জাতীয় নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক দলগুলোর ইশতেহার কতটা বাস্তবসম্মত এবং নাগরিকদের প্রতি কতটা দায়বদ্ধ—এই প্রশ্ন সামনে রেখে সুজন–সুশাসনের জন্য নাগরিক আয়োজিত “কোন দলের কেমন ইশতেহার?” শীর্ষক সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, সোমবার সকাল ১০.৩০টায় জাতীয় প্রেসক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী মিলনায়তনে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে নির্বাচনপূর্ব ইশতেহার বিশ্লেষণ এবং রাজনৈতিক অঙ্গীকার বাস্তবায়নের গুরুত্ব তুলে ধরা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে সুজন সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার বলেন, নির্বাচনী ইশতেহার শুধুই প্রতিশ্রুতির তালিকা নয়—এটি নাগরিকদের সঙ্গে রাজনৈতিক দলের একটি চুক্তি। তিনি মন্তব্য করেন, ইশতেহারে দেওয়া অঙ্গীকার লঙ্ঘন করলে নাগরিকদের আদালতে যাওয়ার সুযোগ নিশ্চিত করার ব্যবস্থা থাকা প্রয়োজন।
তিনি আরও বলেন, রাজনৈতিক দলগুলোর ইশতেহারে অনেক ভালো কথা থাকলেও বাস্তবায়নের সুস্পষ্ট পরিকল্পনার ঘাটতি রয়েছে। জুলাই জাতীয় সনদের আলোকে নারী মনোনয়ন, উচ্চকক্ষ গঠন এবং রাজনৈতিক সংস্কৃতি বিনির্মাণের বিষয়ে দলগুলোর অবস্থানে অসামঞ্জস্যও তুলে ধরেন তিনি। বিশেষ করে সংখ্যানুপাতিক পদ্ধতিতে উচ্চকক্ষ গঠনের লক্ষ্য থেকে সরে গেলে এর মূল উদ্দেশ্য ব্যাহত হবে বলে সতর্ক করেন তিনি।
অনুষ্ঠানে সুজনের কোষাধ্যক্ষ সৈয়দ আবু নাসের বখতিয়ার আহমেদ বলেন, সাধারণ মানুষের প্রধান প্রত্যাশা খাদ্য, স্বাস্থ্য ও বৈষম্যহীন সমাজ নিশ্চিত করা। তিনি জানান, নির্বাচিত সরকারের প্রথম ১০০ দিনের কর্মকাণ্ড মূল্যায়নে সুজন ভবিষ্যতে সংবাদ সম্মেলন আয়োজন করবে।
সুজন জাতীয় কমিটির সদস্য একরাম হোসেন পরিবেশ, প্রবাসী কল্যাণ, শ্রমিক উন্নয়ন এবং শিল্প-সংস্কৃতির বিকাশ নিয়ে বড় দলগুলোর ইশতেহারে সুস্পষ্ট অঙ্গীকারের অভাবের কথা উল্লেখ করেন।
মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সুজনের প্রধান সমন্বয়কারী দিলীপ কুমার সরকার। তিনি জানান, বিভিন্ন রাজনৈতিক দল তাদের ইশতেহারে গণতন্ত্র, অর্থনীতি, সামাজিক ন্যায়বিচার, কর্মসংস্থান, দুর্নীতি দমন এবং রাষ্ট্র সংস্কারের নানা প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় নাগরিক পার্টি, সিপিবি ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশসহ দলগুলো ভিন্ন ভিন্ন উন্নয়ন দর্শন ও রাষ্ট্র পরিচালনার রূপরেখা তুলে ধরেছে।
উপসংহারে তিনি বলেন, আসন্ন জাতীয় নির্বাচন কেবল ক্ষমতার পরিবর্তনের বিষয় নয়, বরং রাষ্ট্রের ভবিষ্যৎ নীতিগত দিকনির্দেশ নির্ধারণের গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত। নির্বাচনের পর রাজনৈতিক দলগুলো তাদের ইশতেহারের অঙ্গীকার কতটা বাস্তবায়ন করতে পারে, সেটিই হবে গণতান্ত্রিক অগ্রগতির প্রকৃত মানদণ্ড।