‘পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার সুস্থ পরিবেশ’ শীর্ষক গোলটেবিল আলোচনা অনুষ্ঠিত

গত ২৪ জুন, ২০১০ সকাল ১০টায় জাতীয় প্রেসক্লাবের ভিআইপি লাউঞ্জে ‘পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার সুস্থ পরিবেশ’ শীর্ষক এক গোলটেবিল আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। ‘সুজন-সুশাসনের জন্য নাগরিকে’র আয়োজনে অনুষ্ঠিত এ গোলটেবিল আলোচনায় জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজী বিভাগের অধ্যাপক শফি আহমেদ এবং ‘সুজন’ সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার লিখিত দু’টি মূল প্রবন্ধ পরপর উপস্থাপিত হয়।

আমাদের শিক্ষাঙ্গনে সুশিক্ষার জন্য, শিক্ষার পরিবেশ ফিরিয়ে আনার জন্য আন্দোলন হতে হবে এবং ছাত্রদের পাশাপাশি অভিভাবকদেরও এজন্য সোচ্চার হতে হবে উল্লেখ করে সভাপতির বক্তব্যে ‘সুজন’ সভাপতি অধ্যাপক মোজাফ্ফর আহমদ বলেন, আগেকার সময়ে আমরা ছাত্র বা শিক্ষকদের মধ্যে কোনো বিলাসিতা দেখিনি সে সময় শিক্ষকদের পাওয়া যেতো এবং তাদের সাদা-মাটা জীবন ছিল। কিন্তু দেশের অন্যতম বিশ্ববিদ্যালয়ের দিকে তাকালে বর্তমানে সিস্টেমিক ফেইলিউর-ই বিশেষভাবে দৃশ্যমান হয়ে ওঠে। ছাত্র-শিক্ষক সম্পর্কও আজ আর তেমনভাবে খুঁজে পাওয়া যায় না। শিক্ষকের দায়িত্ব ছাত্রকে জ্ঞানার্জনে উদ্দীপ্ত করা, কিন্তু বর্তমানে এখন আর তা নেই। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হলের প্রসঙ্গ তুলে ধরে তিনি বলেন, এতো ছাত্র ভর্তি হওয়ায় আমরা শিক্ষার পরিবেশ বিনষ্ট করেছি। এভাবে তাদের এনে থাকতে দেয়ার কোনো অর্থ হয় না। প্রয়োজনে ঢাকার বাইরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাস হতে পারে। ছাত্ররা প্রাথমিকভাবে ভর্তি হয় হলে, একটা ছাত্রকে হলের পরিবেশ শুধু তাকে বইয়ের মধ্যে আটকে না রেখে নেতৃত্ব গঠন ও বিকাশের জায়গা তৈরি করে দিতো। হলে থাকাটা আগে গৌরবের ছিল কিন্তু আজকে সে গৌরব বা কৃতিত্ব কোথায়? আমরা প্রতিষ্ঠানগুলো নষ্ট করেছি এজন্য দায়ী আমরাই। তিনি বলেন, সুস্থ শিক্ষার পরিবেশ গড়ে তোলার বিষয়টি আমাদের দেশের ভবিষ্যত গড়ে তোলার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়, ফলে এ বিষয়টি অবহেলা করে দেখলে চলবে না।

বর্তমানে সরকারি অর্থায়নে পরিচালিত বিশ্ববিদ্যালয়সমূহে শিক্ষাদান বা গ্রহণের সুস্থ পরিবেশ বিষয়ে জনমনে সংশয় দেখা দিয়েছে উল্লেখ করে অধ্যাপক আহমেদ লিখিত মূল প্রবন্ধে বলেন, সব পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে আমরা শিক্ষার সুস্থ পরিবেশ চাই। এ বিষয়ে কোনো দ্বিমত থাকতে পারে না। কিন্তু বিগত প্রায় পাঁচ দশকের মত সময়ের ব্যাপ্তিতে ধ্র“পদী অর্থে ‘সুস্থ পরিবেশ’ ছিল কি-না তা নিরীক্ষা করার দরকার আছে। সাম্প্রতিক সময়ে সংঘটিত বাংলাদেশ প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধের উদাহরণ তুলে ধরে তাঁর