“তত্ত্বাবধায়ক সরকার নিয়ে নতুন বিতর্ক ও নাগরিক ভাবনা” শীর্ষক গোলটেবিল আলোচনা অনুষ্ঠিত

Roundtable-SHUJAN 008তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা নিয়ে একটি নতুন বিতর্ক শুরু হয়েছে। গণমাধ্যমের রিপোর্ট অনুযায়ী, ক্ষমতাসীন সরকার এ ব্যবস্থাকে বাতিল করার পক্ষে নীতিগতভাবে সিদ্ধান্ত নিয়েছে এবং এ লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতিও গ্রহণ করা শুরু করেছে। সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমে নির্বাচন কমিশনকে শক্তিশালী করা এ প্রস্তুতির অংশ। বিরোধী দল অবশ্য এ ব্যাপারে ভিন্ন অবস্থান নিয়েছে। এমনি প্রেক্ষাপটে ‘সুজন-সুশাসনের জন্য নাগরিকে’র উদ্যোগে আজ সকাল ১০টায় জাতীয় প্রেসক্লাবের ভিআইপি লাউঞ্জে “তত্ত্বাবধায়ক সরকার নিয়ে নতুন বিতর্ক ও নাগরিক ভাবনা” র্শীর্ষক এক গোলটেবিল আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। অধ্যাপক মোজাফ্ফর আহমদের সভাপতিত্ব ও সুজনে’র নির্বাহি সদস্য জনাব এএসএম শাহাজাহানের সঞ্চালনায় এতে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ‘সুজন’-এর সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার। “তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থার বিলুপ্তির বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং এ নিয়ে সারা দেশে একটি তুমুল বিতর্ক হওয়া আবশ্যক। একটি জাতীয় ঐক্যমত্য ছাড়া তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল করলে নির্বাচনী ফলাফলের গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে ভবিষ্যতে আরো নতুন জটিলতার সৃষ্টি হতে বাধ্য” উল্লেখ করে মূল প্রবন্ধে ড. বদিউল আলম মজুমদার বলেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা একটি কার্যকর গণতান্ত্রিক পদ্ধতির সাথে সঙ্গতিপূর্ণ নয়। তাই এর বিলুপ্তি অপরিহার্য। তবে তা করার পূর্বে নির্বাচন কমিশনকে সত্যিকারার্থেই স্বাধীন ও শক্তিশালী করা জরুরি। কিন্তু এ আবশ্যকীয় কাজটিই যথেষ্ট নয়। কারণ রাজনৈতিক দল সদাচারণ না করলে এবং ক্ষমতাসীন সরকার পরিপূর্ণভাবে সহায়তা না করলে সবচেয়ে শক্তিশালী ও স্বাধীন নির্বাচন কমিশনের পক্ষেও সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠান করা সম্ভবপর নয়। গত জানুয়ারিতে অনুষ্ঠিত উপজেলা নির্বাচনে আমরা এর আলামত কিছুটা দেখেছি। তাই তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বিলুপ্তির আগে নির্বাচন কমিশনকে ক্ষমতায়িত ও শক্তিশালী করার পাশাপাশি প্রয়োজন রাজনৈতিক দলের ও সংশ্লিষ্ট অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের সংস্কার। প্রয়োজন আমাদের রাজনৈতিক সংস্কৃতির আমূল পরিবর্তন। আরো প্রয়োজন রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে ঐক্যমত্য প্রতিষ্ঠা। সংস্কার ধারণাগুলোকে আরো শাণিত করার এবং এ ব্যাপারে একটি জাতীয় ঐক্যমত্য সৃষ্টির লক্ষ্যে এই মুহূর্তেই দেশব্যাপী একটি তুমুল বিতর্ক শুরু হওয়া আবশ্যক উল্লেখ করে এ লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট সকলকে, বিশেষত আমাদের চিন্তাশীল নাগরিকদেরকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের ব্যাপারটা একটা বিস্তৃত বিষয় উল্লেখ করে সভাপতির বক্তব্যে অধ্যাপক মোজাফ্ফর আহমদ বলেন, আমাদের মনে রাখতে হবে কতগুলো অবজেকটিভ কনডিশনের মধ্যে দিয়ে আমরা এই তত্ত্বাধায়ক ব্যবস্থার সৃষ্টি করেছিলাম। আমার মতে, এই অবজেকটিভ কনডিশন আজকেও বিরাট করছে, আর সেটা হলো রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে আস্থার সংকট। তিনি বলেন, এটা দূর করতে হলে রাজনৈতিক দলগুলোকেই দায়িত্ব নিতে হবে। এছাড়া তিনি তত্ত্বাবধায়ক সরকারের ভেতরে ও বাইরের অভিজ্ঞতাগুলোর একটি পর্যালোচনা হওয়া জরুরি বলে মত প্রকাশ করেন। সিভিল সোসাইটির গুরুত্ব তুলে ধরে ‘সুজন’ সম্পর্কে মাননীয় আইন প্রতিমন্ত্রীর সাম্প্রতিক একটি বক্তব্যের উদ্ধৃতি তুলে ধরে বলেন তিনি বলেন, ‘সুজন’ দাতাদের দ্বারা কিংবা কোনো রাজনৈতিক দলের ছত্রছায়ায় গঠিত সংগঠন নয়। এটি একটি দল নিরপেক্ষ সংগঠন। এটি দাতাদের অর্থ গ্রহণ করে না, কিংবা দাতাদের অর্থে পরিচালিত নয়। মূলত স্বেচ্ছাশ্রম ও শুভানুধ্যায়ীদের সামান্য আর্থিক সহায়তায় এটি পরিচালিত হয়। তাই আমরা কোটি কোটি টাকা বিদেশ থেকে গ্
হণ করি না – বস্তুত বাইরের কোনো অর্থই গ্রহণ করিনি। মাননীয় মন্ত্রী জানতে চাইলে আমরা তাকে তথ্য দিতে প্রস্তুত। ‘সুজন’ সম্পর্কে ভ্রান্তিমূলক ধারণার নিরসন হওয়াও জরুরি বলেও এ সময় তিনি মন্তব্য করেন। এছাড়া রাষ্ট্রপতি ইলেকশনে সব ইলেক্ট্ররাল কলেজ বদলিয়ে সব নির্বাচিত প্রতিনিধিদের ভোটে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়া ও একপ্রার্থীর পক্ষে বা ৭৫ এর ওপরে যে সমস্ত ভোট পড়েছে নির্বাচন কমিশনের মাধ্যমে সেগুলোর একটি বিচার-বিশ্লেষণ হওয়া উচিত বলেও তিনি অভিমত প্রকাশ করেন।

