ছাত্ররাজনীতি:লেজুড়বৃত্তির অবসান আজ জরুরি

samakal_logo

বদিউল আলম মজুমদার

সারাদেশে ছাত্র নামধারী একদল লোক আজ অনেক অপকর্মে লিপ্ত। তারা সরকারি দলের সহযোগী সংগঠন ছাত্রলীগের সদস্য বলে নিজেদের দাবি করছে। তাদের অনেকে চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি করছে। অন্যের জায়গা-জমি দখল করছে। ছিনতাই করছে। নারীর সম্ভ্রমহানি করছে। মানুষকে জিম্মি করছে। মারামারি, এমনকি খুনখারাবিও করছে। এসব অপকর্মের কারণে তারা প্রতিনিয়ত গণমাধ্যমের শিরোনাম হচ্ছে। সরকারের উচ্চপর্যায়, এমনকি প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে বারবার সতর্কবাণী উচ্চারণ করা সত্ত্বেও তারা তাদের অপকর্ম থেকে বিরত থাকছে না। দুর্ভাগ্যবশত প্রধানমন্ত্রীর সতর্কবাণীর ওপরও অনেকেই এখন আস্থা রাখতে পারছেন না। যেমন_ অছাত্রদের দিয়ে ছাত্রলীগ হবে না বলে প্রধানমন্ত্রীর এক বক্তব্যের ওপর প্রথম আলো (৫ এপ্রিল, ২০১০) পরিচালিত অনলাইন জরিপ থেকে দেখা যায়, প্রায় তিন-চতুর্থাংশ উত্তরদাতা বিশ্বাস করেন না যে, ছাত্রলীগের কর্মকাণ্ডের ওপর এ বক্তব্যের কোনো প্রভাব পড়বে।

কিছুদিন আগ পর্যন্ত তথাকথিত ছাত্রনেতারাই গর্হিত কর্মের সঙ্গে জড়িত ছিল। এখন ছাত্রনেত্রীদের অনেকেই এর অনেকগুলোর সঙ্গে সম্পৃক্ত হয়ে পড়েছে। এমনকি অন্যদের থেকে সুবিধা আদায়ের লক্ষ্যে অন্য ছাত্রীদের অনৈতিক কাজে ব্যবহারের অভিযোগও তাদের বিরুদ্ধে উঠছে। তাই এ কথা আজ বলার অপেক্ষা রাখে না, ছাত্ররাজনীতি বর্তমানে দারুণ রোগাক্রান্ত। আমরা যারা এককালে নিজেদের বিকাশ ও অন্য ছাত্রছাত্রীদের অধিকার আদায়ের লক্ষ্যে ছাত্ররাজনীতির সঙ্গে জড়িত হয়েছিলাম, তাদের কাছে বর্তমান অবস্থা অকল্পনীয়, অবিশ্বাস্য ও সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য।

ছাত্ররাজনীতির বর্তমান দুরবস্থার কারণ কী? চিকিৎসা বিজ্ঞানীরা বলেন, যে কোনো রোগের যথাযথ চিকিৎসার জন্য প্রথমেই রোগের কারণ নির্ণয় করা প্রয়োজন। এজন্য প্রয়োজন গভীর অনুসন্ধান। তাই ছাত্ররাজনীতির চরম অবক্ষয়ের কারণ অনুসন্ধানও আজ অত্যন্ত জরুরি হয়ে পড়েছে।

আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে, বিশেষত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্ররাজনীতি শুরু হয়েছিল অক্সফোর্ড-ক্যামব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের আদলে। ছাত্রছাত্রীদের নিজেদের বিকাশের লক্ষ্যে এবং তাদের স্বার্থ রক্ষার্থে। কোনো রাজনৈতিক দলের লেজুড় হিসেবে কাজ করার জন্য নয়। নির্বাচিত ছাত্র সংসদকেন্দ্রিক ছাত্ররাজনীতি ছাত্রছাত্রীদের কল্যাণে পরিচালিত হতো। কোনো কোনো ক্ষেত্রে আদর্শিক পরোক্ষ সম্পর্ক বিরাজ করলেও প্রধান ছাত্র সংগঠনগুলো রাজনৈতিক দলের ‘বি’ টিম হিসেবে কাজ করেনি। গত কয়েক দশকে, বিশেষত গত দু’দশকের গণতান্ত্রিক শাসনামলে এ অবস্থার আমূল পরিবর্তন ঘটে। ছাত্র সংগঠনগুলো এখন রাজনৈতিক দলগুলোর সম্পূর্ণ আজ্ঞাবহ হিসেবে কাজ করে।

ছাত্ররাজনীতির চরিত্রে পরিবর্তনের সূচনা ঘটে ১৯৭৬ সালে, প্রধান সামরিক শাসক হিসেবে বিচারপতি আবু সা’দাত মোহাম্মদ সায়েম কর্তৃক ঘোষিত পলিটিক্যাল পার্টিজ রেগুলেশন, ১৯৭৬-এর মাধ্যমে। এ রেগুলেশনের মাধ্যমে রাজনৈতিক দলের সংজ্ঞায় অঙ্গসংগঠন অন্তর্ভুক্ত করা হয়। রেগুলেশনের ২(ঘ) অনুচ্ছেদের সংজ্ঞা অনুযায়ী, রাজনৈতিক দল বলতে ‘কোনো অ্যাসোসিয়েশন বা ব্যক্তিসমষ্টিকে বোঝায়, যারা কোনো রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে কার্যক্রম পরিচালনা করে বা কার্যক্রমে লিপ্ত থাকে, যার মধ্যে রাজনৈতিক মতাদর্শ প্রচার অন্তর্ভুক্ত এবং এতে অন্তর্ভুক্ত হবে উপরোক্ত প্রতিষ্ঠানের অঙ্গ, সংশ্লিষ্ট বা ফ্রন্ট অর্গানাইজেশন, যেমন_ ছাত্র, শ্রমিক, সাংস্কৃতিক, কৃষক এবং যুব সংগঠন।’ এ রেগুলেশনের প্রদত্ত ক্ষমতাবলে পরবর্তী সময়ে জেনারেল জিয়াউর রহমান রাজনৈতিক দল অধ্যাদেশ, ১৯৭৮ জারি করেন, যার মাধ্যমেও রাজনৈতিক দলের অঙ্গসংগঠনের আইনি বৈধতা প্রদান করা হয়।

ছাত্র সংগঠনগুলো এখন পরিচালিত হয় মূলত অছাত্রদের দ্বারা। তাদের অনেকেই বিভিন্ন বৈধ-অবৈধ ব্যবসা-বাণিজ্যের সঙ্গে জড়িত। কেউ কেউ সরাসরি রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত এবং দলের মনোনয়নে গত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্ব্বন্দ্বিতাও করেছেন। তারা অনেকে বিবাহিত ও সন্তান-সন্ততির জনক। অনেকের বয়স চলি্লশের উর্ধ্বে। আমাদের প্রধানমন্ত্রী তাদের সম্প্রতি ‘আদুভাই’ ও ‘আঙ্কেল’ বলে আখ্যায়িত করেছেন। তিনি আদুভাই ও আঙ্কেলদের দিয়ে ছাত্রলীগ হবে না বলেও মতপ্রকাশ করেছেন।

