কার্যক্রম পরিচালনার নীতিমালা

সুজন-সুশাসনের জন্য নাগরিক
কার্যক্রম পরিচালনার নীতিমালা

ভূমিকা:
২০০৩ সালে অনুষ্ঠিত ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের প্রাক্কালে একদল সচেতন নাগরিকের উদ্যোগে ২০০২ সালের ১২ নভেম্বর ‘সিটিজেনস্ ফর ফেয়ার ইলেকশনস’ (ঈঋঊ) নামে একটি নাগরিক সংগঠন আত্মপ্রকাশ করে। ভোটারগণ যাতে জেনে-শুনে-বুঝে, সৎ, যোগ্য, আদর্শবান ও জনকল্যাণে নিবেদিত প্রার্থীর পক্ষে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন এবং ভালো মানুষেরা যাতে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে জয়ী হতে পারে সেজন্য ভোটারদেরকে তথ্যভিত্তিক ক্ষমতায়নসহ বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা ছিল এই সংগঠনের লক্ষ্য।

পরবর্তীতে ‘সিটিজেনস্ ফর ফেয়ার ইলেকশনস’ এর কার্যক্রমকে শুধুমাত্র নির্বাচন এর মাঝে সীমাবদ্ধ না রেখে আরো বিস্তৃত করার লক্ষ্যে এর নতুন নামকরণ করা হয়।

ধারা-১:
নাম ও ঠিকানা: এই সংগঠনের নাম হবে ‘সুজন-সুশাসনের জন্য নাগরিক’। ‘সুজন’ এর কেন্দ্রীয় সচিবালয়ের ঠিকানা হবে- ৩/৭, আসাদ এভিনিউ, মোহাম্মদপুর, ঢাকা-১২০৭, বাংলাদেশ; ফোন: ৮৮-০২-৮১১২৬২২, ৮১২-৭৯৭৫; ফ্যাক্স:৮৮-০২-৮১১-৬৮১২; ই-মেইল: ংযঁলধহনফবংয@মসধরষ.পড়স, ওয়েব : িি.িংযঁলধহ.ড়ৎম.

ধারা-২:
লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য: গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিকরূপ দেয়াসহ রাষ্ট্রের ও সমাজের সকল ক্ষেত্রে গণতন্ত্র ও সুশাসন প্রতিষ্ঠা এবং প্রিয় দেশমাতৃকাকে আত্মনির্ভরশীল করে গড়ে তোলাই হবে ‘সুজন’ এর মূল লক্ষ্য।

লক্ষ্যে পৌঁছার জন্য উদ্দেশ্যসমূহ হবে:

ক.    আইনের শাসন, মানবাধিকার সংরক্ষণ, সমতা, ন্যায়-পরায়ণতা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা তথা সমাজের সকল স্তরে গণতন্ত্রের চর্চা  নিশ্চিত করার লক্ষ্যে নাগরিকদের সচেতন,  সক্রিয়, সোচ্চার ও সংগঠিত করা।

খ.    সংশ্লি¬ষ্ট সকল ক্ষেত্রে কাক্সিক্ষত সংস্কারের লক্ষ্যে জনমত গঠন ও ‘চাপ সৃষ্টিকারী গোষ্ঠী’ হিসেবে কাজ করা এবং এ সমস্ত ক্ষেত্রে কাক্সিক্ষত পরিবর্তনের নিরীক্ষক ও ‘অতন্দ্র প্রহরী’র ভূমিকা পালন করা।

ধারা-৩:
সংগঠন পরিচালনার মূলনীতি: ‘সুজন’ পরিচালনার মূলনীতি হবে দল নিরপেক্ষতা, একতা, সততা, স্বচ্ছতা, সমতা ও অসাম্প্রদায়িকতা।

