৯১(ই) ধারা বাতিলের সিদ্ধান্ত কেন? সুজনের গোলটেবিল বৈঠকে বক্তারা

Pictureঅনেক কষ্টের অর্জন ৯১(ই) ধারা বাতিলের সিদ্ধান্ত নেয়া হলে বর্তমান নির্বাচন কমিশন একটি দূর্বল প্রতিষ্ঠানে পরিণত হবে, যা আগামী জাতীয় নির্বাচন সুষ্ঠু ও অবাধ করার ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করবে। আজ ১ আগস্ট ২০১৩, সকাল ১০.৩০ টায়, জাতীয় প্রেস ক্লাবের ভিআইপি লাউঞ্জে, সুজন’র উদ্যোগে ‘নির্বাচনী আইনের সংস্কার: আমরা কোথায়?’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে বক্তারা এ মন্তব্য করেন। সুজন সভাপতি এম হাফিজউদ্দিন খানের সঞ্চালনায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সুজন সম্পাদক ড. বদিউল আলম মুজমদার। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন সাবেক প্রধান নির্বাচন কমিশনার ড. এটিএম শামসুল হুদা, বিগ্রেডিয়ার জেনারেল (অবঃ) এম সাখাওয়াত হোসেন, ব্যরিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ, অধ্যাপক অজয় রায়, জনাব এ এস এম আকরাম, সৈয়দ আবুল মকসুদ, জনাব সালমা খান, অধ্যাপক আবু সায়ীদ, জনাব মাহমুদুর রহমান মান্না, জনাব ইকতেদার আহমেদ, অধ্যাপক হামিদা বানু, জনাব রুহিন হোসেন প্রিন্স, ইঞ্জিনিয়ার এনামুল হক, জনাব নুরুল কাদির, জনাব হুমায়ূন কবীর হিরু প্রমূখ।মূল প্রবন্ধে . বদিউল আলম মজুমদার বলেন, প্রার্থী কর্তৃক চরম অসদাচারণের কারণে নির্বাচন কমিশনের বাতিলের ক্ষমতাই ছিলো ৯১(ই) ধারা। এ ধারাটি ২০০১ সালের তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে একটি অধ্যাদেশের মাধ্যমে আরপিওতে সংযোজিত হয়। পরবর্তীতে রাজনৈতিক দলগুলো একাট্টা হয়ে এটি বাতিল করায়। এরপর ২০০৮ সালে বহু কাঠখড় পুড়িয়ে এটি আবার আরপিওতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। তাই এ অর্জনকে কমিশন কেন বিসর্জন দিতে চাইছে তা আমাদের বোধগম্য নয়। তিনি আরও বলেন, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের জন্য একটি যথাযথ আইনি কাঠামো প্রণয়ন আবশ্যক। একাজটি সংশ্লিষ্টদের সাথে আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে ঐক্যমত্যের ভিত্তিতে সমপন্ন করায় সমীচীন। তাই নির্বাচন কমিশন সংক্ষিপ্ত আকারে হলেও, এ ধরনের একটি প্রক্রিয়া ব্যবহার করে তাদের প্রস্তাবিত আরপিও সংশোধনীগুলো আবার পুনঃবিবেচনা করবে। একই সঙ্গে কমিশন আইনগুলোর কঠোরভাবে প্রয়োগের উদ্যোগ নেবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

এ সময় তিনি সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে আরপিওতে আরও নতুন কিছু বিষয় অন্তর্ভুক্তির প্রস্তাব করেন। এগুলো হলো- (১) আইনপ্রয়োগকারী সংস্থার সংজ্ঞায় বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা কর্মবিভাগসমূহের অন্তর্ভুক্তিকরণ;(২) ‘না’ ভোটের বিধান;(৩) হলফনামায় অসত্য ও বিভ্রান্তিমূলক তথ্য প্রদান এবং তথ্য গোপনের জন্য বিজয়ী প্রার্থীর নির্বাচন বাতিলের ক্ষমতা নির্বাচন কমিশনকে প্রদান;(৪) হলফনামার ছকে পরিবর্তন আনা, যাতে প্রার্থীরা তাদের আয়ের উৎসের বিস্তারিত বর্ণনা, সমপদের মূল্য এবং ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানে তাদের মালিকানার তথ্য প্রকাশ করতে বাধ্য হন; (৫) নির্বাচনকালীন গুরুতর অসদাচরণের জন্য তদন্ত সাপেক্ষে নির্বাচন কমিশনকে নির্বাচন বাতিলের ক্ষমতা প্রদান;(৬) মনোনয়নপত্র ইলেক্ট্রনিক ফাইলিং-এর বিধান (৭) দলের নেতাকর্মীদের মতামতের ভিত্তিতে তৈরি প্যানেল থেকে মনোনয়ন প্রদানের বাধ্যবাধকতার সৃষ্টি।

