জনমনে সরকার ও বিরোধী দল: এক বছরের মূল্যায়ন

palo_logo

মোজাফ্ফর আহমদ | তারিখ: ০৬-০১-২০১০

বিভিন্ন দেশের জনমত সমীক্ষা নানা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে করা হয়ে থাকে। বাংলাদেশে এটি একটি সাম্প্রতিক উদ্যোগ। সম্প্রতি একটি প্রতিষ্ঠান গত এক বছর ধরে সরকার ও বিরোধী দলের মূল্যায়ন সূচক জনমত সমীক্ষা করেছে। সমীক্ষায় দেড় হাজার উত্তরদাতার মতামত গ্রহণ করা হয়েছে এবং উত্তরদাতাদের সংখ্যাবিন্যাস আমাদের জনমিতির প্রতিফলন ঘটিয়েছে। যেমন, পুরুষ-মহিলার অনুপাত প্রায় সমান সমান, অন্যদিকে শহর ও গ্রামাঞ্চলের অনুপাত হলো ১:৩। মতামত গ্রহণে চারটি পুরোনো বিভাগের বিভাজন করা হয়েছে। এসব দিক থেকে সাধারণভাবে পরিসংখ্যানে যে দৈবচয়ন নীতিমালা অনুসরণ করা হয়, তার যথার্থ প্রতিফলন ঘটেছে। কিন্তু যখন রাজনীতির সংশ্লেষ থাকে, তখন উত্তরদাতাদের রাজনৈতিক মতাদর্শিক অবস্থানটিও জানা প্রয়োজন হয়।

আমরা জানি, আমাদের দেশে বিভিন্ন অঞ্চলে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের অবস্থান ভিন্নতর থাকে। দৈবচয়নের সময় যদি প্রাথমিক স্যাম্পলিং ইউনিট এই প্রবণতাকে গুরুত্ব না দেয়, তাহলে মতামতের যে চিত্র উঠে আসে, সেটাতে পক্ষপাতদুষ্টতা থেকে যেতে পারে। সুতরাং এই সীমাবদ্ধতাটুকু মেনে নিয়েও জাতীয়ভাবে দৈবচয়নভিত্তিক এই সমীক্ষার জনমতের একটি প্রতিফলন ঘটিয়েছে বলে ধারণা করা যেতে পারে। অন্য আরেকটি বিষয়ে যেটি লক্ষ করা যায় সেটি হলো, বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তরে নারী-পুরুষের মতামতের এবং শহর-গ্রামাঞ্চলের মানুষের মতামতে পরিসংখ্যানগত পার্থক্য তেমন দেখা যায় না। এখানে মতামতে এমন সুষম সমতা কিছু প্রশ্নের অবতারণা করে। সেটাও মনে রাখা দরকার। এই প্রারম্ভিক বিবেচনাটুকু মনে রেখে এই সমীক্ষার ফলাফল নিয়ে আমরা আলোচনা করতে পারি।

মহাজোটের পক্ষে জনসমর্থন
মনে রাখা দরকার, গত নির্বাচনে মহাজোটের পক্ষে ৫৫ শতাংশ ভোট পড়েছিল। অন্যদিকে বিএনপির সমর্থন ছিল ৩৩ শতাংশ এবং এর জোটভুক্ত সমর্থন ছিল আরও ৫/৬ শতাংশ। এই সমীক্ষায় যখন প্রশ্ন করা হয় যে, আজকে যদি নির্বাচন হয়, তাহলে কোন দলকে সমর্থন জানানো হবে। সেখানে লক্ষ করা যায় যে, বর্তমান মহাজোট সরকার তাদের জনসমর্থন ধরে রাখতে পেরেছে এবং বিরোধীদলীয় জোটের সমর্থন কমে গেছে। লক্ষণীয় যে মহাজোট সরকারের সমর্থন বেশি বেড়েছে গ্রামাঞ্চলে এবং মহিলাদের ভেতরে। শহরাঞ্চলে মহাজোট সরকারের সমর্থন গ্রামাঞ্চলের চাইতে প্রায় ১০ শতাংশ কম। এ দেশে গ্রামাঞ্চলেই অধিকসংখ্যক মানুষ বাস করে এবং সাম্প্রতিককালের কৃষিক্ষেত্রে নেওয়া নানাবিধ কার্যক্রম এই সমর্থন বৃদ্ধির ক্ষেত্রে কাজ করেছে।

