শাটল কর্মসূচির পরিসমাপ্তি ও কিছু স্মৃতি

 

বদিউল আলম মজুমদার

শাটল কর্মসূচিটির সূচনাই হয়েছিল বহু বিতর্ক ও সমস্যার মধ্য দিয়ে। এটির ইতিহাসও ছিল 'ট্রায়াম্প' বা অভূতপূর্ব সফলতা এবং 'ট্র্যাজেডি'র বা হৃদয়বিদারক মর্মান্তিকতার। দুটি শাটল বিধ্বস্ত হওয়া সত্ত্বেও নতুন প্রযুক্তি উদ্ভাবনে শাটল প্রোগ্রামের অবদান অসামান্য। এখন অনেকেরই আশা, স্পেস শাটল যুগের অবসানের পর বিজ্ঞানের সীমানা প্রসারের লক্ষ্যে মহাকাশ গবেষণা ও অনুসন্ধান এবং সৌরমণ্ডল অভিযানে নাসা নিজেকে নিবিষ্ট করবে, যা জ্ঞানের পরিধি বৃদ্ধির পাশাপাশি মানবকল্যাণে অবদান রাখবে

দীর্ঘ ৩০ বছর এবং ১৩৪টি শাটল ফ্লাইটের পর ন্যাশনাল অ্যারোনটিক্স অ্যান্ড স্পেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (নাসা) সম্প্রতি তার স্পেস শাটল প্রোগ্রামের পরিসমাপ্তি ঘটিয়েছে। এ প্রোগ্রামের সূচনা হয় ১৯৮১ সালে প্রথম স্পেস শাটল 'কলাম্বিয়া'র উড্ডয়নের মাধ্যমে। সে সময় নাসার সঙ্গে যুক্ত থাকার এবং প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে কাজ করার আমার এক দুর্লভ সুযোগ হয়। তখনকার স্মৃতি নিয়েই আমার এ লেখা।

কেস ওয়েস্টার্ন রিজার্ভ ইউনিভার্সিটি থেকে অর্থনীতিতে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জনের পর আমি ক্লিভন্যান্ড স্টেট ইউনিভার্সিটিতে স্বল্প সময় অধ্যাপনা করি। এরপর ১৯৭৮ সালে আমি সিয়েটল ইউনিভার্সিটির 'আলবার্স স্কুল অব বিজনেসে'র অর্থনীতি ও ফাইন্যান্সের সহকারী অধ্যাপক হিসেবে যোগদান করি। পরবর্তীকালে ১৯৭৯ সালে একটি প্রতিযোগিতামূলক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে অ্যাসোসিয়েশন অব অ্যাক্রেডিটেড স্কুল অব বিজনেসেসের (এএসিএসবি) ফেডারেল ফ্যাকাল্টি ফেলো হিসেবে আমি নির্বাচিত হই। নাসা আমাকে তাদের সঙ্গে কাজ করার জন্য আহ্বান জানায় এবং আমি ১৯৮০ সালে প্রতিষ্ঠানটির প্রধান কার্যালয় ওয়াশিংটন ডিসিতে যোগদান করি্।

১৯৫৮ সালে নাসার সৃষ্টি। এর প্রথম অ্যাডমিনিস্ট্রেটর বা প্রধান নির্বাহী ছিলেন আমার 'আলমামেটার' কেস ওয়েসটার্ন রিজার্ভ ইউনিভার্সিটির সাবেক প্রেসিডেন্ট ড. টি কিথ গেল্গনান। ১৯৫৭ সালে রাশিয়ার কৃত্রিম উপগ্রহ স্পুটনিক-১-এর সফলভাবে আকাশে প্রেরণের প্রতিক্রিয়ায় প্রতিষ্ঠানটির জন্ম। এর মূল ম্যান্ডেট হলো মহকাশ গবেষণায় অগ্রণী ভূমিকা পালন করা, বৈজ্ঞানিক আবিষ্কারে নিবেদিত থাকা এবং অ্যারোনটিক্স গবেষণায় নেতৃত্ব প্রদান করা।