বস্তুত ছাত্ররাজনীতি এখন ছাত্রছাত্রীদের ব্যবহারের রাজনীতিতে পর্যবসিত হয়েছে। অছাত্রদের নেতৃত্বে পরিচালিত ক্যাডারভিত্তিক প্রধান ছাত্র সংগঠনগুলোকে রাজনৈতিক দলগুলো ব্যবহার করে অনেক ক্ষেত্রে তাদের লাঠিয়াল হিসেবে। আর তথাকথিত ছাত্র নেতা-নেত্রীরা সাধারণ ছাত্রছাত্রীদের ব্যবহার করে মিটিং-মিছিলের মাধ্যমে তাদের শক্তি প্রদর্শন করতে। আর এ শক্তিবলে তারা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোয় ভর্তিবাণিজ্য, সিটবাণিজ্যসহ অন্যান্য গর্হিত কাজে লিপ্ত হয়। ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছাত্র সংগঠনের নেতা-নেত্রীরাই সাধারণত এসব অন্যায় কাজের সঙ্গে জড়িত। এছাড়াও ছাত্র নেতা-নেত্রীরা টেন্ডারবাজি, দখলদারিত্ব ইত্যাদি অপরাধমূলক কাজ করে পার পাওয়ার জন্য রাজনৈতিক দল, বিশেষত ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দলকে ব্যবহার করে ঢাল হিসেবে।

ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে জড়িত পাতি নেতারাও অনেক ক্ষেত্রে অতি ক্ষমতাধর। এ ক্ষমতার একটি বড় উৎস হলো কাঁচা টাকা ও অস্ত্র। তাই এখন প্রত্যন্ত অঞ্চলের ছাত্রলীগের নেতা হওয়ার জন্যও লক্ষ্য করা যায় প্রবল প্রতিদ্বন্দ্বিতা। বর্তমান লেখক সম্প্রতি উত্তরবঙ্গের একটি জেলায় গিয়ে দেখে এসেছেন পৌরসভার একটি ওয়ার্ড ছাত্রলীগের কমিটি গঠন নিয়ে কী বিরাট মহড়া! এলাকার দেয়ালগুলো বিভিন্ন প্রার্থীর পোস্টারে আচ্ছাদিত। মনে হয় যেন জাতীয় নির্বাচনের প্রচার-প্রচারণা চলছে!

উল্লেখ্য, এসব নির্বাচনে স্থানীয় পর্যায়ের নেতৃত্বপ্রত্যাশীদের পক্ষ থেকে বড়ভাইদের সঙ্গে লেনদেনেরও অনেক অভিযোগ রয়েছে। লেজুড়বৃত্তি ছাত্ররাজনীতির বিরুদ্ধে অনেক দিন থেকেই সারাদেশে একটি ব্যাপক জনমত বিরাজ করছে। জনমতের কারণে নির্বাচন কমিশনের উদ্যোগে আয়োজিত ব্যাপক আলাপ-আলোচনার ভিত্তিতে সব রাজনৈতিক দলের সম্মতিক্রমে গত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে জারি করা গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (সংশোধিত) অধ্যাদেশ ২০০৮-এর বিধানানুযায়ী, নিবন্ধিত দলের অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠন রাখা বেআইনি করা হয়েছে। অধ্যাদেশের ৯০বি ধারায় অন্তর্ভুক্ত নির্বাচন কমিশনের অধীনে রাজনৈতিক দলের নিবন্ধনের শর্তগুলোর অন্যতম হলো : ‘যদি কোনো রাজনৈতিক দল… কমিশনের অধীনে নিবন্ধিত হতে চায়, তাহলে তার গঠনতন্ত্রে নিম্নের সুস্পষ্ট বিধান থাকতে হবে_ যেমন… ৯০বি (১) (খ) (ররর) কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক অথবা ছাত্র অথবা আর্থিক, বাণিজ্যিক অথবা শিল্প প্রতিষ্ঠানের কর্মচারী-কর্মকর্তা অথবা শ্রমিকদের অথবা অন্য কোনো পেশার সদস্যদের নিয়ে গঠিত প্রতিষ্ঠান বা সংগঠনকে অঙ্গ বা সহযোগী সংগঠন হিসেবে সম্পূর্ণরূপে নিষিদ্ধ রাখবার; তবে শর্ত থাকে যে, কোনো কিছুই তাদেরকে স্ব-স্ব ক্ষেত্রে স্বাধীনভাবে সংগঠিত হবার অথবা সংগঠন, সমিতি, ট্রেড ইউনিয়ন ইত্যাদি গঠন করবার এবং সকল প্রকার গণতান্ত্রিক ও রাজনৈতিক অধিকার চর্চা করবার এবং ব্যক্তি হিসেবে, বিদ্যমান আইনের বিধানাবলি সাপেক্ষে, কোনো রাজনৈতিক দলের সদস্য হবার ক্ষেত্রে বাধা হবে না।’

তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে জারি করা যে সীমিতসংখ্যক অধ্যাদেশ বর্তমান সংসদ অনুমোদন করে তার মধ্যে গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (সংশোধিত) অধ্যাদেশ, ২০০৮ অন্যতম। তা সত্ত্বেও ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগসহ প্রধান রাজনৈতিক দলগুলো আইনের এ সুস্পষ্ট বিধানটি নির্বাচন-পরবর্তীকালে সম্পূর্ণরূপে অগ্রাহ্য করেছে। শুধু তা-ই নয়, এক্ষেত্রে তারা একটি নগ্ন অনৈতিক খেলায় লিপ্ত হয়েছে। তারা তাদের ছাত্র সংগঠনগুলোকে অঙ্গসংগঠনের পরিবর্তে সহযোগী সংগঠন বলে আখ্যায়িত করা শুরু করেছে, যদিও আইনানুযায়ী উভয় ধরনের সংগঠনই বেআইনি। অর্থাৎ অতীতের মতো আমাদের রাজনৈতিক দলগুলো তাদের নিজেদের পাস করা আইন আবারও অমান্য করল, যা আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার সম্পূর্ণ পরিপন্থী।

দুর্ভাগ্যবশত আইনের প্রতি এমন বৃদ্ধাঙ্গুলি প্রদর্শন সত্ত্বেও আমাদের নির্বাচন কমিশন এতদিন এ সম্পর্কে কোনো উচ্চবাচ্য করেনি। তবে সম্প্রতি কমিশন তার নীরবতা ভেঙেছে এবং প্রধান দলগুলোকে এ ব্যাপারে চিঠি লিখেছে। কিন্তু দলগুলো আইনের বিধান প্রয়োগের ক্ষেত্রে তাদের ব্যর্থতার কথা স্বীকার করে দ্রুততার সঙ্গে তা সংশোধনের উদ্যোগ না নিয়ে বরং কমিশনের বিরুদ্ধে অপপ্রচারে লিপ্ত হয়েছে। কমিশনের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক দলের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপের অভিযোগ তুলছে, যা অত্যন্ত দুঃখজনক।

এটি সুস্পষ্ট, আইনের লঙ্ঘন হলেও আমাদের সম্মানিত রাজনীতিবিদদের অনেকেই রাজনৈতিক দলের অঙ্গ বা সহযোগী সংগঠন রাখার পক্ষে। তাদের যুক্তি হলো, অতীতে জাতির ত্রান্তিলগ্নে যেমন_ ভাষা আন্দোলন, বাষট্টির আইয়ুববিরোধী আন্দোলন, ঊনসত্তরের ১১ দফা আন্দোলন, স্বাধীনতা সংগ্রাম, নব্বইয়ের এরশাদবিরোধী আন্দোলন ইত্যাদিতে ছাত্ররা ঐতিহাসিক ভূমিকা রেখেছিল, ভবিষ্যতেও তাদের এমন ভূমিকা রাখার প্রয়োজন হবে। বর্তমান লেখকেরও আইয়ুববিরোধী আন্দোলন, ৬ দফা আন্দোলন, ঊনসত্তরের আন্দোলনে সামান্য ভূমিকা রাখার সুযোগ হয়েছিল, যার জন্য আমি গর্বিত। কিন্তু ছাত্রদের তা করতে হয়েছিল, কারণ রাজনীতিবিদরা তাদের প্রয়োজনীয় ভূমিকা পালন করতে সে সময় ব্যর্থ হয়েছিলেন। এছাড়াও এর মাধ্যমে ছাত্রছাত্রীরা নিজেরা তাদের মূল দায়িত্ব থেকে সরে এসেছিল, যার চরম বিরূপ প্রভাব পড়েছে আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা এবং শিক্ষার মানে। এর প্রভাব পড়েছে আমাদের রাজনৈতিক নেতৃত্বের গুণগত মানেও, যার মাসুল জাতি হিসেবে আমরা প্রতিনিয়ত দিচ্ছি।

