‘দশম জাতীয় সংসদের মাননীয় সংসদ সদস্যগণের তথ্য উপস্থাপন’ শীর্ষক সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত

_DSC0474 রাজনৈতিক সংকটের স্থায়ী সমাধানের লক্ষ্যে সকল রাজনৈতিক দলের সম্মতিতে ‘জাতীয় সনদ’ প্রণয়ন সাপেক্ষে একটি প্রতিযোগিতামূলক নির্বাচন অনুষ্ঠানের দাবি   জানিয়েছেন সুজন নেতৃবৃন্দ। গত ২০ এপ্রিল, ২০১৪ সকাল ১১.০০টায় রিপোর্টার্স ইউনিটির সাগর-রম্ননি মিলনায়তনে ‘সুজন-সুশাসনের জন্য নাগরিক’-এর উদ্যোগে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সুজন নেতৃবৃন্দ এ মন্তব্য করেন। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন সুজন নির্বাহী সদস্য জনাব আলী ইমাম মজুমদার ও অধ্যাপক তোফায়েল আহমেদ, সুজন সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার, ঢাকা জেলা কমিটির সভাপতি জনাব ইঞ্জিনিয়ার মুসবাহ আলীম ও সুজন কেন্দ্রীয় সমন্বয়কারী জনাব দিলীপ কুমার সরকার প্রমুখ।

মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনকালে দিলীপ কুমার সরকার বলেন, ‘অনেক সন্দেহ ও সংশয়ের অবসান ঘটিয়ে অবশেষে নির্বাচন কমিশন ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী গত ৫ জানুয়ারি, ২০১৪ অনুষ্ঠিত হয়েছে দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন। সর্বমোট ৩০০টি সংসদীয় আসনের মধ্যে মনোনয়নপত্র বাতিল, প্রত্যাহার ও উচ্চ আদালত কর্তৃক প্রার্থিতা ফেরত প্রদানের পর ১৫৩টি আসনে একজন করে বৈধ প্রার্থী থাকায় তাঁরা বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন। অবশিষ্ট ১৪৭টি আসনে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় এবং মোট ৩৯০ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত ১৫৩ জনসহ ৩০০টি নির্বাচনী এলাকার সর্বমোট প্রার্থীর সংখ্যা ছিল ৫৪৩ জন।’
তিনি বলেন, ‘প্রার্থীগণ কর্তৃক প্রদত্ত হলফনামা বিশ্লেষণ করে দেখা যায় যে, ‘শিক্ষাগত যোগ্যতার ক্ষেত্রে ৩৫০ জন সংসদ সদস্যের মধ্যে অধিকাংশই (২৭৫ জন বা ৭৮.৫৭%) স্নাতক বা স্নাতকোত্তর। বাংলাদেশ  আওয়ামী লীগের ২৭৩ জন সংসদ সদস্যের মধ্যে এই হার ৮০.৫৮% (২২০), জাতীয় পার্টির ৪০ জনের মধ্যে ৭৭.৫% (৩১ জন), জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল জাসদের ৬ জনের মধ্যে ৬৬.৬৬% (৪ জন), জাতীয় পার্টি-জেপি’র ২ জনের মধ্যে ৫০% (১ জন) এবং স্বতন্ত্র ১৯ জনের মধ্যে ৫৭.৮৯% (১১ জন)। বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির ৭ জনসহ বিএনএফ-এর একজন, সকলেরই (১০০%) শিক্ষাগত যোগ্যতাই স্নাতক বা স্নাতকোত্তর।’

তিনি বলেন, ‘পেশার ক্ষেত্রে ৩৫০ জন সংসদ সদস্যের মধ্যে অধিকাংশই (১৭৫ জন বা ৫০%) ব্যবসায়ী। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ২৭৩ জন সংসদ সদস্যের মধ্যে এই হার ৫২.০১% (১৪২ জন), জাতীয় পার্টির ৪০ জনের মধ্যে ৪৫% (১৮ জন), বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির ৭ জনের মধ্যে ১৪.২৮% (১ জন), জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল জাসদের ৬ জনের মধ্যে ৫০% (৩ জন) এবং স্বতন্ত্র ১৯ জনের মধ্যে ৫৭.৮৯% (১১ জন)। অবশ্য ৩০০ জন সংসদ সদস্যের মধ্যে ব্যবসায়ীদের হার আরও বেশি (১৬৩ জন বা ৫৪.৩৩%) ব্যবসায়ী।’ প্রার্থীদের মামলা সংক্রান- বিষয়ে জনাব দিলীপ সরকার বলেন, ৩৫০ জন সংসদ সদস্যের মধ্যে ৩১ জনের (৮.৮৫%) বিরম্নদ্ধে বর্তমানে মামলা আছে, অতীতে মামলা ছিল ১৪৩ জনের (৪০.৮৫%) বিরম্নদ্ধে, অতীত ও বর্তমান উভয় সময়ে মামলা ছিল বা রয়েছে এমন প্রার্থীর সংখ্যা ২৩ জন (৬.৫৭%)।’

