সুশাসন: মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ

samakal_logo

বদিউল আলম মজুমদার

গত ১৭ জুন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়ে গেল। সব পর্যবেক্ষকের মতে নির্বাচনটি সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণভাবে অনুষ্ঠিত হয়েছে, যদিও মাঝরাতে ভোট গণনা নিয়ে কিছু অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেছে, যা নির্বাচন কমিশন তদন্ত করবে বলে আমরা শুনেছি। একটি সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানে সরকারের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা প্রদানের জন্য আমরা প্রধানমন্ত্রী এবং সরকারকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করছি। একইসঙ্গে প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করছি বিজয়ী মেয়রকে, আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থীর পরাজয় সত্ত্বেও, অভিনন্দন জানানোর জন্য। আমরা বিশ্বাস করি, প্রধানমন্ত্রীর এ ধরনের পদক্ষেপ বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে সহনশীলতা ও উদারতা প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

প্রধানমন্ত্রীকে আরও ধন্যবাদ ঢাকা মহানগরের জন্য ‘ডিটেইল্ড এরিয়া পল্গ্যান’ বা (ড্যাপ) মন্ত্রিসভায় অনুমোদনের এবং দ্রুততার সঙ্গে তা গেজেট আকারে প্রকাশের জন্য। ভূমিদস্যু এবং স্বার্থান্বেষীদের মারমুখো অবস্থান সত্ত্বেও, এ ব্যাপারে উদ্যোগী ভূমিকা নেওয়া, বিষয়টির প্রতি তার নিজের ও সরকারের আন্তরিকতারই প্রতিফলন। আমরা বিশ্বাস করি, ড্যাপের যথাযথ বাস্তবায়নের মাধ্যমে ঢাকা মহানগরকে ইট-কংক্রিটের জঙ্গলে পরিণত হওয়া থেকে বিরত রাখা যাবে এবং আমাদের ভবিষ্যৎ বংশধরদের জন্য বাসযোগ্য করা সম্ভব হবে।

প্রধানমন্ত্রী ও সরকার আরও ধন্যবাদ পাওয়ার যোগ্য, পোশাকশিল্প কারখানাগুলোকে কেন্দ্র করে যে অরাজক পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছিল তা নিরসনে তড়িৎ ভূমিকা নেওয়ার জন্য। গত সপ্তাহে আশুলিয়া এলাকায় যে বিশৃঙ্খল ও ধ্বংসাত্মক কার্যক্রম চলছিল তা অব্যাহত থাকলে আমাদের তৈরি পোশাকশিল্প অস্তিত্বের সংকটে নিপতিত হতো। একইসঙ্গে মালিকদের পক্ষ থেকে ঢালাওভাবে কারখানাগুলো বন্ধ করে দেওয়া অনেক নিরপরাধ কর্মজীবী মানুষ, বিশেষত নারীদের জিম্মি নেওয়ারই শামিল ছিল। সরকারের নেপথ্য ভূমিকার ফলেই সমস্যার আপাতত সমাধান এবং এর স্থায়ীভাবে নিরসনের পথ সুগম হয়েছে বলে আমাদের বিশ্বাস।

প্রধানমন্ত্রীর নিজের এবং সরকারের পক্ষ থেকে গৃহীত এসব উদ্যোগ কাঙ্ক্ষিত ও গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু সত্যিকারের ‘দিনবদল’ করতে হলে_ যে অঙ্গীকারের ভিত্তিতে গত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এদেশের জনগণ আওয়ামী লীগকে বিপুল ভোটে জয়ী করেছে_ উপরিউক্ত তিনটি ক্ষেত্রেই আরও অনেক গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ নিতে হবে। আশা করি, সেসব উদ্যোগ আমরা সরকারের পক্ষ থেকে দেখতে পাব।

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচন আইনের বিধানানুযায়ী যথাসময়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে, যা করতে দেওয়ার জন্য সরকার ধন্যবাদ পাওয়ার যোগ্য। তবে আরও অনেক স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের মেয়াদ বহু আগেই শেষ হয়ে গিয়েছে এবং এসব প্রতিষ্ঠানের নির্বাচিত প্রতিনিধিরা এখন ‘লেইম ডাক’ বা খোঁড়া হাঁসে পরিণত হয়েছে। স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলো মূলত সেবাধর্মী প্রতিষ্ঠান এবং জনগণ মেয়াদোত্তীর্ণ প্রতিষ্ঠানগুলো থেকে প্রয়োজনীয় ও যথাযথ সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। একইভাবে নির্বাচন না হলে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানও গড়ে ওঠে না, যা গড়া আমাদের সাংবিধানিক অঙ্গীকার। এছাড়াও দিনবদলের সনদের মাধ্যমে দল হিসেবে আওয়ামী লীগ এবং প্রধানমন্ত্রী নিজে (দেখুন, দারিদ্র্য দূরীকরণ : কিছু চিন্তাভাবনা, আগামী প্রকাশনী, ১৯৯৫) স্থানীয় সরকার ব্যবস্থাকে শক্তিশালী, কার্যকর ও জনসম্পৃক্ত করার লক্ষ্যে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