সুজনে’র সহ-সভাপতি ও তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা জনাব এম হাফিজউদ্দিন খান বলেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থার পরিবর্তন জরুরি। কিন্তু প্রশাসন, বিচার বিভাগ, নির্বাচন পদ্ধতি ইত্যাদির আমূল পরিবর্তন না করে হঠাৎ করে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের পরিবর্তন আনলে লাভ হবে না। এখন সংসদে আলোচনা করে একটি ঐক্যমত্য সৃষ্টি হবে সে পরিবেশ আমরা দেখতে পাচ্ছি না, এছাড়া বিভিন্ন পর্যায়ে আলোচনা করে একটি বৃহত্তর ঐক্যমত্য সৃষ্টি হবে সে সম্ভাবনাও ক্ষীণ। এমন পরিস্থিতিতে ঝোঁকের মাথায় তত্ত্বাবধায়ক ব্যবস্থা তুলে দেয়ার সিদ্ধান্তে যাওয়া থেকে সরকারকে দূরে থাকার পরামর্শ দেন তিনি। এজন্য প্রধান বিচারপতি নিয়োগের আইন সংশোধনসহ সংবিধানে কিছু পরিবর্তন এনে আপাতত তত্ত্বাবধায়ক ব্যবস্থা চলতে পারে বলে তিনি অভিমত ব্যক্ত করেন। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা জনাব এএসএম শাহাজাহান তত্ত্বাবধায়ক সরকার প্রসঙ্গে একটি জাতীয় ঐক্যমত্যের কথা উল্লেখ করে বলেন, রাজনৈতিক গুণগতমানে পরিবর্তন আনয়ন ও প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার এখন অত্যন্ত জরুরি। অতীতে ভোটার তালিকা প্রণয়ন, সংবিধান সংশোধনসহ নানা বিষয়ে যে সকল বিপদজ্জনক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছিল, তার জন্য যারা চুপ করে ছিলেন তাদেরকেও দায়ী করে তিনি বলেন, অতীত থেকে আমাদেরকে শিক্ষাগ্রহণ করতে হবে। সাবেক মন্ত্রী সরদার আমজাদ হোসেন বলেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকার বিলুপ্ত হবে, কি হবে না এটা পার্লামেন্টে তুলে আলোচনা করাটা অত্যন্ত জরুরি। তত্ত্বাবধায়ক সরকার একটি অগণতান্ত্রিক সিস্টেম – এটা আজ হোক, কাল হোক বা তারপরেও হোক না কেন গণতন্ত্রের স্বার্থে এর পরিবর্তন করা দরকার উল্লেখ করে জনাব মোঃ শহীদুজ্জামান সরকার এমপি বলেন, আমি আশা করব আজকের মতো এমনি ধরনের আরো আলোচনার মাধ্যমে একটি জনমত সৃষ্টি হবে এবং এর ওপর ভিত্তি করে বর্তমান সরকার তার কর্মপন্থা র্নিধারণ করবে।

