সুশাসন: সম্পদের হিসাব ও একটি সুপারিশ

samakal_logo

বদিউল আলম মজুমদার

সম্পদের হিসাব প্রকাশ করলেই হবে না, সত্যিকারের স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক সরকার প্রতিষ্ঠা করতে হলে জনপ্রতিনিধি ও মন্ত্রিপরিষদের সদস্যদের জন্য যথাযথ আচরণবিধি প্রণয়ন এবং
তা মানা বাধ্যতামূলক করতে হবে।

গণমাধ্যমের রিপোর্ট অনুযায়ী, সল্ফপ্রতি অর্থ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি জনপ্রতিনিধিদের আয়ের বিবরণী প্রদান ও আয়কর রিটার্ন জমাদান বাধ্যতামূলক করার সুপারিশ করেছে (দৈনিক প্রথম আলো, ২৪ মে ২০১০)। কমিটির সুপারিশে সংসদ সদস্য, উপজেলা চেয়ারম্যান ও ভাইস চেয়ারম্যান, সিটি করপোরেশনের মেয়র ও কাউন্সিলররা অন্তর্ভুক্ত। বিবরণীতে কেউ সম্পদের হিসাব গোপন করলে সে সম্পদ বাজেয়াপ্ত করারও সুপারিশ করেছে কমিটি।

আমরা কমিটিকে ধন্যবাদ জানাই। সুপারিশটি বাস্তবায়িত হলে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের স্বচ্ছতা-জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আমরা বিশ্বাস করি। তবে এর জন্য প্রয়োজন হবে এসব তথ্য হলফনামার মাধ্যমে প্রদানের ও প্রকাশের বিধান। আরও প্রয়োজন হবে দুদকের মতো কোনো স্বাধীন কর্তৃপক্ষের ওপর দাখিল করা বিবরণীগুলো যাচাই-বাছাই করার দায়িত্ব প্রদান। বিবরণীতে ভুল ও বিভ্রান্তিমূলক তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে সম্পদ বাজেয়াপ্ত করার সঙ্গে সঙ্গে জনপ্রতিনিধিদের তাদের নির্বাচিত পদ থেকে অপসারণ এবং মিথ্যা হলফনামা প্রদানের জন্য দণ্ডবিধি ও অন্যান্য প্রচলিত আইনে শাস্তি প্রদানেরও ব্যবস্থা করতে হবে।

যদিও কমিটির সুপারিশে আমরা কিছুটা আশাবাদী হয়েছি, কিন্তু সংশিল্গষ্ট বিষয়ে সরকারের প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের কারণে আমরা ভরসা পাচ্ছি না। স্মরণ করা যেতে পারে, ক্ষমতাসীন দল ২০০৮ সালের নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রাক্কালে তাদের ‘দিনবদলের সনদ’ শীর্ষক নির্বাচনী ইশতেহারে সব ‘ক্ষমতাধরদের বার্ষিক সম্পদের বিবরণ’ প্রদানের ঘোষণা দেয়। ইশতেহারে আরও সুস্পষ্টভাবে অঙ্গীকার করা হয় : ‘জাতীয় সংসদকে কার্যকর ও সরকারের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা হবে। প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রিসভার সদস্য এবং সংসদ সদস্য ও তাদের পরিবারের সম্পদের হিসাব ও আয়ের উৎস প্রতিবছর জনসমক্ষে প্রকাশ করা হবে।’ উলেল্গখ্য, প্রধান বিরোধী দল বিএনপিও তাদের নিবাচনী ইশতেহারে অঙ্গীকার করেছিল, ‘নির্বাচনের পর শপথ গ্রহণের ৩০ দিনের মধ্যে সকল নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিকে সম্পদের বিবরণী প্রকাশ করতে হবে।’

নির্বাচনের পরপরই অর্থমন্ত্রী নির্বাচনী ইশতেহারের প্রতিশ্রুতি মোতাবেক সংশিল্গষ্টদের সম্পদের হিসাব নেওয়ার ও প্রকাশের ঘোষণা দিয়েছিলেন। কিন্তু সরকার গঠনের পর প্রায় দেড় বছর অতিবাহিত হলেও অদ্যাবধি তা করা হয়নি। বিএনপিও এ ব্যাপারে তাদের কথা রাখেনি।

