমন ভারসাম্য সৃষ্টি করতে পারে। তাই আমরা আশা করি, সংসদ যথাশিগগিরই এ ধরনের একটি আইন প্রণয়ন করবে। তবে আইন প্রণয়নের ক্ষেত্রে সংসদ যেন তাদের বিশেষ অধিকারকে সীমাহীন না করে এবং শুধু নির্বাহী বিভাগের ওপর নজরদারিত্বের বিষয়ে নিবিষ্ট থাকে। একই সঙ্গে মন্ত্রীদের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সদস্য থাকার বর্তমান রেওয়াজকেও রহিত করে। উলেল্গখ্য, এমন একটি আইন এখন পর্যন্ত প্রণয়ন করা না হলেও সংসদীয় বিশেষ অধিকারের কার্যকারিতা রয়েছে। উদাহরণস্বরূপ, প্রতিবেশী ভারতেও এ ধরনের কোনো আইন এখনও প্রণীত হয়নি। তবুও সে দেশে এ অধিকার বহুদিন ধরেই ব্যবহৃত হয়ে আসছে।
– ড. বদিউল আলম মজুমদার : সম্পাদক, সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন)

তথ্য সূত্র: দৈনিক সমকাল, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০০৯

Advertisements

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s