উত্তরদাতাদের মতে, দেশ পরিচালনার ক্ষেত্রে সঠিক পথনির্দেশনা সরকার দিতে সমর্থ হয়েছে, এমন মত কেবল ২৪ শতাংশ উত্তরদাতার। অন্যদিকে ভুল পথে দেশ চালনা হচ্ছে, এমন মত পোষণ করেন ১২ শতাংশ উত্তরদাতা। এই সমীক্ষা অনুযায়ী, ৪৭ শতাংশ উত্তরদাতার ধারণা, দেশটি মোটামুটি সঠিকভাবেই চলছে এবং ১৮ শতাংশের ধারণা, এটা কিছুটা হলেও ভুলভাবে পরিচালিত হচ্ছে। সার্বিকভাবে প্রায় ৭০ শতাংশ উত্তরদাতা সাধারণভাবে সরকারের দেশ পরিচালনাকে সমর্থন জানিয়েছেন এবং ৩০ শতাংশের মতামত ভিন্নতর। এ ক্ষেত্রে শহর এবং গ্রামাঞ্চল অথবা নারী ও পুরুষের মতামতে তেমন কোনো পার্থক্য লক্ষণীয় নয়। ওপরের উল্লিখিত মহাজোটের প্রতি যে সমর্থন ব্যক্ত করা হয়েছে, তার তুলনায় সরকার পরিচালনার ক্ষেত্রে সমর্থনের অনুপাত লক্ষণীয়ভাবে বেশি। অন্য একটি প্রশ্নে সরকার পরিচালনা সম্পর্কে সন্তুষ্টির মাত্রা নির্দেশিত হয়েছে। ২২ শতাংশ উত্তরদাতা সরকার পরিচালনার ব্যাপারে পূর্ণ সন্তুষ্টি জ্ঞাপন করেছেন এবং ৯ শতাংশ উত্তরদাতা পূর্ণ অসন্তুষ্টি জ্ঞাপন করেছেন। এ ছাড়া ৪৪ শতাংশ মোটামুটি সন্তুষ্টি এবং ১৭ শতাংশ মোটামুটি অসন্তুষ্টি জ্ঞাপন করেছেন। ৮ শতাংশ উত্তরদাতা সন্তুষ্টি বা অসন্তুষ্টি কোনোটিই নির্দিষ্ট করেননি। এ থেকে প্রতীয়মান হয় যে, প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ উত্তরদাতা সরকারের কাজকর্মে সাধারণভাবে সন্তুষ্ট।

সরকারের কার্যক্রমে এখনো সন্তুষ্টি আছে
এ সন্তুষ্টির বিষয় বিবেচনার জন্য সরকারের কিছু কার্যক্রম নিয়ে মতামত জানতে চাওয়া হয়েছিল। দ্রব্যমূল্য এ বছরের সর্বাধিক আলোচিত একটি বিষয়। দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে সরকার গৃহীত নীতির সমর্থনে ৯ শতাংশ মানুষ পূর্ণ আস্থা জ্ঞাপন করেছেন। অন্যদিকে ২১ শতাংশ উত্তরদাতা এ ব্যাপারে সরকার গৃহীত নীতি সম্পূর্ণ ব্যর্থ বলে মতামত দিয়েছেন। অবশ্য লক্ষণীয়, প্রায় ৪০ শতাংশ উত্তরদাতা সরকার গৃহীত নীতিকে কিছুটা হলেও কার্যকর বলে মনে করেছেন এবং ২০ শতাংশ উত্তরদাতা এই কার্যক্রমকে সাধারণভাবে অকার্যকর বলে মনে করেছেন। এখানেও প্রায় অর্ধেক উত্তরদাতা সরকারের মূল্য নিয়ন্ত্রণের কার্যক্রমকে কার্যকর অথবা কিছুটা কার্যকর বলে মতামত দিয়েছেন। লক্ষণীয়, এ ক্ষেত্রে মহাজোটের দলের যে সমর্থনের মাত্রা, সেটি এই পরিসংখ্যানের অনুরূপ। এ থেকে অনুমিত হয় যে, সরকারের অনুগত উত্তরদাতাদের মতামতই এখানে প্রতিফলিত হয়েছে। এ সম্পর্কিত একটি বিষয় হলো জীবনযাত্রার মান। ২২ শতাংশ উত্তরদাতা মনে করেন, জীবনযাত্রার মান নেমে গেছে এবং ২৮ শতাংশ মনে করেন, জীবনযাত্রার মানে কোনো উন্নয়ন ঘটেনি। অন্যদিকে ৫১ শতাংশ উত্তরদাতা মনে করেন, জীবনযাত্রার মানে কিছুটা হলেও উন্নতি এসেছে।