ধারা-৪:
সদস্য পদ: সমাজের সৎ, আদর্শবান, চিন্তাশীল ও জনকল্যাণে নিবেদিত যে কোনো প্রাপ্ত বয়স্ক ব্যক্তি ‘সুজন’এর সদস্য হতে পারবেন। সক্রিয়ভাবে রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ব্যক্তিগণ আগ্রহী হলে সুজনের প্রাথমিক সদস্য হতে পারবেন, তবে কোনো কমিটির পদ গ্রহণ করতে পারবেন না। সংশ্লি¬ষ্ট ব্যক্তি যে স্তরে সদস্যপদের আবেদন করবেন, সেই স্তরের কমিটিই তাঁকে সদস্যপদ প্রদান করতে পারবে। যে কোনো প্রাথমিক সদস্য পরবর্তীতে যে কোনো স্তরের কমিটিতে পদ গ্রহণ করতে পারবেন। তবে ঋণ খেলাপী, কর খেলাপী, বিল খেলাপী, কালো টাকার মালিক, ফৌজদারি মামলায় সাজাপ্রাপ্ত, সাম্প্রদায়িক মনোভাবাপন্ন ব্যক্তি সুজনের সদস্য হতে পারবেন না। ‘সুজন’এর কার্যক্রম পরিচালনার জন্য সদস্যগণকে নির্দিষ্ট হারে বার্ষিক/মাসিক সদস্য ফি প্রদান করতে হবে। ‘সুজন’ এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সকলেই হবেন স্বেচ্ছাব্রতী।

ধারা-৫:
সাংগঠনিক কাঠামো: ‘সুজন’-এর সাংগঠনিক কমিটির ৪টি স্তর বা পর্যায়ে থাকবে। এই চারটি স্তর হচ্ছে কেন্দ্র, জেলা, উপজেলা ও ইউনিয়ন। কেন্দ্রীয় পর্যায়ে জাতীয় ও কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটি, জেলা পর্যায়ে জেলা কমিটি, উপজেলা পর্যায়ে উপজেলা কমিটি এবং ইউনিয়ন পর্যায়ে ইউনিয়ন কমিটি দায়িত্ব পালন করবে। এছাড়াও শহরাঞ্চলে সংগঠনের বিস্তৃতির জন্য বিভাগীয় শহরসমূহে মহানগর কমিটি এবং পৌরসভার আওতাভূক্ত শহরসমূহে পৌর কমিটিসহ ওয়ার্ড কমিটি গঠন করা হবে। আগ্রহী হলে ইউনিয়ন কমিটিসমূহও ওয়ার্ড কমিটি গঠন করতে পারবে।

ধারা-৫.১.১:
জাতীয় কমিটি: জাতীয় কমিটি হবে সংগঠনের সর্বোচ্চ সাংগঠনিক কাঠামো। সংগঠনের মৌলিক নীতি-নির্ধারণী সিদ্ধান্তসমূহ এই কমিটিতে গৃহীত হবে। কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্যবৃন্দ এবং প্রতিটি জেলা কমিটির সভাপতি ও সম্পাদকসহ সর্বমোট ১৭১ জনের সমন্বয়ে জাতীয় কমিটি গঠিত হবে। জাতীয় কমিটির মেয়াদ হবে ২ বছর।

ধারা-৫.১.২:
কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটি: সংগঠনের দৈনন্দিন কার্যক্রম পরিচালনাসহ সামগ্রীক কার্যনির্বাহের জন্য মূল উদ্যোগী ভূমিকা ও দায়-দায়িত্ব পালন করবে কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটি। এই কমিটি সংগঠনের মৌলিক নীতিমালা সমূহের আলোকে সংগঠন পরিচালনার জন্য কর্মকৌশল ও কর্মসূচি নির্ধারণ করতে পারবে। ১ জন সভাপতি, ১ জন সহ-সভাপতি, ১ জন সম্পাদক, ১ জন সহ-সম্পাদক, ১ জন কোষাধ্যক্ষ এবং ৬ জন নির্বাহি সদস্য সমন্বয়ে সর্বমোট ১১ সদস্য বিশিষ্ট হবে কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটি। এই কমিটির মেয়াদ হবে ২ বছর।

ধারা-৫.২:
জেলা, উপজেলা ও ইউনিয়ন কমিটি: জেলা, উপজেলা ও ইউনিয়নসহ বিভিন্ন পর্যায়ে সুজনের সার্বিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার দায়িত্ব পালনের জন্য যে সকল কমিটি গঠিত হবে তা ১ জন সভাপতি, ১ জন সহ-সভাপতি, ১ জন সম্পাদক, ১ জন সহ-সম্পাদক, ১ জন কোষাধ্যক্ষ এবং কয়েকজন নির্বাহি সদস্য সমন্বয়ে হতে পারে। জেলা কমিটি ২১-২৫, উপজেলা কমিটি ১৭-২১ এবং ইউনিয়ন কমিটি ১৩-১৭ সদস্য বিশিষ্ট হতে পারে। মহানগর, পৌরসভা ও শহরাঞ্চলের ওয়ার্ড কমিটিসমূহের গঠন যথাক্রমে জেলা, উপজেলা ও ইউনিয়নের অনুরূপ হবে। তবে স্থানীয় বাস্তবতার নিরীখে সংশ্লিষ্ট সকল স্তরের কমিটির কাঠামো ও সদস্য সংখ্যা পরিবর্তিতও হতে পারে। সকল কমিটিরই মেয়াদ হবে ২ বছর।

