উন্নয়ন বনাম কর্তৃত্বের দ্বন্দ্ব

samakal_logo

স্থানীয় সরকার
বদিউল আলম মজুমদার
কয়েক মাস আগে একটি উপ-সম্পাদকীয়তে (দৈনিক প্রথম আলো, ১০ আগস্ট, ২০০৯) স্থানীয় সরকার ব্যবস্থার বর্তমান বেহাল অবস্থা থেকে উত্তরণের লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত মনোযোগ কামনা করেছিলাম। বিশেষভাবে অনুরোধ করেছিলাম স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর সংসদ সদস্যদের অসাংবিধানিক ও অনাকাঙ্ক্ষিত কর্তৃত্ব অবসানের লক্ষ্যে পদক্ষেপ নেওয়ার। যদিও নবম সংসদের প্রথম অধিবেশনে পাস করা উপজেলা আইন সংশোধন করে সংসদ সদস্যদের কর্তৃত্বের বিধানটি এখনও রহিত করা হয়নি, তবে জাতীয় সংসদের বর্তমান অধিবেশনে পাস করা সিটি করপোরেশন ও পৌরসভা আইনে তাদের উপদেষ্টা করে তাদের উপদেশ গ্রহণ বাধ্যতামূলক করা হয়নি। বিষয়টি তাৎপর্যপূর্ণ এজন্য যে, সংশ্লিষ্ট সংসদীয় কমিটি সংসদ সদস্যদের এ দুটি প্রতিষ্ঠানের উপদেষ্টা করার সুপারিশ করেছিলেন। শুনেছি, প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপের ফলেই তা ঘটেছে। প্রধানমন্ত্রীকে আন্তরিক ধন্যবাদ।সংসদ সদস্যদের উপজেলা পরিষদের উপদেষ্টা করে তাদের পরামর্শ গ্রহণ বাধ্যতামূলক করার অশুভ পরিণতি সম্পর্কে ইতিমধ্যে অনেকের বোধোদয় হয়েছে বলে মনে হয়। অনেকেই উপলব্ধি করতে পারছেন, সংসদ সদস্যদের অন্যায় আবদার রক্ষা করতে গিয়ে তৃণমূল পর্যায়ে আজ এক চরম দ্বন্দ্বাত্মক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। দ্বন্দ্ব সৃষ্টি হয়েছে সংসদ সদস্যদের সঙ্গে উপজেলা চেয়ারম্যানদের, চেয়ারম্যানদের সঙ্গে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের, এমনকি চেয়ারম্যানদের সঙ্গে ভাইস-চেয়ারম্যানদের। কিছু কিছু এলাকায় সংসদ সদস্যদের সঙ্গে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদেরও মতানৈক্য সৃষ্টি হয়েছে। এসবই মূলত কর্তৃত্বের দ্বন্দ্ব_ কে কার ওপর কর্তৃত্ব প্রয়োগ করবেন সে নিয়ে দ্বন্দ্ব। আর দ্বন্দ্বাত্মক পরিস্থিতিতে ভালো কিছু ঘটে না, তাই তৃণমূল পর্যায়ে খুব একটা ইতিবাচক পদক্ষেপ লক্ষ্য করা যায় না। বরং বিরাজমান দ্বন্দ্ব অনেক নেতিবাচক পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছে। বলাবাহুল্য, বর্তমান লেখকসহ বহু ব্যক্তি সংসদ সদস্যদের খুশি করার এ আত্মঘাতী উদ্যোগের পরিণতি সম্পর্কে বর্তমান সরকারকে বহুভাবে সাবধান করেছিলেন।

একটি চরম নেতিবাচক বিষয় হলো, নির্বাচনের পর দশ মাসের মতো সময় কেটে গেলেও উপজেলা পরিষদ আজও কার্যকর হয়নি। জনগণের দ্বারা সরাসরি নির্বাচিত প্রায় দেড় হাজার জনপ্রতিনিধি স্থানীয় উন্নয়ন কর্মকাণ্ডকে গতিশীল করার লক্ষ্যে তাদের নেতৃত্ব প্রদানের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। ফলে স্থানীয় উন্নয়ন প্রচেষ্টায় একটি চরম স্থবিরতা সৃষ্টি হয়েছে। বর্তমান সরকার তার ‘দিনবদলের সনদ’ শীর্ষক নির্বাচনী ইশতেহারে ‘কৃষি ও পল্লী জীবনে গতিশীলতা’ অর্জনের অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছে। বিরাজমান স্থবিরতা এ অঙ্গীকার বাস্তবায়নের পথে একটি বিরাট অন্তরায় হয়ে দাঁড়িয়েছে।