সুজন কেন্দ্রীয় প্রধান সমন্বয়কারী আরও বলেন, ‘৩৫০ জন সংসদ সদস্যের মধ্যে বাৎসরিক ৫ লক্ষ টাকার কম আয় করেন ৮০ জন (২২.৮৫%) প্রার্থী । সর্বোচ্চ ৩৫.৪২% (১২৪ জন) প্রার্থীর বাৎসরিক আয়সীমা ৫ লক্ষ থেকে ২৫ লক্ষ টাকা। ৩৫০ জন সংসদ সদস্যের মধ্যে বাৎসরিক ৫ লক্ষ টাকার কম সমপদের মালিক মাত্র ১২ জন (৩.৪২%)। ৩৫০ জন সংসদ সদস্যের মধ্যে অধিকাংশ (২২৬ জন বা ৬৪.৫৭%) সংসদ সদস্যরই সমপদ কোটি টাকার উপরে। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ২৭৩ জন সংসদ সদস্যের মধ্যে এই সংখ্যা ১৯৪ জন (৭১.০৬%), জাতীয় পার্টির ৪০ জনের মধ্যে ১৮ জন (৪৫%), বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির ৭ জনের মধ্যে ১ জন (১৪.২৮%), জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল জাসদের ৬ জনের মধ্যে ১ জন (১৬.৬৬%), বাংলাদেশ তরিকত ফেডারেশনের ২ জনের মধ্যে ২ জন (১০০%), জাতীয় পার্টি- জেপির ২ জনের মধ্যে ১ জন (৫০%) এবং স্বতন্ত্র ১৬ জনের মধ্যে ৮ জন (৫০%)।’

প্রার্থীদের দায়-দেনা সংক্রান- বিষয়ে তিনি বলেন, ‘৩৫০ জন সংসদ সদস্যের মধ্যে মাত্র ৪৯ জন (১৪%) ঋণগ্রহীতা। ৩০০ জন সংসদ সদস্যের মধ্যে ২৫৮ জন (৮৬%) করদাতা। ৩০০ সংসদ সদস্যদের মধ্যে ১০ লক্ষ টাকার অধিক আয়কর প্রদান করেন ৩১ জন (১০.৩৩%), ২৫৮ জন আয়কর দাতাদের মধ্যে এই হার ১২.০১%।’

ড. বদিউল আলম মজুমদার প্রার্থীগণ হলফনামায় যে তথ্য দাখিল করেন তা যাচাই-বাছাই ও খতিয়ে দেখার জন্য নির্বাচন কমিশনের প্রতি আহ্বান জানান। নির্বাচনী অঙ্গনকে কলুষমুক্ত করার জন্য এ তথ্য খতিয়ে দেখার বিকল্প নেই বলেও মনত্মব্য করেন তিনি। তিনি আরও বলেন, ‘নির্বাচন কমিশন এ ধরনের উদ্যোগ গ্রহণ করলে মনোনয়ন বাণিজ্য বন্ধ তথা বসনেত্মর কোকিলদের নির্বাচনী অঙ্গন থেকে দূরে রাখা সম্বব হবে।’ তিনি বলেন, ‘হলফনামায় অসত্য তথ্য প্রদান একটি দ-নীয় অপরাধ। কারণ দ-বিধি ১৮১ ধারা অনুযায়ী, হলফনামায় অসত্য ও ভুল তথ্য প্রদান করলে ৩ বছরের জেল পর্যন্ত হতে পারে’।

আলী ইমাম মজুমদার বলেন, ‘৩০০ জন সংসদ সদস্যের মধ্যে ২৫৮ জন আয়কর প্রদান করলেও বার্ষিক ২ লক্ষ ২০ হাজার টাকা আয় করলেই আয়কর প্রদান করতে হয়। তাহলে কি আমরা ধরে নেব বাকী ৪২ জন সংসদ সদস্যগণ কেউই ২ লক্ষ টাকা আয় করেন না। কিন’ এ তথ্য আমার কাছে বিশ্বাসযোগ্য নয়।’ দু-একজন এরকম প্রার্থী থাকতে পারে কিন’ বাকীরা সবাই আয়করের তথ্য গোপন করেছে বলে তিনি মনত্মব্য করেন।

হলফনামায় সংসদ সদস্যগণ যে তথ্য প্রদান করেছেন তা যেন হাস্যসম্পদে পরিণত না হয়, এ ব্যাপারে যথাযথ উদ্যোগ গ্রহণ করার জন্য নির্বাচন কমিশন, এনবিআরসহ সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি আহ্বান জানান অধ্যাপক তোফায়েল আহমেদ। প্রার্থীগণ যে সকল তথ্য প্রদান করেন তা ভালো করে খতিয়ে দেখার জন্য নির্বাচন কমিশনের প্রতি অনুরোধ জানান তিনি। হলফনামায় অসত্য তথ্য প্রদান জাতির সাথে অবমাননার শামিল বলেও মনত্মব্য করেন।

Advertisements

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s