আরও হতাশাব্যঞ্জক হলো যে, গত ১৪ ফেব্রুয়ারি ঢাকায় দ্বিতীয় দারিদ্র্য বিমোচন কৌশলপত্রের (পিআরএসপি) মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠান শেষে অর্থমন্ত্রী ঘোষণা দেন, নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী এবারের বাজেট পেশের আগেই সংশিল্গষ্টদের হিসাব জনসমক্ষে প্রকাশ করা হবে। কিন্তু গণমাধ্যমের রিপোর্ট থেকে জানা যায়, গত সপ্তাহ পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় অথবা সরকারের অন্য কোনো বিভাগ থেকে আদেশ বা পরিপত্র জারি করা হয়নি। এ ব্যাপারে মন্ত্রিপরিষদকে কোনো দিকনির্দেশনাও দেওয়া হয়নি (দৈনিক সমকাল, ৩০ মে ২০১০)। তাই বাজেট পেশের আগেই প্রতিশ্রুতি মোতাবেক সম্পদের হিসাব প্রকাশ করা হবে কি-না, সে ব্যাপারে সন্দিহান না হয়ে পারা যায় না।

আশা করি, সরকার তার কথা রক্ষা করবে এবং যথাশিগগির সম্ভব জনপ্রতিনিধিদেরই শুধু নয়, সব ‘ক্ষমতাধর’কে এবং তাদের পরিবারের সদস্যদের সম্পদের হিসাব প্রকাশ করবে। আর গণমাধ্যমে ওপর অনুসন্ধানী রিপোর্ট তৈরি ও প্রচার করবে। তাহলেই সরকার তার স্বচ্ছতা-জবাবদিহিতার অঙ্গীকার পালনে এক ধাপ এগিয়ে যাবে এবং সরকারের ওপর জনগণের আস্থা বৃদ্ধি পাবে।

তবে সম্পদের হিসাব প্রকাশ করলেই হবে না, সত্যিকারের স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক সরকার প্রতিষ্ঠা করতে হলে জনপ্রতিনিধি ও মন্ত্রিপরিষদের সদস্যদের জন্য যথাযথ আচরণবিধি প্রণয়ন এবং তা মানা বাধ্যতামূলক করতে হবে। উলেল্গখ্য, প্রতিবেশী ভারতে মন্ত্রিপরিষদের সদস্যদের জন্য তাদের ক্ষমতাসীন বর্তমান সরকার ইতিমধ্যে একটি আচরণবিধি প্রণয়ন করেছে। আমাদের দেশেও সরকারদলীয় সংসদ সদস্য সাবের হোসেন চৌধুরী সংসদ সদস্য আচরণ আইন, ২০১০ শিরোনামের একটি বিল ১৪ জানুয়ারি, ২০১০ তারিখে ‘বেসরকারি সদস্যদের বিল’ হিসেবে জাতীয় সংসদে উত্থাপন করেছেন।

প্রস্তাবিত বিলটিতে মোট ১৫টি ধারা রয়েছে। ধারাগুলো হলো : ১. সংক্ষিপ্ত শিরোনাম; ২. সংজ্ঞা; ৩. সংসদ সদস্যগণের নৈতিক অবস্থান; ৪. সংসদ সদস্যগণের দায়িত্ব; ৫. স্বার্থগত দ্বন্দ্ব ও আর্থিক তথ্য; ৬. ব্যক্তিস্বার্থে আর্থিক প্রতিদান; ৭. উপঢৌকন বা সেবা; ৮. সরকারি সম্পদের ব্যবহার; ৯. গোপনীয় তথ্যের ব্যবহার; ১০. বাকস্বাধীনতা; ১১. সংসদ সদস্য বা জনগণকে বিভ্রান্ত ও ভুলপথে চালিত করা; ১২. পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ এবং সহিষ্ণুতা; ১৩. নৈতিক কমিটি ও আচরণ আইনের প্রয়োগ; ১৪. আইন লঙ্ঘনের শাস্তি; এবং ১৫. নৈতিকতা কমিটির কার্যকাল। প্রস্তাবিত বিলটির মূল বৈশিষ্ট্যগুলো হলো :