উপজেলা কমিটির সভাপতি ও সম্পাদক জেলা কমিটির এবং ইউনিয়ন কমিটির সভাপতি ও সম্পাদক উপজেলা কমিটির কমিটির সদস্য হিসাবে গণ্য হবেন। অন্যান্য কমিটির ক্ষেত্রেও একই নিয়ম প্রযোজ্য হবে।

ধারা-৬:
সদস্যদের দায়-দায়িত্ব: সভাপতি, সংগঠন প্রধান এবং সম্পাদক, নির্বাহী প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। সহ-সভাপতি, সভাপতির অনুপস্থিতিতে এবং সহ-সম্পাদক, সম্পাদকের অনুপস্থিতিতে তাদের দায়িত্ব পালন করবেন। কোষাধ্যক্ষ অর্থ সংক্রান্ত হিসাব ও নথিপত্র সংরক্ষণসহ তহবিল পরিচালনার যাবতীয় দায়িত্ব পালন করবেন। সদস্যগণ সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড পরিচালনায় সংশ্লি¬¬ষ্ট সকলকে সার্বিক সহযোগিতা প্রদান করবেন।

ধারা-৭:
আন্তঃকমিটি সম্পর্ক: কেন্দ্রীয়, জেলা, উপজেলা ও ইউনিয়ন কমিটি একে অপরের সাথে অনানুষ্ঠানিক, সৌহার্দ্যমূলক এবং পারস্পরিক সহযোগিতার উদ্দেশ্যে কার্যকর আন্তঃসম্পর্ক সৃষ্টি করবে। জেলা, উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ের কমিটি ‘সুজন’ এর চেতনা, আদর্শ ও নীতির আলোকে স্থানীয় বাস্তবতার নিরিখে স্বয়ংক্রিয়ভাবে কার্যক্রম পরিচালনা করবে। স্থানীয় পর্যায়ে ‘সুজন’-এর কার্যক্রম নিজস্ব পরিকল্পনা, নিজস্ব সম্পদ ও নেতৃত্বে পরিচালিত হবে। কেন্দ্র থেকে মতামত ও পরামর্শ প্রদান করা যেতে পারে কিন্তু কোনো ব্যাপারে হস্তক্ষেপ বা সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেয়ার মানসিকতা পরিহার করা হবে। তদ্রুপ জেলা কমিটিও উপজেলার কার্যক্রমে এবং উপজেলা কমিটি ইউনিয়ন কমিটির কার্যক্রমে সহযোগিতা ও পরামর্শের হাত বাড়িয়ে দেবে কিন্তু হস্তক্ষেপ করা থেকে বিরত থাকবে। স্থানীয় পর্যায়ে কমিটি গঠনের জন্য লজিস্টিক সরবরাহসহ প্রয়োজনীয় সহযোগিতা প্রদানে কেন্দ্রীয় কমিটি সচেষ্ট থাকবে।

জেলা কমিটিকে কেন্দ্রীয় কমিটি, উপজেলা কমিটিকে জেলা কমিটি এবং ইউনিয়ন কমিটিকে উপজেলা কমিটি অনুমোদন দেবে। অন্যান্য কমিটির ক্ষেত্রেও একই নিয়ম প্রযোজ্য হবে।

ধারা-৮:
সদস্যপদ বাতিল/অব্যাহতি: প্রতিটি স্তরের কমিটিই ‘ধারা-৪’ এর সাথে সঙ্গতি রেখে এবং স্থানীয় বাস্তবতার নিরিখে, যে কোনো ব্যক্তিকে সদস্য পদ প্রদান করতে পারবে এবং সুজনের নীতি-আদর্শ রিরোধী কার্যকলাপের জন্য তাদের সদস্যপদ বাতিল করতে পারবে। অনুরূপভাবে কেন্দ্রীয় কমিটি যে কোনো স্থানীয় কমিটিকে স্বীকৃতি দিতে পারবে এবং সুজনের নীতি-আদর্শ বিরোধী কার্যকলাপের জন্য স্বীকৃতি প্রত্যাহারও করতে পারবে।