ঢাকা সিটি করপোরেশনের মেয়াদ অনেক দিন থেকেই উত্তীর্ণ হয়ে গিয়েছে। এ নির্বাচন দ্রুত হওয়া জরুরি। নতুন করে জনগণের ম্যান্ডেটপ্রাপ্ত নগরপিতা এবং কাউন্সিলরদের পক্ষে ঢাকা মহানগরকে জঞ্জালমুক্ত ও বাসযোগ্য করার ব্যাপারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা সম্ভব হবে। এ জন্য অবশ্য নির্বাচিত প্রতিনিধিদের প্রয়োজনীয় স্বাধীনতা ও ক্ষমতা দিতে হবে। এ জন্য আরও দিতে হবে করপোরেশনকে অন্যান্য সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানের ওপর তত্ত্বাবধান করার ক্ষমতা, যা ‘সিটি গভর্নমেন্ট’ ধারণা হিসেবে পরিচিত। আমরা বিশ্বাস করি না যে, ঢাকা সিটি করপোরেশনকে সরকারের পক্ষ থেকে সম্পদ দিতে হবে_ বস্তুত যথাযথভাবে কর ধার্য করে তা সততার সঙ্গে আদায় করার ব্যবস্থা নিলে ঢাকা মহানগরের জন্য উদ্বৃত্ত বাজেট করা সম্ভব হবে বলে আমাদের বিশ্বাস।

গণমাধ্যমের রিপোর্ট থেকে আমরা শুনেছি, বিদ্যুৎ, পানি, গ্যাস ইত্যাদি সমস্যার কারণে যে জনদুর্ভোগ সৃষ্টি হয়েছে, তা থেকে সৃষ্ট জনরোষ এড়াতে সরকার বর্তমান বছরের প্রথম দিকে ঢাকা সিটি করপোরেশন নির্বাচন অনুষ্ঠান থেকে বিরত থাকে। সরকার প্রত্যেকটি নির্বাচনকে_ স্থানীয় হোক বা জাতীয় হোক_ মর্যাদার লড়াই হিসেবে নেওয়ার ফলেই এ ধরনের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে বলে আমাদের ধারণা। আমরা মনে করি, প্রত্যেকটি নির্বাচনকে এভাবে দেখা সঠিক নয়। সত্যিকারের গণতান্ত্রিক শাসন কায়েমে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ একটি রাষ্ট্রে বিভিন্ন সময় বহু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে_ এটাই স্বাভাবিক। নির্বাচন ‘রুটিন’ বিষয়ে পরিণত হলেই সুষ্ঠু নির্বাচনের পথ সুগম হবে এবং গণতন্ত্র কার্যকারিতা লাভ করবে। আর নির্বাচন রুটিন বিষয়ে পরিণত হলেই নির্বাচনের সঙ্গে মর্যাদার লড়াই যুক্ত হবে না এবং সরকারের মেয়াদকালে কোনো নির্বাচনে সরকার হারবে, কোনোটিতে আবার জিতবে, তাতে কিছু আসবে যাবে না। নির্বাচনের লক্ষ্যই হলো জনগণের সম্মতি নেওয়া এবং ছলে-বলে-কলে-কৌশলে নির্বাচনে জেতার প্রচেষ্টা গণতন্ত্রের ধারণার সঙ্গে সম্পূর্ণ অসঙ্গতিপূর্ণ।

ইউনিয়ন পরিষদের মেয়াদও উত্তীর্ণ হয়ে গিয়েছে। আরও মেয়াদ উত্তীর্ণ হয়েছে অনেক পৌরসভার। জরুরি ভিত্তিতে এগুলোর নির্বাচন অনুষ্ঠান আবশ্যক। বস্তুত একটি নির্বাচিত সরকার সংবিধানের (অনুচ্ছেদ ৫৯) নির্দেশনামতো সব প্রশাসনিক একাংশ বা স্তরে নির্বাচনের আয়োজন করবে না, তা ভাবাই কষ্টকর। উপরন্তু সংবিধানের ১১ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, ‘প্রজাতন্ত্র হইবে একটি গণতন্ত্র…।’ নির্বাচন ছাড়া এবং প্রশাসনের সব স্তরে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের শাসন প্রতিষ্ঠিত না হলে রাষ্ট্রে গণতান্ত্রিক শাসন কায়েম হয় না।