আইনশৃঙ্খলা
এ বছর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ছিল আরেকটি আলোচিত বিষয়। ১৭ শতাংশ উত্তরদাতা মনে করেন, সরকার গত এক বছরে এই পরিস্থিতি লক্ষণীয়ভাবে উন্নত করেছে। অন্যদিকে ২৪ শতাংশ উত্তরদাতার ধারণা, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটেছে এবং ১১ শতাংশ উত্তরদাতা কোনোরকম উন্নতি বা অবনতি ঘটেছে বলে মনে করেন না। বাকি ৪৮ শতাংশ মনে করেন যে, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির সামান্য উন্নতি লক্ষ করা যায়। এ প্রসঙ্গে ১৫ শতাংশ উত্তরদাতা মনে করেন, সরকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নে যেসব কার্যক্রম গ্রহণ করেছে, সেটি পূর্ণভাবে কার্যকর হয়েছে এবং ৬ শতাংশ উত্তরদাতা মনে করেন, এ জাতীয় কার্যক্রম একেবারেই কার্যকর হয়নি। এ ছাড়া ১৬ শতাংশ উত্তরদাতা মনে করেন, এ জাতীয় কার্যক্রম সাধারণভাবে কার্যকর হয়নি এবং ৮ শতাংশ উত্তরদাতা মনে করেন, কার্যক্রমগুলো কার্যকর অথবা অকার্যকর কোনোটিই হয়নি। বাকি ৫২ শতাংশ উত্তরদাতার মতে, সরকারের নেওয়া পদক্ষেপগুলো আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নে কিছুটা সহায়ক হয়েছে।

দুর্নীতি দমন দুর্নীতি দমন বর্তমান সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারে গুরুত্ব সহকারে উল্লেখ করা হয়েছিল এবং এ ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রী বিভিন্ন সময়ে তাঁর প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেছেন। গত এক বছরে দুর্নীতির অবস্থা কী ছিল, এ বিষয়ে মতামত দিতে উত্তরদাতারা নানা মত ব্যক্ত করেছেন। ৩৪ শতাংশের মতে দুর্নীতি বৃদ্ধি পেয়েছে এবং ২৩ শতাংশের মতে, দুর্নীতির মাত্রায় কোনো হেরফের ঘটেনি। অর্থাত্ ৫৭ শতাংশের মতে, দুর্নীতি এখনো বেশ উচ্চপর্যায়েই আছে। অন্যদিকে ৪২ শতাংশ মনে করেন যে দুর্নীতি কমেছে। এই শতাংশটি আওয়ামী লীগের সমর্থক গোষ্ঠীর শতাংশের কাছাকাছি। দুর্নীতি সম্পর্কে দুর্নীতি দমন কমিশন কী অবস্থায় আছে, সে সম্পর্কে মতামত জানতে চাওয়া হয়েছিল। ৪১ শতাংশ উত্তরদাতা মনে করেন, দুর্নীতি দমন কমিশন আগের তুলনায় ক্ষমতাহীন অবস্থায় আছে এবং ২৩ শতাংশ মনে করেন, দুর্নীতি দমন কমিশনের অবস্থার কোনো পরিবর্তন ঘটেনি। সরকারের প্রতিশ্রুতি ছিল, দুর্নীতি দমন কমিশনকে শক্তিশালী ও কার্যকর করা। কেবল ৩২ শতাংশ উত্তরদাতা মনে করেন, দুর্নীতি দমন কমিশনকে শক্তিশালী করা হয়েছে।