সুজনের নীতি ও আদর্শে বিশ্বাসী যে কোনো সামাজিক বা স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন সুজনের সহযোগী সংগঠন হিসাবে কাজ করতে পারবে।

ধারা-৯:
সভা আহ্বান: জাতীয় কমিটির সভা বছরে কমপক্ষে ২ বার এবং কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সভা বছরে কমপক্ষে ৪ বার অনুষ্ঠিত হবে। এছাড়াও সুজনের কার্যক্রম মূল্যায়ন, ভবিষ্যত পরিকল্পনা প্রণয়নের লক্ষ্যে বছরে কমপক্ষে একবার বার্ষিক সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত হবে। এ সকল সভায় কেন্দ্রীয় কমিটির সকল সদস্য এবং জেলা, উপজেলা ও ইউনিয়ন কমিটির সভাপতি এবং সম্পাদক উপস্থিত থাকবেন। এছাড়াও বিশেষ আমন্ত্রণে দেশের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত থাকতে পারবেন। কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটি ‘সুজন’-এর সার্বিক কার্যক্রম পরিচালনায় প্রয়োজনীয় দিক-নির্দেশনা প্রদান করবে।

জেলা, উপজেলা ও ইউনিয়ন কমিটির সভা প্রতি ২ মাসে ১ বার অর্থাৎ বছরে কমপক্ষে ৬ বার অনুষ্ঠিত হবে। সকল স্তরের কমিটিই প্রতি বছর বার্ষিক সাধারণ সভা করবে। মেয়াদ পূর্ণ হলে বার্ষিক সাধারণ সভা থেকেই সকল স্তরের কমিটি গঠিত হবে। যে কোনো সভার সিদ্ধান্ত সংখ্যাগরিষ্ঠের সম্মতিতে গৃহীত হবে।

ধারা-১০:
তহবিল: ‘সুজন’-এর তহবিল সদস্য ভর্তি ফি, সদস্য ফি, স্বেচ্ছা অনুদান ও যে কোনো সহযোগী সংস্থা প্রদত্ত অনুদানের মাধ্যমে গঠিত হবে। এ ছাড়াও কার্যক্রমকে চলমান রাখার জন্য একটি ট্রাস্ট ফান্ড গঠন করা যেতে পারে।

ধারা-১১:
সদস্য চাঁদা/ভর্তি ফি: প্রত্যেক সদস্যকে নির্ধারিত হারে সদস্য ভর্ত্তি ফিসহ বার্ষিক/মাসিক সদস্য ফি প্রদান করতে হবে। সদস্য ভর্ত্তি ফি হবে ১০০.০০ টাকা। কমিটির স্তর ভেদে এবং স্থানীয় প্রেক্ষাপট বিবেচনায় নিয়ে বার্ষিক/মাসিক সদস্য ফি নির্ধারণ করতে হবে। সংশ্লিষ্ট সকল কমিটিতে সিদ্ধান্ত গ্রহণের মাধ্যমে এই হার নির্ধারিত হবে।

ধারা-১২:
আর্থিক ব্যবস্থাপনা: তহবিল পরিচালনার জন্য সংশ্লি¬ষ্ট সকল স্তরে ব্যাংক হিসাব থাকবে। কমিটির সভাপতি, সম্পাদক ও কোষাধ্যক্ষের যৌথ নামে ও স্বাক্ষরে ব্যাংক হিসাব পরিচালিত হবে। বছর শেষে আয়-ব্যয়ের হিসাব প্রতিটি কমিটি বার্ষিক সাধারণ সভায় উপস্থাপন করবে। কেন্দ্রীয় কমিটি বার্ষিক সাধারণ সভায় নিরীক্ষা প্রতিবেদনসহ বার্ষিক প্রতিবেদন উপস্থাপন করবে।

ধারা-১৩:
নীতিমালা সংশোধন ও ব্যাখ্যা: জাতীয় কমিটিতে আলোচনা ও অনুমোদনের মাধ্যমে এই নীতিমালা সংশোধন করা যেতে পারে। কোনো ধারা বা উপ-ধারা সম্পর্কে ব্যাখ্যার প্রয়োজন হলে, কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটি তা প্রদান করবে।