লিখিত মূল প্রবন্ধে বলা হয়, বিশ্ববিদ্যালয়সমূহে শিক্ষার সুস্থ পরিবেশ রাখার দায়িত্ব সরকারের। তিনি বলেন, সুস্থ পরিবেশ না থাকলে তার দায়ভার সরকারকেই নিতে হবে। আমাদের রাজনৈতিক সংস্কৃতির সংস্কার-এর ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করে তাঁর প্রবন্ধে আরো বলা হয় Ñ বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে সম্পূর্ণ রাজনীতি-নির্ভরতা থেকে সরিয়ে আনতে না পারলে ভবিষ্যতে শিক্ষার সুস্থ পরিবেশ বলতে যা বুঝি, তা প্রতিষ্ঠা করা যাবে বলে ভরসা করা যায় না। পারস্পরিক সহনশীলতা, শ্রদ্ধাবোধ এবং দেশের বৃহত্তর স্বার্থরক্ষায় সহযোগিতার মনোভাব তৈরি না হলে বিশ্ববিদ্যালয়কে আলাদা করে ‘পবিত্র বিদ্যাপীঠ’ তৈরি করা যাবে না বলেও তাঁর প্রবন্ধে উল্লেখ করা হয়। উল্লেখ্য যে, অধ্যাপক শফি আহমেদের অনুপস্থিতিতে তাঁর পক্ষে প্রবন্ধটি উপস্থাপন করেন ড. বদিউল আলম মজুমদার।

আমি সেই ছাত্র-রাজনীতির পক্ষে যে রাজনীতি অন্যায় কর্মকাণ্ডের জন্ম দেবে না, যে রাজনীতি শিক্ষাঙ্গনে সুস্থ পরিবেশ নিশ্চিত করবে, আমি মনে করি আইনের সুষ্ঠু প্রয়োগের মাধ্যমেই এটা সম্ভব উল্লেখ করে ড. বদিউল আলম মজুমদার মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করতে গিয়ে বলেন, ছাত্ররাজনীতি আজ চরমভাবে দুর্দশাগ্রস্থ। এ অবস্থা থেকে উত্তরণের জন্য প্রয়োজন জরুরিভিত্তিতে লেজুড়বৃত্তির ছাত্ররাজনীতির অবসান, যা করার জন্য জাতীয় সংসদে আইনও পাশ করা হয়েছে। গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (সংশোধিত) আইন, ২০০৯  প্রয়োগ করলে আইনের শাসনও প্রতিষ্ঠিত হবে এবং একইসাথে শিক্ষাঙ্গনে অরাজকতা অবসানের পথও সুগম হবে। আর তা হলেই দেশে ছাত্রদের স্বার্থে পরিচালিত সংসদকেন্দ্রীক সুস্থ ছাত্ররাজনীতি গড়ে ওঠার সুযোগ সৃষ্টি হবে। তিনি বলেন, ছাত্রনেতা-নেত্রীদেরকে ফায়দা প্রদানের অপসংস্কৃতির ফলে রাজনৈতিক দলের ক্ষমতার লড়াই আজ শিক্ষাঙ্গন পর্যন্ত বিস্তৃতি লাভ করেছে। রাজনৈতিক দলগুলোর পরস্পরের প্রতি অসহিষ্ণুতা এবং তাদের মধ্যে দ্বন্দ্ব ও হানাহানি ছাত্র-ছাত্রীদের মধ্যেও সংক্রমিত হয়েছে। ছাত্র-ছাত্রীরা বিভক্ত হয়ে পড়েছে। ফলে বর্তমান প্রেক্ষাপটে জাতির ক্রান্তিলগ্নে ছাত্র-ছাত্রীদের পক্ষে ঐক্যবদ্ধ হয়ে বায়ান্ন, ঊনসত্তর, একাত্তর ও নব্বইয়ের মতো বিশাল কিছু অর্জন করা সম্ভব হবে না। বিশ্ববিদ্যালয়ে এখন আর ‘শিক্ষক’ নিয়োগ হয় না, নিয়োগ হয় নীল-সাদা দলের ‘ভোটার’ বলেও এ সময় তিনি মূল প্রবন্ধে অভিযোগ করেন। তিনি বলেন, এর ফলে আমাদের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে জ্ঞান ও মুক্তবুদ্ধির চর্চা চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে, যা জাতি হিসেবে আমাদেরকে পেছনে টেনে রাখছে। টিআইবি’র চেয়ারম্যান এবং তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা জনাব এম হাফিজউদ্দিন খান বলেন, আগেকার যে