 এম হাফিজউদ্দিন খান বলেন, আগামী জাতীয় নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করার লক্ষ্যে নির্বাচন কমিশনের ভাবমূর্তি অক্ষুন্ন রাখা দরকার। সেজন্য সবার সাথে আলোচনা করে নির্বাচনী আইনের সংস্কার করা প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেন তিনি।

. এটিএম সামসুল হুদা বলেন, ৯১(ই) ধারা অর্জন করতে আমাদের অনেক কষ্ট করতে হয়েছে। অথচ বর্তমান নির্বাচন কমিশন এই অর্জনকে †¯^”Qvq বির্সজন দিচ্ছে যা নির্বাচন কমিশনকে শক্তিশালী করার পরিবর্তে দূর্বল করে তুলবে। আইনের প্রয়োগ এককভাবে নির্বাচন কমিশনের করা উচিৎ নয় বরং এর সাথে জড়িত সকলের সাথে আলোচনা করে তা নির্ধারণ করা প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেন তিনি। তিনি আরও বলেন, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন শুধুমাত্র নির্বাচন কমিশনের একার দায়িত্ব নয়, এর সাথে রাজনৈতিক দল, নাগরিক সমাজ, গণমাধ্যমেরও গুরুত্বপর্ণ ভূমিকা রয়েছে। কিন্তু আমরা শুধুমাত্র নির্বাচন কমিশন নিয়েই আলোচনা করি কিন্তু রাজনৈতিক দলের চাল-চরিত্র নিয়ে আলোাচনা করি না। তাই রাজনৈতিক দলসহ সরককারের অন্যান্য প্রতিষ্ঠানসমূহকেও জবাবদিহিমিূলক করা প্রয়োজন।

বিগ্রেডিয়ার জেনারেল (অব:) এম সাখাওয়াত হোসেন বলেন, প্রস্তাবিত আইনে সিল মারার পরিবর্তে ভোটারকে ব্যালট পেপারে মার্কিং করে তা ব্যালট বাক্সে ঢুকাতে হবে, যা আমাদের দেশের প্রেক্ষিতে অত্যন্ত বিপজ্জনক। কারণ আমাদের রাজনৈতিক সংস্কৃতি সে পর্যায়ে পৌছায়নি বলে মন্তব্য করেন তিনি। নির্বাচনে না ভোটের বিধান থাকা উচিৎ এবং জাতীয় নির্বাচনে সেনাবাহিনীকে ভূমিকা রাখার সুযোগ দেয়া দরকার বলেও মন্তব্য করেন তিনি। রাষ্ট্রপতি, স্পীকার বা প্রধান বিচারপতিকে নিয়ে জুডিসিয়াল কমিশনের মাধ্যমে সবার কাছে গ্রহণযোগ্য নির্বাচন কমিশন গঠনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন অধ্যাপক অজয় রায়। সৈয়দ আবুল মকসুদ বলেন, আরপিও সংশোধনীর ক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশন সংশ্লিষ্ট সকলের সাথে আলাপ অলোাচনা না করেই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করছে, যা জাতির ভাগ্য নিয়ে ছিনিমিনি খেলার শামিল। সুতরাং গণতান্ত্রিক আচরণের সাথে সাংঘর্ষিক কোন সিদ্ধান্ত নেওয়া নির্বাচন কমিশনের উচিত হবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি। ব্যরিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ বলেন, আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে প্রার্থিতা বাতিলের ক্ষমতা নির্বাচন কমিশনের হাতে ন্যস্ত থাকলে আচরণবিধি লঙ্ঘন অনেক কমে যাবে। কারণ প্রার্থীরা তাদের প্রার্থিতা বাতিলের আশংকায় আচরণবিধি মেনে চলতে বাধ্য থাকবে। অধ্যাপক আবু সায়ীদ বলেন, শুধু আইন সংস্কার নয়, বরং সুষ্ঠু নির্বাচনের লক্ষ্যে জনগণের কাছে নির্বাচন কমিশনেরও ভাবমূর্তিও ঠিক রাখতে হবে। এক্ষেত্রে নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন ও কালো টাকার ব্যবহার বন্ধে কমিশনকে কঠিন পদক্ষেপ নিতে হবে। তিনি আরও বলেন, দলীয় শৃঙ্খলার নামে বিদ্রোহী প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র বাতিলের নিরঙ্কুশ ক্ষমতা দলকে প্রদান করা ঠিক হবে না। কারণ এতে অনেক সৎ ও যোগ্য লোক প্রার্থী হওয়ার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হবে। কমিশনের প্রস্তাবিত নুতন আইনে বিদ্রোহী প্রার্থীর মনোনয়নপ্রত্র বাতিলের বিধান থাকা উচিত নয় বলে মন্তব্য করেন জনাব মাহমুদুর রহমান মান্না। তিনি বলেন, বিএনপি ও আওয়ামী লীগ এই দুটি দলের অচলায়তন ভাঙ্গার লক্ষ্যে বিদ্রোহী প্রার্থী হওয়ার সুযোগ থাকা প্রয়োজন।

মূল প্রবন্ধ পড়তে এখানে ক্লিক করুন

Advertisements

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s