রোগ সারাতে হলে রোগের কারণ নির্ণয় করতে হবে


বদিউল আলম মজুমদার

দলের স্থবিরতা ও বিশৃঙ্খলা এবং সুশাসন প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে সরকারের অসফলতাও এ ক্ষেত্রে ভূমিকা রেখেছে। ক্ষমতাসীন দলের পক্ষ থেকে তাদের নিজেদের স্বার্থে এবং সত্যিকারের দিনবদলের লক্ষ্যে এসব ও অন্যান্য কারণ গভীরভাবে বিশ্লেষণ এবং তা থেকে শিক্ষা গ্রহণ আজ অতি জরুরি।

পৌর নির্বাচনে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের আশানুরূপ সফলতা অর্জন না হওয়ার কারণ নিয়ে অনেক জল্পনা-কল্পনা চলছে। প্রতিদ্বন্দ্বী দলগুলোর পক্ষ থেকে এবং বাইরের বিশ্লেষকরাও ফলাফলের নেপথ্যের কারণ সম্পর্কে বিভিন্ন ধরনের ব্যাখ্যা দিচ্ছেন। অনেকেই দলের বিদ্রোহী প্রার্থীদের দোষারোপ করছেন। সাম্প্রতিক একটি রিপোর্ট অনুযায়ী, বিদ্রোহীদের কারণে আওয়ামী লীগের ৩৭ মেয়র প্রার্থী হেরেছেন (সমকাল, ২৪ জানুয়ারি ২০১১)। শুধু কি বিদ্রোহী প্রার্থীর কারণেই এমন বিপর্যয় ঘটেছে?

অবশ্যই অনেক পৌরসভায় আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থীরা মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন। যেমনিভাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থীরাও। তাই শুধু বিদ্রোহী প্রার্থীর কারণে পৌর নির্বাচনের ফলাফলে আওয়ামী লীগ আশানুরূপ সাফল্য দেখাতে পারেনি, তা বলা সঠিক হবে না। বিদ্রোহী প্রার্থীর উপস্থিতি উভয় দলের নির্বাচনী ফলাফলকেই প্রভাবিত করেছে।

এছাড়া বিদ্রোহী প্রার্থীর প্রতিদ্বন্দ্বিতা রোগের উপসর্গ মাত্র, মূল কারণ নয়। একটি মূল কারণ হলো, প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি ছাড়াই হুট করে দলভিত্তিক পৌরসভা নির্বাচন অনুষ্ঠানের সিদ্ধান্ত, যার পরিণতি দলের মনোনয়ন প্রক্রিয়ার ত্রুটি ও অনিয়ম। আওয়ামী লীগের আশানুরূপ ফল অর্জন না করার পেছনে অবশ্য আরও কারণ রয়েছে। তাই রোগ সারাতে হলে এর উপসর্গের পরিবর্তে মূল কারণ নির্ণয় এবং তার প্রতিকারের উদ্যোগ নেওয়া জরুরি।

বহুদিন থেকেই আমাদের স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোর নির্বাচন নির্দলীয়ভাবে হয়ে আসছে, যদিও প্রচলিত বিধিবিধান অমান্য করে আমাদের প্রধান রাজনৈতিক দলগুলো দলীয়ভাবে প্রার্থী নির্ধারণের প্রচেষ্টা থেকে বিরত থাকেনি। তবে এবারই প্রথম আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে দলভিত্তিক পৌর নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসে। এ ব্যাপারে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে কোনোরূপ আলাপ-আলোচনা করা হয়নি এবং এর স্বার্থ-সংশ্লিষ্টদের মতামতও গ্রহণ করা হয়নি। একইসঙ্গে দলভিত্তিক নির্বাচনের জন্য প্রয়োজনীয় বিধিবিধানও তৈরি করা হয়নি।

একটি খেলার জন্য যেমন নিয়মকানুনের দরকার হয়, তেমনি নির্বাচনী খেলার ক্ষেত্রেও বিধিবিধানের প্রয়োজন পড়ে। নির্বাচন দলভিত্তিক হলে দলের মনোনয়ন প্রক্রিয়া সম্পর্কেও যথাযথ আইনি বিধানের প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয়। যেমন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মনোনয়নের ক্ষেত্রে দলের তৃণমূলের সদস্যদের মতামতের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

