শুধু সমঝোতা নয়, সমাধান চাই

শুধু সমঝোতা নয়, সমাধান চাই

বদিউল আলম মজুমদার | তারিখ: ০৩-০৬-২০১২

সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) পক্ষ থেকে আমরা বহুদিন ধরে আমাদের রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সংলাপের প্রস্তাব করে আসছি। ব্যবসায়ী সম্প্রদায়ও একই আহ্বান জানিয়ে আসছে। সমাজের অন্যান্য শ্রেণীর প্রতিনিধিরাও এর সঙ্গে কণ্ঠ মিলিয়েছেন। বস্তুত, দেশের অধিকাংশ জনগণই এখন চায়, আমাদের রাজনীতিবিদেরা আলাপ-আলোচনা ও সংলাপের মাধ্যমে কতগুলো জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে সমঝোতায় পৌঁছাক এবং বিদ্যমান সমস্যাগুলোর সমাধান করুক, যাতে যথাসময়ে সব দলের অংশগ্রহণে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। আমাদের দুই বিদেশি অতিথিও—হিলারি ক্লিনটন ও প্রণব মুখার্জি—একই পরামর্শ দিয়ে গিয়েছেন, যদিও তাঁদের পরামর্শ থেকে নাগরিকদের মতামত বেশি গুরুত্বপূর্ণ হওয়া উচিত।

ক্ষুধা-দারিদ্র্য, বৈষম্যসহ আমরা বহুবিধ সমস্যায় জর্জরিত। তবে দুর্নীতি-দুর্বৃত্তায়ন, দলতন্ত্র, ফায়দাতন্ত্র, রাজনৈতিক সহিংসতা, মানবাধিকার লঙ্ঘন, আইনের শাসনের অনুপস্থিতি ইত্যাদি তথা সুশাসনের অভাব বা অপশাসন আজ আমাদের অন্যতম সমস্যা। কিন্তু বর্তমান প্রেক্ষাপটে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা নিয়ে যে বিতর্ক ও অচলাবস্থা বিরাজমান, তা আমাদের ‘মাদার অব অল প্রবলেমস’ বা সব সমস্যার মাতৃতুল্য বলে মনে হয়। কারণ, এ অচলাবস্থা সবার অংশগ্রহণে আমাদের আগামী জাতীয় নির্বাচনকে অনিশ্চিত করে ফেলেছে, রাজনৈতিক অঙ্গনকে আরও সহিংস করার আশঙ্কা সৃষ্টি করেছে, যার ফলে অতীতের মতো আবারও চরম অচলাবস্থার সৃষ্টি হতে পারে। এ ছাড়া সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন না হলে আমাদের ভঙ্গুর গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা আবারও ভেঙে পড়তে পারে। আর এমন পরিস্থিতিই অগণতান্ত্রিক শক্তির ক্ষমতা দখলের পথ সুগম করে। তাই আমাদের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে অব্যাহত রাখতে এবং শক্ত ভিতের ওপর দাঁড় করাতে হলে সংলাপ ও সমঝোতার কোনো বিকল্প নেই।

স্বাভাবিকভাবেই বিরোধী দল সংলাপের দাবিতে সোচ্চার। তারা আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে অন্তত পরিবর্তিত রূপে এবং নামে হলেও তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা ফিরিয়ে আনতে চায়, যাতে দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন একটি দলনিরপেক্ষ সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত হতে পারে। প্রসঙ্গত, পরাজিত পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হলেও, দেশি-বিদেশি সব পর্যবেক্ষকের মতে, অন্তর্বর্তী/ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত গত চারটি নির্বাচনই মোটামুটি নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য হয়েছিল। ফলে গত তিনটি নির্বাচনে বিরোধী দল ক্রমাগতভাবে বেশি আসন নিয়ে নির্বাচনে বিজয়ী হয়েছিল। পক্ষান্তরে বাংলাদেশের ইতিহাসে দলীয় সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত সব নির্বাচনেই ক্ষমতাসীন ব্যক্তিরা বিজয়ী হয়ে ক্ষমতায় ফিরে এসেছিল।