ছাত্র-রাজনীতি ছিল তার সাথে এখনকার পরিবেশ সম্পূর্ণই আলাদা। পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার সুস্থ পরিবেশ এখন নেই। কেন নেই? এজন্য কি ছাত্ররাই শুধু দায়ী, তা তো নয়। এজন্য দায়ী হলো আমাদের কলুষিত রাজনীতি এবং আমাদের রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ। তারা সকলে মিলেই সামগ্রিকভাবে এ ধরনের পরিবেশ সৃষ্টি করেছে। এজন্য রাজনীতির সংস্কার আগে প্রয়োজন বলে তিনি মন্তব্য করেন। অনুষ্ঠানের সঞ্চালক বিশিষ্ট কলামিস্ট ও গবেষক সৈয়দ আবুল মকসুদ তাঁর বক্তব্যে বলেন, বর্তমানে আমরা রাজনীতি ও অর্থনীতি নিয়ে কথা বলি সব জায়গাতেই শিক্ষাঙ্গনের কথা চলে আসে। একইসঙ্গে আসে শিক্ষক রাজনীতি ও শিক্ষাঙ্গনের পরিবেশের কথা। তিনি বলেন, যৌন হয়রানি, ইভটিজিংসহ নানা বিষয় মিলিয়ে আজ শিক্ষাঙ্গনসমূহে এক অসুস্থ পরিবেশ বিরাজ করছে। ফলে এই বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করা ও পদক্ষেপ নেয়াটা সবচেয়ে জরুরি। ছাত্র রাজনীতির গৌরবময় ঐতিহ্য তুলে ধরে ডাকসু’র সাবেক ভিপি অধ্যাপক মাহফুজা খানম তাঁর বক্তব্যে বলেন, তখন ছাত্ররাজনীতি কমিটেড ছিল, ছাত্ররা তখন একটি আধুনিক দেশ গড়তে চেয়েছিল। এই রাজনীতি দেশের মানুষকে একটা উন্নততর জীবনের আকাক্সক্ষা দেখাতে চেয়েছিল। যার মধ্য দিয়েই ক্রমে মুক্তিযুদ্ধ এসেছিল। তিনি মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় ফিরে যাবার আহ্বান রেখে বর্তমান প্রজন্মকে, তরুণ সমাজকে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় গড়ে তুলতে হবে বলে মত পোষণ করেন। এ সময় বর্তমানের ছাত্ররাজনীতিকে তিনি অপছাত্ররাজনীতি হিসেবে চিহ্নিত করে বলেন, বর্তমানে ছাত্র সংসদ নেই বিধায় ছাত্র-ছাত্রীরা তাদের উদ্বৃত্ত সময়গুলোকে যথাযথভাবে কাজে লাগানোর সুযোগ পাচ্ছে না। এক্ষেত্রে সরকার ও শিক্ষকদের বড় দায়িত্ব রয়েছে বলে তিনি অভিমত পোষণ করেন। পঞ্চাশের দশকের রাজনীতি ছিল নীতিভিত্তিক তখন লেজুরবৃত্তি ছিল না উল্লেখ করে সে সময়ের ছাত্রনেতা ও প্রাইভেটাইজেশন কমিশনের সাবেক চেয়ারম্যান জনাব এনাম আহমেদ চৌধুরী তাঁর বক্তব্যে বলেন, এটা অত্যন্ত লজ্জাকর বিষয় যে, পবলিক
িশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা বর্তমানে পালিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। বর্তমান অবস্থা একটা অসহনীয় পর্যায়ে এসে দাঁড়িয়েছে। রাজনৈতিক দলগুলোকে এজন্য দায়িত্ব গ্রহণের আহ্বান ও সরকারের জোরালো পদক্ষেপ প্রত্যাশা করে তিনি বলেন, যে আইন হয়েছে সে আইনের প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে। সম্মিলিতভাবে এজন্য কাজ করার প্রয়োজন রয়েছে বলেও এ সময় তিনি মন্তব্য করেন।