বিচার বিভাগ

বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিত করে সবার জন্য সুবিচার নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতিও এই সরকার দিয়েছিল। ৫১ শতাংশ উত্তরদাতা মনে করেন, সরকার সবার জন্য সুবিচার নিশ্চিত করতে সচেষ্ট হয়েছে। অন্যদিকে ৪৬ শতাংশ উত্তরদাতা মনে করেন, বিচারালয়ে সুবিচার পাওয়ার ব্যাপারে সরকারের পদক্ষেপ কার্যকর নয়। তবে সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পরে বিচারিক ব্যবস্থায় উন্নতি আনতে কার্যকর পদক্ষেপ নিয়েছে বলে ৫২ শতাংশ উত্তরদাতা মনে করেন। অন্যদিকে ১৬ শতাংশ উত্তরদাতা মনে করেন, সরকারের নেওয়া ব্যবস্থাগুলো বিচারিক ব্যবস্থাকে অকার্যকর করে দিয়েছে। ৩২ শতাংশ উত্তরদাতা বিচারিক ব্যবস্থায় কোনো উন্নতি বা অবনতি হয়েছে বলে মনে করেন না। এ সময়ে বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার বিচার অনুষ্ঠিত হয়েছে। ৯১ শতাংশ উত্তরদাতা মনে করেন, এ বিচারের ক্ষেত্রে যে প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়েছিল, সেটি যথাযথ ছিল। বিচার বিভাগের অন্য যে বিষয়টি আলোচিত হয়েছে, সেটি হলো যুদ্ধাপরাধীদের বিচার এবং এ ক্ষেত্রে আওয়ামী লীগের নির্বাচনী অঙ্গীকার স্মরণীয়। ৮৬ শতাংশ উত্তরদাতা যুদ্ধাপরাধীদের বিচার কামনা করেন এবং ১৩ শতাংশ উত্তরদাতা এটাকে কাঙ্ক্ষিত নয় বলে ধারণা করেন। বর্তমান সরকারের পক্ষে বিচারপ্রক্রিয়া শুরু ও সম্পাদন করা সম্ভব হবে বলে মনে করেন ৭৪ শতাংশ উত্তরদাতা এবং অন্যদের মনে এ বিষয়ে কিছুটা হলেও সংশয় লক্ষ করা যায়।

ক্রসফায়ার
বিচার-বহির্ভূত হত্যাকাণ্ড এ বছর একটি আলোচিত বিষয় ছিল। উত্তরদাতাদের মধ্যে তিন-চতুর্থাংশ (৭৭ শতাংশ) মনে করেন, বিচার-বহির্ভূত হত্যাকাণ্ড হওয়া উচিত নয়। অন্যদিকে ২৩ শতাংশ উত্তরদাতা এ জাতীয় হত্যাকাণ্ডকে সমর্থন জানিয়েছেন। লক্ষণীয় যে, শহরাঞ্চলে এই সমর্থনের মাত্রা একটু বেশি। গত বছরে বিডিআর বিদ্রোহ এবং হত্যাকাণ্ড একটি বহুল আলোচিত বিষয় ছিল। ৭৬ শতাংশ উত্তরদাতা মনে করেন, সরকারের এ সম্পর্কে নেওয়া পদক্ষেপ সঠিক ছিল।

বর্তমান সরকার শিক্ষাক্ষেত্রে নীতি প্রবর্তনে যে উদ্যোগ নিয়েছিল, সে ব্যাপারে ৪৩ শতাংশ উত্তরদাতা পূর্ণ সমর্থন জ্ঞাপন করেন এবং ৩৬ শতাংশ উত্তরদাতা শিক্ষানীতি প্রণয়নের উদ্যোগকে আংশিকভাবে সমর্থন করেন। অর্থাত্ প্রায় ৮০ শতাংশ উত্তরদাতা সরকারের শিক্ষাক্ষেত্রে পরিবর্তন ও উন্নয়নের উদ্যোগকে সমর্থন করেছেন। কেবল ৪ শতাংশ উত্তরদাতা এই উদ্যোগের সম্পূর্ণ বিরোধিতা করেছেন এবং ৬ শতাংশ উত্তরদাতা কোনো কোনো ক্ষেত্রে এই উদ্যোগের বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছেন।

কর্মসৃজন, সামাজিক নিরাপত্তা এবং দারিদ্র্য দূরীকরণের কৌশল হিসেবে সরকারের দেওয়া নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি ছিল। উত্তরদাতাদের ভেতরে ২৯ শতাংশ এ ক্ষেত্রে সরকারের নেওয়া কার্যক্রমে সম্পূর্ণ সন্তুষ্ট এবং ৫ শতাংশ উত্তরদাতা সম্পূর্ণ অসন্তুষ্ট। লক্ষণীয় যে, ৪৪ শতাংশ উত্তরদাতা সরকারি উদ্যোগের পক্ষে আংশিক হলেও সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন এবং ১১ শতাংশ উত্তরদাতা আংশিক অসন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন। অর্থাত্ প্রায় ৭২ শতাংশ উত্তরদাতা কর্মসৃজনের ব্যাপারে সরকারের উদ্যোগকে সমর্থন জানিয়েছেন। যদিও এ ব্যাপারে সরকারের পরিকল্পনা এখন পর্যন্ত কার্যকর পর্যায়ে পৌঁছায়নি। সুতরাং এ সমর্থন নীতিমালার প্রতি সমর্থন জ্ঞাপন করে।