বিরোধী দল ও নাগরিকদের একটি বিরাট অংশের দাবি সত্ত্বেও, ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সংলাপে বসতে আগ্রহী নয়। ক্ষমতাসীন ব্যক্তিদের মনোভাব হলো, বিরোধী দল সংসদে এসে তত্ত্বাবধায়ক সরকার সম্পর্কে তাদের প্রস্তাব/ বিল উত্থাপন করবে, যা নিয়ে সংসদে বক্তৃতা-বিতর্ক হবে এবং সংখ্যাগরিষ্ঠ ব্যক্তিদের মতামতের ভিত্তিতে এর ভাগ্য নির্ধারিত হবে।

সরকারের এ অবস্থান সবারই জানা এবং এটি অতিপুরোনো খেলা। অনেকেরই স্মরণ আছে, ২০০৫ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেত্রী ১১ দলের পক্ষ থেকে নির্বাচন-প্রক্রিয়া, নির্বাচন কমিশন, রাজনৈতিক দল ও তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা সংস্কারের লক্ষ্যে কতগুলো বলিষ্ঠ প্রস্তাব জাতির সামনে উত্থাপন করেছিলেন এবং এগুলো গ্রহণের জন্য বিভিন্নভাবে, বিশেষত রাজপথের আন্দোলনের মাধ্যমে সরকারের ওপর চাপ দিতে থাকেন। বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে তখনকার সরকার এসব প্রস্তাবের প্রতি ভ্রুক্ষেপ না করে সংসদ বর্জনকারী বিরোধী দলকে সংসদে এসে তা উত্থাপন করার আহ্বান জানায়। শেখ হাসিনা তা করেছিলেনও, কিন্তু তার পরিণতি আমাদের সবারই জানা। বর্তমান ক্ষেত্রেও সংসদে এসে বিরোধী দলের প্রস্তাব/ বিল উত্থাপন থেকে ভালো কিছু ঘটবে বলে আশা করা যায় না। তবে বিরোধী দলের সংসদে এসে প্রস্তাব উত্থাপনে দোষের কিছু নেই, বরং তা করাই যৌক্তিক। এ ছাড়া তাদের লাগাতার সংসদ বর্জন সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য।

লক্ষণীয়, আমাদের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে বিরোধী দলই সাধারণত নিরপেক্ষ নির্বাচনের দাবিতে সংলাপের পক্ষে এবং সরকারি দল এর বিপক্ষে অবস্থান নেয়। কারণ, পরবর্তী নির্বাচনে বিজয় নিশ্চিত করতে সরকারি দল এমন কিছু ‘ম্যানুপুলেশন’ বা কারসাজি করে, যা সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের পথে গুরুতর বাধা হয়ে দাঁড়ায়। যেমন, ২০০১ সালে নির্বাচনের আগে তৎকালীন চারদলীয় জোট সরকার তত্ত্বাবধায়ক সরকার ও নির্বাচন কমিশনকে দলীয়করণ করে একটি পাতানো নির্বাচন অনুষ্ঠানের উদ্যোগ নিয়েছিল। একইভাবে বর্তমান সরকার সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বিলুপ্ত করে দলীয় সরকারের অধীনে এবং মেয়াদোত্তীর্ণ ও সংসদ বিলুপ্ত হওয়ার আগেই আগামী সংসদ নির্বাচনের পাঁয়তারা করছে। এ ধরনের কারসাজি গণতান্ত্রিক পদ্ধতির প্রতি আমাদের প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর সুদৃঢ় অঙ্গীকারের অভাবেরই প্রতিফলন।