শুধু মেয়াদোত্তীর্ণ স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোতে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলেই হবে না, জেলা পরিষদেরও নির্বাচন করা জরুরি। আমাদের সংবিধান শুধু প্রশাসনের সব একাংশে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের শাসন প্রতিষ্ঠার বাধ্যবাধকতাই সৃষ্টি করেনি, জেলাকে প্রশাসনিক একাংশ হিসেবে সংজ্ঞায়িতও করেছে [অনুচ্ছেদ ১৫২(১)]। দুর্ভাগ্যবশত ১৯৭২ সালে সংবিধান প্রণীত হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত জেলা পরিষদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়নি। অর্থাৎ আমাদের প্রত্যেকটি সরকার_ ১৯৭৪ থেকে ১৯৯১ ব্যতীত, যখন সংবিধানের ৫৯ অনুচ্ছেদ রহিত ছিল_ জেলা পরিষদের নির্বাচন না করে সংবিধানকে লঙ্ঘন করেছে। জেলা পর্যায়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক কাঠামো রয়েছে এবং জেলা পরিষদের নামে উলেল্গখযোগ্য পরিমাণের বাজেটও বরাদ্দ হয়, যদিও নির্বাচন না হওয়ার ফলে জেলা পরিষদ কখনও গঠিত হয়নি।

প্রায় দেড় বছর আগে উপজেলা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে, কিন্তু আজও তা কার্যকর হয়নি। বরং সংসদ সদস্যদের উপজেলা পরিষদের ওপর কর্তৃত্ব প্রদানের মাধ্যমে সংবিধানই শুধু পদদলিত হয়নি, এর মাধ্যমে উপজেলা পর্যায়ে একটি চরম দ্বন্দ্বাত্মক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। ফলে সরকারের উন্নয়ন কার্যক্রমও দারুণভাবে ব্যাহত হচ্ছে। এছাড়াও সব মন্ত্রণালয় থেকে বিভিন্ন ধরনের, অনেক ক্ষেত্রে পরস্পরবিরোধী, সার্কুলার জারি করে পরিস্থিতি আরও ঘোলাটে করা হচ্ছে। সর্বোপরি সরকার নিজ দলের চার সহস্রাধিক উপজেলা চেয়ারম্যান-ভাইস চেয়ারম্যানকে, যাদের অধিকাংশই তৃণমূল পর্যায়ের দলীয় নেতা, উপেক্ষা করে প্রায় তিনশ’জন দলীয় এমপিকে ক্ষমতায়িত করার যে আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত নিয়েছে তার প্রভাব আগামী নির্বাচনে পড়তে বাধ্য। এ বিষয়েও প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি প্রদান জরুরি বলে আমরা মনে করি।

তৈরি পোশাকশিল্পের কথায় আসা যাক। এ শিল্পকে কেন্দ্র করে সাল্ফপ্রতিককালে যে অস্থিতিশীলতার সৃষ্টি হয়েছে তার পেছনে অনেক জটিল কারণ রয়েছে। এক্ষেত্রে যদি কোনো চক্রান্ত থেকে থাকে, যা নিয়ে প্রায়ই অভিযোগ শোনা যায়, তা উদ্ঘাটন করা এবং চক্রান্তকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া সরকারের দায়িত্ব। তবে পোশাক শিল্পকে কেন্দ্র করে অস্থিরতার একটি বড় কারণ হলো শ্রমিকদের প্রদত্ত মজুরির অপ্রতুলতা। আমাদের জানামতে, পোশাক শিল্পে সাতটি মজুরি স্তর রয়েছে, যার সর্বনিম্ন স্তর হলো মাসিক ১৬৬২ টাকা। এ সামান্য অর্থ দিয়ে একটি পরিবারের তো দূরের কথা, একজন ব্যক্তির পক্ষেও ভদ্রোচিত জীবনযাপন করা সম্ভব নয়। বস্তুত একটি মধ্যবিত্ত পরিবারের কোনো রেস্টুরেন্টে একবেলা খাবারের জন্যও এর চেয়ে বেশি পরিমাণ অর্থ ব্যয় করতে হয়। তাই পোশাকশিল্পে সর্বনিম্ন মজুরি ব্যাপকভাবে বাড়ানো জরুরি, যাতে প্রত্যেক শ্রমিক পরিবার তাদের অর্জিত আয় দিয়ে একটি মর্যাদাপূর্ণ জীবনযাপনের সুযোগ পায়। আশা করি মালিক পক্ষ মনে রাখবে যে, পোশাকশিল্পের বিকাশ ও বর্তমান প্রাচুর্য লাখ লাখ শ্রমিকের মাথার ঘাম পায়ে ফেলে অর্জিত এবং এ শিল্প মন্দা প্রতিরোধে সরকারের ঘোষিত প্রণোদনা প্যাকেজ থেকে ও অন্যান্যভাবে হাজার হাজার কোটি টাকা সহায়তা এবং ভর্তুকি পেয়ে থাকে। আমাদের শিল্প মালিকদের আজ স্মরণে আনতে হবে মোটরযান শিল্পের পথিকৃৎ হেনরি ফোর্ডের গত শতাব্দীর ত্রিশ দশকের সে বিখ্যাত উক্তি_ আমি দেখতে চাই সব পরিবারের হাঁড়িতে মুরগি এবং পরিবারের গ্যারেজে মডেল-টি গাড়ি_ যে আকাঙ্ক্ষার ভিত্তিতে তিনি তার শ্রমিকদের মজুরি নির্ধারণ করেছিলেন। এক্ষেত্রেও প্রধানমন্ত্রীর মনোযোগ জরুরি।