সংসদ সদস্যগণের নৈতিক অবস্থান। বিলের ৩ ধারায় সংসদ সদস্যদের নৈতিক অবস্থান সম্পর্কিত। এতে বলা হয়েছে, সংসদ সদস্যগণ হবেন : ১. মানবিকতা ও অনুকরণীয় চারিত্রিক গুণাবলি সম্পন্ন; ২. দেশের স্বাধীনতা, অখণ্ডতা ও সার্বভৌমত্বে অঙ্গীকারবদ্ধ; ৩. নারী-পুরুষ নির্বিশেষে সকল ধর্ম, বর্ণ, জাতি-গোষ্ঠীর মানুষের সমঅধিকার প্রতিষ্ঠায় বিশ্বাসী; ৪. বস্তুনিষ্ঠ ও যৌক্তিক চিন্তাভাবনার ধারক ও বাহক; ৫. বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের চেতনা লালনকারী; এবং ৬. আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় দৃঢ়প্রতিজ্ঞ এবং সকল প্রকার সমাজবিরোধী অপরাধমূলক কার্যকলাপ থেকে মুক্ত।

সংসদ সদস্যগণের দায়িত্ব। বিলের ৪ ধারায় সংসদ সদস্যগণের দায়িত্ব সম্পর্কে প্রস্তাবনা করা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে : ক. সংসদ সদস্য কার্যপ্রণালি বিধি অনুযায়ী চলবেন এবং ব্যক্তিগত স্বার্থসংশিল্গষ্ট বিষয়ে মন্ত্রী, সরকারি কর্মকর্তা বা সরকারি প্রতিষ্ঠানের কাজে কোনো সুপারিশ করতে পারবেন না। খ. নিজের বা পরিবারের সদস্যরা আর্থিক বা বস্তুগত সুবিধা আদায়ের চেষ্টা করবেন না। গ. তারা এমন কোনো প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত থাকবেন না, যাতে সংসদীয় দায়িত্ব পালন প্রভাবিত হতে পারে। ঘ. সংসদ সদস্যদের দায়িত্ব হলো জনগণের স্বার্থে ও কল্যাণে আইন প্রণয়ন করা এবং নির্বাহী বিভাগ যথাযথভাবে সে আইন পালন করছে কি-না, তা তদারক করা।

স্বার্থগত দ্বন্দ্ব ও আর্থিক তথ্য। এ ব্যাপারে বিলের ৫ ধারায় বলা হয়েছে : সংসদ সদস্যগণ নিজের বা অন্যের ব্যক্তিস্বার্থ চরিতার্থে অবৈধ ও অসৎ পথ অবলম্বন করবেন না; সংসদ সদস্যগণ নিজের এবং পরিবারের অন্য সদস্যদের স্বার্থগত দ্বন্দ্ব, আয় ও সম্পদের উৎস সংক্রান্ত তথ্য সংসদ কর্তৃক নির্ধারিত ছকে সংসদ শুরুর প্রথম অধিবেশনের মধ্যে প্রকাশ করবেন; সরকারি বা বেসরকারি খাতে কোনো প্রকার নিয়োগ, পদোন্নতি, বদলি, জ্যেষ্ঠতা বা অন্য কোনো সিদ্ধান্তে সুবিধা পেতে ক্ষমতার অপব্যবহার করবেন না; সরকারি ক্রয়-বিক্রয়, প্রকল্প অনুমোদন ও বাস্তবায়ন সংক্রান্ত সরকারি নীতিনির্ধারণ বা সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় ব্যক্তিগত বা দলীয় প্রভাব বা স্বার্থ অর্জন থেকে বিরত থাকবেন; বিচার বিভাগ ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থাসহ সংশিল্গষ্ট সকল প্রতিষ্ঠানে নিরপেক্ষতা ও কার্যকারিতা প্রতিষ্ঠার পথে কোনো প্রকার অন্তরায় সৃষ্টি করবেন না; সংসদ সদস্যগণ মানবাধিকার ও নারী অধিকার প্রতিষ্ঠায় সক্রিয় হবেন; সংসদ সদস্যগণ জনপ্রতিনিধি হিসাবে দেশ ও দেশের বাইরে বাংলাদেশের গৌরব ও মর্যাদা ক্ষুণ্নকারী কার্যক্রম থেকে বিরত থাকবেন।