প্রসঙ্গত, সংসদে সংলাপ হয় না। সংসদ মূলত আইন প্রণয়ন, বক্তব্য প্রদান, বিতর্ক অনুষ্ঠান ও সংসদীয় কমিটির মাধ্যমে সরকারের স্বচ্ছতা-জবাবদিহি নিশ্চিত করার স্থান। সংসদের কার্যক্রম পরিচালিত হয় আনুষ্ঠানিকভাবে এবং কার্যপ্রণালি-বিধি অনুসরণ করে। ফলে সংসদ ফ্লোরে এবং সুনির্দিষ্ট কার্যক্রম পরিচালনার লক্ষ্যে গঠিত সংসদীয় কমিটিগুলোতেও সংলাপের কোনো সুযোগ নেই। তাই বিরোধী দলকে সংসদে এসে সংলাপে অংশগ্রহণের প্রস্তাব জনগণকে বিভ্রান্ত করার প্রচেষ্টারই শামিল।
তবে সংলাপ গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে কার্যকর করার জন্য অপরিহার্য। সফল গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায়ই সরকারের নীতি-কাঠামো প্রণীত ও বাস্তবায়িত হয় এবং সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। আর রাজনৈতিক প্রক্রিয়া হলো রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের মতামতের প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শন এবং তাদের সঙ্গে আলাপ-আলোচনার প্রক্রিয়া। অসহিষ্ণুতা, জেদাজেদি, দমন-পীড়ন, রাজপথে মুখোমুখি অবস্থান অপরাজনীতিরই সমতুল্য। প্রসঙ্গত, এ ধরনের অপরাজনীতিই আমাদের বিরাজমান অকার্যকর ও নড়বড়ে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার অন্যতম কারণ। তবে সাধারণ জনগণ এ ধরনের অপরাজনীতির সংস্কৃতি গড়ে তোলেনি—রাজনীতিবিদেরাই এর জন্য দায়ী—বরং জনগণ অপরাজনীতির কাছে জিম্মিমাত্র।

উপরিউক্ত আলোচনা থেকে এটি সুস্পষ্ট যে আমাদের রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সংলাপ অনুষ্ঠান এবং সংলাপের মাধ্যমে কতগুলো গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে মতৈক্য সৃষ্টি হওয়া জরুরি। তবে সবচেয়ে জরুরি হবে তত্ত্বাবধায়ক সরকার বা নির্বাচনকালীন সময়ে একটি নিরপেক্ষ সরকারব্যবস্থা, যে নামেই হোক না কেন, অন্তত আগামী দুই মেয়াদের জন্য পুনঃপ্রবর্তন করা, যাতে দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন সব দলের কাছে গ্রহণযোগ্য হয়। সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের লক্ষ্যে একই সঙ্গে সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীতে অন্তর্ভুক্ত সংসদের মেয়াদ উত্তীর্ণ হওয়ার আগে নির্বাচন অনুষ্ঠানের বিধানও বাতিল করতে হবে।

তবে স্মরণ রাখা প্রয়োজন, তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা আমাদের বিরাজমান কলুষিত রাজনৈতিক সংস্কৃতির এবং অকার্যকর গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার স্থায়ী বা টেকসই, এমনকি কোনো সমাধানই নয়। বরং এটি আমাদের বিরাজমান রুগ্ণ রাজনীতির সমস্যারই ‘সিমটম’ বা উপসর্গমাত্র। এ কারণেই গত চার চারটি নির্বাচন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হলেও আমাদের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা সুসংহত হয়নি, বরং আরও অস্থিতিশীল হয়েছে। রোগের চিকিৎসা করতে হলে এর কারণ চিহ্নিত করা আবশ্যক। তাই তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থার দাবির পেছনের তথা সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের পথের বাধাগুলো চিহ্নিত করা আজ জরুরি।

