‘উপজেলা নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী (তৃতীয় পর্যায়) চেয়ারম্যান প্রার্থীগণের তথ্য প্রকাশ’ শীর্ষক সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত

Press 10.3.14aদুই পর্বের নির্বাচনেই উল্লেখযোগ্য পরিমাণে অনিয়ম ও কারচুপিও হলেও দ্বিতীয় দফার নির্বাচনে সংষর্ষ, মৃত্যু, কেন্দ্র দখল ও ব্যালট পেপার ছিনতাইসহ বিভিন্ন অনিয়মের ঘটনা বেশি ঘটেছে এবং নির্বাচন কমিশন এ ব্যাপারে নিশ্চুপ বলে অভিযোগ উত্থাপন করেন সুজন-সুশাসনের জন্য নাগরিক নেতৃবৃন্দ। গত ১০ মার্চ ২০১৪ দুপুর ১২.০০টায় রিপোর্টার্স ইউনিটি’র সাগর-রুনি মিলনায়তনে ‘সুজন-সুশাসনের জন্য নাগরিক’-এর উদ্যোগে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সুজন নেতৃবৃন্দ এ মন-ব্য করেন। সংবাদ সম্মেলনে উপসি’ত ছিলেন সুজন কোষাধক্ষ্য জনাব আব্দুল হক, সুজন ঢাকা জেলা কমিটির সহ-সভাপতি আবুল হাসনাত, সুজন জাতীয় কমিটির সদস্য জনাব নাজমা হাসিন, সুজন সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজমুদার । মূল প্রবন্ধ উপস’াপন করেন-সুজন সহযোগী সমন্বয়কারী সানজিদা হক বিপাশা।

মূল প্রবন্ধ উপস’াপনকালে সানজিদা হক বিপাশা বলেন, ‘আজকের এই সংবাদ সম্মেলনে আমরা আগামী ১৫ মার্চ ২০১৪ অনুষ্ঠেয় তৃতীয় পর্যায়ের নির্বাচনের জন্য ঘোষিত তফসিলভূক্ত ৮৩টি উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান পদপ্রার্থীদের তথ্য প্রকাশ করছি। এই নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার জন্য সর্বমোট ১ হাজার ৫৪৮ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছিলেন; যার মধ্যে চেয়ারম্যান পদে ৬২৯ জন, ভাইস চেয়ারম্যান পদে ৫৯৮ জন এবং নারী ভাইস চেয়ারম্যান পদে ৩২১ জন (১৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৪, কালের কণ্ঠ)। চূড়ান- প্রার্থী হিসেবে চেয়ারম্যান পদে ৪৩৪ জন, ভাইস চেয়ারম্যান পদে ৪৩৭ জন ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে ২৮২জন অর্থাৎ তিনটি পদে সর্বমোট ১ হাজার ১৫৩ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন (২৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৪ ইত্তেফাক) । তবে নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইটে গতকাল (৯ মার্চ, ২০১৪) পর্যন- চেয়ারম্যান পদে আমরা পেয়েছি ৩৯৩ জনের তথ্য পেয়েছি, তবে এর মধ্যে ৩ জনের আয়কর বিবরণী আছে কিন’ হলফনামা নাই। লক্ষীপুরের কমলনগর ও চুয়াডাঙ্গা জেলার দামুরহুদা উপজেলার তথ্য নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইটে নেই। রাজশাহী জেলার দুর্গাপুর ও বাগেরহাট জেলার রামপাল উপজেলার প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের নাম ও প্রতীক থাকলেও কোন তথ্য নেই। আমরা স’ানীয়ভাবে দুর্গাপুর উপজেলার তথ্য সংগ্রহ করেছি। এছাড়াও একজন প্রার্থীর হলফনামার জায়গায় অন্য প্রার্থীর হলফনামা থাকা, হলফনামা অস্পষ্ট থাকা, শুধু প্রার্থীর নাম ও প্রতীক থাকলেও কোন তথ্য না থাকা ইত্যাদি কারণে ২৮ জন প্রার্থীর তথ্যের বিশ্লেষণ আমাদের পক্ষে তুলে ধরা সম্ভব হলো না। ফলে ৩৯৩ জন প্রার্থীর তথ্যের বিশ্লেষণ আমরা আজকের সংবাদ সম্মেলনে উপস’াপন করছি।’
শিক্ষাগত যোগ্যতার ক্ষেত্রে ৩৯৩ জন প্রার্থীর মধ্যে উল্লেখযোগ্য অংশই (২১০ জন বা ৫০.৪৪%) স্নাতক বা স্নাতকোত্তর। স্বল্প শিক্ষিত অর্থাৎ এসএসসি বা তার চেয়ে কম শিক্ষাগত যোগ্যতাসম্পন্ন প্রার্থীর হার ৩৩.৩৪% (১৩১ জন)। প্রার্থীর মধ্যে অধিকাংশের পেশা (৫২.৪২% বা ২০৬ জন) ব্যবসা। কৃষির সঙ্গে জড়িত ১৯.৩৪% (৭৬ জন)। ৩৯৩ জন প্রার্থীর মধ্যে ১১৮ জনের (৩০.০২%) বিরুদ্ধে বর্তমানে মামলা আছে, অতীতে মামলা ছিল ১১৬ জনের (২৯.৫১%) বিরুদ্ধে, অতীত ও বর্তমানে উভয় সময়ে মামলা ছিল বা রয়েছে এমন প্রার্থীর সংখ্যা ৫৩ জন (১৩.৪৮%)। ৩৯৩ জন প্রার্থীর মধ্যে ১৫.০১% (৫৯ জন) এর সম্পদ ৫ লক্ষ টাকার কম। ৩৯৩ জনের মধ্যে কোটিপতির সংখ্যা ৫০ জন (১২.৭২%)। এর মধ্যে ৫ কোটি টাকার বেশি সম্পদের অধিকারী ৫ জন (১.২৭%) প্রার্থী। প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের মধ্যে ৫৪ জন (১৩.৭৪%) ঋণ গ্রহীতা।