উপরন্তু রাজনীতি কি ছাত্রছাত্রীদের কাজ? রাজনীতি হলো রাষ্ট্র পরিচালনার নীতি_ রাষ্ট্র কীভাবে পরিচালিত হবে, রাষ্ট্রীয় সম্পদ কীভাবে আহরণ ও বিতরণ হবে এবং কার স্বার্থে কাজে লাগানো হবে_ সে সম্পর্কে যৌথ সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া। এ কাজ রাজনীতিবিদদের, ছাত্রছাত্রীদের নয়। তাদের কাজ লেখাপড়া করা, জ্ঞানার্জন করা এবং ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুত হওয়া। একটি সমাজ যথাযথভাবে এগিয়ে যায় যদি প্রত্যেক জনগোষ্ঠী তাদের করণীয় ও দায়িত্ব সুষ্ঠুভাবে পালন করে, অন্যথায় সমাজে ভারসাম্যহীনতা, অবক্ষয় ও বিকৃতি দেখা দেয়। অনেকের ধারণা, আমাদেরও তা-ই ঘটেছে, যার বিরূপ প্রভাব আমরা প্রতিনিয়ত অনুভব করছি এবং এর মূল্য দিচ্ছি।

জাতির অপূরণীয় ক্ষতিসাধন সত্ত্বেও বর্তমানের লেজুড়বৃত্তি ছাত্ররাজনীতি বিরাজ করছে মূলত আমাদের রাজনীতিবিদদের অর্বাচীনতার কারণে। আর তা বিরাজের পেছনে চালিকাশক্তি জোগাচ্ছে ছাত্রছাত্রীদের স্বতঃস্ফূর্ত সমর্থন নয়, বরং ক্ষমতাসীন দলের পক্ষ থেকে প্রদত্ত এবং ভবিষ্যতের ক্ষমতাসীনদের থেকে সম্ভাব্য ফায়দা। ক্ষমতাসীন দল থেকে ফায়দাপ্রাপ্তি এবং অন্যায় করে পার পেয়ে যাওয়ার সুযোগের আকর্ষণেই বর্তমানে বহু অবাঞ্ছিত ব্যক্তি আওয়ামী লীগের অঙ্গ বা সহযোগী সংগঠনগুলোতে নাম লেখাচ্ছে। যতদিন এসব সুযোগ অব্যাহত থাকবে, ততদিন এ হিড়িকও চলতে থাকবে। এভাবে এসব সংগঠন ক্রমাগতভাবে মাস্তান ও পেশিশক্তির মালিকদের আখড়ায় পরিণত হচ্ছে। কারণ ভাত ছিটালে কাক আসবেই। আর যেহেতু ফায়দার পরিমাণ অফুরন্ত নয়, সীমিত সুযোগ-সুবিধার জন্য প্রতিদ্বন্দ্বিতা ক্রমেই প্রকট হচ্ছে, যা অনেক ক্ষেত্রে সহিংসতায় রূপ নিচ্ছে। অনেকের আশঙ্কা, ভবিষ্যতে এ অবস্থা বেসামাল পর্যায়ে পৌঁছতে পারে। তাই ক্ষমতাসীনদের এবং জাতির বৃহত্তর স্বার্থে বর্তমানের লেজুড়বৃত্তি ছাত্ররাজনীতির অবসান হওয়া আজ
অতি জরুরি।
ড. বদিউল আলম মজুমদার : সম্পাদক
সুজন-সুশাসনের জন্য নাগরিক

সূত্র: সমকাল, ২২ এপ্রিল, ২০১০

Advertisements

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s