২/২, ব্লক-এ, মিরপুর রোড, মোহাম্মদপুর, ঢাকা
৮৮০ ২২ ২২২ ৪৩৯৫৬
shujan.info@gmail.com

এবিবির সহায়তায় সুজনের গণভোট বিষয়ে জনসচেতনতা সৃষ্টি সম্পর্কিত কার্যক্রম

সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘সুজন—সুশাসনের জন্য নাগরিক’-এর বিরুদ্ধে সরকারের টাকা নিয়ে গণভোটের পক্ষে প্রচার-প্রচারণা চালানোর অভিযোগ তোলা হয়েছে। কেউ কেউ এটিকে স্বার্থের দ্বন্দ্ব হিসেবেও দেখছেন।

এটি সত্য যে, অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স বাংলাদেশ (এবিবি) তার সিএসআর বা করপোরেট সোশ্যাল রেসপন্সিবিলিটি তহবিল থেকে গণভোটের বিষয়ে জনসচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে সুজনকে দুই কোটি ৫২ লাখ টাকা অনুদান দিয়েছে। তাই এটি সুস্পষ্ট যে, এই অনুদানের অর্থ সরকারি নয়।

সিএসআরের তহবিল জনকল্যাণের কাজে ব্যবহৃত হয়। গণভোট অনুষ্ঠিত হয়েছে কতগুলো মৌলিক কাঠামোগত ও প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের মাধ্যমে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক রূপান্তরের লক্ষ্যে, যা নাগরিকদের কল্যাণ ও সমৃদ্ধির জন্য অপরিহার্য। তাই গণভোট বিষয়ে জনসচেতনতা সৃষ্টি করা নিঃসন্দেহে একটি জনকল্যাণমূলক কাজ।

এবিবি থেকে প্রাপ্ত সমুদয় অর্থ নিধারিত খাতে সম্পূর্ণ সততা ও স্বচ্ছতার সঙ্গে ব্যয় করা হয়েছে। এর অডিটেড হিসাব ও কার্যক্রমের বিস্তারিত প্রতিবেদন ইতোমধ্যে এবিবির কাছে জমা দেওয়া হয়েছে।

এবিবি থেকে প্রাপ্ত অনুদান গণভোটের বিষয়ে জনগণকে সচেতন করার কাজে ব্যয় করা হয়েছে। এতে স্বার্থের দ্বন্দ্ব সৃষ্টির কোনো সুযোগ নেই, কারণ এ অর্থ থেকে সুজনের প্রধান নির্বাহী বা অন্য কেউ লাভবান হয়নি। এছাড়াও ড. বদিউল আলম মজুমদার সম্পূর্ণ অবৈতনিকভাবে সুজনের প্রধান নির্বাহী হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন।

প্রসঙ্গত, ‘নির্বাচন ব্যবস্থা সংস্কার কমিশনে’র প্রধান এবং ‘জাতীয় ঐকমত্য কমিশনে’র সদস্য হিসেবেও ড. মজুমদার সম্পূর্ণ স্বেচ্ছাশ্রমের ভিত্তিতে প্রায় এক বছর ধরে কাজ করেছেন। এছাড়াও তিনি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অংশ ছিলেন না এবং সরকার থেকে কোনো বেতন-ভাতাও নেননি।

সুজন একটি স্বেচ্ছাব্রতী নাগরিক সংগঠন। প্রয়াত অধ্যাপক মোজাফফ্র আহমদ ও ড. বদিউল আলম মজুমদারের উদ্যোগে গণতন্ত্র ও সুশাসন প্রতিষ্ঠা এবং উন্নয়ন ত্বরান্বিত করার লক্ষ্যে ২০০২ সালে এটি প্রতিষ্ঠিত হয়। এটি এখন ট্রাস্ট হিসেবে নিবন্ধিত। বাংলাদেশ রাষ্ট্রের গণতান্ত্রিক রূপান্তরের লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় সংস্কার নিয়ে সুজন দীর্ঘদিন ধরে কাজ করে আসছে এবং এটি সুজনের একটি অতি গুরুত্বপূর্ণ সাংগঠনিক ম্যান্ডেট।

সুজনের সঙ্গে সারা দেশে প্রায় ৩০ হাজার স্বেচ্ছাব্রতী যুক্ত। জন্মলগ্ন থেকেই সুজন রাষ্ট্র মেরামতের লক্ষ্যে বহুমুখী সংস্কার প্রস্তাব উত্থাপন করেছে এবং এগুলো নিয়ে জনসচেতনতা সৃষ্টি করে আসছে। এ প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে গণতন্ত্র অলিম্পিয়াড, ইউনিয়ন পরিষদের ওয়ার্ড সভা ও উন্মুক্ত বাজেট অধিবেশন, ভোটার-প্রার্থী মুখোমুখি অনুষ্ঠানসহ নানা সৃজনশীল উদ্যোগ অতীতে সুজন নিয়েছে। সুজনের উদ্যোগেই নির্বাচনে প্রার্থীদের হলফনামার মাধ্যমে তাদের আয়-সম্পদের তথ্য দেওয়ার আদালতের নির্দেশের প্রাতিষ্ঠানিকীকরণ হয়েছে, যার ফলে ভোটারদের জেনে-শুনে-বুঝে ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। আদালতের শরণাপন্ন হয়ে সুজন তত্ত্ববধায়ক সরকার ব্যবস্থা ফিরিয়ে আনার ব্যাপারে সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। তথ্য অধিকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে আইনি লড়াই করে তথ্যের প্রবাহ উন্মুক্ত করতে সুজন অগ্রণী ভূমিকা রেখেছে। নির্বাচনী আইন ও ব্যবস্থা সংস্কারের ক্ষেত্রে সুজন উল্লেখযোগ্য অবদান রেখেছে। বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও স্বাধীন সচিবালয় প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে সম্প্রতি সুজনের প্রধান নির্বাহী আদালতের শরণাপন্ন হয়েছেন। এসব বিষয়ে দীর্ঘদিনের সুজনের সক্রিয় ও সোচ্চার ভূমিকা জনগণের কাছে ব্যাপকভাবে সমাদৃত হয়েছে।