আরেকটি অত্যন্ত নেতিবাচক বিষয় হলো, স্থানীয় উন্নয়নে জড়িত হওয়ার কারণে ইতিমধ্যেই অনেক সংসদ সদস্য বহু অনাকাঙ্ক্ষিত কাজের সঙ্গে জড়িত হয়ে পড়েছেন। অনেক ক্ষেত্রে তাদের পরিবারের সদস্যরা স্থানীয় উন্নয়ন কার্যক্রম পরিচালনার দায়িত্ব নিয়ে নিজেরা অবৈধ কাজের সঙ্গে সম্পৃক্ত হয়ে গিয়েছেন। সংসদ সদস্য, তাদের পরিবারবর্গ এবং তাদের সমর্থনপুষ্টদের গর্হিত কাজের ফিরিস্তি প্রায়ই সংবাদপত্রে প্রকাশিত হচ্ছে। পরিণতিতে সংবাদকর্মীরা হচ্ছেন হয়রানির শিকার। প্রসঙ্গত, সাংবাদিকদের হয়রানির অভিযোগে অভিযুক্ত পটুয়খালী জেলার গলাচিপা থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য গোলাম মাওলা রনি সম্প্রতি চারটি জাতীয় দৈনিকের_ দৈনিক প্রথম আলো, দৈনিক যুগান্তর, দৈনিক সমকাল ও দৈনিক মানবজমিনের বিরুদ্ধে ১০০ কোটি টাকার মানহানির মামলা করেছেন।

স্থানীয় উন্নয়নে জড়িত হওয়ার অজুহাতে কিছু সংসদ সদস্য ও তাদের পরিবার-পরিজন নির্বাচনের পর মাত্র ১০ মাসের মধ্যেই বেসামাল হয়ে পড়েছেন। বর্তমান সংসদের মেয়াদ আরও চার বছরের বেশি বাকি। এমন চলতে থাকলে এসব বাড়াবাড়ির ভবিষ্যৎ পরিণতি অমঙ্গলকর হতে বাধ্য। গত সংসদ নির্বাচনের প্রাক্কালে আমরা ‘সুজন-সুশাসনের জন্য নাগরিকে’র উদ্যোগে অনেক নির্বাচনী এলাকায় ‘ভোটার-প্রার্থী মুখোমুখি অনুষ্ঠানে’র আয়োজন করেছিলাম। এসব অনুষ্ঠানে চারদলীয় জোটের অনেক প্রার্থীই উপস্থিত হতে সাহস পাননি, যারা উপস্থিত হয়েছেন তারাও স্থানীয় উন্নয়নের নামে তাদের বিতর্কিত ভূমিকার জন্য জনগণের তোপের মুখে পড়েছিলেন। উল্লেখ্য, আমাদের হিসাবমতে বিভিন্ন প্রতীক নিয়ে গত সংসদের বিএনপির মোট ১২৯ জন সদস্য ১৩৭টি আসন থেকে নবম সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেছিলেন, যার মধ্যে মাত্র ১৫ জন বিজয়ী হয়েছেন।

স্থানীয় সরকার ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করতে হলে সংসদ সদস্যদের সব স্থানীয় পরিষদ থেকে দূরে রাখলেই হবে না, সংশ্লিষ্ট সব আইনকেও যুগোপযোগী করতে হবে। স্থানীয় সরকারের কতগুলো সর্বজনস্বীকৃত বৈশিষ্ট্য রয়েছে এবং এসব বৈশিষ্ট্যের আলোকেই আইনগুলোকে সংশোধন করতে হবে। বৈশিষ্ট্যগুলো হলো_ আইনানুযায়ী স্থানীয় সরকার নির্বাচিত প্রতিনিধিদের মাধ্যমে এসব প্রতিষ্ঠান পরিচালিত হতে হবে, সরকারি কর্মকর্তা বা অন্য কারও কর্তৃত্বে নয়; এগুলোতে জনগণের বিশেষত পিছিয়ে পড়া জনগণের কার্যকর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে; এগুলো হতে হবে স্বায়ত্তশাসিত; এগুলোর এক স্তর হতে হবে অন্য স্তর থেকে স্বাধীন; এগুলোর দায়বদ্ধতা থাকতে হবে, বিশেষত জনগণের কাছে; এগুলোকে প্রয়োজনীয় সম্পদ, দায়দায়িত্ব ও ক্ষমতা দিতে হবে ইত্যাদি।