ড্যাপ নিয়ে পূর্তমন্ত্রীর সভাকক্ষে যে অশোভন নাটক সল্ফপ্রতি অনুষ্ঠিত হয়েছে তা অনেক নাগরিকের কাছে আরেকটি বিষয় সুস্পষ্ট করেছে_ আমাদের কিছু কিছু সংসদ সদস্য বিধিবহির্ভূতভাবে বিভিন্ন সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য হয়েছেন। যেমন, আমাদের জানামতে পূর্ত মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটিতে একাধিক সদস্য আছেন যারা আবাসন শিল্পের সঙ্গে জড়িত এবং ‘গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের কার্যপ্রণালিবিধি’ অনুযায়ী তাঁরা ওই কমিটির সদস্য হতে পারেন না। কার্যপ্রণালিবিধির ১৮৮ ধারা অনুযায়ী : ‘সংসদে গৃহীত প্রস্তাব মোতাবেক কমিটির সদস্যগণ নিযুক্ত হইবেন। (২) এমন কোন সদস্য কমিটিতে নিযুক্ত হইবেন না, যাহার ব্যক্তিগত, আর্থিক ও প্রত্যক্ষ স্বার্থ কমিটিতে বিবেচিত হইতে পারে এমন বিষয়ের সহিত সংশিল্গষ্টতা আছে। কিংবা কোন কমিটিতে কাজ করিতে অনিচ্ছুক সদস্যকেও অনুরূপ কমিটিতে নেওয়া যাইবে না। প্রস্তাবককে অবশ্যই জানিয়া লইতে যে, তিনি যে সদস্যের নাম প্রস্তাব করিবেন, সেই সদস্য অনুরূপ কমিটিতে কাজ করিতে রাজি আছেন।’ আমাদের ধারণা যে, কার্যপ্রণালিবিধিও সংসদ কর্তৃক গৃহীত এবং আইন সমতুল্য।

আমাদের জানামতে, আরও কিছু কমিটিতেও এ ধরনের বিধিবহির্ভূত সদস্য রয়েছেন। আমরা আশা করি, সংসদ নেত্রী হিসেবে প্রধানমন্ত্রী ও সংসদের অভিভাবক হিসেবে স্পিকার এ ব্যাপারে জরুরি ভিত্তিতে ব্যবস্থা নেবেন। একইসঙ্গে আমরা আশা করি, সরকার সংসদ সদস্য ও মন্ত্রিপরিষদের সদস্যদের জন্য একটি আচরণবিধি প্রণয়নের লক্ষ্যে দ্রুততার সঙ্গে উদ্যোগ নেবে, যাতে নাগরিকরা ক্ষমতাধরদের স্বার্থসংশিল্গষ্ট বিষয়ে জানতে পারে। উলেল্গখ্য, দিনবদলের সনদে এ ধরনের একটি আচরণবিধি প্রণয়নের সুস্পষ্ট অঙ্গীকার রয়েছে। এছাড়াও শোনা যায়, আমাদের কিছু কিছু সংসদ সদস্য সরকারের সঙ্গে ব্যবসায়িক সম্পর্কে লিপ্ত হয়েছেন, গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (সংশোধন) আইন অনুযায়ী, যা সংসদ সদস্য হওয়ার জন্য একটি সুস্পষ্ট অযোগ্যতা_ অর্থাৎ এসব ব্যক্তি সংসদ সদস্য থাকতে পারেন না। আশা করি, প্রধানমন্ত্রী ও অন্যান্য কর্তৃপক্ষ এ বিষয়েও দৃষ্টি দেবেন।

ড. বদিউল আলম মজুমদার : সম্পাদক ‘সুজন-সুশাসনের জন্য নাগরিক’

সূত্র: সমকাল, ১ জুলাই ২০১০

Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s