সুজনের দীর্ঘ পথ পরিক্রমায় সংশ্লিষ্ট সকলের মধ্যে উপলব্ধি সৃষ্টি হয়েছে যে, মুক্তিযুদ্ধের স্বপ্ন বাস্তবায়নের লক্ষ্যে একটি সত্যিকারের গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করতে হলে রাষ্ট্রের কতগুলো মৌলিক বিষয়ে সুদূরপ্রসারী সংস্কার এবং এ ব্যাপারে একটি রাজনৈতিক ঐকমত্য সৃষ্টি হওয়া জরুরি। এ লক্ষ্যে ২০১৩ সালে সুজনই প্রথম একটি খসড়া ‘জাতীয় সনদ’ প্রণয়ন করে, যাতে অনেকগুলো গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার প্রস্তাব অন্তর্ভুক্ত হয়। ২০২৩ সালে সারা দেশে ৮টি মতবিনিময় সভা এবং একটি জাতীয় সংলাপের মধ্য দিয়ে সুজনের পক্ষ থেকে খসড়াটিকে পরিমার্জন করে সকল রাজনৈতিক দলের কাছে হস্তান্তর করা হয়। চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের পর ২০২৪-২৫ সালে সুজন সারাদেশে ১৫টি সংলাপের আয়োজন এবং জনমত যাচাইয়ের মাধ্যমে প্রস্তাবিত ‘জাতীয় সনদ’ চূড়ান্ত করে এবং জাতীয় ঐকমত্য কমিশনে এর একটি কপি হস্তান্তর করে। তাই এটি বলা হয়ত অত্যুক্তি হবে না যে, সুজনই রাজনৈতিক ঐকমত্যের ভিত্তিতে ‘জাতীয় সনদ’ প্রণয়নের ধারণার জনক।

রাষ্ট্র সংস্কারের আমাদের ম্যান্ডেটের এবং এ ক্ষেত্রে দীর্ঘ অভিজ্ঞতার কারণেই সুজন গণভোটের বিষয়ে জনসচেতনতা সৃষ্টির কাজে উদ্যোগী হয়েছে, এবং সরকারের পাশাপাশি বিভিন্ন রাজনৈতিক দল এবং সুজন-সহ অনেক ব্যক্তি ও সংগঠনের নানামুখী প্রচারণার কারণেই স্বল্প সময়ের মধ্যে গণভোটের ব্যাপারে মানুষকে সচেতন করা সম্ভব হয়েছে। যার ফলে গণভোটের প্রস্তাবের পক্ষে প্রায় ৭০ শতাংশ ‘হ্যাঁ-সূচক’ ভোট পড়েছে।    

সুজন একটি বেসরকারি স্বেচ্ছাব্রতী নাগরিক সংগঠন। এটির কার্যক্রম পরিচালনার জন্য অর্থের প্রয়োজন হয়, যার যোগান দেওয়ার জন্য হয় ব্যক্তি বা কোনো প্রতিষ্ঠান থেকে অনুদান নিতে হয়। এ কারণেই গণভোটের বিষয়ে জনসচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে সুজন এবিবি কাছ থেকে অনুদান নিয়েছে।

নানামুখী অপপ্রচার ও অভিযোগের প্রেক্ষিতে আমরা স্পষ্টভাবে বলতে চাই যে, সুজন কখনো কোনোরূপ অন্যায়ের সঙ্গে জড়িত ছিল না এবং এবিবি থেকে প্রাপ্ত অনুদান নিয়েও কোনোরূপ অনিয়ম হয়নি। যে কেউ ইচ্ছা করলে আমাদের অফিসে এসে এ সংক্রান্ত অডিট রিপোর্টটি দেখতে পারেন। সাম্প্রতিক অপপ্রচারের উদ্দেশ্য হলো জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করা, যা করা গেলে অপপ্রচারকারীরাই সফল হবে। আমরা আমাদের সকল স্বেচ্ছাব্রতী ও শুভানুধ্যায়ীদেরকে অপপ্রচারে বিভ্রান্ত না হওয়ার অনুরোধ জানাচ্ছি।

দিলীপ কুমার সরকার
কেন্দ্রীয় সমন্বয়কারী, সুজন ট্রাস্ট।

গণভোট বিষয়ে কার্যক্রমের বিস্তারিত প্রতিবেদন দেখতে এখানে ক্লিক করুন