বিদ্যুত্ ও জ্বালানি
বিদ্যুত্ ও জ্বালানি সংকট জনজীবনকে বিপর্যস্ত করে রেখেছিল। সরকার কিছু অচল অথবা বন্ধ হয়ে যাওয়া বিদ্যুত্ উত্পাদন কেন্দ্রগুলো চালু করার চেষ্টা করেছে এবং বিদ্যুত্ সাশ্রয়ী কিছু পদক্ষেপ নেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছিল। ২৩ শতাংশ উত্তরদাতা মনে করেন, বিদ্যুত্ উত্পাদন ও বিতরণ অবস্থার অবনতি ঘটেছে এবং ৩৩ শতাংশ মনে করেন, অবস্থার উন্নতি বা অবনতি কোনোটিই ঘটেনি। অর্থাত্ প্রায় ৫৬ শতাংশ সরকারের বিদ্যুত্ খাতে নেওয়া কার্যক্রমে কোনোরকম উন্নতি হয়েছে বলে মনে করেন না। অন্যদিকে ৪৩ শতাংশ উত্তরদাতা মনে করেন, এ ক্ষেত্রে কিছুটা হলেও উন্নতি ঘটেছে।

কৃষি
কৃষিক্ষেত্রে সরকারের নেওয়া পদক্ষেপগুলো সম্পর্কে ৬৭ ভাগ উত্তরদাতা মনে করেন, এগুলো কার্যকর হয়েছে, যদিও ৩১ শতাংশ মনে করেন, এ ব্যাপারে কোনো সাফল্য নেই। কৃষিক্ষেত্রে ভর্তুকি দেওয়ার বিষয়টি পুরোপুরিভাবে কার্যকর হয়েছে বলে মনে করেন ২৩ শতাংশ উত্তরদাতা এবং কিছুটা হলেও কার্যকর হয়েছে বলে মনে করেন ৪৮ শতাংশ উত্তরদাতা। অর্থাত্ প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ উত্তরদাতা কৃষিতে ভর্তুকি দেওয়ার বিষয়টি সমর্থন করেছেন। সারের দাম কমানোর সিদ্ধান্তটিকে পূর্ণ সমর্থন জানিয়েছেন ২৮ শতাংশ উত্তরদাতা এবং এই কর্মপ্রক্রিয়া কিছুটা হলেও কার্যকরভাবে কৃষিকে সাহায্য করেছে বলে মনে করেন ৪৬ শতাংশ উত্তরদাতা। এ থেকে প্রতীয়মান হবে যে, প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ উত্তরদাতা কৃষিক্ষেত্রে নেওয়া পদক্ষেপগুলোকে সমর্থন করেন।

অবকাঠামো
অবকাঠামো খাত উন্নয়নের ক্ষেত্রে সরকারের নেওয়া কার্যক্রমে পূর্ণ সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন ৩০ শতাংশ উত্তরদাতা এবং ৩৮ শতাংশ উত্তরদাতা মনে করেন, এ ক্ষেত্রে নেওয়া সরকারের উদ্যোগের ব্যাপারে তাঁরা মোটামুটি সন্তুষ্ট। এ ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য যে, প্রায় ৭১ শতাংশ উত্তরদাতা এশিয়ান হাইওয়ের বিষয়টিকে সমর্থন জানিয়েছেন।

আমরা শুরুতে সরকারের সাফল্যের প্রতি উত্তরদাতাদের সন্তুষ্টির বিষয়টি উল্লেখ করেছি। এই সমর্থনের পেছনে যে কারণগুলো আছে, সেগুলোই ওপরে বিবেচিত হয়েছে এবং সাধারণভাবে লক্ষ করা যায় যে, কৃষি, অবকাঠামো, দুর্নীতি দমন, জ্বালানি ও বিদ্যুত্, কর্মসৃজন, বিচারব্যবস্থার উন্নয়ন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির সামাল দেওয়া এবং দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধতা থাকলেও সরকারের প্রতি সাধারণ সমর্থন বজায় আছে।

দলীয়করণ
দলীয়করণের ব্যাপারটি গণমাধ্যমসহ অন্যান্য মাধ্যমেও আলোচনায় এসেছে। ৪১ শতাংশ উত্তরদাতা মনে করেন, বিএনপি সরকারের তুলনায় দলীয়করণ বেশিই হয়েছে। অন্যদিকে ৩৬ শতাংশ উত্তরদাতার মতে, বিএনপির তুলনায় দলীয়করণের মাত্রা কমেছে এবং ২১ শতাংশ মনে করেন, মাত্রা একইরকমের আছে। সাধারণভাবে উত্তরদাতাদের মতামত থেকে দেখা যায় যে, প্রশাসন দলীয়করণ থেকে এখনো মুক্ত হতে পারেনি। নিরপেক্ষ প্রশাসনের আকাঙ্ক্ষা এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে গেছে।

