গাইবান্ধায় ’সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষা’ শীর্ষক নাগরিক সংলাপ অনুষ্ঠিত

 gggg৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৪ বিকাল ৪ টায় গাইবান্ধার পাবলিক লাইব্রেরী মিলনায়তনে ’সাম্প্রদায়িক সহিংসতা প্রতিরোধ ও সম্প্রীতি রক্ষায়  করণীয়’ শীর্ষক নাগরিক সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়। আয়োজনে সভাপতিত্ব করেন সুজন গাইবান্ধা জেলা সমিতির সভাপতি অধ্যাপক মাযহারুল মান্নান। মূখ্য আলোচক হিসেবে অংশ নেন সুজন কেন্দ্রীয় সমন্বয়কারী দিলীপ কুমার সরকার। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন গাইবান্ধা সুজন জেলা কমিটির সম্পাদক অশোক কুমার সাহা।

আলোচক হিসেবে অংশ নেন সিপিপি জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক মিহির ঘোষ, জেলা মহিলা পরিষদের সাংগঠনিক সম্পাদক অঞ্জলী রানী দেবী, উদীচী শিল্পী গোষ্ঠীর সভাপতি জহুরুল কাইয়ুম, জেলা পূজা উৎযাপন কমিটির সভাপতি রনজিৎ বকশী সূর্য, জেলা ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি আমিনুল ইসলাম গোলাপ, জাসদ নেতা এডভোকেট সিরাজুল ইসলাম বাবু, আওয়ামী লীগ নেতা আনিসুর রহমান, সুজন সাঘাটা উপজেলা সম্পাদক নওয়াব আরী প্রধান সাজু, শিক্ষক সৌমিক সেন গোস্বামী, সুজন গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা সম্পাদক আহসান হাবিব, মহিলা পরিষদ জেলা সাধারন সম্পাদক রিক্ত প্রসাদ, সুজন সাদুল্যাপুর উপজেলা সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম খান, জেলা জাসদ এর সাধারণ সম্পাদক গোলাম ফারুক মনা, জাসদ নেতা শরিফুল ইসলাম বাবুল।

সুজন সমন্বয়কারী বলেন, দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর হামলা হচ্ছে। নির্বাচনের পূর্ব থেকেই দুর্বৃত্তরা দেশের নানা জায়গায় সংখ্যালঘু বিশেষ করে হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর নারকীয় তান্ডব চালিয়েছে। হামলাকারীরা সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ভূক্ত মানুষের ওপর শারীরিক হামলা চালিয়েয়েছে, মন্দির পুড়িয়ে দিয়েছে, প্রতীমা ভাংচুর করেছে, বাড়িতে আগুন দিয়েছে, মেয়েদের ধর্ষণ করেছে, বাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান লুটপাট করেছে, ক্ষেতের ফসল নষ্ট করেছে; অর্থাৎ তারা সব ধরনের অপকর্মই করেছে। ঘটনার আকষ্মিকতায় আতঙ্কিত হয়ে মৃত্যুর ঘটনাও ঘটেছে। আমাদের দূর্ভাগ্য যে, এই সহিংসতা এখনও চলছে অব্যাহতভাবেই। তিনি এর অবসানে উপায় খুঁজে বের করার আহ্বান জানান উপস্থিত সকলকে।

আলোচনায় বক্তাগণ ধর্মীয় ও জাতিগত সংখ্যালঘুদের ওপর হামলা বন্ধে সরকারকেই মূল দায়িত্ব নেয়ার আহ্বান জানান। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে অনাকাক্সিক্ষত এসকল ঘটনা প্রতিরোধে এগিয়ে এসে আইনি দায়িত্ব পালন করতে হবে বলে বক্তারা উল্লেখ করেন। অংশগ্রহণকারীদের মাঝে এ উপলব্ধি আরো জোরালো হয় যে, ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দল ও প্রগতিশীল রাজনৈতিক ও সামাজিক শক্তিসহ শুভবুদ্ধিসম্পন্ন সচেতন সকল নাগরিকদের দাঁড়াতে হবে আক্রান্তদের পাশে এবং এই ধরনের ঘটনা প্রতিরোধে সংঘবদ্ধ হয়ে এগিয়ে আসতে হবে।

বক্তাগণ বলেন, প্রধান বিরোধী দল বিএনপিকে যুদ্ধাপরাধের জন্য দায়ী জামায়াত-শিবিরসহ ধর্মান্ধ রাজনৈতিক দলসমূহের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করে মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে ধারণ করে রাজনীতি করতে হবে, আন্দোলনের নামে সহিংসতা পরিহার করতে হবে এবং সংখ্যালঘুদের ওপর হামলা প্রতিরোধে এগিয়ে আসতে হবে। সরকারি দলকে রাজনৈতিক সংকটের স্থায়ী সমাধানের লক্ষ্যে সমঝোতার মনোভাব নিয়ে এগিয়ে এসে রাজনৈতিক অস্থিরতা বন্ধ করতে হবে। পাশাপাশি বর্জন করতে হবে ধর্মান্ধ রাজনৈতিক গোষ্ঠীর সাথে আপোষ বা অশুভ মৈত্রী গড়ে তোলার চিন্তাও।

বক্তাগণ বলেন, ধর্মীয় ও জাতিগত সংখ্যালঘুরা এদেশে কারো অনুগ্রহে বসবাস করে না, এটা তাঁদের জন্মগত ও সাংবিধানিক অধিকার। মহান মুক্তিযুদ্ধ ও বৃটিশবিরোধী আন্দোলনসহ এই জনপদের প্রতিটি লড়াই-সংগ্রাম এবং জাতিগত প্রতিটি গৌরবোজ্জ্বল অর্জনে তাঁদেরও অবদান রয়েছে। এই বিষয়গুলো স্মরণ রেখে, আমরা সকলেই যদি স্ব স্ব অবস্থানে থেকে রাষ্ট্র প্রদত্ত, পেশাগত ও নাগরিক দায়-দায়িত্ব, অঙ্গীকার ও দায়বদ্ধতার কথা মনে রেখে সঠিক ভূমিকায় অবতীর্ণ হই, তবে সাম্প্রদায়িক সহিংসতার মত অনাকাক্সিক্ষত ঘটনাগুলো আমরা সহজেই প্রতিরোধ করতে পারবো।

Advertisements

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s