ব্যক্তিস্বার্থে আর্থিক প্রতিদান। বিলের ৬ ধারা অনুযায়ী, জনপ্রতিনিধি হিসেবে ভূমিকা পালনে সংসদ সদস্যগণ জাতীয় স্বার্থকে ব্যক্তি, গোষ্ঠী বা দলীয় স্বার্থের ঊধর্ে্ব প্রাধান্য দেবেন এবং তারা আর্থিক প্রতিদান বা অন্য কোনো ব্যক্তিগত লাভের উদ্দেশ্যে সংসদ বা এর কোনো কমিটিতে কোনো বিষয় উত্থাপন, কোনো বিল বা প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দান অথবা প্রশ্ন উত্থাপন করবেন না।

উপঢৌকন বা সেবা। বিলের ৭ ধারা অনুযায়ী, সংসদ সদস্যরা ৫,০০০ (পাঁচ হাজার) টাকা মূল্যমানের ঊধর্ে্ব কোনো উপঢৌকন বা সেবা গ্রহণ করলে তা নৈতিকতা কমিটিকে অবহিত করবেন এবং প্রযোজ্য ক্ষেত্রে প্রাপ্ত উপঢৌকন রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা দেবেন। স্বার্থগত দ্বন্দ্বে অথবা সদস্যদের দায়িত্ব পালনে প্রভাবান্বিত করতে পারে এমন ধরনের কোনো উপঢৌকন সদস্যরা অবশ্যই গ্রহণ করবেন না।

সরকারি সম্পদের ব্যবহার। বিলের ৮ ধারা অনুযায়ী, আইন, নীতিমালা ও বিধি অনুসারে সংসদ সদস্যগণ সরকারি সম্পদ ও বিশেষ সুবিধা ভোগ করবেন। তবে সংসদ সদস্য হিসেবে প্রাপ্ত বিশেষ সুবিধাসমূহ কোনো অবস্থাতেই আর্থিক উপার্জনের মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করবেন না।

গোপনীয় তথ্যের ব্যবহার। বিলের ৯ ধারা অনুযায়ী, সংসদ সদস্য হিসেবে জনগণকে জানানো যাবে না এমন কোনো গোপনীয় তথ্য অবগত হলে তিনি জ্ঞাতসারে ব্যক্তিস্বার্থ চরিতার্থে অবশ্যই তা ব্যবহার করবেন না।

বাকস্বাধীনতা। বিলের ১০ ধারা অনুযায়ী, সংসদ সদস্যগণ জনপ্রতিনিধি হিসেবে সংবিধান ও কার্যপ্রণালির বিধানসাপেক্ষে সংসদে বক্তব্য উপস্থাপন ও সার্বিক আচরণে গণতান্ত্রিক, মুক্তবুদ্ধি, সহনশীল, বস্তুনিষ্ঠ, চিন্তাশীল ও যুক্তিপূর্ণ অভিমতের প্রতিফলন ঘটাবেন।

সংসদ বা জনগণকে বিভ্রান্ত ও ভুলপথে চালিত করা। বিলের ১১ ধারা অনুযায়ী, সংসদ সদস্যগণ অবশ্যই জ্ঞাতসারে তাদের বিবৃতি ও বক্তব্যের মাধ্যমে সংসদ বা জনগণকে বিভ্রান্ত ও ভুলপথে চালিত করবেন না। যদি অনিচ্ছাকৃতভাবে কোনো ভুল বক্তব্য দিয়ে থাকেন তবে স্বপ্রণোদিতভাবে যত দ্রুত সম্ভব তা সংসদীয় নথিতে সংশোধন করতে বাধ্য থাকবেন।

পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ ও সহিষ্ণুতা। বিলের ১২ ধারা অনুযায়ী, সংসদের পবিত্রতা, সম্মান ও ভাবগাম্ভীর্য বজায় রাখতে সংসদ সদস্যগণ পরমতসহিষ্ণু হইবেন এবং ভিন্ন রাজনৈতিক অবস্থানের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হবেন। তারা সংসদ অধিবেশনে সংসদীয় কার্যপ্রণালি বিধি অনুযায়ী আচরণ করবেন এবং সংসদে আলোচনা বা বক্তব্য উপস্থাপনে ব্যক্তিগত আক্রমণ, কুৎসামূলক বক্তব্য, অযাচিত সমালোচনা বা স্তুতি, কটু বা অশল্গীল ভাষা এবং অসৌজন্যমূলক অঙ্গভঙ্গি সচেতনভাবে পরিহার করবেন।