আমেরিকার মহাকাশ কর্মসূচির স্বর্ণ যুগ ছিল ষাটের দশক। মহাকাশ গবেষণায় রাশিয়ার চ্যালেঞ্জের মুখে আমেরিকান কংগ্রেসের যৌথ অধিবেশনে ১৯৬১ সালে প্রদত্ত প্রেসিডেন্ট কেনেডির সুদূরপ্রসারী বক্তব্য এ স্বর্ণ যুগের সূচনা করে। তিনি বলেছিলেন, 'আমি বিশ্বাস করি, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের একটি সুস্পষ্ট লক্ষ্য অর্জনে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হওয়া প্রয়োজন। লক্ষ্যটি হলো বর্তমান দশক শেষ হওয়ার আগেই চাঁদে মানুষের অবতরণ এবং নিরাপদে প্রত্যাগমন। বর্তমান সময়ে এ লক্ষ্যের চেয়ে কোনো মহাকাশ কর্মসূচিই মানবতার জন্য বেশি আকর্ষণীয় বা দীর্ঘমেয়াদি মহাকাশ অনুসন্ধানের জন্য বেশি গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে না। হতে পারে না অর্জনের ক্ষেত্রেও অধিক দুরূহ এবং ব্যয়বহুল।' এ বক্তব্যের ভিত্তিতেই জন্ম হয় অ্যাপোলো কর্মসূচির, যার ফলে তিনজন আমেরিকান ১৯৬৭ সালে সর্বপ্রথম চন্দ্রপৃষ্ঠে সফলভাবে অবতরণে সক্ষম হন।

যখন আমেরিকান মহাশূন্য কর্মসূচির কর্মকর্তারা চাঁদে অবতরণের প্রস্তুতিতে ব্যস্ত তখন কল্পনাবিলাসীরা অবশ্য স্বপ্ন দেখতে থাকেন ঘূর্ণায়মান মহাকাশ কলোনিতে বসবাসের, মাধ্যাকর্ষণ শক্তি-প্রতিরোধমূলক যন্ত্র আবিষ্কারের এবং র‌্যামজেটের মাধ্যমে এক সৌরজগৎ থেকে আরেক সৌরজগৎ ভ্রমণের। নাসা নিজেই ষাটের দশকের প্রথম দিকে মঙ্গল গ্রহে মানুষ পাঠানোর প্রাথমিক পরিকল্পনার ওপর কাজ করে_ যা ছিল প্রযুক্তিগতভাবে অত্যন্ত দুঃসাহসী ও সমস্যাবহুল। নাসার পরিকল্পনার মধ্যে আরও ছিল বড় ধরনের মহাকাশ স্টেশন তৈরি, চাঁদে স্থায়ী আস্তানা স্থাপন ইত্যাদি।

দুর্ভাগ্যবশত ১৯৭১ সালে নাসার বাজেট হ্র্রাসের ফলে এসব দুঃসাহসিক পরিকল্পনা ভেস্তে যায়। এমনকি বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিকোণ থেকে সর্বাধিক আকর্ষণীয় মঙ্গল গ্রহে মানুষ পাঠানোর পরিকল্পনাও পরিত্যক্ত হয়। পরিবর্তে নাসা অপেক্ষাকৃত নিরাপদ, কম ব্যয়বহুল ও বাণিজ্যিক দিক থেকে আকর্ষণীয় একটি সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। সিদ্ধান্তটি ছিল এককালীন ব্যবহৃত রকেটের পরিবর্তে পুনর্ব্যবহারযোগ্য নভোখেয়াযান, স্পেস শাটল নির্মাণ।