স্থানীয় সরকার ব্যবস্থায় উপরিউক্ত বৈশিষ্ট্যগুলোর সত্যিকারের প্রতিফলন ঘটাতে হলে শুধু আইনি কাঠামোতে পরিবর্তন আনলেই হবে না, একটি বলিষ্ঠ বিকেন্দ্রীকরণ কর্মসূচিও হাতে নিতে হবে। এমন একটি কর্মসূচির মাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ ক্ষমতা ও দায়দায়িত্ব স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছে হস্তান্তর করতে হবে। একইসঙ্গে হস্তান্তর করতে হবে উল্লেখযোগ্য পরিমাণের সম্পদ। অভিজ্ঞতা থেকে দেখা যায়, সম্পদ, ক্ষমতা ও দায়দায়িত্ব যত জনগণের কাছাকাছি যায়, তত বেশি তা তাদের কল্যাণে আসে।

আইনি কাঠামো সংশোধনের ক্ষেত্রে আরেকটি বিষয় বিবেচনায় নেওয়া আবশ্যক। সম্প্রতি পাস করা ইউনিয়ন পরিষদ আইনে নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী প্রার্থীদের তথ্য প্রদানের কোনো বিধান অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি, যদিও স্থানীয় সরকারের অন্য সব স্তরের প্রার্থীদের জন্য তা বাধ্যতামূলক। শুনেছি, নির্বাচন কমিশনের বিরোধিতার কারণেই আইনে এ বিধানটি রাখা হয়নি। কমিশনের এ বিরোধিতার কারণ আমাদের বোধগম্য নয়। কারণ কমিশনের দায়িত্ব সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও অর্থবহ নির্বাচন অনুষ্ঠান, যা নিশ্চিত করার জন্য প্রার্থীদের আয়, সম্পদ, দায়দেনা, পেশা, শিক্ষাগত যোগ্যতা, অপরাধের তথ্য ইত্যাদি সম্পর্কে ভোটারদের জানা আবশ্যক, যাতে তারা জেনে-শুনে-বুঝে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারে। সংসদ নির্বাচনের ক্ষেত্রে এ ধরনের একটি নির্দেশনাই সুপ্রিম কোর্ট ২০০৫ সালে কমিশনকে প্রদান করেছিলেন। তাই স্থানীয় সরকারে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের গুণগত মানে পরিবর্তন আনার লক্ষ্যে তথ্যপ্রাপ্তির অধিকার সম্পর্কিত বিধান আইনে অন্তর্ভুক্ত করা আবশ্যক। আশা করি, কর্তৃপক্ষ এ বিষয়টির প্রতি দৃষ্টি দেবেন। উল্লেখ্য, প্রতিবেশী ভারতে গ্রাম-পঞ্চায়েত নির্বাচনেও প্রার্থীদের তথ্য প্রকাশের বাধ্যবাধকতা রয়েছে।

স্থানীয় সরকার ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করার জন্য আরও প্রয়োজন জনবলের সংস্থান। বর্তমানে ইউনিয়ন পরিষদে সচিব ছাড়া অন্য কোনো জনবল নেই, তাই ইউনিয়ন পরিষদের জন্য জনবল বৃদ্ধি করা অতি জরুরি। আরও জরুরি ইউনিয়ন পরিষদের আইনের তৃতীয় তফসিলে অন্তর্ভুক্ত সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের প্রয়োজনীয় বাজেটসহ অনতিবিলম্বে পরিষদের কাছে হস্তান্তর করা। একইসঙ্গে প্রয়োজন উপজেলা পরিষদ আইনের তৃতীয় তফসিলে অন্তর্ভুক্ত প্রতিষ্ঠান ও কর্মের এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের বাজেটসহ উপজেলা পরিষদের কাছে হস্তান্তর করা। স্মরণ রাখা প্রয়োজন, স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান সম্পর্কিত সাংবিধানিক বিধানের অন্যতম উদ্দেশ্য হলো, প্রশাসনের সব স্তরে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের শাসন কায়েম করা।

স্থানীয় সরকার ব্যবস্থাকে, বিশেষত উপজেলা পরিষদকে কার্যকর করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে আরও প্রয়োজন সংরক্ষিত আসনের নারী সদস্যদের নির্বাচন সম্পন্ন করা। আইনের ৬(১)(ঙ) ধারা অনুযায়ী, উপজেলা পরিষদ গঠনের জন্য সংরক্ষিত আসনের নারী সদস্যদের অন্তর্ভুক্তি প্রয়োজন। আইনের ৬(৪) ও ৬(৭) ধারা অনুযায়ী, উপজেলার আওতাধীন মোট ইউনিয়ন পরিষদ ও পৌরসভার সংখ্যার এক-তৃতীয়াংশ সমসংখ্যক আসন থেকে সংরক্ষিত আসনের নারী সদস্যগণ নির্বাচিত হবেন এবং তাঁদের নাম সরকারি গেজেটে প্রকাশিত হতে হবে। উল্লেখ্য, সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন ও পৌরসভার সংরক্ষিত আসনের নারী সদস্য বা কাউন্সিলরগণ কর্তৃক তাঁদের মধ্য থেকে উপজেলার সংরক্ষিত আসনের নারী সদস্যগণ নির্বাচিত হবেন। নির্বাচনের পর প্রায় দশ মাস অতিবাহিত হলেও যা করা হয়নি।