নৈতিকতা কমিটি ও আচরণ আইনের প্রয়োগ। বিলের ১৩ ধারায় আইনটির বাস্তবায়ন, পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন নিশ্চিত করতে সংসদে একটি সংসদীয় নৈতিক আচরণ সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটি গঠনের কথা বলা হয়েছে। প্রস্তাবিত কমিটির নাম হবে ‘নৈতিকতা কমিটি’। সকল দলের আনুপাতিক প্রতিনিধিত্বের সমন্বয়ে ৯ জন সংসদ সদস্যের এই কমিটির নেতৃত্বে থাকবেন সংসদের স্পিকার। এ ধারার বিধানানুযায়ী : ক. যে কোনো ব্যক্তি কোনো সদস্যের ব্যাপারে কমিটির কাছে অভিযোগ দাখিল করলে কমিটি যুক্তিগ্রাহ্যতার বিচারে সংশিল্গষ্ট সদস্যের কাছে কারণ দর্শানোর নোটিশের মাধ্যমে ব্যাখ্যা দাবি করতে পারবে। খ. অভিযোগের প্রেক্ষিতে অভিযুক্ত সংসদ সদস্য কমিটির যে কোনো নির্দেশ পালনে সর্বোচ্চ সহযোগিতা প্রদান করবেন।

আইন লঙ্ঘনের শাস্তি। এ আইনের কোনো বিধান লঙ্ঘিত হলে এর প্রতিকার সম্পর্কে বিলটির ১৪ ধারায় বলা হয়েছে : যে কোনো ব্যক্তি বিষয়টি ধারা ১৩-এর অধীনে গঠিত কমিটির গোচরে আনতে পারবেন। নৈতিকতা কমিটিও স্বেচ্ছাপ্রণোদিত হয়ে বিষয়টি বিবেচনায় নিতে পারবে। কোনো সংসদ সদস্য আইন লঙ্ঘন করলে নৈতিকতা কমিটি বিবেচনায় যেরূপ মনে করবে সেরূপ শাস্তি সম্পর্কিত রিপোর্ট সংসদে উপস্থাপন করবে।

নৈতিকতা কমিটির কার্যকাল। কমিটির কার্যকাল সম্পর্কে প্রস্তাবিত বিলটির ১৫ ধারায় বলা হয়েছে : কমিটি গঠন থেকে সংসদের মেয়াদ পর্যন্ত কমিটির কার্যক্রম বলবৎ থাকবে। প্রতি বছর নৈতিকতা কমিটি তার কার্যক্রম সম্পর্কে সংসদে প্রতিবেদন উপস্থাপন করবে। এক্ষেত্রে স্পিকার প্রতিবেদন সম্পর্কে আলোচনা ও জনসমক্ষে প্রকাশ করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন। এ আচরণবিধি সংশোধনকল্পে কমিটি যে কোনো সময় সংসদে সংশোধনী প্রস্তাব উত্থাপন করতে পারবে, তবে এরূপ প্রস্তাব অনুমোদনের জন্য সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোটের প্রয়োজন হবে।

পরিশেষে এ কথা অনস্বীকার্য, আমাদের বিরাজমান রাজনীতি আজ চরমভাবে দুর্বৃত্তায়িত। আমাদের আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত করতে, সাধারণ মানুষের বঞ্চনার অবসান ঘটাতে এবং আমাদের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে অব্যাহত রাখতে হলে, এর অবসান জরুরি। এ লক্ষ্যে আশা করি সরকারের পক্ষ থেকে ক্ষমতাধরদের সম্পদের হিসাব প্রদানের সঙ্গে সঙ্গে প্রস্তাবিত সংসদ সদস্য আচরণ আইন, ২০১০ বিলটি যথাযথ যাচাই-বাছাইয়ের পর সংসদে পাস করার উদ্যোগ নেওয়া হবে। আমরা আরও আশা করি, সংশিল্গষ্ট সংসদীয় কমিটির মাধ্যমে গণশুনানির ব্যবস্থা করে বিলটির ওপর নাগরিকদের মতামত প্রদানের সুযোগ সৃষ্টি করা হবে।

ড. বদিউল আলম মজুমদার : সম্পাদক সুজন-সুশাসনের জন্য নাগরিক

সূত্র: সমকাল, ৩ জুন ২০১০

Advertisements

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s