কর্মসূচিটির লক্ষ্য ছিল কয়েকটি শাটল তৈরি করা, যেগুলো ভূপৃষ্ঠের দুই শতাধিক মাইল ওপরে বিচরণ করতে সক্ষম হবে। যেগুলো ব্যবহৃত হবে মহাকাশে বাণিজ্যিক ও সামরিক স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ, এসব স্যাটেলাইট উদ্ধার ও মেরামত এবং মহাকাশে বৈজ্ঞানিক ও বাণিজ্যিক গবেষণা কার্য পরিচালনার লক্ষ্যে। এটি ছিল একটি বিতর্কিত সিদ্ধান্ত। এ সিদ্ধান্তের ফলে অনেক বিজ্ঞানীর মনে ধারণা সৃষ্টি হয়েছে_ নাসা তার সহজাত দুঃসাহসিকতা হারিয়ে ফেলেছে। সংস্থাটি মহাকাশ গবেষণার মাধ্যমে বিজ্ঞানের সীমানা প্রসারের পরিবর্তে বাণিজ্যিক এবং সামরিক স্বার্থের কাছে নতি স্বীকার করেছে। তাই শাটল নির্মাণ নাসার খুব জনপ্রিয় সিদ্ধান্ত ছিল না।

শাটলের বাণিজ্যিক সম্ভাবনার ওপর কাজ করার জন্যই নাসায় আমার যোগদান। নাসায় আমি একটি স্পেশাল টিমের সঙ্গে কাজ করি। আমাদের প্রকল্পের নাম ছিল 'স্পেস ইন্ডাস্ট্র্রিয়ালাইজেশন প্রজেক্ট'। এর লক্ষ্য ছিল ভবিষ্যতে মহাকাশে শিল্প কারখানা গড়ে তোলার দ্বার উন্মোচন করা।

মহাকাশে প্রক্রিয়াজাতকরণের আকর্ষণীয়তা হলো যে, মাইক্রো গ্র্যাভিটি পরিবেশে যা কিছু উৎপাদন করা হয় তা-ই নিখুঁত হবে। কারণ এতে উৎপাদিত পণ্যের ওপর মাধ্যাকর্ষণ শক্তির এবং পৃথিবী পৃষ্ঠের দূষণের কোনো প্রভাব থাকবে না। কম ওজনের বেশি মূল্যবান পণ্য উৎপাদন ছিল মহাকাশে প্রক্রিয়াজাতকরণের লক্ষ্য। যেমন ইলেকট্রনিক্স, বিশেষত ক্রিস্টাল তৈরি এবং ওষুধ উৎপাদন।

মহাকাশে শিল্প কারখানা গড়ে তোলার পথে প্রতিবন্ধকতা দূর করার লক্ষ্যে আমরা 'জয়েন্ট এন্ডেভার এগ্রিমেন্ট' (ঔড়রহঃ ঊহফবধাড়ঁৎ অমৎববসবহঃ) নামে একটি প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো সৃষ্টি করি। এ কাঠামোর অধীনে শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলো মহাকাশে প্রক্রিয়াজাতকরণের লক্ষ্যে তাদের নিজস্ব এক্সপেরিমেন্ট প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন করবে এবং নাসা শাটল ব্যবহার করে গবেষণার বিষয়বস্তু মহাকাশে পেঁৗছে দেবে। ফলে সরকার এবং বেসরকারি উদ্যোক্তাদের মধ্যে কোনো রূপ আর্থিক লেনদেন হবে না। আর্থিক লেনদেনের সমস্যা হলো যে, প্রচলিত বিধি অনুযায়ী সরকার যে কোনো কার্যক্রমে কোনো অর্থ বিনিয়োগ করলে সে কার্যক্রম থেকে সৃষ্ট সব তথ্য এবং পেটেন্ট সরকারের মালিকানায় চলে যায়। এ সমস্যা সমাধানের লক্ষ্যেই জয়েন্ট এন্ডেভার এগ্রিমেন্ট কাঠামো সৃষ্টি করা হয়।