সত্তর ও আশির দশকের স্বৈরাচারী বিরোধী আন্দোলনের তুখোড় ছাত্রনেতা জনাব মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, ছাত্ররা যদি না থাকতো তাহলে এতো বড় গৌরবময় ইতিহাস কখনোই আমাদের তৈরি হতো না, তাই আমি ছাত্র-রাজনীতির বিপক্ষে কখনোই নই। বিভিন্ন উদাহরণ তুলে ধরে তিনি বলেন, বর্তমানে ছাত্ররা ছাত্র-রাজনীতি পছন্দ করছে না, তারা সামাজিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ করতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করছে আবার অনেকে বাইরে চলে যেতে আগ্রহী। তাই আমাদেরকে খুবই গভীরভাবে ভাবা দরকার ছাত্রসমাজকে আমরা কোন পথে পরিচালিত করব। সামগ্রিকভাবে চিন্তা করে রাজনৈতিক দলগুলোকে আজ ছাত্রসমাজের মূল্যবোধের ইতিবাচক পরিবর্তন আনার জন্য ব্যবস্থা নিতে হবে। কমিউনিস্ট পার্টির নেতা জনাব রুহিন হোসেন প্রিন্স বলেন, বর্তমানে ছাত্র আন্দোলনে কোন চর্চাটা করব এবং কোনটা করছি এটা বিবেচনা করা দরকার। বর্তমানে আদর্শ চর্চার চাইতে আর্শিবাদ চর্চাটাই যেন বড় হয়ে দাঁড়িয়েছে। যা কখনোই কাক্সিক্ষত হতে পারে না। অঙ্গ সংগঠন ছাত্র রাজনীতিতে থাকার কোনো কারণ নেই কিন্তু অঙ্গ সংগঠন থাকলেই সব শেষ হয়ে গেল এটা একটা মিথ এবং এই মিথটা ভাঙ্গা দরকার বলেও তিনি মত পোষণ করেন। এ সময় তিনি ছাত্ররাজনীতিকে বাংলাদেশের ঐতিহ্য অনুযায়ী ছাত্রআন্দোলনের ধারায় ফিরিয়ে আনার আহ্বান জানান। তথ্য কমিশনের সদস্য ড, সাদেকা হালিম বলেন, হাইকোর্টের ডিরেক্টিভস্ অনুযায়ী বিশ্ববিদ্যালয়ে যৌন হয়রানি বন্ধে যে কমিটি গঠন হওয়ার কথা তা এখনো কোনো বিশ্ববিদ্যালয়েই কার্যকর হয়ে ওঠেনি। বাংলাদেশ জাসদ সমর্থিক ছাত্রলীগের সভাপতি জনাব হোসেন আহমেদ তফছির ডাকসু’র নির্বাচনের দাবি পুনর্উত্থাপন করে বলেন, সকল শুভবুদ্ধির মানুষকে ছাত্ররাজনীতির গৌরব ফিরিয়ে আনার জন্য কাজ করা প্রয়োজন। রাজনৈতিক ব্যবস্থার দুর্বত্তায়ন ও রাজনৈতিক ব্যবস্থার বিরাজনীতিকরণের কারণেই পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার সুস্থ পরিবেশ হারিয়ে যাচ্ছে বলে উল্লেখ করেন, বাংলাদেশ ছাত্র মৈত্রীর সভাপতি জনাব বাপ্পাদিত্য বসু। এছাড়া ছাত্ররা এখন ছাত্ররাজনীতি করার উৎসাহ হারিয়ে ফেলেছে বলেও তিনি মত পোষণ করেন। শিক্ষক রাজনীতির নানা উদাহরণ তুলে ধরে বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক জনাব ফেরদৌস আহমেদ উজ্জ্বল প্রশ্ন উত্থাপন করে বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা অধঃপতনের জায়গায় চলে গেলে, ছাত্ররা কী করবে? এ সময় তিনি সুস্থ ধারার ছাত্র আন্দোলনের উদাহরণসমূহ তুলে ধরার জন্য প্রয়োজনীয় পৃষ্ঠপোষকতা এবং মিডিয়ার ভূমিকা বিশেষভাবে প্রত্যাশা করেন। এছাড়া আলোচনায় অন্যান্যের মধ্যে আরো বক্তব্য রাখেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. আব্দুল লতিফ, প্রফেসর মাহবুবা নাসরিন, খেলাঘর আসরের সাধারণ সম্পাদক ড. লেনিন চৌধুরী, প্রাক্তন রাষ্ট্রদূত মিসেস নাসিম ফেরদৌস, সরকারি রাজেন্দ্র কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ প্রফেসর কামাল আতাউর রহমান প্রমুখ।

Advertisements