প্রসঙ্গত, গত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে নির্বাচন কমিশনের উদ্যোগে রাজনৈতিক দল ও এর স্বার্থ-সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে ব্যাপক মতবিনিময়ের ভিত্তিতে জারি করা 'গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ অধ্যাদেশে' দলের স্থানীয় কমিটিগুলোর তৈরি 'প্যানেল থেকে' মনোনয়ন চূড়ান্ত করার কথা; কিন্তু নবম জাতীয় সংসদ কর্তৃক অনুমোদিত সংশোধিত 'গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ আইন, ১৯৭২'-এর ৯০বি ধারা অনুযায়ী, দলের স্থানীয় কমিটিগুলোর তৈরি 'প্যানেল বিবেচনায় নিয়ে' দলের কেন্দ্রীয় মনোনয়ন বোর্ড মনোনয়ন চূড়ান্ত করবে। এ পরিবর্তনের ফলে দলের কেন্দ্রীয় মনোনয়ন বোর্ড মনোনয়ন চূড়ান্ত করার ক্ষেত্রে 'আমার কাজ আমি করমু, তোরে শুধু জিগ্গাই লমু' ধরনের দৃষ্টিভঙ্গি প্রদর্শন করতে পারবে। অর্থাৎ দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্য যে, সংসদ নির্বাচনে মনোনয়নের ক্ষেত্রে নবম জাতীয় সংসদ দলের স্থানীয় নেতাকর্মীদের মতামতকে গুরুত্বহীন করে ফেলেছে, যা দলের অভ্যন্তরে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের চর্চার আকাঙ্ক্ষার সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়। এ কথা বলার অপেক্ষা রাখে না যে, রাজনৈতিক দলগুলোর অভ্যন্তরে গণতন্ত্রের চর্চা না থাকলে রাষ্ট্রে কার্যকর গণতান্ত্রিক শাসন প্রতিষ্ঠা করার আশা দূরাশামাত্র।

দুর্ভাগ্যবশত, পৌর নির্বাচনে দলের মনোনয়ন কীভাবে চূড়ান্ত করা হবে, তার বিধিবিধান নির্ধারণ না করেই দলীয় ভিত্তিতে নির্বাচনের ঘোষণা দেওয়া হয়। ফলে মন্ত্রী, মন্ত্রী পদমর্যাদার ব্যক্তি, সংসদ সদস্য এবং দলের নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিদের প্রভাবেই বহুলাংশে দলীয় মনোনয়ন প্রদান করা হয়। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই দলের স্থানীয় নেতাকর্মীদের এ ক্ষেত্রে তেমন অর্থবহ ভূমিকা ছিল না। দলের মনোনয়নপ্রাপ্তদের নামের ঘোষণাও আসে কেন্দ্র থেকে। অর্থাৎ গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে পৌর মেয়র পদে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন দেওয়া হয়নি; বরং কিছু ব্যক্তির খেয়ালখুশিই এতে প্রতিফলিত হয়েছে। আর এসব ব্যক্তি বহুলাংশে পরিচালিত হয়েছেন 'কলাগাছে ভোট' দেওয়ার অতীতের মানসিকতার দ্বারা অর্থাৎ তারা যেসব প্রার্থীকে মনোনয়ন দেবেন, ভোটাররা বিনা প্রশ্নে সেসব ব্যক্তিকেই ভোট দেবে। এছাড়া আওয়ামী লীগের অভ্যন্তরেই মন্ত্রী-এমপিদের অনেকের জনবিচ্ছিন্নতার অভিযোগ উঠছে। তাই আওয়ামী লীগের মনোনয়ন নিয়ে দলে ব্যাপক অসন্তোষ সৃষ্টি হয়েছিল, বিদ্রোহী প্রার্থীর সৃষ্টি ছিল যার স্বাভাবিক পরিণতি।

জোটভিত্তিক নির্বাচনের ঘোষণাও ছিল অর্থহীন। কারণ যে ১৯টি পৌরসভার মেয়র পদ জাতীয় পার্টিকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে বলে ঘোষণা দেওয়া হয়, তার অনেকগুলোতেই আওয়ামী লীগের মনোনীত ও বিদ্রোহী প্রার্থীরা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন। যেমন_ সমঝোতার ১৯টি পৌরসভার মধ্যে ১০টিতে আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করেননি। একইভাবে আওয়ামী লীগকে ছেড়ে দেওয়া বেশ কিছু পৌরসভায় জাতীয় পার্টির প্রার্থীও সরে দাঁড়াননি (প্রথম আলো, ১১ জানুয়ারি ২০১১)। আর কিছু জায়গায় আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থীকেই জাতীয় পার্টি মনোনয়ন প্রদান করে, যা পরিস্থিতিকে আরও ঘোলাটে করেছে। এর একটি দৃষ্টান্ত রংপুরের বদরগঞ্জ পৌরসভা।