অনেকের হয়তো স্মরণ আছে ১৯৯৪ সালে মাগুরার উপনির্বাচনের কথা, যে নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগ উঠেছিল। সেই বিতর্কিত নির্বাচনের পরই বিরোধী দলের পক্ষ থেকে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থার দাবি ওঠে। মাগুরার উপনির্বাচনে ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দল ও তাদের কর্মী-সমর্থকেরা ভোট জালিয়াতির আশ্রয় নিয়েছিল। প্রশাসন তা প্রতিহত করেনি। নির্বাচন কমিশন কারও বিরুদ্ধেই কোনো ব্যবস্থা নেয়নি, বরং উপনির্বাচনকে কেন্দ্র করে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের ভূমিকা ছিল অনেকটা রহস্যজনক। এমনই প্রেক্ষাপটে ভোট জালিয়াতির পরিবর্তে ভবিষ্যতে নির্বাচন যেন সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য হয়, তা নিশ্চিত করতেই উঠেছিল নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবি।

মাগুরার উপনির্বাচনে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের পথে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করেছিল রাজনৈতিক দলের অসদাচরণ ও অগণতান্ত্রিক আচরণ। একই সঙ্গে প্রশাসনের পক্ষপাতদুষ্ট আচরণ এবং নির্বাচন কমিশনের অপারগতা। তাই সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে প্রয়োজন ছিল রাজনৈতিক দলের সুশৃঙ্খল আচরণ এবং গণতান্ত্রিক রীতিনীতির চর্চা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে দলগুলোকে একটি আইনি কাঠামোর মধ্যে আনা। একই সঙ্গে প্রয়োজন ছিল নির্বাচনী প্রক্রিয়ার সংস্কার। নির্বাচন কমিশনকে স্বাধীন ও শক্তিশালী করা। কিন্তু এগুলোর কোনোটিই না করে আমাদের রাজনীতিবিদেরা তত্ত্বাবধায়ক সরকার নামের একটি উদ্ভট জিনিস আবিষ্কার করেন, যা ছিল সমস্যা সমাধানের পরিবর্তে সমস্যাকে কার্পেটের নিচে লুকিয়ে রাখারই নামান্তর। আর এ ধরনের ব্যবস্থা সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের সমস্যার সমাধান তো করেইনি, বরং সমস্যাকে আরও প্রকট করেছে। কারণ, এর মাধ্যমে রাজনীতিবিদদের দায়িত্বহীন আচরণের নতুন সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে, যা আমাদের নির্বাচনসর্বস্ব গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে আরও ভঙ্গুর করে তুলেছে।

এমনই পরিস্থিতিতে দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সংশ্লিষ্ট সবার কাছে গ্রহণযোগ্য করতে হলে রাজনৈতিক সমঝোতার মাধ্যমে পরিবর্তিত আকারে হলেও তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থাকে সীমিত মেয়াদের জন্য ফিরিয়ে আনতে হবে। তবে সমঝোতার অংশ হতে হবে কতগুলো সুদূরপ্রসারী সংস্কার ও পরিবর্তন, যা রোগের পরিবর্তে রোগের পেছনের কারণ নির্ণয় ও চিকিৎসা করবে। আশা করি, জাতির বৃহত্তর স্বার্থে আমাদের সম্মানিত রাজনীতিবিদেরা আজ প্রজ্ঞা, দায়িত্বশীলতা ও সদিচ্ছার পরিচয় দেবেন এবং সমস্যাগুলোর স্থায়ী ও টেকসই সমাধানের উদ্যোগ নেবেন। তবে নাগরিকেরা কানে তুলা দিয়ে নিদ্রামগ্ন থাকলে রাজনীতিবিদদের, বিশেষত ক্ষমতাসীন ব্যক্তিদের কানে তুলা দেওয়া ঘুমের ঘোর কাটবে না এবং ইতিবাচক কিছুই ঘটবে না।
ড. বদিউল আলম মজুমদার: সম্পাদক, সুজন—সুশাসনের জন্য নাগরিক।

সূত্র: প্রথম আলো, ৩ জুন ২০১২

Advertisements

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s