উলেল্গখ্য, মহাকাশে প্রক্রিয়াজাতকরণের সম্ভাবনা ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করে এবং দ্রুত নাসা ও বেসরকারি উদ্যোক্তাদের মধ্যে অনেকগুলো চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। শাটল কর্মসূচির প্রথম পাঁচ বছরে মহাশূন্যে এ নিয়ে অনেক গবেষণাও পরিচালনা করা হয়। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত ১৯৮৬ সালে শাটল চ্যালেঞ্জার বিধ্বস্ত হওয়ার পর এ কর্মসূচি কিছুটা স্থবির হয়ে পড়ে।

সত্তরের দশক নাসার জন্য খুব ভালো সময় ছিল না। পূর্বেই উলেল্গখ করা হয়েছে, অনেকের মধ্যে হতাশা ছিল যে, নাসা তার মহাকাশ অনুসন্ধান ও গবেষণা কর্মসূচি বাদ দিয়ে মহাশূন্যে খেয়াযান বা শাটল সার্ভিস পরিচালনার দায়িত্ব নেয়। অন্যদিকে আবার শাটল তৈরির কর্মসূচিটিও ভালো চলছিল না_ এটি সম্মুখীন হয় অনেক দুরূহ প্রযুক্তিগত সমস্যার। সবচেয়ে দুরূহ সমস্যা দেখা দিয়েছিল পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে প্রবেশের সময়ে সৃষ্ট প্রায় তিন হাজার ডিগ্রি ফারেনহাইট তাপ থেকে শাটলকে রক্ষা করা। বহু কাঠখড় পুড়িয়ে এ লক্ষ্যে নাসা একটি বিশেষ ধরনের তাপ প্রতিরোধক টাইলস তৈরি করে। এ কাজে অবশ্য দীর্ঘ সময় এবং অনেক অর্থ ব্যয় হয়। ফলে কলম্বিয়ার উৎক্ষেপণের তারিখ ১৯৭৮ থেকে ১৯৮১ সাল পর্যন্ত স্থগিত করার প্রয়োজন হয়ে পড়ে এবং শাটলের উৎপাদন ব্যয় প্রাক্কলিত ৫.১৫ বিলিয়ন ডলার থেকে ৬.৭৪৪ বিলিয়নে এসে দাঁড়ায়। এসব কারণে নাসা সম্পর্কে জনগণের মনে নতুন ধরনের নেতিবাচক প্রশ্নের উদ্রেক করে এবং সংস্থা অনেক রাজনৈতিক সমর্থন হারায়। এমনকি এটি অনেক কটাক্ষেরও সম্মুখীন হয়। অনেক আমেরিকান মনে করতে শুরু করে, নাসা তার ম্যাজিক-স্পর্শ হারিয়ে ফেলেছে।

জনগণের মধ্যে নাসা সম্পর্কে এসব হতাশা ও সন্দেহ যখন তুঙ্গে তখন ১৯৮১ সালের প্রথম দিকে কলম্বিয়ার সূচনা ফ্লাইটের দিন নির্ধারিত হয়। নির্দিষ্ট দিনে আমরা সবাই এ ঐতিহাসিক উৎক্ষেপণ পর্বটি অবলোকন করার জন্য নাসা হেডকোয়ার্টার্সে বড় পর্দার সামনে আসন গ্রহণ করি। সবারই আকাঙ্ক্ষা ছিল একটি ত্রুটিহীন উৎক্ষেপণের মাধ্যমে নাসা তার অতীত গৌরব পুনরুদ্ধার করবে। দুর্ভাগ্যবশত তা ঘটেনি। কম্পিউটারের গোলযোগের জন্য কাউন্ট-ডাউন শুরু হওয়ার আগেই উৎক্ষেপণ বাতিল করা হয়। আমার এখনও স্পষ্টভাবে মনে আছে, ওই সময় বড় পর্দার সামনে সমবেত সবার মধ্যে একটি বড় ধরনের যাতনা ও হতাশার ছায়া নেমে এসেছিল। পরে ১৯৮১ সালের ১২ এপ্রিল শাটলটি সফলতার সঙ্গে উৎক্ষেপণ করা হলেও নাসা সম্পর্কে গণমনে একটি অস্বস্তিকর সন্দেহ থেকে যায়। ২০০৩ সালে কলম্বিয়া বিধ্বস্ত হওয়ার তদন্ত রিপোর্টের মাধ্যমে এ সন্দেহ যে সম্পূর্ণ অমূলক ছিল না, তা প্রমাণিত হয়।