নির্বাচন কমিশনে প্রার্থী কর্তৃক প্রদত্ত হলফনামার জমা দেওয়া সংক্রান- বিধানের সমালাচনা করেন সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম। তিনি হলফনামাকে ‘রাজনীতিবিদদের চরিত্র হনননামা’ বলে মন-ব্য করেন। মন্ত্রীর এ ধরণের বক্তব্য রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়নের কাছে আমাদের আত্মসমর্পনের সামিল বলে মন-ব্য করেন ড. বদিউল আলম মজুমদার। গত পাঁচ বছরে সংসদ নির্বাচন ও স’ানীয় নির্বাচনে অনেক প্রার্থীরই সম্পদের হিসাব বহু গুণে বেড়েছে বলেও তিনি মন-ব্য করেন। তিনি বলেন, “বর্তমান সরকার তাদের দিনবদলের সনদে দু দ ুবার ক্ষমতাধরদের সম্পদের হিসাব প্রদানের কথা বলেছে কিন- তা তারা রক্ষা করেনি, যা অত্যন- দু:খজনক।” তিনি আরো বলেন, “সুজন মনে করে স’ানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানসমূহের নির্বাচন নির্দলীয়ভাবে হওয়াই হবে জনগণের জন্য কল্যাণকর। কেননা ঐতিহাসিকভাবে স’ানীয় নির্বাচন নির্দলীয়ভাবে হয়ে আসছে। যার ফলে অনেক সৎ, যোগ্য ও ভালো মানুষ নির্বাচিত হয়ে আসছে। নির্দলীয়ভাবে নির্বাচন হলে ভোটারদের ‘চয়েস’ বা সিদ্ধান- গ্রহণের পরিধি বৃদ্ধি পায়।” তিনি বলেন, “দলভিত্তিক প্রার্থী মনোনয়ন বা সমর্থন প্রদান, চাপ সৃষ্টি করে কোন প্রার্থীকে প্রার্থিতা প্রত্যাহারে বাধ্য করা বা দলীয় সিদ্ধানে-র বাইরে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার ক্ষেত্রে দল থেকে বহিষ্কার করা ইত্যাদি ক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশনের নিরবতা আমাদের বোধগম্য নয়। আশাকরি নির্বাচন কমিশন এব্যাপারে যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।”

Advertisements

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s