আমরা চিন্তিত যে, ক্ষমতাসীন দল সুবর্ণজয়ন্তী পর্যন্ত তাদের ক্ষমতা স্থায়ী করার জন্য তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা নিয়ে এসব কথা বলছে উল্লেখ করে জনাব রাশেদা বেগম হিরা এমপি বলেন, আমাদের টার্গেট যদি হয় ক্ষমতা দখল তখন কোনো পদ্ধতিই কার্যকর হবে না। জনাব সানজিদা খানম এমপি বলেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রতি আস্থার সংকট সৃষ্টি হয়েছে বলেই এর পরিবর্তনের কথা এসেছে। তিনি বলেন, আমাদের নির্বচনকে গ্রহণযোগ্য করতে হলে নির্বাচন কমিশনকে শক্তিশালী করা জরুরি। পাশাপাশি প্রশাসনকেও শক্তিশালী ও দলীয়মুক্ত করতে হবে। ইলেকশন কমিশন যাকে ডিসকোয়ালিফাই করে আদালতে গেলে তাকে আবার কোয়ালিফাই করে দেয়া হয় এর তীব্র সমালোচনা করেন জনাব আ.ফ.ম মোজাম্মেল এমপি। জনাব মনোয়ার হোসেন চৌধুরী এমপি পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী ক্ষমতা না নেওয়া পর্যন্ত সময়কাল, বিচারপতিদের বয়স বাড়ানো প্রভৃতিকে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দুর্বল দিক হিসেবে চিহ্নিত করে বলেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থার পরিবর্তন দরকার কারণ পৃথিবীর কোথাও এটা নেই। তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশন যদি শক্তিশালী করা হয় তাহলে আমার মনে হয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রয়োজন নেই। তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা যতদ্রুত অবসান হয় তত ভালো এজন্য বিভিন্ন দলের মধ্যে আস্থা বাড়াতে হবে। তিনি বলেন, গ্র“পে মেজোরিটির ভিত্তিতে এটা করা ঠিক হবে না, এজন্য ঐক্যমত্য দরকার। তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা কনসেনসাসের ভিত্তিতে বিলুপ্ত হওয়া প্রয়োজন; পাশাপাশি সুন্দর, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ প্রশাসন প্রতিষ্ঠা করার প্রয়োজন রয়েছে বলেও তিনি অভিমত ব্যক্ত করেন। এ বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলো নিজেদের মাঝে আগে আলোচনা হওয়া উচিত মন্তব্য করে বিশিষ্ট গবেষক ও কলামিস্ট জনাব সৈয়দ আবুল মকসুদ তাঁর বক্তব্যে বলেন, এই বক্তব্য একটা বিভ্রান্তির সৃষ্টি করেছে যে, এই সরকার ক্ষমতায় চিরস্থায়ী থাকার জন্য বা সুবর্ণজয়ন্তী পর্যন্ত ক্ষমতা টিকিয়ে রাখার জন্য যে কোনো ধরনের পদ্ধতি গ্রহণ করতে পারেন। সরকারের এ বিভ্রান্তি থেকে বেরিয়ে আসা প্রয়োজন।

প্রাইভেটাইজেশন কমিশনের সাবেক চেয়ারম্যান জনাব এনাম আহমেদ চৌধুরী বলেন, আমাদের প্রয়োজন হবে সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য সিভিল এডমিনিস্ট্রেটিভ সার্ভিস সিস্টেম প্রতিষ্ঠা করা। কিন্তু এদিকে আমরা গুরুত্ব দিচ্ছি না। আমরা যদি এই ধরনের সিস্টেম গড়ে তুলতে না পারি তাহলে তত্ত্বাবধায়ক সরকার পরিবর্তন করা ঠিক হবে না, যদিও এটা অগ্রহণযোগ্য। বাংলাদেশে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের বিকল্প হলো একটি স্বাধীন ও শক্তিশালী নির্বাচন কমিশন এবং রাজনৈতিক দলগুলো পরস্পরের প্রতি আস্থা স্থাপন করা। কিন্তু আমাদের নির্বাচন কমিশন কী স্বাধীন ও শক্তিশালী হয়েছে? দলগুলোর মাঝে কি ঐক্য স্থাপিত হয়েছে? এ সকল প্রশ্ন উত্থাপন করে ভোরের কাগজের সম্পাদক জনাব শ্যামল দত্ত বলেন, সাধারণ মানুষ কিন্তু তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থায় অনেক বেশি স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন, কারণ রাজনীতির কালো ছায়া থেকে মানুষ মনে করে এখনো তার কাছে আর অন্য কোনো বিকল্প নেই। তাই তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বর্তমান বাস্তবতায় রাখতে হবে, তবে এর একটা সুন্দর পরিমার্জন দরকার। কারণ এই ব্যবস্থা পুরো বিচারব্যবস্থাকে পর্যন্ত ধ্বংস করে দিচ্ছে। তবে পরিমার্জনের জন্য সবগুলো রাজনৈতিক দলের ঐক্যমত্য দরকার।