স্থানীয় সরকার ব্যবস্থাকে কার্যকর করতে হলে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের প্রশিক্ষণের আয়োজন করা জরুরি ভিত্তিতে প্রয়োজন। প্রায় দশ মাস আগে নির্বাচিত হলেও উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও ভাইস-চেয়ারম্যানদের জন্য এখন পর্যন্ত কোনো প্রশিক্ষণের আয়োজন করা হয়নি। শুনেছি, আমাদের উন্নয়ন সহযোগীরা সহায়তা করতে অত্যন্ত আগ্রহী হলেও সরকারের পক্ষ থেকে এ ব্যাপারে তেমন কোনো উদ্যোগী ভূমিকা লক্ষ্য করা যাচ্ছে না। আমরা আশা করি, সরকার এ ব্যাপারে দ্রুত এগিয়ে আসবে। একইসঙ্গে এখন থেকেই প্রস্তুতি নেওয়া শুরু করবে যাতে নির্বাচনের পরপরই ইউনিয়ন পরিষদসহ সব স্তরের নির্বাচিত প্রতিনিধিদের প্রশিক্ষণের আয়োজন করা সম্ভব হয়।

স্থানীয় সরকারের নির্বাচিত প্রতিনিধিরা অনেক সময় রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হন। অনেক ক্ষেত্রে অন্যায়ভাবে তাদের অপসারণ ও বরখাস্ত করা হয় কিংবা তাদের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব আনা হয়। নির্বাচিত প্রতিনিধিদের অযাচিত হয়রানি ও তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা রোধের জন্য তাই প্রয়োজনীয় প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো গড়ে তোলা আবশ্যক। এক্ষেত্রে ‘স্থানীয় সরকার কমিশন’ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। কমিশন আরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে আর্থিক বিকেন্দ্রীকরণের ক্ষেত্রে। কমিশন স্থানীয় সরকার ব্যবস্থার আর্থিক প্রয়োজনীয়তা নিরূপণ করে সে প্রয়োজনীয়তা মেটানোর জন্য সরকারকে প্রভাবিত করতে পারে। একইসঙ্গে কমিশন স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে সম্পদের সুষম বণ্টন নিশ্চিত করতে পারে। তাই আমরা আশা করি, সরকার অনতিবিলম্বে স্থানীয় সরকার কমিশন গঠনের উদ্যোগ গ্রহণ করবে।

পরিশেষে এটি সুস্পষ্ট, স্থানীয় সরকারের সমস্যা আজ জাতীয় সমস্যায় পরিণত হয়েছে। সরকারের ভ্রান্তনীতির ফলে সারাদেশেই একটি চরম দ্বন্দ্বাত্মক পরিস্থিতির সষ্টি হয়েছে এবং উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে স্থবিরতা এসেছে। এ অবস্থা থেকে উত্তরণের জন্য সংসদ সদস্যদের দূরে রাখাসহ স্থানীয় সরকার ব্যবস্থাকে শক্তিশালী ও কার্যকর করার উদ্যোগ জরুরি ভিত্তিতে গ্রহণ করতে হবে। তাহলেই সংসদ সদস্যদের স্থানীয় উন্নয়নের নামে অনাকাঙ্ক্ষিত কাজে লিপ্ত হওয়া থেকে বিরত থাকার সুযোগ সৃষ্টি হবে। একইসঙ্গে উপজেলা পরিষদের সংরক্ষিত আসনের নারী সদস্যদের নির্বাচনের উদ্যোগ নিতে হবে। উদ্যোগ নিতে হবে সংশিল্গষ্ট আইনি কাঠামোকে যুগোপযোগী করার এবং একটি বলিষ্ঠ বিকেন্দ্রীকরণ কর্মসূচি গ্রহণের। তাহলেই স্থানীয় উন্নয়ন কর্মকাণ্ড ত্বরান্বিত হবে এবং সাধারণ, বিশেষত পলল্গী অঞ্চলের জনগণের জীবনে গতিশীলতা আসবে, যা করতে বর্তমান সরকার অঙ্গীকারবদ্ধ।
– ড. বদিউল আলম মজুমদার : সম্পাদক
সুজন-সুশাসনের জন্য নাগরিক

সূত্র: দৈনিক সমকাল, ৫ নভেম্বর ২০০৯

Advertisements

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s