আমরা যতটুকু শুনেছি, বিএনপির মনোনয়ন স্থানীয় পর্যায় থেকেই ঘোষণা করা হয়েছে। ফলে দলের মনোনয়নে তৃণমূলের নেতাকর্মীদের মতামত অপেক্ষাকৃত বেশি প্রতিফলিত হয়েছে। তাই আওয়ামী লীগের তুলনায় বিএনপির বিজয়ী বিদ্রোহী প্রার্থীদের সংখ্যাও কম_ ইতিমধ্যে অনুষ্ঠিত ২৩৬টি পৌরসভা নির্বাচনে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থীরা ২৩টি পৌরসভার মেয়র পদে জিতলেও বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থীরা জয়ী হয়েছেন মাত্র ১১টিতে।

গণতান্ত্রিক পদ্ধতির পরিবর্তে কিছু ব্যক্তির মতামতের ভিত্তিতে মনোনয়ন প্রদানের ফলে এ ক্ষেত্রে অনেক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। এমনকি মনোনয়ন বাণিজ্যের অভিযোগও অনেকে তুলেছেন। অনিয়মের ফলে অনেক ক্ষেত্রে যথার্থ ব্যক্তিরা দলীয় মনোনয়ন থেকে বঞ্চিত হয়েছেন এবং অনেক অনাকাঙ্ক্ষিত ব্যক্তি মনোনয়ন লাভ করেছেন। যেমন_ অনেক মনোনয়নপ্রাপ্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে এমনকি হত্যা মামলা ছিল বা রয়েছে। এসবের প্রভাবও নির্বাচনের ওপর পড়তে বাধ্য।

ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যক্রমে স্থবিরতাও নির্বাচনী ফলাফলের ওপর প্রভাব ফেলেছে বলে অনেকের ধারণা। অনেকে মনে করেন, দল হিসেবে আওয়ামী লীগ সরকারের মধ্যে বিলুপ্ত হয়ে গেছে। দলের নাম ভাঙিয়ে একশ্রেণীর নেতাকর্মীর টেন্ডারবাজি, চাঁদাবাজি, দখলদারিত্ব, সন্ত্রাস ইত্যাদি অপকর্মের বাইরে তৃণমূল পর্যায়ে দলের তেমন কোনো কার্যক্রম চোখে পড়ে না। এছাড়া দলের অনেক পুরনো নেতাকর্মী, যারা বহু ত্যাগ-তিতিক্ষার বিনিময়ে আওয়ামী লীগকে দেশের বৃহত্তম রাজনৈতিক দল হিসেবে গড়ে তুলেছেন, তাদের অনেকে এখন দলে কোণঠাসা এবং হতাশ। তাই দলের স্থবিরতা, বিশৃঙ্খলা এবং অঙ্গ সংগঠনগুলোর বাড়াবাড়িও নির্বাচনী ফলাফলের ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলেছে। উপরন্তু সংবিধান লঙ্ঘন এবং আদালতের রায় উপেক্ষা করে সংসদ সদস্যদের স্থানীয় উন্নয়নের কাজে জড়িত করার ফলে তৃণমূল পর্যায়ে দলের অভ্যন্তরে যে অহেতুক দ্বন্দ্বাত্মক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে, তার প্রভাবও সাম্প্রতিক পৌরসভা নির্বাচনে পড়তে বাধ্য।