রাজনীতিবিদ জনাব হায়দার আকবর খান রনো বলেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের বিধানটি গণতন্ত্রের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ নয়। কিন্তু এটা একটা বিশেষ অবস্থায় এসেছিল, সে অবস্থা এখনো বিরাজমান। তাই এই ব্যবস্থা বিলুপ্তির আগে নির্বাচন কমিশন শক্তিশালী করাসহ কতগুলো গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার ও রাজনৈতিক সংস্কৃতিকে আমূল পরিবর্তন জরুরি। কনসটিটিউশনাল পদে কাদেরকে আমরা নিয়োগ দেব এটার একটা স্বচ্ছ ব্যবস্থা দরকার বলে অভিমত ব্যক্ত করেন ব্যারিস্টার আমিরুল ইসলাম। তত্ত্বাবধায়ক  সরকার সৃষ্টির ফলে অন্যান্য যে সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলো আছে তার ওপর কী প্রভাব পড়েছে এটা নিয়ে একটা গবেষণা করা প্রয়োজন বলে তিনি অভিমত ব্যক্ত করেন। তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা যে উদ্দেশ্যে গঠন করা হয়েছিল তা যদি ডেলিভার করতে ব্যর্থ হয় তাহলে আমরা তার পরিবর্তনের কথা বলতে পারি উল্লেখ করে ড. আসিফ নজরুল বলেন, নব্বইয়ের পর যে সকল নির্বাচন হয়েছে সেগুলো অপেক্ষাকৃত বেশি গ্রহণযোগ্য ও নিরপেক্ষ হয়েছে তত্ত্বাবধায়ক সরকার থাকার ফলেই, তাই এটি পরিবর্তনের প্রয়োজন নেই। এছাড়া রাজনৈতিক দলগুলোকেও তত্ত্বাবধায়ক সরকারের ব্যর্থতার কারণ হিসেবে চিহ্নিত করে তিনি আরো বলেন,  রাজনৈতিক দলগুলোর কারণেই এ ধরনের একটা অদ্ভুত ব্যবস্থা -তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সৃষ্টি হয়। বিএনপি যে দলীয়করণ করেছে তার সাথে পাল্লা দিয়ে বর্তমান সরকার যে দলীয়করণ করছে তাতে আগামী নির্বাচন দলীয় সরকারের অধীনে করা হলে তা জাতির জন্য নিঃসন্দেহে মহাবিপর্যয় ডেকে আনবে। এজন্য তিনি তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে অন্তত আগামী নির্বাচন করার পরামর্শ প্রদান করেন। এছাড়া সাবেক বিচারপতিদের নিয়ে যে কন্ট্রোভার্সি রয়েছে এরও একটা পরবর্তন হওয়া দরকার উল্লেখ করে তিনি বলেন, এক্ষেত্রে যারা এপিলিয়েড ডিভিশন থেকে রিটায়ার্ড রাজনৈতিক দলগুলোর সাথে আলোচনাক্রমে তাদের কথা বিবেচনা করা যেতে পারে। তাতে বিচারবিভাগকে কলুষিত করার বিষয়টি আর হবে না। গোলটেবিল আলোচনায় আরো বক্তব্য রাখেন জনাব হুমায়ুন কবির হিরু, জনাব রেহানা সিদ্দিকী, শিক্ষাবিদ ড. মেহের-ই-খোদা, ড. আব্দুল লতিফ মল্লিক, জনাব যাদব চন্দ্র সাহা, জনাব আবু বক্কর সিদ্দিকী, জনাব আবুল হাসনাত, কবি লিলি হক প্রমুখ।

মূল প্রবন্ধ ডাউনলোড করুন

Advertisements