সংসদে বিরোধী দল অনুপস্থিত
সরকারি দল ও বিরোধী দলের ভেতরে বাকযুদ্ধ পরিলক্ষিত হয়। বিরোধী দল সংসদে অংশগ্রহণ করছে না এবং ক্রমান্বয়ে তারা সরকারি দলের পক্ষ থেকে বিরোধী দলের প্রতি আচরণকে অনাকাঙ্ক্ষিত বলে চিহ্নিত করেছেন। সরকারি দল অবশ্য তাদের সংসদে এসে বিষয়গুলো আলোচনায় তুলে ধরতে আহ্বান জানিয়েছে। ৪২ শতাংশ উত্তরদাতা মনে করেন, সরকার বিরোধী দলের প্রতি যে আচরণ দেখিয়েছে, সেটি অনভিপ্রেত। অন্যদিকে ৫৭ শতাংশ এ ক্ষেত্রে কোনো বিচ্যুতি লক্ষ করেন না। বিরোধী দলকে সংসদে আনার ব্যাপারে সরকারের উদ্যোগকে যথেষ্ট নয় বলে মনে করেন ৩৫ শতাংশ, অন্যদিকে ৬৩ শতাংশ সরকারি উদ্যোগকে যথাযথ বলে মনে করেন। বর্তমানে সংসদ যেভাবে পরিচালিত হচ্ছে সে বিষয়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন ৬৫ শতাংশ এবং ৩৪ শতাংশ এ ব্যাপারে অসন্তুষ্টি ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।

বিরোধী দলের কার্যক্রমের মূল্যায়নে ২৮ শতাংশ সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন। অন্যদিকে ৬৯ শতাংশ তাদের কার্যক্রমে অসন্তোষ ব্যক্ত করেছেন। ৮৮ শতাংশ উত্তরদাতা বিরোধী দলের সংসদে অনুপস্থিত থাকাকে সমর্থন করেন না। কেবলমাত্র ১২ শতাংশ এ ব্যাপারে বিরোধী দলের পক্ষাবলম্বন করেছেন। সংসদের বাইরে বিরোধী দলের কার্যক্রমকে যথাযথ মনে করেছেন ৩১ শতাংশ উত্তরদাতা এবং ২৮ শতাংশ মনে করেছেন, বিরোধী দল সংসদের বাইরে কিছুটা হলেও কার্যকর ভূমিকা রেখেছে। কিন্তু ২০ শতাংশ উত্তরদাতা মনে করেন, বিরোধী দল সংসদের বাইরেও যথার্থ ভূমিকা রাখতে পারেনি। জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে বিরোধী দল কার্যকর ভূমিকা রেখেছে বলে ৩০ শতাংশ উত্তরদাতা মনে করেন। অন্যদিকে ৪৪ শতাংশ মনে করেন, বিরোধী দল জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে যথাযথ ভূমিকা রাখতে ব্যর্থ হয়েছে।

বিডিআর বিদ্রোহ
বিডিআর বিদ্রোহের বিষয়টি উল্লেখ করে বিরোধী দলের ভূমিকাকে সমর্থন করেছেন ৩৬ শতাংশ উত্তরদাতা এবং ৫৪ শতাংশ উত্তরদাতা বিরোধী দলের ভূমিকাকে অসমর্থনীয় মনে করেছেন।

বিএনপি সম্পর্কে ৪৩ শতাংশ উত্তরদাতার ধারণা, তাঁরা কর্মীদের নিয়ন্ত্রণাধীন রাখতে সাধারণভাবে সাফল্য অর্জন করেছেন। অন্যদিকে ৫৪ শতাংশ মনে করেন, তেমন নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হয়নি। বিএনপি এ বছর তার কাউন্সিল অধিবেশন করেছে। ৪৩ শতাংশ উত্তরদাতা মনে করেন, এর মাধ্যমে পার্টি নতুনভাবে সংগঠিত হয়েছে। অন্যদিকে ৪৮ শতাংশ মনে করেন, পার্টিতে কাঙ্ক্ষিত পুনর্গঠন সম্পর্কিত পরিবর্তন আসেনি। এ কাউন্সিলের সিদ্ধান্তের একটি বিষয় নানাভাবে আলোচিত হয়েছে—সেটি হলো, তারেক রহমানের সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান হিসেবে নির্বাচন। এ বিষয়ে ৪৮ শতাংশ উত্তরদাতা মনে করেন, এটি সঠিক হয়েছে। অন্যদিকে ৪৯ শতাংশ উত্তরদাতার ধারণা, এটি ঠিক হয়নি।