নাসায় থাকাকালে আমার আরেকটি বড় কাজ করার সুযোগ হয়, যার প্রভাব ছিল সুদূরপ্রসারী। সত্তর এবং আশির দশক নাসার জন্য যেমন দুঃসময় ছিল, তেমনি দুঃসময় ছিল আমেরিকার অ্যারোস্পেস শিল্পের (ধবৎড়ংঢ়ধপব রহফঁংঃৎু) জন্য। প্রতিযোগিতার কারণে অনেক প্রতিষ্ঠানই তখন দেশের বাইরে থেকে কমিউনিকেশন স্যাটেলাইট তৈরি করে এনে নাসার মাধ্যমে মহাকাশে উৎক্ষেপণ করত। ফলে বিদেশে তৈরি করা স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ করার ওপর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করতে তখন ব্যবসায়ী ও রাজনীতিকদের পক্ষ থেকে নাসার ওপর প্রবল চাপ সৃষ্টি হতে থাকে। আমাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল বিষয়টি খতিয়ে দেখে নাসার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের পরামর্শ দেওয়ার। আমি সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো বিশ্লেষণ করে নাসাকে নিয়ন্ত্রণমূলক (ৎবমঁষধঃড়ৎু) কার্যক্রম থেকে বিরত রাখতে সক্ষম হয়েছিলাম। অন্যথায় প্রতিষ্ঠানটির চরিত্রই বদলে যেত। মহাকাশ গবেষণায় নিবেদিত থাকার পরিবর্তে নাসা ব্যস্ত হয়ে পড়ত নিয়ন্ত্রণমূলক কার্যক্রমে, যা প্রতিষ্ঠানটিকে তার মূল লক্ষ্য থেকেই বিচ্যুত করে ফেলত।

পরিশেষে এটি সুস্পষ্ট যে, শাটল কর্মসূচিটির সূচনাই হয়েছিল বহু বিতর্ক ও সমস্যার মধ্য দিয়ে। এটির ইতিহাসও ছিল 'ট্রায়াম্প' বা অভূতপূর্ব সফলতা এবং 'ট্র্যাজেডি'র বা হৃদয়বিদারক মর্মান্তিকতার। দুটি শাটল বিধ্বস্ত হওয়া সত্ত্বেও নতুন প্রযুক্তি উদ্ভাবনে শাটল প্রোগ্রামের অবদান অসামান্য। এখন অনেকেরই আশা, স্পেস শাটল যুগের অবসানের পর বিজ্ঞানের সীমানা প্রসারের লক্ষ্যে মহাকাশ গবেষণা ও অনুসন্ধান এবং সৌরমণ্ডল অভিযানে নাসা নিজেকে নিবিষ্ট করবে, যা জ্ঞানের পরিধি বৃদ্ধির পাশাপাশি মানবকল্যাণে অবদান রাখবে। আর সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে নাসা সাহসিকতা ও কল্পনাশক্তি প্রয়োগ করবে। কারণ ইতিহাসের শিক্ষা হলো, বিজয় গৌরব তথা নতুন ভবিষ্যতের স্রষ্টা হয় দুঃসাহসীরাই, ভীরুরা নয়।
২৭ জুলাই ২০১১

ড. বদিউল আলম মজুমদার : গেল্গাবাল ভাইস প্রেসিডেন্ট ও কান্ট্রি ডিরেক্টর, দি হাঙ্গার প্রজেক্ট-বাংলাদেশ

সূত্র: দৈনিক ইত্তেফাক, ৪ মে ২০১১

Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s