গত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে একঝাঁক তরুণ, শিক্ষিত ও সচেতন ভোটার আওয়ামী লীগকে মহাবিজয় উপহার দিয়েছিলেন। তারা বিশ্বাস করেছিলেন, নতুন সরকারের মাধ্যমে দিনবদলের সূচনা হবে এবং আমাদের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে পরিবর্তন ঘটবে। দুর্নীতি ও দুর্বৃত্তায়নের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গৃহীত হবে। আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত হবে এবং অন্যায় করে পার পেয়ে যাওয়ার তথা দুষ্টের পালন ও শিষ্টের দমনের অতীতের সংস্কৃতির অবসান ঘটবে। ক্ষমতাধররা তাদের সম্পদের হিসাব দিতে বাধ্য হবেন এবং মন্ত্রিসভা ও সংসদ সদস্যদের জন্য একটি আচরণবিধি প্রণীত হবে, যার ফলে তাদের স্বার্থ-সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো জনগণ জানতে পারবে (যেমন_ মন্ত্রী-সংসদ সদস্যদের মধ্যে কারা কারা বর্তমান শেয়ার কেলেঙ্কারির সঙ্গে জড়িত)। সাধারণ মানুষের বঞ্চনার অবসান ঘটবে এবং তাদের জন্য সুযোগের সৃষ্টি হবে। সংসদ কার্যকর হবে এবং সংসদীয় কমিটিগুলোর মাধ্যমে সরকারের জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠিত হবে। স্থানীয় সরকারব্যবস্থা শক্তিশালী ও গতিশীল হবে। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি রোধ হবে এবং নাগরিক সেবার মানোন্নয়ন ঘটবে ইত্যাদি, ইত্যাদি। এসবই দিনবদলের অঙ্গীকারের অংশ। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত এগুলোর অধিকাংশ ক্ষেত্রেই গত দুই বছরে তেমন কোনো অগ্রগতি নেই, যা অনেক তরুণ ও শিক্ষিত ভোটারকে হতাশ করেছে। শিক্ষিত ভোটারদের অধিকাংশই ছোট-বড় শহরে বসবাস করে এবং তাদের হতাশা নির্বাচনী ফলাফলকে নিঃসন্দেহে প্রভাবিত করেছে। তাই অনেকের ধারণা, পৌর নির্বাচনে অনেক ভোটার আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে ভোট দিয়েছে, আর আওয়ামী লীগকে প্রত্যাখ্যানের সুফলই বিএনপির ঘরে উঠেছে।

আমরা সুজন- সুশাসনের জন্য নাগরিকের উদ্যোগে পৌরসভা নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী চূড়ান্ত প্রার্থীদের সম্পর্কে তাদের হলফনামায় প্রদত্ত তথ্য সংগ্রহ করে তা বিশ্লেষণ করেছি। প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, ২৫৯টি পৌরসভার নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী ১ হাজার ৩২৬ জন প্রার্থীর মধ্যে ৬৮ শতাংশ ব্যবসায়ী। এদের মধ্য থেকে এ পর্যন্ত নির্বাচিত ২৩৬ জন মেয়রের মধ্যে ৮০ শতাংশই ব্যবসায়ী। অর্থাৎ জাতীয়ই নয়, স্থানীয় পর্যায়ের নির্বাচিত পদগুলোরও বিরাট অংশ আজ ধনাঢ্যদের করায়ত্ত। তাই জাতীয় নির্বাচনের মতো পৌর নির্বাচনেও ব্যাপকভাবে টাকার খেলা হয়েছে বলে অনেকের অভিযোগ। যেমন_ সংবাদপত্রের রিপোর্ট অনুযায়ী, চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ পৌরসভায় আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থীকে বসিয়ে দিতে দলের বিদ্রোহী প্রার্থীকে ১৫ লাখ টাকা গুনতে হয়েছে (প্রথম আলো, ১৬ জানুয়ারি ২০১১। আর টাকার ছড়াছড়িও নিঃসন্দেহে নির্বাচনকে প্রভাবিত করেছে।

পরিশেষে এটি সুস্পষ্ট যে, সম্প্রতি অনুষ্ঠিত পৌর নির্বাচনে মেয়র পদে আওয়ামী লীগের আশানুরূপ ফলাফল না করার পেছনে অনেক কারণ রয়েছে। অগ্র-পশ্চাৎ না ভেবে ও প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি ছাড়াই হুট করে দলভিত্তিক নির্বাচনের ঘোষণা এবং মনোনয়ন প্রক্রিয়ায় অনিয়ম ও জটিলতা, যা বিদ্রোহী প্রার্থী দাঁড়াতে উৎসাহ প্রদান করেছে, অবশ্য একটি বড় কারণ। দলের স্থবিরতা ও বিশৃঙ্খলা এবং দিনবদল তথা রাজনৈতিক সংস্কৃতির পরিবর্তন ও সুশাসন প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে সরকারের অসফলতাও এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। ক্ষমতাসীন দলের পক্ষ থেকে তাদের নিজেদের স্বার্থে এবং সত্যিকারের দিনবদলের লক্ষ্যে এসব ও অন্যান্য কারণ গভীরভাবে বিশ্লেষণ এবং তা থেকে শিক্ষা গ্রহণ আজ অতি জরুরি।
২৫ জানুয়ারি ২০১১

ড. বদিউল আলম মজুমদার : সম্পাদক সুজন_ সুশাসনের জন্য নাগরিক

সূত্র: সমকাল, ২৭ জানুয়ারি ২০১১

Advertisements

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s