কর্মীদের ওপর সংগঠনের নিয়ন্ত্রণ
ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ সংগঠনের ক্ষেত্রে ১৫ শতাংশ উত্তরদাতা সম্পূর্ণ সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন এবং ১১ শতাংশ উত্তরদাতা সম্পূর্ণ অসন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন। কিন্তু ৪৪ শতাংশ উত্তরদাতা আংশিক সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন এবং ১৮ শতাংশ উত্তরদাতা আংশিক অসন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন। অর্থাত্ সাধারণভাবে সন্তুষ্টির মাত্রা এখনো যথেষ্ট বেশি। উত্তরদাতাদের মতে, আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ সংগঠনের নানাবিধ কর্মকাণ্ডে নিয়ন্ত্রণহীনতার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। ৫২ শতাংশ উত্তরদাতা মনে করেন, আওয়ামী লীগ দল হিসেবে তার কর্মী ও তার অঙ্গ সংগঠনের সদস্যদের কর্মকাণ্ড যথাযথভাবে শৃঙ্খলাধীন ও নিয়ন্ত্রণাধীন রাখতে ব্যর্থ হয়েছে। অন্যদিকে ৪৭ শতাংশ উত্তরদাতা মনে করেন, আওয়ামী লীগ তার কর্মী ও অঙ্গ সংগঠনের কর্মীদের যথাযথভাবে নিয়ন্ত্রণাধীন রাখতে সমর্থ হয়েছে। আওয়ামী লীগ এ বছর তার কাউন্সিল অধিবেশন করেছে। ৬৮ শতাংশ উত্তরদাতা মনে করেন, এই কাউন্সিল সম্পাদনের মধ্য দিয়ে এই দলটি পুনর্গঠন করা সম্ভব হয়েছে। অন্যদিকে ২৫ শতাংশ মনে করেন, এমনটি সম্ভব হয়নি। যদিও এখন পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রীর ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় আওয়ামী লীগের কোনো পদ গ্রহণ করেননি, উত্তরদাতাদের প্রশ্ন করা হলে এ বিষয়ে ৫৭ শতাংশ উত্তরদাতা মনে করেন, জয়ের পক্ষে আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে সংযুক্ত হওয়া ভালো হবে। অন্যদিকে ৪১ শতাংশ এর বিপরীত মত পোষণ করেন।

রাজনীতিতে গুণগত পরিবর্তন দরকার
আমাদের দেশের রাজনীতিতে গুণগত পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষা বহুবার ব্যক্ত করা হয়েছে। আওয়ামী লীগ তার নির্বাচনী ইশতেহারে এই গুণগত পরিবর্তনের বিষয়টি নানাভাবে উল্লেখ করেছে। বিএনপির ইশতেহারেও এটি লক্ষণীয়। অন্যদিকে নির্বাচন কমিশন তার আইন ও বিধিমালার মাধ্যমে গুণগত পরিবর্তন আনতে সচেষ্ট ছিল। ৫৯ শতাংশ উত্তরদাতা মনে করেন, গত এক বছরে রাজনীতিতে কিছুটা হলেও গুণগত পরিবর্তন এসেছে। অন্যদিকে ৩৯ শতাংশ উত্তরদাতার মতে, কোনো গুণগত পরিবর্তনই লক্ষ করা যায় না। এ সঙ্গে সম্পর্কিত হরতাল-অবরোধের রাজনীতি। এ ক্ষেত্রে সাংঘর্ষিক অবস্থা ও সহিংসতাকেও বিযুক্ত করা যায় না। যেটুকু পরিবর্তন লক্ষ করা গেছে, তার ফলে হরতাল, অবরোধ, সহিংসতা ফিরে আসবে কি না সে বিষয়ে উত্তরদাতাদের মতামত জিজ্ঞেস করা হয়েছিল। ৩৮ শতাংশ আশঙ্কা করেন, এগুলোর প্রত্যাবর্তন ঘটবে। অন্যদিকে ৫৯ শতাংশ মনে করেন, রাজনৈতিক অপসংস্কৃতি ফিরে আসবে না। রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে গুণগত পরিবর্তন কাঙ্ক্ষিত হলেও এ ব্যাপারে নিশ্চিত হওয়া বর্তমান অবস্থায় প্রায় অসম্ভব।

সাম্প্রতিককালে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক তত্ত্বাবধায়ক সরকার সম্পর্কে আলোচনা তুলেছেন। বিগত তত্ত্বাবধায়ক সরকার কার্যকরভাবে তাদের কর্ম সম্পাদন করতে পেরেছিল কি না—এ ব্যাপারে দুই-তৃতীয়াংশ উত্তরদাতা ইতিবাচক মনোভাব পোষণ করেন এবং এক-তৃতীয়াংশ উত্তরদাতা নেতিবাচক মনোভাব প্রকাশ করেছেন। তত্ত্বাবধায়ক সরকার ছিল সেনাসমর্থিত। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময়ে সেনাবাহিনীর ভূমিকা যথাযথ ছিল কি না, এ বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। ৭০ শতাংশ উত্তরদাতা মনে করেন, ওই সময়ে সেনাবাহিনী যে কর্ম সম্পাদন করেছে, তা সমর্থনীয়। অন্যদিকে ৩০ শতাংশ সেনাবাহিনীর এ জাতীয় কোনো কার্যক্রম সমর্থনযোগ্য বলে মনে করেন না।

বাংলাদেশের রাজনীতিতে ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক একটি বহুল আলোচিত বিষয়। বিভিন্ন সরকারের সময়ে এ সম্পর্কের উষ্ণতার হ্রাস-বৃদ্ধি হয়েছে। ৭৬ শতাংশ উত্তরদাতা মনে করেন, ভারতের সঙ্গে বর্তমান সরকার যে সম্পর্ক উন্নয়নের পদক্ষেপ নিয়েছে, সেটি ইতিবাচক এবং ৮০ শতাংশ উত্তরদাতা ভারতের সঙ্গে সমতাভিত্তিক উন্নয়ন কামনা করেন।

আমাদের রাজনীতিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ওয়াজেদ এবং বেগম খালেদা জিয়া দুজন দেশনেত্রী হিসেবে বিভিন্ন রাজনৈতিক কাজকর্ম পরিচালনা করে আসছেন। গত এক বছরের মূল্যায়নে ৭৬ শতাংশ উত্তরদাতা শেখ হাসিনার কার্যক্রমকে উত্তম বলে মনে করেন। অন্যদিকে খালেদা জিয়ার কার্যক্রমকে ৬৮ শতাংশ উত্তরদাতা সমর্থনীয় বলে মনে করেন। প্রায় ১৩ শতাংশ উত্তরদাতা শেখ হাসিনার নেতৃত্বকে ত্রুটিপূর্ণ বলে ধারণা করেন। অন্যদিকে ১৭ শতাংশ উত্তরদাতা খালেদা জিয়া সম্পর্কে এ মত পোষণ করেন।

মানুষ শান্তি ও অগ্রগতি চায়
এই সমীক্ষা অনুযায়ী, বর্তমান অবস্থায় নির্বাচন হলে গত এক বছরের কর্মকাণ্ডের মূল্যায়নের ভিত্তিতে আওয়ামী লীগের কার্যকর সমর্থন প্রায় ৫৬ শতাংশ। অন্যদিকে বিএনপির সমর্থন ২৫ শতাংশের কিছু বেশি। এ থেকে অনুমিত হয় যে, বর্তমান সরকার তার বিভিন্ন নীতি ও কার্যক্রমের মাধ্যমে ২০০৮ সালের ডিসেম্বরে যে সমর্থন পেয়েছিল, বর্তমানে সমর্থনের মাত্রা তার চেয়ে বেশি। অন্যদিকে দলের অভ্যন্তরে নানা সমস্যা এবং সংসদে কার্যকর ভূমিকা পালন না করার কারণে বিএনপির সমর্থন ওই সময়ের সমর্থনের চেয়ে কম। এই সমীক্ষা থেকে অনুমান করা যায় যে, এ দেশের জনগণ সুস্থ ও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে সমর্থন করে এবং জনকল্যাণমুখী কার্যকর নীতির বাস্তবায়ন তারা আকাঙ্ক্ষা করে। সাধারণ মানুষ শান্তি চায়, জীবনযাত্রার মানের উন্নয়ন চায়, কর্মসংস্থান চায়, প্রকৃত শিক্ষার সুযোগ চায়, সুবিচার চায় এবং প্রশাসনিক নিরপেক্ষতা ও কার্যকারিতা চায়। কৃষিক্ষেত্রের সঙ্গে আমাদের উন্নয়ন, জীবন ও জীবিকা সম্পর্কিত হয়ে আছে। এ ক্ষেত্রে বিশেষ কার্যক্রম জনগণ সমর্থন করে।
 মোজাফ্ফর আহমদ: সভাপতি, সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন)।

সূত্র: প্রথম আলো, ৬ জানুয়ারি ২০১০

Advertisements

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s